ডায়েরী শেষ পাতা -(পর্ব ০৩)

0
81

# গল্প – #ডায়েরী_শেষ_পাতা

# পর্ব ০৩

# লেখনীতে – #Sazzad_KR
.
.

‘ আপনি আমার কাছে আসবেন না আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারব না আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি ‘

সদ্য বিবাহিত স্রী মুখ থেকে এমন কথা শুনে সাজ্জাদ কিছুক্ষণের জন্য ঘোরের মধ্য চলে গেল। একটু পর নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে বলল

‘ কি বলছো এইসব তোমার মাথা ঠিক আছে। আমি এখন মজা করার মুডে নেই ‘

‘ আমি আপনার সাথে মজা করতে যাব কেন সত্য কথায় বললাম আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি ‘

‘ তাহলে সেদিন আমাকে কেন বলেছিল আমাকে পছন্দ হয়েছে ও বিয়ের জন্য হ্যাঁ বলেছিলে কেন? ‘

‘ বাবা – মায়ের কথা রাখতে গিয়ে এমনটা করতে হয়েছে এবং আপনাকে একটা কথা বলে রাখি আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না ‘

সাজ্জাদ সোফার দিকে যেতে যেতে বলল

‘ চিন্তা করবে না আমি তোমার কাছে যাব না৷ শুধু আমাকে এই কথা বলো তোমার তো বিয়ে হয়েছে এখন কি তোমার বয়ফ্রেন্ড তোমাকে মেনে নিবে? ‘

‘ তার সাথে কথা বলে তো বিয়েটা করেছি সে এখন দেশের বাইরে আছে কয়েকমাস পর দেশে আসবে তারপর আমি আপনাকে রেখে তার কাছে চলে যাব ‘

সাজ্জাদ সোফায় বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল

‘ যদি ডিভোর্স দেওয়া লাগে বলবে দিয়ে দিব কারণ আমি জানি ভালোবাসার মানুষটাকে না পেলে কতটা কষ্ট লাগে ‘

‘ সেটা ও দেশে আসার পর আপনাকে জানাব৷ ‘

‘ আপনি খাটে ঘুমান আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি ‘

নুসরাত ওকে বলে খাটে ঘুমিয়ে গেল৷ এদিকে সাজ্জাদ সোফায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই তার ঘুম আসছে না৷ তাই বারান্দায় গিয়ে রেলিং ধরে দাড়াল। এখন বাজে রাত ১ টা সারা শহর পুরো নির্জন রাস্তায় কোন মানুষ নেই পুরো ফাঁকা রাস্তা৷ ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে,,,আচমকা চোখ দিয়ে কয়েকটা জল গড়িয়ে পড়লো সাজ্জাদের। ভেবেছিল নুসরাতে নিয়ে নতুন করে সবকিছু শুরু করবে কিন্তু সে অন্য একজনকে ভালোবাসে। নুসরাত চলে যাবে এটা নিয়ে কষ্ট হচ্ছে না কষ্ট হচ্ছে এটা ভেবে যে তার সাথে বার বার এমন হয় কেন৷ বারান্দায় বসে আকাশের দিকে এক নজরে চেয়ে আছে সাজ্জাদ মনটা অনেক খারাপ। হঠাৎ করে সাজ্জাদের কানে কিছু কথা ভেবে আসতে লাগল কেউ একজন ফিস ফিস করে ফোনে কথা বলছে৷ সাজ্জাদ রুমের ভেতরে তাকিয়ে দেখল নুসরাত যেন কার সাথে ফোনে কথা বলছে হয়তো তার প্রেমিকের সাথে৷ তাদের কথা বলার মাঝে সাজ্জাদ কাঁটা হয়ে দাড়াতে চায় না সে ডিভোর্স চাইলে সাজ্জাদ সেটা দিতেও প্রস্তুত আছে। অন্য কারো জন্য সে কষ্ট পাবে কেন এইসব ভাবছে এবং আকাশ দেখছে৷

———-

সকাল ৮ টায় নুসরাতের ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ খুলে সোফার দিকে তাকিয়ে দেখে সেখানে সাজ্জাদ নেই কোথায় যেতে পারে এইসব বলে ভাবতে লাগল এমন সময় নুসরাতের চোখটা বারান্দার দরজার দিকে গেল। দরজা খুলে রয়েছে তারপর সাজ্জাদ বারান্দায় আছে তাই নুসরাত বারান্দায় গেল। সেখানে গিয়ে দেখে সাজ্জাদ চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় ঘুমিয়ে গিয়েছে নুসরাত সাজ্জাদকে ডাকল।

ঘুমের ভেতর কারো কন্ঠ শুনে সাজ্জাদের ঘুৃম ভেঙ্গে গেল। চোখটা খুলে নিজেকে বারান্দায় আবিষ্কার করল৷ তখন তার মনে পড়ল সে রাতে রুমে যায় নি রাবান্দার চেয়ারে বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে গিয়েছিল৷ সামনে তাকিয়ে দেখে নুসরাত দাড়িয়ে আছে,, তাই সাজ্জাদ নুসরাতকে বলল

‘ কি ব্যাপার তুমি এখানে কি করছো? ‘

‘ আপনাকে রুমে দেখতে পেলাম না তাই দেখতে এলাম বারান্দায় আছেন কিনা। রাতে কোথায় ছিলেন? ‘

‘ রাতে বারান্দায় ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ‘

‘ কেন? ‘

‘ ঘুম আসছিল না তাই বারান্দায় এসে বসেছিলাম৷ তারপর বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ‘

‘ ওও আচ্ছা যান তাহলে ফ্রেশ হয়ে আসেন ‘

‘ তুমি আগে যাও ‘

নুসরাত কিছু না বলে ওয়াশরুমের দিকে যেতে লাগল তখন সাজ্জাদের একটা কথা মনে পড়ল সেটা বলার জন্য নুসরাতের কাছে গেল ও বলল

‘ শুন আমাদের মাঝে যে কোন সম্পর্ক নেই এটা যেন বাসার কেউ না জানতে পারে। আমার সাথে ভালো ব্যবহার না করলে সমস্যা নেই অন্তুত বাসার লোকের সাথে ভালোভাবে কথা বলো ‘

‘ সেটা আমি জানি, এইসব বিষয় নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না ‘

‘ ঠিক আছে ‘

নুসরাত কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হয়ে বের হওয়ার পর সাজ্জাদ ওয়াশরুমে গেল। সাজ্জাদ ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখে নুসরাত রুমে নেই। নুসরাতকে খুঁজতে খুঁজতে রুমের বাইরে এসে দেখল সে রান্না করে আম্মুর সাথে কাজ করছে৷ সাজ্জাদ কিছু না বাসার বাইরে চলে এলো। বাইরে দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বাসায় ফিরে এল,, নিজের রুমের দিকে যাবে এমন সময় ওর আম্মু বলে ওঠলো

‘ নাস্তা করে যা ‘

‘ একটু পরে করব ‘

‘ একটু পরে হবে না এখনি নাস্তা করে যা ‘

সাজ্জাদ কোন উপায় না পেয়ে বলল

‘ ঠিক আছে দাও ‘

তারপর সাজ্জাদ খাবার টেবিলে বসল,, তখন সাজ্জাদের আম্মু নুসরাতকে ডেকে বলল

‘ তুমিও বসো নাস্তা কর ‘

তখন নুসরাত রান্না ঘর থেকে বলতে লাগল

‘ আম্মু আগে আপনারা নাস্তা করে নিন তারপর আমি করব ‘

‘ না তুমি আমাদের সাথে বসো ‘

সাজ্জাদের আম্মু বার বার বলছিল দেখে নুসরাত টেবিল বসে নাস্তা করল। ওদিকে সাজ্জাদ নাস্তা করে নিজের রুমে গিয়ে রেডি হয়ে নিচে এসে কাউকে কিছু না বলে বাইরে চলে গেল। বাসার পাশে চৌরাস্তায় বসে আছে সাজ্জাদ থেকে পিয়াসের জন্য অপেক্ষা করছে একটু পর পিয়াস এলো এসে বলল

‘ কালকে বিয়ে হলো আজকে এখানে বসে আছিস কেন? ‘

‘ বিয়েটা শুধু নামে হয়েছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না ‘

‘ কেন কি হয়েছে ‘

‘ বলা যাবে না অনেক কথা! ‘

‘ ওও কল দিয়ে আসতে বললি এখন কি করবি? ‘

‘ তোর চেনা ভালো কোন উকিল আছে কি? তার কাছে আমাকে একটু নিয়ে চল ‘

‘ উকিলের কাছে গিয়ে কি করবি? ‘

‘ জরুরী একটা কাজ আছে চল ‘

পিয়াস কিছু না বলে সাজ্জাদকে নিয়ে ওর চেনা একজন উকিলের কাছে গেল। সাজ্জাদ ওনার সাথে ডিভোর্সের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েছে। সাজ্জাদের কাছে থেকে বিস্তারিত শুনে উকিল বলল

‘ ৬ মাসের আগে ডিভোর্স পেপার হাতে পাবেন না তবে আমি এর আগে দেওয়ার চেষ্টা করব ‘

‘ ঠিক আছে একটু তাড়াতাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করবেন ‘

বলে সাজ্জাদ ও পিয়াস ওখান থেকে চলে এলো। পিয়াস সাজ্জাদের পাশেই ছিল উকিলের সাথে এমন কথা শুনে পিয়াস বলল

‘ তুই ডিভোর্স পেপার দিয়ে কি করবি? ‘

‘ সবাই যা করে আমি তাই করব ‘

‘ কিন্তু কেন? ‘

‘ তোকে পরে একসময় বলল ‘

‘ এখন বল ‘

‘ পরে বলব তোর কি কোন কাজ আছে? ‘

পিয়াস মাথা নাড়িয়ে না জানালো তাই সাজ্জাদ বলল

‘ তাহলে চল দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসি ‘

‘ কোথায় যাবি ‘

‘ দূরে কোথাও যাব ‘

‘ দূরে যাওয়ার দরকার নেই চল নদীর পাড়ে গিয়ে থাকি তাতেই হবে ‘

‘ ঠিক আছে চল ‘

তারপর দুজনে একসাথে নদীর পাড়ে গেল। এখন দুপুর ১টা বাজে তারা এখানে এসেছে সকাল ১০ টায় মানে প্রায় ৩ ঘন্টার মতো হয়ে গেছে নদীর পাড়ে বসে আছে৷ সাজ্জাদ পিয়াসের সাথে গল্প করছিলো ও গান শুনছিল হঠাৎ করে সাজ্জাদের ফোনে একটা কল এলো। সাজ্জাদ ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখল আননোন নাম্বার তাই কলটা রিসিভ করল না। কয়েকবার সেই একই নাম্বার থেকে কল আসার জন্য সাজ্জাদ কলটা রিসিভ করে সালাম দিল। ওপাশ থেকে সালামের উওর নিয়ে বলল

‘ আপনি কোথায় আছেন? ‘

‘ আমি কোথায় আছি সেটা আপনাকে বলব কেন! আপনি কে? ‘

‘ আমি নুসরাত বলছি এবার কি চিনতে পেরেছেন? ‘

‘ হ্যাঁ চিনেছি বলো কি বলবে? ‘

‘ সকালে সেই চলে গেলেন আম্মু বাসায় আসতে বলল ‘

‘ আম্মুকে বলো একটু পর বাসায় আসব ‘

‘ আপনি এখন চলে আসুন ‘

সাজ্জাদ এবার একটু জোর গলায় বলল

‘ বললাম তো পরে আসব ‘

জোর গলার কথাশুনে নুসরাত ভয়ে কলটা কেটে দিল৷ সাজ্জাদ কল ব্যাক করার প্রয়োজন মনে করল না৷ নদীর পাড়ে ঠান্ডা বাতাসে আরো কিছুক্ষণ বসে থাকার পর পিয়াস বলল

‘ চল এবার বাসায় চলে যায় অনেকক্ষণ হয়েছে এখানে এসেছি ‘

সাজ্জাদ দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল ঠিক আছে চল৷ তারপর যে যার যার বাসায় চলে গেল। সাজ্জাদ বাসার দরজার সামনে এসে কলিংবেল বাজাতেই অবণি দরজা খুলে দিয়ে বলল

‘ এতক্ষণ কোথায় ছিলি? তোর জন্য এখনো কেউ খায়নি সবাই না খেয়ে বসে আছে ‘

‘ আমার জন্য তোদের না খেয়ে কে থাকতে বলেছে ‘

‘ কেউ বলেনি সবাই এমনি রয়েছে ‘

বলতে বলতে সাজ্জাদ বাসার ভেতরে প্রবেশ করল,, তারপর নিজের রুমে গিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।

#চলবে……..

( কেমন হলো জানাবেন গল্পটা শেষ পর্ব পযন্ত পড়ার অনুধোধ রইলো এবং বিনা অনুমতিতে গল্প ইউটিউবে নিবেন না নিলে কপিরাইট খাবেন৷ ও কপিবাজ রা গল্প কপি করা থেকে বিরত থাকুন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here