গ্রামের ছেলেটি -(পর্ব- ১১ম)

0
215

##গ্রামের_ছেলেটি

পর্ব- ১১ম

স্বপন

রাজিবের মা চলে আসেন এসে জিজ্ঞেস করেন কে এসেছে। তখন তামান্না উঠে গিয়ে কি যে একটা বলে,। নিলিমাকে অতিথি আপ্যায়ন করেন। সবাই অনেক খুসি নিলিমাকে দেখে নিলিমা তো অবাক তাদের এরকম করতে দেখে,,।

আমি আর রাকিব বাজার করা হয়ে গেছে, তাই বাসার দিকে আসি।

রাকিবঃ শিমুল দুপুরে রাইসাকে আসতে বললে কেমন হয়?
আমিঃ রাইসাকে না ও এখন অফিসে আছে আর যদি নিলিমা জানে তাহলে আমাদের দুইজনের চাকরি নট হয়ে যাবে।
রাকিবঃ আরে ওকে বলবি যাতে নিলিমাকে না বলে তাহলেই তো হলো।
আমিঃ আচ্ছা তুই ফোন কর আমার ফোনে টাকা নেই,।
রাকিবঃ ভাই নাটক করিস কেন করলে কর তা না হলে থাক।
আমিঃ থাক রাগ করিস না আমি ফোন করি।

তারপর ফোন করলাম। বললাম রাইসাকে আসতে। রাইসা বলল,” ম্যাডাম অফিসে নেই তাই সে আসতে পারবে না “। আমি ঠিক আছে বলে ফোন কেটে দিলাম।

আমিঃ রাকিব কপাল খারাপ দোস্ত নিলিমা অফিসে নেই,,
রাকিবঃ নিলিমা অফিসে নেই,,নিলিমা না তোকে ফোন করলো। ও আবার তোর বাসায় চলে আসে নি তো।
আমিঃ কি বলিস,,,

দিলাম দুই জনে এক দৌড়,,

নিলিমাঃ আচ্ছা আজ তাহলে আমি উঠি, অনেক দেরি হয়ে গেছে অফিসে অনেক কাজ পরে রয়েছে।
রাজিবের মাঃ সে কি কথা এখন যাওয়া যাবে না একসাথে খাওয়া দাওয়া করে তারপর যাবে।
নিলিমাঃ না আন্টি অফিসে যেতে হবে অন্য একসময় আসবো আসি তাহলে।।
রাজিবঃ আচ্ছা তাহলে আমি আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।

রাজিবের দিকে তাকিয়ে তামান্না মুচকি মুচকি হাসে।

নিলিমাঃ থ্যাংকস,,
রাজিবঃ থ্যাংকস কেনো,,,
নিলিমাঃ এই যে আপনার বাসায় নেয়ার জন্য।
রাজিবঃ এতে থ্যাংকস বলার কি আছে।
নিলিমাঃ আচ্ছা তাহলে আমি এখন আসি দেখি শিমুল আসেছে কি না, বায়,
রাজিবঃ বায়,,,

দরজা কাছে এসে দু জনেই হাপাচ্ছি৷ আমি রাকিবকে বললাম তারাতাড়ি দরজা খুলতে। আমি ঘুরে তাকাতেই দেখি নিলিমা উপর থেকে নামছে। আমার দিকে তাকাতেই আমি আমার বুকে হাত দিয়ে আ করে চিল্লাই উঠি। আমার শব্দ শুনে রাকিব বলে উঠে কি হয়েছে তোর আবার ও ঘুরে তাকাতেই দেখে নিলিমা সামনে ।

দরজা খুলে আমি রুমে চলে গেলাম রাকিব কে বললাম সব কিছু করতে। কারণ আজকে আমার কপালে অন্য কিছু আছে মনে। রাকিব আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে চলে গেলো।
আমার পরে রুমে নিলিমা চলে আসে।

আমিঃ তুমি এখানে কেন,,?
নিলিমাঃ সেটা বলার আগে তুমি বলো তুমি নাকি অসুস্থ তাহলে এগুলো কি,,? (নিলিমা রেগে)
আমিঃ আমি সত্যি অসুস্থ ছিলাম এতো রাকিব আমাকে জোর করে নিয়ে গেছে।
নিলিমাঃ কই আমি তো তোমাকে অসুস্থ দেখছিনা।
আমিঃ আ কে বলছে আমার কিছু হয় নি এই তো বুকের ব্যাথা করছে।
নিলিমাঃ বুকে কিসের ব্যাথা দেখি, আর আমার ফোন ধরোনি কেন এতো বার কল করেছি( এই বলে আমাকে বিছানায় ফেলে আমার উপরে উঠে বলে)এখানে ব্যাথা করছে হুম,,
আমিঃ ফোন ধরবো কি করে সাইলেন্ট করা ছিল।দেখিনি আ ব্যাথা লাগছে।
নিলিমা আমার বুকে হাত দিয়ে আমার মুখের কাছে ওর মুখ এনে বলে। আমি এই প্রথম নিলিমাকে খুব কাছ থেকে দেখি। নিজের অজান্তেই ওর গালে আমার হাত চলে যায় আমি বলে উঠি ভালোবাসি খুব,,,।

নিলিমা আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমিও ওর দিকে তাকিয়ে আছি হটাৎ রাকিব রুমে চলে আসে এসে দেখে আমি শুয়ে আছি আর নিলিমা আমার উপরে,,

রাকিবঃ এই সরি, সরি,,
আমরা দুজনেই তারাতাড়ি করে সরে যাই নিলিমা লজ্জা পেয়ে যায়। নিচের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
আমিঃ কি,, কি হয়েছে,, (ভয়ে একটু রাগ দেখিয়ে)
রাকিবঃ আমি কি করবো আমি তো এসেছিলাম যে নিলিমার কিছু লাগবে নাকি তার জন্য। কে জানতো এরকম হবে, আর তোরাও দরজা বন্ধ করে নিবি তো।
আমিঃ আর জ্ঞান দিতে হবে না তো,,
রাকিবঃ ওকে,, তোমাদের কিছু লাগবে,,
আমিঃ না লাগবে না,,
রাকিবঃ নিলিমা তোমার কিছু লাগবে,,
নিলিমাঃ নাহ আমার কিছু লাগবে না।
রাকিবঃ তোর কিছু লাগবে,,
আমিঃ হুম, এক চিমটি রেসপেক্ট,, (রেগে)
রাকিবঃ ওকে সরি তোমরা থাকো।।

রাকিব চলে গেলো আমি আর নিলিমা বসে আছি কেউ কিছু বলছি না,,নিলিমা হাতে যে কি করছে আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। নিলিমা আমার দিকে তাকালো কি মায়াবি চাহনি। মনে চায় সারাক্ষন এভাবেই তাকিয়ে থাকি। নিলিমা আমার এভাবে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বলে,,

নিলিমাঃ কি দেখছো এভাবে,,,
আমিঃ তোমাকে,,তু,,,তুমি অফিসে যাবে না চলও।
নিলিমাঃ কি,,
আমিঃ হুম,, যাও তোমার অফিসে,,
নিলিমাঃ আজকে আমি আর অফিসে যাবো না এখানেই থাকবো যতক্ষন না আমার ইচ্ছে।
আমিঃ ওকে থাকো আমি যাই দেখি রাকিব কি করছে,,,
নিলিমাঃ আমি এখানে একা কি করবো,,,

আমি চলে আসলাম রাকিবের কাছে৷ দেখি রাকিব সব কিছু রেডি করে রাখছে আমি আর রাকিব রান্না করতেছি। নিলিমাও সেখানে চলে আসে, নিলিমা বাইরে দাঁড়িয়ে আমাদের রান্না করতে দেখছে।

রাকিবঃ ও নিলিমা কিভাবছো ওখানে দাঁড়িয়ে,?
নিলিমা রান্না ঘরের দরজার সাথে দাঁড়িয়ে।
নিলিমাঃ তোমরা নিজেরাই রান্না করো,,
রাকিবঃ না এই একটু মাঝে মাঝে আর কি, এখন আমাদের রান্না তোমার কাছে কেমন লাগে সেটাই দেখার বিষয়।
নিলিমাঃ রান্নার কেমন সেটা তো খাবার পর বলা যাবে,,
রাকিবঃ একবার খেয়ে দেখো হাত চাটতে থাকবে।
নিলিমাঃ তাই নাকি,,,

আমি রান্না করতেছি আর এরা দুইজনে বকবক করা শুরু করে দিয়েছে তো আর থামছেই না। নিলিমা কে বললাম ফ্রেশ হয়ে নিতে, ততক্ষনে আমাদের রান্নাও হয়ে যাবে। নিলিমা ফ্রেশ হতে চলে গেলো। আমি আর রাকিব রান্না শেষ করে গোসল শেষ করে এসে দেখি নিলিমা ফোনে কথা বলছে। কথা শুনে মনে হলো অফিসের, আমি আর রাকিব বসেছি নিলিমাও চলে আসে আমাদের সাথে বসে ।

খাবার খেয়ে নিলিমা অনেক প্রসংশা করলো,,
আমি খাবার খেয়ে রুমে চলে আসলাম আমার সাথে নিলিমাও চলে আসে। নিলিমা এসে আমার গালে একটা কিস করে,। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
নিলিমাঃ এটা এতো সুন্দর রান্না করার জন্য,। (আসতে করে আমার কানের কাছে এসে বললে হেসে দিলো)

আমি শুধু ওর দিকে তাকিয়ে আছি, কি হচ্ছে আমার বিশ্বাস করতে পারছি না নিলিমা এমন কেন করছে।

রাকিব পিছনে দারিয়ে কাসি দেয়,,নিলিমা আমাকে ছেড়ে দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে লজ্জা পেয়ে।

রাকিবঃ কিছু মনে না করলে আমাকে একটু বিছানায় যেতে দিবে, অনেক খাওয়া হয়ে গেছে তাই একটু ঘুমাবো।
আমিঃ ঘুমাবি তুই ঘুমা কে মানা করেছে,,,
রাকিবঃ তোরা এখানে থাকলে আমার ঘুম হবে না।
আমিঃ তাহলে তোর ঘুমানো লাগবে না,,

এই নিয়ে আমি আর রাকিব কথা কাটাকাটি করতেছি আর নিলিমা আমাদের কান্ড দেখে দূরে দাঁড়িয়ে হাসতেছে।

বিকেল বেলা আমি আর নিলিমা ছাদে যাই, ছাদে গিয়ে নিলিমা ফুল গাছ দেখে তো খুব খুসি। আমি তাকে সেখানে জেতে মানা করলে ও শুনেনি। তারপর আমি বলি ঠিক আছে কিন্তু ফুল ছিড়বে না। নিলিমা বলে ঠিক আছে।

আমি গিয়ে দোলনায় বসে আছি, নিলিমা ফুল গাছের কাছে গিয়ে। দোলনায় বসে ছোটবেলার কথা মনে পরে গেলো। ছোট বেলায় এটাকে বলতাম ঝুলমি। পাশের বাড়ি এক ফুফুর মেয়ে আমার বয়সী তারা ঢাকা থেকে এসেছিলো। আমরা দুই জনে ঝুলমি নিয়ে খেলছিলাম,। আমি পিছন থেকে

আসতে আসতে করে ধাক্কা দিচ্ছিলাম আর ও বলছে আরও জোরে ধাক্কা দিতে আমি জোরে বলে আর আমি ওর কথা মতো ধাক্কা দিচ্ছি। হটাৎ ও ঝুলমি থেকে পরে যায়, পরে গিয়ে ওর হাতে পায়ে আঘাত পায়। হয়ে গেলো শুরু করে দিলো কান্না, পুরো বাড়ির মানুষ এক করে ফেলেছে। মা, বাবা ও চলে আসে এসে দেখে এই অবস্থা। জিজ্ঞেস করে কি করে হলো। বলে আমি করেছি, শুরু করে দিলো সেদিন মনে হয় না কিল একটাও মাটিতে পরেছিলো,,সব আমার পিঠেই তালের মতো করে পরেছে।

নিলিমা আমার কাছে আসে বলে,,

নিলিমাঃ কি ভাবছ এখানে বসে,,,
আমিঃ ভাবছি পিছনে কিছু কথা যা আর কোন দিন ফিরে আসবেনা।
নিলিমাঃ কি কথা শুনি,,( আমার পাশে এসে বসে,)
আমি উঠে গিয়ে দোলনাটাকে পিছনে থেকে আসতে ধাক্কা দিচ্ছি,। নিলিমাও খুব আনন্দই পাচ্ছেন। আমি আর নিলিমা চুপ করে আছি কেউ কোন কথা বলছিনা। আমি নীরাবতা কাটিয়ে বলে উঠি,,,

আমিঃ নিলিমা তোমার কি ভার্সিটির কোন কথা মনে আছে।।
নিলিমাঃ ভার্সিটির কথা কি ভোলার মতো নাকি। সে সময় কতই না আনন্দে ছিলাম, প্রতিদিন একটা দুটো প্রোপোজ আসতো। তা নিয়ে বন্ধবিদের সাথে মিলে হিসাব করতাম কে কয়টা পেয়েছে। যে সব চেয়ে বেশি পাবে সে খাওয়াবে। আমি সবার থেকে বেশি পেতাম তাই বলি আমারি হতো।
আমিঃ কাউকে তোমার পছন্দ হয় নি নাকি।
নিলিমাঃ কাকে রেখে কাকে এএক্সেপ্ট করবো আর কে কষ্ট পাবে তাই আর কাউকে হ্যা বলি নি।
আমিঃ হাহাহ মজা করছো, এমনতো কেউ ছিলো যে তোমার জিবনে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ।
নিলিমাঃ (কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে) হ্যা ছিল কিন্তু আমি তার কাছে শুধু মাত্র টাইমপাস ছিলাম,,

সত্যিকারে ভালোবাসাটা সব সময় ভুল মানুষের সাথে হয়।

নিলিমাঃ আচ্ছা তুমি আমাকে পছন্দ করো তাহলে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলে না কেন।।
আমিঃ আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি এমনকি এখনো তোমাকেই ভালোবাসি৷ কিন্তু তোমাকে বিয়ে তখনো করতে রাজিলাম না এখনো না।
নিলিমাঃ মানে,,,, (নিলিমা পিছনে ঘুরে বলে)

আমি দোলনা ছেড়ে দিয়ে ছাদের কোণে যাই। নিলিমা উঠে আমার পিছনে এসে দাঁড়ায়।

আমিঃ নিলিমা তোমার মনে আছে একটা ছেলে তোমাকে প্রায় প্রেমের প্রস্তাব দিতো। দেখতে চিকন, গায়ে পুরো জামা পায়ে ছেড়া জুতা, এলোমেলো চুল। যাকে তুমি গ্রামের গাইয়াভুত বলেছিলে, এমনকি সে তোমার অযোগ্য, ছোটলোক বলে অপমান করেছিলে। মনে আছে নিলিমা,,( বলে আমি নিলিমার দিকে ঘুরে তাকাই)

নিলিমা অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে,,

নিলিমাঃ সেটা তুমি জানলে কিভাবে,,,
আমিঃ (হেসে)আমি জানবো না তো কে জানবে শুনি,আমিই যে সেই ছেলেটা।

আমি নিলিমার দিকে তাকিয়ে আছি নিলিমাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নিলিমার মুখ থেকে আর কোন কথা বের হচ্ছে না। চোখগুলো জলজল করছে এই মনে হয় বৃষ্টি পরবে।

কেন জানি না নিলিমাকে এ কথা গুলো বলতে গিয়ে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি তাই নিলিমার সামনে থেকে চলে আসি, সিরি দিয়ে নামতেই কারো সাথে ধাক্কা খাই।

তামান্নাঃ দেখে চলতে পারেন না।,
আমিঃ সরি,,
তামান্নাঃ আপনি কাদছেন কেন,,(আমাকে দেখে অবাক হয়ে বলে,,]

আমি তার কোথায় কোন জবাব না দিয়ে চলে আসি। নিলিমা আনমেনে ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তামান্না গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, কে ওখানে তখন নিলিমা।নিজের চোখের পানি মুছে তাকিয়ে দেখে তামান্ন,,

তামান্নাঃ ওহ আপু আপনি এখানে কি করছেন একা। আপনি না চলে গেলেন!!
নিলিমাঃ না একটা কাজ ছিলো তাই যাওয়া হয় নি। এখন যাবো আসি,,,

এইবলে নিলিমা চলে গেলো,,,তামান্ন নিলিমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। পরেদিন অফিসে যাই গিয়ে দেখি নিলিমা আমার আগেই চলে এসেছে। আমি গিয়ে বসে পরি নিজের জায়গায়। নিলিমার রুম থেকে বের হতে যাবে আর আমার চোখে তার চোখ পরে।

নিলিমা আর দিকে তাকিয়ে আছে আমি তাকিয়ে আছি। ওর চোখ দেখে মনে হয়,কিছুএকটা বলতে চায় এ চোখ। আমি আমার চোখ সরিয়ে নিয়ে কাজে লেগে পরি।

এভবেই বেশ কিছুদিন কেটে যায়,,, নিলিমা আমার কাছে এসে কিছু বলতে চাইলে আমি কোন ভাবে তাকে এরিয়ে যাই।

তারপর একদিন বাসায় ডাক আসে যে বাড়ির মালিক আমাকে ডেকেছে। আমি আর রাকিব তো ভয়ে শেষ, ডেকে নিয়ে আবার বাসা ছাড়ার কথা বলবে না তো। আল্লাহই জানে আজ কপালে কি আছে। নিলিমা আমাদের বাসায় এসেছিলো তার জন্য নয় তো আবার।

এসব কিছু ভাবতে ভাবতে আমি আর রাকিব চলে গেলাম তাদের বাসায়,,,গিয়ে কলিং বেল বাজালাম,, কিছুক্ষন পর একটা মেয়ে এসে দরজা খুলে দিলো,,

তামান্নাঃ আপনারা,, দাড়ান আম্মুকে দিয়ে যদি,,,
আমিঃ আপনার মা ডেকেছেন,,(আমি তাকে বলতে না দিয়ে)
তামান্নাঃ আম্মু ডেকেছে আপনাদের,,,
আমিঃ হ্যা বিশ্বাস না হলে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন,,,
তামান্নাঃ ওহ আসুন ভিতরে,,,

আমরা গিয়ে সোফায় বসে আছি। আমি রাকিবকে বলছি, তোর জন্য আজকে এখানে আসা লাগলো। যদি বাসা ছাড়া লাগে তাহলে তুই একা বাসার ব্যবস্থা করবি,,৷

রাকিবঃ আরে দাড়া না দেখি আগে কি বলে,,
আমিঃ আমি আবার দাড়াবো কেন তুই যদি ওইদিন সকালে অসব না করতি তাহলে কি এসব হতো। আর জানোস না ব্যাচেলর দের বাসা ভাড়া পাওয়া কত কঠিন। অনেক কষ্ট করে এখানে ম্যানেজ করেছি।

এরি মধ্যে তামান্না তার মাকে ডেকে নিয়ে এসেছে। আমি দাড়িয়ে তাকে সালাম দিলাম৷ আন্টি আমার সালামের উত্তর দিয়ে আমাদের বসতে বলে। আমাদের চা নাস্তা খাওয়ার কথা বললে তামান্না বলে,,,,

তামান্নাঃ আম্মু তুমি এদের বাসায় বসিয়ে চা খাওয়াচ্ছ জানো এরা কি করেছে, একে তো নিষেধ করার পরো ছাদে গিয়েছে তার উপর আমার ফুল গাছের ফুল ছিড়েছেন।😠😠
আন্টিঃ তুই চুপ থাক আমাকে কথা বলতে দে,,,
আমিঃ বিশ্বাস করেন আন্টি আমরা আপার বলার পর আর আমরা ছাদে জাইনি,,,

আমরা কথা শুনে দেখি তামান্না চোখ গুলো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে,,,

আন্টিঃ তোমরা ওর কথায় কিছু মনে করনা,
তোমরা বসে কেন খাও, আমি একটু আসতেছি,,

এই বলে চলে গেলে তামান্না পিছনে থেকে বলে।
তামান্নাঃ মা তুমি জানো না এরা কেমন লোক, তুমি সাদাসিধা দেখে তোমাকে এরা,,,,
আমিঃ আপা আপনি ভুল বুঝচ্ছেন, আপনি যেমনটা ভাবছেন আমরা তেমন লোকি না।
তামান্নাঃ এই মিয়া আমি আপনাকে বলছি আর বার বার আপা আপা কি বলছে এসব কি ধরনের কথা,।
রাকিবঃ কি বলছেন এসব আন্টি তো আপনার মাকে বলি আপনাকে আবার আন্টি বললে কেমন দেখায়,,

তামান্না রাকিবের কথা শুনে তো আরও আগুন,,

চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here