মেঘবৃষ্টির গল্পকথা-(পার্ট:০৬+07+08+বোনাস)

0
233

#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:০৬+07+08+বোনাস পার্ট

“বিভোর কে আমি কলেজ লাইফ থেকেই পছন্দ করি, সেও করতো।এভাবেই হুট করে দুইজন ভালোবাসার কথা বলে দেই।তারপর থেকে চলতে থাকে রিলেশন।”বলেই থামলো আয়েশা।বৃষ্টি চুপ চাপ শুনছিল।

বৃষ্টি: টোটাল কয় ইয়ার রিলেশন?

আয়েশা:চার..

বৃষ্টি টুকুস করে উঠে দাড়ালো।

বৃষ্টি:লাইক সিরিয়াসলি?চার বছর হয়ে গেল আর আমরা জানলামই না?আমিও গাঁধী। উৎস বার বার বলেছে আয়েশা আর বিভোর এর মাঝে কিছু আছে।আমি ই মানি নাই।ভেবেছিলাম কিছু হলে তো তুই বলতিই।

আয়েশা:রাগ করিস কেন?

বৃষ্টি:রাগ করবো না মানে?
তখনই রুমে ঢুকলো সালমা।
সালমা:কিরে কি হইছে?

বৃষ্টি:তোমার নাতি আমাকে কিছু বলেই নাই।

সালমা:কি বলে নী?বিয়ের কথা?ওটা তো তোর বাবা ওকে কালকে জানালো।

বৃষ্টি:জি না।
পরে সব বললো।
সালমা:এটাতে টেনশন নেওয়ার কি আছে রে!আমি এখনি বলছি তোর বাবাকে।

বৃষ্টি:উনি মানবে না দিদুন।

সালমা:কেন?

বৃষ্টি:আরে বিভোর আমার ক্লাসমেট। আর সেই সূত্র ধরেই উনার সাথে বিভোরের ঝামেলা।তাই তো ওকে দু চক্ষে সহ্য করতে পারে না।সেখানে ওকে নিজের মেয়ের জামাই করা ইম্পসিবল।

সালমা:তাহলে কি করবি?

আয়েশা:বৃষ্টি প্লিজ কিছু কর।

বৃষ্টি: ইস,এখন আসছে,বৃষ্টি কিছু কর!রিলেশন আমাকে জানিয়ে করেছিস?আমি কিছু করবো না। হ্যাপি লাইফ জার্নি টু ইউ অ্যান্ড ইউর উড বি।টাটা।

বলেই বেরিয়ে গেলো।
আয়েশা মুচকি হাসলো।
সালমা:পাগলে ধরছে নাকি তোকে,হাসছিস কেনো?বৃষ্টি তো মানা করে দিলো,এবার?

আয়েশা:আরে দিদুন,বৃষ্টিকে চিনো না। ও ঠিক এই বিয়ে ভেঙ্গে দিবে আর বিভোরের সাথে আমার বিয়েটাও কনফার্ম করবে।

সালমান:তাই নাকি?

আয়েশা চমকে গেলো।
আয়েশা:বাবা তুমি?

সালমান:এসেছিলাম বলতে তোমার বিয়ে তিনদিনের ভিতরে দিলে তোমার কি সমস্যা হবে।কিন্তু এখন দেখছি না,উল্টে সুবিধা হবে।

আয়েশা:বাবা!

সালমান:কি যেনো বললে?বৃষ্টি বিয়ে ভাঙবে আর ওই ডাফার ছেলের সাথে বিয়ে কনফার্ম করবে?হাহ..তোমার বিয়ে আজ , একটু পর হবে।দেখি তোমার ঐ বোন কি করে।
বলেই বিছানার উপর থেকে আয়েশার ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেলো।আয়েশা ধপ করে বসে পড়লো।বাবার উপরে কখনো কথা বলতে পারে না। ফুফিয়ে কেঁদে উঠলো।
সালমা:তুই কাঁদিস না।বৃষ্টি আছে তো!

আয়েশা:ওকে বলবো কিভাবে বাবা কি করতে চলেছে?

সালমা:আমি বলবো।তুই থাক এখানে।

সালমা নিজের রুমে গেলো।ওদিকে..

বিভোর: আম্মা,বইন পায়ে পড়ি আর মারিস না।

বৃষ্টি:শালা তোরে আমি খুন করবো, নাহ এটা অনেক হালকা।

বিভোর:বইন এটার থেকে মোটা আমার কাছে আর নেই।আমি কি করছি সেটা তো বল।

বৃষ্টি:আবার বলে কি করছি?দাড়া।
বলেই আশে পাশে খুঁজতে লাগলো কিছু।পাশেই এক ডাব বিক্রেতা আছে।তার দা টা নিয়ে নিলো।বিভোর তা দেখে ঢোক গিলল।

বিভোর:আরে ছেঁড়া ছেরি ওরে ধর,আমারে আজকে তো মাইরা লাইবো।

বৃষ্টি:তোকে আমি মেরেই ফেলবো।বলেই দা নিয়ে এগিয়ে যেতেই আভি আর আদিল ধরলো ওকে। উৎস নুরির পিছে লুকালো। বৃষ্টিকে বরাবরই ভয় পায়।সেখানে এ তো খেপে আছে।
নুরি:শালা তুই ওরে না ধরে লুকাস কেন?

উৎসঃ আমি এখনও বিয়া করি নাই রে,এত জলদি মরার শখ নাই।

বৃষ্টি:তোরা ছাড়,এরে আমি খুন করবো।

আভি:আরে পাগল হলি? ও করছে কি সেটা তো বল।

বৃষ্টি এবার ঠান্ডা হলো। দা টা ফেলে দিতেই ডাব ওয়ালা দৌড়ে এসে দা নিয়ে আবার দৌড় দিয়ে চলে গেলো।
উৎসঃ এবার বলতো কি হইছে?

বৃষ্টি:এই হারামী আর আয়েশার রিলেশন আজকে চার বছর ধরে,অথচ আমাকে বলেও নাই।

আদিল:বাহ তুই জেনে গেছিস?

বৃষ্টি, উৎস,রাইসা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো।
বৃষ্টি:মানে তুই আগে জানতি?

আদিল ঢোক গিলল।
বৃষ্টি:তোরে..(বলে জুতা খুলতে গেলেই আদিল বলে উঠলো)

আদিল:আরে আরে,থাম।আমি জানছি দুই বছর পর। ও বলতে মানা করছে।বৃষ্টি বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষতে লাগলো।বাসা থেকে বেরিয়ে ডিরেক্ট এখানে এসে এক মোটা লাকড়ি দিয়ে বিভোর কে মেরেছে।

বৃষ্টি:আয়েশার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।আর এখন ও আমাকে বলছে ও তোকে ভালোবাসে।

বিভোর:কি বলছিস?আমার কি হবে?ওরে,,কিছু কর!

বৃষ্টি:ইহ এখন আসছে,কিছু কর!আগে কই ছিলি?

আভি:সেটাই,আমাদের জানালো না,আবার বলে কিছু কর।

বিভোর অসহায় ভাবে তাকালো।তখনই বৃষ্টির ফোন বেঁজে উঠলো।
বৃষ্টি:বলো দিদুন!

দিদুন সব বলার পর বৃষ্টি ফোন কেটে দিলো।

নুরি: কিরে?

রাইসা:মুখ এমন করে রেখেছিস কেন?

বৃষ্টি:আয়েশার বিয়ে একটু পর হবে। সালমান উদ্দিন সব জেনে গেছে।

বিভোর বসে পড়লো গাছতলায়,এতক্ষণ ওভাবে না নিলেও এখন ভয় হচ্ছে ওর। আয়েশাকে যে হারাতে বসেছে, বেশ ভালোই বুঝেছে।

বৃষ্টিও বিভোরের পাশে বসলো।সবার মুখে চিন্তার ছাপ।বৃষ্টি একবার বিভোরের দিকে তাকালো।চোখে জল টলমল করছে।সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করছে।একটা ছেলে যদি কোনো মেয়েকে হারানোর ভয়ে কাঁদে , তাহলে সেই মেয়ে নিঃসন্দেহে ভাগ্যবতী।ভাবতেই মুচকি হাসলো বৃষ্টি।

বৃষ্টি:সালমান উদ্দিন আমাকে চ্যালেঞ্জ করলো ,রাইট?

সবাই অবাক চোখে তাকালো।

বৃষ্টি:স্পর্শিয়া বৃষ্টিকে চ্যালেঞ্জ? চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্টেড!

বিভোর:মানে?

বৃষ্টি:আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে তোকে আর আয়েশাকে এক করার দায়িত্ব আমার।আর চ্যালেঞ্জ এ হারাবো মিস্টার সালমান উদ্দিন কে।

রাইসা:কি করবি তুই?

বৃষ্টি বাঁকা হাসলো।

বধূ বেশে বসে আছে আয়েশা।ঘরোয়া ভাবে বিয়ে হবে।গেস্ট হিসেবে মেঘের ফ্যামিলি আর তিশার ফ্যামিলি ইনভাইটেড।তারাও এসে গেছে।আর কিছুক্ষণের মাঝেই বিয়ে হয়ে যাবে।আয়েশার মুখে একটুও হাসি নেই।সালমা বৃষ্টিকে ফোন দেওয়ার পর সালমান কে অনেক বুঝিয়েছে।কিন্তু সে শোনে নি।তাই ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছে।আয়েশা একা আয়নার সামনে বসে বসে চোখের জল ফেলছে।
আয়েশা:তবে কি আলাদা হব এবার?বিভোর কে কি পাবো না আমি?হেরে যাবে ভালোবাসা আমার!

বৃষ্টি:যাব বৃষ্টি হো সাথ তো ডারনেকে কেয়া বাত!

আয়েশা চমকে তাকালো।বারান্দার রেলিং এর উপর বসে আছে বৃষ্টি।পরনে ব্ল্যাক গেঞ্জির উপর গ্রিন লং টি শার্ট।আর ব্ল্যাক জিন্স।

আয়শা:তুই?

বৃষ্টি:কথা বলার টাইম নাই,জলদি মই বেয়ে নিচে আয়।
বলেই নিচে লাফ দিল।
আয়েশা তরি ঘড়ি করে উঠে নিচে উকি দিলো।দোতলা বারান্দা থেকে লাফ দেওয়া কি কম কথা।কিন্তু বৃষ্টি ঠিক আছে,দেখেই স্বস্তি পেলো।
বৃষ্টি:বেশি না ভেবে নিচে আয়।

আয়েশা কিছু না ভেবেই নেমে গেলো।কারণ যেই বাবার কাছে ওর ইচ্ছার মূল্য নেই,সেই বাবার ব্যাপারে ভাবার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা ওর নেই।বিভোর আর আয়েশা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো।দুইজনই ভয় পেয়েছিলো একে অপরকে হারানোর।

বৃষ্টি:ওয় রোমিও জুলিয়েট,বেশি টাইম নেই। হাতে আছে ৪৫ মিনিট।তার মাঝেই যা করার করতে হবে। রোম্যান্স বিয়ের পর।এখন বাইকে উঠ।বলেই সবাই চললো কাজী অফিস।৩০ মিনিটের মাথায় পৌঁছে গেলো।যেহেতু সব তৈরি ই ছিল তাই ওরা জলদি বিয়ে সেরে নিলো।সাক্ষী হিসেবে আদিল,আভি,উৎস,নুরি ,রাইসা আর বৃষ্টি।

বৃষ্টি:লো আমাদের মাঝে বিয়াত্তা মহিলা আর বিয়াত্তা লোক হাজির।

বিভোর:শালী,কি মার না মারলি।এখনও শরীর ব্যাথা করছে।

বৃষ্টি:নেক্সট টাইম আমাকে কিছু না বললে এমনি হবে।এর থেকে বেশিও হতে পারে।

বিভোর:মাফ কর বইন।বাসর ঘরে কিছু করার আগেও তোর পারমিশন নিবো।

বৃষ্টি:সর বজ্জাত।

নিস্তব্দতা তে ঘিরে আছে পুরো বাড়ি।কিছু ক্ষন আগেই পাত্র পক্ষ রা চরম অপমান করে বেরিয়ে গেছেন।সালমান উদ্দিন বসে আছে।সালমা বেগম দূরে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে।মেঘ উকি ঝুঁকি দিয়ে বৃষ্টির খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু সফল হচ্ছে না।

সালমান:মা!তোমার ঐ নাতির জন্য আজ আমাদের এত বড় অসম্মান হলো।

সালমা:বৃষ্টি যা করেছে ঠিক করেছে।তুই ভুল করেছিস!

সালমান এবার গর্জে উঠলো,
সালমান:তোমার কাছে আমার থেকে বেশি ওই বাইরের মেয়েটা ইম্পর্ট্যান্ট হলো,যে আমাদের রক্তও না।

সালমা:সালমান!এখানে সবাই আছে।

সালমান:একশো বার বলবো।বৃষ্টি আমার মেয়ে না হওয়া সত্বেও তোমার কথায় ওকে নিজের মেয়ের পরিচয় দিয়েছি।যেখানে জানিও না ও কার মেয়ে।

তখনই কিছু পড়ার আওয়াজ হলো।সালমা বেগম তাকিয়ে দেখলেন ছোট স্টিল ভাস পরে আছে আর তার কাছেই বৃষ্টি দাড়িয়ে আছে আয়েশা আর বিভোরদের সাথে নিয়ে।

সালমা:বৃষ্টি!

#চলমান

(🙉🙉🙉ধামাকা)#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:০৭
(নিচের দ্রষ্টব্য পড়বেন)
সালমান:আয়েশা!

আয়েশা:জি বাবা।

সালমান:তুমি এই ডাফার ছেলেটার হাত কেন ধরে আছো?

আয়েশা বিভোরের হাত আরো শক্ত করে ধরে বললো,
আয়েশা: ও আমার স্বামী!

সালমান:আয়েশা(ধমকে)

আয়েশা: ধমকিয়ে লাভ নেই।তুমি আমার মত শোনো নি।তাই আমিও তোমার সিদ্ধান্ত মানি নি।

সালমান:এই অভদ্র মেয়েটার সাথে থেকে থেকে তুমিও অভদ্র হয়ে যাচ্ছো।

বৃষ্টি হুট করে বলে উঠলো,
বৃষ্টি:আমার মা বাবা কে?

সালমা বেগম এতক্ষণ এই ভয়টাই পাচ্ছিলেন।এবার কি বলবেন উনি?

সালমা:বৃষ্টি,শোন..

বৃষ্টি:আমি সালমান আর রুমি উদ্দিনের মেয়ে না?

সালমান:না!

বৃষ্টি:তবে কে আমার বাবা মা?

মেঘ এতক্ষণ ধরে সব দেখছে।কিছু কিছু বুঝেছে।

রুমি:তবে শোনো!তুমি না তো আমাদের মেয়ে আর না এই পরিবারের কেও।দিনটি ছিল ২৪ শে এপ্রিল।তোমার দিদুন মানে সালমা বেগম হুট করে কথা থেকে তোমাকে নিয়ে এসে বলে তোমাকে আমাদের মেয়ে হিসেবে রাখতে।তখন হাজার জিজ্ঞেস করার পরও তিনি বলেননি।আর আমার স্বামীও চুপচাপ মেনে নিয়েছিলেন।কিন্তু তোমাকে মেয়ে হিসেবে কোনোদিন মানে নি।

বৃষ্টি ধিরো পায় সালমা বেগমের কাছে গেলো।
বৃষ্টি:দিদুন আমার মা বাবা কে?

সালমা বেগম চুপ করে রইলেন ।

বৃষ্টি: আই নিড এন্সার!

শর্মিলা:আমি বলি?

বৃষ্টি জিজ্ঞাসাশুচক দৃষ্টিতে তাকালো।

শর্মিলা: নিশ্চয়ই তুই কারোর পাপের ফসল।তাই তোর দিদুন এর কাছে উত্তর নেই।

সালমা:শর্মিলা(ধমকে)

বৃষ্টি পড়ে যেতে নিলে মেঘ ওকে ধরে।বৃষ্টি হাতের ইশারায় বুঝালো ও ঠিক আছে।মেঘ তবুও সাহারা হিসেবে ওকে বাহু ধরে রাখলো।

তিশা: কাকীকে ধমকাচ্ছো কেনো?ভুল কি বলেছে?না জানি কার না কার কুকর্মের ফল।

মেঘের রাগে চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে।মানুষ এমন জঘন্য ভাষা কি করে বলতে পারে?

আফিয়া:তিশা!চুপ।

স্পর্শ:বড়দের মাঝে তোমাকে কে কথা বলতে বলেছে?আর এসব কি কথা?

শর্মিলা:ঠিকই তো বলেছে! ও যে কারো অবৈধ সন্তান তা বুঝতে বাকি আছে?

আফিয়া:জাস্ট বন্ধ করো,কি যা তা বলছেন ছোট ভাবি?

তিশা: ঠিকই বলছেন। কিরে বৃষ্টি,এবার তোর দাপট কই গেলো?সব ফুস।

বৃষ্টি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।কি বলবে?আজ ওর বলার মুখ নেই!এতদিন যাকে নিজের পরিবার ভেবে এসেছে সেটা ওর পরিবারই না।

সালমা:দোহাই লাগে,এই ফুলের মত পবিত্র মেয়ের সাথে এত বড় অপবাদ জুরিস না।

তিশা:তাহলে বলো কে ওর মা আর বাবা?

সালমা বেগম চুপ করে গেলেন,বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দেখলেন সেও উত্তরের আশায়।

তিশা:প্রমাণ হয়ে গেলো যে, ও অবৈ..(আর কিছু বলার আগেই তিশার গালে থাপ্পড় পড়লো)

তিশা গালে হাত দিয়ে রেগে তাকালে দেখলো আফিয়া ওকে মেরেছে।অবাক হয়ে বললো,

তিশা:তুমি আমায় মারলে?

আফিয়া:এটা তোর প্রাপ্য!

তিশা:তুমি এই বাইরের মেয়েটার জন্য মারলে আমায়?

আফিয়া:তুই জানিস আদো কে ও?

শর্মিলা:কে আবার?ঐযে কারো…

আফিয়া:বৃষ্টি আমার মেয়ে!
উপস্থিত সবাই অবাকের চরম পর্যায়ে।
স্পর্শ:এসব কি বলছো?

আফিয়া সাহস নিয়ে বললো,
আফিয়া: বৃষ্টি আমার আর স্পর্শের মেয়ে!

বৃষ্টি চমকে তাকালো।
তিশা: কিহ?

স্পর্শ:এসব কি বলছো?

আফিয়া:আজ সব সত্যি টা বলবো!

বৃষ্টি:কি সত্যি?

আফিয়া এক পলক বৃষ্টির দিকে তাকালো।
আফিয়া:তিশা আর বৃষ্টি এক মিনিটের ছোট বড়ো,ওরা টুইন,তবে ওদের চেহারায় মিল ছিল না। আমার শাশুড়ি বলেছিলেন উনার ছেলে নাতিন চাই।রোজ রোজ কিছু না কিছু এনে বলতেন এটা খাও ছেলে হবে,এটা করো ছেলের বিকাশ হবে।ছেলে নাতিন চাই করে পাগল করে দিচ্ছিলেন।এক সময় ভয় ঢুকে গেল।যদি ছেলে না হয় উনি কি আমায় বের করে দিবেন।ভয়ে ভয়ে থাকতাম।আমার ডেলিভারির কয়েকদিন আগে স্পর্শ এক কাজের জন্য বাইরে যায়।দুইদিন পর ফিরে আসবে।কিন্তু মেঝেতে স্লিপ কেটে আমি পড়ে যাই আর পেটে আঘাত লাগে।তখন শাশুড়ি মা আমায় কিছু লোকের সাহায্যে হসপিটাল নিয়ে যায়।মা কে শাশুড়ি ফোন করে নিয়ে এসেছে।তখন আসে তিশা আর বৃষ্টি।আমার শাশুড়ি ওষুধের কাউন্টারে ছিলেন।এদিকে ক্লান্ত শরীরেও এই ভয় ছিল যেখানে ছেলে চাইতেন সেখানে মেয়ে,তাও দুই জন!ভয় পেয়ে গেছিলাম।তাই ভাবলাম একজনকে সরিয়ে দিবো।তাই বৃষ্টি কে মায়ের হাতে দিয়ে বলেছিলাম ওকে নিজের কাছে রাখতে। মা অনেক বুঝিয়েছিলেন।কিন্তু ভয় আমায় এত কাবু করেছিল যে আমি অন্য কিছু না ভেবেই এই কাজ করি আর মাকে কসম দেই যাতে কেও কোনোদিন জানতে না পারে।যখন আমার শাশুড়ি জানলেন এক মেয়ে হয়েছে,উনি নারাজ হলেও তিশা কে মেনে নিয়েছিলেন।কয়েকদিন পরে নিজের করা কাজের উপর আফসোস হচ্ছিল।কিন্তু এখন সত্যি বললে বিপদ এই ভেবে আর বলি নি। পরে জানলাম ভাইয়া ওকে নিজের মেয়ে হিসেবে রাখবে।কিন্তু জানতাম না এত কষ্ট ওর ভাগ্যে জুটবে।

স্পর্শ হুট করেই আফিয়াকে চড় মেরে দিলো।
স্পর্শ:তুমি জানো তুমি কি করেছো?

আফিয়া:আমি ভয় পেয়েছিলাম।

স্পর্শ:ভয় মাই ফুট!তুমি জানো তুমি কি করেছো?

এদিকে বৃষ্টি নিজেকে মেঘের থেকে ছাড়িয়ে উপরে গেলো,সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। এত কিছুর পরেও মেয়েটা কিরকম নিজেকে শক্ত রেখেছে।এক বিন্দু জল ও চোখে নেই।কিছুক্ষণ পর কিছু জিনিস পত্র নিয়ে নিচে আসে।সালমানের সামনে দাড়িয়ে বললো,

বৃষ্টি:এতদিন শুধু ভাবতাম আপনি আদো আমার বাবা কিনা?আজ জেনে গেছি।আমি এতিম।তাও ধন্যবাদ আপনাকে পালার জন্য।আপনার ঋণ শোধ করার সাধ্য নেই।এই যে জিনিস গুলো নিচ্ছি এগুলো আমার।আপনার কিছু আমি নিচ্ছি না,ভালো থাকবেন।

আফিয়া:বৃষ্টি কোথায় যাচ্ছিস?

বৃষ্টি:দেখুন মিস আফিয়া,এটা আমার বাড়ি না,আর না আমার কেও আছে।তাই চলে যাচ্ছিস?

আফিয়া:আমি তোর মা বৃষ্টি?

বৃষ্টি:মা? মায়েরা কি এমন হয়?নিজের সুখের জন্য সন্তান কে নরকে ঠেলে দেয়?

আফিয়া চুপ করে গেলো।বৃষ্টি দিদুন এর কাছে গেলো।

বৃষ্টি:হেই কারিনা কাপুর,যাচ্ছি।তোমার সাথে দেখা করবো মাঝে মাঝে।ঠিক আছে।

সালমা:দিদি ভাই!

বৃষ্টি:প্লিজ আটকিও না।

আয়েশা:বাবা!কিছু বলো!

সালমান কি বলবে?এতদিন মেয়েটার সাথে যা করেছেন এখন তার জন্য আফসোস হচ্ছে।হয়তো এই আফসোস এটা জেনে যে বৃষ্টি তার পরিবারেরই কেও।মানুষ!বড়ই অদ্ভুত।নিজের লোক হলেই ভালোবাসে ,নাহলে না।
বৃষ্টি বেরিয়ে গেলো। বিভোরও আয়েশা কে নিয়ে চলে গেলো।মেঘ বৃষ্টির পিছে গেলো।সালমা বেগম হাও মাও করে কাঁদছে আর আফিয়া নিরবে অশ্রু ফেলছে।

তিশা:আজ বৃষ্টির জায়গায় হয়তো আমিও থাকতাম!তাই না মা!

আফিয়া অশ্রু নয়নে তাকালেন।

তিশা:তুমি ভুল করেছো,অনেক বড় ভুল।আর আমি?কেমন মেয়ে আমি?মেয়ে হয়ে আরেক মেয়ের ব্যাপারে এত জঘন্য কথা বললাম?ছি..
তিশাও কাঁদছে।উপলব্ধি করছে নিজের করা কাজ আর কথা গুলোর।স্পর্শ তিশা কে নিয়ে চলে গেলো,আফিয়ার দিকে তাকালোও না।সালমান আর রুমিও নিজের ঘরে গেলেন।
সালমা:তোর কারণে মেয়েটা আজ আমায় ছেড়ে গেলো।তোকে ক্ষমা করবো না আমি।কখনোই না।

আফিয়া কাঁদতেই আছে।
নুরির রুমে বসে আছে বৃষ্টি,মেঘ ওকে এখানে দিয়ে গেছে।নুরি সব জানে। ও অবাক এটা দেখে এত কিছুর পরেও বৃষ্টির চোখে জল নেই।তাও কিছু বললো না। বৃষ্টি কে খেতে বললে ও খাবে না জানিয়ে দেয়। নুরি জোর করার পরেও খায় নি।

রাত তিনটা। নুরিদের বাড়ির বারান্দায় দাড়িয়ে আছে বৃষ্টি।একদম অনুভূতিহীন ভাবে।তখনই মেসেজ আসলো
“নিচে আসো”
বৃষ্টি আনমনেই হাসলো,জানে এটা মেঘ।তাই চলে গেলো।মেঘ অবাক।আজকে বৃষ্টি এক মেসেজেই হাজির।বৃষ্টি কিছু না বলে গাড়িতে বসলো।কিছুটা দূরে নির্জন রাস্তায় গাড়ি থামালো।

মেঘ:হাঁটবে?

বৃষ্টি কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো।মেঘ ও বেরিয়ে গেলো।

পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো দুইজন।

মেঘ:জানি আজকের ঘটনায় অনেকটা হার্ট হয়েছো।তাই বলে এরকম চুপচাপ থেকো না।

বৃষ্টি:এমন কেন করলো আমার সাথে?

মেঘ: দেখো,আমি জানি আফিয়া আন্টি যা করেছেন অনেক অন্যায়।কিন্তু কি বলোতো।আমাদের মনে ভয় নামক এক জিনিস আছে যা একবার গভীর ভাবে স্থান নিলে ত মানুষ অন্যায় কে ঠিক মনে করে!আফিয়া আন্টির ও একই অবস্থা।নিজের সংসার আর স্বামী হারানোর ভয় এমন ভাবে উনাকে ঘিরে ধরেছে উনি কি করছেন তা বুঝতে পারেন নি।তাই এই অন্যায় টা হয়ে গেছে।

বৃষ্টি চুপ করে রইলো।

#চলমান

(অনেকেই বলতে পারেন আফিয়া সামান্য কারণে এরকম কাজ কিভাবে করলো?তাদের উত্তর হিসেবে মেঘের ওই কথা)#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:০৮

মেঘ:বৃষ্টি!কি ভাবছো?

বৃষ্টি:আজ আমার জায়গায় হয়তো তিশাও থাকতে পারতো,তাই না?

মেঘ:হুমম হয়তো!

বৃষ্টি: আচ্ছা একটা কথা বলুন তো?এখানে কি শুধু অন্যায় হয়েছে?আমার ছেলেবেলা? মাতৃ স্নেহ,পিতৃ স্নেহ?পরিবারের আদর?বাবার আদর,এমনকি নিজের একটা বোনও আছে..সব কিছু থেকে বঞ্চিত আমি!এটা আপনার কাছে কি শুধু অন্যায়?জঘন্যতম অন্যায়।

মেঘ:বেশ!কিন্তু তোমার বাবা?সে কি দোষ করেছে?তাকে কেনো দূরে ঠেলে দিবে?

বৃষ্টি:কই তাকে দূরে ঠেলছি?শুধু অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না।

মেঘ আর কিছু বলল না।বেশ মধ্য অবধি ওরা ঘুরল।
সকালে
বৃষ্টি ঘুমিয়ে আছে এমন সময় মুখে ঠান্ডা পানি পড়াতে ধড়ফড়িয়ে উঠলো।
বৃষ্টি: হোয়াট দা..

সামনে তাকিয়ে তিশা কে দেখে বেশ অবাক হলো।তিশা গ্লাস হাতে দাড়িয়ে আছে। বুঝাই যাচ্ছে পানি ও মেরেছে।

বৃষ্টি:এসব কি?

তিশা:দীর্ঘ তেরো মিনিট বাইশ সেকেন্ড ধরে তোকে ডাকছি,কিন্তু তোর উঠার নামই নেই।

প্রথমে তিশার এখানে হুট করে আসা আর এই ব্যাবহার মানতে পারছে না।পরক্ষণে কালকের কথা মনে হতেই তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো।যেই শুনেছে আমি ওর আপন কেও ব্যাস ভালোবাসা।তিশা বৃষ্টির সামনে বসলো।ওর হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বললো,
তিশা:জানি ভাবছিস যে ,তুই আমার বোন বলে ভাব জমাতে এসেছি।কথাটা মিথ্যে নয়।কিন্তু তাও উপলব্ধি করেছি যা করেছি সব অন্যায় ।মেয়ে হয়ে তোকে এত জঘন্য কথা বললাম।বিশ্বাস কর কাল থেকে অনুশোচনায় মরে যাচ্ছি।আজ হয়তো তোর জায়গায় আমি থাকতাম।নিজেকে বড্ড অপরাধী লাগছে রে।মায়ের একটা ভুল তোকে যে কতটা কষ্টে ফেলেছে তা বুঝতে বাকি নেই।আজ আমি তোর সামনে হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি।প্লিজ মাফ করে দে।নাহলে এই অপরাধবোধ নিয়ে আর থাকতে পারবো না।
বৃষ্টি কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকালো।পরক্ষণে মুচকি হেসে বলল,
বৃষ্টি:বোনের কাছে ক্ষমা কিসের?হুমম?

তিশা উত্তেজিত হয়ে জড়িয়ে ধরলো।
তিশা:তাহলে তুই বাড়ি যাবি আমার সাথে?

বৃষ্টি: না!

তিশা:কেনো?

বৃষ্টি:মিস আফিয়া বেগমের মুখোমুখি হতে আমি চাই না।

তিশা:জানি মায়ের উপর তোর অনেক অভিমান,কিন্তু বাবা? উনিতো কিছু করেননি।কালকে থেকে তোর কথা ভেবে মন খারাপ করছে।মাঝে মাঝে কেঁদে দিচ্ছেন।বাবার জন্য অন্তত চল।প্লিজ!

বৃষ্টি:বেশ!

তিশা:ইয়ে!

বৃষ্টি আর তিশা নুরিদের কাছে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো।বাড়ির কাছে এসে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো বৃষ্টি।আগে এখানে আসতো ফুফুর বাড়ি হিসেবে।অথচ ওর নিজের বাড়ি ছিল এটা।

তিশা: চল!

তিশা বৃষ্টি কে নিয়ে ভিতরে গেলো। স্পর্শ সোফায় মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে।
তিশা:বাবা দেখো কে এসেছে?

স্পর্শ মাথা উঠিয়ে বৃষ্টিকে দেখে মলিন হাসলেন।এতদিন কোথাও না কোথাও ওর জন্য বড্ড টান অনুভব করতেন।কিন্তু কে জানতো এই যে তার মেয়ে।স্পর্শ ধীরো পায়ে বৃষ্টির কাছে গেলেন,
স্পর্শ:বৃষ্টি!

বৃষ্টি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললো,
বৃষ্টি:বাবা!

স্পর্শ মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।কতই না কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা।
তিশা নিজের চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে বললো,
তিশা:আমার কিন্তু হিংসে হচ্ছে এবার।

স্পর্শ আর বৃষ্টি হেসে দিলো,
বৃষ্টি:হিংসুটে একটা!

তিশা:হাহ,তুই কি হুমম?

বৃষ্টি: যা ভাগ।

এদিকে বৃষ্টির আওয়াজ শুনে রুম থেকে আফিয়া দৌড়ে এলো।বৃষ্টি বলে বৃষ্টির কাছে আসতে নিলেই বৃষ্টি হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিল।

বৃষ্টি:ওখানেই থেমে যান মিস আফিয়া বেগম।

আফিয়া দাড়িয়ে গেলো।
আফিয়া:বৃষ্টি আমি তোর মা!

বৃষ্টি:মা?জানেন আপনি মা কাকে বলে?মা হচ্ছেন একজন নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন – তিনিই অভিভাবকের ভূমিকা পালনে সক্ষম ও মা হিসেবে সর্বত্র পরিচিত।কিন্তু আপনি কি করেছেন?শুধু জন্ম দিয়েছেন।আমার শৈশব আপনার জন্য শেষ হয়ে গেছে।মা,বাবা আর বোন থাকতেও অন্যের পরিচয় এ অবহেলায় বড় হয়েছি।না পেয়েছি মাতৃ স্নেহ,আর না পিতৃ স্নেহ।নিজের বোন থাকা সত্বেও কখনো সেরকম খুনশুটিতে মত্ত হয়ে পারিনি।

আফিয়া:এভাবে বলিস না,একবার ক্ষমা কর!

বৃষ্টি:বেশ,তবে ফিরিয়ে দিন আমার শৈশব।

আফিয়া চুপ করে গেল।

বৃষ্টি:কি পারবেন না তো?

আফিয়া কিছু না বলে রুমে চলে গেলো,বৃষ্টি অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো।কেনো জানি ওর কান্না পায় না।হয়তো অবহেলা সইতে সইতে অনুভূতিহীন হয়ে গেছে।

কেটে গেলো বেশ কয়েকটা দিন,এই কয়েকটা দিনে বৃষ্টি বেশ ভালোই মেঘের সাথে মিশে গেছে।ওর সাথে ঘুরতে যাওয়া,রাত জেগে কথা বলা ওর অভ্যাস হয়ে গেছে।বৃষ্টি নিজেও বুঝতে পারছে,ভালোবাসে ও মেঘকে।সকালে আয়েশা আর বিভোর এসেছে বৃষ্টির সাথে দেখা করতে।বিভোর কে সোফায় বসতে বলে আয়েশা তিশা আর বৃষ্টির রুমে গেলো।কিন্তু যা দেখলো তাতে ও দিলো গগন ফাটানো চিৎকার। ওর চিৎকার শুনে নুরি,রাইসা আর তিশার কানে হাত।আর বৃষ্টি বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজের চুল সেট করতে মনোযোগ দিলো।এর আগেও তিশা,নুরি আর রাইসাও এভাবে চিৎকার করেছিলো।
তিশা:সবাই আজকে শকড!

আয়েশা:নুরি চিমটি মি!

নুরি:তুই আমাকে ঝাড়ু দিয়ে মার।আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।

রাইসা:বৃষ্টি আর গোল জামা!মেয়েলি সাজ?

তিশা:আমি তো ভেবেছিলাম আজকে মেইবি আমি স্বপ্ন দেখছি!

নুরি:না!এটা আমাদের বৃষ্টি না,বৃষ্টি বেশে অন্য কেউ।
বৃষ্টি এবার ক্ষিপ্ত চোখে তাকালো।

বৃষ্টি:দেখ রাগ উঠাবি না।এমনেই টেনশনে আছি!

রাইসা:কিসের টেনশন?

বৃষ্টি:মেঘ কে প্রপোজ করবো!

সবাই: কিহ?(একসাথে চিৎকার দিয়ে)

বৃষ্টি কানে হাত দিল।

বৃষ্টি: আরে এভাবে চিৎকার কেন করছিস?

তিশা:প্লিজ আর ঝটকা দিস না!সইতে পারছি না।

বৃষ্টি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলো ও মেঘকে ভালোবাসে,আর নিজের অনুভূতি আজ প্রকাশ করবে।তাই সকাল সকাল এই সাজ।আয়েশা বৃষ্টির আশেপাশে স্ক্যান করার মত তাকালো।কালো গোল জামা,কানে ছোট পাথরের দুল আর হতে সাদা পাথরের তৈরি ব্রেসলেট।মুখে হালকা সাজ।

আয়েশা:বাই দা অটো রিকশা ,তোকে জোস লাগছে।মেঘ কে আর বলা লাগবে না।এমনেই ফিদা হয়ে যাবে।
বৃষ্টি মুচকি হাসলো,কিন্তু মেসেজের টোন বেজে উঠলো।তাতে যা দেখলো,হাসি মুখ মিলিয়ে গেলো।
রাইসা:বৃষ্টি!কি হয়েছে?
বৃষ্টি কিছু বলছে না।ওর চোখে জল ছল ছল করছে।আয়েশা ওর হাত থেকে ফোন নিয়ে দেখলো মেঘের মেসেজ।
“স্পর্শিয়া বৃষ্টি!আপনি যে আমায় এতটা ঘৃনা করেন, জানতাম না।আজ জেনে গেলাম।আমাকে সহ্য করতে পারেন না বলে, মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ভার্সিটি থেকে বের করতে চেয়েছিলেন!সত্যি মানতে কষ্ট হচ্ছে।কেনো করলেন এমন? এতটাই অপছন্দের যখন,তখন একবার বলতেন!জীবনেও আমার মুখ দেখতাম না।কিন্তু আপনি আমাকে সবার সামনে ছোট করতে চাইলেন?তো আপনার জন্য গুড নিউজ,চলে যাচ্ছি আমি।আপনার লাইফ থেকে সারাজীবনের জন্য।ভালো থাকবেন।ইতি আপনার অপছন্দের ব্যাক্তি।”

আয়েশা বিস্ময় নিয়ে তাকালো।বৃষ্টি এক মুহূর্ত দেরি না করে ড্রয়ার এর উপর থেকে তিশার স্কুটির চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।উদ্দেশ্য মেঘের বাড়ি। ও জানে মেঘের অ্যাড্রেস। তা দেখে কেও একজনকে ফোন করে বললো,
“বস,শিকার বেরিয়েছে।বসুন্ধরার দিকে যাচ্ছে মনে হয়।আমি ওর পিছে আছি।”

ওপাশের ব্যাক্তিটি বাঁকা হাসলো।বেশ কিছু দূর যেতেই বৃষ্টির সামনে গাড়ি নিয়ে পথ আটকে দাড়ালো রাহাত।

বৃষ্টি:তুই!

রাহাত: ওহো,চিনে গেছো বেবী!

বৃষ্টি রাগে শরীর জ্বলছে,
বৃষ্টি:দেখ,মেজাজ বিগড়ে দিস না।আমার কাজ আছে। সরে যা।

রাহাত: মামা বাড়ির আবদার নাকি।বলেছিলাম না,রাহাতের সাথে পাঙ্গা ভারী পড়বে।

বৃষ্টি:দেখ.. আহ (হুট করে কেও মাথায় আঘাত দেওয়াতে বৃষ্টি ব্যাথায় কুকড়ে গেলো।পিছে তাকিয়ে দেখলো রাহাতের সঙ্গী।বৃষ্টি আবার রাহাতের দিকে তাকালো।)

বৃষ্টি:পিছন থেকে আক্রমণ কাপুরুষ রা করে।তুই কে কাপুরুষ তার প্রমাণ।

রাহাত:আব্বে ,এর তেজ দেখি কমে না।তুই দাড়িয়ে কি করিস।মার!

বলার সাথে সাথে বৃষ্টির মাথায় আবার কাঠের টুকরা দিয়ে বারি দিল। বৃষ্টি এবার মাটিতে পড়ে গেলো।মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে।চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।

বৃষ্টি:মেঘ!

রাহাত:আজ তোর তেজ আর সম্মান কে বাঁচায় দেখবো।

বৃষ্টির শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।আজ কি হতে চলেছে,ভাবতেই ওর বুক ফেটে কান্না আসছে।শেষ বারের মত মেঘের ছবি ভেসে উঠলো ওর চোখে।বৃষ্টি নিস্তেজ হয়ে গেলো।চোখ বন্ধ ওর।
সামির (রাহাতের সঙ্গী): মরে গেল নাকি।

রাহাত:দেখছি!
বলেই ওকে ছুঁতে যাবে,কিন্তু কোনো গাড়ি আসার শব্দ শুনে বললো,
রাহাত:কেও আসছে,আমাদের দেখে ফেললে নিস্তার নেই।চল

ওরা দুইজন পালিয়ে গেলো।বৃষ্টি ওভাবেই মাটিতে পড়ে রইলো।এদিকে আয়েশারাও বেরিয়েছে বৃষ্টির উদ্দেশ্যে।রাস্তায় বৃষ্টিকে এভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে থমকে গেলো ওরা।জলদি ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।

মেঘ: আই হেট ইউ বৃষ্টি।

বৃষ্টি:মেঘ!
বলে চিৎকার দিয়েই উঠে বসলো বৃষ্টি।ঘামছে ওর শরীর।আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারলো ও হাসপাতালে।
আয়েশা:বৃষ্টি!

বৃষ্টি:আয়েশা!আমাকে যেতে হবে।মেঘ কে আটকাতে হবে!
বলেই ছোটাছুটি করতে লাগলো।
আয়েশা:মেঘ চলে গেছে।

মুহূর্তেই অন্ধকার নেমে এলো বৃষ্টির মুখে।

আয়েশা:তুই আজকে তিনদিন ধরে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলি।আর মেঘ সেদিনই চলে গেছে।

বৃষ্টি:তুই মজা করছিস না?

আয়েশা:বৃষ্টি ও সত্যি চলে গেছে।

বৃষ্টি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।

বৃষ্টি:আমার লাইফে কি কোনদিন সুখ আসবে না?কেনো এমন হয় রে?যাকে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাইলাম সে চলে গেল?

আয়েশা অবাক চোখে তাকালো।যেই মেয়ে তার পরিবার সম্পর্কে জেনেও এক ফোঁটা অশ্রু পড়তে দেই নি।আজ সেই মেয়ের চোখে জল। হ্যাঁ কাঁদছে বৃষ্টি।

বৃষ্টি:কেনো?কেনো এমন হয়?আয়েশা খুব কষ্ট হচ্ছে।দে না,মেঘ কে এনে।পারবো না ওকে ছাড়া বাচঁতে।দে না।

কাঁদছে আর বলছে বৃষ্টি।আয়েশা কি বলবে?কিভাবে আনবে ও মেঘ কে?মেঘের ফ্যামিলি বলেছে মেঘ কোথায় আছে সেটা নাকি ওদের বলে নি।কিভাবে খুঁজবে ও?

#চলমান

(😁😁😁)#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:(বোনাস পার্ট)

দুই বছর পর..
ইন্ডিয়ার এয়ারপোর্টে বৃষ্টি আর তিশার জন্য অপেক্ষা করছে বিভোর।দুই বছরে পাল্টে গেছে অনেক কিছু।বিভোর পড়াশোনা শেষ করে বাবার কোম্পানিতে জইন করে।ওর আর আয়েশার মেয়ে হয়েছে কয়েকদিন হলো।নাম রেখেছে বিভা। আয়েশার প্রেগনেন্সি তে রিস্ক ছিল বিধায় ইন্ডিয়ার বেস্ট ডক্টরের কাছে এসেছে।আর আল্লাহর রহমতে আয়েশা আর বিভা দুইজনই ঠিক আছে।কিন্তু আয়েশা এখন অনেকটাই দুর্বল।এই অবস্থায় জার্নি করলে ও আরো উইক হয়ে যাবে এই ভেবে বিভোর এখনও এখানেই আছে।কিন্তু একা আর সামলাতে পারছে না বিধায় বৃষ্টি আর তিশা কে ডাকা।আয়েশা একটু সুস্থ হলেই ওরা বাংলাদেশ ব্যাক করবে।
বিভোর:বৃষ্টি!এইদিকে!

বৃষ্টি বিভোরের আওয়াজ শুনে ওর দিকে গেলো।
বৃষ্টি:উফ কত বড় জার্নি করলাম।

তিশা: আহা!বিদেশ এসেছি,ভাবতেই আনন্দ লাগছে।

বৃষ্টি:বেশি লাফাস না।

বিভোর: এখানেই দাড়িয়ে থাকবি নাকি?

বৃষ্টি:চল!

ফ্ল্যাটে পৌঁছে বৃষ্টি আগে আয়েশার কাছে গেলো।

বৃষ্টি:কিরে মহিলা,কেমন আছিস?

আয়েশা:ভালো তুই?

বৃষ্টি:বিন্দাস!

আয়েশা:সত্যি?

বৃষ্টি:হুমম

আয়েশা:আমার দিকে তাকিয়ে বল!

বৃষ্টি:ফ্রেশ হতে গেলাম।
বলেই চলে গেলো।আয়েশা ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিও।দুই বছরে বৃষ্টি অনেকটা বদলে গেছে।আগের মত ছেলেদের শার্ট প্যান্ট পরে না।আগের কোনোকিছুই এখন ওর মাঝে নেই।মুখে ঠান্ডা পানির ছিটা দিয়েই আয়নার দিকে তাকালো বৃষ্টি।কতটা বদলে গেছে ও!আয়নার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসি দিল।মেঘ বলেছিল,”তোমার মুখে হাসিটাই মানায়,কখনো এই হাসিকে হারিয়ে ফেলো না।”
বৃষ্টির চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। কার জন্য হাসবে ও?হাসির কারণটাই তো হারিয়ে ফেললো!
তিশা:কিরে কতক্ষন লাগবে?
তিশার আওয়াজ শুনে চট জলদি বের হয়ে গেলো।
বিভোর:বৃষ্টি!আমি গেলাম!আয়েশা কে ডক্টরের কাছে নিয়ে হবে!

বৃষ্টি:আমিও যাবো!

বিভোর:আরে তোরা মাত্রই এলি,আর এখন আবার জার্নি করবি?

তিশা:বাসায় বসে বোর হওয়া থেকে ঘুরা ভালো!

বিভোর উপায় না পেয়ে ওদের নিয়ে গেলো।বৃষ্টি একটা হোয়াইট গেঞ্জি আর লং ব্লু শার্ট পরে নিলো। সাথে ব্লু জিন্স আর স্কার্ফ নিলো। চুল গুলো ঝুঁটি করে ফেললো।তারপর বেরিয়ে গেলো।হসপিটাল গেটে কিছু ছেলে সিগারেট টানছে।বৃষ্টিদের ঢুকতে দেখে এক ছেলেগুলো ইচ্ছে করে ধোঁয়া ওদের মুখে ছাড়লো।এতে আয়েশা কাশতে শুরু করলো।বৃষ্টি আর তিশা ওকে সামলাচ্ছে।বিভোর রেগে ছেলেদের কাছে গেলো।

বিভোর:এগুলো কি ধরনের অসভ্যতা?দেখছেন না বাচ্চা আছে সাথে?

১ম ছেলে:আমাদের কি?আমরা আমাদের কাজ করবো!

বিভোর:হসপিটাল গেটে এভাবে মেয়েদের উত্যক্ত করার শাস্তি কি হতে পারে জানো?

২য় ছেলে:আরে এ তো বেশি ফটর ফটর করে।এই সর এখান থেকে।
বলেই বিভোর কে ধাক্কা দিলো।বৃষ্টি এবার এগিয়ে এলো।
বৃষ্টি:দেখুন,আমরা ঝামেলা চাচ্ছি না।এটা হসপিটাল।এখানে আপনারা এভাবে সিগারেট এর ধোয়া ছাড়লে রোগীদের কষ্ট হবে ।তাই অন্য জায়গায় যান।

২য় ছেলে:ভাই এত ওই ডক্টরের ভাইয়ের মত বলতাছে।

প্রথম ছেলেটি বাজে ভাবে তাকিয়ে বললো,
১ম ছেলে:তুমি বললে তো সব ছেড়ে দিবো।জাস্ট একটা রাত।

বিভোর হাত মুঠি করলো।বৃষ্টি মুচকি হেসে বললো,
বৃষ্টি: ভালোই ভালোই বলছি,কেটে পড়ুন।

এবার ছেলেটি বৃষ্টির কাঁধে হাত রাখলো,
১ম ছেলে:নাহলে কি করবে মামনি?

বৃষ্টি একবার হাত আরেকবার ছেলেটির দিকে তাকালো।

তিশা: বিভোর, আজকে এদের হাড় গড় আস্ত থাকবে না।

বিভোর:কথা না শুনলে এমনি হবে রে.

আয়েশা: গেছে এরা!

ওদিকে এক তরুণ ওয়ার্ড বয় এসব দেখে জলদি ডক্টর অর্কের কেবিনের উদ্দেশ্যে দৌড় লাগলো।কেবিনে ঢুকে হাপাতে হাপাতে বললো,
“মেঘ ভাই,কালকের ছেলে গুলোকে বুঝানোর পরও বুঝে নাই।ওরা আবার মেয়েদের সাথে অসভ্যতামি করছে।”

মেঘের মাথায় হাত,অর্কের উদ্দেশ্যে বললো,
মেঘ:ভাই,এরা কি সোজা কথার মানুষ না?

অর্ক:মেঘ কোনো ঝামেলা করিস না।

মেঘ:আরে বেশি কিছু করবো না একটু টাইট দিবো।

অর্ক কিছু বললো না,মেঘের সাথে সেও নিচে গেলো।
মেঘ:কথায় রে?
বলতে না বলতেই এক ছেলে ওর পায়ের কাছে পড়লো।মেঘ বিস্ময় নিয়ে তাকালো।ছেলেটার অবস্থা করুন ।সামনে তাকাতেই ও স্তব্ধ।আনমনেই বললো,
মেঘ :বৃষ্টি!

হাতে হকি স্টিক নিয়ে এক একটাকে উড়া ধুরা মারছে বৃষ্টি।
১ম ছেলে:বইন মাফ করে দেন,আর এমন হবে না!

বৃষ্টি হাতের হকি স্টিক ফেলে বললো ,
বৃষ্টি: ইয়ার ,তোরা বেহুদা আমাকে রাগাস।কেনো বলতো?এই স্পর্শিয়া বৃষ্টি নিজের হুলিয়া বদলালেও ক্যারেক্টার বদলায় নি। কালকে হসপিটালের ধারের কাছে দেখলে একদম বৃন্দাবন পাঠাবো। চাল ভাগ!

বিভোর:বাহ!

বৃষ্টি:শালা চল ভিতরে..

বলে সামনে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেই থমকে গেলো।

বৃষ্টি:মেঘ!

দুইজনের চোখই ছল ছল করছে।হয়তো আবার দেখা পাওয়ার আনন্দ।

অর্ক:আরে বিভোর!

বিভোর:ডক্টর অর্ক..

অর্ক:হুমম, ও কে?

বিভোর:আমার শালী

বৃষ্টি তেরা চোখে তাকালো।বিভোর বত্রিশ দাত দেখালো ।
তিশা:মেঘ ভাইয়া কেমন আছো?

বিভোর আর আয়েশা এখন মেঘ কে খেয়াল করলো।মেঘ বিনয়ী হেসে বললো,
মেঘ:ভালো তোমরা?

অর্ক:তোমরা ওকে চিনো নাকি?

মেঘ:ভার্সিটির টিচার ছিলাম।

অর্ক:ওহ।

আরো কিছু কথাবার্তা বলে আয়েশা কে চেক আপ করে ছেড়ে দিলো।পুরোটা সময় মেঘ বৃষ্টির সাথে একটা কথাও বলে নি।

বাসায় এসে বৃষ্টি চুপচাপ রুমে গেলো।বিভোর ,আয়েশা কিছু বললো না।তিশা বৃষ্টির কাছে গেলো।

তিশা:মেঘ কে দেখেও কথা বলিস নী কেনো
বৃষ্টি: ও তো তাকালো ও না আমার দিকে!

তিশা:অভিমান করেছে যে,তাই!

বৃষ্টি:অভিমান?

তিশা:হুমম,তুই ওকে দূরে ঠেলার জন্য যা করেছিস সেই থেকে ওর মনে অভিমান জন্মেছে।ভাঙতে তো তোকেই হবে।

বৃষ্টি বুঝার চেষ্টা করলো।বুঝতে পেরে মুচকি হাসলো।

বৃষ্টি:আমরা কয়দিন আছি এখানে?

তিশা:১০!

বৃষ্টি:তো সামাঝ লো,এই দশ দিনে মেঘের অভিমান এর পাহাড় ভেঙ্গে ভালোবাসাকে বের করে আনবে এই স্পর্শিয়া বৃষ্টি।অ্যান্ড ইটস আ চ্যালেঞ্জ।।
তিশা হেসে দিল।
ওদিকে
ফ্ল্যাটে মেঘ উদাস চোখে বাইরে তাকিয়ে আছে।আজ কত দিন পর প্রিয় মানুষকে দেখলো।যেদিন মেঘ কে প্রশ্ন সাপ্লাই এর অপবাধ দেওয়া হয় ওইদিনই লোক লাগিয়েছে কে এই মিথ্যা অভিযোগ করলো।সময় লাগলেও জানতে পেরেছে কাজটা বৃষ্টির।নিজের মনেই আওড়ালো বৃষ্টি ওকে সহ্য করতে পারে না বলে এরকম কাজ করলো?তাই সিদ্ধান্ত নিলো চলে যাবে বৃষ্টির লাইফ থেকে।তাই ইন্ডিয়ায় নিজের বড় ভাই অর্কের কাছে চলে এসেছে।আর সবাইকে বলেছে কেও যেনো না বলে ও কোথায়।আর ফ্লাইটে উঠার আগ মুহূর্তে বৃষ্টিকে মেসেজ করে।

মেঘ:আবার আমাদের দেখা!কিন্তু অনুভূতি গুলো যে আগের মত নেই। টুকরো টুকরো হয়ে গেছে যে ওগুলো। জোড়া আর না বৃষ্টির ফোঁটা!

নির্ঘুম ভাবে আজকের রাত টাও পার করলো।
সকালে মেঘ জগিং এ বেরিয়েছে। উদ্দেশ্য পার্ক।পার্কে এক্সারসাইজ করছে এমন সময় কে যেনো মিস্টার কেবলা কান্ত বলে ডাকলো।

বৃষ্টি: ওই মিস্টার কেবলা কান্ত!

মেঘ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।

মেঘ:আমি?

বৃষ্টি:এখানে আপনি ছাড়া আর ওই বেঞ্চ ছাড়া আর কেউ আছে?

মেঘ আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো আসলেই কেও নেই।
মেঘ:আমার নাম মেঘালয় মেঘ।ওকে?

বৃষ্টি:ওকে,কেবলা কান্ত!

মেঘ ছোট ছোট চোখ করে তাকালো। তা দেখে বৃষ্টি হেসে দিল।মেঘ অবাক চোখে তাকালো।বৃষ্টি এভাবে মজা নিচ্ছে ওর বিশ্বাস হচ্ছে না।
মেঘ কিছু না বলে হাটা লাগালো।

বৃষ্টি:আরে আরে এই কেবলা কান্ত।শোনেন না।

মেঘ:কি চাই?

বৃষ্টি:আপনাকে।

মেঘ:মানে?

বৃষ্টি: আই লাভ ইউ!

#চলমান

(😒😒😒😒দিলাম .বোনাস পার্টহাহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here