বডিগার্ড থেকে বর . Part – 07

0
110

গল্প – বডিগার্ড থেকে বর
.
Part – 07
.
writer – #ArFin_SuMon (Mr. Romio)
.
.
তাই কোলে তুলে নিয়ে দৌঁড় দিলাম। একটু দৌঁড়ানোর পর আর পারছি না কোলে তুলে রাখতে তাই পিঠে নিয়ে দৌঁড়াতে লাগলাম। কোন মতে গাড়ির দরজা খুলে ম্যাডাম কে ডুকিয়ে দিলাম। তখন খেয়াল করলাম ম্যাডামের দিকে। ম্যাডাম আজকে কালো জিন্সের সাথে সাদা একটা শার্ট পড়ছিলো। শার্ট টা পুরো লাল হয়ে গেছে রক্তে।তাহলে কি আমি ম্যাডাম কে রক্ষা করতে পারলাম না। গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। গাড়িটা চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। হাতে ব্যাথা করছে।রক্ত ঝরে সবকিছু লাল হয়ে যাচ্ছে।
অবশেষে বাড়িতে ডুকলাম। গাড়ি দাঁড় করিয়ে দরজা খুলে দিলাম ম্যাডাম কে। ম্যাডাম নেমে আসতে পারছে না। কোলে নিয়ে নিলাম ম্যডাকে। তারপর দরজার সামনে গিয়ে কলিং বেল চাপ দিলাম। আন্টি দরজা খুলে আমাদের দুজনের গায়ে রক্ত দেখে কেঁদে দিছে। আন্টির কান্না শুনে,কানন,হাসিব আন্টি ও বাড়ির অন্য কর্মচারীরা ছুঁটে এসেছে। ম্যাডাম কে সোফায় বসিয়ে দিলাম।আন্টি শুধু প্রশ্নই করে যাচ্ছে কি হয়েছে? কে করছে? ইত্যাদি আরো। আমার কোন খবর নেই আমি ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে আছি। একটা কথা শুধু মাথায় ঘুরছে তখন,আমি কিসের বডিগার্ড হলাম। আমি আমার ম্যাডাকে রক্ষা করতে পারি নাই। আমি কি করছি এটা।
হঠাৎ করে আমি নিচে পড়ে যাই আর কোন কিছু মনে নাই আমার।
.
কখন জ্ঞান ফিরলো জানি না। জ্ঞান ফেরার পর দেখি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি হাত দুইটা নাড়াতে পারছি না একটুও।
.
–এইতো জ্ঞান ফিরছে। আমাকে এবার যেতে হবে রাত তো অনেক হয়েছে।(ডাক্তার)
আমিঃ- আন্টি ম্যাডাম কোথায়? ওনি ঠিক আছে তো?
আন্টিঃ- তুমি এখন একটা কথাও বলবা না। আগে সুস্থ হও। আর তোমার ম্যাডামের কিছু হয়নি ও ঠিক আছে।
কাননঃ- রমিও কি হয়েছিলো?
হাসিবঃ- তুই যা তো,ও কি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় আছে।
কাননের আম্মুঃ- কানন যা তো ওরর জন্য স্যুপ নিয়ে আয়।
কাননঃ- হুম,যাচ্ছি।
আমিঃ- আন্টি আম্মু আব্বু কি কিছু জানে।
আন্টিঃ- না,এখনো জানাইনি। তোমার আঙ্কেল কেউ জানাইনি। তুমি বললে জানাবো।
আমিঃ- না জানানোর দরকার নাই।
আন্টিঃ- তুমি সুস্থ হও,তারপর জানাবো।
আমিঃ- না,কোনদিন জানাবেন না।
আন্টিঃ- আচ্ছা ঠিক আছে জানাবো না।
কাননঃ- জেঠিমা স্যুপ নাও।
আমিঃ- আন্টি ম্যাডাম কেমন আছে? ম্যাডামের কি হয়েছে? ম্যাডাম ঠিক আছে তো?
আন্টিঃ- আরে বাবা তোমার ম্যাডাম ঠিক আছে।
আমিঃ- আমি ম্যাডামের গায়ে রক্ত দেখছি,বলেন ম্যাডামের কি হয়েছে?
আন্টিঃ- কিছু হয়নি তো,পায়ে একটু ব্যাথা পেয়েছিলো। আর এতক্ষন তো এখানে ছিলো জুলি। তোমার জ্ঞান ফেরার আগে ঘুমাতে গেলো।এবার স্যুপ টা খেয়ে নাও।
আমিঃ- আমি স্যুপ তো খাই না আন্টি।
আন্টিঃ- না খেলে তোমাকে ওষুধ খাওয়াবো কি করে?
আমিঃ- ওষুধ খাবো না।
কাননের আম্মুঃ- খাবে না মানে কি?তোমাকে খেতে হবে।
আমিঃ- আমি স্যুপ খাই না।
কাননঃ- খাওনা তো কি হয়েছে। এখন থেকে খেতে হবে।
আন্টিঃ- হাসিব ওকে আস্তে আস্তে তুলে বসা।
হাসিবঃ- আরে আরে জেঠিমা। ওকে তুলে বসানো যাবে না। সেলাই গুলো খুলে যেতে পারে পিঠে টান খেলে।
আন্টিঃ- তাহলে ওকে খাওয়াবো কি করে।
হাসিবঃ- জেঠিমা, ও তো একপাশে মুখ করে শুয়ে আছে। মাথাটা হালকা উচু করে খাইয়ে দাও।
আন্টিঃ- ঠিক আছে।
আমিঃ- আমি কিন্তু খাবো না আন্টি।
আন্টিঃ- চুপ বেশি কথা বলবা না।
.
আন্টি ওষুধ খাইয়ে চলে গেলো। আমি এক পাশে মুখ করে শুয়ে অাছি। ভালো করে ঘুমাতেও পারছি না। চিৎ হয়ে শুতে গেলে পিঠের সেলাই খুলে যেতে পারে।
কখন ঘুমিয়ে পড়ছি নিজেও জানি না। সকাল সকাল হালকা ব্যাথা লাগছে, মনে হচ্ছে কে যেনো আমাকে হালকা ধাক্কা দিয়ে এক পাশ করছে। কিন্তু কে করছে সেটাই দেখতে পারছি না।
৯ টার দিকে ঘুম ভাঙ্গলো।
কানন এসে শুরু করলো বক বক। এ মাইয়ার জন্য শান্তি কোনদিনও হবে না। একজন মানুষ কিভাবে এত বক বক করতে পারে। ব্রাশ করিয়ে দিয়ে কানন চলে গেলো।
এখনো ম্যাডাম কে একবারও দেখতে পাই নি।ম্যাডাম কে একবার দেখলে শান্তি লাগতো। নিজের চোঁখে যতক্ষণ না দেখবো ম্যাডাম সুস্থ আছে।ততক্ষণ শান্তি পাবো না।
.
আন্টিঃ- রমিও কেমন আছো?
আমিঃ- এইতো, একটু ভালো লাগছে।
আন্টিঃ- ব্যাথা করছে সেলাইতে?
আমিঃ- ব্যাথা তো করছে।
আন্টিঃ- তা তো করবে,৩ টা কোপ খেয়েছো। আচ্ছা কি হয়েছিলো বলো তো।
আমিঃ- ম্যাডাম বললো শর্পিং করতে যাবে। তাই নিয়ে গেলাম। দোকান গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে হামলা করলো। অনেক কষ্টে পালিয়ে আসছি।
কাননঃ- এত রাত পযন্ত শর্পিং মলে কি করছিলে।
আমিঃ- সেটাতো ম্যাডাম জানে,ম্যাডাম কিছু নিচ্ছে না শুধু ঘুরছে। একটা দোকানে গিয়ে যখন বসছে তখনই হামলা হলো।
আন্টিঃ- যা হওয়ার হয়েছে,এবার নাও নাস্তা করে নাও।
.
আন্টি নিজের হাতে নাস্তা খাইয়ে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে চলে গেলো।
৫ দিন পর সেলাই খুলে দেওয়াতে একটু আরাম করে ঘুমাতে পারছি,বসতে পারছি,হাটতে পারছি।তবে রুমের বাইরে যেতে দেয় না। কেউ না কেউ এসে বাধাঁ দিবেই দিবে। তবে এখনো ম্যাডাম কে দেখতে পারলাম না। ম্যাডাম কোথায়? কি করছে কিছু জানি না।
১৮ দিন পর সুস্থ হলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে আস্তে করে দৌঁড়াচ্ছি। জিম করছি। অনেক কষ্ট হচ্ছে এসব করতে। কিন্তু কি করবো এই ১৮ দিনে জোর করে খাইয়ে খাইয়ে আমার পেট বড় করে দিছে। এত বড় পেট দেখতে খুব খারাপ লাগছে। বাড়িতে এসে ডুকলাম মাএ। সাথে সাথে শুরু হলো আন্টির ঝাড়ি।
.
আন্টিঃ- রমিও তুমি অসুস্থ শরীর নিয়ে কোথায় গিয়েছিলে?
আমিঃ- আন্টি একটু দৌঁড়াতে গিয়েছি আর আমি এখন পুরো সুস্থ আছি। আজ থেকে আমি আবার আমার কাজ করবো।
আন্টিঃ- তুমি কোথাও যাবে না। আরো কিছুদিন যাক।
আমিঃ- না আন্টি,আমি আমার কাজ করবো আজ থেকে। আমি পুরো সুস্থ।
আন্টিঃ- তোমার যা ইচ্ছা তাই করো,আগে নাস্তা করে নাও।
.
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম। এইতো ম্যাডাম আসছে। অনেকদিন পর দেখলাম ম্যাডাম কে। যা বাবা,আমি আবার কি করলাম। রাগি চোঁখে তাকিয়ে আছে কেনো সেটাই তো বুঝতেছি না।শালার কপাল। ম্যাডামের রাগি চোঁখে তাকিয়ে থাকার কারনটা কি বুঝতে পারলাম না।
এত কিছু না ভেবে গাড়িটা স্টার্ট করলাম। গাড়িটা প্রতিদিনের মতো গাছের নিজে রেখে। ক্লাসে গিয়ে বসলাম।
অনেক দিন পর আসাতে মাইয়া গুলো শুধু প্রশ্নের উপর প্রশ্ন করে যাচ্ছে। আমি শুধু ওদের প্রশ্ন গুলাে শুনেই যাচ্ছি। কত জনের উওর দিবো। কে কোন প্রশ্ন করছে সেটাই তো মনে করতে পারছি না।
.
ম্যাডামঃ- ওই সবাই চুপ কর।(তারপর ওই দিনের বিষয়টা সবাইকে বললো)
.
.
চলবে…………………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here