একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️ ||পর্ব~৬৩||

0
593

‘ একদিন তুমিও ভালোবাসবে ‘ 🌸❤️
||পর্ব~৬৩||
@কোয়েল ব্যানার্জী আয়েশা

৯৫.
রাত এগারোটা নাগাদ পরেশবাবু নিজের বাড়িতে, ড্রয়িংরুমে চিন্তিত হয়ে বসে আছেন। তাঁর আদরের মেয়ে জিয়া, এখনও বাড়ি ফেরেনি তাই। জিয়াকে ফোন করেও তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে মনেপরেছে পার্টিতে থাকলে পার্টির আওয়াজে কীভাবে শুনতে পাবে। এইসব চিন্তার মাঝেই কলিংবেল বেজে উঠলে পরেশবাবু তড়িঘড়ি করে কাজের লোককে দরজা খুলতে বলে নিশ্চিন্ত হয়ে সোফায় বসেন। তাঁর ধারণা, জিয়া এসে পরেছে কিন্তু দরজা খুলতেই তিনি রেগে উঠে দাঁড়ালেন।

পরেশবাবু: তুমি? তুমি এখানে কি করছো আদিত্য?

আদিত্য: শুধু আমি নই…

রাজ: আমরাও আছি সাথে।

রাজ আদিত্যের পাশ থেকে বেরিয়ে এলো। ওরা দুজন ভিতরে চলে আসতেই মৌমিতা আর কোয়েল জিয়াকে ধরে ধরে ভিতরে নিয়ে এলো। জিয়া মৌমিতা ও কোয়েলের কাঁধে দু-হাত দিয়ে ভর করে আছে। এই অবস্থায় জিয়াকে দেখে পরেশবাবু বললেন,

পরেশবাবু: কি করেছো তোমরা আমার মেয়ের সাথে? কি অবস্থা এটা ওর?

আদিত্য: আপনার মেয়ের সাথে আমাদের আলাদা করে কিছুই করতে হয়নি। ও নিজেই নিজের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। অনেক সাধ করে মৌমিতাকে নেশা করাতে গিয়ে নিজে নেশায় মত্ত হয়ে গেছে। এতে অবশ্য আমাদের সুবিধাই হয়েছে।

পরেশবাবু: তোমাদের সুবিধা মানে?

__মানে টা আমরা বোঝাচ্ছি মিস্টার সেন!

পরেশবাবু আদিত্যের পিছনে তাকিয়ে দেখলেন পুলিশ এসে হাজির হয়েছেন। ওনাদের দেখে উনি জিয়ার দিকে তাকালে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরে ঘামতে শুরু করলেন।

রাজ: কি ব্যাপার? হঠাৎ করে ঘামছেন কেন এভাবে? গরম লাগছে নাকি মিস্টার সেন?

আদিত্য: এখনই এতো গরম লাগলে কীভাবে হবে? এখনও তো কিছুই হলো না।

পুলিশ: ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট মিস্টার সেন। আপনার বিরুদ্ধে স্মাগলিং এবং ব্যবসার ও রাজনীতির ক্ষেত্রে সমস্ত দুর্নীতির প্রমাণ আমরা পেয়ে গেছি।

আদিত্য নিজের হাতে থাকা ফোনের রেকর্ডার অন করতেই পরেশবাবু জিয়ার কন্ঠ শুনতে পেলেন। যা ভেবেছিলেন তাই হয়েছে জিয়াই সবটা নেশার ঘোরে বলে ফেলেছে। শুধু ওনার না, ওনার সাথ যে সৌভিক, রণিত এবং রণিতের বাবা দিয়েছে সেটাও বলে ফেলেছে জিয়া। অগত্যা হাজতবাস ছাড়া এখন কপালে কিছুই নেই ওনার। পুলিশ ওনাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যাবে তাঁর ঠিক আগের মুহূর্তে পরেশবাবু রাজকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

পরেশবাবু: তোমার এই হাসি বেশিদিন চিরস্থায়ী হবে না।

এই একটা বাক্য বলার পর রাজের হাসি মলিন হয়ে যেতেই পরেশবাবুর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হলো না কারণ রাজ আবারও হাসছে। এর ফলে পরেশবাবু বেশ অবাক হলেন তাই দেখে রাজ বললো,

রাজ: আমার হাসি নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না মিস্টার সেন। এই হাসি মলিন হবে নাকি আরো বেশি চওড়া হবে সেটা আপনি খবর পেয়ে যাবেন। না পেলে আমি নিজে গিয়ে আপনার কাছে খবরটা সরবরাহ করবো। চিন্তা একদম করবেন না। যান, ধীরে সুস্থে হাঁটা ধরুন।

পরেশবাবু মাথা নামিয়ে চলে গেলেন পুলিশের সাথে। আদিত্য রাজের পিছনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,

আদিত্য: কি ব্যাপার বল তো? প্রত্যেকবার উনি তোকে কিছু না কিছু বলে যান। কিসের শত্রুতা তোর সাথে ওনার?

রাজ: বাদ দে। চল বাড়ি চল হেব্বি টায়ার্ড লাগছে, আমার কাল সকালের ফ্লাইট।

রাজের ফ্লাইটের কথা শুনে বাকি তিনজন একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে রাজের দিকে তাকালো। আদিত্য করুন ভাবে জিজ্ঞেস করলো,

আদিত্য: পোস্টপন করতে পারিসনি? যেতেই হবে?

রাজ অসহায় ভাবে হ্যাঁ বোধক মাথা নারলে উপস্থিত তিনজন নিরাশ হয়। কোয়েল আর মৌমিতা কাজের লোককে বলে দেয় যাতে জিয়াকে নিজের ঘরে রেখে আসে আর সকালে যা যা হয়েছে তা বলে দিতে। তারপর চারজন বেরিয়ে আসে জিয়ার বাড়ি থেকে আর ফিরে যায়। সকাল হতেই আদিত্য, মৌমিতা আর কোয়েল রাজকে সি অফ করতে আসে এয়ারপোর্টে। রাজ সবাইকে হাসি মুখে বিদায় জানিয়ে,কোয়েলের কপালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে এয়ারপোর্টের ভিতরে চলে যায়। ফিরে আসার সময় কোয়েল আর আদিত্য দুজনেই বেশ চুপচাপ থাকে সেই দেখে মৌমিতার নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হয়। কি বলবে বুঝতে না পেরে নিজের মতো করে বসে থাকে।

দুদিন পর,
আজ আদিত্য আর মৌমিতার রিসেপশন। দেখতে দেখতে দুদিন কেটে যায়নি। আদিত্য আর কোয়েলের মন খারাপের সাথে এই দুদিন কেটেছে। মৌমিতা শুধু দুজনকে সামলিয়েছে “মেনে নিতে হবে” কথাটুকু বলে। যাই হোক, আজ আদিত্য ভীষণ ব্যস্ত। নিজের বাবার সাথে সবটা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামলাচ্ছে সে। কোয়েলের মন খারাপ থাকলেও সে হাসি মুখে নিজের জেম্মা অর্থাৎ আদিত্যের শ্বাশুড়ীর সাথে হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছে। আদিত্য আর ওর বাবা আকাশবাবু মৌমিতা, আদিত্যের মা এবং কোয়েলকে কিছু বলতে এলে এমন সময় উপস্থিত হলো এক ব্যক্তি। আকাশবাবু তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে দেখে বলে উঠলেন,

আকাশবাবু: আশীষ, তুই এসে পড়েছিস? তোর আসার কথাই জানাতে এসেছিলাম তোর বৌদিকে।

আশীষবাবু: আমি এসেই বরং জানিয়ে দিলাম। তোকে আর কষ্ট করতে হলো না। তা নতুন বউমা কোথায়?

আশীষবাবুর কথা শুনে আমি এগিয়ে গেলাম মাথায় শাড়ির আঁচল টেনে। ওনার সামনে গিয়ে ওনাকে নমস্কার করতেই উনি আমাকে হাসি মুখে আশীর্বাদ করলেন। আদি এসে ওনাকে প্রণাম করতে নিলে উনি আদিকে বাঁধা দিয়ে বুকে টেনে নিলেন। এরপর আমাদের দুজনকে একসাথে দাঁড় করিয়ে দুটো প্যাকেট আমাদের হাতে তুলে দিলেন। আমরা হাসিমুখে সেটা গ্রহণ করলাম।

আশীষবাবু: আমি যেমন আদির কাকাই তেমন তোমারও কাকাই। গাই আমাকে একদম আপনি আজ্ঞে করার প্রয়োজন নেই।

আমি হেসে ওনার কথায় সম্মতি দিতেই উনি কোয়েলের দিকে তাকালেন। কোয়েল অন্যদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে ভাবলেশহীন হয়ে। উনি ধীর পায়ে কোয়েলের দিকে এগোলে আমি আদির দিকে তাকাই। আদি বেশ চিন্তিত হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। কাকাই এগিয়ে গিয়ে আস্তে করে কোয়েলকে জিজ্ঞেস করলো,

আশীষবাবু: ভালো আছো?

কোয়েল: হম।

আশীষবাবু: পরীক্ষা কেমন দিয়েছো?

কোয়েল: ভালো।

কোয়েল একবারও তাকায়নি কাকাইয়ের দিকে। উত্তর শুনে বোঝা যাচ্ছে সে ইচ্ছুক নয় কথা বলতে তাই আর কাকাই কথা না বাড়িয়ে মাথা নীচু করে নিলো দেখলাম।

আকাশবাবু: তুই এসেছিস ভালোই হয়েছে। আমি আর আদি হিমশিম খাচ্ছিলাম সব সামলাতে। এসে একটু আমাদের হেল্প কর।

মিতা দেবী: সে কি? সবে তো এলো ঠাকুরপো। একটু রেস্ট নিক তারপর হেল্প করবে। ঠাকুরপো তুমি বসো, আমি তোমার জন্যে চা করে আনছি।

আদিত্য: ড্যাড তুমি কাকাইয়ের সাথে বসো। আমি দেখে নিচ্ছি কিছুক্ষন।

মৌমিতা: হ্যাঁ মা, আপনিও বসুন, গল্পগুজব করুন। আমি চা করে আনছি আপনাদের জন্য।

৯৬.
বিউটিশিয়ানরা আমাকে সাজিয়ে দিলে, কোয়েল গয়নাগুলো পরিয়ে দেয়। তারপর আমাকে নিয়ে গিয়ে স্টেজে বসিয়ে দেয় যেখানে আমার আর আদির বসার জায়গা। ওখানে বসে আমি আদিকে খুঁজতে লাগলাম। খুঁজে না পেলে উঠে দাঁড়িয়ে একটু এদিক ওদিক দেখতে শুরু করি।

আদিত্য: আমাকে খুঁজছো?

আচমকা নিজের পাশে ওর গলার আওয়াজ পেয়ে আমি একটু ঘাবড়ে যাই। ওর দিকে তাকাতেই দেখি ও হাসছে।

মৌমিতা: কোথায় ছিলে?

আদিত্য: ড্যাডের গেস্টরা আসতে শুরু করেছে তাই দেখা করতে গেছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই আসবে তোমার সাথে দেখা করতে।

আদির কথা শেষ হতেই ওর ফোন এলো আর ও আমাকে বলে অন্যদিকে চলে গেলো। একটু পরে ও ফিরে এলো মা আর বাবাকে নিয়ে। আমি গিয়ে মা বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম। মা বাবার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলার পর যার সাথে আদি আলাপ করাতে এলো তাঁকে দেখে আমি কিছুটা চমকে উঠলাম। এটা তো আমার সেই জেঠুর মেয়ে মানে আমার দিদি যাঁর বিয়েতে আমাকে আমার শ্বশুরমশাই আর শ্বাশুড়ীমা পছন্দ করে ছিলেন।

আদিত্য: মৌ, ও আমার বন্ধু আর এটা ওর ওয়াইফ। তুমি চেনো নিশ্চই?

মৌমিতা: দিভাই!

আমি দিভাইকে জড়িয়ে ধরলাম। মনে প্রশ্ন থাকলেও এই মুহূর্তে আদিকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। ওরা গিফ্ট দিয়ে চলে গেলে আমি গিয়ে আমার জায়গায় একটু বসলাম। আবার একজন গেস্ট আসলে আমি উঠে দাঁড়াতেই অনুভব করলাম আমার ব্লাউজটা ঢিলে লাগছে। হাসি মুখে কুশল বিনিময় করতে করতেই মনে মনে বললাম,

মৌমিতা: আমার সঙ্গেই এমন হতে হয় সব সময়? ইশ, এই মুহূর্তে কোয়েলও নেই আর আমার হাতের কাছে ফোনও নেই। আদিও মনে হয় ওদিকটায় গেছে। কি করি এখন?

আমি গিয়ে চুপচাপ নিজের জায়গায় বসে সুযোগ বুঝে পিঠে হাত দিতেই বুঝলাম হ্যাঁ, আমার সন্দেহই ঠিক। চেইনটা নেমে গেছে। কি করবো ভাবছি এমন সময় ফটোগ্রাফার বলে উঠলেন,

__ম্যাম, স্যারকে ডাকুন ফটোশুট করতে হবে তো?

আদিত্য: ডাকার দরকার নেই। আমি এসে গেছি।

আদি এসে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। টের পেলাম ওর হাতের স্পর্শ আমার পিঠে। হঠাৎ করেই পুরোনো কথা মনে পড়লো। সেই সময় আদি আমার কানের কাছে এসে বললো,

আদিত্য: কি? কিছু মনে পরলো নাকি?

মৌমিতা: (অবাক হয়ে) তুমি..??

আদিত্য: আজ্ঞে হ্যাঁ। আমিই আপনার চেইন লাগিয়ে দিয়েছিলাম সবার অগোচরে আর তাঁর বদলে তুমি আমার গায়ে জুস ফেলে দিয়েছিলে।

আদি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি ওর দিকে ঘুরে গেলে ও আমার কোমরে দু-হাত রাখে।

মৌমিতা: তুমি তখন আমাকে দেখেছিলে?

আদিত্য: হ্যাঁ কিন্তু তোমার আমাকে দেখার আগেই সরে গেছিলাম। চেইন লাগানোর সময় দেখতে পায়নি, যখন ধাক্কা লেগেছিলো তখন দেখেছিলাম। তোমার ড্রেস দেখেই চিনে ছিলাম। এরপর রেজিস্ট্রি ম্যারেজ হওয়ায় আর খেয়াল করিনি। তারপর ফুলশয্যার দিন তো…

মৌমিতা: (আদিত্যর ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে) থাক না সেসব কথা।

আদিত্য: (হালকা হেসে) ভার্সিটিতে যখন ঠিকভাবে দেখলাম তখনই চিনে ফেলেছিলাম। আমার বন্ধুর বিয়ে ছিলো আর আমি বরযাত্রী ছিলাম।

মৌমিতা: আর আমার জেঠুর মেয়ের বিয়ে ছিলো।

আদিত্য: জানি! ড্যাড বলেছে আজকে। (কপালে কপাল ঠেকিয়ে)

এইসব ছোটো ছোটো মুহূর্তের ছবিগুলো সব এক এক করে ফ্রেমবন্দি করছে ফটোগ্রাফার। ফটো সেশন শেষ হতেই আদিত্যের পরিবারের সবাই মিলে এক হলেন। কথা বলতে বলতে হঠাৎই আশীষবাবু বললেন,

আশীষবাবু: দাদা, আমি একটা কথা ভাবছিলাম।

আকাশবাবু: কি বিষয়ে?

আশীষবাবু: আসলে, ব্যাপারটা আমার মেয়েকে নিয়ে।

কথাটা শুনে কোয়েল তাকালো আশীষবাবুর দিকে তাকিয়ে। আশীষবাবু তা বুঝতে পারলেন আড় চোখে। তাই আকাশবাবুকে বললেন,

আশীষবাবু: আমার বন্ধু আমাকে একটা প্রস্তাব দিয়েছে। ওর বাড়ির বউমা করতে চেয়েছে আমার মেয়েকে। ছেলেটা বেশ ভালো, আমার বন্ধুর বিজনেস ওই সামলাচ্ছে এখন। আমরা একসাথে কাজও করেছি, তাই বলতে পারছি ছেলেটা বেশ ভালো।

আশীষবাবু যে এমন কিছুই বলতে চলেছেন তা আন্দাজ করতে পেরেছিল সবাই কারণ এটাই প্রথমবার নয়। গত এক-দু বছরের মধ্যে আগেও অনেকবার উনি কোয়েলের বিয়ের প্রসঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। বিয়ে উনি কোয়েলের প্রাপ্ত বয়স হলেই দেবেন কিন্তু এখনই যদি সব দেখা শোনা করা থাকে তাহলে ওনার মতে ভালো হয়।

__আমি কি আসতে খুব দেরী করে ফেললাম?

কেউ কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে এই প্রশ্নটা কানে ভেসে এলে সবাই পিছনের দিকে ফিরে তাকায়। আদিত্য হেসে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে রাজকে! কোয়েলও খুশি হয়ে এগোতে নিলে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা মনে করে থেমে যায়। করুন ও অসহায় ভাবে একবার নিজের বাবার দিকে তাকায়, আরেকবার রাজের দিকে তাকায়।

[#ফিরে_আসবো_আগামী_পর্বে🥀]

আইডি- কোয়েল ব্যানার্জী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here