ডায়েরী শেষ পাতা -(৬ এবং শেষ পর্ব)

0
115

গল্প – #ডায়েরী_শেষ_পাতা

# শেষ পর্ব

# লেখনীতে – #Sazzad_KR
.
.

২ মাস হয়ে গেছে নুসরাতের সাথে কোন প্রকার কথা বলেনি সাজ্জাদ৷ সে বাদে বাসার সকলে নুসরাতের সাথে কথা বলে, অফিসে বসে বসে ভাবছে এবার নুসরাতকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা উচিৎ বলা যায় না কখন তাকে হারিয়ে ফেলবে৷ কালকে শুক্রবার কালকে সকালে নুসরাতের বাসায় যাবে,, কিন্তু সেটা কাউকে বলবে না নুসরাতকে সারপ্রাইজ দিবে। অফিস শেষ করে শপিংমলে গিয়ে একটা শাড়ি ও চকলেটের বক্স নিল এগুলো সবকিছু নুসরাতের জন্য কিনে রাখল৷ সেদিনের রাতটা কোন রকমে কাটিয়ে দিয়ে পরেরদিন নুসরাতের বাসায় গেল৷

বাসার কলিংবেল বাজাতেই নুসরাতের বাবা এসে দরজা খুলে দিল৷ তিনি সাজ্জাদকে দেখে পুরপুরি অবাক হয়ে গেছে৷ সাজ্জাদ এখানে আসবে সেটা ভাবতে পারিনি তাই বলল

‘ আরে বাবা ভেতরে এসো বাইরে দাড়িয়ে আছো কেন? ‘

সাজ্জাদ ভেতরে প্রবেশ করতে করতে বলল

‘ নুসরাত কোথায় আছে? ‘

নুসরাতের বাবা একটা রুমে দেখিয়ে দিয়ে বলল

‘ তোমার বাসা থেকে আসার পরে সারাক্ষন ওই রুমে শুয়ে থাকে তুমি গিয়ে একটু দেখ তো কি হয়েছে আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম কোন উওর দেয়নি ‘

‘ আপনি চিন্তা করবেন না আমি যেহেতু এসেছি তাহলে সবকিছু ঠিক করে দিব ‘

বলে সাজ্জাদ নুসরাতের রুমের দিকে যেতে লাগল৷ রুমের ভেতরে ঢুকে দেখে পুরো রুমটা অন্ধকার৷ রুমের লাইট জ্বালাতেই রুমের চারিদিকে আলোকিত হয়ে গেল৷ রুমের দেয়ালগুলো দেখে সাজ্জাদ অনেক অবাক হয়ে গেল সারা রুম ভর্তি তার ছবি দিয়ে৷ খাঁটের উপর নুসরাত ঘুমিয়ে আছে পাশে সাজ্জাদের একটা ছবি। এইসব দেখে সাজ্জাদের নিজেকে ভাগ্যমান হয়ে হচ্ছিল৷ শাড়ি ও চকলেট নিয়ে খাটের পাশের টেবিলে শুয়ে বিছানায় শুয়ে নুসরাতের ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা করতে লাগল৷ রুমে লাইট জ্বলে থাকার কারণে নুসরাতের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল৷ চোখ খুলে নিজের পাশে সাজ্জাদকে দেখে কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেল। সাজ্জাদ বুঝতে পারছে নুসরাত বোধয় তাকে কল্পনা ভাবছে এখন আছে একটু পর হারিয়ে যাবে৷ নুসরাত ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখল সাজ্জাদ খাটের উপরে শুয়ে আছে এবার নুসরাত আস্তে আস্তে সাজ্জাদের কাছে এসে হালকা করে তাকে স্পর্শ করে বলতে লাগল

‘ তুমি কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন হিসেবে দেখছি ‘

‘ আমাকে স্বপ্ন হিসেবে দেখবে কেন আমি বাস্তব ‘

এটা শুনার সাথে সাথে নুসরাত সাজ্জাদকে জড়িয়ে ধরলো৷ সাজ্জাদও নুসরাতকে জড়িয়ে ধরলো। এই ২ মাসে মুখের অবস্থা একদম খারাপ করে ফেলেছে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে বোধয় কান্না করছে ঠিকমতো খাওয়া- দাওয়া করেনি৷ দুজন – দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে যেন ছাড়লে হারিয়ে যাবে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর নুসরাত বলতে লাগল

‘ আমি জানতাম তুমি আমার কাছে আসবে,, আমি আমাকে মন থেকে ভালোবাসো এটা আমি ভালো করে জানি ‘

‘ ইচ্ছে করে কষ্ট দিয়েছিলাম৷ আমাকে তো আসতেই হতো? ‘

সাজ্জাদ ভেবেছিল নুসরাত রাগ করবে কিন্তু সেটা না বলে বলল

‘ কষ্ট দিয়েছ ভালো কথা এরপর থেকে আর দিবে না আমিও তোমাকে কষ্ট দিব না ‘

‘ হুম এই তিন মাসে নিজের কি অবস্থা করেছো বলতো। ঠিক মতো খাওয়া – দাওয়া করোনি নাকি? ‘

‘ তোমার কথা ভেবে ভেবে এমন হয়ে গেছি ‘

‘ তাই বলে এমন সকালে কিছু খেয়েছ কি? ‘

‘ না ‘

‘ তাহলে যাও খাবার নিয়ে এসে খাও ‘

‘ তুমি খাবে না ‘

‘ আমি পরে খাব আগে তুমি খেয়ে নাও ‘

‘ আমি খাবার নিয়ে আসছি আমরা দুজনে একসাথে খাব ‘

সাজ্জাদ কিছু বলল না নুসরাত খাবার আনতে চলে গেল। তখন সাজ্জাদ রুমের চারিদিকে বার বার দেখছিল সারারুম ভর্তি তার ছবি কোন জায়গা ফাঁকা নেই
নুসরাত খাবার নিয়ে সাজ্জাদের পাশে বসে বলল

‘ তুমি হা করো আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি? ‘

‘ আগে আমি খেয়ে নাও তারপর নাহয় আমাকে খাইয়ে দিও ‘

‘ আমি তোমাকে খাইয়ে দিব তুমি আমাকে খাইয়ে দিবে নাহলে আমি খাব না ‘

‘ ঠিক আছে দিচ্ছি ‘

তারপর দুজন দুজন খাইয়ে দিল। খাবার শেষে নুসরাত প্লেট রেখে আবার রুমে এসে সাজ্জাদকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। শাড়ি ও চকলেট গুলো নুসরাতের হাতে দিয়ে বলতে লাগল

‘ এগুলো তোমার জন্য তুমি আজকে এই শাড়িটা পড়বে ‘

‘ শাড়িটা এখন পড়ি? ‘

‘ না দুপুরে গোসল করে তারপর পড়ো এখন এটা পাশে রেখে দাও ‘

নুসরাত শাড়িটা পাশে রেখে দিয়ে বিছানায় শুয়ে সাজ্জাদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো৷ সাজ্জাদ বিছানায় শুয়ে শুয়ে নুসরাতকে বলল

‘ তুমি আমার সাথে ততদিন নাটক করেছিলে কেন? ‘

‘ প্লিজ তুমি সেইসব কথা বাদ দাও আমি সেসব কথা শুনতে চায় না যেগুলো থেকে তোমাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম ‘

‘ আমার প্রতি এত ভালোবাসা কবে তৈরি হলো ‘

‘ জানি না কবে হয়েছে,, তবে যেদিন থেকে হয়েছে সেদিন থেকে জানি আমি শুধু তোমার হয়ে থাকব এবং তোমার পাশে থাকব ‘

‘ হুম চলো বাসায় চলে যায় ‘

‘ এখন না আব্বু বাজারে করতে গেছে দুপুরে খাবার খেয়ে বিকেলে বাসায় যাব ‘

সাজ্জাদ কিছু না বলে নুসরাতের দিকে তাকিয়ে থাকতে লাগল৷ কয়েকদিনে চোখের নিচে কালো দাগ করে ফেলেছে মুখটাও কেমন যেন শুকনো শুকনো৷ নুসরাত শুয়ে থেকে চকলেট খাচ্ছে সাজ্জাদ সেটা তাকিয়ে দেখছে একদম বাচ্চাদের মতো লাগছে৷

———-

বিকেলে নুসরাতকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বের হলো৷ নুসরাত আজ অনেক খুশি এতদিন পর তার প্রিয় মানুষটাকে কাছে ফিরে পেয়েছে,, রিক্সায় পাশাপাশি বসে আছে রিক্সাওয়ালা মামা রিক্সা চালাচ্ছে তখন নুসরাত বলল

‘ এখন বাসায় যাবে? ‘

‘ হুম ‘

‘ চলো না বাসায় না গিয়ে একটু নদীর পাড়ে থেকে ঘুরে আসি ‘

‘ অন্য একদিন যাব ‘

‘ না আজকেই যাব চল যায় ‘

নুসরাত জোর করছে দেখে সাজ্জাদ রিক্সাওয়ালা মামাকে নদীর পাড়ে যেতে বলল৷ নদীর পাড়ে আসার পর সেখানে কিছুক্ষণ পর নুসরাতকে নিয়ে বাসায় চলে গেল।

এখন রাত ১০ টা,, সাজ্জাদের কাধে মাথা দিয়ে নুসরাত বসে থেকে আকাশের চাঁদ দেখছে। সাথে টুকটাক কথা বলছে তখন সাজ্জাদের মনে একটা কথা মনে হলো তাই নুসরাতকে বলল

‘ আচ্ছা তুমি আমার ডায়েরীটা পেয়েছিলে কিভাবে? ‘

‘ আমার ডায়েরীটা লুকিয়ে রাখতে গিয়ে তোমার ডায়েরীটা পেয়ে গিয়েছিলাম ‘

‘ তুমি সেদিন সব পড়ে নিয়ে ছিলে? ‘

‘ হ্যাঁ। পড়ে অনেক কষ্ট হয়েছিল আমার ‘

সাজ্জাদ কিছু বলল না তখন নুসরাত আবার বলতে লাগল

‘ তখন যদি জানতাম কষ্ট পেলে কেমন লাগে তাহলে তোমাকে কষ্ট দিতাম না ‘

‘ সেসব কথা বাদ দেও ‘

‘ হুম তবে এখন আর কোন কষ্ট দিব না এতদিন যা কষ্ট দিয়েছি ভালোবাসা দিয়ে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিব ‘

‘ ঠিক আছে ‘

‘ তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো তো? ‘

‘ কোন সন্দেহ আছে? ‘

‘ না জানার ইচ্ছে করলো তাই বললাম ‘

‘ হুম অনেক রাত হয়ে গিয়েছে চলো শুয়ে পড়ি ‘

‘ আরেকটু থাকি না,, তোমার কাঁধে মাথা দিয়ে থাকতে আমার অনেক ভালো লাগছে ‘

‘ সারাজীবন থাকতে পারবে এখন চলো ঘুমিয়ে পড়ি ‘

নুসরাতকে নিয়ে রুমে আসার পর নুসরাত খাটের উপর শুয়ে পড়ল তখন সাজ্জাদ বলল

‘ আমি তাহলে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম তুমি গিয়ে খাটে ঘুমাও ‘

‘ খবরদার এইকাজটা ভুলেও করবে না তুমি সবসময় আমার পাশে শুয়ে থাকবে ‘

বলে সাজ্জাদের হাত ধরে টান দিয়ে খাটের উপর শুয়ে দিল। কি একটা ভেবে দুজনেই হেসে ফেলল। এবং এই হাসিটা সারাজীবন রাখতে চায়৷

মাঝরাতে নম্রতার কথা মনে করে সাজ্জাদের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল,, নুসরাতের দিকে তাকিয়ে দেখল তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে,, নম্রতার কথা চিন্তা করে মনে মনে বলল

‘ সে তার মানুষটাকে ভালো থাকুক এবং আমাকে যে মানুষটা এত ভালোবাসে থাকে নিয়ে ভালো থাকি। ‘

এমন সময় নুসরাত চোখে খুলল। সাজ্জাদের কানের কাছে এসে বলল
” ভালোবাসি আমার টাকে অনেক ভালোবাসি ‘

#সমাপ্ত

‘ শেষ পর্বটা কেমন হয়ে বলতে পারব না আমি পুরো চেষ্টা করেছি ভালো করে লেখার। কোথাও ভুল হলে ক্ষমা করবেন ও পুরো গল্পটি কেমন হলো সেটা জানাবেন।। লেখকের নাম ছাড়া গল্প কপি করলে তাকে কপিবাজ হিসেবে গণ্য করা হবে যেটি একটু জঘণ্য কাজ তাই যারা গল্প কপি করবেন তারা লেখকের নাম অবশ্যই রাখবেন নতুন গল্প পরশু পাবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here