শিশির_ভেজা_রোদ্দুর Part_64

0
189

শিশির_ভেজা_রোদ্দুর
Part_64
#Writer_NOVA

সকালের নামাজ পরে আর ঘুমায়নি। আজ বাসায় চলে যাবো। আর কখনো খালামণিদের বাসায় আসা হবে না। ঝগড়া করা হবে না তায়াং ভাইয়ার সাথে। তন্বীর সাথে মশারী টানানো নিয়ে মন খারাপ করতে হবে না। অর্ধেকের বেশি গুছিয়ে নিবো। বাকিগুলো বিয়ের পর এসে নিয়ে যাবো। তায়াং ভাইয়া, তন্বী, খালামণির মনটা ভার। সবার চোখ লাল হয়ে আছে। নিশ্চয়ই কান্না করেছে। আমারও ভীষণ খারাপ লাগছে। তবে তাদের সামনে কান্না করা যাবে না। তাহলে তারা আরো ভেঙে পরবে। একটা বছরে মনে হচ্ছে কত যুগ ধরে তাদের সাথে আছি। ওয়াশরুম থেকে একদফা কান্না করে বের হলাম। এনাজকে তন্বীর শিয়রের কাছে বসে থাকতে দেখে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম,

— কি করছেন এখানে?

এনাজ আমার কন্ঠস্বর পেয়ে চমকে উঠলো।হাতে থাকা ছোট কাগজাও লুকিয়ে ফেললো। একবার আমার দিকে তাকিয়ে আরেকবার কম্বল মুড়ি দিয়ে খাটে শুয়ে থাকা তন্বীর দিকে তাকালো। তারপর বিস্মিত চোখে বললো,

— তুমি এখানে তাহলে এটা কি তন্বী?

— জ্বি হ্যাঁ।

এনাজ জিহ্বায় কামড় দিয়ে অপরাধী গলায় বললো,
— আমি ভেবেছিলাম এটা তুমি। ভাগ্যিস কিছু করিনি। তাহলে কি একটা বাজে পরিস্থিতি হয়ে যেতো। আল্লাহ তুমি বাচিয়েছো।

এনাজের কথা শুনে আমি মুচকি হেসে বললাম,
— হঠাৎ এখানে কেন?

— সপ্তাহখানেক তোমাকে দেখতে পাবো না। তাই দেখা করতে চলে এলাম।

— কফির মগের সাথে কি রাখলেন?

— কোথায়?

— আমি কিন্তু দেখেছি। জলদী দেন।

— দেখেই যখন ফেলেছেন তাহলে আর লুকিয়ে কি লাভ। এই নাও।

গোলাপি রঙের একটা ছোট চিরকুট আমাকে এগিয়ে দিলো। সেখানে নিম্নোক্ত লেখাগুলো ছিলো।

❝ভোরের শিশির মন ছুঁয়ে যায়,
আদরে মেখেছে সবুজ ঘাস।
ভোরের স্নিগ্ধতা মুগ্ধ করেছে,
রোদ্দুরে ছুঁয়েছে নীল আকাশ।❞

আমি লেখাগুলো পড়ে কাগজ হাতে এনাজের দিকে খুশিমনে তাকালাম। তারপর তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,

— এতদিন চিরকুটগুলো আপনি দিয়েছেন তাই না?

— এই রে ধরা পরে গেলাম।

— আপনাকে আমি বহু আগেই ধরে ফেলেছি। শুধু হাতেনাতে ধরার অপেক্ষায় ছিলাম। আপনি যেদিন বাসায় আসতেন সেদিনই আমার রুমে কফির মগ ও ছোট চিরকুট পেতাম। তাই আমার প্রথমে আপনাকেই সন্দেহ হয়েছে। তাছাড়া মিলনায়তনের দিন আকাশি রঙের শাড়িটাও আপনি দিয়েছেন তাও আমি জানি।

— কি করে জানলে?

— দ্যাটস সিক্রেট।

— তুমি অনেক রহস্য রেখে কথা বলো।

— ভালো লাগে।

— কখন রওনা দিবে?

— সাড়ে সাতটার দিকে।

— আমার কাছে মনে হচ্ছে সাত বছর তোমাকে দেখতে পারবো না।

— সবুর করুন এনজিও সংস্থা। সাতদিন পর আপনার ঘরে থাকবো। তখন যত ইচ্ছে দেখে নিয়েন।

— নো প্রবলেম। ভিডিও কল আছে কি করতে?

— হ্যাঁ, তাও ঠিক।

— চলুন ছাদে যাই।

— হুম চলো।

দুজন কফির মগ হাতে নিয়ে ছাদে চলে গেলাম। কিনার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বাইরের ব্যস্ত কোলাহলের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। এনাজ নিচুস্বরে বললো

— আজ গ্রামে থাকলে শিশির ভেজা রোদ্দুর উপভোগ করা যেতো।

— হুম।

— মন খারাপ?

— না তো।

— আমার তো মনে হচ্ছে।

— এক বছরে সবকিছু কতটা আপন হয়ে গিয়েছিল। আজ সব ছেড়ে চলে যাবো তাই একটু খারাপ লাগছে।

— কি বলে সান্ত্বনা দিবো তা আমার জানা নেই। তাই কিছু বললাম না।

আমি বিশাল এক দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কফির মগে চুমুক দিলাম। এনাজ ইচ্ছে করে আমার সাথে দাঁড়িয়ে সুরৎ করে কফিতে চুমুক দিলো। আমি চোখ গোল করে তার দিকে তাকাতেই দুজন ফিক করে হেসে উঠলাম। তারপর আবার নীরবতা। এনাজ জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে ছাদের রেলিঙের সাথে দাঁড়িয়ে আমার দিক ফিরে হেলান দিলো। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,

— তুমি একবার আমাকে ভালোবাসার সঙ্গা দিয়েছিলে। মনে আছে তোমার? সেদিন ছিলো বৃষ্টির দিন। আমি তোমাকে আনতে গিয়েছিলাম।

— হ্যাঁ, মনে আছে।

— তুমি ভালোবাসাকে তুলনা করেছিলে একটা রাবার ব্যান্ডের সাথে। “ভালোবাসা হলো একটা রাবার ব্যান্ডের মতো।যার দুপাশে দুজন ধরে থাকে।যদি কেউ একজন একপাশ থেকে ছেড়ে দেয় তাহলে অবশ্যই অপরপাশের জন আঘাত পাবে।যাকে আপনি ভালোবেসেছেন তাকে আঘাত দেয়া আর নিজের সাথে প্রতারণা করা দুটোই সমান।” এটাই তো ছিলো তাই না?

— হুম এটাই ছিলো।হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

— এমনি মনে হলো। আমি প্রথমে তোমার এই কথাটা শুনে হেসেছিলাম।

— হ্যাঁ, আমি কারণ জিজ্ঞেস করায় বলেছিলেন কিছু না। তারপর আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি।

— তখন কথাটা আমার বিশ্বাস হয়নি। তাই হেসেছিলাম। কিন্তু তায়াং-এর সাথে যখন তোমার বিয়ে প্রায় হয়ে যাবে, যাবে ভাব। তখন তোমার ভালোবাসার সঙ্গাটা আমি বাস্তবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। কারণ তখন আমি সেই পরিস্থিতিতে পরেছিলাম। এর আগে কিন্তু আমার কাছে ভালোবাসার উদাহরণ অন্য ভাবে ছিলো।

— ভালোবাসার বিবরণ অনেকভাবে দেওয়া যায়। তা আপনারটা কি ছিলো।

—❝ভালোবাসা হচ্ছে এক ধরনের পাগলামি। এখানে ঢুকে গেলে হারাতে চাইলেও হারানো যায় না।ফিরাতে চাইলেও ফিরানো যায় না।❞

— একদম ঠিক।খুব সুন্দর কথা।

— এখনও আমি এটা মানি। কিন্তু তোমার ভালোবাসার সঙ্গাটাও আমি উপলব্ধি করে বুঝতে পেরেছি।

আমি তার চোখের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে ফেললাম। উনি এখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ পেছন থেকে ইফাতের গলা পেয়ে সামনের দিকে ঘুরলাম।

— নুবা, তোমার বলে বিয়ে🥺?

ওকে আজকাল দেখা যায় না।মাস খানিক আগে ওর একটা বোন হয়েছে। অবসর সময়ে দুই ভাই বোনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমাকে কোন বিরক্ত করে না।ইফাত প্রশ্নবোধক চিহ্ন কপালে একে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি মাথা উপর নিচ করে হ্যাঁ বুঝালাম। ইফাত সামনে এগিয়ে এসে ছলছল নয়নে বললো,

— তুমি আমারে একটুও ভালোবাসো না। তুমি আমাকে ভালোবাসলে এই বিয়েটা করতে পারতা না।

— এদিকে আয় আমার কথা শোন।

আমি হাত বাড়িয়ে ইফাতকে ডাকলাম। ইফাত নাক টেনে চোখের পানি মুছে বললো,

— কোন কথা শুনবো না তোমার। তুমি এই ভাইয়াকে বিয়ে করছো। কারণ তুমি এই ভাইয়াকে ভালোবাসো। আমাকে কারো ভালোবাসতে হবে না।

দৌড়ে ছাদের থেকে চলে গেলো। আমি ও এনাজ একে অপরের দিকে বোকার মতো তাকিয়ে রইলাম। ইস, ওদের সাথে কত সময় কাটিয়েছি। এদেরও খুব মিস করবো। চোখ দুটো টলমল করে উঠলো। এনাজ এগিয়ে এসে চোখের পানি মুছে দিতেই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পরলাম আমি।

💖💖💖

ম্যাসেজের টুং শব্দে অতীতের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলাম।এতখন সপ্তাহখানেক আগের ভাবনায় বিভোর ছিলাম।সারা বাড়িতে হৈ-হুল্লোড়। কিন্তু আমার মনটা বিষাদে ভরে আছে। দেখতে দেখতে দেড় মাস কেটে গেলো। আজ আমার হলুদ সন্ধ্যা। অথচ আমার মাঝে কোন আনন্দ নেই। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। বিয়েটা তো আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে হচ্ছে। তাহলে এতো খারাপ লাগছে কেন? সবাইকে ছেড়ে চলে যাবো বলে কি? ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছি। পূর্ব দিগন্তে সূর্য মামা তার লাল আভা নিয়ে উদিত হচ্ছে। গায়ে একটা শাল জড়ানো থাকা সত্বেও ভালোই শীত করছে।ঘাসের মধ্যে শিশির বিন্দুগুলো মুক্ত দানার মতো চিকচিক করছে। আজকের সকালটাকেও শিশির ভেজা রোদ্দুর বলা যায়। কথাটা মাথায় আসতেই ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। এতখন ডুবে ছিলাম সপ্তাহখানেক আগের অতীতে। যেদিন বাসায় আসবো সেদিনের ঘটনা এগুলো। সেই রেশ কাটলো ম্যাসেজের শব্দে।

মোবাইল ওপেন করতেই দেখলাম এনাজ দুই মিনিটের একটা ভিডিও পাঠিয়েছে। ভিডিও ওপেন করতেই আমার চোখ ছানাবড়া। এই ভিডিও সে পেলো কোথা থেকে? নিশ্চয়ই তায়াং ভাইয়ার কাজ। একদিন জামার ভেদ করে পিঠের মধ্যে কিভাবে জানি একটা টিডি পোকা ঢুকে পরেছিলো। আমি সেটা বের করার জন্য লাফাচ্ছিলাম আর বলছিলাম টিডি পোকা, টিডি পোকা। সেটা সুযোগ বুঝে তায়াং ভাইয়া ভিডিও করে নিয়েছিলো। টিডি পোকা হলো ছোট কালো চ্যাপ্টা জাতীয় এক ধরণের পোকা। যেটা অনেক লাফায়। এই পোকার কাজই হলো সারাক্ষণ লাফানো।আমি কতগুলো এংরি রিয়েক্ট দিয়ে তাকে ম্যাসেজে জিজ্ঞেস করলাম,

— এটা কোথা থেকে পেয়েছেন?

— বলবো না।

—জলদী বলুন।

— মোবাইলের প্রাইভেট ফাইল ঘাটছিলাম। তখন সামনে এটা পেলাম। তাই তোমাকে পাঠিয়ে দিলাম।

— তায়াং ভাইয়া দিয়েছে তাই না?

— হুম।

— কবে দিয়েছে?

— বছর খানিক আগে।

— ডিলিট করেন।

— করবো না।

— ভালো হবে না কিন্তু।

— না হোক।

— এবার কিন্তু বেশি হচ্ছে।

অপরপাশ থেকে ম্যাসেজ এখনো সিন হয়নি। তায়াং ভাইয়াকে আগে আলুভর্তা করবো। আমি পিঠে হাত দিয়ে লাফাচ্ছিলাম সেটা ওকে দেওয়ার কি দরকার ছিলো। অবশ্য এখন আর রাগারাগি করার কি দরকার? সে তো আমার জামাই।তার কাছে থাকলে কোন সমস্যা নেই। সে ম্যাসেজ সিন করলো। টাইপিং- এ আছে। সে লিখলো,

— এই ভিডিওটার দেখেই তোমার নাম আমি টিডি পোকা রেখেছি।

— আমাকে উদ্ধার করে ফেলছেন।

— তুমি তো বাস্তবেও টিডি পোকার মতো লাফাও।

— কে বলছে আপনাকে?

— আমি তো দেখছি।

— আমাকে রাগানোর ধান্দায় আছেন?

— হুম অনেক।

— কথা নেই আপনার সাথে।

— কথা না বলে যাবে কোথায়?

— হু কালকে নিতে আসলে যাবো না তো আমি।

— কোলে করে নিয়ে যাবো।

— আমি গেলে তো নিয়ে যাবেন।

— তোমাকে জাপ্টে ধরে কোলে নিয়ে দৌড় দিবো। তারপর দেখবো তুমি কিভাবে আমার থেকে পালাও।

— ওয়েট তায়াং ভাইয়া কল দিচ্ছে। তার সাথে একটু কথা বলে নেই।

— ওকে।

এনাজের ম্যাসেজ সিন করে তায়াং ভাইয়ার কল রিসিভ করলাম। ভাইয়াকে বড় করে একটা সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলাম। তায়াং ভাইয়া আক্ষেপের সুরে বললো,

— আমি আসতে পারবো না বলে মন খারাপ করিস না। এনাজের দিকও তো আমাকে দেখতে হবে। যেহেতু তোদের বিয়ের রিস্ক আমি। আম্মুও আসবে না। সে তো ছেলের মা হিসেবে আছে। এখানে না থাকলে বিষয়টা খারাপ দেখায়। তুই মন খারাপ করিস না। আগামীকাল তোর জামাইয়ের সাথে বরযাত্রী হিসেবে চলে আসবো। হাতের কব্জি ডুবিয়ে খেতে হবে তো।

— থাক, সমস্যা নেই। তবে হলুদে তুই এলে খুব খুশি হতাম। আমার তো আর আপন ভাই নেই। তুই থাকলে মনে হতো আমার নিজের ভাই আছে।

— দুইপক্ষের মানুষ হলে এই একটা জ্বালা। এইদিকে গেলে ঐদিকের মানুষ মন খারাপ করে। ঐদিকে গেলে এদিকের মানুষ মন খারাপ করে। আমি কোন দিকে যাবো বল তো?

ভাইয়া আফসোস করে কথাগুলো বললো। তায়াং ভাইয়া ও খালামণি বর্তমানে ছেলেপক্ষের লোক। তন্বীকে পাঠিয়ে দিয়েছে আমাদের বাড়িতে। ভাইয়া, খালামণি আমার হলুদে থাকবে না তাতে আমারও খারাপ লাগছে। কিন্তু এনাজের দিকটাও আমার বিবেচনা করতে হবে। তাই আমি ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বললাম,

— তুই ঐদিকে থাক। এদিক সামলানোর জন্য অনেক মানুষ আছে। কিন্তু ঐদিকটা সামলানোর জন্য তোর থাকা প্রয়োজন। আর শোন, তওহিদ ভাইয়াকে বলিস বিকালের মধ্যে শারমিনকে যেন দিয়ে যায়। আর শাহেদ ভাইয়াকে বলিস বিয়ের দিন মোহনাকে নিয়ে আসতে।

—আচ্ছা, আমি বলে দিবো। তন্বী কোথায়?

— ঘুমে দেখেছিলাম। এখন কি করছে জানি না। রওনক কি তোদের সাথে?

— হু সব একসাথে আমরা। বিকেলে এনাম,তওহিদ ওরা আসবে।

— কেন?

— তোর হলুদের জিনিসপত্র দিয়ে যেতে। সাথে বিয়ের জিনিসপত্রও দিয়ে যাবে। যাতে আগামীকাল কোন দেরী না হয়। অনেক সময় তো দেখা যায় বরপক্ষ আসতে দেরী হওয়ায় শাড়ি,গহনার কারণে মেয়ের সাজ কমপ্লিট হয় না তাই আরকি।

— আগামীকাল শুক্রবার। কোন সমস্যা হওয়ার তো কথা নয়।

— সাবধানের মার নেই। তাই আগে আগে জিনিসপত্র পাঠিয়ে দিবো।

— আচ্ছা তাহলে তাদের সাথে শারমিনকে পাঠিয়ে দিস। মোহনাকে তো আনতে পারবি না। তাই ওর কথা বললাম না। তবে আগামীকাল মোহনাকে আনতেই হবে।

— ওকে এখন বেরুতে হবে। শাহবাগ যাবো ফুল কিনতে। আমরা বন্ধুরা মিলে ছাদে স্টেজ করে এনাজকে হলুদ ছোঁয়াবো।

— ভিডিও কল দিয়ে দেখাস।

— এত শখ কেন? যা ভাগ।

— আমার জামাইয়ের হলুদ ছোঁয়ানো আমি দেখবো তোর কি?

— তোকে দেখতে দিবো না। আগামীকাল মন ভরে দেখে নিস। ওকে ফোন রাখ।

— আল্লাহ হাফেজ।

শারমিন ও তওহিদ ভাইয়ার বিয়ে ঠিক। জানুয়ারিতে ভাইয়ার এক মামা আসবে। তখন বড় করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শারমিনকে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। রওনক ও তন্বীর বিয়ের কথা চলছে। এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে মাস দুইয়ের মধ্যে এদের বিয়েও হয়ে যাবে। আমি কল কেটে দূরের আলু খেতের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কচি সবুজ রঙের আলুপাতায় সারা খেত ভরপুর। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।

— বোইনে আম্মু তোমাকে ডাকে।

আলু খেত থেকে চোখ সরিয়ে ইভার দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ গলায় বললাম,

— তুই যা, আমি আসছি।

ইভা দ্রুতপায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল। আমি একবার সবুজ খেতের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ধীর পায়ে নিচে চলে গেলাম। বারবার কানে একটা কথা বারি খাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ ফিসফিস করে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলছে, “আজ তোর হলুদ সন্ধ্যা নোভা। আগামীকাল তোর এই বাড়িতে শেষ দিন। তুই সবকিছু ছেড়ে নতুন জীবনে পা রাখবি।” হ্যাঁ, সত্যি তো তাই। আমি সিঁড়ি বেয়ে যেতে যেতে কয়েক লাইন মনে মনে আওড়ালাম,

“মেয়ে হয়ে জন্মেছি যখন,
পরের ঘর তো করতে হবে এখন।
মন যে কিছুই মানছে না,
ইচ্ছে করছে, ছেড়ে যেতে না।
তবু,মানতে না চাইলেও মানতে হবে,
সব ছেড়ে আমায় যেতেই হবে।”

#চলবে

সবাইকে হলুদ সন্ধ্যা ও বিয়ের দাওয়াত রইলো। গিফট নিয়ে চলে এসেন। আমি কিন্তু বিয়ের দাওয়াত দিয়ে দিলাম। কেউ আবার বলেন না যে দাওয়াত দেই নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here