গ্রামের ছেলেটি -(পর্ব-৮ম)

0
131

#গ্রামের_ছেলেটি

পর্ব-৮ম

স্বপন
রাইসাঃ কি নাম ছিলো মেয়েটার,,,,
আমিঃ (ওর দিকে তাকিয়ে মচকিহেসে বলি) নিলিমা।
রাইসাঃ নিলিমা,, !!
আমিঃ হুম তুই যেটা ভাবছিস সেটাই কিন্তু,,,, রাইসাঃ তাহলে ম্যাডাম তোকে,,! আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না সব কেমন যে গুলিয়ে যাচ্ছে। নিলিমা তোকে আগের থেকে চিনে নাকি।
আমিঃ আমি সেই ছেলে নিলিমা জানে না। আর সেটার তো অনেক দিন হয়ে গেছে। আর আমার চেহারা এমন কোন সেলিব্রিটির না যে মনে থাকার মতো।
রাইসাঃ কি বলিস,,এখনো কি তাকেই ভালোবাসিস??
আমিঃ জানি না, কিন্তু এখন আর ওর প্রতি সেরকম অনুভব করি না। যাক তোর কথা বলল শুনি।
রাইসাঃ আমার কথা কি বলবো আর তিন বছর সম্পর্ক থাকার পর একদিন এসে বলে সে নকি আমাদের এই সম্পর্ক আর এগোতে পারবেনা। দিলাম লাগিয়ে গালে চর, সালায় নিজে এসে প্রোপোজ করে, ছয় মাস পর্যন্ত আমার পিছু ঘুর ঘুর করে বলে। আর এখন এসে বলে আমাদের মধ্যে কোনকিছু মিল নেই। মনে চেয়েছিলও ওরে ধরে খুন করি, তার কিছুদিন পর শুনি বিয়ে করেছে। মেয়ের বাবার অনেক টাকা আছে তাই হয় তো আমাকে ছেড়ে ওই মেয়েকে বিয়ে করেছে।

আমিঃ তার মানে এখন তুই এখন কোন সম্পর্কে মধ্যে নেই আমার মতো।
রাইসাঃ আমার বয়ফ্রেন্ড থাকলে কি এখন তোর সাথে এই সময় এখানে থাকি।

বলতেই রাইসার ফোনে একটা কল আসে। কিছুক্ষন পর রাইসা ফোন রেখে বলে ম্যাডামের বাসায় যেতে বলেছে।

আমিঃ এখন কেন কি এমন কাজ যে তোকে এখন যেতে হবে।
রাইসাঃ কে যানে আবার কি বলে,,
আমিঃ আচ্ছা চল আমি তোকে নিয়ে যাই।
রাইসাঃ ওকে চল। এই বলে আমরা দুই জনে চলে গেলাম একসাথে আমি ওকে বাসায় সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে আসি,,,,,ও গিয়ে বাসার কলিং বেল বাজায় কিছুক্ষন পর ম্যাডাম এসে দরজা খুলে দিলো,,,,
ম্যাডামঃ এসো ভিতরে,,,
রাইসাঃ ম্যাডাম কি জন্য ডেকেছেন জানতে পারি,,,,
ম্যাডামঃ হুম এই ফাইল টা নেও ,,
রাইসাঃ এটা কিসের ফাইল আমাকে তো এই ফাইল কাল সকালেই দিতে পারতেন।
ম্যাডামঃ হ্যা সকালে দিতে পারতাম কিন্তু সকালের মধ্যে ফাইলটা কমপ্লিট করে আনবে।
রাইসাঃ কিন্তু এটা করতে করতে তো আমার প্রায় সকাল হয়ে যাবে। তারপর আবার অফিস কি বলছেন ।
ম্যাডামঃ আচ্ছা আগে কাজটা করও পরেটা পরে দেখা যাবে।
রাইসাঃ অকে ম্যাম,,তাহলে আমি উঠি এখন,,।
রাইসা আসতে যাবে তখনি ম্যাডাম বলে ,,,

ম্যাডামঃ আচ্ছা রাইসা তোমার আর শিমুলের মধ্যে কি কিছু চলে,,,
রাইসাঃ বুঝলাম না কি বলতে চাচ্ছেন আপনি।
ম্যাডামঃ ওকে তোমরা কি গালফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড।
রাইসাঃ হাহাহ,,,,সরি ম্যাম না আমাদের মধ্যে সেরকম কিছু নেই। আমরা এমনেই খুব ভালো বন্ধু।
ম্যাডামঃ কি ভাবে তুমি ওকে আগে থেকে চিনতে নাকি।
রাইসাঃ জি ম্যাম আমরা এককি গ্রামে থাকি। এখন অবশ্য না হলেও পরে গিয়ে হতে কতক্ষন,, আচ্ছা ম্যাম আমি আসি তাহলে,,,

এই বলে রাইসা চলে গেলো,,,,শুয়ে আছি রাকিবের ফোন চলে আসে,,

আমিঃ হ্যালো,,
রাকিবঃ কোথায় তুই,,,,
আমিঃ আমি রুমে শুয়ে আছি কেন??
রাকিবঃ তোর বাসা কোথায়,,?,।
আমিঃ তুই এখন কোথায় আছোত দাড়া আমি আসতেছি।
চলে গেলাম ওর কাছে। গিয়ে দেখি দাঁড়িয়ে আছে একা কাধে একটা ব্যাগ । আমি গিয়ে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরি। কাকা কাকির কথা জিজ্ঞেস করি। ওর বাসায় সবাই কেমন আছে। বলল ভালো তারা ভালোই আছে। রাকিবকে নিয়ে চলে এলাম বাসায়।

রাকিবঃ কিরে এ বাসায় তুই একাই থাকোস নাকি,,।
আমিঃ হুম, এখন তুই এসেছিস এখন আমরা দুই জনে।
রাকিবঃ তা বুঝলাম কিন্তু কাকি কে আর সুমা কে তো নিয়ে আসতে পারছ নাকি। সুমা কিসে পড়ে এখন।
আমিঃ মা আসবে না সে ওখানেই থাকবে। সুমাকে ওখানেই অনার্সে ভর্তি করে দিয়েছি। ওর লেখা পড়া শেষ হোক তারপর মাকে না হয় কোনো ভাবে বুঝিয়ে নিয়ে আসবো।
রাকিবঃ খাবারের সমস্যা হয় না।
আমিঃ চল এখন তুই চলে এসেছিস দুইজনে মিলে রান্না করবো চল।
রাকিবঃ কি বলিস এখন আবার রান্না করবি??
আমিঃ হুম,,চল।
রাকিবঃ চল আমারও এমনি খিদে পেয়েছে।
দুইজনে মিলে রান্না করতে শুরু করলাম। রান্না করার সময় ওকে সব কিছু খুলে বললাম। রাকিব হাসতে লাগলো। রান্না শেষ করে রাকিবকে বলি ফ্রেশ হয়ে নিতে আমি ততক্ষণে সব কিছু পরিস্কার করে নিয়েই। সকালে রাকিব একটু তারাতাড়ি বেরিয়ে যায়। আমি গোসল করে বের হয়েছিয তখনি দরজায় কেন নক করে। আমি দরজা খুলে দেখি রাইসা ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।
আমিঃ কি রে তুই এখানে সব ঠিক আছে আর তুই চিনলি কি করে এটা আমার বাসা।
রাইসাঃ বাইরেই দারকরিয়ে সব কিছু জিজ্ঞেস করবি নাকি ভিতরেও যেতে দিবি।
আমিঃ ও হ্যা আয় ভিতরে আয়। তোলে এরকম লাগছে কেন মনে হয় রাতে ঘুমাস নি।। চোখ লাল হয়ে গেছে চেহারা কেমন যেন দেখচ্ছে।

ও আমার রুমে গিয়ে বসতে বসতে বলে,,,
রাইসাঃ এই ফাইলটা ম্যাডামকে দিবি আমার,,
আমিঃ কিন্তু তুই যাবি না,,,
রাইসাঃ আমি সারা রাত ঘুমাইনি,,তাই এরকম দেখাচ্ছে। এখন আমি একটু ঘুমাবো তোর বাসায়। প্লিজ আর কিছু জিজ্ঞেস করিস না। আচ্ছা তাহলে আমার যাওয়ার পর দরজা লাগিয়ে ঘুমা। আর কে শুনে কথা ঘুমিয়ে গেছে। রেডি হয়ে চলে গেলাম অফিসে ।গিয়ে ম্যাডামকে ফাইলাটা দিয়ে বলি কি হয়েছে।

ম্যাডামঃ তাহলে তুমি চলো আমার সাথে,,,
আমিঃ কিন্তু ম্যাডাম আমার যে এখানের কাজ আছে সেটা,,,
ম্যাডামঃ সেটা নিয়ে তোমার ভাবতে হবেনা চলো।
চলে গেলাম ম্যাডামের সাথে মিটিংয়ে। অনেক সময় ধরে মিটিং চলে। মিটিং শেষ বের হয়ে আমি আর ম্যাডাম হাটতেছি। ম্যাডাম বলে,,,

ম্যাডামঃ আচ্ছা শিমুল চলো আজ ভালো লাগছে না অফিসে যেতে। চলো কোথা ঘুরে আসি।
আমিঃ তাই তাহলে আপনার গাড়িতে না, ,,
ম্যাডামঃ তাহলে,,,,
আমিঃ এমনি আপনার গাড়ি ছাড়া যেকোন ভাবে,,
ম্যাডামঃ কি বলছো আমি গাড়িতে যাবো না কেন??
আমিঃ আমরা কি করবো ঘুরবো তাইতো আপনার গাড়িতে ঘুরার থেকে অফিসে বসে থাকা ভালো।
ম্যাডামঃ ঠিক আছে ,,,,
আমিঃ এখন বলুন কিসে যাবেন বাসে নাকি রিকশায়।

তারপর একটা রিকশা নিয়ে নিলাম। নিলিমা উঠে বসে আমি ওর পাশে বসে আছি। আমি ওর থেকে চেপে সরে বসি যাতে ওর সাথে আমার সেভাবে স্পর্শ না হয়। হাল্কা স্পর্শ হলেই আমি আমাকে সরিয়ে নেই। নিলিমা সেটা বুঝতে পেরে বলে,,

নিলিমাঃ (হেসে দিয়ে বলে)আচ্ছা তুমি যে এভাবে সরে বসতেছো পরে যাবে তো। আমার সাথে মিশে বসলে কিছু হবে না। (আমার হাত টান দিয়ে বলে)
আমিঃ না আসলে এই প্রথম আ,, (আমাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে)
নিলিমাঃ এই প্রথম মানে তুমি কি মনে করেছ আমি জানি না হুম। তুমি যে রাইসার সাথে রিকশায় ঘুরে বেরাও সে সময় তো বেশ গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বসো তখন।
আমিঃ আরেকে তো সেই ছোট বেলা থেকে ওর সাথে ঘুরেফিরেছি। তাই ওর সাথে কখনো এরকম লাগে নি। আর একে তো অফিসের বস তার উপর,,,, (,বলেই থেকে যাই)
নিলিমাঃ তার পর কি বলো??
আমিঃ কিছু না,,,
নিলিমাঃ( আমার কলার ধরে ওর দিকে ঘুরিয়ে বলে)বল কি বলতেছি তা না হলে কিন্তু আমি তোকে এখান থেকে ফেলে দেবো।।
আমিঃ এটাই তো এখন ফেলতে চাইছো আর তখন যদি বলতাম তাহলে বলতে না তা আগেই ফেলে দিতে,,,।
নিলিমাঃ কি,,,

আমি রিকশা দাড় করাতে বলি,। নিলিমা বলে এখানে কেন আমি বলি,তোমাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই এর পর যদি সত্যি সত্যি ফেলে দেও তার চেয়ে বরং আমার একটু পার্ক থেকে ঘুরে আসি ভালো লাগবে। এই ধুলোর শহরে।

আমি আর নিলিমা হাটছি দুজনেই চুপ করে আছি।
নিলিমাঃ শিমুল তোমার কোন গাল্ফ্রেন্ড নেই।
আমিঃ নাহ কেন,,,
নিলিমাঃ এমনি,,,তাহলে তোমার কি রকম মেয়ে পছন্দ আমাকে বলতে পারো,আমি খুজে দিতে পারি।
আমিঃ হাহাহাহ,,, কি বলব আসলে আমি এসব নিয়ে কখনো ভাবি নি।।
নিলিমাঃ তারপর ও আছে না সব মানুষের একটা মনের মানুষ।
আমিঃ কি বলব এই ধরুন যে মেয়ের আমার টাকাকে না আমাকে দেখে আসবে, মায়ের সেবা করবে। রুপে গুনে একদম পারফেক্ট।
নিলিমাঃ হাহাহা,,, তুমি যেরকম মেয়ের কথা বলছো তা এজন্মেও পাবে না। এই যুগে আবার এরকম মেয়ে আমার জানা মতে এশহরে আছে বলে মনে হয় না।
আমিঃ তোমাকে কে বলল আমি এই শহরের মেয়েকে বিয়ে করবো, আমাদের গ্রামে কি মেয়ের অভাব পরেছে নাকি। যে এখান থেকে মেয়ে নিয়ে বিয়ে করবো।
নিলিমাঃ তার মানে এখানের মেয়েরা কি দোষ করেছে।
আমিঃ ছোট বেলা থেকেই শুনে এসেছি, মেয়ে বিয়ে করাতে হয় বড় ঘরে, আর ছেলে বিয়ে করাতে হয় তার থেকে গরিব ঘরে।
নিলিমাঃ একেমন কথা আবার,
আমিঃ মনে করুন আমি একটা বড় লোকের মেয়েকে করলাম। তারপর যখন কোন কারনে আমাদের মধ্যে সমস্যা হয়। তখন সে মেয়ে আমাকে কি বলবে যানেন, বলবে আমার কোন যোগ্যতা ছিলো তাকে বিয়ে করার। আবার তার বাবার টাকার শুধু বিনা কারনে গরম দেখাবে,,। আমার মায়ের সেবা তো দুরের কথা উল্টো মাকে তার সেবা করতে বলবে। আর যদি আমি আমার গ্রামের আমার যোগ্য মেয়ে দেখে বিয়ে করি তাহলে আমাকে ভালোবাসবে সাথে আমার মাকে তার মায়ে মতো করে দেখবে।

নিলিমাঃ তাহলে কি তোমার যোগ্য হতে হলে কতই না কষ্ট করতে হবে সে মেয়ের।

,,,,,,চলবে,,,,,,,

বিঃ দ্রঃ লেখায় কোন ভুল থাকলে ক্ষমা করে দেবেন 🙏🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here