গ্রামের ছেলেটি -(পর্ব- ১৩তম)

0
188

#গ্রামের_ছেলেটি

পর্ব- ১৩তম

স্বপন

তামান্নাঃ মনে হচ্ছে আপনার মন খারাপ,, আর সেটা হয় তো পরিবারের জন্য নয় তো প্রেমিকার জন্য। হুম কোনটা,,,

আমি চুপ করে আছি কোন কথা বলছি না, আমি অন্য দিকে তাকিয়ে আছি।

তামান্নাঃ কি কোনটা বলুন,,,বলবেন না, হুম বুঝতে পারছি,,,,প্রেমিকার জন্য। তা আপনার প্রেমিকার কি বিয়ে হয়ে গেছে, নাকি আপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে,,,
আমিঃ এর কোন টাইনা, বুঝতে পেরেছেন।

চলে এলাম সেখান থেকে,,

এই মেয়ে এতো প্রশ্ন শুনে আমার মাথা ধরে গেছে। একটু নিরিবিলি একা থাকার জন্য এখানে এসেছি আর এই মেয়ে এসে কান খারাপ করে দিবে,,
রুমে এসে দেখি রাকিব বিছানা থেকে নিচে পরে গেছে,,

আমিঃ কিরে কি হলো নিচে পরে গেলি কি করে,,,

রাকিব উঠে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে,,
রাকিবঃ একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছি,,,
আমিঃ কি,, কি খারাপ স্বপ্ন,,,
রাকিবঃ (চুপ করে বসে আছে,)
আমিঃ এই কি হয়েছে বলবি নাকি,,,
রাকিবঃ ভাই আমি মনে হয় রাইসার প্রেমে পড়ে গেলাম,।

আমি ওর পাশে বসে,,,

আমিঃ কি বলিস রাইসাকে বলেছিস নাকি,,

রাকিব অসহায় মুখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমিঃ কি বলিস নি,,,
রাকিবঃ ( মাথা নিচু করে বলে) না,,
আমিঃ এতোই খারাপ লাগলে বলে দে না যে তুই ওকে ভালোবাসিস,,,
রাকিবঃ কি বলিস আমার তো ওর কাছে গেলেই হার্ডবিড বেড়ে যায়, তখন কথাই বের হয় না। তারপর ভয় লাগলে যদি,,,,
আমিঃ এতো ভেবে কাজ নেই,, যা বলার বলে দে,,এখন না বললে দেখা গেলো অন্য কেউ এসে নিয়ে চলে গেলো।
রাকিবঃ কি করবো বলব,,
আমিঃ হুম,,,চল,,,
রাকিবঃ কোথায়,,,
আমিঃ চল রাইসাকে বলবি যে তুই ওকে ভালোবাসিস।
রাকিবঃ কি বলিস এখন,,, পরে গেলে হয় না,,
আমিঃ না এখনি চল,,
রাকিবঃ না না পরে যাওয়া যাবে, তুই অফিসে যাবি না,,
আমিঃ নাহ,,
রাকিবঃ কেন,,, কাল রাতে ও কিছু বললি না,। কি হয়েছে বলবি তো আমাকে নাকি।
আমিঃ তুই ফ্রেশ হয়ে নে বেরুবি না।

আমি বলে চলে আসতে গেলে রাকিব আমাকে ধরে,,,,

রাকিবঃ দেখ শিমুল কথা গুরানোর চেষ্টা করবি না। ঠিক ঠিক বল কি হয়েছে,,,

তারপর রাকিবের কাছে সব কিছু খুলে বললাম,,রাকিব আমার কথা শুনে কোন কথা বলছে না। একধ্যানে বসে আছে,,,,

আমিঃ কি হলো উঠবি না নাকি চল,,,
রাকিবঃ নিলিমা এতোটা পালটে গেছে,। তোকে এতো ভালোবাসে শুধু মাত্র তোর জন্য এসব কিছু করেছে। আর তুই একে ছেড়ে না করে দিয়েছিলি।
আমিঃ আরে আমি তখন যানতাম নাকি যে নিলিমা আমাকে এতো ভালোবাসে।
রাকিবঃ তাহলে এখন কি করবি,,,
আমিঃ এখন কি আর করা যায়, অনেক দেরি হয়ে গেছে।
রাকিবঃ কি দেরি হয়ে গেছে, এখনো কিছুই দেরি হয় নি । এখনো সময় আছে
নিলিমাকে সবকিছু খুলে বল, যে নিলিমা তুই নিলিমাকে এখনো ভালোবাসিস তাই এই বিয়ে না করে দিতে।
আমিঃ কি বলিস নিলিমা যদি আমাকে না করে দেয়।
রাকিবঃ আরে নিলিমা তোকে ভালোবাসে, আর ও ভেবেছে তুই ওকে ভালোভাসিস না এখন। নিলিমা যানে তাদের তুই ওই বাড়িতে পাঠিয়েছিস ওকে দেখতে তাই অভিমান করে বলেছে।
আমিঃ কি করবো এখন,,
রাকিবঃ আরে সালা এখন সোজা অফিসে যাবি গিয়ে নিলিমা কে যেভাবেই হোক রাজি করাবি।

রাকি চলে গেলো ফ্রেশ হতে আমি বসে বসে ভাবছি হ্যা নিলিমাকে আমার করে নিতে হবে। কিন্তু নিলিমা যদি এখন আমাকে ফিরিয়ে দেয় সেটা পরে দেখা যাবে।

আমি আর রাকিব একসাথেই বাসা থেকে বের হলাম,,আমি অফিসে চলে গেলাম সোজা নিলিমার ক্যাবিনে। গিয়ে দেখি নিলিমা তার ক্যাবিনে নেই রাইসা বসে আছে। আমি ওকে জিজ্ঞেস করি,,,,

আমিঃ রাইসা নিলিমা কোথায়,,,
রাইসাঃ ম্যাডাম তো বের হয়েছেন, কেন ম্যাডাম তোকে ফোন করে নি,। আমার কাছে এসে তোর কথা জিজ্ঞেস করে বলি এখনো আসিস নি। তারপর দেখলাম ফোন নিয়ে কাকে যেন ফোন করে চলে গেলো। আমি মনে করেছি তোকে মনে হয় ফোন কতছে।
আমিঃ কি বলিস, আমার ফোন,,,, (পকেটে হাত দিয়ে দেখি ফোন নেই,। মনে পরেছে ফোন তো বন্ধ করে বাসা রাখা।।)
রাইসাঃ কি করবি, তুই থাক আমার আবার বের হতে হবে।
আমিঃ কেন,,,
রাইসাঃ ম্যাডাম নেই এখন আমার উপর সব তার সব কাজ করতে হয়।

আমি অফিস থেকে চলে এলাম,,,,,বাসার কাছাকাছি আসতেই দেখি নিলিমার গাড়ি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি দেখে মনে মনে খুসি হয়। নিলিমা মনে হয় আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। দৌড়ে গাড়ির কাছে যাওয়ার আগেই দেখি নিলিমা বের হচ্ছে এগাল ভরা মুখে হাসি নিয়ে। আমি থেমে যাই, তার পিছনে দেখি রাজিব আসতেছে। আমি সেখানরি দাঁড়িয়ে যাই। রাজিব আর নিলিমা গাড়ি কাছে এসে দাঁড়িয়ে কথা বলছে আমি তাদের দেখে দূরে দাঁড়িয়ে আছি যাতে আমাকে তারা না দেখে। নিলিমার বাবা কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এলেন।

তারপর তারা গাড়িতে উঠে পরে যাবার সময় রাজিব নিলিমাকেহাত দিয়ে বায় জানায় নিলিমা ও বায় জানায়।

মনে মনে যা ভেবেছিলাম তা আমার চোখের সামনেই ভেঙে গেলো,,। ঠিকি তো আছে আমিই তো চেয়েছি যাতে নিলিমা অন্য কাউকে তার জীবন সঙ্গি হিসেবে করুক তাহলে এখন আবার আমি এরকম কেন লাগবে।

আমিএগিয়ে যাই আমাকে রাজিব দেখেই হেসে আমার দিকে এগিয়ে আসে,,,

রাজিবঃ আরে শিমুল যে তোমাকেই খুজছিলাম,,,
আমিঃ কেন,,,,
রাজিবঃ তুমি আমার এতো বড় উপকার করলে আর তুমি বলছ কি জন্য,,,
আমিঃ মানে এতে আবার আমি আপনার কি উপকার করলাম,,
রাজিবঃ এই যে নিলিমা যদি তোমার সাথে দেখা না করতে আসতো তাহলে কি আর আমার ওর সাথে দেখা হতো। তোর এ উপকারের কথা আমি চিরকাল মনে রাখবো। চলো আমার বাসায় মা তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছে,,,

আমার রাজিবের কথা শুনে নিজেকেই নিজের কাছে অপরাধী মনে হচ্ছে। কি কপাল আমার যাকে ভালোবেসেছি তাকে আজ আমার নিজের কারনে অন্যের হতে দেখবো। যখন দূরে রেখেছি তখন কোন কিছু হয় নি আর যখন নিজের করে নিতে চেয়েছি তখনি হারিয়েছি। কি বলব,,,,নিলিমাও কিভাবে পালটে যেতে পারে , নিলিমার হাসি দেখে মনে হলো নিলিমা অনেক টা নিজের ইচ্ছে মতো হয়েছে সব।

আমাকে রাজিব তার বাসায় যেতে বললে আমি যাই না। আমার বাসায় ঢুকে পরি পরে অবশ্য আমাকে রাকিবকে নিয়ে যেতে বলেছে। আমি কিছু না বলে চলে গেলাম,,,

এদিকে রাইসার বাবা রাইসাকে ফোন করে বলে তার বন্ধু ছেলে রায়ান এর সাথে দেখা করতে,,রাইসা অবশ্য প্রথমে রাজি ছিল না কিন্তু রাইসার বাবা বলেন,” দেখা করতে কি সমস্যা, ভালো লাগলে হ্যা বলবি না হলে না।”

রাইসা একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে আর ঘড়িতে সময় দেখছে। রাইসা যেই সময় বলেছে তার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে কিন্তু যার জন্য বসে আছে তার কোন খবর নেই। দেরি দেখে রাইসা তার বাবাকে ফোন করে,,,

রাইসাঃ বাবা কোথায় তোমার বন্ধু ছেলে আমি সেই কখন থেকে বসে আছি ।

ওপাশ থেকে কিছু বলে,,,
রাইসাঃ দেখ বাবা আমি আর কিছুক্ষন দেখবো না আসলে আমি চলে আসবো,,,

এই বলে ফোন নিচে রেখে দেয়, আর তখনি কে যেন একজন তার সামনের সিটে বসে পরে। রাইসা দেখেই অবাক, কারণ তার সামনে রাকিব বসে আছে।

রাকিবঃ হায় কেমন আছেন,,আমি বাইরে থেকে আপনাকে দেখেই চিনে ফেলেছি তাই আপনার কাছে আসলাম,।
রাইসাঃ এই আপনার আসার সময় হলো আমি সেই কখন থেকে এখানে বসে আছি যানেন,,(রাকিবের উপর রেগে)
রাকিবঃ কি বলছেন আমার জন্য (অবাক হয়ে)
রাইসাঃ তা নয় তো কি,,,,
রাকিবঃ কি বলছেন আমার মাথা কিছু ঢুকছে না দাড়ান দাড়ান আপনি আমার সাথে দেখা করার জন্য এখানে। কিন্তু আমি তো,,,,,,
রাইসাঃ হয়েছে আর অজুহাত দেখাতে হবে না।
রাকিবঃ ঠিক আছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি বলুন এখন আমি এই অপরাধ এর জন্য শাস্তি হিসেবে কি করবো। (কান ধরে বলে। যদি ও রাকিব কিছু বুঝছে না, তারপরও)

রাকিবের এরকম ব্যবহার দেখে রাইসা স্বাভাবিক ভাবে রাকিবকে বলে থাক কিছু করতে হবে না। ওরা দুইজনে খাবার ওডার দিলো, ওরা বসে কথা বলছে। রাকিব রাইসার দিকে তাকিয়ে আছে আর রাইসা কথা বলেই যাচ্ছে বলে যাচ্ছে আর রাকিব আনমনে রাইসার দিকে তাকিয়ে আছে। রাইসা কি বলছে ও কিছুই শুনছে না, রাকিব শুধু গালে হাত দিয়ে ওর কথার উত্তর মাথা নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে। রাইসা রাকিবকে ধরে ধাক্কা দিয়ে বলে,,,,

রাইসাঃ কি হয়েছে এভাবে কোথায় হারিয়ে গেলেন।
রাকিবঃ তোমার এই সুন্দর হাসির মাঝে,,,
রাইসাঃ কি,,,,
রাকিবঃ কি কি কিছু না,,,,কিছু না তো খাওয়া হয়ে গেছে চলুন যাওয়া যাক,,,

রাইসা হা হয়ে তাকিয়ে আছে রাকিবের দিকে কি বলছে। রাকিব বিল দিয়ে বলে,,,

রাকিবঃ হুম চলুন,,,
রাইসাঃ হুম চলুন,,

ওরা রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে এলো, দুজনে একসাথে পাশাপাশি হাটছে আর কথা বলছে,। দুজন দুজনকে তার নিজ নিজ ব্যক্তিগত জীবনে কথা বলছে। রাইসার রাকিবকে আগের থেকেই ভালো লেগেছিলো। কিন্তু সে রাকিবকে সেটা বলতে পারছেনা। রাকিবো রাইসা কে ভালোবাসে কিন্তু সেও তা বলতে চেষ্টা করলেও পারছে না। যদি রাইসা তাকে ভুল বুঝে আর তার সাথে কথা বলে রাগ করে চলে যায়,। দুজনে নিজের আনমনে ভেবে যাচ্ছে কিভাবে বলবে তাদের মনের কথা।

সন্ধ্যার সময় রাকিব দুজনেই রাইসার বাসার সামনে আছে। রাকিব রাইসা কে ওর বাসার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুজনেই কেউ কিছু বলছে না। রাকিব কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে,। রাকিব কোন কিছু না বলে চলে আসে রাইসা ও ভেবেছে রাকিব যেন ওকে মনের কথা বলে,। কিন্তু তার কোনটাই হলো না,।

রাকিব রাইসাদের বাসার গেটের কাছে যেতে আমি ওকে ফোন করি,,
আমার ফোন রিসিভ করে আমাকে বলে সব, আমি ওকে বলি যে রাইসাকে এখনি ওর মনের কথা বলতে,,। রাকিব অনেকটা ভিতু হয়ে বলে। ও নাকি রাইসাকে বলতে ভয় পাচ্ছে। আমি বলি দেখ তুই এখন না বললে হয় তো পরে আমার মতো তোর ও অবস্থা হবে। তাই বলি কি এসব না ভেবে মনে যা আছে তা সব ওর সাওমনে বলে দে দেখবি যা হবে ভালোই হবে। রাকিব বলে, কি বলছি যাবো এখন,,,

রাকিব অনেক চিন্তা করে ভেবে পরে যায়।

রাকিবকে ভিতরে যেতে রাকিব গিয়ে বাসার কলিং বেল বাজায়,,,,দরজা খুলে দেয় রাইসা, দেখেই চমকে যায় রাইসা দরজা লাগিয়ে দিয়ে। রাইসা বাইরে বের হয়।

রাইসাঃ আপনি এখানে জাননি,,, ( গলা নিচু করে)
রাকিবঃ আমি আপনাকে, তোমাকে না আপনাকে ধ্যাৎ সব গুলিয়ে যাচ্ছে। (কন্ট্রোল রাকিব কন্ট্রোল, পারবি তুই পারবি।)

রাকিব রাইসার সামনে থেকে ঘুরে নিজের ভিতরের ভয় দুর করার চেষ্টা করছে। আবার যায় রাইসার কাছে, রাইসা রাকিবের এই অবস্থা দেখে মৃদু মৃদু হাসছে মুখে এক হাত দিয়ে ঢেকে।

রাইসাঃ হ্যা কিছু বলবেন আমাকে,,
রাকিবঃ হুম, প্লিজ হাসবে না এমনিতে ভয়ে আমার হাটু কাঁপুনি দিচ্ছে।

রাইসা রাকিবের এই কথা শুনে আরো বেশি করে হাসি দিলো।

রাকিবঃ প্লিজ এই গরিবের উপর এইটুকু দয়া করেন। এরকম ভাবে হাসি দিয়েন না। আপনি এমনেই দেখতে এতো সুন্দর তার উপর এরমক হাসিলে আপনাকে এরো কিউট লাগে। আমার বুকের ভিতর ঝড় উঠে গেছে।
রাইসাঃ ওকে কি বলবেন তারাতাড়ি বলুন আম্মু দেখলে আমাকে বকবে।
রাকিবঃ কি বলব,,?
রাইসাঃ সেটা আমি কি করে বলব,আপনি কি বলবেন।
রাকিবঃ হ্যা তাই তো আপনি কি করে বলবেন,,,
রাইসাঃ হুম বলুন,,
রাকিবঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি,,(রাইসা রাকিবের এই কথা শুনে হা হয়ে তাকিয়ে থাকে, রাইসা কিছু বলতে যাবে তখনি রাকিব বলে)দেখো তুমি যত ইচ্ছে সময় নেও ভাবার জন্য কিন্তু উত্তর টা হ্যা যেন, প্লিজ,,

এই বলে রাকিব চলে আসে, রাইসা রাকিবের এই রকম পাগলামি দেখে মনে মনে খুসি হয়। রাইসা ভিতরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দরজা সাথে হেলান দিয়ে। রাকিবের বলা কথা গুলো ভেবে হাসছে, হয় তো রাইসাও চেয়েছে রাকিবের মুখে কথা গুলো শুনতে।

রাকিব বাসায় চলে আসে,, আমি ওঁকে জিজ্ঞেস করি বলেছে কি না,,

রাকিবঃ হুম বলেছি,,,☺️☺️
আমিঃ কি বলল রাইসা,,,
রাকিবঃ আমি তাকে কিছু বলতে না দিয়ে চলে আসি, যদি রেগে আমাকে উল্টা পালটা কিছু বলে। তাই বলে সেখান থেকে ভেগেছি,,,

আমি ওর কথা শুনে হাসি শুরু করে দিলাম,,,কি বলছে,,। রাকিব নিলিমার কথা জানতে চাইলে আমি কিছু বলতে যাবো এর মধ্যে, দরজা কে জেন। আমি গিয়ে দরজা খুলে দেখি তামান্না দাঁড়িয়ে আছে হাতে এক্টা বাটি নিয়ে,।

আমিঃ কি কিছু বলবেন,,
তামান্নাঃ এই নিন,,(একটা খাবারের বাটি আমার দিকে দিয়ে বলে)
আমিঃ কি এটায়,,
তামান্নাঃ খাবার আম্মু দিয়েছে আপনাদের জন্য,,
আমিঃ কেন,,,
তামান্নাঃ আম্মু তো আপনাদের যেতে বলেছিলো কিন্তু আপনারা যান নি তাই আম্মু পাঠিয়ে দিয়েছে।(বাসার ভিতরে ঢুকেই বলে.।)আসলে যা কিছু হয়েছে তার জন্য পুরো অবদান আপনার কিনা তাই আর কি।
আমিঃ আমাদের লাগবে না আপনি এসব নিয়ে যাব আমরা খাবার খেয়েছি।
তামান্নাঃ এইযে দিয়ে গেলাম, খেয়ে ভালো করে ধুয়ে দিয়ে আসবেন ঠিক আছে।

এই বলে চলে গেলো আমি এতো করে বললাম নিয়ে যেতে কে শুনে কার কথা।

অফিসে বসে আছি রাইসা আমাকে পিছন থেকে এসে ভয় দেখনোর চেষ্টা করে। আমি ভয় না পেয়ে বলি,,,

আমিঃ বাহ আজকে দেখছি মনে অনেক আনন্দ লাগছে। কি কি ব্যাপার হুম,,,
রাইসাঃ কি আবার কিছু না আমি তো প্রতিদিনই এই রকম থাকি তুই ভুল দেখিস,,,
আমিঃ হুম তাই বুঝি আমাকে বললে বলতে পারিস কিন্তু, কারণ আমি চাইলে তোর হেলপ করতে পারি।

আমরা কথা বলছি এর মধ্যে নিলিমা আসে, রাইসা নিলিমাকে দেখে কথার উত্তর না দিয়ে চলে গেলো,, নিলিমা আজকে শাড়ি পরেছে, এর আগে কখনো নিলিমা অফিসে শাড়ি পরে আসে নি।

আমি নিলিমার দিকে তাকিয়ে আছি, নিলিমা আর দিকে তাকাচ্ছে কি না তা বোঝা যায় না কারণ ওর চোখে কালো চশমা পড়া। নিলিমা আমার দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে আর রাইসা তার সামনে। আমি অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছি। রাইসাকে কিছু বলে নিলিমা চলে গেলো,,,,

নিলিমা চলে যাবার পর আমি রাইসাকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করি,,

আমিঃ নিলিমা কি বলল রে,,আর এই ভাবে কোথা গেলো।
রাইসাঃ ম্যাডাম বলল আজকে নাকি তার কার সাথে ঘুরতে যাবেন, আর তাই আজকেও তার আর অফিসে আসা হবে না সবকিছু তোকে করতে বলেছেন আর আমাকে তোর সাহায্য করতে বলেছেন,,,
আমিঃ আমার সাথে তুই মজা করছিস,, দেখ রাইসা সব সময় মজা ভালো লাগে না,,,
রাইসাঃ আরে আমি মজা কেন করবো আমাকে যা বলেছে তাই তোকে বললাম। বিশ্বাস না হলে ম্যাডামকে ফোন করে যেনে নিতে পারিস,,
আমিঃ কিন্তু আমাকেই কেন আমার থেকে তো আরও সিনিয়র লোক আছে যারা এসব বিষয় ভালো।
রাইসাঃ দেখ শিমুল প্রথম তো এসব ফাইল বেশির ভাগ কাজ তোর যানা আছে তাই হয় তো ম্যাডাম চাইছে মিটিং তুই করিস। আর মিটিং এ কি তুই শুধু ফাইল দেখে একটা প্রেজেন্টেশন দিবি সুন্দর করে আর কি,,,
আমিঃ কি বলিস,,আমি এর আগে এসব কিছু করেছি নাকি,,আমি পারবো না,। তুই বরং মাসুদ ভাইকে নিয়ে যা,,

চলবে,,,,,,,,

,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here