একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৫৯||

0
192

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৫৯||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৮৮.
টিনা অফিসে নিজের জন্য কফি আনতে গেছিলো। কফি নিয়ে এসে নিজের কেবিনে ঢুকতেই বেশ চমকে উঠলো। একটা শুকনো ঢোঁক গিলে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে প্রশ্ন করলো,

টিনা: র..রাজ তুমি এখানে? এখন?

টিনার প্রশ্ন শুনে রাজ হাতে থাকা মার্বেলের বলটা ডেস্কে রেখে টিনার দিকে তাকালো। হেসে উঠে দাঁড়িয়ে টিনাকে পাল্টা প্রশ্ন করলো,

রাজ: আমার অফিসে আমার থাকার কথা নয়?

টিনা: না সেটা না। আমি ভাবলাম তুমি হয়তো কোয়েলের সাথে আছো ত..তাই। সকালে তো ও তোমাকে ভুল বুঝেছিলো আমায় নিয়ে, তা ওকে মানাতে পেরেছো? (ডেস্কে কফি রেখে)

রাজ টিনার কথা শুনে টিনার দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে বললো,

রাজ: আমার কাছে সেটার থেকেও এখন বেশি ইম্পরট্যান্ট তোমার খেয়াল রাখা। সকালে যাকে আগলে রাখার দায়িত্ব নিলাম তার ঠিক করে খোঁজ খবর না রাখলে চলে? সকালের ঘটনার পর তুমি ঠিক আছো কি না জানতেই তো ছুটে চলে এলাম অফিসে।

রাজের কথায় টিনা অত্যাধিক মাত্রায় খুশি হয়ে গেলো কিন্তু নিজেকে যথেষ্ট পরিমাণে সংযত রেখে মৃদু হেসে রাজকে প্রশ্ন করলো,

টিনা: সত্যি? তুমি আমার জন্যে এসেছো?

রাজ: অবভিয়াসলি।

কথাটা শেষ করে রাজ হেসে টিনার আরো কাছে চলে গেলো। রাজকে নিজের দিকে এগোতে দেখে টিনা ঠোঁটে সামান্য হাসি রেখে চোখ বুজে নিলো। রাজ আস্তে করে টিনার কানের কাছে নিজের মুখ নিয়ে গিয়ে হালকা করে ফুঁ দিলো যার ফলে টিনা কেঁপে উঠলো।

রাজ: কার কথায় কাজটা করেছো টিনা?

টিনা ঝট করে চোখ খুলে এক ঝটকায় রাজের থেকে দূরে সরে গিয়ে আমতা আমতা করতে শুরু করলো। রাজ হাসলো টিনার অবস্থা দেখে তারপর আবারও জিজ্ঞেস করলো,

রাজ: তোমাকে একটা জরুরী কাজে কলকাতার বাইরে পাঠিয়েছিলাম আমি। যাওনি কেন? এতো টাকার প্রয়োজন তোমার? আমাকে বলতে পারতে, আমি হেল্প করতাম।

টিনা: র..রাজ বিশ্বাস করো আমি তোমাকে কীভাবে বলবো বুঝতে পারছিলাম না। আসলে মায়ের অপারেশনের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তুমি একেই আমাকে এত হেল্প করেছো তারপর যদি আরো…

রাজ: তাই আমার পিঠেই ছুরি মারলে?

টিনা: না, না। আমার বিশ্বাস ছিলো কোয়েল হয়তো তোমাকে ভুল বুঝবে না।

রাজ: (হেসে) আচ্ছা তাই? কিছুক্ষণ আগে আন্টি আমাকে বললেন উনি হায়দ্রাবাদে নিজের বোনের বাড়ি আছেন। ডাক্তার ওনাকে বলেছেন ওনার কোনো শারীরিক অসুখ নেই, মনের অসুখ। যা হাওয়া বদল করলেই ঠিক হয়ে যাবে।

রাজের কথা শুনে টিনার আত্মা শুকিয়ে গেছে। সে ভাবেনি রাজ তাকে অবিশ্বাস করে ওর মাকে ফোন করবে। তাছাড়া সে তো নিজের মাকে অন্য সিম লাগিয়ে নিতে বলেছিল তাহলে? তাহলে কীভাবে জানলো রাজ?

রাজ: আমি না, তোমার মা আমাকে ফোন করেছিলো টিনা। তোমাকে ফোনে না পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলো। কীভাবে জানলাম এটাই ভাবছিলে তো? তাই বলে দিলাম। আসলে কি বলো তো? আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছি দেখে তুমি সেটার সুযোগ নিয়ে গেছো শুধু। আমি ভেবেছিলাম তুমিও আমার মতই গরীব ঘরের মেয়ে, নিজেকে প্রমাণ করতে চাও। কিন্তু তুমি আমাকে ভুল প্রমাণিত করলে। টাকার লোভী হয়ে গেলে।

টিনা: রাজ আমি…

রাজ: তুমি জানতে আমি কোয়েলকে কতটা ভালোবাসি। ভেবেছিলে কোয়েল হয়তো আমার লাইফে ফিরবে না তাই তুমিই আমার লাইফে জায়গা করে নিয়ে রাজত্ব করবে। কিন্তু যখন দেখলে কোয়েল ফিরে এসেছে তখন আমাদের আলাদা করতে পারবেনা জেনেও সুযোগের সৎ ব্যবহার করলে। একটা চেষ্টা করে দেখলে, ভাঙা যায় কি না। ভাঙা গেলে তো কেল্লাফতে আর না ভাঙলে টাকা তো পেয়েছো সেটাই সান্তনা। ভুল বললাম?

টিনা: আমাকে ক্ষমা করে দাও রাজ। আমার অনেক বড়ো ভুল হয়ে গেছে। আর এমন হবেনা।

টিনা রাজের পা ধরতে নিলে রাজ সরে যায়। টিনা উঠে দাঁড়ালে রাজ নিজের ফোনে একজনের ছবি দেখায় টিনাকে আর জিজ্ঞেস করে,

রাজ: এই সেই ব্যক্তি কি?

টিনা ছবিটা দেখে মাথা নামিয়ে নিলে রাজ বুঝে যায় উত্তরটা “হ্যাঁ।” রাজ আর কথা না বাড়িয়ে ফোন পকেটে ঢুকিয়ে টিনার উদ্দেশ্যে বললো,

রাজ: এই মুহূর্তের পর থেকে তোমাকে জানো আর চোখের সামনে না দেখি আমি। আশা করছি, যা টাকা পেয়েছো তাতে আরামসে চলে যাবে তোমার যতদিন না অন্য চাকরী পাচ্ছো। ভুলেও দ্বিতীয়বার আমার সামনে এসো না, পরিণাম কি হবে আমি নিজেও জানি না।

রাজ নিজের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলে টিনা নিজের কপালে হাত দিয়ে বসে পরে। রাজ নিজের কেবিনে গিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে। ক্লান্ত লাগছে ভীষণ, শরীরটা ছেড়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে,

কোয়েলকে বেঞ্চে বসে কাঁদতে দেখে আমি ওর পাশে এসে বসি। আদি এসে কোয়েলের সামনে বসে কোয়েলের দু-হাত ধরে জিজ্ঞেস করে,

আদিত্য: কোথায় গেলো ও?

কোয়েল: (না বোধক মাথা নাড়লো।)

আদিত্য: রাগ কমেনি?

কোয়েল: রাগ? রাজ ভীষণ শান্ত ছিলো দাভাই যা রেগে থাকলে কখনোই থাকে না। একমাত্র ওর মন খারাপ থাকলেই ও খুব শান্ত থাকে। ও অনেক কষ্ট পেয়েছে আমার ব্যবহারে, আমার ওকে এতোটা অবিশ্বাস করা উচিত হয়নি।

রাজ যা যা বলেছে প্রথম থেকে সবটা আমাকে আর আদিকে বললো কোয়েল। আমি কোয়েলকে কিচ্ছু না বলে আদির দিকে তাকালে আদি উঠে একটু দূরে চলে গিয়ে পিছন ফিরে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ায়। আমি কোয়েলকে বলি,

মৌমিতা: কাঁদিস না। রাজদা যে কষ্ট পেয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে সঠিক। কিন্তু তার জন্য তুই পুরোপুরি দায়ী নস।

কোয়েল: ম..মানে?

মৌমিতা: মানে তোকে নিজের কথা বোঝাতে না পেরে তোর দাভাইয়ের কাছে এসেছিলেন রাজদা। পরিবর্তে আদির লাইফে ওনার জায়গাটা আসলে কি, সেটা বুঝে গেছেন।

আমি কোয়েলকে এক এক করে সবটা বললাম যে আদি রাজদাকে বলেছে। কোয়েল সেসব শুনে অবাক হয়ে আদির দিকে তাকিয়ে বললো,

কোয়েল: এই জন্যেই প্রথমবারের মতো আমি রাজের মুখে “আদিত্য” নামটা শুনলাম?

কোয়েলের কথা শুনে আদি নিজের হাত মুঠ করে নিলো। তৎক্ষণাৎ ওখান থেকে সরে নিজের গাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলো আদি। আমি সেটা দেখে কোয়েলকে বললাম,

মৌমিতা: চল এখন। নিজেকে সামলিয়ে তোকেই রাজদাকে মানাতে হবে কোয়েল। অনেক কষ্ট পেয়েছেন উনি। আমি জানি তুই বা আদি কেউ ভালো থাকবি না যতক্ষণ না আবার সবটা স্বাভাবিক হচ্ছে।

কোয়েল: আদৌ সবটা স্বাভাবিক হবে মৌ? আমরা যেই ব্যবহারটা করেছি ওর সাথে তারপর ও আমাদের ক্ষমা করে দেবে? ছোটো থেকে ওকে এই চিনেছি আমরা? এই প্রশ্নটার যে কোনো উত্তর নেই আমাদের কাছে।

মৌমিতা: তোর ওরকম ব্যবহার করাটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয় কোয়েল। তুই ওনাকে ভালোবাসিস, তোর পক্ষে ওনাকে অন্য কোনো মেয়ের সাথে দেখাটা সম্ভব নয়। নিজের চোখে ওসব দেখার পর কাওর মাথাই ঠিক থাকবে না কিন্তু আদি? ও কি পারতো না সবটা ঠান্ডা মাথায় শুনতে যখন রাজদা নিজে এসেছিলেন বলতে? যাই হোক, এখন এসব বাদ দে।

আমি কোয়েলকে নিয়ে হস্টেলে চলে এলাম। ওকে অনেকবার বলার পরেও রাজি হলো না আদির বাংলোতে যাওয়ার জন্যে। অগ্যতা ওকে হস্টেলে রেখে আমরা ফিরে আসার জন্য রওনা হলাম। আসার পথে আদি আমার সাথে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও আমি কোনো কথাই কানে নেইনি।

৮৯.
কোয়েল নিজের বিছানায় বালিশের উপর মাথা রেখে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। বারবার নিজের চোখের জল মুছছে আর নিজের ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখছে রাজের কোনো রিপ্লাই বা ফোন আসে কি না। আসার পর থেকে কোয়েল অনেকবার ফোন করেছে, ফোনে না পেয়ে অনেকগুলো মেসেজ করেছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর আসেনি সেসবের।

বেশ কিছুক্ষণ পর,

কাঁদতে কাঁদতে কখন যে কোয়েলের চোখ লেগে গেছে কোয়েল টের পায়নি। কোয়েল ফোন হাতে নিয়ে দেখে ১০টা বাজে। কি একটা মনে হতেই কোয়েল বেড থেকে নেমে দৌঁড়ে জানলার বাইরে চলে যায়। জানলার বাইরে রাজের গাড়িটা দেখতে পেতেই কোয়েল জানো স্বস্তি ফিরে পায়। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কোয়েল দৌঁড়ে নিজের হস্টেল থেকে বেরিয়ে গিয়ে হস্টেলের গেটের সামনে দাঁড়ায়। রাজ সদ্য গাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে একটু দাঁড়িয়ে ফোন দেখছিলো এমন সময় কোয়েলকে দাঁড়াতে দেখলো। কোয়েল নিজেকে শান্ত করে, চোখের জল মুছে রাজের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,

কোয়েল: কখন এসেছো?

রাজ: আধ ঘন্টা মতো হয়েছে।

কোয়েল: আমাকে জানাওনি কেন? আমার ফোন, মেসেজ কোনো কিছুর রিপ্লাই করোনি তুমি।

রাজ: কাজ করছিলাম তাই খেয়াল করিনি।

কোয়েল: এখানে এসে তো জানাতে পারতে?

রাজ: কি হবে জানিয়ে? আমি তো চাইনি তোমাকে আমার মুখ দেখতে হোক। (তাচ্ছিল্য হেসে)

কোয়েল: (কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে) রাজ প্লিজ! আমি তখন ওসব রাগের মাথায় বলে ফেলেছিলাম। তোমাকে ওভাবে টিনার সাথে দেখে আমি মেনে নিতে পারিনি কারণ ওই জায়গাটা শুধু আমার। তাছাড়া তুমি তো জানো আমি কেন অতটা রিয়াক্ট করেছি?

রাজ: ফাইন! চুপ করো আর এখন হস্টেলে যাও।

কোয়েল রাজের কথা শুনেও ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকে ভেজা চোখে রাজের দিকে তাকিয়ে। এতক্ষণ রাজ নীচের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললেও কোয়েল ওর কথা শুনে না যাওয়ায় ওর দিকে তাকালো। কোয়েলের দিকে একঝলক তাকাতেই রাজ নিজের চোখ বন্ধ করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। কোয়েল আরো এক-পা রাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে করুন ভাবে রাজকে অনুরোধ করলো,

কোয়েল: একটাবার আমাকে ক্ষমা করা যায়না? ভুল হয়ে গেছে আমার, আর কখনও এমন হবে না। স্যরি!

রাজ কোয়েলের কান্নামিশ্রিত গলার স্বর উপেক্ষাও করতে পারছে না আবার কাছে টেনেও নিতে পারছে না তাই হাসিমুখে কোয়েলকে বললো,

রাজ: আমি তো বললাম ঠিক আছে কুহু! আমি রেগে নেই তোমার উপর। তোমার তেমন কোনো ভুল ছিলোই না যে তোমাকে ক্ষমা করতে হবে আমায়। অনেকটা রাত হয়েছে, এখন যাও হস্টেলে যাও। আমি এখানেই আছি, ওকেই?

কোয়েল কোনো কিছু না বলেই হুট করেই রাজকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আর সাথে সাথে রাজ চোখটা খিঁচে বন্ধ করে নিলো জানো এই জিনিসটাই সে চাইছিলো না। রাজ কোনো রিয়াক্ট করবে তার আগেই কোয়েল সোজা হয়ে দাঁড়ালে রাজ এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে আমতা আমতা করতে শুরু করে।

রাজ: ই..ইয়ে মানে….আহ! লাগছে তো কুহু! আস্তে আস্তে…

কোয়েল এলোপাথারি রাজের বাহুতে মারতে শুরু করে। সে জানতো এরকম কিছুই হতে চলেছে আর এরপর কোয়েলকি বলবে সেটাও রাজ ভালো ভাবে জানে।

কোয়েল: তুমি পাগল রাজ? তোমার গায়ে জ্বর এসেছে আর তুমি এখানে এসে পড়েছো? একবার আমাকে বলো পর্যন্তনি? এতটাই পর করে দিয়েছো তুমি আমায়? আমাকে অঙ্কিতের সাথে দেখে তোমার খারাপ লাগেনি? তুমি কিছু বলতে পারোনি কারণ তখন তুমি আমাকে জানাতে পারোনি তোমার ভালোবাসার কথা, আমাদের মধ্যে সেই সম্পর্ক ছিল না তাই তোমার অধিকারও ছিল না। কিন্তু আমি যখন দেখেছি তখনের ঘটনা তো সম্পূর্ণ বিপরীত তাই না? ওই মুহুর্তে আমার মাথা ঠান্ডা রাখার মতো অবস্থা ছিল না। তুমি তো ভালোভাবেই জানো আমি ঠকে যাওয়াটা কতটা ভয় পাই? তারউপর তুমি আমার গায়ে হাত তুললে। যেই জিনিসগুলো অতীতে…

কোয়েলকে আর কিছু বলতে না দিয়েই রাজ কোয়েলকে বুকে জড়িয়ে নিলো। কোয়েল সমানে ফোঁপাচ্ছে রাজের বুকে মুখ গুঁজে। রাজ কোয়েলকে আস্তে আস্তে বোঝাতে লাগলো,

রাজ: আমি সেই দুপুর থেকে তোমাকে বলছি তোমার ক্ষমা চাওয়ার দরকার নেই। তুমি কোনো ভুল করোনি, তোমার জায়গায় আমি থাকলেও সেইম রিয়াক্ট করতাম। আমরা কখনোই নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্যকাওর সাথে দেখতে পারি না কুহু। আর তোমার গায়ে হাত তুলেছি কারণ তুমি নিজেকে খারাপ কথা বলেছো তাই।

কোয়েল: তুমি রেগে নেই মানলাম কিন্তু কষ্ট তো পেয়েছো তাই না?

রাজ: হম, কিন্তু তোমার কথায় না।

রাজ চুপ করে মাথা নামিয়ে নিলে কোয়েল রাজের দিকে তাকিয়ে বলে,

কোয়েল: দাভাইয়ের কথায় কষ্ট পেয়েছো তাই না?

রাজ কোনো উত্তর না দিলে কোয়েল আবার রাজের বুকে মাথা রাখে। কথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করে,

কোয়েল: সৌভিককে তো শায়েস্তা করে ফেলেছো তাও কিসের ভয় যে জ্বর গায়ে নিয়ে চলে এলে?

রাজ: তোমাকে হারানোর।

কোয়েল রাজের কথাটা শুনে চোখ বন্ধ করে রাজকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলে রাজ বলে,

রাজ: সৌভিক না হয় নেই কিন্তু ওর সঙ্গসাথীরা তো আছে তাই না? তোমার ধারণা আছে পরেশবাবু আর জিয়া এখন কতটা ক্ষেপে আছে? সৌভিক, জিয়া আর পরেশবাবু এদের সবার লক্ষ্য তো একটাই তাই ক্ষতি করবে না কেন? যখনই সুযোগ পাবে তখনই ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। আর আমি সেই সুযোগটাই দিতে চাই না।

কোয়েল: তাই বলে জ্বর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি এখানে?

রাজ: গাড়িতে থাকবো আমি আর তুমি হস্টেলে যাবে।

কোয়েল হাজারবার ফিরে যাওয়ার কথা বললেও রাজ নাছোড়বান্দা! কিছুতেই সে ফিরবে না। জোর করে কোয়েলকে হস্টেলে ঢুকিয়ে রাজ নিজে গাড়িতে গিয়ে বসল।

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here