তোমার_প্রেমে_পড়েছি পর্ব_০২

0
126

তোমার_প্রেমে_পড়েছি
পর্ব_০২
#Rimy_Islam

অনেক খুঁজে অবশেষে একটা হাতুড়ি পেল নমনী।খুশিতে চোখ চকচক করে উঠল।
তারপর সযত্নে বালিশের নিচে চাপা দিয়ে দেয়। নীলুফা বেগম এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছেন।তিনি দুধের গ্লাস হাতে রুমে ঢুকে নমনীর দিকে একবার তাকালেন। নমনী ততক্ষণে আগের ন্যায় বিছানায় বসে পড়েছে।
– দুধের গ্লাস রেখে গেলাম।নেত্রকে খেয়ে নিতে বলো।
নমনী কি বলবে না বুঝে নিরব থাকাই শ্রেয় ভেবে চুপ করে রইলো। নীলুফা বেগম চলে গেলে নমনী ভারী পোশাকটা বদলে কমফোর্টেবল একটা সুতির শাড়ী পরে নিলো।এবার অপেক্ষার পালা নেত্র কখন আসে।যদিও ওই ডাইনোসর ছেলেটার জন্য অপেক্ষার কোনো মানে হয় না।ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় মিলিয়ে বারো টা কুড়ি মিনিট বাজে। এতক্ষণে নমনীর বাড়িতে মধ্যরাত। নেত্র এলো ঠিক তখন। বরের ড্রেসাপ ইতোমধ্যে ছেড়েছে সে।

নমনী ভালোমতো গভীর পর্যবেক্ষণ করছে নেত্রকে।স্কাই ব্লু কালার শার্ট, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট।তামাটে রঙা মুখে হালকা খোঁচা দাড়ি।ঘন ঝাকড়া কেশগুচ্ছে মাথা ভরাট।সেই ভরাট এলোমেলো চুলে কপালের অধিকাংশ অংশ আবৃত। মেয়েদের মতো ডিপ চোখ দুটো কোনো এক গভীর খাঁদের চেয়ে কম নয়। বেশিক্ষণ তাকালে সেই খাঁদে পা মচকে পড়ার ভয় আছে। একপাশের প্যান্টের পকেটে এক হাত ঢুকিয়ে বিকৃত মুখে খানিক হাসি রেখে অপর হাতে সেই খোঁচা দাড়িতে হাত বুলিয়ে চলেছে।দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও কেমন যেন। দরজা লাগিয়ে দেয়ালে হেলিয়ে সেই যে রয়েছে আর নড়বার নাম নেই।
নমনী বিরক্ত বোধ করে।কেমন বেহায়া নজরে দেখছে ছেলেটা!
— নমনী কেমন আছো?
নেত্র’র একদফা প্রশ্নে অবাক হয়ে গেল নমনী। এতকিছু ঘটার পর এই কথাটা সাজে কি তা নিয়ে দ্বিধা আছে ওর।
— জ্বি খুব ভালো।- দাঁতে দাঁত পিষে বলে নমনী।
— কিছু খাওনি না? এক মিনিট, আমি খাবার আনছি।
নমনী ‘ প্রয়োজন নেই’ কথাটি বলতে যাওয়ার আগেই নেত্র এক ফাঁকে সরে পড়েছে। ‘ধূর’ নামক বিরক্তসূচক সম্বোধন করে নমনী শুয়ে পড়লো। যদিও ক্ষিদেটা জোর তাড়া দিচ্ছে। তবুও এত রাতে খাবার ইচ্ছেটা মরে গেছে।পেটে ক্ষিদে থাকলেও মুখে রুচি নেই।হঠাৎ টেবিলে রাখা দুধের গ্লাসটা নজরে পড়তে নমনী উঠে বসলো।এরপর এক নিশ্বাসে পুরোটা খতম করে খালি গ্লাস রেখে হাতের উল্টো পৃষ্ঠে সবে মুখ মুছলো।তখনই নেত্র এসে বললো,
— খাবার এনেছি দু’জনের জন্য।
— আমি খাবো না।
— না কেন?
— এমনি।
— আচ্ছা। খেয়ো না আমার কি! আম্মা বললো টেবিলে নাকি দুধের গ্লাস রেখে গেছে।
নমনী জিভ কাটে। এদিকে নেত্র পুরো রুমের এফোঁড়-ওফোঁড় খুঁজেও কিছু না পেয়ে বিষ্মিত হয়ে গেল। নমনীর দিকে চেয়ে বললো,
— কই?
নমনী ফাঁকা গ্লাসটা তুলে নেত্র’র হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, — এইযে খান।
খালি গ্লাস দেখে চোখ ছানাবড়া নেত্র’র। এভাবে খায় কিভাবে মানুষ? শুধুমাত্র গ্লাসের তলানিতে একটু পড়ে আছে দেখে নমনী ফিক করে হেসে বললো,
— ওইতো একটু পড়ে আছে।
— মজা নিচ্ছ নমনী! শাড়ী কেন পড়েছ?
নমনী’র ঝট করে হাসি বন্ধ হয়ে গেল। কি থেকে কি প্রসঙ্গে চলে এলো নেত্র!
— নতুন বউদের শাড়ী না পরলে অন্যরকম লাগে তাই। বিবাহিত মনে হয় না।
নেত্র সুর টেনে বললো,
— কে- ব-লে-ছে?
— প্রবলেম কি আপনার?
— তুমি বিবাহিত নও আর আমিও নই। প্রেম করাই হলো না। এখনই সংসার পেতে বসে পড়বো!
নমনী ‘থ’ হয়ে বললো,
— প্রেমই যদি করবেন তাহলে বিয়ে কেন করলেন? ভালো একটা প্রেম করে বিয়ে করলেই পারতেন!

নেত্র এবার ঝপ করে লাফিয়ে সটান নমনীর মুখ সোজা বরাবর বসে পড়ে বললো,
— প্রেম করে বিয়ে আজকাল নব্বই শতাংশ ছেলে-মেয়ে করছে। বিয়ে করে প্রেম কয়জন করে? শোনো কাল থেকে তুমি বা আমি পুরো আগের মতো লাইফ স্পেন্ড করবো। তুমি রোজ যেমন ভার্সিটি যাও, প্রাইভেট যাও তেমনই যাবে। আমিও তেমনই চলবো। এই কাল আমার ক্লাস টেস্ট আছে। বাই পড়তে গেলাম। ভয় পেয়ো না একা।
— কোথায় যান?
— পাশের রুমে। সারারাত লাইন জ্বললে ঘুমাতে পারবে না।

নমনী প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে ল’তে অনার্স করছে। সেকেন্ড সেমিস্টার। অপরদিকে নেত্রও জার্নালিজমে থার্ড সেমিস্টারে বর্তমান।
নমনীর পুরো একরাত নিদ্রাহীন কাটে। মাঝে মাঝে ২/১ বার এসে নেত্র উঁকি মেরে আবার চলে গেছে। নমনী তখন মটকা ঘুমের বাহানায় পড়ে থাকলেও ভেতরের ঢিপঢিপ শব্দের কম্পন থামাতে পারেনি। আকর্ষিক বিয়েটা যেভাবে ঘটেছে, তাতে এমন ব্যবহার সে আশাও করেছিল না। নেত্র’র আচরণ অনেক বন্ধুত্ব সুলভ। ব্যাপারটা আনমনেই দারুণ লেগেছে নমনীর।

চলবে………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here