একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৪০||

0
596

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৪০||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৬০.
আদিত্য: ওঠো, আর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবে?

মৌমিতা: আপনারা মাথাটা না পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছেন জানেন তো? (বিরক্ত হয়ে)

আদিত্য: হ্যাঁ, তোমার জন্যেই। (আনমনে)

মৌমিতা: কি?

আদিত্য: আরে এতক্ষন দাঁড় করিয়ে রেখেছো আমার মাথা ব্যাথাটা বেড়ে পাগল হয়ে যাচ্ছি। (কথা ঘুরিয়ে)

মৌমিতা: হুহ!

বাংলো থেকে বেরোতেই দেখি কোয়েল দাঁড়িয়ে আছে আদিত্যের সাথে। আদিত্য গাড়িতে আমাদের লাগেজ তুলছে। আমি ওখানে গিয়ে দাঁড়াতেই কোয়েল আমাকে চোখ টিপ দিয়ে গাড়িতে উঠে যায় আর আদিত্য ড্রাইভারকে বেরিয়ে যেতে বলে। আমি আদিত্যকে কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলেই উনি আমাকে ইশারা করেন ওনার বাইকের দিকে। এই কান্ড দেখে আমি অবাক। গাড়ি থাকতে বাইক কেন? উনি বাইকে উঠলেও আমি মুখে বিরক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি।

আদিত্য: আসবে নাকি আমি চলে যাবো? আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।

আমি আর কিছু না বলে বাইকে উঠে বসলাম। আমরা বসতেই দেখলাম মা আর হরি কাকা দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন। আমি ওদের হাত দেখাতেই আদিত্য বাইকে স্টার্ট দেন। কিছুটা যেতেই আমি জিজ্ঞেস করি,

মৌমিতা: এটা ঠিক হচ্ছে না। ভার্সিটিতে পৌঁছলে সবাই যদি আমাদের একসাথে দেখে তো কি ভাববে?

আদিত্য: এক্ষুনি যদি এই বলো তাহলে পরে কি করবে? আর ভার্সিটির সবাই কি ভাববে না ভাববে সেটা আমি বুঝে নেবো।

মৌমিতা: (মনে মনে– সত্যি মাথাটা কি খারাপ হয়ে গেলো নাকি? আমার তো এবার নিজেরই ভয় লাগছে। কি করবেন উনি আবার?)

একটা শুকনো ঢোঁক গিলে ওনার কাঁধটা শক্ত করে ধরে বসলাম। না জানি কি করবেন। ধুর! মা কালকে রাত্রে ওনাকে কথাগুলো না বললেই পারতেন। কেমন জানো মনে হচ্ছে কিছু একটা ভয়ানক হতে চলেছে। ভার্সিটি পৌঁছনোর একটু আগে দেখলাম একটা বড়ো ভলভো বাস দাঁড়িয়ে আছে। সেটাকে ক্রস করে আমরা ভার্সিটিতে ঢুকছি সে সময় সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে, ঠিক যেমনটা হবে আমি ভেবেছিলাম। আদিত্য বাইক থামালে আমি নেমেই অন্যদিকে হাঁটা দিতে গেলে আদিত্য আমার হাত ধরে আটকে রাখেন।

আদিত্য: কোয়েল! (জোরে)

আদিত্যের কথা শুনে কোয়েল ছুটে চলে এলো। কোয়েল আসতেই উনি আমার হাত ছেড়ে দিলেন।

কোয়েল: বলো।

আদিত্য: তুই এখানেই ওর সাথে থাক। আমি আসছি।

আদিত্য চলে যাবেন এমন সময় কোয়েল আমতা আমতা করে আদিত্যকে জিজ্ঞেস করেন,

কোয়েল: শোনো না! একটা কথা ছিলো।

আদিত্য: বল, জলদি।

কোয়েল: আব, রাজ কোথায়?

আদিত্য: (শান্ত ভাবে) ও মনে হয় যাবে না।

কোয়েল: কি? (উত্তেজিত হয়ে)

আদিত্য: তাই তো মনে হয়। যাওয়ার হলে তো আমাদের সাথেই আসতো কারণ ও তো আমার বাংলোতেই থাকে।

মৌমিতা: হ্যাঁ, রাজদা তো ছুটিতেও বাংলোতে ছিলেন না। কেন তুই জানিস না?

কোয়েল: আমি কি করে জানবো? আমাকে তো ও কিছুই জানায় না। (মাথা নিচু করে)

আদিত্য: মে বি ওর অফিসের কাজ পরে গেছে। আমি আসছি ওকেই?

আদিত্য আমাকে কোয়েলকে সামলানোর ইশারা করে দৌঁড়ে চলে গেলো ওদিকে। কোয়েল চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলে আমি ওর কাঁধে হাত রাখি। হাত রাখতেই কোয়েল আমার দিকে হেসে জিজ্ঞেস করলো,

কোয়েল: তারপর, ছুটি কেমন কাটালি?

মৌমিতা: ভালো। অনেকদিন পর বাবা-মার সাথে সময় কাটালাম। তাছাড়া উনিও তো ছিলেন প্রথমদিন আর নিয়ে আসার দিন। (লাজুক হেসে)

কোয়েল: ওওওও, তা তোর তো বলা উচিত খুউউব ভালো কেটেছে। (টোন কেটে)

মৌমিতা: চুপ কর তো। খালি বেশি বোঝে। এইবার বল, তোর কেসটা কি?

কোয়েল: আ..আমার আবার কিসের কেস?

মৌমিতা: রাজদার খবর তুই জানিস না?

কোয়েল: আমাকে না জানালে কি করে জানবো?

মৌমিতা: জানার চেষ্টা করেছিস?

কোয়েল: (তাচ্ছিল্য হেসে) রোজ একবার করে ফোন করেছি আর সেটার রিপ্লাই এসেছে, “আই অ্যাম বিজি রাইট নাও, আই উইল কল ইউ ব্যাক লেটার!” সেই কল ব্যাকটা আর আসেনি আমার কাছে এখনও অবধি। হাহ! ছাড় এসব আর চল বাসের দিকে।

কোয়েল আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ওদিকে চলে গেলে আমি ছুটে ওকে ধরে বলি,

মৌমিতা: কোনো বিপদ হয়নি তো? (চিন্তিত ভাবে)

কোয়েল: এটা আমিও প্রথমে ভেবেছিলাম কিন্তু যে কলের রিপ্লাই করতে পারে, আচ্ছা মানলাম সেটা অন্য কেউও করতে পারে কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় যে অনলাইনে থাকতে পারে তার কি বা বিপদ হবে? বললাম তো বাদ দে এসব।

আমি বুঝলাম কোয়েলের মনটা খারাপ তাই আর রাজদার প্রসঙ্গ তুলে কথা না বাড়ানোটাই ভালো। কিন্তু রাজদা কাজটা মোটেও ঠিক করলো না। একবার আদিত্যের সাথে কথা বলবো? উনিও তো রাজদার প্রসঙ্গটা এড়িয়েই গেছেন গতকাল থেকে। হয়তো উনিও রেগে আছেন রাজদার উপর। কি করবো বুঝতে না পেরে কোয়েলের সাথে গিয়ে দাঁড়ালাম। আদিত্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাসে সবাইকে তুলতে। বাসে করে আগে হাওড়া যাবো তারপর সেখান থেকে ট্রেন।

কোয়েল: এই মৌ? তোর ড্রেসটা তো হেব্বি সুন্দর। কবে কিনলি?

মৌমিতা: আমি কিনিনি, আজকে সকালে আদিত্য পরতে বললেন। (লাজুক ভাবে)

কোয়েল: আচ্ছাআআ! এইবার বুঝেছি। বউয়ের দিকে অন্য ছেলেরা তাকাবে সেটা সহ্য হচ্ছে না আদিত্যদার। কিন্তু লাভ নেই বউ সুন্দরী হলে ছেলেরা তো তাকাবেই। হিহিহিহি!

কোয়েলের কথা শুনে দিলাম কোয়েলের বাহুর মধ্যে একটা চাপড় আর ও আরো জোরে হাসতে লাগলো। ধীরে ধীরে সবাই বাসে উঠে যাচ্ছে দেখে আমি আর কোয়েলও সেদিকে এগোলাম। রাজদা এখনও আসেননি, সব কিছু আদিত্য একাই সামলাচ্ছেন। তাহলে হয়তো সত্যি রাজদা আসবেন না। কথাটা ভেবে কোয়েলের জন্য খারাপ লাগলো। আমরা বাসের কাছে আসতেই দেখলাম আদিত্য নিজের বাইকে বসে ফোন ঘাটছেন কারণ লাগেজ তোলা হয়ে গেছে এবার যে যার মতো বসে উঠছে। এই ফাঁকে ওনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন জিয়া। আমি আর কোয়েল একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলাম ব্যাপারটা দেখে।

কোয়েল: আজকে ফার্স্ট টাইম আদিত্যদা নিজের বাইকে কোনো মেয়েকে বসিয়ে ভার্সিটি এনেছে। জিয়াকেও কোনোদিন বসতে দেয়নি এই কারণেই মনে হয় ও গেছে। খাবে ঝার দেখিস। (রেগে)

মৌমিতা: (মনে মনে– এই সময় কোনো সিনক্রিয়েট জানো না করেন উনি। ভার্সিটিতে সবাই দেখবে এই জন্যেই আমি বলেছিলাম আসবো না তাও শুনলেন না আমার কথা। অবশ্য বাকি সবার মতো কোয়েলেরও মনে হচ্ছে আমি আদিত্যের বাইকে প্রথম উঠলাম কিন্তু তা তো নয়।) চল একবার এগিয়ে দেখি ওদিকে। কোনোরকম সিনক্রিয়েট করলে ঘুরতে যাওয়ার মুড খারাপ হবে।

আমরা আদিত্যের দিকে এগিয়ে যেতেই আদিত্য আমার দিকে তাকালো আর হুট করেই আমার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান মেরে নিজের কাছে টেনে নিলেন। আমি তো পুরোই অবাক ওনার কাজকর্মে। উনি আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে জিয়াকে বললেন,

আদিত্য: তুই স্যরি চাইতে এসেছিস তাই না? আমাকে নয় মৌমিতাকে স্যরি বল। ও ক্ষমা করলে ক্ষমা পাবি নাহলে নয়।

আদিত্যের কথায় বুঝলাম জিয়া ক্ষমা চাইতে এসেছে কিন্তু এই ব্যাপারটা আমার ঠিক হজম হলো না। খটকা লাগছে, জিয়া ক্ষমা চাইতে এসেছে?

জিয়া: আ..আই অ্যাম স্যরি।

মৌমিতা: ইটস ওকে।

আদিত্য: সো জিয়া, তুই ক্ষমা পেয়ে গেছিস মানে এই না যে তুই যা খুশি তাই করবি। এটা তোর লাস্ট চান্স। ওকেই? যা এবার বাসে যা।

জিয়া কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নেয় আর আদিত্য আমাকে বলেন,

আদিত্য: মৌমিতা বসো।

মৌমিতা: বসব মানে? বাইকে বসে কি করবো বাসে যাবার কথা তো।

আদিত্য: হ্যাঁ সেটা বাকি সবার ক্ষেত্রে। তোমার ক্ষেত্রে শুধু বাইক আর ট্রেইন। বুঝেছো?

কোয়েল: তার মানে তোরা দুজন বাইকে হাওড়া স্টেশন যাবি? ওয়াও! (হাততালি দিয়ে) এই মৌ জলদি উঠে পর, আমি বাসে গেলাম।

মৌমিতা: কিন…

আমি কিছু বলবো তার আগেই কোয়েল ঘুরে বাসের দিকে এক পা এগোতেই আচমকা থেমে গেলো কারণ ওর সামনে হুট করেই একটা বাইক এসে থামে। বাইকে বসে থাকা ব্যক্তি নিজের ফুল ব্ল্যাক হেলমেট টা খুলতেই আমরা অবাক, রাজদা?

রাজ: হলো গাইজ! সবাই বাসে উঠেছে তো? (বাসের দিকে ঘুরে, জোরে)

বাস থেকে জোরে আওয়াজ আসে যে “হ্যাঁ”। রাজদা হেসে কোয়েলের দিকে তাকিয়ে বলে,

রাজদা: তো ম্যাডাম? আপনিও আপনার বান্ধবীর মতো জলদি বসে পরুন। (বাঁকা হেসে)

আমি তো বেশ খুশি রাজদাকে দেখে কিন্তু কোয়েল কোনো উত্তর দিচ্ছে না দেখে আমি ভাবলাম কোয়েলকে ডাকবো। কারণ আমার কেমন জানো মনে হচ্ছে ও বেঁকে বসবে, এত সহজে মানবে না। আমার ভাবতে দেরী হলো কিন্তু কোয়েলের বলতে দেরী হলো না।

কোয়েল: জিয়া! (জিয়ার দিকে ঘুরলো) আমি জানি তুই বাইক রাইড খুব পছন্দ করিস। আদিত্যদার সাথে বাইক রাইডে যেতে পারিসনি তো কি হয়েছে রাজ আছে তো? তুই ওর সাথে চলে যা। আমি বরং অঙ্কিতের সাথে চলে যাবো বাসে। আমি চাইলেই অঙ্কিত আমাকে বাইকে নিয়ে যেতে পারে কিন্তু আমি বাসেই যাবো। হম? (হেসে) মৌ, আদিত্যদা আমি আসছি।

এই বলে কোয়েল রাজদার বাইক কাটিয়ে বাসের দিকে চলে যেতে নেয় কিন্তু বাইকটা পুরোপুরি পাশ কাটানোর আগেই রাজদা কোয়েলের হাত ধরে টেনে নিজের সামনে নিয়ে আসে আর কোমর জড়িয়ে ধরে বলে,

রাজ: বাইকটা আমার তাই আমি ডিসাইড করবো কে আমার বাইকে বসবে আর কে না। তোকে আমি বাইকে বসতে বলেছি, চুপচাপ বাইকে বস নাহলে…

রাজদার চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে কোয়েলের কথাগুলো শুনে। কোয়েল মাথা তুলে করে কোনো কথা না বাড়িয়ে সবার দিকে একবার তাকিয়ে চুপচাপ বাইকে উঠে বসে। রাজদা নিজের বাইকের হ্যান্ডেলে ঝোলানো একটা প্যাকেট নিজের হাতে নিয়ে ওটা থেকে একটা স্টাইলিশ টুপি বার করে আর পিছন দিকে কোয়েলকে দিয়ে বলে,

রাজ: পর এটা।

কোয়েল টুপিটা নিয়ে পরে নেয়। যেহেতু কোয়েল হাইনেক মেরুন টি-শার্ট আর ব্ল্যাক হিপ্ট-আপ জিন্স পড়েছে তাই বেশ মানিয়েছে ওর সাথে টুপিটা।

রাজ: আদি, বাস এখন ছাড়বি না।

আদিত্য: কেন? ম্যাডামের সাথে কথা বলে এসেছিস?

রাজ: হ্যাঁ, ম্যাডাম আসছেন। একটু ওয়েট কর। আমরা আসছি।

রাজদা কথাটা বলেই কোয়েলকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। কোয়েলদের যেতে দেখে আমি হাসলাম তারপর আদিত্যকে জিজ্ঞেস করলাম,

মৌমিতা: আপনি জানতেন তাই না রাজদা আসবেন?

আদিত্য: না। আমি সত্যিই জানতাম না। আমাকে রাজ একদিন আগে জানিয়েছিল যে ও মে বি আসতে পারবে না ওর অফিসের কাজের জন্য। ওর আসা না আসার কোনো সিওরিটি ছিলো না। হোয়াটএভার এসে যখন গেছে তখন আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। তুমি স্কার্ফটা সাথে রেখেছো নাকি ব্যাগ থেকে নিয়ে আসবো কোনটা?

মৌমিতা: না, না। আমার হ্যান্ড ব্যাগেই আছে আনতে হবে না।

আদিত্য: গুড।

মৌমিতা: বাইকে যাওয়ার কি দরকার ছিল আপনার মাথা যন্ত্রণাটা কমে যেতো বাসে রেস্ট নিলে।

আদিত্য: তোমার হাতে জাদু আছে। তোমার হাতের ছোঁয়া পেয়ে মাথা যন্ত্রনা ফুরুত হয়ে গেছে ঠিক যেমন রাজ কোয়েল পাখিকে নিয়ে ফুরুত হয়ে গেলো। (চোখ টিপ দিয়ে)

আমি হেসে ফেললাম ওনার কথা শুনে, উনি হাসলেন। আমি এখন বুঝতে পারছি ওনার বাইক নিয়ে আসার কারণ। এর মাঝেই প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম আর আমার শ্বশুর মশাই এসে উপস্থিত হলেন আর আদিত্য আমাকে বলে ওনাদের সাথে কথা বলতে গেলেন।

অন্যদিকে,

কোয়েল আর রাজ সেই ওদের পুরোনো চায়ের দোকানের থেকে চা খাচ্ছে। কোয়েল চুপচাপ মুখ গম্ভীর করে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। রাজ ওর পাশে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে বললো,

রাজ: গত দুদিন সারারাত অফিসে ছিলাম। অফিসেই চেঞ্জ করে নিয়েছি ওয়াশরুমে গিয়ে তাই আসতে একটু লেট হয়ে গেছে। স্যরি!

কোয়েল কোনো উত্তর দিলো না। নিজের চা শেষ হতেই ভাঁড়টা ফেলে দিয়ে ঘুরে যেতে নিলেই রাজ নিজের চায়ের ভাঁড়টা ফেলে দিয়ে কোয়েলের হাত ধরে নিজের দিকে নিয়ে আসে। কোয়েল তাও তাকাচ্ছে না রাজের দিকে। রাজ কোয়েলের দু-গালে হাত রেখে নিজের দিকে ফেরালে দেখে ঠিক যেমন সে ভেবেছিল, কোয়েলের ছিল ছলছল করছে। রাজ একটা নিশ্বাস নিয়ে কোয়েলকে বোঝানোর চেষ্টা করে,

রাজ: আই নো আমি তোকে কল ব্যাক করিনি, কোনো মেসেজ করিনি বাট তাও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইন ছিলাম বাট ট্রাস্ট মি আমি জাস্ট আমাদের কলিগদের সাথে কথা বলছিলাম। এছাড়া কিছুই না, এতটাই প্রেসার ছিল আমার উপর যে কাওর সাথে কথা বলতে পারিনি। আদিকে জাস্ট জানিয়েছিলাম মে বি আমি যেতে পারবো না। সাত দিনের কাজ দুদিনে কমপ্লিট করাটা আমার একার পক্ষে খুব টাফ হয়ে গেছিলো। নিশ্বাস নেওয়ার সময় পাচ্ছিলাম না আমি বাট শুধুমাত্র তোর কথা ভেবে সবটা কমপ্লিট করেছি। প্লিজ রাগ করে থাকিস না, তুই ভালো ভাবে জানিস আমি মিথ্যে বলি না।

কোয়েল: এত কাজের প্রেসার ছিল? ঘুমাওনি তুমি দু-রাত? (চিন্তিত হয়ে)

রাজ: নাহ। অফিসে একটু ব্রেক নিয়েছিলাম দু থেকে চার ঘন্টার জন্য কজ মাথা যন্ত্রনা উঠে যেত।

কোয়েল: তার মানে দুদিনে জাস্ট আট ঘণ্টা তাও অফিসে? এরপরেও তুমি এতটা রাস্তা বাইকে যেতে চাইলে কেন? বাসে গেলে তো ঘুমাতে পারতে। (একনাগাড়ে)

রাজ: কারণ আমি জানি একজন বাইক রাইড খুব পছন্দ করে। আর এও জানি সে আমার এই দুদিনের বিহেভিয়ারে খুব হার্ট হয়েছে। (হেসে)

কোয়েল: একদম না। তুমি বাসে চলো যেতে হবে না বাইকে।

রাজ: আমি ঠিক আছি। বাসে কেন যেতে চাইছিস অঙ্কিত আছে তাই? (ইচ্ছা করে)

কোয়েল: একদম মজা করবে না। বদ, জমরাজ একটা! (বাহুতে চাপড় মেরে)

রাজ: চল, দেরী হয়ে যাবে নাহলে এবার।

কোয়েল আর কথা না বাড়িয়ে বাইকের দিকে এগিয়ে যায় আর রাজ টাকা দিয়ে এসে বাইক স্টার্ট দেয়। বাসের কাছে পৌঁছাতেই দেখে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম আর আদিত্যের বাবা আকাশবাবু সবার সাথে কথা বলছেন। ওরা গেলে ওদের সাথেও কথা বলে নেন তারপর সবাই বাসে উঠে গেলে বাসের দরজা বন্ধ করে আদিত্য আর রাজ বাইকে নিয়ে আগে যায় আর ওদের পিছনে ওদেরকে ফলো করে বাস ছাড়ে।

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here