একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৪১||

0
606

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৪১||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৬১.
মৌমিতা: আপনার মাথা যন্ত্রণাটা সত্যি কমেছে তো?

আদিত্য আমার কথার কোনো উত্তর দিলেন না। বেশ কিছুক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছি উনি আমার সাথে কথা বলছেন না শুধু বাইকই চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাপার কি? কিছু ভুল করেছি নাকি আমি? কি আবার ভুল করলাম? ধুর ছাই! রাজদা আর কোয়েল আমাদের পাশে পাশেই চলছে। কোয়েল আমার দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো আদিত্যকে ধরতে, আমি সঙ্গে সঙ্গে না বোধক মাথা নাড়ালাম। কোয়েল ইশারায় বোঝালো আদিত্য রেগে আছেন।

মৌমিতা: (মনে মনে– তার মানে আমি ওনাকে ধরে বসছি না দেখে উনি কোনো কথা বলছেন না? কিন্তু আমি তো ওনার কাঁধ ধরে বসেছি, এর থেকে বেশি কিছু কি ঠিক হবে? যদিও এখন আমাদের সম্পর্কটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে কিন্তু তবুও! আমি সাহস পাচ্ছি না।)

আমার ভাবনার মাঝেই উনি ব্রেক কষলেন। পাশে তাকিয়ে দেখলাম চায়ের দোকান। তারমানে সবাই হয়তো চা খাবে। আমি নামতেই দেখলাম আমাদের বাসও এসে দাঁড়ালো। উনি বাইক সাইড করে রেখে বাসের দিকে চলে গেলেন, আমাকে কিছু বলার সুযোগই দিলেন না। আমি অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকলে কোয়েল এসে আমার পাশে দাঁড়িয়ে বললো,

কোয়েল: কি হলো? এখন মুখ বেজার করে রেখে কোনো লাভ আছে? যখন বললাম ধরে বসতে তখন তো বসলি না।

মৌমিতা: ধরেই তো বসেছিলাম আর কীভাবে ধরে বসবো?

কোয়েল: জড়িয়ে ধরে বসবি। শান্তি? (রেগে বিরক্ত হয়ে)

মৌমিতা: ধুর! (লজ্জা পেয়ে) আমাকে যে এতো জ্ঞান দিচ্ছিস নিজে তো রাজদাকে ধরে বসিসনি। বাইকের পিছনের হ্যান্ডেল ধরে বসেছিলি মাঝে মধ্যে ধরছিলিস, সেই বেলা?

কোয়েল: আমাদের সম্পর্কের সাথে তোদের সম্পর্কের অযথা তুলনা করিস না গাধী। (মৌমিতার মাথায় মেরে)

মৌমিতা: আরে, উনি কি মনে করবেন যদি আমি ওনাকে ওভাবে ধরি? তাছাড়া এখনও আমাদের সম্পর্কটা ততোটাও স্বাভাবিক হয়নি যে ওনাকে জড়িয়ে ধরে বসবো।

কোয়েল: তো স্বাভাবিক কর। আরে বাবা, আদিত্যদা যে সবটা ঠিক করার চেষ্টা করছে এটা আমরা দুজনেই বুঝতে পারছি কিন্তু তুই তো এমন ভাব করছিস জানো তোর এসবে কোনো যায়ই আসে না। হলে হলো আর না হলে না হলো। এমনটা যদি চলতে থাকে তাহলে কি করে হবে মৌ? তুইও একটু কিছু করে বোঝানোর চেষ্টা কর যে তুইও চাস সবটা ঠিক করতে, আদিত্যদাকে একটা সুযোগ দিতে।

আদিত্য: তোরা কেউ কিছু খাবি না? এখনও যেতে সময় লাগবে।

কোয়েল: না, আমি কিছু খাবো না।

আদিত্য আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না দেখে চুপ করেই রইলাম আর উনি চলে গেলেন। বেশ খারাপ লাগলো ওনার ব্যবহারে।

রাজ: কি খারাপ লাগছে তো? দেখো, তোমার যেমন খারাপ লাগছে ওর ব্যবহারে আদিরও কিন্তু তোমার ব্যবহারে খারাপ লাগছে। ওর এটা তো মনে হতেই পারে তুমি ওকে সুযোগ দিতে চাও না আর এটা যদি আদির মাথায় ঢুকে যায় তাহলে কিন্তু ও আবার দূরে সরে যাবে তোমার থেকে, সবকিছুর থেকে। ট্রাস্ট মি! অনেক কষ্টে ও আজ চেঞ্জ হয়েছে, এভাবে ওকে দূরে ঠেলে দিয়ো না।

কোয়েল: এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম ওকে এতক্ষণ। ও যদি কোনো রেসপন্স না করে তাহলে কি করে কিছু ঠিক হবে? মৌ! আদিত্যদা আসছে তুই কথা বল।

কোয়েল আর রাজদা সরে গেলেন তৎক্ষণাৎ। আমি ওনার দিকে তাকালে দেখলাম উনি আমার দিকে একটা কেকের প্যাকেট এগিয়ে দিলেন। আমি প্যাকেটটা হাতে নিতেই উনি চলে যেতে নেন আর আমি ওনার হাত ধরে বাঁধ সাধি। উনি আমার দিকে তাকালেও ওনার হাত না ছেড়েই ওনাকে জিজ্ঞেস করি,

মৌমিতা: কি হয়েছে আপনার?

আদিত্য: কই কিছু না তো। (অন্য দিকে তাকিয়ে)

মৌমিতা: কথা বলছেন না কেন তাহলে?

আদিত্য: বলছি তো।

মৌমিতা: সেই। চুপচাপ দাঁড়ান এখানে।

ওনাকে কথাটা বলে কেকের প্যাকেটটা খুলে এক টুকরো কেক ওনার মুখের সামনে ধরলে উনি আমার দিকে বড়ো চোখ করে তাকান।

মৌমিতা: তাকাচ্ছেন কি? এমনিতেই মাথা যন্ত্রনা তার মধ্যে এভাবে খালি পেটে থাকলে কি করে হবে? চুপচাপ খান।

আদিত্য আমার হাত থেকে কেকের টুকরোটা খেয়ে নিয়ে আমার মুখের সামনে এক টুকরো কেক ধরলে আমিও খেয়ে নিলাম। এরপর আদিত্য আবারও আগের মতো কথা বলা শুরু করলেন আর আমি ওনার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম,

মৌমিতা: (মনে মনে– কোয়েল আর রাজদা ঠিকই বলেছেন, চেষ্টাটা তো দুজনের দিক থেকেই হওয়া উচিত। মানছি উনি ভুল করেছেন কিন্তু মাশুল হিসেবে এতদিন চেষ্টাটাও তো একাই করেছেন। ফুলশয্যার রাত ছাড়া আর একদিনও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেননি এটাও তো আমি অস্বীকার করতে পারিনা। এইবার আমারও উচিত সবটা ঠিক করে নেওয়া।)

আদিত্য: কি দেখছো এভাবে? (হেসে)

মৌমিতা: আপনাকে।

আমার কথা শুনে আদিত্যের ঠোঁটের হাসি আরো বেশি প্রসারিত হলো। আমিও হেসে বললাম,

মৌমিতা: আপনিই পারেন এভাবে মাথা যন্ত্রণা নিয়ে হাসি মুখে থাকতে। (হাত ব্যাগ থেকে বাম বার করে) দেখি এদিকে আসুন এটা একটু লাগিয়ে দি।

আদিত্য: এটা আবার কেন? (মাথা দূরে সরিয়ে)

মৌমিতা: কারণ আপনার আবার ওষুধ খাওয়াতে এলার্জি। কোথায় একটা ওষুধ খেয়ে নেবেন তা না। আসুন এদিকে, মাথা নামান আমার হাত যাচ্ছে না। লম্বু কোথাকার!

আদিত্য: ভাগ্যিস লম্বা হয়েছিলাম নাহলে তোমার কাছে নত হতাম কি করে? (মাথা নামিয়ে) ভুল যারই থাকুক আমি অলওয়েজ তোমার কাছে নত হতে রাজি।

মৌমিতা: ঠিক আছে তাহলে আমিও মানিয়ে নিতে রাজি।

আমার কথায় আদিত্য জানো বিষম খাবে এমন অবস্থা। উনি বিস্ফারিত চাহুনির সাথে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি হেসে ওনার কপালের দু-দিকটায় বামটা লাগিয়ে দেই।

মৌমিতা: নিন, যান এবার। সবাই ডাকছে আপনাকে।

আদিত্য আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে একটা হাসি দিয়ে চলে গেলেন। সত্যি! কত সামান্য ব্যাপারে উনি খুশি হয়ে গেলেন। ওনার কথা ভেবে আমিও হেসে ফেললাম। আমি মাথা ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকালে দেখি কোয়েল আর রাজদা চা খাচ্ছে আর একে অপরকে কিছু একটা বোঝাচ্ছে। আদিত্য রাজদার নাম ধরে ডাকতেই রাজদা চলে যান আর কোয়েল আমাকে এসে জিজ্ঞেস করে,

কোয়েল: কি ব্যবস্থা হলো?

মৌমিতা: সব ঠিক। কিন্তু আমি অন্য একটা কথা ভাবছি।

কোয়েল: কি কথা?

কোয়েল আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেই আমি ওর দিকে তাকিয়ে রহস্যজনক হাসি দিলাম।

৬২.
আদিত্য: তুমি সত্যি বলছো? তুমি পারবে?

মৌমিতা: পারবো না বলে মনে হচ্ছে আপনার? আর না পারলে আপনি তো আছেন আমাকে শিখানোর জন্য। (বিনয়ী ভাবে)

রাজ: এই কিউট ফেসের পাল্লায় পরিস না ভাই। শেষমেশ ট্রেইন মিস করে যাবো। (চিন্তিত ভাবে)

মৌমিতা: রাজদা প্লিজ! গাড়ি চালাতে পারলে বাইক কেন চালাতে পারবো না? (করুন ভাবে)

রাজ: গাড়ি আর বাইক কি এক বৌদিমনি? আর তোমার ব্যাপারটা তাও বুঝলাম কিন্তু তোমার বান্ধবী? ওহ মাই গড! (মাথায় হাত দিয়ে) ও কখনো সাইকেল চালিয়েছে কি না সন্দেহ? ও বলছে বাইক চালাবে। আমি বাসে যাচ্ছি তোরা যা ভালো বুঝিস কর।

কোয়েল: আদিত্যদা তুমি রাজি তো?

আদিত্য: আজ্ঞে। ওর উপর আমার পুরো ভরসা আছে। (মৌমিতার দিকে তাকিয়ে)

কোয়েল: হিহি। (জোর করে হেসে) তুমি অঙ্কিতকে ডেকে দাও বরং! ও আমাকে কোম্পানি দিয়ে…

কোয়েলের কথা শেষ হওয়ার আগেই রাজদা ওর হাত ধরে টানতে টানতে বাইকের কাছে নিয়ে চলে গেলে আমি আর আদিত্য দুজনেই হেসে ফেললাম।

আদিত্য: পারেও বটে এই দুটো।

মৌমিতা: আমার মনে হচ্ছে কোয়েল কষ্ট পেলো।

আদিত্য: কেন?

মৌমিতা: একটু ভেবে দেখুন নিজের কথা বুঝে যাবেন।

আমি কথাটুকু বলে চলে এলাম কারণ আমি জানি উনি বুঝে যাবেন। বাইকের কাছে এসে পৌঁছাতেই দেখলাম কোয়েল একদিকে মুখ করেদাঁড়িয়েআছে তো রাজদা আরেকদিকে।

আদিত্য: বুঝেছি।

মৌমিতা: (পিছনে তাকিয়ে) জানতাম।

আমি বাইকে বসে পড়লাম নিজের কার্ডিগানের হাতাটা কুনুই অবধি গুটিয়ে। উনি আমাকে চাবিটা দিয়ে আমার পিছনে বসলেন। এই কথাটাই আমার মাথায় ঘুরছিল যেটা আমি কোয়েলকে বলতেই কোয়েল রাজিহয়ে যায় কারণ ওর ও আমার মতো ইচ্ছা ছিল বাইক চালানোর।

আদিত্য: (মৌমিতার কানে কানে) অল দ্য বেস্ট!

ওনার কথায় ঘোর কাটার সাথে সাথে শরীর দিয়ে একটাশিহরণ বয়ে গেলো। আমি বাইকে স্টার্ট দিয়ে কোয়েলের দিকে তাকালে কোয়েল আমাকে চোখের ইশারায় বোঝায় এগোতে। আমি স্টার্ট দিয়ে এগিয়ে যাই সঙ্গে সঙ্গে কারণ আমাদের বাস এগিয়ে গেছে। আদিত্য অঙ্কিতকে বলে দিয়েছেন যে ঠিক ভাবে রাস্তা দেখিয়ে বাসকে আগে নিয়ে যেতে কারণ আমাদের একটু দেরী হতে পারে।

মৌমিতা এগিয়ে যেতেই কোয়েল একটা জোরে নিশ্বাস নেয় আর নিজের হাতের আঙ্গুলগুলো একসাথে ফাটিয়ে নেয়। তারপর নিজের স্লীভসটা একটু টেনে নিয়ে বাইক স্টার্ট দেয়। কিছুটা যেতেই কোয়েল স্পীড বাড়াতে শুরু করে নিমিষে মৌমিতাদের ধরে ওদের পাশে চলে যায়।

আদিত্য: তুই এত তাড়াতাড়ি এলি কীভাবে? এতটা স্পীড কি ফাস্ট টাইম নেওয়া ঠিক কোয়েল?

আমি এটা শুনে কোয়েলের দিকে তাকাতেই ও ইশারা করে এগানোর অর্থাৎ বাসের আগে যেতে হবে। কারণ প্রথমেই আমরা বুঝেছিলাম ওরা আমাদের ভরসায় বাসকে রাখবে না, আগেই রাখবে। তাই তখনই ঠিক করে নিয়েছিলাম ঠিক ভাবে চালাতে পারলে বাসের আগে যাবো। কোয়েলের ইশারা পেতেই আমিও স্পীড নিলাম।

আদিত্য: আমি কি তোমাকে ধরে বসতে পারি? (কানে কানে)

আমি শুধু হেসে মাথা নাড়ালে উনি আমার কোমরে হাত রেখে আস্তে আস্তে আমার কার্ডিগানের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বসলেন। আমরা হাইওয়েতে উঠে গেলাম কারণ বাস অনেক আগে ছেড়ে দেওয়ায় অনেকটা এগিয়ে গেছে। হাইওয়ে দিয়ে গেলে আমরা আগে পৌঁছে ওয়েট করতে পারবো।

আদিত্য: রাজের হোস উড়ে গেছে, বেচারা। (হেসে)

আমিও হাসলাম আদিত্যের কথায় কারণ কোয়েল আমাদের আগে রয়েছে।

রাজ: একটু স্লো করো, ওরা আসুক।

কোয়েল: ধরে বসতে পারো ভয় লাগলে।

রাজ: যে আমাকে ধরে বসেনি আমার তাকে ধরে বসার অধিকার নেই।

কোয়েল বুঝলো আদিত্যের মতো রাজও গাল ফুলিয়েছে কিন্তু সেটা কাওকে বুঝতে দেয়নি, মনেই রেখেছে। তাই কোয়েল বললো,

কোয়েল: ঠিক আছে, আমি অধিকার দিলাম। এবার ধরে বসো কারণ মৌও এসে গেছে।

আমি আর কোয়েল দুজন এক স্পীডে বাইক চালিয়ে হাইওয়ে থেকে নেমে এক সাইডে দাঁড়ালাম। আদিত্য নিজের ঘড়ি দেখে বললো,

আদিত্য: গুড জব গাইজ! আমি ভাবতেই পারছি না এটা তোমাদের ফাস্ট টাইম!

আমি আর কোয়েল আদিত্যের কথা শুনে একে অপরকে চোখ টিপ দিয়ে মুচকি হাসলাম। রাজদা যে এতে বেশ অবাক হয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে। সত্যি তো, যেই মেয়ে কি না সাইকেল চালানো জানতো না সে বাইক চালাচ্ছে তাও যারা বাইক চালাতে জানে তাঁদেরই মত এতে অবাক তো হবেই। আমরা আমাদের বাসকে দেখতে পেলে আদিত্য অঙ্কিত কে কল করে বলে দেয় নিজের সিটে চলে যেতে এইবার আমরাই আগে যাবো যেমন যাচ্ছিলাম। আমি আর কোয়েল আবার বাইক স্টার্ট দিয়ে আদিত্যের বলা রাস্তা দিয়ে চলতে শুরু করলাম আর অবশেষে পৌঁছালাম হাওড়া স্টেশন। বাইক সাইড করে আদিত্যকে জিজ্ঞেস করলাম,

মৌমিতা: বাইকগুলোর কি হবে?

আদিত্য: এখানে আমার মাসির বাড়ি সো আমার দুই ভাই এসে যাবে আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে। ওরা নিয়ে যাবে ওদের বাড়ি। আসছি আমি, কোথাও যাবে না এখন এখান থেকে।

আদিত্য চলে গেলে আমি দাঁড়িয়ে থাকি আর আমার নজর পরে জিয়ার উপর। আমি তাকাতেই ও চোখ সরিয়ে অন্যদিকে চলে গেলো। জিয়া বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই তাকিয়ে ছিল আমার দিকে তখনও এর এখনও। তখন বলতে, যখন আমি ওনাকে খাওয়াচ্ছিলাম আর বাম লাগিয়ে দিচ্ছিলাম। আমি কিছুতেই মানতে পারছি না জিয়া মন থেকে স্যরি চেয়েছে, এটা কোনো নতুন ষড়যন্ত্র না তো?

রাজ: কোয়েল আমি বলছিলাম যে…

কোয়েল: তুমি আমাকে যখন ফেলে রেখে গেছিলে তখনের কোয়েলের সাথে এখনের কোয়েলের অনেক তফাৎ আছে। তখনের কোয়েল রাজকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝতো না কিন্তু এখনের কোয়েল রাজকে ছাড়াই সব কিছু পারে। তোমার আর আমার মাঝে তোমার দিক থেকে থাকা আমার প্রতি অবিশ্বাসটা হয়তো কোনোদিনও মিটবে না।

কোয়েল তাচ্ছিল্য হেসে মৌমিতার কাছে চলে গেলে রাজের চোখ ছলছল করে ওঠে।

রাজ: আমি তখন শুধুমাত্র মজা করছিলাম, আমি ভাবিনি তোমার এতে খারাপ লাগবে। আমি তোমাকে কখনোই অবিশ্বাস করিনি। আমি জানি তুমি অঙ্কিতের বিষয়টা নিয়েই কথা বলছো। তুমি অবিশ্বাসটা দেখলে তাঁর পিছনে আমার ভালোবাসাটা দেখলে না। বুঝলে না আমি তোমাকে অবিশ্বাস করি না, আমি তোমার পাশে অন্য কাওকে সহ্য করতে পারি না তাই এমন বিহেভ করি।

রাজ নিজের চোখের কোণের জলটা মুছে নেয় আর বাসের কাছে চলে যায় যেখানে আদিত্য সব একা সামলাচ্ছে।

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে 🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here