আকাশে তারার মেলা পর্ব -৮

0
130

#আকাশে_তারার_মেলা
#লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
#পর্ব -৮

কালো একটা শাড়ি পড়ে চা বাগানের মাঝখানে দৌড়াচ্ছে তুলি। আবার পিছন ফিরে ফিরে খিলখিল করে হাসছে। কালো পাঞ্জাবির হাতা টা ফ্লোড করতে করতে দ্রুত গতিতে ছুটে আসছে আদ্র। ঠোঁটে তৃপ্তির মনকাড়া এক হাসি। ছয় ফুট লম্বা,ফর্সা চেহারার মায়ায় গড়া যুবক কে কালো পাঞ্জাবি তে তুলির কাছে কল্পনার রাজ্যের নায়ক মনে হচ্ছে। আদ্রর হাসি দেখে থমকে গেল তুলি। হাসি টা অন্তরে গিয়ে বিঁধছে। পা নাড়ানোর শক্তি টুকু হারিয়ে ফেলল । আদ্র দৌড়ে এসে তুলি কে হ্যাঁচকা টানে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসল। শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষণিকের জন্য আটকে গেল তুলির। আদ্রর মুখ পানে লাজুক দৃষ্টি তাক করতেই খালি কোমরে নিজের ঠান্ডা হাত টা রাখল আদ্র। কেঁপে উঠল তুলি। খামচে ধরল আদ্রর বুকের কাছের অংশ। একটু হেসে আদ্র একটুখানি ঝুঁকল তুলির মুখের দিকে। দুজনের ঠোঁট কাছাকাছি। আদ্রর নরম ঠোঁট দুটো যেন তুলি কে টানছে ভীষণ করে। ভিতর জুড়ে শুরু হল প্রচন্ড তোলপাড়।নিজের ঠোঁটে আদ্রর ঠোঁটের হালকা স্পর্শ অনুভব করতেই চোখে মুখে বৃষ্টির ছটা আবিষ্কার করল। রৌদ্রময় দিনে বৃষ্টির আগমন। উহু! আবারও আদ্রর ঠোঁট কে আঁকড়ে ধরতে নিলে ভিজে চুপেচুপে হয়ে গেল পুরো মুখ। লাফ দিয়ে উঠে বসল তুলি। আমরিন কে দেখে মুখ ফুলিয়ে বিছানা থেকে উঠে গেল। উচ্চস্বরে আমরিন দুষ্ট হেসে বলে উঠল,,,

–“সারা রাত আমার ভাইয়ের বুকে ঘুমিয়ে পুষে নি তাই না? এখন আবার পরে পরে ঘুমচ্ছিস। তাড়াতাড়ি রেডি হন বাহিরে যাব আমরা। দেরি হলে কিন্তু ভাইয়া এসে রেডি করিয়ে দিবে তার জন্য মোটেও কতৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।”

আমরিনের কথায় লজ্জা পেয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল তুলি। এসে গোসল করে নি। লং জার্নি করে টায়ার্ড হয়ে পড়েছিল। দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দু হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিল। ইশ! কি রকম স্বপ্ন দেখল আদ্র কে নিয়ে। নিজেকে নিজেই ধিক্কার জানাতে ইচ্ছে করছে। আচ্ছা যদি সত্যিই এমনটা হয়?আর ভাবতে পারছে না তুলি। কিভাবে প্রকাশ করবে নিজের মনের কথা আদ্রর সামনে? এই সাহস যে নেই। আদ্র যদি ফিরিয়ে দেয় অথবা থাপ্পড় মেরে দেয় সেটা ভেবেই শিউরে ওঠে তুলি। কি দরকার ছিল আদ্রর বুকে ঘুমানোর?এখন আমরিন ও রসাত্মক কথা শুনাচ্ছে। আমরিন ওয়াশরুমের দরজায় টোকা দিয়ে বলল,,,

–“তুলি আমি বাহিরে যাচ্ছি। তুই রেডি হয়ে চলে আয় শীগ্রই। ”
আমরিনের কথায় তুলি অস্ফুটস্বরে জবাব দিল,,,

–“হুম”

শাওয়ার নিয়ে খেয়াল হল কাপড় আনে নি সাথে। তখন স্বপ্ন ও আমরিনের কথা ভেবে লজ্জার ঘোরে বেমালুম ভুলেই গেছে কাপড় আনতে। কি আর করার?শরীরে ভালো করে তোয়ালে পেচিয়ে দরজা মেলে মাথা বের করে দেখল কেউ নেই রুমে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এক দৌড়ে গিয়ে কাপড় নিয়ে আসল ব্যাগ থেকে।লাল একটা ড্রেস পড়ে রুমে এসে আয়নার সামনে দাড়িয়ে ভেজা চুল ঝাড়তে লাগল। হঠাৎ আয়নায় নজর যেতেই ভিতরকার ছোট্ট প্রাণটা বেড় হয়ে যাওয়ার উপক্রম তুলির। কারণ আয়নায় তুলি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে দেয়ালে হেলান দিয়ে আদ্র বুকে হাত গুঁজে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার দিকে। হাতের টাওয়াল টা ফেলে ঝটপট ওড়না টা গায়ে দিল তুলি।আদ্র কখন এলো দরজা তো লাগানো। তার মানেই আগেই এসেছেন? ওহ নো! ওনি কি দেখে ফেলেছেন? একটু আগের কথা মনে পড়তেই অভিশঙ্কিত হয়ে পড়ল তুলি। আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল,,

–“আপনি কখন আসলেন আদ্র? ”

–“বিশ মিনিট হবে।”

এবার বোধহয় তুলি বেহুশ হয়েই যাবে। তার মানে আদ্র টাওয়াল পড়া অবস্থায় দেখে ফেলেছে? তুলি কন্ঠে জড়তা নিয়ে বলল,,

–” তার মানে আপনি সব দেখে ফেলেছেন?”

ভ্রু কুঁচকে তাকাল আদ্র। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগল তুলির দিকে। তুলি নড়ার শক্তি টুকু ও হারিয়ে ফেলল। ফ্লোরে পা আঁকড়ে দাঁড়িয়ে রইল ঠাঁই। কাছে এসে টাওয়াল টা দিয়ে তুলির ভেজা চুল গুলো মুছে দিতে দিতে আদ্র বলল,,

–“কি দেখার কথা বলছো তুলি?আমি এতোক্ষণ বেলকনিতে ছিলাম। নাস্তা করে তাড়াতাড়ি বের হতে হবে আমাদের।”

তুলি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। মুচকি হেসে আয়নার সামনে দাড়িয়ে রেডি হয়ে নিল। চুল গুলো ছেড়ে রাখল। তারপর আদ্রর সাথে বেরিয়ে এল বাহিরে। রিসোর্ট টা বেশ সুন্দর। আগে থেকেই বুক করে রেখেছিল আদ্র। পুরো রিসোর্ট টা একাই শুধু নিজেদের জন্য বুক করেছে। তুলি আগে আগে যেতে নিল পিছন থেকে ডাকল আদ্র। বিস্ময় নিয়ে তাকাল তুলি। একটু হেসে আদ্র তুলির হাত টা মুষ্টিমেয় করে এগিয়ে যেতে লাগল সামনের দিকে। আদ্রর ছোঁয়া তুলির অন্তর কে নাড়িয়ে দেয় বার বার। অপলক চোখে আদ্রর দিকে তাকিয়ে রইল তুলি। আদ্রর হাটার তালে টানে টানে এগিয়ে যাচ্ছে সে। খাবার টেবিলের কাছে আসতেই অন্তু হেসে বলে উঠল,,,

–“স্পেশাল দু’জন মানুষ চলে এসেছে ভাই। তা আপনারা কি হারিয়ে গিয়েছিলেন অন্য জগতে? আপনাদের খুঁজতে খুজতে আমার পেটের অবস্থা খুবই বিভৎস।”

আদ্র তীক্ষ্ণ নজরে চাইল অন্তুর দিকে। হি হি করে হেসে উঠল অন্তু।

–“কি ভাই তুই ডাক্তার হইয়া এমন মাফিয়া গো মতো ভয় দেখাস কা? তোকে ডাক্তার কেডা বানাইছে? হার্ট সার্জন হইলি কেমনে ভাই?তোর চোখ রাঙানো তেই তো হার্ট এট্যাক হওয়ার উপক্রম। ও তুলি সাবধানে থাইক্কো। নিজের ছোট্ট হৃদপিন্ড টা রে সামলাই রাইখো।”

অন্তুর মুখের কথা শুনে হু হু করে হেসে উঠল সবাই। তুলি কে চেয়ার টেনে বসিয়ে আদ্র চেয়ারে বসতে বসতে পায়েলের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,,

–” পায়েল এই মদন রে দুই বেলা ঝাড়ু পেটা করিস। যা অবস্থা দেখছি মনে হয় না বেশিদিন সংসার করতে পারবি। শেষমেশ তোর মদন জামাই রাস্তাঘাটে গণ পিটুনি খেয়ে প্রাণ টাই হারাবে।”

আদ্রর কথা শুনে আবারও হাসির রোল পড়ে গেল। নাস্তা করে সবাই বেরিয়ে পড়ল মালনীছড়া চা বাগানের উদ্দেশ্যে। গাড়িতে নিবিড়ের পাশের সিটে বসল আমরিন। কিছুটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর হুট করে প্রশ্ন করল,,,

–“আপনি কাউকে ভালোবাসেন নিবিড় ভাইয়া?”

অদ্ভুত চাহনি নিয়ে আমরিনের দিকে তাকাল নিবিড়। এ প্রশ্ন টা তার ভিতরে জমে থাকা অনুভূতি গুলো কে জাগিয়ে তুলল। মন বলছে এটাই সুবর্ণ সুযোগ নিবিড়। পরক্ষণেই মনে হল না সঠিক হবে না। আমরিন উত্তরের আশায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে। প্রশ্ন টা সে সুযোগ বুঝে ইচ্ছে করেই করেছে। নরম স্বরে জবাব আসল,,

–“না।”

উত্তর টা বিশেষ পছন্দ হল না আমরিনের। তাই অন্য টেকনিক অবলম্বন করল।

–“আচ্ছা ভাইয়া আমি একটা কথা বলব। ভাইয়া কে বলবেন না প্লিজ। আমি না একটা ছেলে কে ভালোবাসি। কিন্তু কিভাবে বলব সেটাই বুঝতে পারছি না।”

অসহনীয় পীড়া অনুভব করল নিবিড় বুকের বা পাশ টায়। নিষ্পলক চোখে চাইল আমরিনের দিকে। বিমূর্ত মৃদু স্বরে বলল,,

–” কাকে ভালোবাসো আমরিন?আর সত্যিই কি ভালোবাসো? এটা তোমার বয়সের আবেগ ও হতে পারে।”

তীব্র রাগ পেল আমরিনের। রাগী কন্ঠে বলল,,

–“আমি সত্যিই ভালোবাসি ভাইয়া।”

চড়চড় করে রাগ চেপে বসল নিবিড়ের মাথায়। নিজেকে শান্ত রাখার অগাধ চেষ্টা করেও রাখতে পারল না শেষ পর্যন্ত। আমরিনের কোমরে হালকা চাপ দিয়ে নিজের কিছু টা কাছে নিয়ে এল। বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে রইল আমরিন। চোখ দুটো লাল নিবিড়ের। আমতাআমতা করে কিছু বলতে নিলে হুঁশশ করে উঠল নিবিড়।

–” এ বয়সে ভালোবাসা মারাও তাই না? হাত পা কেটে আমার বাহুতেই রেখে দিব বেশি পাকনামি করলে। কোনো ছেলের ধারে কাছে ও যদি দেখি তবে আমার হাত থেকে রেহাই পাবে না। মনে আমি ব্যাতিত অন্য কেউ থাকলে রিমুভ করে দাও। দু দুটো বছর ধরে আমার মনে আগুন জ্বালিয়ে এখন অন্য কারো হওয়ার ভাবনা? ছেড়ে দেবার পাত্র আমি না। শুধু মাত্র ভদ্রতার খাতিরে চুপ ছিলাম।”

রাগী স্বরে কথাগুলো বলে আমরিন কে ছেড়ে দিল। স্তব্ধ হয়ে রইল আমরিন। কি ছিল এটা? নিবিড়ের এমন এক রূপ অকল্পনীয়। নিবিড় কে জেলাস ফিল করাতে গিয়ে নিজেই স্তব্ধ হয়ে গেল বেচারি। আমরিনের চশমা টা মুছে চোখে পড়িয়ে দিল নিবিড়। হাত টা মুঠোয় পুরে বলল,,,

–” আমার হৃদয়ে দহন জালানো প্রথম রমণী তুমি চাশমিশ।”

_______

মালনীছড়া চা বাগান যা উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান হিসেবে ধরা হয়।সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর জন্য পর্যটকদের কাছে পছন্দের একটা স্থান অপরুপ সৌন্দর্যে ভরপুর এই চা বাগান। গাড়ি থেকে নেমে তুলি আনন্দে চেপে ধরল পাশে থাকা আদ্রর হাত। খুশিতে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না একদম। হালকা হাসল আদ্র। এই ছেলের হাসি টা মানুষ কে ঘায়েল করার জন্য যথেষ্ট। এই যে রিমি কে ও ঘায়েল করে নিল আরো একবার। কিন্তু দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়া কিছুই নেই তার কাছে। কলেজ জীবনে আবেগময় সেই বয়সে আদ্রর মায়ায় পড়ে গিয়েছিল রিমি। কিন্তু বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয়ে আজও মন খুলে পারে নি নিজের কিশোরী জীবন থেকে হৃদয়ে সঞ্চারিত সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে। আর কখনও করাই হবে না। কারণ আদ্র যে মাতোয়ারা অন্য কারো মোহ তে। মাতোয়ারা বললে ভুল হবে পুরো বন্ধুমহল জানে মেয়েটা কে ছাড়া আদ্রর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তুলি ও আদ্রর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল রিমি। তার মতে থাকনা কিছু ভালোবাসা অপ্রকাশিত। একপাক্ষিক ভালো কয়জনই বা বাসতে পারে? সে পেরেছে। তার মধ্যে ও অন্যরকম সুখ খুঁজে পায় রিমি।

তুলির কান্ড দেখে আর বিলম্ব করল না আদ্র। হাত ধরে এগিয়ে গেল চা বাগানের ভিতরে। কিন্তু তুলি সে তো উড়তে চাইছে মুক্ত পাখির মতো। বুঝতে পেরে হাত টা ছেড়ে দিল আদ্র। নিজেও দ্রুত পা চালাতে লাগল তুলির সাথে। অন্যদিকে অন্তু-পায়েল, রিমি-সাগর,নিবিড় -আমরিন সবাই জোড়ায় জোড়ায় হাটছে। অন্তু-পায়েল ব্যতীত বাকি কেউ যুগল না হলেও যে কেউ দেখলে অনাসয়ে বলবে এরা একে অপরের সাথে বন্ধনে বাঁধা। দূরে কিছু মহিলাদের চা পাতা তুলতে দেখে দৌড়ে গেল তুলি। কোনো দিকেই খেয়াল নেই তার। প্রফুল্লতা বিরাজ করছে তার মাঝে। দু গালে হাত রেখে অবাক হওয়ার দরুন তাকিয়ে রইল মোহময় দৃষ্টিতে। তুলির এমন চাহনি দেখে খুব হাসি পেল সবার। সেই সাথে আদ্রর মনে শুরু হল ভালো লাগার বিস্তৃত। ঝটপট মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দী করে নিল মুহুর্ত টা। বাকি সবাই আলাদা আলাদা হয়ে ঘুরতে লাগল। আদ্র তুলি কে টেনে অন্যদিকে নিয়ে আসল। মুখ ফুলিয়ে ফেলল তুলি।

–“আপনি আমায় নিয়ে আসলেন কেন?”

–“সারাদিন কি চা পাতা তোলা দেখবে? উম! ভালোই হবে। চা পাতা তোলার কাজে লাগানো যাবে তোমাকে।এমনিতে তো সারাদিন আজাইরা থাকো আর যত্তসব উদ্ভট কথা বলে বেড়াও।”

কথার মাধ্যমে যে খোঁচানো হচ্ছে তা বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছে তুলি। হঠাৎ তুলির মনে প্রশ্নের বিস্তার হল।মনে হল এটাই মুখ্য সুযোগ উত্তর টা জেনে নেওয়ার।এক বুক সাহস জুগিয়ে আদ্রর আঙুল আঁকড়ে ধরল। থমকে গেল আদ্র। তুলির দিকে তাকাল বিস্ময় নিয়ে। চোখ বুঁজে কিছুটা শান্ত কন্ঠে তুলি প্রশ্ন করল,,,

–“আচ্ছা ডাক্তার সাহেব আপনি কখনও কাউকে ভালোবেসেছেন?”

প্রশ্ন করতেই হাতে তীব্র টান অনুভব করল তুলি। নিজেকে আবিষ্কার করল আদ্রর অতি নিকটে। আদ্রর চোখে মাদকতা বিরাজমান। চোখে চোখ রাখতেই হৃদপিন্ডের উঠানামা হতে লাগল দ্রুত গতিতে। চোখের কার্ণিশে ফুটে উঠল লজ্জার ছাপ। তবে কি তুলি যা ভেবেছিল তাই? মনের গহীন থেকে আওয়াজ আসল আদ্র তোকে ভালোবাসে তুলি। আদ্রর মন জুড়ে তোরই বসবাস। এখনই তা প্রমাণ করে দিবে আদ্র। মুড়িয়ে নিবে তোকে ভালোবাসার চাদরে। কথাগুলো যেন তুলিকে আরও কাঁপিয়ে তুলল। মনে খুশিগুলো দলা পাকিয়ে উঠল। আদ্র ধীরে ধীরে মুখ টা কানের কাছে নিতেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগল তুলির। একদিকে মনে অজস্র অনুভূতির ছড়াছড়ি অন্যদিকে আজ নিজের ভালোবাসার মানুষের মুখ থেকে ভালোবাসি শব্দটা শুনতে যাচ্ছে। আরেকটু স্থির হতেই কানের পাতায় আদ্রর কোমল অধরের উষ্ম ছোঁয়ায় নড়ে উঠল তুলি। তবে কি সত্যি হতে যাচ্ছে স্বপ্ন টা?আদ্রর স্পর্শ তুলির সারা দেহে শিহরণ জাগিয়ে তুলছে। মৃদু স্বরে আদ্র বলে উঠল,,

–“আমি,,,আমি একটা সিক্রেট বলব? ”

তুলির গাল দুটো রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। ইচ্ছে করছে আদ্র কে জড়িয়ে ধরে বলতে,,–“থাকুক না মনের কথা মনে আপনি বরং আমায় মিশিয়ে নেন আপনার অস্তিত্বে।”

–“শুনবা না?”

আদ্রর কন্ঠে আদর মাখানো বাক্য টা উপেক্ষা করতে পারল না তুলি। মন তো খুব করে চাইছে “ভালোবাসি” শুনতে। আচ্ছা শুনার পর নিজেকে কিভাবে কন্ট্রোল করবে তুলি?জ্ঞান হারাবে না তো?দুর্বল কন্ঠে জবাব দিল,,

–“হুম।”

–“সিক্রেট টা হলো সকালে তোমাকে টাওয়াল পড়া অবস্থায় কিউট একটা পিচ্চি লাগছিল।”

ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে কথাটা বলে সরে এল আদ্র। তুলি চোখের আকৃতি এতো বড় হয়ে এল যে এই বুঝি কোটর থেকে বেরিয়ে যাবে। কানটা ও ঝালাপালা হয়ে গেল। কথাটা বজ্রপাতের ন্যায় শুনাল।লজ্জায়, অভিশঙ্কায় মাটি ফাক করে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে। সে কি ভেবেছিল আর কি হল? উল্টো ইজ্জত শেষ। তুলি কে লজ্জামিশ্রিত চেহারায় দেখে ঠোঁট প্রসারিত করল আদ্র। লজ্জা দেওয়ার জন্য আবারও একটু ঝুঁকে বলে উঠল,,,

—শুধু কিউট না হ***

দুঃসাহসিক এক কাজ করে বসল তুলি। অসমাপ্ত থেকে গেল আদ্রর কথা। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হল আদ্রর। পুরো শরীর জমে গেল। চোখের চারপাশ টা জমাট বাঁধা রক্তের মতো লাল হয়ে গেল। তুলির ঠোঁট দুটো আদ্রর ঠোঁটে নিবদ্ধ। ধাক্কা দিয়ে তুলি কে সরিয়ে দিল আদ্র। দু চোখ থেকে যেন আগুনের ফুলকি ঝরছে যা নিমিষেই জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিবে তুলি কে। লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলল তুলি। আদ্র কে আটকাতে গিয়ে আবেগের বশে ঠোঁট ঠেকিয়ে দিয়েছে আদ্রর ঠোঁটে। বুকটা হাহাকার করে উঠল। এ মুহুর্তে মরে যেতে পারলে বেশ হতো। আদ্রর ধাক্কায় মন বলছে আদ্র তাকে ভালোবাসে না। নয়তো এভাবে অগ্নি বর্ষণ হতো না তার চোখ থেকে। যন্ত্রণা টা প্রখর হতে লাগল তুলির। চোখ থেকে টুপটুপ জল গড়িয়ে পড়ছে। শব্দবিহীন আদ্র চলে গেল তুলি কে ফেলে। আর্তচিৎকার করে উঠল তুলির অন্তর টা। আদ্রর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল রক্তজবার মতো লাল চোখ দুটো নিয়ে।

চলবে,,,,

(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here