শিশির_ভেজা_রোদ্দুর Part_69

0
235

শিশির_ভেজা_রোদ্দুর
Part_69
#Writer_NOVA

দুই দিন পর…..

আজ আমরা পুরো পরিবার খালামণিদের বাসায় আসছি। খালামণি তার নতুন ভাগ্নির জামাইকে দাওয়াত করেছে। তায়াং ভাইয়ার সব বন্ধুদেরও দাওয়াত করা হয়েছে। মোহনা, শারমিনও এসেছে। সবাই হুলস্থুল করে সোফায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। আমি, তন্বী খালামণিকে হাতে হাতে সাহায্য করে দিচ্ছি। খালামণি একা এত রান্না সামলিয়ে উঠতে পারবে না। তন্বী ড্রয়িংরুম থেকে ট্রে,পিরিচ এনে আমাকে বললো,

— নোভাপু তোমাকে তোমার জামাই ডাকে।

খালামণি ওকে ধমক দিয়ে বললো,
— এসব কেমন কথা তন্বী? তোমার জামাই কি? তোর কি হয় ওর জামাই?

তন্বী দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বললো,
— আমার দুলাভাই হয়। তাই তো এমনি বললাম। দুলাভাইয়ের সাথে তো শালীকা একটু ঠাট্টা-মশকরা করতেই পারে।

খালামণি মুখটাকে কুঞ্চিত করে বললো,
— এনাজ তোর ভাইয়ার সমান। তাই ওকে অসম্মান করে কোন কথা বলবি না। আমি কিন্তু আমার ছেলের অপমান সহ্য করতে পারবো না।

খালামণির কথা শুনে আমি মুখ বাঁকিয়ে বললাম,
— ইস, তোমাদের ছেলেরাই সব। আমরা যেন বানের জলে ভেসে আসছি। কি তন্বী তুই কিছু বল?

তন্বী আমার সাথে সুর মিলিয়ে বললো,
— কি আর বলবো বলো? আমি এসব বহু আগের থেকে দেখে আসছি। তুমি দেখো। মায়েরা ছেলেদের বেশি আদর,স্নেহ দেয়। আর এমন একটা ভাব ধরে থাকে যেন আমরা কেউ নই।

খালামণি মুচকি হেসে বললো,
— হয়েছে অনেক বলেছিস। এবার দয়া করে দ্রুত হাত চালা। কত রান্না বাকি আছে! নোভা যা শুনে আয় এনাজ কেন ডাকছে।

তন্বী মুখ টিপে হেসে বললো,
— যাও যাও জলদী যাও। তুমি তো আবার এনাজ ভাইয়ার অক্সিজেন। তোমাকে না পেলে তো তার শ্বাসকষ্ট উঠবেই।

আমি মুচকি হেসে তন্বীর পিঠে একটা জোরে থাপ্পড় মারলাম। তন্বী আহ্ করে পিঠে হাত দিয়ে বসে পরলো। আসলে থাপ্পড়টা অনেক জোরেই লাগছে। আমিও বুঝে উঠতে পারিনি। থাপ্পড় মেরে আমি এক মিনিটও দেরী করিনি। দ্রুত কিচেন থেকে ছুট লাগিয়েছি। ড্রয়িংরুমে গিয়ে তাকে পেলাম না। এদিক সেদিক তাকাতে দেখে রওনক জোরে চেচিয়ে বললো,

— তোমার জামাই এখানে নেই ভাবী।

আমি চোখ দুটো রওনকের দিকে স্থির করে জিজ্ঞেস করলাম,
— তাহলে ও কোথায়?

তওহিদ ভাইয়া শাহেদ ভাইয়ার পিঠে একটা চাপর মেরে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
— তোমার ও রুমে গেছে। তার এনার্জি কমে গেছে একটু বাড়িয়ে দিয়ে এসো।

আমি তওহিদ ভাইয়ার দিকে খাইয়া ফালামু লুক দিতেই সব হো হো করে হেসে উঠলো। শারমিন তওহিদ ভাইয়ার হাতে হালকা করে চড় মেরে বললো,
— কি ধরনের কথাবার্তা এসব?

তওহিদ ভাইয়া শারমিনের দিকে তাকিয়ে এক চোখ মেরে বললো,
— দোস্তের বউয়ের সাথে একটু মজা করি। তুমি চাইলে তোমার সাথেও বলতে পারি।

— আপনার মুখে লাগাম দিন তওহিদ।

— কেন গো আমার হবু বউ?

— ধূর, এর সাথে কথা বলাই বেকার।

— তাহলে বলো কেন?

তওহিদ ভাইয়া হে হে করে হাসতে লাগলো। শারমিন ভেংচি কেটে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখলো। শাহেদ ভাইয়া ইমরান হাশমি ভাইয়াকে খোঁচা দিয়ে বললো,

— ইমরান তুই কিছু বল।

ইমরান ভাইয়া মোবাইলে বুদ হয়ে ছিলো। মোবাইলের থেকে চোখ উঠিয়ে শাহেদ ভাইয়াকে বললো,

— কি বলবো?

— দোস্তের বউকে কিছু বলবি না?

— নারে শাহেদ। নোভা আমার বোন। বড় ভাই হিসেবে আমি কিছু বলতে পারি না।

ইমরান হাশমি ভাইয়ার কথাশ আমার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,

— এই না হলে আমার ভাই। বাকিগুলো সব বদের হাড্ডি। (সবার দিকে চোখ বুলিয়ে) আবির ভাইয়াকে যে দেখছি না।

রায়হান ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
— ও কাজে চলে গেছে। আবার তওহিদের বিয়েতে আসবে। এর আগে নয়।

আমি মোহনার দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিলাম। মোহনাও তার বিনিময়ে হেসে বললো,

— কিছু বলবে ভাবী?

— না,তোমাদের সবকিছু ঠিক চলছে তো?

— আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

— বিয়ের দাওয়াত কবে পাবো?

— আল্লাহ যেদিন কবুল করবে ভাবী সেদিন।

— ইন শা আল্লাহ খুব শীঘ্রই কবুল করবে।

— তাই যেন হয়।

আমাদের কথা শুনে রায়হান ভাইয়া আফসোসের সুরে ইমরান হাশমি ভাইয়াকে বললো,
— ইমরান আমরা কবে একটা গার্লফ্রেন্ড জুটাবোরে ভাই? তুই আর আমি কি সিঙ্গেল মরবো নাকি?

ইমরান ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
— আমাদের ভাই এরেঞ্জ ম্যারেজ আছে কপালে। লাভ ম্যারেজ নাই।

রায়হান ভাইয়া মুখটাকে কাঁদো কাঁদো বানিয়ে বললো,
— আব্বুকে সেদিন বিয়ের কথা বলছিলাম ছোট বোনটাকে দিয়ে। আব্বু একটা বকা দিয়ে বলে আমাকে নাকি কেউ মেয়ে দিবে না। এগুলো কোন কথা বল ভাই!

রায়হান ভাইয়ার কথা শুনে সব হো হো করে হেসে উঠলো। তায়াং ভাইয়া এতখন অব্দি চুপ করে ছিলো। হঠাৎ গম্ভীর মুখে বললো,

— তোকে এনাজ কোন সময় ডাকছে। আর তুই এখনো যাসনি?

— হ্যাঁ ভাইয়া যাচ্ছি। আমার দেবরটা কোথায়রে?

— মোবাইলে তোর জা -এর সাথে কথা বলতে ব্যস্ত আছে।

ইমরান ভাইয়া রায়হান ভাইয়াকে বললো,
— বুঝলি রায়হান, এই এনামকে সাধাসিধা, সহজ-সরল ছেলে ভাবছি। কিন্তু এই ছেলে তো বড় খেলোয়াড় বের হলো। আমরা কি করলাম জীবনে? কোন মেয়ে জুটাতে পারলাম না।

তওহিদ ভাইয়া বললো,
— থাক ভাই মন খারাপ করিস না। আমরা সবাই যদি বিয়ে করে ফেলি তাহলে আমাদের বাচ্চা-কাচ্চা সামলাবে কে বল? বাচ্চাদের সামলাতে তো তোদের মতো দু-একটা বন্ধু লাগবে। তাই অপেক্ষা করে বিয়ে কর। আমাদের বাচ্চাদেরও তো তোদের বিয়ের দাওয়াত পাওয়ার হক আছে।

শাহেদ ভাইয়া তওহিদ ভাইয়ার কথায় তাল দিয়ে বললো,
— তওহিদ কিন্তু খারাপ বলেনি।

রায়হান ভাইয়া শাহেদ ভাইয়ার পিঠে ধুপ করে একটা ঘুষি দিয়ে বললো,
— আবার তাল দেওয়া হচ্ছে?

তায়াং ভাইয়া এবার আমাকে একটা ধমক দিয়ে বললো,
— তুই এখনো যাসনি?

আমি কিছুটা চমকে থতমত খেয়ে বললাম,
— হু হু যাচ্ছি।

রওনক শয়তানি হাসি দিয়ে বললো,
— জলদী যাও ভাবী। আমার ভাইয়া তোমাকে অনেক মিস করছে।

আমি রওনকের দিকে ক্রুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললাম,
— দিন আমারো আসবে বোন জামাই! তখন আমিও সব উসুল করে নিবো।

— নিয়ো, আমি কি ভয় পাই নাকি।

আমি আর দেরী না করে দ্রুত তায়াং ভাইয়ার রুমের দিকে রওনা দিলাম। হঠাৎ করে আমার উনি আবার একা কেন ডাকলো? কোন সমস্যা হয়নি তো? এতখন তো এসব মাথায় আসেনি। এখন আসায় দ্রুত পায়ে এগিয়ে যোতে লাগলাম।

💖💖💖

— কাকে খুঁজো ভাবী?

এনামের কথায় অনেকটা চমকে গেলাম। তায়াং ভাইয়ার রুমের খাটের ওপর বসে নিতুর সাথে মনযোগ সহকারে কথা বলছে এনাম। ওদের সবকিছু সেটিং করে ফেলছে এনাজ। বিয়ের পিড়িতে বসতে ওদের দেরী আছে। তবে আপাতত আমরা কয়েকজন গিয়ে নিতুকে আংটি পরিয়ে রেখে আসবো। পরবর্তীতে এনামের চাকরী হলে নিতুকে উঠিয়ে আনা হবে। নিতুর বাবা আমার বাবার মতো এতো বেশি ঝামেলা করেনি। আমি একবার এনামের দিকে তাকিয়ে ভাবলাম,এনাম এখানে হলে এনাজ কোথায়? আমি ওর দিকে তাকিয়ে কিছুটা মুখে হাসি রেখে জিজ্ঞেস করলাম,

— আপনার ভাইয়া কোথায়?

— ভাইয়া তো তন্বীর রুমে। কোন দরকার ভাবী?

— আপনার ভাইয়া আমাকে ডাকছিলো। তাই আরকি। ওর শরীর খারাপ করলো কিনা।

— ভাইয়া বললো তার নাকি মাথা ধরছে।

— আচ্ছা আমি যাচ্ছি।

— ভাবী শুনেন?

— জ্বি বলেন ভাইয়া।

— অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

— কেন?

— আপনার জন্য নিতুকে আমি পেলাম। সবটা আপনার সাহায্যের কারণে। আগে সবসময় শুনতাম বড় ভাইয়ের বউ হয় বড় বোন কিংবা মায়ের মতো। আজ আমি নিজ চোখে তার প্রমাণ পেয়ে গেলাম।

— তেমন কিছুই তো করতে পারলাম না দেবরজী।

— তবুও যা করেছেন কম কি?

— অনেক কম।

— একটুও না। আপনি ভাইয়াকে কত সুন্দর করে সবটা বুঝিয়ে বললেন সেদিন। আমি হলে কখুনি পারতাম না। আপনি সেদিন আমাদের সাহায্য না করলে আজ আমরা দুজন দুদিকে ছিটকে পরতাম।

— আরে ধূর, আপনি একটু বেশি বলছেন।

— একটুও বেশি বলছি না।

— আচ্ছা, আমি আসি। আপনার ভাইয়ার কাছে যাই।
আর কোন কিছু লাগলে আমাকে ডেকেন।

—ওকে।

তায়াং ভাইয়ার রুম ছেড়ে এনাজের কাছে গেলাম। রুমে ঢুকতেই দেখলাম সে কপালে হাত দিয়ে বালিশে শুয়ে আছে। আমি ধীর পায়ে তার কাছে গিয়ে মৃদুস্বরে ডেকে বললাম,

— এনজিও সংস্থা খারাপ লাগছে?

কপালের উপর থেকে হাত না সরিয়ে বললো,
— ওহ আসছো তুমি। এতখন পর আমার কথা মনে পরলো তাহলে তোমার?

— কিচেনে কাজ করছিলাম। তায়াং ভাইয়া বললো আপনার নাকি মাথা ধরছে!

— হুম ভালোই ধরছে। কপালটা একটু টিপে দিবে। সাথে চুলে একটু বিলি কেটে দিও।

— আচ্ছা আমি কপালে বাম লাগিয়ে টিপে দিচ্ছি। আপনি শুয়ে থাকুন।

— টিডি পোকা!

— হুম বলেন।

— তুমি কিন্তু আবারো আপনি বলা শুরু করছো।

আমি জিহ্বায় কামড় দিয়ে অপরাধী ভঙ্গিতে বললাম,
— পুরনো অভ্যাসতো ছাড়তে পারি না।

— অভ্যাস করতে হবে।

— আচ্ছা জনাব।

টেবিলের ড্রয়ার থেকে মাথাব্যথার বাম বের করে তার শিউরের পাশে বসলাম। আমি বসতেই সে আমার কোলে মাথা দিয়ে সটান হয়ে শুয়ে পরলো। কপালে বাম ডলে কিছু সময় টিপে দিলাম। সে উপুড় হয়ে শুয়ে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো,

— আমি একটু ঘুমাবো।

— ঘুমাও, মানা করলো কে?

— তুমি এভাবে বসে থাকো। তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাবো। এখান ছেড়ে কোথাও যাবে না। ঘুম থেকে উঠে যেন তোমাকে এভাবেই দেখতে পাই।

— কিরকম কথা এসব? খালামণি, তন্বীর সাথে একটু কাজ করতে হবে তো। তাছাড়া আপনার বন্ধুরাই বা কি বলবে?

— কেউ কিছু বলবে না। তুমি চুপ করে এখানে বসে থাকো। আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকবো।

— এটা কেমন কথা এনাজ?

— এমন কথাই। তুমি যদি এখান থেকে উঠে যাও তাহলে আমি কিন্তু অনেক রাগ করবো।

তার কন্ঠে স্পষ্ট রাগী ভাব শোনা যাচ্ছে। পাগল রাগালে আমার কপালে শনি আছে। তাই চুপচাপ মেনে নিলাম। কোমড়টাকে আরো শক্ত করে ধরে পেটে দুটো চুমু খেলো। আমি কিছুটা চমকে উঠলাম। তার দিকে তাকাতেই সে আমার এক হাত নিয়ে তার মাথায় রেখে বললো,

— হাত বুলিয়ে দাও। সাথে একটু বিলি কেটেও দিয়ো।

আমি কোন দ্বিধা না করে তার মাথায় বিলি কেটে দিতে লাগলাম। আল্লাহ জানে বাকি সবাই কি ভাবে!

— এনাজ, নোভা খেতে আয়।

তায়াং ভাইয়ার ডাক শুনে হুরমুর করে উঠলাম। এনাজের মাথায় বিলি কেটে দিতে দিতে কখন যে খাটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পরেছি বলতেও পারি না। এনাজ এক হাতে পেট জড়িয়ে ধরে এখনো ঘুমিয়ে আছে। তায়াং ভাইয়া আবারো দরজার বাইরে থেকে ডাকলো।

— কিরে তোরা কি খাবি না?

— আসতেছি ভাইয়া।

— জলদী আসিস। এনাজ কি এখনো ঘুমে?

— হুম উঠে নাই।

— মাথাব্যথা কমছে?

— বলতে পারছি না।

— না কমলে খাবার খেয়ে ঔষধ খেতে বল।

— আচ্ছা তুই যা আমরা আসতেছি।

তায়াং ভাইয়া চলে গেলো। আমি এনাজকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বললাম,
— এই যে ওঠো। খাবে না?

— উহু।

— উহু বললে তো হবে না। খেতে হবে তো। খাবার খেয়ে একটা ঔষধ খেয়ে নিও।

— আরেকটু ঘুমাই।

— জ্বি না উঠো।

জোর করে তাকে উঠিয়ে খাবার টেবিলে নিয়ে গেলাম। আমাদের দেখে রওনক টিটকারির সুরে বললো,

— বুঝলেন তওহিদ ভাই, আমাদের এনাজ ভাই তো দেখছি সেই বউ পাগল ছেলে। বউকে নজর ছাড়া করতে চায় না। বউ সামনে থাকলে মাথাব্যথাও ভালো হয়ে যায়।

এনাজ চেয়ার টেনে বসতে বসতে রওনককে বললো,
— খুব সহজে আমাদের তন্বীকে পেয়ে যাচ্ছো তাই গুরুত্ব টের পাচ্ছো না। আমার মতো কষ্ট করে পেলে তার মূল্য বুঝতা।

রওনক বুঝদারের মতো ঘন ঘন মাথা নাড়িয়ে বললো,
— কথা ভুল বলেন নাই বড় ভাই।

খালামণি প্লেটে পোলাও বেড়ে দিয়ে এনাজের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— মাথাব্যথা কমছে বাবা?

— জ্বি আলহামদুলিল্লাহ আন্টি,অনেকটা কমছে।

— খেয়ে একটা ঔষধ খাও।

— ঠিক আছে।

রায়হান ভাইয়া মুখ টিপে হেসে বললো,
— মাথাব্যথা এমনি কমে গেছে আন্টি। এতখন বউ সাথে ছিলো তো। অনেক সময় ধরে বউকে দেখেনি বলে মাথাব্যথা উঠছিলো।

এনাজ চোখ ছোট ছোট করে রায়হান ভাইয়ার দিকে তাকালো। শাহেদ ভাইয়া দুষ্টুমীর সুরে বললো,
— এনাজ চাচা হবো কবে?

খালামণি মুচকি হেসে বললো,
— হ্যাঁ বাবা আমরা নানী,দাদী হবো কবো?

আমি সবাইকে সার্ভ করে দিচ্ছিলাম। তাদের কথা শুনে মাথা নিচু করে মিটমিট করে হাসলাম।এনাজ একবার আমার দিকে তাকালো। ও কিছু বলার আগে তায়াং ভাইয়া বললো,

— সবে তো বিয়ে হলো। দুই -এক বছর যাক তারপর দেখা যাবে। তাছাড়া নোভা পড়াশোনা করছে করুক না। তারপর আস্তেধীরে সব হবে।

তায়াং ভাইয়ার দিকে হাসিমুখে তাকালাম। ভাইটাকে কিছু না বললেও সবকিছু নিজ থেকে বুঝে যায়। আমি এগিয়ে গিয়ে ভাইয়ার সামনে হা করে বললাম,
— ভাইয়া একটু খাইয়ে দে তো।

ভাইয়া কোন অমত না করে প্লেটে খাবার মেখে আমাকে খাইয়ে দিলো। মুখে খাবার তুলে দিয়ে নাক মুখ সিটকিয়ে বললো,
— ইস দিলি তো আমার হাতটাকে নোংরা করে। দেখ দেখি থু থু লাগিয়ে দিছিস। এখন আবার আমাকে হাত ধুতে হবে।

আমি রাগী লুকে তাকিয়ে ওর পিঠে দুম করে একটা কিল বসিয়ে দিলাম। ভাইয়া আমাকে কিছু বললো না। আমাদের কান্ড দেখে সবাই মিটমিট করে হাসছে। তন্বীও আমার দেখাদেখি তায়াং ভাইয়ার সামনে এসে বললো,

— আমাকে একটু খাইয়ে দে ভাইয়া।

ভাইয়া ভেংচি কেটে বললো,
— যা ভাগ। তোর হাত আছে না হাত দিয়ে খা। একটায় থুথু ভরিয়ে দিছি তুইও তা করবি।

— এমন করিস কেন দে না।

— এদিকে আয় দিচ্ছি।

তায়াং ভাইয়া এক লোকমা তন্বীর মুখে তুলে দিলো। আমি এনাজের পাশে দাড়াতেই এনাজ ফিসফিস করে বললো,
— দেখছো আন্টিও নানী হতে চায়। কিন্তু তুমি তো শুনো না।

আমি পরপর দুইবার মুখ ভেংচে তার কানের সামনে মুখ নিয়ে বললাম,
— তায়াং ভাইয়া কি বলছে শুনো নাই।

এনাজ আমার দিকে চোখ দুটো ছোট করে তাকিয়ে কটমট করে একটা শসার পিসে কামড় মারলো। মনে হলো শসাকে নয় আমাকেই সে চিবিয়ে খাচ্ছে। শসা চাবাতে চাবাতে নিচুস্বরে বললো,

— আজকে খবর আছে।

আমি মুখ বাঁকিয়ে তার সামনের থেকে সরে গেলাম। এতে সে আরেকটু বেশি রেগে গেলো। তাকে রাগাতেই এমনটা করছি। আমার দিকে তাকিয়ে যে কাঁচামরিচে কামড় বসিয়ে দিয়েছে সেদিকেও খেয়াল নেই। একটু পর পানি, পানি বলে চেচিয়ে উঠলো। তার কাজ দেখে আমি পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে কিচেনে চিনি আনতে ছুটলাম। মরিচগুলো অনেক ঝাল।পানি খেয়ে এর ঝাল কমবে না।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here