একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~২০||

0
684

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~২০||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৩৫.
ইউনিভার্সিটির সামনে একটা সাদা ধবধবে মারসিডিস এসে দাঁড়ালে সবার চোখ সেটার দিকে পরে। কারণ ভার্সিটির প্রায় স্যার ম্যাডামরা এসে পড়েছেন ভার্সিটিতে আর বাদবাকি স্টুডেন্টসদের মধ্যে যারা গাড়ি নিয়ে আসে তারাও প্রায় এসে পড়েছে ইতিমধ্যে। তাহলে এটা কে? সবার মনে জাগা প্রশ্নের উত্তর কিছুক্ষনের মধ্যেই সবাই পেয়ে গেলো।

গাড়ি থেকে নামতেই দেখলাম সবার নজর আমার দিকে। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন এই মারসিডিস গাড়ি করে আমিই এসেছি। শুধু এটুকুই নয় আজ আমি এসেছি ডেনিম জিন্স, একটা হুডি তার সাথে নরমাল মেক-আপ। চুলগুলো ছোটো করে কাটা, ঘাড় অবধি। নিজের লেডিস ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ড্রাইভারকে বললাম,

‘তুমি চলে যাও। আমি হস্টেলেই থাকবো তাই গাড়ির প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে আমি ডেকে নেবো তোমাকে।’

‘ওকে ম্যাডাম।’

ড্রাইভার চলে গেলে আমি ভার্সিটিতে প্রবেশ করলাম। সবার রিয়াকশন দেখে হাসলাম হালকা। কিছুটা যেতেই কোয়েল এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। কোয়েলকে পাশ কাটিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলাম অঙ্কিত হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর তাকানো দেখে আমি আর কোয়েল দুজনেই হেসে ফেললো।

‘চল গিয়ে ওর মুখটা বন্ধ করে নাহলে মশা ঢুকে যাবে।’

আমি আর কোয়েল হাসতে হাসতে অঙ্কিতের কাছে গিয়ে দাঁড়ালে অঙ্কিতের হুঁশ তাও ফেরে না। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে, দুজন দু-গালে থাপ্পড় দেই অঙ্কিতের গালে আর ও লাফ দিয়ে পিছনে সরে যায়।

‘এই, এই, এই মারলি কেন আমায়?’

‘অভাবে হাঁ করে কি দেখছিলে তুমি আমার দিকে।’

আমি হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলে অঙ্কিত আমতা আমতা করতে থাকে। পাশ দিয়ে কোয়েল বলে,

‘আমাদের অঙ্কিত দাদা কিরাশ থুক্কু ক্রাশ খেয়েছে তোর উপর। তাই তো দাদা?’

‘কে দাদা? কার দাদা? কোথাকার দাদা? কবেকার দাদা? আমি কাওর দাদা নই।’

আমরা অঙ্কিতের কথা সমানে হেসে যাচ্ছি সেই দেখে অঙ্কিত গাল ফুলালো। কোয়েল আমাকে কানে কানে বললো,

‘পিছে দেখো পিছে।’

আমি পিছন ফিরতেই দেখলাম জিয়া ওর পুরো দলবল নিয়ে আমাদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। আদিত্যের অবস্থাও এক। এটা দেখে হাসলাম আমি।

‘কোয়েল, চল।’

আমি ইচ্ছা করেই ওইদিকে এগিয়ে গেলাম যেখানে জিয়ার দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ওদের সাথে কথা না বলে ওদের না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যেতে নিলে জিয়া আমার নাম ধরে পিছন থেকে ডাকে,

‘মৌমিতা!’

আমি পিছন ফিরলে জিয়া আমার সামনে দাঁড়িয়ে পা থেকে মাথা অবধি দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

‘তুই মৌমিতা তো?’

‘(হেসে) কেন বিশ্বাস হচ্ছে না? অবশ্য হবেই বা কি করে? যাকে এতদিন বেহেনজি ভাবতিস সে তোদের মতো মডার্ন ড্রেস পরে এসেছে। যাকে মিডিল ক্লাস মেয়ে ভাবতিস সে মারসিডিস নিয়ে ভার্সটি আসছে। চোখের সামনে এমন চেঞ্জস দেখলে যে কাওরই তোর মত অবস্থা হওয়ার কথা। আসলে তুই একটা কথা ভুলে গেছিলি, আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি ভবিষ্যতে আর ভুলিস না জানো। ডোন্ট জাজ আ বুক বাই ইটস কভার।’

আমরা চলে এলাম। পিছন ফিরে দেখার প্রয়োজন মনে করিনি আর। ক্লাস করার পর আমি, কোয়েল আর অঙ্কিত ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছি তখন দেখলাম জিয়া একটা ছেলের সাথে কথা বলছে। কথা বলছে বললে ভুল হবে, বলা যায় ঢলে পড়ছে ছেলেটির গায়ে। আমরা তা পাত্তা না দিয়ে পাশ কাটিয়ে বেরোতে গেলে ছেলেটির গলার আওয়াজ পাই।

‘এক্সকিউজ মি?’

‘ইয়েস?’

আমি দাঁড়ালে ছেলেটি জিয়ার সাথে কথা বলা বন্ধ করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

‘আমার একটু কথা ছিলো আপনার সাথে। একটু সাইডে আসবেন, ইটস পার্সোনাল।’

আমি কোয়েলের দিকে তাকালে ও যেতে বলে আমাকে ইশারায় কিন্তু অঙ্কিত অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে আছে। কি জানি এ ছেলের কি হয় মাঝে মাঝে। আমি দেরী না করে ছেলেটার সাথে কথা বলতে শুরু করি।

‘বলুন কি বলবেন?’

‘আপনি আমাকে চেনেন নিশ্চই? আমি ইংলিশ অনার্সের ডিপার্টমেন্ট এরই।’

‘উম, হ্যাঁ। মুখ চিনি, এটুকুই। এর চাইতে বেশি চেনার সুযোগ কোনোদিন হয়নি।’

‘সুযোগ পেয়ে গেলে কাজে লাগাবেন?’

‘মানে? ঠিক বুঝলাম না।’

‘মানে এটাই যে আমি আপনাকে আমাকে চিনে নেওয়ার একটা সুযোগ দিতে চাই। আমার ভাষায় বলতে গেলে, আমি আপনাকে চেনার একটা সুযোগ চাইছি। সেটা কি দেওয়া যাবে আমায়?’

ছেলেটার কথা বার্তা বেশ ভালো সঙ্গে দেখতেও সুন্দর। অবশ্য সুন্দর না হলে জিয়া কথা বলতো না। কথাটা ভাবতেই হেসে ফেললাম।

‘উমম, কিলার স্মাইল! তার মানে সুযোগটা পেলাম তো?’

‘হ্যাঁ, ফ্রেন্ডশিপ করতে নো প্রবলেম। আপনি ডাইরেক্ট বললেই পারতেন, এতটা এফর্ট দিয়ে ইমপ্রেস করার কিছুই ছিলো না।’

‘পেয়ে গেছি এটাই অনেক। বায় দ্য ওয়ে আই এম রণিত, রণিত সান্যাল।’

‘ইটস মৌমিতা, মৌমিতা ব্যানার্জী!’

আমি হাত বাড়িয়ে হেসে হ্যান্ডশেক করলাম। ঠিক তারপরেই চোখ গেলো দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আদিত্যের দিকে। দেখে মনে হচ্ছে বেশ রেগে আছেন। রেগে থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন তো সবে শুরু, এখনই রেগে গেলে কি করে হবে?

‘আচ্ছা, আমার ফ্রেন্ডরা আমার জন্য ওয়েট করছে আমাকে যেতে হবে।’

‘ইয়াহ, শিওর।’

আদিত্যকে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখলে আমি আমার হাত ছাড়িয়ে কোয়েলদের কাছে চলে এলাম। ক্যান্টিনে এসে বসতেই দেখলাম অঙ্কিতের মুখটা কেমন জানো ভার। আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবো তার আগেই কোয়েল আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

‘কি বললো রে রণিত?’

‘ফ্রেন্ডশিপ করতে চাইলো।’

‘ও এই ব্যাপার, বুঝলাম বুঝলাম।’

‘কি বুঝলি?’

‘ব্যাপার ইজ, প্যাহলে ফ্রেন্ডশিপ উসকে বাদ রিলেশনশিপ।’

‘ধ্যাৎ!’

‘কেন? তোর রণিতকে পছন্দ না? খুব তো হেসে হেসে কথা বলছিলি? আবার হ্যান্ডশেকও করলি। হাতটা জানো ছাড়তে মনই চাইছিলো না। আমি তো ভেবেছিলাম তুই বোধহয় হাতে ফেভিকল লাগিয়ে গেছিলি।’

অঙ্কিতের এরকম একনাগাড়ে তীক্ষ কটাক্ষ শুনে আমি আর কোয়েল দুজনেই একে অপরের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলাম। অঙ্কিত তা বুঝতে পেরে আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

‘ওসব ছাড়। এটা বল, তোর এই হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ কি?’

আমি অঙ্কিতের কথা শুনে কোয়েলের দিকে তাকালাম। কোয়েল বললো,

‘মৌমিতা ওর বাড়িতে গেছিলো। ওর বাবা-মার কাছে।’

কোয়েল আমার হাতে জোরে চেপে কথাটা বললে আমি চোখের ইশারায় ওকে বোঝাই আমি বুঝেছি। আমি বলতে শুরু করি,

ফ্লাশব্যাক……………………………………………………….

আমি শ্বশুরবাড়িতে ঢুকতেই দেখলাম ড্রয়িংরুমে শাশুড়ি মা বসে আছেন। আমি নিজের ব্যাগটা রেখে ওনার কাছে গিয়ে ওনাকে প্রণাম করতেই উনি খুশি হয়ে আমায় আশীর্বাদ করে জড়িয়ে ধরলেন আর বললেন,

‘যাও, দেরি না করে চটপট ফ্রেশ হয়ে নাও। তারপর আমরা অনেক গল্প করবো।’

আমি শাশুড়িমার কথায় হেসে সায় দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে এসে শাশুড়ি মায়ের পাশে বসে ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম,

‘মা, বাবা কোথায়?’

‘উনি তো অফিসের কাজে বাইরে গেছেন আজকে সকালেই। যাওয়ার একটুও মন ছিলো না কিন্তু কি আর করবেন যেতে তো হবেই। আর কে বা যাবে ওনার হয়ে?’

‘মা একটা কথা বলবো? কিছু মনে করবেন না তো?’

‘হ্যাঁ বলো না।’

‘আদিত্য ব্যবসার কাজে সাহায্য করেন না কেন?’

আমার প্রশ্ন শুনে শাশুড়ি মা অনেকটাই হতাশ ভাবে বললেন,

‘ওর ইচ্ছা ও নিজে ব্যবসা করবে পড়াশোনা শেষ করে। তার আগে কোনো দায়িত্ব নিতে ও নারাজ। ওর মনে হয় পড়াশোনার মাঝে ব্যবসা এখনই চলে আসলে ওর পড়াশোনার ক্ষতি হবে। আর তাছাড়া ওর বাবা চাইতো ও গ্রাজুয়েশনটা কমপ্লিট করেই ব্যবসায় যোগ দিক। এই নিয়ে একটা অশান্তি শুরু হয়। পরে ওর বাবা ব্যবসা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেলে আদিকে ব্যবসায় যোগ দিতে বললেই আদির মনে হয় ওর বাবা চায় না ও পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াক। এই নিয়ে তখন শুরু হয় আরেক ঝামেলা। এরপর থেকে আদি বাড়িতে বেশি আসতো না, কেমন একটা উচ্ছশৃঙ্খল জীবন কাটাতে শুরু করেছিল। সেই সময় আমরা তোমায় দেখতে পাই আর আমাদের মনে হয় তুমিই পারবে ওকে আবার ঠিক করতে। কথায় বাধ্য করতে। কারণ আদি কখনোই কাওর কথা শোনেনা আর নিজের আপন লোক ছাড়া কাওর কথা ভাবে না।’

শাশুড়ি মায়ের কথা শুনে চুপ করে রইলাম। উনি এতোই যখন আপন লোকের কথা ভাবে তখন নিজের বাবার কথা কেন ভাবেন না? বয়স হয়েছে ওনার, এখন কি আর পারে ব্যবসার এতোদিক সামলাতে?

‘আমাকে আর তোমার বাবাকে ক্ষমা করো বউমা। (হাত জোড় করে) নিজের ছেলের কথা ভাবতে গিয়ে আমরা তোমার জীবনটা নষ্ট করে দিলাম। আমরা জানি আদি তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করে না।’

‘না না মা। আমার কাছে কেন এভাবে হাত জোড় করছেন? বড়রা যা করে তা ভালোর জন্যই করে। আমার বাবা-মা হয়তো আমার ভালো ভাবেই বিয়ে দিয়েছেন তাছাড়া নিয়তির লেখা কে বা খণ্ডাতে পারে বলুন? আপনারা প্লিজ নিজেদেরকে অপরাধী মনে করবেন না।’

শাশুড়ি আমার কথা শুনে আমাকে বুকে টেনে নিলেন।

‘কেন যে আমার ছেলেটা এমন করছে কে জানে? ও নিজের ভালো টা বুঝলে তোমাকে কবেই মেনে নিতো।’

‘ম..মা। আমার মনে হয় আপনার ছেলে অন্যকাউকে পছন্দ করে। আমি তো খুব সাধারণ, আমাকে ওনার সাথে মানায়ও না।’

শাশুড়ি মা আমার কথা শুনে হাসলেন। আমি সেটা দেখে অবাক হয়ে তাকাতেই উনি বললেন,

‘তুমি কি জিয়ার কথা বলছো?’

‘(অবাক হয়ে) আপনি জানেন জিয়ার ব্যাপারে?’

‘অবশ্যই। জিয়া হলো গিয়ে তোমার শ্বশুরমশাইয়ের বিজনেস রাইভালের মেয়ে। আমার আদির পিছনে পাগল। আমার আদি শুধুমাত্র ওকে লাই দেয় যাতে ওর বাবা আমাদের বিজনেসের কোনো ক্ষতি না করে তাই। তাছাড়া উনি আবার ভার্সিটির ডাইরেক্টর। আগে থেকেই ছিলেন কিন্তু সেটা এখন অফিসিয়াল হলো।’

আমি শাশুড়ি মায়ের কথা শুনে অবাকই হলাম প্রায়। জিয়ার বাবা, বাবার বিজনেস রাইভাল? শাশুড়ি মা আমার হাত নিজের হাতের মধ্যে নিলে আমি ভাবনা থেকে বেরিয়ে ওনার দিকে তাকালাম। উনি বললেন,

‘সব ঠিক আছে তো ওখানে?’

‘হ্যাঁ, মা। ঠিকই আছে।’

‘আমাকে মিথ্যে বলো না। কিছুক্ষণ আগে কেন বললে তোমাকে আদি পছন্দ করে না তুমি সাধারণ বলে?’

‘আ..আসলে…

‘একটুও দ্বিধাবোধ না করে আমাকে খুলে বলো। কি কি হয়েছে এতদিন? আগেরবার যখন হঠাৎ করে নিজের বাড়ি গেছিলে তখনই আন্দাজ করে ছিলাম।’

আমি শাশুড়ি মায়ের আশ্বাস পেয়ে ওনাকে জিয়ার ব্যবহারের কথা সব খুলে বললাম। কথা শেষ করে ওনার দিকে তাকালে দেখলাম উনি রাগী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি কিছু বলতে যাবো তখনই উনি আমার মাথায় আলতো একটা গাট্টা মেরে বললেন,

‘বোকা মেয়ে। তা তুমি কি ওখানে কোনো শপিং মল দেখোনি? এখনকার মেয়েরা যেমন ড্রেস পরে সেই ড্রেস কিনে নিতে, যা টাকা লাগতো তা আমাদের বলতে। আর কে বলেছে তোমাযে ট্রেনে করে যাতায়াত করতে? আমাদের এতগুলো গাড়ি আছে কি জন্য?’

আমি শাশুড়ি মায়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। তারপর বললাম,

‘আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে তাই আর কি…

‘আরে বোকা মেয়ে আমার। তোমার বিয়ে হতে পারে কিন্তু বয়স তো কম। এই বয়সে কি এখনকার মেয়েরা বিয়ে করে? তুমি বিয়ে করে নিয়েছো বলে কি কোনো শখবিলাস নেই?’

‘তাহলে আমি কি…

‘তোমার যেমন ড্রেস পড়তে ইচ্ছা করবে তেমন ড্রেস পড়বে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর এইবার যখন ফিরবে তখন আমাদের একটা গাড়ি নিয়ে যাবে। ঠিক আছে?’

আমি হেসে শাশুড়ি মাকে জড়িয়ে ধরলাম। রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘরে গিয়ে নিজের লাগেজটা খুললাম।

‘একি! এগুলো তো সেই ড্রেস যেগুলো কোয়েল আমাকে নিয়ে কালকে পছন্দ করে কিনলো? এগুলোও আমাকে দিয়েছে কেন?’

লাগেজ খুলে কালকের কেনা ড্রেসগুলো দেখে কিছুক্ষণ ভাবতেই মনে হলো কোয়েল তারমানে আমার জন্যেই ড্রেসগুলো কিনেছিল। আমি এখানে আসবো সেই সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে নাহলে ও জানতো আমি নিতাম না। উফ, মেয়েটা পুরোই পাগল। যাই একটা ফোন করি ওকে। সামনা সামনি না ঝাড়তে পারি, ফোনে তো পারবো। হিহিহি।

প্রেসেন্ট………………………………………………………….

অঙ্কিতকে বলিনি আদিত্যের মায়ের কথা অর্থাৎ শাশুড়ি মায়ের কথা। ওকে বলেছি নিজের মায়ের কথা। যেমনটা কোয়েল আমাকে ইশারা করে বলতে বললো। অঙ্কিত সব শুনে বললো,

‘ওহ, তো এই ব্যাপার।’

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে 🥀]

বিঃদ্রঃ গতকাল একটু নেট প্রবলেম ছিলো তাই আপডেট দিতে পারিনি।

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here