গ্রামের ছেলেটি -(পর্ব-৪র্থ)

0
149

#গ্রামের_ছেলেটি

পর্ব-৪র্থ

স্বপন

ঢাকায় ফিরে আবার সেই কাজে লেগে পরলাম। সময়টা ভালোই যাচ্ছিল হটাৎ করে রিকশার মালিক রিকশা ভাড়ায় চালাতে দিবে না। সত্যিই গরিবের কপালে বেশি দিন সুখ থাকে না তাই তো কালকে রিকশা এক্সিডেন্ট হয়েছিল তাই মালিক আজ রিকশা ভাড়া দিতে চাইছেনা।

গতকাল যখন আমি পেসেঞ্জার নামিয়ে দিয়ে রিকশা পাশে রেখে একটু পানি খেতে চলে গেলাম।
পানি খেতে যাব এমন সময় একটা আওয়াজ পেলাম গিয়ে দেখি একটা গাড়ি আমার রিকশার সাথে লাগিয়ে দিয়েছে। আমি যেতে যেতে গাড়িটি চলে গেলো।

আমি যখন গাড়িটি মালিকের কাছে নিয়ে গেলাম। তখন মালিক বলল সে আর আমাকে গাড়ি ভাড়া দিবে না।

তারপরও আমি আজে গিয়ে গাড়ি নিতে যাব এমন সময় মালিক এসে আমাকে বাধা দিল…

মালিকঃ তোকে না কালকে বললাম তোকে গাড়ি ভাড়ায় দেব না। তুই প্রতিদিন একটা না একটা কিছু নষ্ট করে নিয়ে আসিস কালতো পুরো গাড়িরি বারোটা বাজিয়ে আনছত।

আমিঃ দেখেন আর হবে না। দয়াকরে আমাকে নিতে দিন। আমার খুব প্রয়োজন রিকশাটা পেলে আমার আর কোন পথ থাকবে না টাকা আয়ের।

মালিকঃ তাতে আমার কি আমি তো আর আমার নিজের ক্ষতি করে তোমার কথা চিন্তা করা যাবে না।তাহলে আমার ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে।

আমি কি করব বুঝতে পারছি না। তাই আমি মালিকের পা দুটি জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলাম….

মালিকঃ এই কি করছত ছাড়…

আমিঃ দয়া করেন আমি আর ভুল করব না।

কিন্তু কোন কাজ হলো না তাই আর কি করার। এখন কি করব বুঝতে পারছি বাড়িতে টাকা পাঠানোর দরকার কিন্তু কি করব বুঝতে পারছি না। একা আনমনে হাটতেছি আর ভাবছি কি করব। সারাদিন ঘুরাঘুরি করলাম কিন্তু কোন কাজ পেলাম না।

হোস্টেল এসে পরি। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ভাবছি কি করা যায়। কিছু ক্ষন পরে রাকিব আসল এসে বলল.
রাকিবঃ কিরে এখন শুয়ে আছিস,,,কিছু হইছে নাকি তোর আবার।
আমিঃ নারে বন্ধু,,,,,, তারপর ওর কাছে সব খুলে বললাম।।।
রাকিবঃ থাক চিন্তা করিসনা একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এখন বল সারাদিন কিছু খেয়েছিস নাকি না খেয়েই সুয়ে আছিস।
আমিঃ আর খাওয়া….বাড়িতে টাকা পাঠানোর দরকার আর এরই মধ্যে এসব কি করব বুঝে উঠতে পারছি না কি করব???
রাকিবঃ দেক হতাশ হয়ে কি লাভ চল কিছু খেয়ে আসি। আর তোর বাড়ি টাকা পাঠানো প্রয়োজন। তাই আর দেরি না করে চল।।।
আমিঃ কিন্তু টাকা কোথায় পাব আমার কাছে এই মুহূর্তে কোনো টাকা নেই।।।
রাকিবঃ আমার কাছে কিছু টাকা আছে চল তাই পাঠিয়ে দিস।।।
আমিঃ কিন্তু অই টাকা তো তোরি লাগবে আমাকে দিলে তুই চলবি কি করে।
রাকিবঃ আমি দরকার হয় কিছু দিন পরে বাড়িতে ফোন করে বলব টাকা খরচ হয়ে গেছে তাই আরও কিছু টাকা লাগবে।। আর তার থেকে বড় কথা আমার থেকে তোর বেশি দরকার টাকার চলত বেশি কথা বলিস না।।।
কি আর করার চলে গেলাম খেতে। দুইজন খেয়ে চলে আসলাম কাল বাড়িতে টাকা পাঠাব।।।
পরেরদিন সকালে বাড়িতে টাকা পাঠানোর পর। আমি আর রাকিব চলে গেলাম ভার্সিটিতে আজ অনেক দিন পর আসলাম।। এসে কয়েকটি ক্লাস করলাম তারপর আমি আর রাকিব একটু ক্যাম্পাস এ ঘুরতে থাকি অনেক দিন পর আসলাম তাই একটু ঘুরলাম। তারপর চলে আসলাম। কিছু দিন পরে একটা ছোট চাকরি পেয়েছি অনেক কষ্টে চাকরিটা পাই। চাকরিটা বেতন কম কিন্তু আমার এতেই চলে যাবে। তাই আমি এখন কিছুটা নিজেকে সামলাতে পারলাম। রাকিব আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।যা আপনজনেও এতোটা করে না।
এইভাবে আমার অনার্স শেষ হয়ে যায়। পড়াশোনা শেষ করেছি রেজাল্ট ভালো তাই একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি ইন্টারভিউ দিয়েছে।
ইন্টারভিউ ভালো হয়েছে তাই চাকরি পেয়ে যাই।
প্রথম বাড়িতে ফোন করে জানালাম যে আমি চাকরি পেয়েছি মা বোন অনেক খুশি হয়েছে। রাকিবকে জানালাম রাকিব চলে গেছে তার দেশের বাড়ি। তাই তাকে ফোন করে জানালাম।
কাল থেকে অফিস শুরু তাই একটু ঘুরেফিরে আসলাম।
পরেরদিন অফিসে চলে গেলাম গিয়েত আমি অবাক কারন এখানে নিলিমার অফিস। বসের ক্যাবিনে নিলিমা বসা। হয়তবা আমাকে দেখে নিলিমা চিনতে পারে নি কারণ আগের থেকে আমার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যখন ওকে প্রোপজ করেছিলাম তখন আমি খুব শুকনো ছিলাম। তাই আমি আর আগের মত নেই।
দেখতে ভালোই হ্যান্ডসাম স্মার্ট হয়ে গেছি। তার আমাকে আমার ডেক্সট দেখিয়ে দেয়া হয়। ডেক্সে বসে আছি আর ভাবছি। কি কপাল আমার যাকে ভালোবাসতাম। যে একদিন আমাকে ক্যাম্পাসে বসে হাজারো মানুষ এর সামনে অপমান করেছে আজ তার অফিসেই কাজ করছি।
আজ প্রথম দিন তাই বেশি কাজ ছিল না। শুধু আমাকে আমার কাজ বুঝিয়ে দিয়েছে।
অফিসের কাজগুলো খুব তারাতাড়ির বুঝেফেলেছি।
আজ অফিস থেকে এসেই বাড়িতে ফোন করলাম মায়ের কাছে…
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম মা… কেমন আছও??
মাঃ ওলাইকুম আসসালম… ভালো বাবা তুই কেমন আছত।।
আমিঃ জি মা ভালো.. আচ্ছা মা সুমা কেমন আছে?ওর পড়াশোনা কেমন চলছে?
মাঃ তা তোর বোনকেই জিজ্ঞেস করেনে।
আমিঃ আচ্ছা দেও…
সুমাঃ হ্যালো.. ভাইয়া কেমন আছও…
আমিঃ ভালো… তুই কেমন আছিস।,
সুমাঃ ভালো…ভাইয়া তুমি বাড়ি আসবা কবে।
আমিঃ আসব খুব তারাতাড়ি আসব।তা তোর পড়াশোনা কেমন চলছে??
সুমাঃ ভালো ভাইয়া।
এইভাবে আরও কিছু ক্ষন কথা বলে রেখে দেই। শুয়ে আছি আর ভাবছি সেই ফেলে আসা দিন গুলো। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরি।
নিলিমা আমার সাথে সাভাবিক ভাবেই কথা বলে। কিন্তু একটু রাগি মুড থাকে সব সময় কেন যেন।
একদিন অফিস থেকে আসতে ছিলাম রাস্তায় দেখি ভির তাই আমি ওই ভির এর কাছে চলে গেলাম।
গিয়ে দেখি একটা গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে গাড়ি এক বৃদ্ধ লোক চালাচ্ছিল। আমি আরও কয়েকজন মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারপর তাকে ডাক্তার সাহেব চিকিৎসা করা শুরু করে দেন। বাকিরা চলে যায় কিন্তু আমি থেকে যাই।
কিছু ক্ষন পরে নার্স এসে বলল…
নার্সঃ এই রোগিকে কে নিয়ে আসছে…
আমিঃ জি আমি…
নার্সঃ দেখুন রোগির রক্ত লাগবে তার শরির থেকে অনেক রক্ত বের হয়ে গেছে তাই A+ এই গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন তারাতাড়ি ব্যবস্থা করেন।
আমিঃ আমার রক্তের গ্রুপ A+ আমি রক্ত দেব।।।
নার্সঃ তারাতাড়ি আসেন…
তারপর আমি রক্ত দিলাম।।। হাসপাতাল থেকে আসতে অনেক রাত হয়ে জায়। আসার আগে ওই লোকের ফোন থেকে তার বাসায় জানিয়ে আসি। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি ৯টা বেজে গেছে। আজ বুঝি নিলিমার কাছে ঝারি শুনতে হবে। আল্লাহই যানে আজ কপালে কি আছে। অফিসে চলে গেলাম গিয়ে আমি আমার ডেস্কে বসি দেখি এখন নিলিমা আসেনি। কিন্তু ম্যানেজার সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।তাই তার রুমে চলে গেলাম….
আমিঃ আসব স্যার…
স্যারঃ হুম আসেন…বসেন।
আমিঃ চুপ…….
স্যারঃ আপনের আসতে এত দেরি হলো কেন…
আমিঃ আসলে স্যার হয়েছে কি কাল রাতে দেরি করে ঘুমিয়েছিলাম তাই উঠতে দেরি হয়ে গেছে। সরি স্যার আর হবে না।
স্যারঃ হুম তা তো বুঝলাম,,,কিন্তু আর জেন না হয়।আপনের ভার্গ্য ভালো আজ ম্যাডাম আসে নাই তা মা হলে আজ আপনের চাকরি গিয়েছিল।
আমিঃ ধন্যবাদ স্যার…আচ্ছা স্যার ম্যাডাম আজ আসবেনা।
স্যারঃ না তার বাবা এক্সিডেন্টে করেছে সেখানে তিনি। আর হ্যা এই ফাইল গুলো করে রাখবেন আমি বের হবো স্যারকে দেখতে যাব।।
আমিঃ ওকে স্যার… তাহলে আমি আসি।
এই বলে আমি স্যার এর ক্যাবিন থেকে বের হয়ে আসলাম।

চলবে.,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here