বডিগার্ড থেকে বর . Part – 09

0
226

গল্প – বডিগার্ড থেকে বর
.
Part – 09
.
writer – #ArFin_SuMon (Mr. Romio)
.
.
আন্টি আমাকে লুকাতে দেখে গিয়েছে। কানন জানতে চাওয়ার সাথে সাথে বলে দিছে।
.
হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর গিয়ে শুয়ে পড়লাম। আজকের থেকে কালকে কাজের চাপটা একটু বেশি একটু না অনেক বেশি থাকবে।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কাজের তদারকি শুরু করতে হলো। এদিকে কাজের তদারকি করছি আবার ম্যাডামের বডিগার্ডের কাজও করছি। বলা যায় না কখন কে এ্যাটাক করতে পারে।
দেখতে দেখতে দুই টা বাজলো বর আসার কোন খবর নেই। আঙ্কেল ফোন দিয়ে যাচ্ছে দুই টার পর থেকে কিন্তু কেউ ফোন তুলছে না। অবশেষে বিকাল চার টায় ফোন তুলে জানায় যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা সে দুই বছর আগে বিয়ে করে ফেলছে। আঙ্কেল অনেক্ষন কি নিয়ে যেনো ভাবলো প্রায় পনেরো মিনিট পর এসে আমাকে ডেকে রুমে নিয়ে গেলো।
.
আঙ্কেলঃ- রমিও তুমি বাবা আমার মেয়েটাকে বিয়ে করো।
আমিঃ- কিভাবে সম্ভব আঙ্কেল?!!
আঙ্কেলঃ- তুমি চাইলে সম্ভব।
আমিঃ- আঙ্কেল আমি আপনার সব কথা মানতে পারবো কিন্তু বিয়েটা করতে পারবো না।
আঙ্কেলঃ- কিন্তু কেনো।
আমিঃ- আঙ্কেল আমি এখন ম্যাডামকে বিয়ে করলে খাওয়াবো কি? রাখবো কোথায়? তাছাড়া আমি গরীবের সন্তান আমার সাথে যদি ম্যাডামের বিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আপনার মান-সম্মান কোথায় গিয়ে দাড়াবে আপনি ভেবে দেখুন।
আঙ্কেলঃ- আমি তো আমার মেয়ের ভালো চাই,ও তোমার কাছে থাকলে ভালো থাকবে সুরক্ষিত থাকবে।
আমিঃ- কিন্তু……
আঙ্কেলঃ- কোন কিন্তু না। তুমি গিয়ে রেডি হয়ে এসো আমি এখানে আছি।
.
অবশেষে আমি বিয়ের পিরিতে। আঙ্কেল নিজে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ম্যাডামের পাশে বসিয়ে দিলো।আমি জানি আমাকে বিয়ের পোশাকে দেখে অনেক মেয়ের কষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই। আব্বু আম্মুকে দেখলাম অনেক খুশি।আঙ্কেল অনেক্ষন কথা বললো দুজনের সাথে। কি বলছে কে জানে। ম্যাডামের পাশে বসার পর প্রথমে চোঁখ পড়লো কাননের দিকে। মেয়েটির চোঁখ দিয়ে পানি পড়ছে। আমি জানি যে ও আমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো। তবে আমি একটু জিনিস এখন থেকে বুঝতে পারছি যে এই বিয়েটার পর থেকে আমার কপালে অনেক গুলো থাপ্পড় আছে। কয়টা আছে সেটা জানি না।
বিয়ের সব অানুষ্ঠানিকতা শেষে ম্যাডামকে রুমে নিয়ে গেলো।
আমি টুপ করে আমার রুমে ডুকে বিয়ের পোশক ছেড়ে একটা জিন্স আর টি-শার্ট পড়ে বাইরে বের হলাম।
এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করছি। কিছু মাথায় ডুকছে না। রাত ১০ টায় বাসায় ডুকলাম। এত রাত করে বাড়ি ফিরাতে কেউ দেখেনি।
.
আন্টিঃ- রমিও কোথায় গিয়েছিলে?
আমিঃ- একটু বাইরে গিয়েছিলাম।
আঙ্কেলঃ- তোমাকে তো বিয়ের পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! কোথায় ছিলে?
আমিঃ- ভালো লাগছে না তাই একটু বাইরে বের হয়েছিলাম।
আন্টিঃ- হুম বুঝলাম। এখন খেতে আসো।
আমিঃ- জ্বি,,ম্যাডাম খাবে না আন্টি?
আন্টিঃ- জুলি এখন থেকে তোমার বউ ম্যাডাম না ঠিক আছে। আর আমাদের দুজন কে তুমি মা বাবা বলে ডাকবে।
আমিঃ- আগে ম্যাডাম আমাকে মেনে নিক তারপর ভেবে দেখবো।
আন্টিঃ- তাও ঠিক বলছো। এখন খেয়ে নাও।
.
কানন চুপচাপ খাচ্ছে আর বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি জানি মেয়েটি অনেক কষ্ট পেয়েছে। ভালোবাসার মানুষটা অন্য কারো হয়ে যেতে দেখলে কে বা ভালো থাকতে পারে। খুব কষ্ট হচ্ছে কাননের জন্য কিন্তু আমার কিছুই করার নেই।
চুপচাপ খেয়ে নিলাম। সারাদিনের ক্লান্তি ভর করে আছে। এখন একটা ঘুম দিতে পারলে ভালো হয়।
.
আন্টিঃ- রমিও কোথায় যাচ্ছো?
আমিঃ- ঘুমাতে যাচ্ছি।
কাননের আম্মুঃ- তা তো বুঝলাম, কিন্তু ওই দিকে কেনো?
আমিঃ- কোথায় যাবো,আমার রুমতো ওইটা।
কাননঃ- আজ থেকে তোমার আর জুলির রুম একটা। আর আজকে তোমাদের বাসর রাত। তুমি উপরে জুলির রুমে যাও।
.
কানন বলছে এই কথা,ও কিভাবে পারলো এত তাড়াতাড়ি নিজেকে মানিয়ে নিতে। যাক ভালোই হলো যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে ততই ভালো হবে তার জন্য।
.
কাননঃ- ওই রমিও কি ভাবছো?
আমিঃ- না কিছু না।
কাননঃ- তাহলে যাও জুলির রুমে,আচ্ছা চলো আমি তোমাকে এগিয়ে দিই।
আমিঃ- লাগবে না।
কাননঃ- আরে চলো তো,,,,
.
কানন জোর করে বাইরে থেকে ধাক্কা দিয়ে ম্যাডামের রুমে ডুকিয়ে দিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিছে। আমার এখন কি করা উচিৎ আমি বুঝতে পারছি না। সোফায় গিয়ে কি শুয়ে পড়বো নাকি ম্যাডামের সাথে কথা বলবো। রুমের মধ্যে পায়চারী করছি আর ভাবতেছি কি করবো। এদিকে ম্যাডাম আমার দিকে তাকিয়ে আছে,আমার গতিবিধির উপর নজর রাখছে। প্রায় ৪৫ মিনিট ভেবেও কিছু পেলাম না। আরো ৫ মিনিট পর ম্যাডাম প্রথম মুখ খুললো…
.
ম্যাডামঃ- বান্দরের মতো লাফাচ্ছিস কেনো?
আমিঃ- ম্যাডাম লাফাচ্ছি না তো,ভাবছি।
ম্যাডামঃ- কি ভাবছিস?
আমিঃ- বলা যাবে না।
ম্যাডামঃ- না বললে নাই,তোর কথা শুনার শখ আমার নাই।
আমিঃ- ম্যাডাম আজকের এই বিয়ের জন্য আমি দায়ী না।
ম্যাডামঃ- তাহলে কে দায়ী বল।
আমিঃ- আপনার বাবা,ওনি জোর করে বিয়ে দিছে।আমি কি করবো বলেন।
ম্যাডামঃ- বিয়ে দিছে শেষ আর কোন কথা নাই, আমি তোরে মানবো না।
আমিঃ- আমার ঠেকা পড়ছে নাকি। (মনে মনে)
ম্যাডামঃ- ওই শোন,আমি তোরে আমার বর হিসাবে মানবো না,কোনদিন যদি স্বামীর অধিকার নিয়ে আসছিস তো সেদিন দেখবি কি করি তোরে।
আমিঃ- আমি এখন একটু ঘুমাবো। আসি..
ম্যাডামঃ- ওই দিকে কই যাস?
আমিঃ- আমার রুমে ঘুমাবো।
ম্যাডামঃ- কাননের রুমে যাবি না বলে দিলাম।
আমিঃ- ম্যাডাম এখানে কাননের কথা আসছে কেনো?
ম্যাডামঃ- তোর তো আবার ওর সাথে ভাব বেশি,এখন যদি ওর কাছে চলে যাস।
আমিঃ- তাতে আপনার কি?
ম্যাডামঃ- বেশি কথা বলবি না,যা কোথায় যাবি। আমার ঘুম পাচ্ছে…
.
কত বড় ফাজিল মাইয়া,নিজে তো বাসর ঘরে জায়গা দেয় নাই আবার কাননের কথা বলছে। আমি লুইচ্ছা,বদমাইশ, ইতর, চরিএহীন হতে পারি তাই বলে অন্যের দিকে নজর দিবো কেনো ঘরে বউ থাকতে। ইশশ দেখতে বউ বলে মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে কোন পরী বসে আছে বিছানায়। আচ্ছা পরীদের তো ডানা থাকে আমার বউয়ের কি ডানা ছিলো,যদি ডানা থাকতো তাহলে তো দেখতাম।আজ প্রথম ম্যাডামকে শাড়ি পড়া অবস্থায় দেখছি।অন্য মেয়েরা তো শখ করে হলেও শাড়ি পড়ে কিন্তু ওনি কখনো পড়ে নাই।
কখন ঘুমিয়ে পড়ছি নিজেই জানি না।
সকালে…দুলাভাই দুলাভাই দুলাভাই চিৎকারে ঘুমের কয়টা বাজলো খবর নেই। কে এই রমনী সকাল সকাল দুলাভাই দুলাভাই করে দরজা ধাক্কাচ্ছে।
.
কাননঃ- গুড মর্নিং দুলা ভাই।
আমিঃ- (শুধু তাকিয়ে আছি,এই মাইয়ার এমন আচারন দেখে তো আমি পুরাই টাস্কি)
কাননঃ- দুলাভাই কি দেখছেন? আপুকে দেখেন নাই কালকে?
আমিঃ- না দেখি নাই আপু কে।
কাননঃ- আমি তো নিজে নিয়ে গেলাম আপনাকে আপুর রুমে,বাসর ঘরে।
আমিঃ- তো কি হয়েছে?
কাননঃ- কি হয়েছে মানে? কালকে কি আপনি আপুর সাথে বাসর করেন নাই?
আমিঃ- কে বলছে করি নাই করছি তো।
কাননঃ- তাহলে আপনি এখানে কেনো?
আমিঃ- আপনার আপু বলছে সকাল ১০ টায় উঠবে। আমি যদি ওখানে থাকি তাহলে আপনি ডিস্টার্ব করলে ঘুমাতে পারবে না তাই আমারে সকাল সকাল এখানে পাঠিয়ে দিলো।
কাননঃ- দুলাভাই আপু কি দিলো কালকে রাতে?
আমিঃ- যা দিলো তা তো বলা যাবে না।
কাননঃ- ভাইয়া বলেন না,আমি ছাড়া তো কেউ জানবে না।
আমিঃ- আপনাকে বলবো কেনো কালকে রাতের কাহিনী?
কাননঃ- ভাইয়া বলেন না প্লিজ..
আমিঃ- বলবো…
কাননঃ- হুম বলেন।
আমিঃ- আমার লজ্জা করছে।
কাননঃ- ইশশ,মেয়েদের মতো লজ্জা পাওয়ার কিছু হয়নি বলেন।
আমিঃ- বলবো…
কাননঃ- আরে বাবা বলেন না….
আমিঃ- “”বাঁশ””!!!
কাননঃ- কি?
আমিঃ- কালকে রাতে আপনার আপু আমারে বাঁশ দিছে।
কাননঃ- এই কথাটা আরো আগে বলে দিলে কি হতো।
আমিঃ- আগে না বলি আর পরে বলছি কথা তো বলছি নাকি?
কাননঃ- তা কেমন বাঁশ দিলো?
আমিঃ- লম্বা। তৈল মাখানো লম্বা লম্বা বাঁশ দিলো।
কাননঃ- ভালো করছে। এখন উঠে আসুন। আর জ্বীম করতে যেতে হবে না। বিয়ে তো হয়ে গেছে কেউ পটবে না।
.
কি মেয়েরে বাবা। জানি মেয়েটি ফাজিল তবে এতটা যে ফাজিল সেটা জানতাম না। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই খেয়ে আসি।
.
আঙ্কেলঃ- রমিও বাবা তোমাকে একটা কথা বলি,আমার মেয়েটি কে কোন দিন কোন কিছু জোর করে করাতে পারিনি। ওর যা ভালো লাগে ও তাই করে। আমি জানি না ও এই বিয়েটা মেনে নিয়েছে কি না। তবে তুমি এতদিন যেভাবে ওর পাশে ছিলে সারাজীবন সেভাবে থাকবে।
আমিঃ- আঙ্কেল আপনি চিন্তা করবেন না। আমি আছি তো।
আঙ্কেলঃ- আমি, বিকালের ফ্লাইটে চলে যাচ্ছি। আর বিকালে তোমরা ঢাকার দিকে রওনা হবে।
আমিঃ- কেনো আঙ্কেল?
আঙ্কেলঃ- আমার একটা বাড়ি আছে ওখানে।সেখানে তোমরা দুজনে থাকবে আজ থেকে।
আমিঃ- কিন্তু…
আঙ্কেলঃ- কোন কিন্তু না। যেটা বলছি সেটা করবে।
আমিঃ- আচ্ছা ঠিক আছে।
.
বিকালে আঙ্কেল কে বিদায় দিয়ে আমরাও ঢাকার দিকে রওনা হলাম। কি ব্যাপার ম্যাডাম এত শান্ত হয়ে আছে কেনো? এমন শান্ত থাকতে তো ম্যাডামকে আগে কোনদিন দেখিনি। তবে কি আমার উপর আজকে কোন ঝড় আসতে চলেছে।গাড়িতে উঠে ড্রাইবারের পাশে সিটে গিয়ে বসে পড়লাম। আর ম্যাডাম পিছনে গিয়ে বসলো।আঙ্কেল কে বার বার বারন করার পরও ড্রাইবার দিয়ে দিলো সাথে।
.
৯ ঘন্টা পর আমরা ঢাকার বাড়িতে পৌঁছালাম। রাত ১২ টায় গিয়ে বাসায় ডুকলাম। বাড়িতে কেউ না থাকলে যা হয় আর কি। সব জায়গায় ময়লা জমে আছে। কেমন যেনো একটা গন্ধও আছে। আমি চারপাশে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি আর ম্যাডাম আমার দিকে চোঁখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
.
ম্যাডামঃ- ওই তাকিয়ে তাকিয়ে কি দেখছিস। অনেক ক্লান্ত লাগছে। আমি ঘুমাবো।
আমিঃ- কে বারন করছে আপনাকে ঘুমাতে। গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
ম্যাডামঃ- ঘুমিয়ে পড়বো মানে কি? আমি কি না খেয়ে ঘুমাবো নাকি?
আমিঃ- তো খেতে বারন করছে কে?
ম্যাডামঃ- খাবার পাবো কোথায় আমি? তুই গিয়ে নিয়ে আয়।
আমিঃ- কোনটা করবেন সেটা বলেন? আগে খাবেন নাকি ঘুমাবেন?
ম্যাডামঃ- দুইটা করবো।
আমিঃ- আগে কোনটা করবেন?
ম্যাডামঃ- খাবো।
আমিঃ- কি খাবেন?
.
.
চলবে……………………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here