বডিগার্ড থেকে বর . Part – 12

0
103

গল্প – বডিগার্ড থেকে বর
.
Part – 12
.
writer – #ArFin_SuMon (Mr. Romio)
.
.
ম্যাডামঃ- তোরে ঘুমাতে দিচ্ছে কে? এটা তোর শাস্তি।
আমিঃ- আমি কি অপরাধ করছি?
ম্যাডামঃ- তুই ইভার সাথে কথা বলছিস সাথে ওরে পাঠাইছিস ও যেনো আমাকে বলে আমি যেনো তোরে ডিবোর্স দিয়ে দিই।
আমিঃ- কি? ও আমাকে বলছে তোমার বউ তো তোমাকে ভালোবাসে না আমি তোমাদের ডিবোর্স করিয়ে দিবো। আবার এটাও বলছে যে ও যদি ডিবোর্স করিয়ে দিতে পারে তাহলে অামি যেনো ওকে গলায় ঝুলিয়ে নিই।
ম্যাডামঃ- কি এটা বলছে তোরে আর তুইও রাজি হয়ে গেছিস?
আমিঃ- রাজি হইনি তো শুধু বলছি পারলে ডিবোর্স করাও।
ম্যাডামঃ- তবে রে হারামি, আজ তোর একদিন কি আমার যতদিন লাগে লাগুক তোরে শেষ করে ফেলবো।
.
ছি ছি বর কে কেউ এভাবে মারে। এত শক্তি আসলো কিভাবে। উফফফ কি ব্যাথা। এত মেরেও যদি ঘুমাতে দিতো তাহলে ভালো হতো কিন্তু মহারানী সেটা করলো না উল্টো সারারাত নিজেও ঘুমায়নি আমাকেও ঘুমাতে দেয় নাই।
ভোর ৫ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুম থেকে উঠে দেখি ম্যাডাম নেই। সারাবাড়ি খুঁজেও যখন পেলাম না তখন ছাঁদে গিয়ে দেখি ইভার সাথে লাগছে।
মাথায় ডুকছে না আমাকে নিয়ে এত ঝগড়া করছে কেনো? আমাকে ম্যাডাম নিজে তো স্বামী মানতে চায় না। তাহলে কি দরকার ইভার সাথে ঝগড়া করার আমাকে নিয়ে।
.
ইভাঃ- রমিও তুমি কি বলছো? এই প্রেত্নি টা কে..
ম্যাডামঃ- কি আমি প্রেত্নি? তোর ১৪ গুষ্টি প্রেত্নি। তোরে যদি আর কোন দিন দেখি আমার বরের দিকে নজর দিতে তাহলে তোর চোঁখ তুলে ফেলবো।
ইভাঃ- আমিও শেষ বারের মতো বলছি ওরে ডিবোর্স দিয়ে দাওও।
ম্যাডামঃ- আমি কেনো আমার বর কে ডিবোর্স দিবো?
ইভাঃ- কারন আমি রমিও কে ভালোবাসি।
ম্যাডামঃ- তোর ভালোবাসা বের করছি দাঁড়া।এখনো সময় আছে ওর পিছু ছেড়ে দে..
আমিঃ- ইভা কি হচ্ছে এসব? তুমি কেনো আমাদের ডিবোর্স করাতে চাচ্ছো? আমি কি কোন দিন বলছি তোমাকে ভালোবাসি? শুধু শুধু কেনো অশান্তি করছো? ডিবোর্স দেওয়া না দেওয়া সেটা আমাদের দুজনের ব্যাপার। আশা করি আমাদের মাঝে তুমি ডুকতে আসবে না আর।
ম্যাডামঃ- তুই এখানে কেনো এসেছিস? চল ভিতরে চল তোর ব্যবস্থা করছি।
.
টেনে ভিতরে নিয়ে গেলো। রুমে ডুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো বাইরে থেকে। ক্ষিদের জ্বালায় বাঁচি না।
.
আমিঃ- ম্যাডাম ছেড়ে দিন না আমাকে নাস্তা রেডি করবো। ক্ষিদে লাগছে।
ম্যাডামঃ- ছাড়া ছাড়ির কোন কথা নাই। তুই আজ থেকে এই রুমে বন্ধ থাকবি।
আমিঃ- নাস্তা বানাবে কে?
ম্যাডামঃ- আমি বানাবো।
আমিঃ- রান্না করবে কে?
ম্যাডামঃ- আমি করবো।
আমিঃ- ঝাড়ু দিবে কে?
ম্যাডামঃ- আমি দিবো।
আমিঃ- কাপড় কাঁচবে কে?
ম্যাডামঃ- আমি।
আমিঃ- ইশশশ ডং দেখে বাঁচি না। পারেন তো শুধু শার্ট প্যান্ট পড়তে আর আমারে ধোলাই করতে।
ম্যাডামঃ- কি? কি বললি তুই? তোর খাওয়া বন্ধ আজ থেকে।
আমিঃ- ইয়াক থু। আপনি রান্না করতে পারেন নাকি যে আপনার রান্না খাবো।
ম্যাডামঃ- তোরে আমি মেরে ফেলবো।
আমিঃ- না মেরে ইভা কে দিয়ে দিন।
ম্যাডামঃ- আবার সেই ইভা। তোর মুখে কি আর অন্য কোন নাম নেই?
আমিঃ- আছে তো।
ম্যাডামঃ- কে সে?
আমিঃ- কানন।
ম্যাডামঃ- তবে রে। তোর খাওয়া বন্ধ বলছি বন্ধ।
আমিঃ- খাবো না।
.
এসব কি হচ্ছে কিছুই তো মাথার ১৬জিবি মেমোরি তে ডুকছে না। ম্যাডাম কি আমার উপর দূর্বল হয়ে পড়ছে? এটা কি করে সম্ভব। আমি কোথায় আর ম্যাডাম কোথায়? ম্যাডাম কি আমাকে ভালোবেসে ফেলছে নাকি? যদি ভালো না বাসে তাহলে ইভার সাথে ঝগড়া কেনো করছে আমাকে নিয়ে? তবে কি ম্যাডাম আমাকে ভালোবাসে?
ম্যাডামের কোন সাড়া শব্দ নেই? ম্যাডাম কি করছে দেখা দরকার কিন্তু কিভাবে দেখবো ম্যাডাম তো বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিছে। কি করা যায়। পাইছি জানালা দিয়ে বের হবো কিন্তু কিভাবে?
অবশেষে অনেক কষ্টের পর জানালা দিয়ে বের হয়ে ছাদে পোঁছালাম।
এবার দেখার পালা ম্যাডাম কি করে। চুপিচুপি এসে সোফার পিছনে লুকিয়ে পড়লাম। ম্যাডামকে কোথাও দেখছি না। একটু পরে দরজা খুলে বাসায় ডুকলো হাতে কয়েকটা প্যাকেট নিয়ে। তারপর গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে প্লেট নিয়ে আমাকে যে রুমে বন্ধ করে রাখছে সেই রুমের দরজায় গিয়ে বসে খাবার বের করছে। এইদিকে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে ক্ষিদে। চোঁখের সামনে গরম গরম বিরিয়ানি দেখে ক্ষিদের পরিমান আরো তিন গুন বেড়ে গেলো। দুইটা প্লেটে বিরিয়ানি বেড়ে রাখছে।
.
ম্যাডামঃ- রমিও।
আমিঃ- ………(চুপ করে আছি)
ম্যাডামঃ- এই রমিও খেতে আয়।
আমিঃ- ………..(এখনো চুপ)
ম্যাডামঃ- ওই আসবি নাকি মাইর খাবি? (দরজা খুলে ডাকছে এবার।)
.
কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমে ডুকলো ম্যাডাম। আর আমি এই সুযোগে একটা প্লেট নিয়ে ডাইনিং টেবিলের নিচে বসে পড়লাম।
ওই দিকে ম্যাডাম আমাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে যাচ্ছে। আমি খাওয়ার তালে আছি।
.
ম্যাডামঃ- ওই বিড়াল বের হয়ে আয়।
আমিঃ- ম্যাডাম আপনি কখন আসছেন?
ম্যাডামঃ- জানালা কেটে পালিয়ে এসে বসে বসে খাচ্ছিস? এই তুই না বলছিস আমি রান্না করতে পারি না তাহলে খাচ্ছিস কেনো?
আমিঃ- আপনার রান্না হলে খেতাম না।
ম্যাডামঃ- কি এটা আমার রান্না না?
আমিঃ- কি চিটিং মাইরি বাইরে থেকে খাওয়ার নিয়ে এসে নিজের নাম দিচ্ছেন?
ম্যাডামঃ- আমি বাইরে থেকে খাওয়ার নিয়ে আসছি কে বলছে তোকে?
আমিঃ- আমি দেখছি।
ম্যাডামঃ- তবে রে বান্দর পোলা। উম্মম্মম্মম্মম্মম্মা..
আমিঃ- ম্যাডাম এটা কি হলো?
ম্যাডামঃ- কি হয়েছে?
আমিঃ- আপনার নজর খারাপ হয়ে যাচ্ছে ম্যাডাম?
ম্যাডামঃ- কি? কি করছি আমি যে আমার নজর খারাপ হয়ে গেলো?
আমিঃ- একটু আগে যেটা করলেন এটা কি ঠিক করছেন?
ম্যাডামঃ- তুই আজ থেকে আমার সাথে কথা বলবি না। অন্য মেয়েদের সাথে টাংকি মারতে পারিস তখন কিছু হয় না আর এখন আমি একটা কিস দেওয়াতে বলছিস আমার নজর খারাপ।কোনদিনও তোর সাথে কথা বলবো না তুইও কথা বলতে অাসবি না।
আমিঃ- বলবো না। আপনি কোন দিন কি আমাকে স্বামীর সম্মান দিছেন? দেন নাই। কথায় কথায় থাপ্পড় মারতেন এটা করতেন সেটা করতেন। কথায় কথায় অপমান করতেন। আমি কোনদিন আপনার কোন কিছুতে বাঁধা দিই নাই আপনিও আমার কোন কিছুতে বাঁধা দিবেন না।
আজ থেকে আপনার মতো আপনি থাকবেন আর আমার মতো আমি।
.
এটা কি হলো। যা হবার হয়েছে এত কিছু ভাবার সময় নাই। পেট ভরে গেছে এখন একটু পার্সপোট অফিস থেকে আসি। পার্সপোট রেডি হয়ে গেছে মেসেজ আসছে ওটা নিয়ে আসি।
প্রায় ১ মাস হতে চললো ম্যাডাম আর আমার কোন কথা হয়না। দুজনে বাইরে গিয়ে খাবার নিয়ে এসে তারপর নিজেদের রুমে গিয়ে খাই।
ম্যাডামের দিকে তাকালে বুঝা যায় ম্যাডাম এখন রাত জাগে। চোঁখের নিচে কালি জমে গেছে। আগোছালো হয়ে গেছে। আগের মতো জিন্স শার্ট পড়ে না। সেলোয়ার কামিজ এসব পড়ে।
আগের থেকে অনেক সুন্দর লাগে ম্যাডাম কে।
তবে শাড়ি পরলে আরো সুন্দর লাগতো। বাংলার মেয়েদের শাড়ি ছাড়া মানায় না।
ভাবছি একটা ট্রিট দিবো ম্যাডাম কে।
ভিসা পার্সপোট সব কিছু রেডি হয়ে গেছে। সৌদি চলে যাবো আমার ব্রেস্টফ্রেন্ড ওখানে থাকে ও সব ব্যবস্থা করছে।
.
আমিঃ- ম্যাডাম।
ম্যাডামঃ- কি? (মনে হচ্ছে আমার ডাক শুনার জন্য অধির অাগ্রহে অপেক্ষা করছে জনম জনম ধরে)
আমিঃ- শর্পিং করতে যাবেন নাকি?
ম্যাডামঃ- যাবো না।
আমিঃ- আর কিন্তু সুযোগ পাবেন না। আবার বলছি শর্পিং করতে যাবেন?
ম্যাডামঃ- হুম যাবো, নিয়ে চল।
আমিঃ- চলুন।
.
যাক যেতে রাজি হয়েছে। দুজনে একসাথে বের হলাম। রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি এমন সময় দেখি ইভা আসছে। ইভা যদি কিছু বলে এখন তাহলে আমার আর রক্ষা নাই।

ইভাঃ- “”এই জান শুনো না। রাতে ফোন দিলে ছাঁদে এসো। দুজনে একসাথে চাঁদ দেখবো।””
.
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। কি দরকার ছিলো এটা বলার। ফাজিল মাইয়া,লুইচ্ছা মাইয়া।কি মজা পায় বুঝি না এমন করে।
.
আমিঃ- ম্যাডাম শর্পিং করতে যাবেন না?
ম্যাডামঃ- দাঁড়া তোর শর্পিং বের করছি। তোর ইভা কে শর্পিং করিয়ে দে যা। আজ থেকে তোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। তুই লুকিয়ে লুকিয়ে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলিস।
আমিঃ- ম্যাডাম আমার কোন সম্পর্ক নাই কারো সাথে। ইভা তো অনেক আগে থেকে আমার পিছনে লেগে আছে সেটা আপনি জানেন।
ম্যাডামঃ- অবশ্যই তোর সাথে ওর সম্পর্ক আছে। না হলে তোরে জান বলে ডাকলো কেনো?
আমিঃ- আমাকে ফাঁসানোর জন্য এটা বলছে।
.
.
চলবে……………………


(গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here