একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৫৪||

0
596

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৫৪||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৮০.
ঝড়ো বৃষ্টির সাথে হালকা হাওয়া চলার দরুন কোয়েলের মুখে বৃষ্টির একটা ছাঁট আসছে যেটা কোয়েল চোখ বুজে অনুভব করছে। এমন সময় কোয়েল নিজের পাশে কাওর উপস্থিতি টের পায়। পাশ ফিরে তাকালে দেখে রাজ এসে, পকেটে হাত গুঁজে সামনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়েছে। কোয়েল তা দেখে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেও সামনের দিকে তাকায়। কোয়েলের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রাজ এইবার কোয়েলের দিকে তাকালো। কোয়েলের দিকে এক-পা এগিয়ে রাজ কোয়েলের বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে। সাথে সাথে কোয়েল নিজের দু-হাত দ্বারা রাজকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। রাজ কোয়েলের মাথায় ঠোঁট ছুঁয়ে কোয়েলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় কিছুক্ষণ।

কোয়েল: তুমি রাগ করে নেই আমার উপর?

রাজ: উহুম! প্রথমে একটু রাগ হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু এখন আর রাগ নেই।

কোয়েল একটু অবাক হয়ে রাজের বুক থেকে মাথা তুলে, রাজের চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করে,

কোয়েল: কেন? আমি তো তোমার রাগ ভাঙাইনি। তাহলে কীভাবে রাগ বলছো রাগ নেই?

রাজ: (হেসে) আমার রাগের কারণ ছিলো অঙ্কিত তোমার ডান্স পার্টনার, তুমি প্রোগ্রাম করছো এগুলো আমাকে না জানানো। পরে মাথাটা একটু ঠান্ডা হতেই মনে পরলো, আমার কুহুজান তো কাওকে নিজের সম্পর্কে জানাতে পছন্দ করে না। তাই রাগটা হুঁশ! করে উড়ে গেলো।

রাজের কথায় কোয়েল হেসে ফেললো। রাজের বুকে আবারও মাথা রেখে বললো,

কোয়েল: তোমার মত মৌও আমাকে বুঝবে তো রাজ? আমি ওকে হারাতে চাইনা। আমি যখন ভীষণ একা ছিলাম তখন ওকে আমার জীবনে পেয়েছি শুধুমাত্র বন্ধু হিসেবে নয়, বোন হিসেবে।

রাজ কোয়েলের দু-গালে হাত রেখে ওকে সোজা করে বললো,

রাজ: বুঝবে। বউদি এতোটাও অবুঝ নয় যে তোমাকে বুঝবে না। বউদি তোমাকে ভালোবাসে দেখেই তো কষ্ট পেয়েছে, সত্যিটা জেনে গেলে দেখবে সবটা ঠিক হয়ে যাবে।

কোয়েল রাজের কথায় চুপচাপ মাথা নেড়ে সায় দিলে রাজ হেসে কোয়েলের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় আর বলে,

রাজ: এবার ঘরে যাও নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।

কোয়েল: যাবো? দাভাই আমাদের ঘরে আছে। মৌকে আমার আর দাভাইয়ের ব্যাপারে সব বলে দিয়েছে হয়তো এতক্ষণে। (চিন্তিত সুরে)

রাজ: আদি মৌকে তোমার আর ওর রিলেশন কি এইগুলো বলতে গেছে?

কোয়েল: হমম। বললো এখন না জানালে পরে যদি মৌ অন্যকাওর থেকে জানতে পারে তাহলে আরো কষ্ট পাবে তাই এখনই জানিয়ে দেওয়াটা ভালো।

রাজ: ঠিকই তো বলেছে। একটা বিষয়ে যখন জানতে পেরেছে তখন পুরো বিষয়টা জেনে নেওয়াই ভালো। কারণ পরে যদি জানে তাহলে আবার একটা কষ্ট পাবে।

কোয়েল: হম। আচ্ছা, তুমি তো দূরে থেকেও আমার খোঁজ নিতে তাহলে এই বিষয়টা জানলে না কেন?

রাজ: আর কি বলবো, তোমার প্রশ্নের উত্তরটা মাথায় আসতেই তো আমার রাগ গলে জল হয়ে গেলো।

কোয়েল: বুঝলাম না?

রাজ: আমি যার কাছ থেকে তোমার খবর নিতাম তাঁকে তোমার দাভাই মানে আদিই খবর দিতো। ও জানতো আমি তোমার খবর নিচ্ছি মানে একদিন ঠিক ফিরবো এদিকে তুমিও বারণ করেছিলে এই বিষয়টা যাতে কেউ না জানে তাই ওই ছেলেটাকে বলে দিয়েছিলো যাতে আমায় এই বিষয়ে না জানায়। এটা মাথায় আসতেই বুঝলাম তোমার তো কোনো দোষ নেই, তাই আমি ছুটে ছুটে আমার কুহুজানের কাছে চলে এলাম!

রাজ কথাটা একটু ঝাঁকি দিয়ে শেষ করেই কোয়েলের গালে ঠোঁট ছুঁয়ে সরে এলো। কোয়েল বাচ্চাদের মতো হেসে ফেললে রাজ কোয়েলের নাক ধরে টেনে দেয়।

রাজ: ওই তো আদি আসছে। যাও ঘরে যাও।

আদিত্য: ঘরে যা, আছে আজকে তোর কপালে।

আদিত্যের কথা শুনে কোয়েল কাঁদো কাঁদো মুখে করে ফেললে রাজ হেসে আদিত্যকে বলে,

রাজ: বাচ্চা মেয়েটাকে ভয় দেখাস না ভাই। এমনিতেই ভয় পেয়ে আছে।

কোয়েল ঠোঁট উল্টে গাল, নাক ফুলিয়ে বাচ্চাদের মতো রাজের দিকে তাকালে আদিত্য জোরে হেসে ফেলে। সেই দেখে কোয়েল আদিত্যের দিকে ওভাবে তাঁকায়।

আদিত্য: তোকে এখন পুরো আমার ছোটবেলার ছুটির মতো লাগছে। ঠিক যখন তুই বায়না করতিস খেলার জন্য আর আমি না করে দিতাম। তাই না রাজ?

রাজ: একদম ঠিক। শুধু ওই বিষয়ে? কোনো কিছুতে মহারানীকে নাক করলেই এরকম রিয়াকশন দিতো।

কোয়েল: ধুর! থাকবোই না আমি এখানে। যাচ্ছি আমি হুহ! (বাচ্চাদের মতো গলা করে)

কোয়েল চলে গেলেও আদিত্য আর রাজ হাসাহাসি করতে থাকে। কোয়েল সেটা সিঁড়ি দিয়ে উঠে গিয়ে একটু দাঁড়াতেই দেখতে পেলো। নিজেও হাসলো কোয়েল তারপর ঘরে চলে গেলো। ঘরে ঢুকতেই কোয়েল দেখলো মৌমিতা একটা বই নিয়ে বেডে বসে আছে। কোয়েল দরজাটা বন্ধ করে মৌমিতার পাশে গিয়ে বসে একটু কাশে।

কোয়েল: উঁহু, উঁহু! বলছি যে শোন না।

মৌমিতা: হম। (গম্ভীর ভাবে)

কোয়েল আমার উত্তর দেওয়ার ধরণ দেখে চুপ করে গেল। বেশ হাসি পাচ্ছে কোয়েলের অবস্থা দেখে কিন্তু এখন তো হাসলে হবে না। তাই চুপ করে রইলাম। কোয়েল বসা থেকে উঠে আমার সামনে এসে বসলো।

কোয়েল: রাগ করে আছিস আমার উপরে?

মৌমিতা: নাহ। তুই কি এমন কিছু করেছিস নাকি যে তোর উপর রাগ করে থাকবো?

কোয়েল: আমি মানছি আমি ভুল করেছি কিন্তু আমি এমনটা ইচ্ছা করে করিনি মৌ। রাজও জানতো না এই বিষয়ে।

মৌমিতা: (বই রেখে উঠে বসে) আচ্ছা মেনে নিলাম তুই নিজের সম্পর্কে জানাতে ভালোবাসিস না। তাই বলে তোর আর আদির সম্পর্কে কেন কিছু জানালি না আমাকে? আমি যদি তোর আর আদির সম্পর্কে জানতাম তাহলে কি খুব ক্ষতি হতো?

কোয়েল: তোর সাথে আদিত্যদা যেটা করেছিলো সেটা জানার পরে কোন মুখে আমি বলতাম যে, আমি সম্পর্কে তোর ননদ হই? আমি যদি এটা তোকে জানিয়ে দিতাম তাহলে তুই কখনোই আমার সামনে আদিত্যদার প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতিস না। ফলে আমিও তোদের সম্পর্ক ঠিক করার ক্ষেত্রে কোনো হেল্প করতে পারতাম না। সবটা ঠিক হয়ে গেলে এই বিষয়টা জানাজানি হতোই তাই আর বলিনি।

আমি কোয়েলকে জড়িয়ে ধরি ওর কথা শুনে। আদির থেকে সবটা জানার পরেই আমার রাগ চলে গেছে আর এখন কোয়েলের মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনে আরো বেশি ভালো লাগছে। সত্যি, বোন খুঁজে পেয়েছি বন্ধু নয়। এদিকে, কোয়েলও মৌমিতাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। জানো প্রাণ ফিরে পেলো শরীরে।

মৌমিতা: তুই কম্পিটিশনে নাম দিসনি কেন? বাবা-মা আসবে দেখে?

কোয়েল: হম। কিন্তু মৌ, তোর বাবা-মাকে কিন্তু আমি ডাকিনি সেদিন। আদিত্যদা অনেক আগে থেকেই বলে রেখেছিলো। হঠাৎ আসেননি ওনারা সেদিন।

মৌমিতা: কি? কই, ও তো আমাকে বললো না সেটা?

কোয়েল: হুর পাগলী! নিজের ঢ্যাঁড়া কেউ নিজে পেটায় নাকি? (হেসে) আদিত্যদা….

মৌমিতা: (কোয়েলকে থামিয়ে) দাভাই! দাভাই বলে ডাকবি এবার থেকে আমার সামনে। জানিস তোর দাভাই কতোটা কষ্ট পায় তুই ওকে এখন আর তেমন এই নামে ডাকিস না দেখে? আজকে আমাকে তোর সম্পর্কে, তোর ছোটবেলার সম্পর্কে সবকিছু বলেছে। সেই সময় এই সম্বোধনের ব্যাপারটা এলে ওর চোখে জল দেখেছি আমি।

আমার কথা শুনে কোয়েলের চোখটা ছলছল করে ওঠে। সামান্য হেসে বলে,

কোয়েল: আমার কাছেও দাভাইয়ের দেওয়া “ছুটি” নামটা খুব প্রিয়। আজকে যখন দাভাই আমাকে ঐ নামে ডাকলো, তখন কিছুক্ষণের জন্য দমে গেছিলাম আমি।

মৌমিতা: তাহলে কেন বারণ করেছিস ওকে এই নামে ডাকতে? দুজনেই তো কষ্ট পাচ্ছিস।

কোয়েল: (উঠে দাঁড়িয়ে) আসলে আমি চাইতাম না কেউ জানুক আমি আশীষ ব্যানার্জীর মেয়ে।

মৌমিতা: কেন কোয়েল? শুধুই কি মতের বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?

কোয়েল: (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) উনি আমাকে ভীষণ ভালোবাসে জানিস তো মৌ। আমি বুঝি সেটা।

মৌমিতা: তাহলে?

কোয়েল: উনি উনার মত করে আমাকে ভালোবাসে, আমার মতো করে নয়। সবসময় দামী দামী জিনিস, ভালো ভালো খাওয়ার, নতুন নতুন জামাকাপড়, টাকা পয়সা এইসব দিয়েছে। সময়, স্নেহ এগুলো না। উনি আমাকে ভালোবেসেছেন ওনার কথা রাখার জন্য, ওনার স্বপ্ন পূরণের জন্য। আমার কি স্বপ্ন, আমার কি ইচ্ছা সেটা জানার কোনোদিন চেষ্টাটুকু করেনি। নিজের ইচ্ছাগুলো আমার উপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন।

মৌমিতা: আর?

কোয়েল: এগুলো যেমন জানতে পেরেছিস। সময় আসলে হয়তো আরো কিছু জানতে পারবি। এখন প্লিজ এইসব নিয়ে কথা বারাস না।

মৌমিতা: কিন্তু…

কোয়েল: প্লিজ, মৌ!

মৌমিতা: ফ্রেশ হয়ে আয় যা।

কোয়েল হেসে ফ্রেশ হতে চলে যায়। একদিনে এতো কিছু জানাটা ঠিক নয়, ধীরে সুস্থে সবটা বাড় করতে হবে আমায়। সেদিন রাতে এবিষয়ে আর কোনো কথা বলিনি। তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া সেরে শুয়ে পড়েছি কারণ পরেরদিন সকালে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান হয়েছিলো।

৮১.
দার্জিলিং থেকে ফিরে এসেছি এক-দু সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। পরীক্ষা এখন দোরগোড়ায়। আমাদের অনার্স ফাস্ট সেমিস্টার আর আদিদের এম.বি.এ. থার্ড সেমিস্টার। ভার্সিটিতে আজকে গিয়ে বেশ কয়েকটা সাজেশন নিয়ে এসেছি। আদি আমাকে হস্টেলের সামনে গাড়ি থামালে আমি নেমে যাই।

মৌমিতা: কি হলো দাঁড়িয়ে আছো যে? যাও।

আদিত্য: তুমি উপরে উঠে যাও আগে, আমি চলে যাবো।

আমি আদির কথা শুনে হস্টেলে ঢুকে পড়লাম। কোয়েল ঘরে একা কারণ একদিন আমি ভার্সিটি যাই আরেকদিন ও। এভাবেই পড়া কমপ্লিট করছি। আমি ঘরে ঢুকতেই দেখলাম কোয়েল লাগেজ প্যাক করছে। কোথায় যাচ্ছে ও এই পরীক্ষার সময়, এই ভেবে এগোতেই দেখলাম জামাকাপড়গুলো আমার।

মৌমিতা: আমার জামাকাপড় গোছাচ্ছিস কেন? মাথা খারাপ হলো নাকি তোর?

কোয়েল: আজ্ঞে না, আমার মাথা খারাপ হয়নি। আপনার বরের হুকুম ছিলো আপনি আসার আগে লাগেজ গুছিয়ে রাখতে। তাই আমি আমার পড়া বাদ দিয়ে এই করছি।

মৌমিতা: আদি?

আদিত্য: ইয়েস ম্যাডাম! আমি। (পিছন থেকে)

মৌমিতা: তুমি উপরে এসেছো কেন? আর এসব কি আদি?

আদিত্য: তুমি এখন আমার সাথে আমার বাংলোতে যাচ্ছো। কোয়েল, লাগেজ প্যাক করেছিস?

কোয়েল: হ্যাঁ, কমপ্লিট।

আদিত্য: গুড গার্ল। মৌ, চলো।

আদি ট্রলি নিয়ে আমার হাত ধরে এগোতে নিলেও আমি এগোই না। চুপচাপ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকি। সেই দেখে আদি বলে,

আদিত্য: কি হলো মৌ? চলো, দেরী হয়ে যাচ্ছে।

মৌমিতা: আমি কোথাও যাবো না আদি। এখানেই থাকবো আমি।

আদিত্য: আমি যখন যেতে বলেছি তখন তুমি যাবে।

মৌমিতা: কেন এমন করছো? আমি তোমার সাথে একসাথে থাকলে লোকে কি ভাববে? (বুঝিয়ে)

আদিত্য: কে কি ভাবলো না ভাবলো আমার তাতে কোনো যায় আসে না। আমি জানি তুমি আমার ওয়াইফ আর তোমার উপর আমার সবরকম অধিকার আছে। সো, তুমি এখন আমার সাথে যাচ্ছো এন্ড ইটস মাই অর্ডার। (জোর দিয়ে)

আমি আর ওর মুখের উপর কথা বলতে পারলাম না। কোয়েলের দিকে তাকালে ও চোখ দিয়ে সম্মতি দিলো যাওয়ার জন্য। আমি মাথা নীচু করে নিলে আদি আমাকে নিয়ে ওখান থেকে বেরিয়ে আসে। বাংলোতে আসার পর শ্বাশুড়ি মায়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে নিজের ঘরে এসে শুয়ে পড়লাম। এখানে আসার বিষয়টা নিয়ে ভাবছিলাম এমন সময় আদি আমার ঘরে এলো। আমি উঠে বসতেই ও কোনো রকম কথা না বলে আমার কাছে এসে আমাকে কোলে তুলে নিলো।

মৌমিতা: কি করছো টা কি আদি? কোথায় যাচ্ছো?

আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোজা আমাকে নিজের ঘরে এসে বেডে বসিয়ে দিয়ে দরজা লক করে দিলে আমি রেগে বলে উঠি,

মৌমিতা: কি হচ্ছে টা কি আদি? তখন থেকে নিজের যা ইচ্ছা হচ্ছে তাই করে যাচ্ছো। একটাবার আমি কি চাইছি সেটা জানার প্রয়োজনও মনে করছো না। নিজের ইচ্ছাটা আমার উপর কেন চাপাচ্ছো তুমি? (একনাগাড়ে)

আদিত্য: ওহ, তো তুমি চাও না আমার সাথে থাকতে? (শান্ত ভাবে)

মৌমিতা: না চাই না। প্রথম থেকে যখন এটা হয়নি তখন আমি এখন হঠাৎ করে এসব চাইনা আদি।

আদিত্য: তারমানে তুমি এখনও আমাকে মন থেকে মেনে নিতে পারোনি তাই তো? (ভাঙা গলায়)

ওর গলার স্বর বুঝে আমি নরম হয়ে গেলাম। ওর কাছে গিয়ে ওকে বোঝাতে শুরু করলাম,

মৌমিতা: এমনটা নয় আদি। দেখো, কেউ জানে না আমি আর তুমি হাজবেন্ড,ওয়াইফ। এখন কেউ যদি টের পায় তুমি আর আমি একই বাড়িতে আছি সেটা খারাপ দেখাবে। লোকে খারাপ কথা বলবে আদি। আমি এজন্যই বলছি এটা ঠিক হচ্ছে না।

আদিত্য: আমি লোকে কি বললো না বললো সেটা নিয়ে ভাবিনা মৌ। আমার কাছে তোমার সেফ থাকাটা ইম্পরট্যান্ট। জিয়া অনেকদিন যাবৎ আমাদেরকে একসাথে দেখছে, তাও চুপ করে আছে। হতেই পারে এই এক্সাম টাইমে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চাইলো, তখন? নো ওয়ে, তোমাকে নিয়ে আমি একদম কোনো রিস্ক নিতে রাজি নই।

আমিও আদির কথাটা ভেবে দেখলাম কিন্তু তবুও এভাবে একসাথে থাকাটা কি ঠিক হচ্ছে? এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছে এমন সময় আদি আমার চিন্তিত মুখ দেখে মলিন হেসে বললো,

আদিত্য: চিন্তা করো না একঘরে আছি দেখে তোমার কাছে আসার চেষ্টা করবো না। তোমাকে তোমার অনিচ্ছাতে নিয়ে এসেছি ঠিকই কিন্তু তোমার অনিচ্ছায় তোমার কাছে আসবো না আমি। আমি রাতের স্টাডি করবো বাট এটা ভেবো না যে, তুমি ঘুমিয়ে থাকলে তাঁর সুযোগ নেবো।

মৌমিতা: আদি! (ধমক দিয়ে) কি বলছো এসব তুমি? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার? এসব চিন্তা আমার মাথায় কখনও আসতেই পারে না।

আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়েই আদি গিয়ে ওর স্টাডি টেবিলে বসে পড়লো। আমি মাথা গরম না করে ওর কাছে গিয়ে পিছন থেকে ওর গলা জড়িয়ে ধরে বললাম,

মৌমিতা: এতো অভিমান হয়েছে থাকতে চাইনা বলেছি দেখে?

আদিত্য: (নিশ্চুপ)

মৌমিতা: আচ্ছা বাবা ভুল হয়ে গেছে। শুধু তুমি না আমিও রাতে স্টাডি করবো, হেল্প করবে তো আমাকে? হম? (গালে ঠোঁট ছুঁয়ে)

আদি হালকা হেসে আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে নিয়ে আমাকে ওর কোলে বসিয়ে, আমার কোমর জড়িয়ে গলায় মুখ গুঁজে দিলো। আমি ওর গলা জড়িয়ে ধরলাম। ও ধীরজ কণ্ঠে আমার কানের কাছে বলল,

আদিত্য: তোমাকে ছাড়া আর এক মুহূর্ত থাকতে রাজি না আমি। আয় লাভ ইউ!

মৌমিতা: (হেসে) আই লাভ ইউ টু!

আদি মাথা উঠিয়ে আমার ঠোঁটে গভীরভাবে ঠোঁট ছোঁয়ালে আমি ওর হাত আকড়ে ধরি। ও সরে যাওয়ার পরও আমি চোখ বন্ধ করে থাকলে ও আমার কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে এসে বলে,

আদিত্য: সবটা তোলা থাকবে। খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে সারাজীবনের মতো নিজের করবো, নিজের কাছে রাখার ব্যবস্থা করবো।

ও কথা শেষ করে আমার কানে ঠোঁট ছোঁয়ালে আমি লজ্জায় ওকে জড়িয়ে ধরে ওর গলায় মুখ গুঁজি। ও আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here