ডায়েরী শেষ পাতা -(পর্ব ০৪)

0
180

# গল্প – #ডায়েরী_শেষ_পাতা

# পর্ব ০৪

# লেখনীতে – #Sazzad_KR
.
.

সাজ্জাদ ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতে যাবে এমন সময় শুনতে পেল নুসরাত কারো সাথে কথা বলছে কথাগুলো এমন ছিল

‘ তুমি দেশে আসবে কবে? তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না অনেকদিন হলো তোমাকে দেখি না ‘

আরো নানা কথা বলছিল সাজ্জাদের বুঝতে বাকি থাকলো না সে কার সাথে কথা বলছিলো। এইসব শুনে সাজ্জাদের মনটা কিছুক্ষণের জন্য খারাপ হয়ে গেল আজকে তার নম্রতার কথা মনে পড়ছে রিলেশন থাকা সময়ে কত কথা বলেছে কিন্তু সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে কোন খবর পায়নি৷ যাই হোক সাজ্জাদ ওয়াশরুমে দাড়িয়ে না থেকে বের হলো। রুমে কারো উপস্থিতি বুঝতে পেরে নুসরাত কলটা কেটে দিল। নুসরাত সাজ্জাদকে দেখে ভেবেছিল সে বলবে কার সাথে কথা বলছিলে কিন্তু ওর চিন্তা ভুল করে দিয়ে সাজ্জাদ নিচে চলে গেল। সাজ্জাদ নিচে এসে দেখে নুসরাতের বাসা থেকে কয়েকজন মেহমান এসেছে তাই তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলল আজকে সাজ্জাদ ও নুসরাত,, নুসরাতের বাবার বাসায় যাবে৷ সাজ্জাদের যাওয়ার কোন ইচ্ছা না থাকার সত্বেও যাবে। যদি না যায় তাহলে এটা বেয়াদবি হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। মেহমানদের দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করা হলো৷ তাদের সাথে সাজ্জাদ ও লাঞ্চ করে নিল।

———-

বিকেলে নুসরাতের বাসায় লোকের সাথে বের হলো নুসরাতের বাবার বাসায় যাওয়ার জন্য। গাড়ির ভেতরে দুজনে পাশাপাশি বসে আছে সাজ্জাদ কি যেন ভেবে নুসরাতের হাত ধরলো৷ কিন্তু নুসরাত সেটা ছাড়িয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে বলল

‘ আপনি আমার হাত ধরবেন না প্লিজ এইসব আমার পছন্দ না ‘

‘ আমি তোমার স্বামী তোমার হাত ধরার অধিকার আমার আছে ‘

‘ কতবার বলব আপনাকে স্বামী হিসেবে মানি না৷ আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি ‘

এবার সাজ্জাদ কিছু বলল না৷ চুপ করে বসে থাকল একটু পর নুসরাতের বাসায় সামনে সবাই চলে এলো৷ সেখানে রাতটা থেকে পরেরদিন সকালে নুসরাতকে নিয়ে সাজ্জাদের বাসায় চলে এলো৷ রাতে সাজ্জাদ সোফায় শুয়ে আছে৷ নুসরাত খাটে,, তখন সাজ্জাদ নুসরাতকে বলল

‘ উকিলের সাথে কথা বলেছি খুব শ্রীঘই আমাদের ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাব ‘

নুসরাত কিছুটা অবাক হয়ে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে থাকল অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর কিছুটা অস্বাভাবিক কন্ঠে বলল

‘ মানে কি? ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাব ‘

‘ আমাদের ডিভোর্স পেপার সেটা পেতে ৬ মাসের মত সময় লাগবে ততদিনে আপনার বয়ফ্রেন্ড ও দেশে চলে আসবে। তখন আমি আপনাকে মুক্ত করে দিব তারপর কাছে চলে যাওয়ার জন্য ‘

নুসরাত কিছু বলল না অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়ল৷ সাজ্জাদ সোফায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে কিন্তু ঘুমের কোন লক্ষণ দেখতে পারছে না৷ জীবনে কোনদিন সোফায় ঘুমাইনি যার জন্য এমন হচ্ছে। নুসরাতের দিকে তাকিয়ে দেখল সে আরামে ঘুমচ্ছে,, আরো কিছুক্ষণ ঘুমানোর চেষ্টা করল কিন্তু সেটা হলো না তাই ড্রয়ার খুলে ডায়েরীটা নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। সাজ্জাদের একটা ডায়েরী আছে যেটাতে তার অতীত থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের সকল স্বপ্নগুলো লিখে লেখেছে

আজ সপ্তাহ খানেক হয়ে গেছে ডায়েরীতে হাত দেয় না আজকে ঘুম আসছে না দেখে ডায়েরীর পুরনো স্হতি দেখতে বসলো। একে একে পৃষ্ঠা পরিরর্তন করতে লাগল প্রথম পাতায়গুলোতে তেমন কোন কিছু নেই ডায়েরীর মাঝামাঝি যাওয়ার পর কয়েকমাস আগের তারিখ দেখল পেল তখন সে লিখে রেখেছিল

‘ আজকে নম্রতাকে অনেক মিস করছিলাম৷ বাইরে থেকে যতই বলি না কেন তাকে ভুলে গিয়েছি কিন্তু মন থেকে তো ভুলতে পারব না সে ভুলে যাবে আমি নাহয় তাকে মনে রাখব ‘

তার পরের পৃষ্ঠা লেখা ছিল

‘ চাইলে নতুন করে শুরু করা যায় না তবুও শুরু করতে হয় ‘

তারপর পর থেকে পৃষ্ঠা গুলো ফাঁকা হয়ে আছে তার মানে আর কোন কিছু লেখা হয়নি। তাই আজকের তারিখ দিয়ে লিখলো

‘ ভেবেছিলাম নতুন মানুষটাকে দিয়ে নতুন করে শুরু করব কিন্তু আমার ভাগ্যটা তেমন ভালো না সে অন্য একজনকে ভালোবাসে কয়েকটা মাস শুধু আমার কাছে থাকবে তবে সে যদি সারাজীবনের জন্য আমার কাছে থাকতে চায় তাহলে আমি রেখে দিব৷ আর যদি চলে যেতে চায় তাহলে তাকে চলে যেতে দিব৷ জোর করে সবকিছু হলেও কখনো ভালোবাসা হয়না আজকের পর থেকে বোধয় ডায়েরীটা না লেখাও হতে পারে হয়তো এই পযন্তু ডায়েরী লেখা সমাপ্ত হয়ে যাবে তাই একটু বেশি করেই লিখতে চায় নুসরাত যখন তার ভালোবাসার মানুষটির সাথে ফোনে কথা বলে তখন আমার নম্রতার কথা মনে পড়ে। তার সাথে কত পরিমাণে এমন করে কথা বলেছি কিন্তু সেগুলো এখন স্হতির পাতা হিসেবে থেকে গেছে৷ নম্রতার ভালোবাসার উপরে একরাশ অভিমান,, রাগ অনেক কিছু পড়ে আছে যেগুলো কিনা কখনো ওঠবে না সারাজীবন থেকে যাবে। ‘

আর কোন কথা লিখতে পারল না চোখে কেমন যেন বন্ধ হয়ে আসছিল৷ সেটা ঘুমের জন্য নাকি অন্য কোন কারণে সেটা তার জানা ছিল না৷ ডায়েরীটা নিয়ে আগের জায়গায় রেখে সোফায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল৷ সকালে এলামের শব্দে ঘুম ভাঙ্গল সাজ্জাদের ঘুম থেকে ওঠে দেখে নুসরাত বিছানায় নেই৷ কোথায় চলে গেছে সেসব নিয়ে চিন্তা না করে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে খাবার টেবিলে গেল৷ তখন দেখল নুসরাত রান্না ঘরে নাস্তা বানানোর কাজে সাজ্জাদের আম্মুকে সাহায্য করছে তখন সাজ্জাদ ওর আম্মুকে বলল

‘ আম্মু তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও অফিসে লেট হয়ে যাচ্ছে? ‘

‘ একটু অপেক্ষা কর নিয়ে আসছি ‘

‘ তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো ‘

একটু পর সাজ্জাদকে নাস্তা দিল। সেগুলো খেয়ে একটা রিক্সা নিয়ে অফিসের দিকে যেতে শুরু করলো৷ অফিসের সামনে এসে ভাড়া দিয়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে নিজের কেবিনে যেতে লাগল৷ সাজ্জাদ নিজের কেবিনের দিকে যাচ্ছে তখন অফিসের সকল লোকজন সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে আছে৷ অফিসে বেশি কমী নেই মাএ ৪৯ জন৷ সাজ্জাদকে দিয়ে ৫০জন৷ কেবিনে বসে বসে কাজ করছিল এমন সময় সাজ্জাদের ফোনটা বেজে ওঠল। অফিস টাইমে কল আসা এই ব্যাপারটা সাজ্জাদের একদম পছন্দ না৷ ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে দেখল নুসরাত কল করেছে প্রথমে ভাবল কলটা রিসিভ করবে না কিন্তু পরে কলটা রিসিভ করল তখন ওপাশ থেকে নুসরাত বলল

‘ অফিসে ঠিকঠাক মতো গিয়েছো? ‘

নুসরাতের মুখে তুমি কথা শুনে সাজ্জাদ অনেকটা অবাক হলো৷ কিন্তু সেটা নুসরাতকে বুঝতে না দিয়ে বলল

‘ হ্যাঁ এসেছি৷ এরপর থেকে অফিস টাইমে আমাকে কল দিবে না কেমন? ‘

‘ হুম। অফিসে গিয়েছ কিনা এটা শুনার জন্য কল করেছিলাম এর বেশি আর কিছু না ‘

‘ আচ্ছা পরে কথা বলব এখন অনেক কাজ আছে ‘

বলে কলটা কেটে দিল। যত কথা বলবে তত নুসরাতের প্রতি মায়া বেড়ে যাবে যেটা সে চায় না৷ ওর সাথে যত কম কথা বলা যাবে তত ভালো হবে,, সারাদিন অফিসে কাজ করে বিকেলে অফিস ছুটি হওয়ার পর সাজ্জাদ অফিস থেকে বের হয়ে বাসার দিকে যেতে লাগল৷ রাস্তার ভেতর পিয়াসের সাথে দেখা হয়ে গেল তাই সে বাসায় না গিয়ে আড্ডা দিতে চলে গেল৷ আড্ডা দিয়ে বাসায় যেতে যেতে রাত ৯ টা বেজে গেছে। কলিংবেল বাজানোর একটু পর নুসরাত দরজা খুলে দিয়ে কিছুটা রাগী গলায় বলতে লাগল

‘ বাসায় আসতে এত দেরী হলো কেন? কোন মেয়ের সাথে ছিলে এতক্ষণ? ‘

‘ সেটা তোমাকে বলব কেন? তুমি গিয়ে তোমার কাজ করো ‘

‘ দাও তোমার ব্যাগটা দাও ‘

সাজ্জাদ নুসরাতের হাতে ব্যাগটা ধরিয়ে দিল নুসরাত সেটা নিয়ে রুমে গেল এবং সাজ্জাদ চলে গেল ওয়াশরুমে সেখানে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে ডিনার করে সোফায় শুয়ে পড়লো। সোফায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে তখন নুসরাত বলল

‘ সোফায় ঘুম না এলো বিছানায় এসে শুয়ে পড়ো? ‘

‘ না থাক আমি এখানে ঠিক আছি এবং তুমি আমার সাথে কম কথা বলো প্লিজ ‘

‘ কম কথা কেন বলব? ‘

‘ তোমার সাথে বেশি কথা বললে তোমার প্রতি আমার মায়া বেড়ে যাবে পরে তুমি চলে যাবে তখন সহজে ভুলতে পারব না ‘

সাজ্জাদের এমন কথায় নুসরাত কিছুক্ষণ ছলছল চোখে তাকিয়ে থেকে বলল

‘ ঠিক আছে ‘

বলে অন্য পাশ হয়ে শুয়ে পড়লো ঠিক গতকালের মতো। সাজ্জাদ সেদিকে লক্ষ না করে নিজের মতো শুয়ে থাকতে লাগল৷ সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল গতকাল কখন ঘুমিয়ে গিয়েছিল সেটা জানা নেই। নুসরাতকে দেখতে পেল খাটের উপর শুয়ে আছে একবার ভাবল ঘুম থেকে ডেকে তুলবে পরক্ষণেই নিজের ভাবনা বদলে ফেলে ওয়াশরুমে চলে গেল। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখে নুসরাত ঘুম থেকে ওঠে গেছে,, সাজ্জাদকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে বলল

‘ গুড মনিং ‘

বলে ওয়াশরুমে চলে গেল৷ সাজ্জাদ নুসরাতের কথার উওর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করল না। সে তার মতো রেডি হয়ে অফিসে চলে গেল

#চলবে….!

(লেখকের নাম ছাড়া গল্প কপি করলে তাকে কপিবাজ হিসেবে গণ্য করা হবে৷ যেটি একটি জঘন্য কাজ,, যারা কপি করতে চান তারা লেখকের নাম সহ কপি + পোস্ট করতে পারবেন ও সবাইকে গল্পটি শেষ পযন্তু পড়ার অনুরোধ রইলো এবং গল্পের কোথাও ভুল হলে ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here