গ্রামের ছেলেটি -(পর্ব- ২১ তম)

0
100

#গ্রামের_ছেলেটি

পর্ব- ২১ তম

স্বপন

আমি নিলিমার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছি,, পরোক্ষনেই রাজিবের সাথে নিলিমার কথা মনে করে মুহুর্তে আবার সেই আকাশে কালোমেঘের ছায়া নেমে আসে,,,

আমি উপর থেকে নিলিমাকে সরি দিয়ে উঠে বসি,,,,,

নিলিমাঃ কি হয়েছে,,,,
আমিঃ কেউ আমাদের এভাবে দেখলে খারাপ ভাববে,,আমার মনে হয় এখন তোমার যাওয়া উচিৎ,,,,
নিলিমাঃ সবাই দেখলে সমস্যা কোথায়,,,যদি জিজ্ঞেস করে তাহলে বলব আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি,,,
আমিঃ দেখো নিলিমা এসব কিছু মজা না, যে বললাম আর হয়ে গেলো। যখন সব কিছু জানা জানি হবে তখন মাকে সুমাকে কি জবাব দেবো। এই যে এসব কিছু শুধুই,,,,

আমি বেরিয়ে এলাম,,,

বিয়ে বাড়ি কেউ বরের বসার জায়গা ঠিক করছে কেউ আপুকে সাজানো নিয়ে ব্যস্ত। কেউ দেখানো কাজ করে যেমন আমরা করছি। রাকিব তো পুরাই ভিআইপি লোক হয়ে গেছে সবাই অনেক খাতির দাড়ি করছে ওকে।

বর যাত্রি চলে আসার সময় হয়ে গেছে। কিছুক্ষন পর দেখি তারা চলে এসেছে। আমি রাকিব ফয়সাল আমরা ছেলে কয়জন সামনে চলে গেলাম৷ রাইসা আমাদের ধরে পিছনে নিয়ে আসে,,

রাইসাঃ তোরা সামনে কেন আমরা মেয়েরা যাই তোরা পারবি না,,
আমিঃ দেখ বর এর সাথে মেয়েরা আছে আর তোরা যদি মেয়েরা সামনে থাকলে জমবে না তাই মেয়েদের সাথে আমরা কথা বলি,,,
নিলিমাঃ ওকে ঠিক আছে,,, (আমরা শুনে খুসি হলাম)তাহলে আমি গিয়ে ছেলেদের সামনে আসতে বলি তাহলে তো আমাদের সাথে ভালোই জমবে,,, কি বলো৷ তোমাদের থেকে আমরা মেয়েরা আরও ভালো পারবো,,,

আমিঃ মানে,,,
রাইসাঃ হুম এই ভালো তোমরা মেয়েদের সাথে মজা করেবে আমরা তা দাড়িয়ে দেখবো,,,
আমিঃ কিন্তু,,,
ওরা সামনে চলে গেলো আমরা পিছনে দারিয়ে আছি। আমি নিলিমার পিছনে দারিয়ে ওর কাধে হাত দিয়ে আমার হাত সরিয়ে দেয়। ওপাশে ছেলেরা ওদের সাথে কথা কাটাকাটি কারছে আর হাসাহাসি করছে। একটা সময় ওপাশের একটা ছেলে নিলিমার দিকে একটা মিষ্টি নিয়ে আসে তার মুখের সামনে। নিলিমা সামনে আগাতে গেলে আমি ওর কাধে কাত দিয়ে আটকে দেই। নিলিমা সামনে এগাতে পারছে না। আমার দিকে আর চোখে তাকিয়ে আমার হাত সরিয়ে দেয়।

আমি নিলিমার মুখ চেপে ধরে ওকে সরিয়ে আমি খেয়ে নিলাম। নিলিমা আমার এই কান্ড দেখে চোখ গুলো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।

আমি মনে মনে বলি, এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই, থাকতে আমার সামনে অন্য কেউ তা কি করে হয়।

নিলিমাকে ছেড়ে দিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি সবাই আমাদের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে, কেউ মুখ চেপে হাসছে,,। নিলিমা সেখান থেকে চলে আসে আমিও তার পিছন পিছন চলে এলাম। একা বসে আছে আমি তার পাশে গিয়ে বসে পরি। আমার দিকে রাগ হয়েছে, আমি হেসে জিজ্ঞেস করি,,

আমিঃ কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছ কেন??
নিলিমাঃ তখন ওরকম করলে কেন সবাই কিভাবছে, আমি কতটা লজ্জা পেয়েছি তা বুঝতে পারছও।
আমিঃ তাতে আমার কি আর আমার সামনে অন্য কেউ তোমার সাথে এমন করবে আমি সেটা মেনে নিতে পারবো না।
নিলিমাঃ আরে পাগল নাকি,,,

আমি চলে এলাম,,,

ফয়সালঃ বর যাত্রিতে অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে এসেছে,,,,

আমরা তিন জন একসাথে দাঁড়িয়ে আছি। রাকিবকে রাইসা এসে নিয়ে গেলো,,,,,কিছু ক্ষন পর রাকিব চলে আসে আমি ওকে জিজ্ঞেস করি,,

আমিঃ কিরে কোথায় গেছিলি,,
রাকিবঃ ভাই এতোদিন সিঙ্গেল ছিলাম ভালোই ছিলাম, এখন ভালো করে একটু মজা করবো তাও পারছি না। ডেকে নিয়ে শাসিয়ে দিলো, এখনো বিয়ে হয় নি হলে তো পুরাই এলবিডব্লু আউট করে দিবে।
আমিঃ হাহাহা মানে,,,
রাকিবঃ মানে যদি কোন মেয়ের পিছনে ঘুরতে দেখে তাহলে পা,,,দিবে,,,
ফয়সালঃ হাহাহাহাহাহা ভাই তুমি তো পুরাই ফেসে গেছো,,,
আমিঃ না এটা ঠিক না ওরা ঠিকি এনজয় করছে আমাদের বেলায়। মানা যাবে না আমরাও করবো চল,,
রাকিবঃ কি করবি আবার তুই ,,
ফয়সালঃ চল তাহলে,,,
আমিঃ ঠিক আছে যা তোরা আমি আসতেছি,,,
রাকিবঃ তুই আবার কোথায় যাবি,,,
আমিঃ যা গেলেই বুঝবি,,,( আমি চেয়ারে বসে পরি)

রাকিব সামনে তাকিয়ে দেখে রাইসা আর নিলিমা আমাদের কাছে আসতেছে,,,

রাকিব দেখে চুপ করে আমার চেয়ারের পাশের চেয়ার এ বসে পরে। আমাদের দিকে তাকিয়ে সামনে দিয়ে চলে গেলো।

খাবার সময় ওরা বরকে নিয়ে ব্যস্ত আর আমরা মেয়ে গুলোকে নিয়ে। আমরা তিন জন ভালোই জমিয়ে নিয়েছি, কে জান তো আখ খেতে পাট লাগাতে রাইসা চলে আসবে,,। এসেই রাকিবকে পিছন থেকে ধরে ফেলে। ফিরে দেখি নিলিমা সুমা আরো কয়েকটা মেয়ে চলে এসেছে,,,।

আমিঃ আরে তোমরা সবাই এখানে কি করছ, তাহলে বর এর কাছে কারা,,,।
রাইসাঃ সেটা নিয়ে তোর এতো চিন্তা করতে হবে না। আগে বল তোরা এখানে কি করছিস,,,??
আমিঃ এই যে তাদের সাহায্য করছি যাতে কোন সমস্যা না হয়।।
নিলিমাঃ কি সাহায্য করছো তোমরা অনেক ক্ষন ধরে দেখছি তোরা এখানে এভাবেই দাঁড়িয়ে আছো। তাদের কি তোমরা হাত দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছিলে বুঝি,,,

এই রে এখন মনে হয় মান সম্মান নিয়ে টান দিবে, তার আগেই কেটে পরি।।

রাকিবঃ আরে তোরা আমাকে একা ফেলে কোথায় যচ্ছিস,,,সালা সার্থপর, তোরা দেখছি মেয়েদের থেকে বড় সার্থপর,,,,
আমিঃ ভাই বাইচা থাকলে পরে দেখা হবে,,,

এই বলে চলে গেলাম,,,

রাকিবঃ দেখো বিশ্বাস করো আমি এর কিছু না সব শিমুল আর ফয়সাল এর কথা শুনে হয়েছে,,,
রাইসাঃ তা ঠিক আছে আমরা মেয়েরা কি যেন বললে, তোমাকে পরে পাবো না তখন দেখে নেবো এখন সবার সামনে কিছু বললাম না,,,,

রাকিব বেচারা ভেজা বিড়ালের মতো করে চলে আসে, রাইসা নিলিমা আরো যে কজন ছিল সবাই হেসে দিলো, রাকিব হাসি শুনে পিছনে তাকালে সবাই আবার চুপ হয়ে যায়,, চলে আসলে আবার হাসাহাসি শুরু করে দেয় তারা,,,

আমি আর ফয়সাল দাঁড়িয়ে আছি কিছুক্ষন পর দেখি রাকিব চলে এসেছে,,,

আমিঃ কিরে তখে ওতো তারাতাড়ি ছেড়ে দিলো,,,,,
রাকিবঃ আমাকে আর কিছুক্ষন রাখলে বুঝি তোরা অনকে খুসি হতি তাই না।
আমিঃ না আমরা কি তা বলেছি নাকি,,
রাকিবঃ কিন্তু আমি ঠিকি তোদের চিনে ফেলেছি। বিপদে আমাকে একা ফেলে চলে এলি।।
আমিঃ আমরা চলে না এলে তোকে এতো তারাতাড়ি ছাড় তো নাকি।
রাকিবঃ আমাকে দেখে কি তোর পাগল মনে হয়,,আমাকে ছাড়ার সাথে, তোদের পালিয়ে আসার কি যুক্তি আছে।
আমিঃ হাহাহাহ কিছু বেশি কিছু বলছে,,,

আমরা তিন জন আবার চলে আসলাম,,,,
নিলিমা আসতেছে আর একটা ছেলে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়,,। ছেলেটি নিলিমাকে মিষ্টি খাওয়াতে গিয়েছিল সেই ছেলে। আমি দূর থেকে দেখছি নিলিমাকে কি যেন বলছে আর কিছুক্ষন পর ছেলেটি ওর ফোন নিলিমার দিকে বারিয়ে দিলো,,,

আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে চলে গেলাম নিলিমার কাছে,,
কাছে যেতেই শুনতে পেলাম ছেলেটি নিলিমাকে নাম্বার দিতে বলছে,,,

আমিঃ কি হয়েছে নাম্বার দিচ্ছে না,,আমার কাছে আছে আমি দিচ্ছি,,,

নিলিমা আমার কথা শুনে মুখ চেপে হেসে আমাকে দেখিয়ে দিলো,,,তারপর নিলিমা চলে গেলো ,,। ছেলেটি আমাকে দেখে একটু ভয় পেয়ে বলে,,সরি ভাইয়া আমার ভুল হয়ে গেছে। এই বলে ছেলেটি চলে গেলো,,,,,,

দিনটা ভালোই গেলো,,,আপুকে নিয়ে যাওয়ার সময়,,,,

আমি একা বসে আছি নিলিমা আমার পাশে এসে বসে। আমার কাধে মাথা রেখে বলে,,

নিলিমাঃ অনেক ক্লান্ত লাগছে,,,৷
আমিঃ ,,,,,,,,,
নিলিমাঃ কি হলো চুপ আছো যে কিছু বলছ না, মন খারাপ বুঝেছি সুমার কথা ভাবছ। আমাদের মেয়ের জীবনটাই এরকম নিজেদের বলতে কিছু নেই। বিয়ের আগে বাবার বাড়ি বিয়ের পর স্বামির৷

আমি নিলিমার মাথার সাথে আমার মাথা নিচু শুয়ে,,,,

আমিঃ তাই বুঝি,, মেয়েদের কিছু নেই তাই তারা বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ডের আর বিয়ের পর স্বামির সুখ শান্তি সব নিজেদের করে নেও,,,,।
নিলিমাঃ কি,,,, ( মাথা উঠিয়ে আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে,,,)

আমি হাসি দিয়ে বলি,,,

আমিঃ কি হলো রেগে গেলে নাকি,,রাগ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে, তোমাকে ভার্সিটিতে যখন দেখেছি তুমি তখন অনেক রেগেছিলে। তখন লুকিয়ে লুকিয়ে তোমাকে দেখতাম কেন জানি না তোমার হাসির চেয়ে এই রাগটা দেখার ইচ্ছেটা বেশিছিলো। লাঠি হাতে নিয়ে ছেলেদের দোড়ানি দিতে মাইরি। দেখে আবার নিজেরি ভয় লাগতো যদি আমাকে এভাবে ধাওয়া দেও। ,,,
নিলিমাঃ তুমি চুপ করবে,। ( আমার হাত জড়িয়ে ধরে আবার আমার কাধে মাথা রাখে।)
আমিঃ কেন তোমার আবার কি হলো হটাৎ,,,,
নিলিমাঃ তোমার কি মনে হয় তখন আমি কেন ওরকম করতাম।
আমিঃ কেন করতে শুনি,,
নিলিমাঃ ভয়ে,
আমিঃ ভয়ে,,(অবাক হয়ে,,)
নিলিমাঃ হুম,,,ভয়ে, মানুষ তুমি যত নরম থাকবে তাদের কাছে তোমার ক্ষতি করতে তত সহজ হবে,,। নিজেকে এতো টাই একা লাগতো যে এই নষ্ট মানুষের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ওসব করতাম। যাতে তারা মেয়ে মানুষ ভেবে তার ফায়দা না নিতে পারে।
আমিঃ নিলিমা চলো উঠি,,,
নিলিমাঃ আর কিছু এভাবে থাকি না ভালোই লাগছে,,,
আমিঃ কিন্তু তোমার মেকাপ তো আমার পোশাক লাগছে,,,
নিলিমাঃ কি, বললে,,,

এই রেগে গেছে,,,
রাকিবঃ শিমুল তুই এখানে,,
আমিঃ হুম আমি তো সেই কখন থেকে এখানে বল তুই রাইসার সাথে কোথায় গিয়েছিলি,,
রাকিবঃ যেতে আর পারলাম কোথায়, যার বিয়ে তার চেয়েও বেশি কান্না করছে বাড়ীর লোক,,,
আমিঃ আর তুই কান্না করস নাই,,
রাকিবঃ আমি কেন কান্না করবো,,,
আমিঃ না, আজ না হয় কাল তো এ বাড়ির লোক তো তুই ও হবি,,,,
রাকিবঃ ধুর,,,
আমিঃ তা তুই সেখানে কি করছিলি রাইসা সান্ত্বনা দিচ্ছিলি নাকি,,,,
রাকিবঃ ভাবছি কাল চলে যাবো,,
আমিঃ কেন আর কিছুদিন থাকনা কি হয়েছে,,
রাকিবঃ না রে,,, ভাবছি যত তারাতাড়ি বাবাকে দিয়ে রাইসার পরিবারের সাথে কথা বলতে। তাই যেতে হবে কালকেই আর ছুটিও শেষ।
নিলিমাঃ তুমি ঢাকায় যাবে তো নাকি আমার সাথে চলো একসাথে যাওয়া যাবে,,,
আমিঃ তুমিও কাল যাবে,,,
নিলিমাঃ আমি এখানে থেকে কি করবো, বিয়েতে এসেছি, বিয়ে শেষ এখন এখানে কি করবো,,
রাকিবঃ তুই যাবি না চল কাল আমাদের সাথে ভালোই হবে,,
আমিঃ না, এখন না,,আর কিছুদিন যাক মা সুস্থ হোক তারপর,,
রাকিবঃ তুই কিন্তু সবাইকে নিয়ে ঢাকায় থাকতে পারিস,, তাহলে তোর আর তাদের নিয়ে চিন্তা থাকবে না,,,,
আমিঃ হুম দেখি কি করার যায়,,,,

পরেদিন রাকিব আর নিলিমা চলে যাবে,, নিলিমা মায়েকে সালাম করে বিদায় নেয়। মা নিলিমাকে যেতে মানা করে আর কিছু দিন থাকতে বলে। অফিসে কথা বলে না করে দেয় সুমার সাথে কথা বলে। রাকিব সবার সাথে কথা বলে বিদায় নেয়,,

আমি আর নিলিমা গাড়ি কাছে দাঁড়িয়ে আছি রাকিবের জন্য ,,,

নিলিমাঃ তুমি যত তারাতাড়ি পারো চলে আসবে অফিসে অনেক কাজ,,,
আমিঃ আমি তো রিজাইন করেছি, তাহলে আমি অফিসে গিয়ে কি করবো,,
নিলিমাঃ ন্যাকামি করো না তো যা বলছি তাই করো ঠিক আছে।
আমিঃ দেখি,,,
নিলিমাঃ দেখি মানে কি,, অফিসে জয়েন করবে বলেছি করবে। আর তা না হলে আমি কিন্তু তোমার মায়ের কাছে সব কিছু বলে দিবো তারপর সেই বুঝবে বাকিটা আমার কিছু করতে হবে না।।

এরি মধ্যে দেখি রাকিব আর রাইসা,, দুজনে কথা বলছে,,রাকিব রাইসাকে জরিয়ে ধরে একটা চুমু দিয়ে চলে আসে,,

রাকিবঃ আসি রে ভালো থাকিস আর তারাতাড়ি চলে আসিস,,
আমিঃ আর কিছুদিন থাকলেই পারতি৷গিয়ে কল করিস,,
নিলিমাঃ আসি তাহলে,,

নিলিমা আর রাকিব চলে গেলো আমরা দুজনে দাঁড়িয়ে আছি ওদের দিকে তাকিয়ে।

তারপর আমি আর রাইসা চলে এলাম বাড়িতে।

মাঃ হ্যা রে,, শিমুল তুই ঢাকা যাবি কবে,,
আমিঃ কেন মা,,,
মাঃ না নিলিমা তোরে তারাতাড়ি যাইতে কইলো, তোরা কি এক সাথে কাম করস,,,
আমিঃ মা নিলিমা আমার কোম্পানির বস মালিক,,, ভাবছি তোমাদের একসাথে নিয়ে যাবো,,,,
মাঃ আমরা যাবো কি করতে আবার,,
আমিঃ মা তোমার এই অবস্থায় কি করে রেখে যাই বলো,,,,তাই ঢাকায় তোমাকে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারবো।
মাঃ আমাকে নিয়ে তোর চিন্তা করতে হবে না। আমি ঠিক আছি,,,

মাকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করলাম, সুমার টিসি আনার ব্যবস্থা করতে হবে,,৷

রাকিব ঢাকা গিয়ে ফোন করে ওরা ঠিক মতো পোছল।।

কিছুদিন পর রাইসারা চলে গেলো,,,,
রাতে শুয়ে আছি,,রাকিব কল দিলো আমাকে,,

আমিঃ হ্যালো,,
রাকিবঃ কেমন আছোত,,
আমিঃ ভালো তোর কি খবর,,
রাকিবঃ আমার আর খবর ভালোই,,, আসবি কবে ঢাকা,,
আমিঃ এই তো এখানে সব কাজ শেষ,,, এখন তো সমস্যা বাসাই তো ঠিক করা হয় নি,,,
রাকিবঃ চিন্তা কেন করছিস বাসার ব্যবস্থা হয়ে যাবে,তুই আয়। বেশি হলে নিলিমার বাড়ি আছে না। ভবিষ্যৎ শ্বশুর বাড়ি,,,
আমিঃ তুই কি পাগল ওর বাসায় কে গিয়ে উঠবে,,আর আমার সাথে নিলিমার বিয়ে হবে কে বলছে,,,
রাকিবঃ বেশি ন্যাকামি না করে তারাতাড়ি আয় তো,,,,,
আমিঃ হুম বাসা দেখ আসতেছি,,,

ফোন রেখে দিলো রাকিব কথা শেষ করে।

সবাইকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। গাড়ি থেকে নামার পর দেখি নিলিমার কল। নিলিমাকে আগেই বলা হয়েছে আমি আসতেছি, আবার গাড়িতে বসেও কল দিয়েছিলো কখন ঢাকা পৌছাবো সেটা যানার জন্য।

নিলিমার কল ধরে কথা বলি, নিলিমা জিজ্ঞেস করে আমরা কোথায় বললাম, আমাদের সেখানেই থাকতে বলে,,,,,,কিছুক্ষন পর দেখি চলে আসলো তার গাড়ি নিয়ে,,,

নিলিমা এসে মায়ের সাথে সুমার সাথে কথা বলে,,, তারপর আমরা গাড়িতে উঠে এলাম,। ওর বাড়িতে নিয়ে আসছে আমাদের, মা নিলিমাদের বাড়ি দেখে অবাক এর আগে কখনো দেখেনি তাই। শুধু ওদের বাড়ি না ঢাকা শহরের এই প্রথম এসেছে মা তাই এরকম আশ্চর্য হয়েছেন।

বাড়িতে ঢুকে নিলিমার বাবাকে দেখে তাকে সালাম দিলাম তারপর আমার মায়ের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিলাম। ছোট বোনের কথা বললাম। তিনি আমাদের দেখে অনেক খুসি হয়েছেন।

তারপর ফ্রেশ হয়ে নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম। নিলিমা আমাদের আসার কথা শুনে নিজেই রান্না করেছে।

সন্ধ্যায় রাকিবকে কল দিয়ে দেখা করলাম,,,,,,পরেদিন ওর অফিস বন্ধ ছিলো তাই ওকে নিয়ে বাসা খুজতে গেলাম,,,,

অনেক খোজা খুজির পর অবশেষে একটা পেলাম।

কিছু দিন নিলমাদের বাড়িতে থাকার পর আমাদের নতুন বাসায় উঠলাম। তাদের বাসায় থাকার জন্য বলে না বলি।

এই কদিন নিলিমা আর আমি এক সাথে অফিস যেতাম আবার একসাথে চলে আসতাম।

অফিসে বিকেল বেলা কাজ করতেছি নিলিমা আমাকে বলল,,,

নিলিমাঃ কি করছো,,
আমিঃ কাজ করছি কেন,,,
নিলিমাঃ আমার সাথে একটু চলো তো,,
আমিঃ কোথায় যাবে,,,
নিলিমাঃ সেটা গেলেই দেখতে পারবে,,,

আমি নিলিমার সাথে বেরিয়ে এলাম। নিলিমা গাড়িটা একটা মল এর কাছে এনে রাখলো,,,
বুঝতে পারলাম শপিং করবে,,,,

শপিং মলের শুধু এপাশ থেকে ওপাশ হাটছে কিছু কিনছে।

একটা শার্ট আমার কাছে এনে আমার মাপ দেখচ্ছে,,
আমিঃ এটা আবার কার জন্য নিবে,,,
নিলিমাঃ রাজিবের জন্য,,,দেখো তো এটাতে ওকে কেমন মানাবে,,,

আমিঃ রাজিবের জন্য শপিং করবে তাহলে আমাকে নিয়ে আসলে কেন,, রাজিবকে কল করলেই পারতে,,,
নিলিমাঃ তুমি কি চুপ থাকবে, আমি কি করবো না করবো সেটা তোমার শেখানো লাগবে না,,

একটা একটা কিনছে আর আমার কাছে ধরিয়ে দিচ্ছে, এবার বুঝতে পারলাম আমাকে এখানে তার ব্যাগ টানার জন্য এনেছে।

শপিং করে গেলাম একটা রেস্টুরেন্টে,, ঢুকতেই নিলিমার এক বন্ধু সাথে দেখা তাকেও আমাদের সাথে বসতে বলে,,তারা বসে তাদের মতো কথা বলছে। এখানে মনে হচ্ছে আমিই কাবাপ মে হাড্ডি। তারা মনেই করছে না আমি এখানে বসা,,আমি চুপচাপ বসে আছি। কতক্ষন আর এভাবে বসে থাকা যায়। আমি নিলিমাকে বলি,,,
আমিঃ নিলিমা এক মিনিট আমি একটু আসতেছি,,
নিলিমাঃ আচ্ছা,,,

আমি সেখান থেকে চলে আসলাম,, ভালো লাগলো না। আমি রাকিব কে কল করি ও কোথায় তা যানার জন্য । রাকিব বলল কোথায় আছে আমি চলে গেলাম।

রাকিবঃ কিরে কি হয়েছে মন খারাপ কেন,,,
আমিঃ কিছু না,,চল গিয়ে কোথাও বসি, তোর খবর কি তোর বাবা মাকে নিয়ে গিয়েছিলি রাইসাদের বাসায়,,,,
রাকিবঃ তোর কি মনে হয়,,,,
আমিঃ আমার আবার কি মনে হবে, কাহিনি না করে বলত কি হয়েছে,,,
রাকিবঃ হুম গিয়েছিলাম বলি ফাক্কা হয়ে গেছে।।
আমিঃ মানে বিয়ে ঠিক কি বলিস,সালা এই খবর তোর কাছে জিজ্ঞেস করে যানতে হচ্ছে আমার।
রাকিবঃ আরে ভাই এখন পুরো পুরি না। মা বাবার রাইসাকে দেখে পছন্দ হয়েছে।

এর মধ্যে রাকিবের ফোনে রাইসার কল আসে,,কল ধরে কথা বলে আমার কাছে ওর ফোন দেয়,,
আমিঃ কি,,
রাকিবঃ রাইসা কথা বলবে,,,

তারপর ফোন নিয়ে কথা বলি,,

আমিঃ হ্যালো,,
রাইসাঃ করে তোর ফোনের কি হয়েছে কল ধরিস না কেন৷
আমিঃ আমার ফোনের আবার কি হবে,,,কেন কি হয়েছে,,
রাইসাঃ তোকে নিলিমা ম্যাডাম কল করছে আমি কল করছি তুই ফোন ধরছিস না কেন,,,
আমিঃ ওহ ফোন মনে হয় সাইলেন করা,,,,
রাইসাঃ নিলিমা ম্যাডামকে কল দিয়ে কথা বল,,,
আমিঃ বল মানে,,রাখ,,
রাইসাঃ এখনি কল দেয়,,
আমিঃ তোর দরদ ঠেকলে তুই কল দেয়,,,

এই বলে আমি কল কেটে দিলাম,,

রাকিবঃ কিরে তুই এভাবে কথা বলছিস কেন, কি হয়েছে আবার তোদের মধ্যে,,
আমিঃ কিছু এমনি ভালো লাগছে না,,
রাকিবঃ কিছু তো একটা হয়েছে বলবি নাকি,,,
আমিঃ কি বলব শপিংয়ে নিয়ে গেছে ভালো কথা, আমাকে নিয়ে গিয়ে রাজিবের জন্য শপিং করে। তাও আবার আমার মাপ নিয়ে দেখে। গেলো রেস্টুরেন্টে গিয়েছি দুজনে কোথা থেকে কোন বন্ধ এসেছে তাকে পেয়ে সব ভুলে গেছে। আমি যে সেখানে একজন জীবিত মানুষ আছি তা তাদের খেয়ালি নেই। নিজেকে ওই খানে বেশি মনে হচ্ছিলো তারপর কি করবো চলে আসলাম।

রাকিবঃ এতো ক্ষনে বুঝলাম তোমার মন খারাবের ব্যাপার,,,, হয় তো অনেক পুরো নো বন্ধু তারপর আবার অনেক দিন পর দেখা হয়েছে তাই হয় তো এরকম করেছে,,,
আমিঃ বাদ দে দি এখন আর এসব ভালো লাগছে না,,,

কিছু ক্ষন সেখানে থেকে চলে এলাম বাসায়। বাসায় আসার পর সুমা বলে নিলিমা না এসেছিলো বাসা। আমি ফোন ধরি না দেখে,,,

আমি রুমে চলে গেলাম গিয়ে দেখি বিছানায় শপিং ব্যাগ রাখা। ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে রুমে চলে গেলাম ঘুমানোর জন্য চলে গেলাম। বিছানা থেকে ব্যাগ গুলো সরিয়ে রাখি।

রাতে ঘুমানোএ চেষ্টা করছি কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না কেন জানি না।

সকালে নিলিমার ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো,,,

আমিঃ কি হয়েছে এই সময় তুমি এখানে কেন,,( ঘুমে দু চোখ মেলতে পারছি না।)
নিলিমাঃ আমি এখানে কেন সেটা জানার আগে বলো তুমি আমার কল ধরছো না কেন,,,

আমি ঘুম ঘুম চোখে ফোন হাতে নিয়ে দেখি, নিয়ে দেখি নিলিমার অনেক গুলো কল সাথে রাইসারো।
আমিঃ শুনতে পাই নি কেন কল দিয়েছিলি,,,
নিলিমা রাগে খোমাচ্ছে,
নিলিমাঃ আমি কিছু করার আগে ,তারাতাড়ি উঠে রেডি হও তা না হলে। আমি যে কি করে ফেলবো তা আমি নিজেও যানি না,,,,,,
আমিঃ ভালো লাগছে না আমি বেরতে পারবো না,,( এই বলে আমি আবার ঘুমিয়ে পরি)

নিলিমার কোন সারা শব্দ পাচ্ছি না মনে হয় চলে গেছে। আমি ঘুমিয়েই রইলাম,,কিছুক্ষন পর নিলিমা আমার গায়ে এক বালতি পানি ঢেলে দেয়৷

আমিঃ এটা কি করলে ভিজিয়ে দিলে কেন,,,
নিলিমাঃ আরো ঘুমাও বেশি করে,,

চলে গেলাম ফ্রেশ হয়ে প্যান্ট শার্ট পরে রেডি হয়ে বের হলাম,,

নিলিমাঃ কি হলো এগুলো কেন পরেছ,,কাল যে গুলো দিয়ে গিয়েছিলাম সেগুলো কোথায়।

আমিঃ কেন এসবে কি হয়েছে,,
নিলিমাঃ তোমার মাথা আজকে পরার জন্যই তো তোমাকে সেগুলো রাতেই দিয়ে গেছি,,,
আমিঃ কেন কোথায় যাবে যে সেই গুলোই পড়া লাগবে,,,

কির করবো আর আবার গিয়ে চেঞ্জ করে চলে আসি,,,নিলিমার গাড়ি এসে রাজিবদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নেমে আমাকে বলে গাড়ি থেকে ব্যাগগুলো নামাতে,,,। গিয়ে দেখি কাল যা শপিং করেছি সে সব,,,

তাদের দরজা সামনে দাঁড়িয়ে আমি নিলিমাকে জিজ্ঞেস করি,,

আমিঃ রাজিবেরটা এনেছ বুঝলাম,,এই শাড়ি গয়না এগুলো এখানে কেন এনেছ বুঝলাম না,,,
নিলিমাঃ ভিতরে গেলেই বুঝবে,,,

কলিং বেল বাজাতেই তামান্ন এসে দরজা খুললো,,

তামান্না দেখে আমার হাতে ব্যাগ ধরা আর নিলিমা আমার হাত,,,

তামান্নাঃ আরে আপু কেমন আছো,,আসও ভিতরে আসো,,,
নিলিমাঃ ভালো তুমি কেমন আছো,,, ( ভিতরে যেতে যেতে বলে)

তামান্না আমাকে দেখেও না দেখা করে চলে গেলো, কথা বলল না। একে একে সবাই এসে নিলিমার সাথে কথা বলে সবাই মনে হয় আমার উপর খ্যাপা। আমি ইচ্ছে করে কথা বললেও তারা সেরকম কোন কথা বলে না।

কিছুক্ষন পর একটা মেয়ে বের হলো কাপড় পরা। দেখতে ভালোই অনেক সুন্দরি,,,,

নিলিমা গিয়ে তার সাথে কথা বলে তারপর রাজিবকে আর সেই মেয়েকে গিয়ে সেই সব কিছু দেয়। তারা এসব দেখে বলে, ” এসব কেন আবার এনেছে,,”.। নিলিমা বলে বিয়ের সময় আসতে পারে নি তাই এখন দিচ্ছে,,,

বুঝতে পারলাম মেয়েটা রাজিবের বউ,,,

নিলিমাঃ আচ্ছা আজ তাহলে উঠি,,,
রাজিবঃ কেন বসো কি খাওয়া দাওয়া করে যেও,,,
নিলিমাঃ না আজ আর না অন্য এক দিন,,,,,

আমরা কিছু খেলাম না চলে এলাম বাইরে,,, আমি গাড়ির কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছি,,,

নিলিমাঃ কি হলো এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন উঠ,,
আমিঃ তুমি আমাকে আগে কেন বলো নি যে রাজিবের বিয়ে হয়ে গেছে,,
নিলিমাঃ আমি তো বলেছি এখন তুমি যদি না বুঝো তাহলে আমি কি করবো,,,

,,৷ চলবে,৷,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here