একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৫||

0
271

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৫||
@কোয়েল ব্যানার্জী (আয়েশা)

১১.
‘আদি! তুমি এভাবে মুখ ঢেকে, এখানে কেন বসে আছো? কি হয়েছে? এনিথিং রং?’

‘হম এভরিথিং ইজ রং হেয়ার বিকজ অফ ইউ।’

আদিত্যের এরকম শান্ত গলার স্বরে জিয়া বিচলিত হয়ে পড়লো। জিয়া মনে মনে ভাবতে লাগলো,

‘আদির এসব কি বলছে? আমি আবার কি ভুল করেছি?’

জিয়া কিছু বুঝে উঠতে না পেরে আদিত্য কে আবার জিজ্ঞেস করলো,

‘কি হয়েছে আদি? আমি কি করেছি?’

‘কি করছিস না তুই সেটা আমাকে বল। যারাই নতুন আসবে, দুর্বল হবে তাদের বিরক্ত তোকে করতেই হবে তাই না? নিজেও তো তুই এই ইউনিভার্সিটির ফ্রেশার তাহলে কীভাবে অন্য ফ্রেশারকে হ্যারাস করিস? আমার নাম ভাঙিয়ে?’

আদিত্য রেগে, জোরে কথাগুলো একনাগাড়ে বললে জিয়া ঘাবড়ে যায়। সে ভাবেনি আদিত্য এতটা রেগে আছে। এদিকে আদিত্য রীতিমতো রাগে ফুঁসছে।

‘কি হলো বল? কেন ফ্রেশারদের হ্যারাস করিস? স্কুলেও এই কাজটা করতিস তুই আর এখানে এসেও। আমার থ্রুতে, আমার বন্ধুদের গ্যাংএর সাথে মিলে এই কাজ করিস তাই না? এসবই যদি করার থাকে তাহলে আমার সাথে আর কোনোদিন কথা বলার চেষ্টা করবি না জিয়া।’

আদিত্যের শেষের কথা শুনে জানো জিয়ার টনক নড়ল। সে বুঝতে পারছে না আদিত্য কেন এতো রিয়াক্ট করছে তাই রেগে জিজ্ঞেস করলো,

‘তুমি এতো কেন রিয়াক্ট করছো আদি? স্কুল লাইফে তো করোনি, তখনও তো জানতে।’

‘তখন বলিনি এখন তো বলছি? ভালোভাবেই জানিস আমি এসব পছন্দ করি না।’

‘আমি তো সেটাই জানতে চাইছি। তখন কিছু বলেনি কিন্তু এখন কেন বলছো? তাও আবার ওরকম একটা ক্ষ্যাত মেয়ের জন্য? ওহ হো, এখন বুঝলাম। মেয়েটা কোয়েলের ফ্রেন্ড তাই জন্যে?’

আদিত্য জিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে পকেটে দু-হাত গুঁজে বললো,

‘হ্যাঁ তাই। অবশ্য তোর এতো কিছু জেনে কাজ নেই, তোর কাজ আমি যেটা বললাম সেটা মাথায় রাখা। আজকের পর থেকে মৌমিতাকে জানো কেউ না বিরক্ত করে, ওকেই?’

‘নোওও! ইটস নট ওকেই! তুমি সব সময় আমার সাথে এরকম বিহেভ করতে পারো না। সেই স্কুল লাইফ থেকে আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমার পিছনে ঘুরছি আর তুমি? তুমি ওই কোয়েলের জন্য আমার সাথে এতো খারাপ ব্যবহার করে আসছো?’

জিয়ার মুখে কোয়েলের নাম শুনে আদিত্যের চোয়াল নিমিষে শক্ত হয়ে গেলো। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

‘আমি তোর মুখে কোয়েলের সম্পর্কে কোনো কথা শুনতে চাই না। আর একটা কথা শুনে রাখ, জোর করে কিচ্ছু পাওয়া যায়না। আমি এসব ভালোবাসা, বিয়ের কনসেপ্টে বিশ্বাসী নই সো ভালোবাসার দাবী আমার কাছে করিস না কিছুই পাবি না তুই। যেটা বললাম সেটা মাথায় রাখবি, মৌমিতা কে জানো আর বিরক্ত করা না হয়। হলে, সেটা তোর জন্য ভালো হবে না।’

আদিত্য কথাগুলো বলে জিয়ার দিক থেকে পিছন ফিরে একটা নিশ্বাস ফেলে চলে যেতে নিলে জিয়া ফের জিজ্ঞেস করে,

‘তাহলে তোমার কোয়েলের প্রতি এই চিন্তা, যত্ন এসব কি? ভালোবাসা নয়?’

আদিত্য জিয়ার দিকে ফিরে এক গালে তাচ্ছিল্য হেসে বললো,

‘তুই সেটা বোঝার ক্ষমতা রাখিস না। বোঝার হলে নিজেই বুঝে যেতি।’

কথা শেষ করে আদিত্য চলে গেলো হনহন করে। ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বাইকে বসার আগে ফোন বার করে কল করলো,

‘হস্টেল পৌঁছেছে?’

ওপাশ থেকে উত্তর আসলে আদিত্য বলে,

‘অলওয়েজ নজর রাখবি এবার থেকে। হস্টেল থেকে বেড়ানোর পর থেকে নিয়ে হস্টেলে ফেরা অবধি এক মিনিটের জন্য জানো চোখের আড়াল না হয় তোর। আর স্পেশালি ইউনিভার্সিটিতে প্রতিটা মুহূর্তে নজর রাখবি, যাতে কেউ বিরক্ত না করে।’

আদিত্য ফোন পকেটে রেখে বাইক স্টার্ট দিতে গিয়েও দিলো না। বাইকের উপর দু-হাতের কুনুই রেখে হাতের উপর কপালটা ঠেকিয়ে বসে রইলো।

‘আজ যদি মম-ড্যাড আমাকে জোর করে বিয়েটা না দিতো তাহলে এসব কিছুই হতো না। শুধু শুধু আমার জন্য এখন মৌমিতা সাফার করছে। কি বা বয়স, এখনই কি বিয়ে দেওয়ার খুব দরকার ছিল? মম-ড্যাড ভেবেছিল আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলেই আমি কনসেপ্টটাকে মেনে নেব, একবার ভাবলো না এটার নেগেটিভ রেজাল্ট কি হতে পারে। শিট!’

আদিত্য নিজের মাথাটা একটু ঝাড়া দিয়ে নিজের বাংলোর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো। এদিকে কোয়েল আর মৌমিতাও হস্টেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে। কোয়েল বাইরে গেছে এমন সময় মৌমিতা পড়ার বইটা রেখে জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরের পরিবেশ দেখতে দেখতে হঠাৎ ওর চোখ এক ব্যক্তির উপর পড়লো।

‘সন্ধ্যে হয়ে গেছে তাও লোকটা এখানে দাঁড়িয়ে কি করছে? হয়তো হোস্টেলের কাওর সাথে দেখা করতে এসেছে। তাই হবে হয়তো, নাহলে এনাকে দেখে কোনো ডেলিভারী বয় তো মনে হচ্ছে না…’

‘এই মৌ, এগুলো ধর! আমি একা পারছি না।’

কোয়েলের গলার আওয়াজ শুনে পিছন ফিরে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি ও দু-হাতে ফুচকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওকে ওভাবে দেখে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে, ওর হাত থেকে প্লাস্টিক নিতে নিতে বললাম,

‘এসবের কি দরকার ছিলো বল তো? আর যাওয়ার হলে আমাকে বলতি, একা গেলি কেন?’

‘তুই তো বিকেল বেলা ফুচকার দিকে তাকিয়ে বললি যে তোর ফুচকা খেতে ভালো লাগে। তখন যেহেতু ঝালমুড়ি খাচ্ছিলাম তাই আর খেতে গেলাম না। ভাবলাম সন্ধ্যেতে খাবো। খাওয়াও হবে আর সারপ্রাইজ দেওয়াও হবে। হিহিহি!’

কোয়েলের হাসি দেখে আমিও হেসে ফেললাম। তারপর প্লেটে বেড়ে নিয়ে একসাথে খেতে বসলাম। খেতে খেতে কোয়েল বললো,

‘ফুচকা, মোমো আমার ফেভারিট। মাঝে মধ্যেই আমি খাই, এখন একটা সঙ্গীও পেলাম। নেক্সট দিন স্টলে দাঁড়িয়ে খাবো ওকে?’

‘একদম। স্টলে দাঁড়িয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। কিন্তু তুই একা একা কেন খেতিস? আমি তো দেখলাম তুই হস্টেলের সবার সাথেই প্রায় কথা বলিস তাহলে?’

‘আসলে, আমি সবার সাথে মিশি না রে। যে আমার মনের মতো হয় তার সাথেই মিশি আর বাকি সবার সাথে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই কথা বলি।’

‘বাপ রে! আমিই তাহলে তোর মনের মত হলাম? তা কি এমন দেখলি আমার মধ্যে যে অন্যদের মধ্যে দেখিসনি?’

কোয়েল খাওয়া থামিয়ে স্মিত হেসে বললো,

‘অনেক কিছু। তোর না আছে কোনো কিছুর অহংকার, না আছে মনে কোনো হিংসা। সবসময় যেটা সত্যি সেটা মুখের উপর বলিস আর কোনো ইগোও নেই তোর মধ্যে। এরকম সাধারণ মনের একটা সঙ্গীরই আমার প্রয়োজন ছিলো যা আমি আল্টিমেটেলি পেয়ে গেছি।’

কোয়েলের কথা শুনে হেসে ফেলি আমি আর তারপর আবার খাওয়া শুরু করি সাথে নানান রকমের গল্প তো আছেই।

১২.
ক্যান্টিনে বসে বই পড়ছি আমি এমন সময় আমার সামনে এসে একজন বসলো। বই থেকে মাথা তুলে তাকাতেই দেখলাম আমার সামনে জিয়া বসে আর পিছনে ওই ছেলেগুলো মানে জিয়ার গ্যাং। সেদিনের পর প্রায় দেড় সপ্তাহ কেটে গেছে। এই দেড় সপ্তাহে আমাকে কাওর দ্বারা কোনো বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়নি তাহলে আজ আবার হঠাৎ এরা এলো কেন? আমি এতো না ভেবে চুপচাপ আবার বইয়ের দিকে তাকালাম। ঠিক সেই সময় জিয়া বলে উঠলো,

‘আর কদিন পরেই ফ্রেশারস পার্টি। তুমি তো জানোই আমিও তোমার ডিপার্টমেন্টে সো আমিও একজন ফ্রেশারসই।’

‘হ্যাঁ জানি। কিন্তু এগুলো তুমি আমাকে কেন বলছো?’

‘বন্ধুত্ব করার জন্য।’

আমি অবাক হলাম জিয়ার কথা শুনে। যে কিছুদিন আগে আমায় এতো অপমান করলো, আমাকে সহ্য করতে পারছিলো না সে কি না আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইছে? আমার এইসব প্রশ্নের উত্তর জিয়া কে না চাইতেই জিয়া দিয়ে দিলো,

‘দেখো প্রথম প্রথম আমরা সবার সাথেই একটু খারাপ বিহেভ করি দ্যান ভালো বন্ধু হয়ে যাই। ওগুলো জাস্ট মজা করার জন্যই করি। সো ফ্রেন্ডশিপ করবে? তাহলে তুই করে বলবো।’

‘ওকে। বাট ওরা?’

জিয়া আমার কথা শুনে পিছন ফিরে ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে আবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ওরা তোকে ইনভাইট করতে এসেছে। বিকজ ওরা আমাদের সিনিয়র, আয়োজন তো ওরাই করছে তাই ইনভাইটও ওরাই করবে। আমি চললাম, পরে দেখা হচ্ছে।’

জিয়া আমার সাথে হ্যান্ডশেক করে, হেসে চলে গেলো। এরপর ওই ছেলেগুলোর মধ্যে যেই ছেলেটা কোয়েলকে টোন করেছিলো সে আমার সামনে বসে বললো,

‘যা বলার তো বলেই দিলো জিয়া। আর তুমি যখন জিয়ার ফ্রেন্ড তখন আমারও…

ছেলেটা কথাটা বলতে বলতেই আমার হাতের উপর হাত রাখলো আর শক্ত করে ধরলো। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই ছেলেটার মুখভঙ্গি পাল্টে গেলো,

‘আমারও বোন, আমারও বোন বুঝলে? জিয়া কে যেমন বোনের নজরে দেখি তোমাকেও তাই দেখবো কারণ তুমি জিয়ার ফ্রেন্ড। এই, তোরাও ওকে বোনের নজরে দেখবি আর হেল্প করবি।’

‘হ..হ্যাঁ হ্যাঁ সৌভিক।’

বাকি ছেলেগুলোও ভয়ে ভয়ে তাল মিলালে সৌভিক দা বলে,

‘আচ্ছা আমরা আসি হ্যাঁ? আরো অনেককে ইনভাইট করতে হবে। আরে, আদি! আমরা সবাইকে ইনভাইট করা শুরু করে দিয়েছি। চললাম।’

এই বলেই সৌভিকদারা চলে গেলো, বলা যায় একপ্রকার কেটে পড়লো। আমি পিছন ফিরে ওনাকে দেখে আবার সামনে ফিরলাম।

‘তাহলে কি ওনাকে দেখেই সৌভিকদার এমন ভোলবদল? নাহলে উনি যেভাবে আমার হাতটা ধরেছিল তাতে মনে তো হলো না উনি…

‘কেমন আছো?’

আমি চমকে উঠলাম ওনার গলার আওয়াজে। ভাবিনি আদিত্য আমার সাথে কথা বলবেন। মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি উনি আমার সামনেই বসে আছেন। ওনার প্রশ্নের উত্তর দিলাম স্বাভাবিক ভাবে,

‘চলে যাচ্ছে। আপনি?’

‘সেম। পড়াশোনা কেমন চলছে? কোনো প্রবলেম হচ্ছে না তো?’

‘না নাহ। কোনো প্রবলেম হচ্ছে না, পড়াশোনা ভালোই চলছে।’

‘গ্রেট। ওরা ইনভাইট করে দিয়েছে তো ফ্রেশারসের জন্য?’

‘হ্যাঁ।’

‘আসতেই হবে কিন্তু। বাই দ্য ওয়ে, কোয়েল কোথায়? ওকে দেখতে পাচ্ছি না তো।’

‘আসলে ওর শরীরটা ভালো না তো তা…

‘হোয়াট? শরীর ভালো না মানে? কি হয়েছে ওর? কোথায় আছে এখন? ঠিক আছে তো নাকি বাড়াবাড়ি হয়েছে? ওহ শিট, আমার আগে খোঁজ নেওয়া উচিত ছিলো।’

‘আ..আপনি শান্ত হন। কোয়েলের ভাইরাল ফিভার হয়েছে। কালকে রাতে জ্বর এসেছিল এখন ঠিক আছে আপাতত।’

‘ডক্টর দেখিয়েছে?’

‘হ্যাঁ। আজকে সকালে দেখিয়েছে।’

‘আজকে সকালে? তারমানে সারারাত ও জ্বরে কাতরেছে? শিট, শিট, শিট!’

ওনাকে কোয়েলের জন্য এতটা উদ্বিগ্ন হতে দেখে কেন জানো খারাপ লাগতে শুরু করলো। কিছু বললাম না, কি বা বলবো আমি? কোয়েল তো সেদিন বলেছিল ওর তেমন কিছুই নেই ওনার প্রতি কিন্তু ওনারও যে কোনো ফিলিংস নেই সেটা তো নয় তাই না। তাহলে জিয়া? জিয়াকে কি উনি ভালোবাসেন না? থাক, আমার এসব ভেবে কাজ নেই। আমি স্বামী মানলেও উনি তো আর আমাকে স্ত্রী মানে না যে আমাকে কৈফিয়ত দেবে। হে ভগবান, আমি কেন কষ্ট পাচ্ছি? কেন কষ্ট হচ্ছে আমার ওনার অন্য মেয়ের প্রতি কেয়ার দেখে। আমার তো কষ্ট হওয়ার কথা না, ওনার সাথে তো আমার তেমন কোনো সম্পর্কই নেই। তাহলে..??

‘লিসেন, তুমি আমার ফোন নাম্বার নোট করো। যদি কোনো বাড়াবাড়ি হয় আমাকে ফোন করবে ইমিডিয়েটলি, সে যতই রাত হোক না কেন ওকে?’

ওনার কথায় হুঁশ এলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ওনার কথায় তাল মেলাই। ফোন নাম্বার নোট করা হয়ে গেলেই উনি হন্তদন্ত হয়ে উঠে বেরিয়ে যান। আমি একটা নিশ্বাস ফেলি।

‘ইশ, এরকম ভালোবাসা যদি আমিও পেতাম তাহলে কতই না ভালো হতো। কিন্তু সবার কপালে কি আর সব থাকে? হাহ!’

নিজের উপরেই নিজে হাসলাম। হঠাৎ মনে একটা প্রশ্নঃ এলো,

‘কোয়েল তাহলে সেদিন ওনার ব্যাপারে এড়িয়ে গেলো কেন? তাছাড়া এও তো বললো যে প্রেম-ভালোবাসায় বিশ্বাসী না। কাউকে বিশ্বাস করে না। এদিকে আজকে ওনার কোয়েলের প্রতি চিন্তা দেখে বোঝা গেলো উনি ওকে কতটা ভালোবাসেন। নাহলে এরকম রিয়াকট করতেন না সামান্য একটা ফিভার নিয়ে। ব্যাপারটা কি? কিছুই তো বুঝতে পারছি না আমি।’

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে 🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here