তোমাকে খোজেঁ- (পর্ব 1and 2)

0
325

তোমাকে খোজেঁ
পর্ব 1and 2

ছাড়ুন আজ আমার বিয়ে।প্লিজ যেতে দিন আমায়।কথাটি বলে নেহালের কোলে দাঁপাদাঁপি ঝাঁপাঝাঁপি শুরু করে দেয় আদিবা।করতে থাকে নিজেকে নেহালের বাহুডোর থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেস্টা।আর নেহাল আদিবাকে নিজের কোলের উপরে বসিয়ে এমন ভাবে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে যে চাইলেও আদিবা নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারছে না।দুজনের মধ্যে অনেক দস্তাদস্তি হতে থাকে।কিছুক্ষণ পর ক্লান্ত হয়ে আদিবা থেমে যায়।দেখে হাত দুটোই অসহনীয় ব্যাথা করছে।কোমড়টা ব্যাথায় অবাস হয়ে আসছে।তাই নেহালের দিকে অসহায়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আস্তে করে বলে।আমার কোমড়ে প্রচন্ড ব্যাথা করছে নেহাল।প্লিজ ছেড়ে দিন না আমায়! কথাটা শুনে নেহাল আদিবাকে কোল থেকে নামিয়ে নিজের পাশে সোফাতে বসায়।তারপর আদিবার এলোমেলো চুলগুলো কাঁধ থেকে সরিয়ে ঘাড়ে একটা ঠোঁঠের আলতো স্পর্শ ছুঁইয়ে দিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলে যায়।

নেহাল চলে যাওয়ার পর আদিবা বসে বসে ভাবে কোন ঝামেলায় ফেসে গেলো সে। আর কিভাবেই বা এই ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে! কেন যে নেহালের কথাটা বিশ্বাস করে এখানে আসতে গেল! ওদিকে হয়তো এতোক্ষণে পাত্র পক্ষ এসেও পড়েছে! না যানি বাবা-মা কি করছে! সবকিছু ঠিক আছে কিনা সেসব ভেবেই চলেছে আদিবা।


চৌধুরী মহলে,,
সকল জমজমাট আর খুশীর আমেজ এখন সর্ব শান্ত হয়ে পরেছে।চারিদিকে কানাঘুঁষা চলছে চৌধুরী বাড়ির মেয়ে আজ বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়েছে।আবির চৌধুরীর কাউকে মুখ দেখানোর কোনও উপায় নেই।পাত্র পক্ষের সামনে নিজের উঁচু মাথাটা নিচু করে রেখেছে।আর নিজেকেই নিজে ধিক্কার জানাচ্ছে।


কিছুক্ষণ থেকে পাত্র পক্ষ আবির চৌধুরীকে অনেক অপমান, অপদস্ত করছে।যেই আবির চৌধুরীকে সারা শহরের মানুষ সম্মাণ করে আজকে তারই মেয়েকে নিয়ে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখানো হচ্ছে।নামিদামি বিজনেসম্যানরাও আজ কানাঘুঁষা করা থেকে বিরত যায় নি।আত্নীয়-স্বজন কেউ কেউ তো ঠ্যাস দিয়ে বলছে বড়লোকের মেয়েদের চরিত্র এমনই হয়।চৌধুরীর মেয়ের চাল-চলনের যা শ্রী।তাতে বিয়ের আগে হাজার-বত্রিশটা প্রেম করা কোনো ব্যাপার না। ওই মেয়ের চরিত্রের ঠিক আছে নাকি?


মানুষের এতো কানাঘুঁষা আর নিতে পারছে না আবির চৌধুরী।মনে হচ্ছে যেন এতোদিনের অর্জন করা সব সম্মান ধূলোয় মিশে গেছে।লজ্জায়-ঘৃনায় রুমে গিয়ে একান্তে বসে আছে আবির।স্ত্রী আরিয়া স্বামীকে এমন চিন্তিত দেখে মনকে শক্ত করে তার পাশে এসে বসেন।


আচ্ছা আরিয়া আমার শিক্ষা কি এতোই ঠুনকো ছিলো যে মেয়েটা এমন ভাবে মুখে চুলকানি লাগিয়ে চলে গেল?

এভাবে কেন বলছো তুমি?

তো কিভাবে বলবো? তোমার, আমার দেওয়া শিক্ষা ভুলে গিয়েছে মেয়েটা।আমি তো চেয়েছিলাম আদিবা তোমার মতোন হোক।কিন্তু ও কি করল এটা?

না গো।তোমার কোনো দোষ না।তুমি তো তোমার মতোন করে চেস্টা করেছো।আমিই মা হয়ে পারি নি আমার দায়িত্ব পালন করতে।আমার উচিৎ ছিলো মেয়েটার মনের খবর নেওয়া। তাহলে আজ এইদিনটা দেখতে হতো না।


এদিকে নেহাল উপরে চলে গেলে আদিবা বাড়ির মেইন দরজাটার কাছে আসে। দেখে দরজাটা ভেতর থেকে লক করা।অনেক খুঁজেও দরজার চাবিটা নিচে কোথাও পাইনা।তারপর উপরে নেহালের রুমে আসে। এখানে এসে রুমটা ফাঁকা পেয়ে আদিবা ঝটপট করে চাবি খুঁজতে শুরু করে।তারাহুরা করতে গিয়ে হাতের নারা লেগে ফুলদানিটা নিচে পরে গিয়ে ভেঙে যায়। রুমের মধ্যে হঠাৎ ফুলদানি ভাঙার আওয়াজ পেয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে নেহাল।

কিছু কি ভাংলে জান?

কথা শুনে আদিবা পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে নেহাল দাড়ানো।নেহালকে দেখে আদিবা ছিঃ বলে নিজের চোখদুটো অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেয়।
নেহালেরও ধ্যান ফেরে।নিজের দিকে চেয়ে দেখে বলে।

ছরি জান সাওয়ার নিচ্ছিলাম তাই না বুঝেই এভাবে চলে এসেছি।
তারপর আবার ওয়াশরুমে দৌড় দেয় নেহাল।

তোমাকে খোঁজে

পর্বঃ০২
#itzlovestory

আদিবা অনেক খোঁজার পর পাশ ঘুরে তাকিয়ে দেখে বিছানার উপরে চাবিটা পরে আছে।আর ওদিকে নেহাল চাবির কথা মনে পরতেই তোয়ালেটা কোনোরকমে কোমড়ে পেচিয়ে ধরফরিয়ে ওয়াশরুম ছেড়ে বেড়িয়ে আসে। আদিবা চাবিটায় হাত দিতেই নেহাল চাবিটা ধরে এক টান দেয়।আর হাতের টান লেগে আদিবা নিচে পরে যায়।

ছরি জান আমি বুঝতে পারি নি।বলে হাতটা বাড়িয়ে দেয় আদিবার দিকে নেহাল।

আদিবা নেহালের হাতটা না ধরেই উঠে দাড়ায়।তারপর নেহালের দিকে কিছুক্ষন অসহায়ের দৃস্টিতে তাকিয়ে থেকে হাটু নুইয়ে বসে পরে।

কেন এভাবে আমাকে আটকে রেখেছেন আপনি? প্লিজ যেতে দিন না আমায়।আজ আমার বিয়ে।ওদিকে আমি যদি ঠিক সময় মতো না পৌঁছাতে পারি তাহলে আমার বাবা-মায়ের সম্মাণ নস্ট হবে।ওরা আর এই সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না।দুইহাত জোড় করে মিনতি করে যায় নেহালের কাছে আদিবা।

আদিবার কথা শুনে নেহাল রেগে যায়। আদিবার মাথার একমুষ্টি চুল নিজের হাতের মুঠোয় এনে আদিবাকে উঠিয়ে দাঁড় করাই।তারপর আদিবার মুখটা নিজের মুখের সামনে নিয়ে এসে রাগী দৃষ্টিতে তাকায় আদিবার দিকে।

বাবা-মায়ের মান সম্মাণের কথা ভাবছো? সমাজের কথা ভাবছো? আর আমার কথা,,,সেটা তো ভাবছো না তুমি? বাজি ধরে ভালোবাসো না তুমি? তোমার বাজির খেলায় চাও আমি একা জ্বলে পুরে শেষ হয়ে যায়? আর তুমি শান্তিতে অন্য কারও সাথে সংসার করবে? সেটাতো আমি কোনোদিনও হতে দেবো না।আমি যেটা চায় সেটা আর কারও হতে দিয় না।তুমি শুধুই আমার বুঝতে পেরেছো?

বলেই আদিবাকে ছুড়ে ফেলে দেয় নেহাল। আর পরে যেয়ে আদিবার কপালটা একটু কেটে যায়। নেহাল তাকিয়ে দেখে আদিবার কপাল থেকে রক্ত ঝরছে।যা দেখে নেহালের হুশ আসে।নেহালের রাগ এবার অনুশোচনায় পরিণত হয়।খুব যত্ন সহকারে নেহাল আস্তে করে আদিবাকে ধরে বিছানায় নিয়ে বসায়।তারপর আদিবার কাটা জায়গাটাই রুমাল দিয়ে রুক্ত মুছতে থাকে।আর বলতে থাকে,

খুব লেগেছে জান? ছরি জান! কেন এভাবে আমাকে রাগিয়ে দেও বলোতো? তুমি জানো না আমি তোমাকে কতোটা ভালোবাসি? আর তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়টা আমি নিতে পারি না।তাইতো এমন পাগলামো করি!

এটাকে পাগলামো বলে? আমারতো মনে হয় উন্মাদ হয়ে গেছেন আপনি! আমাকে এভাবে আত্নহত্যার ভয় দেখিয়ে ডেকে এনেছেন। বন্দী করে রেখেছেন। ছিঃ এতোটা নিচ আপনি! আপনার জন্য আমার পরিবার না যানি কতোটা অপমান, অপদস্থ হচ্ছে। আমি কখনো আপনাকে ক্ষমা করবো না। কক্ষনো না! নেহালকে ঠেলে কিছুটা দূরে সরে এসে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলে আদিবা।

আমি তোমার ক্ষমা চায় না জান।আমি শুধু তোমাকে চায়। যদি দরকার পরে সারাটাজীবন তোমাকে এভাবে বন্দী করে রাখবো।আর তোমাকে দেখেই আমি আমার প্রত্যেকটা মুহূর্ত পার করবো।আমি তোমাকে এতোটা চায়।যে তুমি কল্পনাও করে পারবে না।এতে যদি তুমি আমায় উন্মাদ বলো, খারাপ ভাবো তাহলে আমি তাই।

চৌধুরী মহলে,,,,,

সায়ান বারবার মোবাইলের স্ক্রিনে আদিবার ছেলেবেলার ছবিগুলো টেনে টেনে দেখছে আর মনে মনে বলছে, কোথায় তুমি আদিবা? সেই ছেলেবেলা থেকে তোমাকে ভালোবেসে এসেছি।কখনো বলি নি।কারণ তোমার সাথে আমার বিয়েটা ঠিক হয়ে ছিলো।আমি জানতাম তুমি একদিন আমার হবে।কিন্তু ওই সৃষ্টিকর্তা হয়তো আমার ভাগ্যে তোমায় রাখে নি।জানো আদিবা, এতোগুলা বছরের সব আবেগ জমিয়ে রেখেছি শুধু এই দিনটার জন্য। ভেবেছিলাম আজ বিয়ে করে আমার বউটাকে মনের জমানো সব কথাগুলো বলবো। কিন্তু তুমি সেটা হতে দিলে না! তুমি তো অন্য কাউকে ভালোবেসো! আচ্ছা, একটাবার কি বন্ধু মনে করে বলতে পারতে না আমাকে?

পাশের চিৎকার চেচামেচির আওয়াজে সায়ানের ধ্যান ভাঙে।তাকিয়ে দেখে সায়ানের পরিবার অনেক কড়া কথা শুনিয়ে যাচ্ছে আদিবার পরিবারকে।আজ আদিবার কারণে দুই পরিবারের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা নস্ট হয়ে গেল।তবে অদ্ভুত লাগছে এটা ভেবে যে আদিবার বাবা-মা কিছুই বলছে না।শুধু মাথাটা নিচু করে শুনে চলেছে।যেটা দেখে সায়ানের খারাপ লাগে।

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here