একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৩৪||

0
202

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৩৪||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৫০.
সকালবেলা উঠে আমি আর কোয়েল রেডি হয়ে নিলাম ভার্সিটি যাওয়ার জন্য।

মৌমিতা: কি রে তুই রেডি তো? চল এবার।

কোয়েল: (ব্যাগ চেক করতে করতে) হ্যাঁ, হ্যাঁ চল। আমি রেডি।

আমি আর কোয়েল রুমের গেট লক করে নীচে নেমে এলাম। নিচে নেমে সামনে তাকাতেই আমি অবাক হয়ে থমকে দাঁড়ালাম। কোয়েল যেহেতু আমার পিছনে ব্যাগ চেক করতে করতে আসছিলো তাই আমার দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে ও আমার সাথে ধাক্কা খেলো। বিরক্ত হয়ে আমায় জিজ্ঞেস করলো,

কোয়েল: কি রে? এভাবে হুট করে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়লি কেন?

আমি কিছু না বলে সামনে তাকিয়ে থাকায় কোয়েলও আমার সাথে তাকালো। টাস্কি খেয়ে বললো,

কোয়েল: উরি বাবা! আজকে সূর্য কোনদিকে উঠেছে? স্বয়ং মৌ ম্যাডামের পতিদেব হস্টেলের বাইরে দাঁড়িয়ে?

মৌমিতা: চুপ কর! এতো জোরে কেন বলছিস? (রেগে)

কোয়েল আমার কোনো কথা না শুনে এগিয়ে গেলো ওনার দিকে। উনি গাড়িতে ঢেলান দিয়ে ফোনে কথা বলছিলেন অন্য দিকে ঘুরে। কোয়েল ওনার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালে আমিও আস্তে আস্তে ওদিকে এগোই।

কোয়েল: (হালকা কাশি দিয়ে) উহ্হু উহ্হু!

কোয়েলের কাশি শুনে আদিত্য ওর দিকে ফিরে কল কেটে ফোন পকেটে ঢুকিয়ে কোয়েলকে জিজ্ঞেস করলো,

আদিত্য: কতো সময় লাগে রেডি হতে? পাক্কা ৩০ মিনিট ধরে আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। ১১টায় ভার্সিটি পৌঁছনোর কথা সেখানে এখানেই ১১টা বাজে। (বিরক্ত হয়ে)

মৌমিতা: আসলে…

কোয়েল: (মৌমিতাকে আটকে) তা আপনি এখানে কেন শুনি? আগে তো কোনোদিন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা হয়নি। ইনফ্যাক্ট আমি যা জানতাম মিস্টার আদিত্য ব্যানার্জী কাওর জন্য কখনও অপেক্ষা করেনা তাহলে? তাহলে আজ এমন কি ব্যাপার হলো? হম, হম? (ভ্রু কুঁচকে)

কোয়েলের কথা শুনে উনি ঠোঁট কামড়ে হেসে আমার দিকে তাকালেই আমি চোখ নামিয়ে নেই আর উনি কোয়েলকে বলেন,

আদিত্য: সময় ও পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়, আদিত্য ব্যানার্জীকেও বদলে দিয়েছে। অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে কারণ আদিত্য ব্যানার্জী কখনও কোনো কিছুতে ভয় পেতো না কিন্তু আজ সে হারানোর ভয় পায়। বুঝলি? (কোয়েলের মাথায় টোকা মেরে)

কোয়েল: বাহবা! (টঁন্ট করে)

মৌমিতা: চল তো। দেরী হয়ে যাচ্ছে। (লজ্জায় আমতা আমতা করে)

কোয়েল মুচকি হেসে যখন দেখলো আদিত্য গাড়িতে ওঠার জন্য ঘুরছে তখনই সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো,

কোয়েল: তা আপনার প্রেতাত্মাটা কোথায়? তাকে দেখছি না তো।

কোয়েলের প্রশ্ন শুনে আদিত্য এমন একটা রিয়াকশন দিলেন যাতে বোঝা যাচ্ছে উনি কি বলবেন বুঝতে পারছেন না। কিছুক্ষণ চোখ ফরফর করে জিজ্ঞেস করলেন,

আদিত্য: প্রেতাত্মা কে?

কোয়েল: (জোরে হেসে দিয়ে) বুঝলেন না? অবশ্য ব্রহ্মদৈত্য বলিনি তো তাই বুঝতে পারেননি।

এইবার আদিত্যও হেসে ফেললেন। আমি যতদূর আন্দাজ করেছি কোয়েল রাজদার কথা বলছে। তাই আমিও হালকা হাসলাম আর আদিত্য উত্তর দিলেন,

আদিত্য: আমি তো জানতাম জমরাজ তার নাম তাই বুঝতে পারেনি। তা তুই কবে থেকে জমরাজের খোঁজ রাখছিস? কিছুদিন আগে মনে হয় শুনে ছিলাম ওর খোঁজ রাখার, ওর ব্যাপারে জানার কোনো দরকার নেই তাহলে? তাহলে আজ কি এমন ব্যাপার হলো? হম, হম? (কোয়েলের নকল করে)

কোয়েল: (মুখ কাঁচুমাচু করে) ধুর, ভালো লাগে না।

এটুকু বলেই কোয়েল আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে গাড়িতে ঝটপট উঠে পড়লো। কোয়েল গাড়িতে উঠতেই আমি আর আদিত্য মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে হেসে ফেললাম। এরপর আমি গাড়িতে উঠতে গেলেই আদিত্য পিছন থেকে আমার হাত টেনে ধরে পিছনে নিয়ে আসলে আমি ওনার হাতের দিকে একবার তাকিয়ে ওনার মুখের দিকে তাকালাম। উনি বললেন,

আদিত্য: সামনে বসবে, আমার পাশে। আমি গাড়ির ড্রাইভার নই (কিছুক্ষণ থেমে) মেয়েদের মনের ড্রাইভার!

কথাটা শুনে আমি ওনার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই উনি হেসে দিলেন। আমি ভেংচি কেটে মুখ ফিরিয়ে নিতেই উনি বললেন,

আদিত্য: অন্য সবার মতে মেয়ে”দের” মনের ড্রাইভার হলেও, আমার মতে আমি একটি মেয়ের মনের ড্রাইভার। (কানে কানে)

উনি হঠাৎ করেই আমার এতো কাছে এসে আমার কানে কানে কথাটা বললেন যে, ওনার নিশ্বাস আমি অনুভব করতে পারলাম।

কোয়েল: কি রে? দাঁড়িয়ে আছিস কেন এভাভে একা একা?

গাড়ি থেকে কোয়েলের ডাকে হুঁশ আসায় পাশে তাকিয়ে দেখলাম উনি গাড়িতে বসছেন ঠোঁটে মৃদু হাসি ধরে রেখে। আমি মাথাটা একটু ঝেড়ে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম।

আদিত্য: (ড্রাইভে করতে করতে মনে মনে– কোয়েলের কাছে এখন তো এড়িয়ে গেলাম কিন্তু কতক্ষন এড়াতে পারবো বিষয়টা? জানতে পারলেই তো….বাপ রে! ভাবলেই তো আমার শরীরের জল শুকিয়ে যাচ্ছে সব।)

কোয়েল: (ফোনের দিকে তাকিয়ে মনে মনে– আদিত্যদা কি এড়িয়ে গেলো বিষয়টা? তাই তো মনে হচ্ছে। কেমন জানো খটকা লাগছে।)

৫১.
ভার্সিটিতে পৌঁছে সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসের জন্য ছুট দিয়েছিলাম আমি আর কোয়েল। কারণ সত্যি আজকে লেট হয়ে গেছিলো। ভাগ্যিস আদিত্য গাড়ি করে পৌঁছে দিয়েছিলেন নাহলে ক্লাসটা মিস হয়ে যেতো। আজকে পরপর ক্লাস থাকায় কোয়েল আমাকে বললো,

কোয়েল: আজকে পর পর সব ইম্পরট্যান্ট ক্লাস। ধুর, বাংক মারাও যাবেনা যা মনে হয়। কারণ ম্যাডামেরা তো ক্লাস কখনও মিস করেন না।

মৌমিতা: যা বলেছিস। আচ্ছা কোয়েল, অনেকদিন তো হলো অঙ্কিত কোথায় বল তো? ওর তো কোনো খোঁজই নেই।

কোয়েল: (গম্ভীর ভাবে) হম।

মৌমিতা: কি হম? তুই কিছু জানিস না?

কোয়েল: (কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে) যতদূর জানি অঙ্কিতের মুড ভালো নেই। হয়তো কোথাও গেছে, একা সময় কাটাতে। ছাড় বাদ দে, চল ক্লাসে যেতে হবে।

কোয়েল এগিয়ে গেলে আমার একটু বিষয়টা অবাক লাগে। আজকাল অঙ্কিতের কথা বললেই কোয়েল কোনো না কোনো ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বিষয়টা। কি ব্যাপার? কি লুকাচ্ছে আমার থেকে? আমি আর কিছু না ভেবে এগোতে নিলেই পিছন থেকে কেউ আমার নাম ধরে ডাকে,

__মৌমিতা?

মৌমিতা: (পিছন ফিরে) জিয়া! তুই এখানে?

জিয়া: (মৌমিতার সামনে দাঁড়িয়ে) হ্যাঁ, কারণ এটা আমারও ভার্সিটি।

মৌমিতা: হ্যাঁ, সে তো অবশ্যই। তা হঠাৎ আমাকে ডাকার প্রয়োজন পড়লো?

জিয়া: সে কি রে, তোকে ডাকবো না তো আর কাকে ডাকবো? একটা মিডল ক্লাস মেয়ে এসে হুট করে ভার্সিটির বড়োলোকের ছেলের জীবনে উড়ে এসে জুড়ে বসলো তার গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্বেও। এখন তার সাথে দিনরাত ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাকে ডাকবো না তো কাকে ডাকবো?

মৌমিতা: (রাগ সংযত করে) কি বলতে চাইছিস?

জিয়া: এটাই যে আদির পিছন ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দে নাহলে এর পরিণাম ভালো হবে না। আদিকে আমি ভালোবাসি আর আদি আমাকে সেই স্কুল লাইফ থেকে। তুই মাঝখান থেকে থার্ড পারসন হওয়ার চেষ্টা করিস না।

আমি কিছু বলতে গিয়ে জিয়ার পিছন দিকে তাকিয়ে থেমে গেলাম। এতক্ষনে কোয়েল আমাকে ওর পাশে না পেয়ে আবার ফিরে এসেছে। আমার কোনো উত্তর না পেয়ে কোয়েলকে আমার পাশে এসে দাঁড়াতে দেখে জিয়া কোয়েলকে বললো,

জিয়া: তোর সো কলড বেস্ট ফ্রেন্ডকে সামলে রাখ। ও বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। ও না জানলেও, তুই তো ভালো করেই জানিস আমার বাবা কে আর কি করতে…

__হ্যাঁ, হ্যাঁ তোর বাবা একজন বিখ্যাত স্মাগলার। স্মাগলারগিরি আর দুর্নীতি করে নিজের ক্ষমতা জাহির করে। তোর বাবার কতো ক্ষমতা, সে কে, কি করতে পারে কালকেই জেনে গেছে পুরো ভার্সিটি।

জিয়া: আদি! (জোরে)

আদিত্য: (কানে হাত দিয়ে) আস্তে কথা বল। আদিত্য ব্যানার্জীর সাথে উঁচু গলায় কথা বলার অধিকার বা সাহস কাওর নেই। আমি তোর সামনেই দাঁড়িয়ে আছি আর কানে খুব ভালো শুনতে পাই। ওকে? (পিঞ্চ করে)

জিয়া: এভাবে সবার সামনে তুমি আমাকে অপমান করছো? কিভাবে আমি তো তোমার…

আদিত্য: কেউ না! তুই আমার কেউ না। (সোজাসুজি)

জিয়া: কি? (ছলছল চোখে)

আদিত্য: বিশ্বাস কর, আমার মনে পড়ছে না আমি কবে তোর প্রপোজাল একসেপ্ট করেছিলাম। নিজের বাবার ক্ষমতায় তুই সবার উপর নিজের ধারণা চাপিয়ে বেড়াতিস কিন্তু এখন আর সেটা চলবে না। তুই আমার জুনিয়র, এটুকুই সম্পর্ক আমার তোর সাথে, গট ইট?

মৌমিতা: (মনে মনে– উনি এটা কি করছেন? এভাবে নিজের বিপদ নিজে কেন ডেকে আনছেন এই সময়। জিয়ার বাবা এমনিতেই রেগে আছেন তার মধ্যে এখন যদি জিয়ার সাথে এমন ব্যবহার করেন তাহলে তো আরো বিপদ বাড়বে। আমাকে তখন হাত দেখিয়ে চুপ করতে বললেন, ওনার কথা ভেবে আমি চুপ করে গেলাম আর এখন উনি নিজেই…)

আদিত্য: কান খুলে শুনে রাখ জিয়া, আজকের পর থেকে মৌমিতাকে অপমান করার কথা মাথাতেও আনবি না। শুধু মৌমিতা কেন? এই ভার্সিটির কোনো স্টুডেন্টকে অপমান করার কথা তুই ভাববি না।

আদিত্য পিছন ঘুরে গেলেন হুট করে আর সবার উদ্দেশ্যে জোরে চেঁচিয়ে বললেন,

আদিত্য: এই কথাটা সবার উদ্দেশ্যে। কাউকে কোনো রকম অপমান, র‍্যাগিং জানো না করা হয়।

__নিজের বাবাকে ভার্সিটির বোর্ড অফ মেম্বার করে খুব জোর দেখাচ্ছিস বল?

জিয়ার পাশ থেকে সৌভিকদা কথাটা বলতেই আদিত্য পিছন ফিরে ওনার দিকে তাকালেন। উনি নিজের শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে শুরু করে আবার বললেন,

সৌভিক: জিয়া যদি নিজের বাবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাহলে তুই কি করছিস? তুইও তো একই কাজ করছিস।

আদিত্য: (সৌভিকের হাতা গোটানো টা দেখে হেসে বললো) জিয়ার হয়ে চামচাগিরি করার জন্য ওর বাবা তোকে কত টাকা দেয়? এখন আর এই বাড়াবাড়ি টা করতে যাস না, ফল ভালো হবে না।

সৌভিক: (চোয়াল শক্ত করে) কেন? কি করবি তুই? মারবি আমাকে? তার আগে তোক….

সৌভিকদা এগিয়ে গিয়ে ওনার কলার ধরবে ঠিক ওই মুহূর্তে রাজদা সৌভিকদার হাতটা ধরে ফেলে। আদিত্য রাজের দিকে না তাকিয়ে সৌভিকদার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসে যখন রাজদা কে দেখে সৌভিকদা ভয়ভীত চোখে আদিত্যের দিকে তাকায়। কেন জানি না সেই মুহূর্তেই কোয়েল আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে আর বলে,

কোয়েল: রাজকে আটকাতে বল মৌ। (ভয়ে ভয়ে, কাঁপা গলায়)

আমি কোয়েলের কথা শুনে ওনাদের দিকে তাকালাম। এমন পরিস্থিতিতে কি বলবো বুঝতে পারছি না। এখনও রাজদা সৌভিকদার হাত ছাড়েনি বরং আরো শক্ত করে ধরেছে। ওনার মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে উনি রেগে আছেন। আস্তে আস্তে আদিত্যদার পিছন থেকে পুরোপুরি ওনার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সৌভিকদাকে বললেন,

রাজ: তুই হয়তো জানিস না আমি এসে গেছি, সেই জন্যই এই হাতটা আদির দিকে উঠেছে। আর তোর এই না জানার ফলে তোর এই হাতটা নাও থাকতে পারে এটা কি জানিস? (দাঁতে দাঁত চেপে)

আদিত্য: ছেড়ে দে রাজ। রণিতের অবস্থার কথা ও ভুলে গেছে মনে হয়। (রাজের হাতের উপর হাত রেখে)

রাজদা আদিত্যের কথা শুনে একবার কোয়েলের দিকে তাকালেন হয়তো আদিত্য কোনো ইশারা করেছিলেন। তারপর বাঁকা হেসে সৌভিকদার হাত ছেড়ে দিলে আদিত্য বলেন,

আদিত্য: কেন বেকার বেকার নিজের বিপদ নিজে ডাকছিস? জানিসই তো আমি যদি ধরি তাহলে শেষ পর্যন্ত না দেখে ছাড়ি না। (এক গালে হেসে)

রাজ: এরপরের বার তুই ধরিস বা আমি ছাড়া ও পাবে না। কথাটা মাথায় রাখতে বলিস ওকে।

কথাটুকু বলে রাজদা বেরিয়ে গেলো হনহন করে। আমি কোয়েলের দিকে তাকাতেই দেখলাম ও জানো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। আমি আদিত্যের কথা শুনে আবার ওনাদের দিকে তাকালাম।

আদিত্য: (সৌভিকের কলার ঠিক করে) দেখ, আমি কোনো পাওয়ার ইউস করছি না। জিয়া যেই অ্যাডভান্টেজটা নিতো আমি সেটার শেষ করেছি জাস্ট। আমি চাই ভার্সিটিতে সবাই মিলে মিশে থাকবে দ্যাটস ইট! আশা করি বুঝে গেছিস। (সবাইকে উদ্দেশ্য করে) সবাই বুঝেছে তো?

সবাই হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লে আদিত্য সবাইকে যেতে বলে আর জিয়া তৎক্ষণাৎ ওখান থেকে চলে যায়। ওকে যেতে দেখে সৌভিকদাও ওর পিছনে চলে যায়। সবাই এক এক করে চলে যেতে শুরু করে, আমি কোয়েলের দিকে তাকিয়ে রাজদার যাওয়ার দিকে ইশারা করলে কোয়েলও সায় দিয়ে চলে যায় সেদিকে। আমি আদিত্যের কাছে এগিয়ে যাই, উনি আমাকে এগোতে দেখে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। আমি ওনার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করি,

মৌমিতা: আপনি এমনটা কেন করলেন?

আদিত্য: কি করলাম?

মৌমিতা: এভাবে জিয়াকে সবার সামনে অপমান কেন করলেন? এটা যদি পরেশবাবু জানতে পারেন তাহলে তো আপনার ক্ষতি করতে চাইবেন। আপনার তো জিয়াকে হাতে রাখার কথা ছিলো তাহলে…

আদিত্য: (মৌমিতার দিকে এগিয়ে) আস্তে আস্তে। এরকম রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো ছুটছো কেন? আমি পালিয়ে যাচ্ছি না আর যাবোও না। তোমার কাছেই আছি, থাকবো।

ওনার কথাটা শুনে দমে গেলাম। চোখ নামিয়ে নিয়ে হাত কচলাতে থাকলে উনি এক পা পিছিয়ে গিয়ে বললেন,

আদিত্য: আজকে সকালেই তো বললাম, সময় ও পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়। আমাকেও দিয়েছে। আগের মতো পরিস্থিতি থাকলে হয়তো আমি এতো তাড়াতাড়ি এই স্টেপটা নিতামই না, জিয়াকে অপমান করা তো দূরের কথা। আর রইলো বাকি বিপদ, ক্ষতির কথা? ও বুঝে নেবো, কি বা করবে মারতে চাই..

মৌমিতা: আদিত্য! আজে বাজে কথা বলা বন্ধ করুন। এতো ইসিলি কথাগুলো বলছেন জানো আপনার জন্য কেউ চিন্তাই করে না? যারা আপনার জন্য চিন্তা করে তাদের কথাটা একটু ভাবুন। (একনাগাড়ে)

আদিত্য: (স্থির চোখে, শান্ত গলায়) কে চিন্তা করে আমার?

মৌমিতা: (আমতা আমতা করে) আমি আপনার বাবা-মা, রাজদা আ..আর কোয়েলের কথা ব..বলছিলাম।

আদিত্য: আর তুমি? (কৌতূহলটা বুঝতে না দিয়ে শান্ত ভাবে)

আমি ওনার কথা শুনে চোখের দিকে তাকাতেই সেই মায়ায় আটকে গেলাম। মন বলছে বলে দি যে, হ্যাঁ আমি আপনার চিন্তা করি! কারণ আপনি না মানলেও আমি আপনাকে নিজের স্বামী বলে মানি। কিন্তু কোথাও একটা গিয়ে আটকে গেলাম, হয়তো ওনার আমাকে অস্বীকার করায়। আমি চুপ করে থাকলে আদিত্য একটা তাচ্ছিল্য হাসি দেয় আর আস্তে আস্তে পিছতে শুরু করেন। উনি চলে যান! আর আমি স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে থাকি।

অন্যদিকে,

সৌভিক: জিয়া, জিয়া! আমার কথাটা শোন। এরকম পাগলামি করিস না।

জিয়া ঘরের সব জিনিস এক এক করে ভাঙছে ভার্সিটি থেকে ফিরে। সৌভিক হাজার আটকানোর চেষ্টা করেও যখন পারলো না তখন কাছে গিয়ে জিয়ার বাহু দুটো শক্ত করে ধরে ঝাঁকিয়ে বললো,

সৌভিক: শান্ত হ তুই! শুধু কি তোর রাগ হচ্ছে আমার হচ্ছে না?

জিয়া: কি শান্ত হবো হ্যাঁ? আজ সবার সামনে আদি আমাকে ওই মিডিল ক্লাস মেয়েটার জন্য অপমান করেছে। ছাড়বো না, কাওকে ছাড়বো না আমি। সব শেষ করে দেবো, তারপর নিজেকে শেষ করে দেবো।

সৌভিক: শাট আপ! কি সব আজে বাজে কথা বলছিস? তোকে কিচ্ছু করতে হবে না। যা করার আমরা করবো! তুই চিন্তা করিস না।

__সৌভিক ঠিকই বলেছে মামনি! তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। যা করার আমরা করবো। আদিত্য ব্যানার্জী এবার হারে হারে টের পাবে। ও যে সাপের গর্তে হাত ঢুকিয়েছে, ছোবল তো খেতেই হবে!

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে 🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here