একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৫৩||

0
179

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৫৩||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

আমি রাজদাকে ওরকমভাবে উপরে উঠে যেতে দেখে আবার বাগানের দিকে ফিরে যাই কারণ আদিও এখনও আসেনি। সিঁড়ি থেকে নেমে বাইরে বেরিয়ে একটু এগিয়ে যেতে দেখলাম আদি কোয়েলকে বুকের মাঝে জড়িয়ে রেখেছে। আমি দেখতেই কোয়েল আদির থেকে দূরে সরে গেলে আদি অবাক হয়ে কোয়েলের দিকে তাকায়। কোয়েলের চাহুনি অনুসরণ করে আমার দিকে তাকালেই আমি ওখান থেকে পিছন ফিরে সোজা ঘরে চলে আসি।

আদিত্য: তুই আমাদের ঘরে যা, রাজ আছে হয়তো ওখানে। আমি মৌকে বিষয়টা বোঝাচ্ছি।

কোয়েল: সবটা জানানো কি খুব দরকার? না জানালেই নয়?

আদিত্য: (দু-গালে হাত রেখে) সত্যি কখনো চেপে রাখা যায় না ছুটি। এখন যদি না জানাস তাহলে পরে যদি ও জানতে পারে ওর আরো খারাপ লাগবে। আমি ওকে বোঝাচ্ছি, তুই চিন্তা করিস না।

আদিত্যকে চলে যেতে দেখে কোয়েল চুপচাপ সেদিকে তাকিয়ে থাকে। ইতিমধ্যে বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কোয়েল আদিত্যদের ঘরে না গিয়ে গেস্ট হাউসের পিছনের দিকে চলে যায় যেখানে একটা বসার জায়গা আছে। বেশ সুন্দর লাগছে বাইরের দৃশ্যটা। কোয়েল সেখানে দাঁড়িয়েই চুপচাপ বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে।

৭৯.
আদিত্য ঘরে এসে দেখে মৌমিতা বেডে দু-হাত রেখে চুপচাপ বসে আছে। দরজাটা বন্ধ করার আওয়াজ মৌমিতার কানে আসতেই মৌমিতা আদিত্যের দিকে তাকায়। আদিত্যকে দেখতেই মৌমিতা উঠে ব্যালকনিতে চলে যায়। সেই দেখে আদিত্যও মৌমিতার পিছু পিছু যায় আর পিছন থেকে মৌমিতাকে জড়িয়ে ধরে।

মৌমিতা: আদি প্লিজ, ছাড়ো আমাকে আমার ভালো লাগছে না।

আদিত্য: এই ঠান্ডার মধ্যেও এতো গরম হয়ে আছো কি করে তুমি? (মজা করে)

আদিত্যের কথার উত্তর দিতে মন চাইলো না তাই চুপ করে রইলাম। এতদিন কোয়েলের সাথে আছি আমি কোয়েল একটাবারের জন্য আমায় বলেনি ও একজন ডান্সার। বরং আমি যখন কম্পিটিশনের সময় জিজ্ঞেস করেছি তখন আমাকে মিথ্যে বলেছে। কথাগুলো মাথায় আসতেই মাথাটা প্রচন্ড গরম হয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে এইসব ব্যাপারে আদিও জানতো, অঙ্কিতও জানতো কিন্তু আমাকে কেউ কিছু বলেনি। কারণটা কি? কোয়েল বারণ করেছে। এতই যদি সব লুকানোর ছিলো তাহলে বন্ধুত্ব কি জন্য করেছিলো?

আদিত্য: এই বউ! এতো কেন রাগ করছো? আচ্ছা আমার সাথে তো একটু ভালো ভাবে কথা বলো?

আদি আমাকে ওর নিজের দিকে ফেরালে আমি মুখ নীচের দিকে নামিয়ে রাখি। তবুও ও আমার চোখের জল দেখতে পেয়ে যায় আর উত্তেজিত হয়ে আমার গালে দু-হাত রেখে বলে,

আদিত্য: মৌ প্লিজ, কাঁদছো কেন তুমি? তুমি কি কোনোভাবে কিছুক্ষণ আগে আমাকে আর কোয়েলকে ওভাবে দেখে ভুল ভাবছো? (ঘাবড়ে গিয়ে)

মৌমিতা: (বিরক্ত হয়ে) কি আজে বাজে কথা বলছো আদি। আমি কেন তোমাদেরকে ভুল বুঝতে যাবো? আমি খুব ভালো ভাবেই জানি তোমাদের সম্পর্কটা দাদা আর বোনের। কোয়েলের ব্যাপারে জানার পর থেকে আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না আদি, প্লিজ আমাকে একা ছেড়ে দাও। (চোখের জল মুছে)

আদিত্য: এরকম করো না জান। তোমাকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখলে আমার ভালো লাগে না।

মৌমিতা: তোমার কষ্ট হয়নি যখন রাজদা তোমাকে কোনো কিছু না জানিয়েই হঠাৎ করে চলে গেছিলো? নিজেকে একা মনে হয়নি? আমারও আজ নিজেকে ভীষণ একা মনে হচ্ছে আদি। এখানে আসার পর প্রথম দিন থেকে কোয়েলের আমার প্রতি যত্ন, ভালোবাসা সবকিছু মনে পরলেই আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি ওকে নিজের বন্ধু মনে করেছি কিন্তু ও মনে করেন, তাই তো সবটা লুকিয়ে গেছে আমার থেকে। এদিকে আমি প্রথম দিনই ওকে আমার জীবনে কি ঘটেছে না ঘটেছে সবটা বলেছিলাম। বন্ধু যখন মনেই করে না তাহলে কি দরকার ছিলো এভাবে প্রত্যেক মুহূর্তে ঢাল হয়ে পাশে থাকার, বোনের মতো ভালোবাসার?

আদিত্য: আমি জানি তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমার যেমন কোয়েল ছাড়া কোনো বন্ধু নেই। তুমি ওকে যেমন বোনের মতো ভালোবাসো তেমন কোয়েলেরও ক্ষেত্রেও তাই।

মৌমিতা: তাহলে ও কেন বললো না আমায় কিছু? কেন আমাকে এতটা পর মনে করলো?

আমি শব্দ করে কেঁদে উঠলে আদি আমাকে বুকের মাঝে নিয়ে নেয়। আমি ওর বুকে মাথা রেখেই ফোঁপাতে থাকি। কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলে আদি আমাকে সোজা করে, চোখের জল মুছিয়ে দেয়। কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলে,

আদিত্য: কোয়েলের কোনো দোষ নেই মৌ। তুমি এখনও অনেক কিছুই জানো না ওর সম্পর্কে। শুধু ওর কেন, আমার সম্পর্কেও অনেক কিছু জানো না তুমি।

আমি কিরকম ভাবে বিষয়টা নিয়ে প্রতিক্রিয়া করবো বুঝতে পারছি না। কোয়েলের সাথে সাথে আদির সম্পর্কেও অনেক কিছু জানি না মানে? কি বলতে চাইছে ও? আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আদির দিকে চেয়ে রইলে ও আমার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে দোলনায় বসিয়ে দেয়। তারপর নিজে বসে আমার হাত নিজের হাতের মাঝে নিয়ে বললো,

আদিত্য: মৌ, কোয়েল…কোয়েল আমার সম্পর্কে নিজের খুড়তুতো বোন হয়।

মৌমিতা: কি? (অবাক হয়ে)

আদিত্য: হম। ও আমার কাকাই মানে কাকার মেয়ে হয়। আমার কাকার নাম আশীষ ব্যানার্জী। আমার ড্যাড আর কাকাইয়ের বর্তমানে কোনো বিশেষ সম্পর্ক নেই মানে প্রয়োজন নাহলে কেউ কাওর সাথে কথা বলে না। ছোটো থেকে আমি বা কোয়েল এরকম কিছুই দেখিনি, একসাথে মানুষ হয়েছি দুজনেই। কিন্তু কোয়েল যখন উচ্চমাধ্যমিক দিলো তখন কাকাই ওকে বাইরে পড়াশোনার করতে যাওয়ার জন্য প্রেসার দিতে লাগলো। কাকাইয়ের মতে, কোয়েল যদি বাইরে গিয়ে পড়ে ওখানকার কালচার জানে তাহলে ওর অনেক স্ট্যাটাস, স্ট্যান্ডার্ড বাড়বে। ইনডাইরেক্টলি ইন্ডিয়ান কালচারকে অপমান করায় ড্যাড একটু রেগে গিয়ে কাকাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। এদিকে কোয়েলও বলে দেয় যে ও কিছুতেই বাইরে যাবে না। ছোটো থেকেই কাকাইয়ের সাথে কোয়েলের মতের বিরোধ লেগেই থাকতো। বলতে গেলে কাকাই যেটা বলতো সেটা কোয়েল শুনতো না কিংবা শোনার প্রয়োজন মনে করতো না। কাকাই কোনো সময় জোর করতো না কোয়েলকে কিন্তু বাইরে পড়তে যাওয়ার সময় কাকাই জোর করা শুরু করে। তবে কোয়েল নাছোড়বান্দা, কিছুতেই যাবে না। আসলে, ব্যাপারটা হলো শুরু থেকেই কাকাইয়ের মধ্যে বড়লোক হওয়ার একটা দম্ভ আছে। যারা গরীব তাঁদের তো মানুষ বলেই গণ্য করে না আর যাঁরা মধ্যবিত্ত তাঁদেরকেও হেয় করে চলে। এটাই ছিলো কোয়েলের সাথে কাকাইয়ের আলাদা হওয়ার মূল কারণ।

মৌমিতা: আলাদা হওয়ার কারণ? মানে?

আদিত্য: সেই ঘটনার পর কোয়েল বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কেউ না জানলেও আমি জানতাম সবটাই। আমিই ওর অ্যাডমিশন যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে করিয়ে দেই আর হোস্টেল ঠিক করেদি। ও আমাকে বলেই দিয়েছিল কাওকে জানাতে না ভার্সিটিতে আমি ওর দাদা হই, যে কয়জন জানে শুধু তাঁদের মধ্যেই থাকুক ব্যাপারটা। কোয়েল নিজের একটা আইডেন্টিটি বানাতে চায়। চায় না কেউ ওকে কাকাইয়ের নামে চিনুক। নিজের সম্পর্কে সবকিছুই ও আগাগোড়া গোপন করে এসেছে এটার কারণ আমি জানি না। হাতে গুনে কয়েকজন ওর সম্পর্কে জানে। আমি, রাজ আর অঙ্কিত এতদিন জানতাম এখন তুমি অ্যাড হলে।

মৌমিতা: মানে বাবা মা কেউ জানেন না ওর নাচ সম্পর্কে?

আদিত্য: না। আর আমার যা মনে হয় সেই কারণেই ও তোমাকে কিছু জানায়নি কম্পিটিশনের টাইমে। তোমাকে জানালে তুমি নাম দিতে বলতে কিন্তু ও তো জানতো মম, ড্যাড আসবে কম্পিটিশনে। তাই হয়তো ব্যাপারটা হাইড করেছে।

মৌমিতা: শুধু কি কাকাইয়ের দম্ভের কারণে কোয়েলের রাগ কাকাইয়ের উপর?

আদিত্য: (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) সেটা কোয়েলের থেকে জেনে নিয়ো। ও তোমাকে ভালো ভাবে বলতে পারবে। ও কাওকে জানাতে না করেছে দেখে আমি ওকে ছুটি বলে ডাকতে পারিনা আর ও আমাকে দাভাই। মাঝেমধ্যে কেউ না থাকলে ডাকি।

মৌমিতা: তখন যে অঙ্কিত বললো কোয়েলের নাচটা প্র্যাকটিস আছে প্রোগ্রাম করেছে দেখে। কোথায় প্রোগ্রাম করেছে আর কবেই বা করলো? ও তো আমার সাথেই থাকতো সারাক্ষন তাহলে?

আদিত্য: এখানে আসার আগে যে এক সপ্তাহ ছুটি পেয়েছিলাম আমরা। সেই সময় ও মুম্বাই গেছিলো অঙ্কিতের সাথে, কম্পিটিশন ছিলো একটা।

মৌমিতা: আমার মনে আছে, তুমি এড়িয়ে গেছিলে কোয়েলের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেই।

আদিত্য: (হেসে) হম। কোয়েল আগাগোড়াই খুব একা জানো তো মৌ। ছোটবেলায় বন্ধু ছিলো না,ওর সবটা জুড়ে শুধু ওর দাভাই মানে আমি ছিলাম। তারপর একদিন রাজকে আমার বাড়িতে নিয়ে গেলে সেদিন রাজের সাথে খুব ঝগড়া করে। কারণ কি ছিলো জানো ঝগড়ার?

মৌমিতা: কি?

আদিত্য: (হেসে) রাজ নাকি ইর দাভাইকে ওর কাছ থেকে কেড়ে নেবে। সেই কি কান্না বাপ রে বাপ! ওর আদো গলায় দাভাই ডাকটা ভীষণ মিস করি। আজ যখনও দাভাই বলে ডাকলো না? আমার এত ভালো লেগেছিল আমি বলে বোঝাতে পারব না তোমাকে।

মৌমিতা: (আদির কাঁধে হাত রেখে) তারপর রাজদার সাথে বন্ধুত্ব কীভাবে হলো?

আদিত্য: (চোখের জল আড়াল করে) কীভাবে আবার? আমি গিয়ে ওকে মানালাম আর রাজকে দু-চারটে থাপ্পর দিলাম। রাজও বললো যে, ও আমার সাথে বেশি কথা বলবে না। আর তারপরেই পাশা উল্টে গেলো। রাজ কোয়েলের থেকে আমাকে কেড়ে নেওয়ার বদলে আমার থেকেই কোয়েলকে কেড়ে নিল একপ্রকার। বোন আমার রাজ ছাড়া আর কিছু বোঝেই না। রাজের সাথেই পড়বে, রাজের সাথেই খেলবে সারাক্ষণ শুধু রাজ আর রাজ। আমাকে তো পাত্তাই দিতো না। এখনই দেখো না, যেই রাজ এসে গেছে আমাকে আর পাত্তাই দিচ্ছে না। (গাল ফুলিয়ে)

মৌমিতা: (হেসে দিয়ে) হিংসুটে।

আদিত্য: (হেসে) উহুম। আমি খুব খুশি রাজের ফিরে আসাতে। ওর চলে যাওয়ার আমার যতটা না কষ্ট হয়েছিলো আমার বোনের তাঁর থেকে বেশি কষ্ট হয়েছিলো। একদিকে বাবার সাথে ঝগড়া অন্যদিকে নিজের সবথেকে কাছের মানুষটার হুট করে চলে যাওয়া। আমি চেষ্টা করছিলাম কীভাবে ওকে ঠিক করবো আর ঠিক সেই সময় তুমি এলে। ইউ নো মৌ, কোয়েলকে যখন তোমার সাথে খুব হাসিখুশি দেখেছিলাম তখন প্রথম মনে হয়েছিলো হয়তো সত্যি তুমি খুব স্পেশাল।

আদি আমার চোখে চোখ রেখে কথাটা বললে আমি লাজুক হাসলাম চোখ নামিয়ে নিয়ে। ও আমাকে বললো,

আদিত্য: ওর উপর আর রাগ করে থেকো না। এতে তুমিও কষ্ট পাবে আর ও নিজেও।

মৌমিতা: কি বলছো টা কি? এতো সহজে সব ভুলে যাবো? (উঠে দাঁড়িয়ে)

আদিত্য: মৌ প্লিজ…

মৌমিতা: অসম্ভব! আমার একমাত্র ননদ বলে কথা, ঝগড়া করব না এমনটা হয় নাকি? (রেলিং ধরে হেসে)

আদি আমার কথা শুনে হেসে ফেলে। বেচারা আমার আগের কথাটা শুনে খুব নার্ভাস হয়ে গেছিলো।

আদিত্য: তোমাদের ননদ- বৌদির মধ্যে আমি নেই।

মৌমিতা: হুহ, থাকতে কে বলেছে? এখন যাও নিজের ঘরে যাও। (বাইরের দিকে তাকিয়ে)

আদিত্য ধীর পায়ে মৌমিতার খুব কাছে চলে গেলো। মৌমিতা সেটা টের পেয়ে আদিত্যের দিকে মুখ ঘোরালেই আদিত্যের উষ্ণ নিশ্বাস নিজের মুখের উপর অনুভব করলো। আদিত্য মৌমিতার চুল কানের পিছনে গুঁজে দিতে দিতে বললো,

আদিত্য: এত সুন্দর ওয়েদারে বউকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে নাকি? নো ওয়ে! এখন তো রোম্যান্স করার সময়। (গালে ঠোঁট ছুঁয়ে)

আদিত্য মৌমিতার খুব কাছে থাকায় মৌমিতা কেমন জানো জমে গেছে। চেয়েও আদিত্যকে দূরে সরাতে পারছে না। লজ্জায় মৌমিতার মুখ লাল হয়ে গেছে, আদিত্যের দিকে তাকাতে সে নারাজ। আদিত্য তা বুঝতে পেরে নিজেই মৌমিতার হাতদুটো ধরে নিজের মুখের কাছে এনে অপর পিঠে ঠোঁট ছোঁয়ায়। মৌমিতা চোখ বুজে নিলে আদিত্য মৌমিতার কোমর একহাতে পেঁচিয়ে নিয়ে একহাত মৌমিতার কানের নীচে রেখে মৌমিতার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে যায়। মৌমিতা আলতো ভাবে চোখ মেলে তাকাতেই আদিত্য নিজের ঠোঁটের ভাঁজে মৌমিতার ঠোঁটজোড়া নিয়ে নেয়।

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে 🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here