তোমার_প্রেমে_পড়েছি #পর্ব_০৭

0
242

#তোমার_প্রেমে_পড়েছি
#পর্ব_০৭
#Rimy_Islam

আকস্মিক এমন কান্ডে নেত্র হতবাকের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেলো।

নেত্র’র গায়ের শার্টটা ভিজে চুপসে উঠেছে।কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। তার ঠোঁটের উপর জমা বিন্দু পানির ফোঁটাকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে সে ঝ্যানঝ্যান করে বললো,
— চিপকু পাগল মেয়ে! এ আমি কাকে বিয়ে করেছি! শ্বশুরবাড়ি এসে এভাবে অপদস্ত হতে হবে জানলে কখনোই আসতাম না।
নমনী মুখ বেঁকে বললো,
— অল্পের উপর দিয়ে গেলেন ভাগ্য ভালো। আপনাকে তো গাড়ির নিচে চাপিয়ে মারতে ইচ্ছা হচ্ছে।
— মুড ভালো করার কোনো উপায় আছে?
নমনী তড়িৎগতিতে হেসে বললো,
— হু আছে।
— বলে ফেলো।
— আমরা আজকেই চলে যাবো। আপনি নিলয় ভাইয়াকে বলুন যে এই মুহূর্তে আমাদের দুই বোনকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন।
— কেন? জীবনে প্রথম তোমার বাড়ি এসে একটা দিন থাকবার সৌভাগ্য হবে না?
— উহু… হবে না। আমার কথা না মানলে আপনাকে আরো হ্যানস্তা করবো।

নমনী একা শুয়ে আছে। হঠাৎ মুমু ঘরে ঢুকে। নমনী মৃদু হাসলো। সে জানতো মুমু আপু আসবে।
— এসব কি রে নমনী? ওরা আজকে ফিরতে চাইছে হঠাৎ?
নমনী আলসে ভঙ্গিতে হাই তুলে বললো,
— আমি বলেছি তাই।
— বিয়ে করেই নির্লজ্জ হয়ে গেছিস!
— তোমার চোখ না বড় বড় দুইটা বোতাম। দেখছো না, যেখানে বাবা আমার উপরেই প্রচুর রেগে আছেন।সেখানে নেত্রকে তিনি সহ্য করতে পারছেন না। এমন পরিবেশে আমার কেমন অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। নতুন করে বড় কোনো হাঙ্গামা আমি চাই না।
— তুই গেলে যা বাবা। আমি যাবো না।
— ইশশ! বললেই হলো! যেতে তোমাকেও হবে। এক মেয়ে যাবে আরেক মেয়ে থাকবে তা হয়? শ্বশুরবাড়ির লোকের নজরে তুমি পঁচে যাবে।

মুমু রাগে কটকট করতে করতে চলে গেলো।সন্ধ্যার পূর্বলগ্নে ওরা বেরিয়ে পড়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। মুমু থাকার জন্য ভীষণ জেদ করেও কাজে দেয়নি। তাই গাড়ির ভেতরেও তার ফোলা মুখ দেখে নমনীর মায়া হতে লাগলো। আহারে বেচারি! কত শখ ছিলো থাকার! নমনীর কারণেই তা হয়ে উঠেনি। বাড়িতে সামনে গাড়ি থামতেই বেরিয়ে এলেন নিলুফা বেগম।তিনি আহ্লাদে আটখান মুখ করে বললেন,
–বাড়ি আমার কুলকুল করবে আবার। কত শান্তি লাগছে! এসো তোমরা, ভেতরে এসো।
বাড়ির বর্ণনা দেয়া আবশ্যক। নেত্রদের বাড়িটি পুরনো আমলের দোতলা বাড়ি। মজার ব্যাপার হলো বাড়ির মধ্যখানে ছোট চৌকোণ আকৃতির উঠোন রয়েছে। উঠোন থেকে দোতলায় তাকালে দেখা যায় চারপাশে কাঠের রেলিং ঘেরা বারান্দা। নমনীর এই ব্যাপারটা দারুণ লেগেছে।

আকাশে ভারী মেঘ জমেছে। বৃষ্টির পার্বাভাস পেয়ে নমনী চলে এলো পাকঘরে। হাতড়ে হাতড়ে চিনি, চা পাতার কৌটা বের করে চা বানাতে লেগে গেলো। নতুন বাড়ির সমস্তকিছু খুঁজে পেতে ওর অসুবিধা হচ্ছে। এইযে আজ খুঁজে বের করলো বিধায় পরবর্তীকালে আর ভুল হবে না। দুই মগ চা নিয়ে সে সোজা চলে এলো বারান্দায়। নিচে তাকালে চোখে পড়ে একফালি উঠোন। দোতলা- নিচতলা মিলে মোট দশটা ঘর। এত ঘর অথচ থাকার লোকের সংকট। নিচতলায় থাকেন নেত্র’র বাবা- মা। একটায় থাকে নিলয়- মুমু। কোণার দিকের একটা ঘরে গাড়ির ড্রাইভার তার বউ,মেয়েসহ থাকে। ড্রাইভারের বউ আমিরা এ বাড়ির খুঁটিনাটি যাবতীয় কাজ করে থাকে। ছোট মেয়েটা বড়দের ছোট খাট হুকুম শুনেই সীমাবদ্ধ থাকে। দোতলার পুরোটা জুড়ে নমনীরা ছাড়া আর কেউ থাকে না। এটাও আরেকটা আনন্দের বিষয়। নমনী পুনরায় ঘরের ভেতরে ঢুকে নেত্র’র দিকে কড়া নজর দিলো। সে যথারীতি তার প্রথম বউয়ের সাথে প্রেমে মজেছে।
নমনী তার বউকে দ্রুত নিজহাতে তুলে নিয়ে বললো,
— বই বই বই! উফ.. এতো এমন মানুষ দুনিয়ায় থাকারই দরকার পড়ে না। আপনি চাঁদে জায়গা কিনে ওখানে চলে যান তো। ওখানে কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না। আমরণ বইয়ের সাথে প্রেম করবেন আর সংসার করবেন।
নেত্র হতাশ হয়ে বললো,
— দিলে তো সব গোলমাল পাকিয়ে!What is your main problem? প্রতিটা বিষয় তোমার খারাপ লাগলে আমি করবোটা কি?

ইতোমধ্যে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়া শুরু হয়েছে। নমনী নেত্র’র একটা হাত ধরে টেনে তুললো। অতঃপর বললো,
— এখন আমরা বারান্দায় যাবো। চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখবো। ইচ্ছে হলে ভিজবোও।
নেত্র আড়মোড় ভাঙা ভঙ্গিতে বললো,
— চা কই?
— রেলিঙের উপর রেখে এসেছি।
ওরা দু’জন বারান্দায় এসে থামলো। নমনীর একহাতে চায়ের মগ, অপর হাত হাওয়ায় ভেসে বৃষ্টিকে স্পর্শ করতে ব্যস্ত। নেত্র নিতান্ত পানসে মেজাজে মগ হাতে চায়ে একেকটা চুমুক দিচ্ছে এবং নমনীকে দেখছে। এসবে তার আনন্দ নেই। প্রেম নেই। শুধুমাত্র বই দেখলে ওর আনন্দ লাগে। কেমন প্রেম প্রেম পায়।

— বৃষ্টিতে হাত ছোঁয়ালে অসুখ হবে না। হাত ছোঁয়ান।- কঠোর নির্দেশ দিলো নমনী।
নেত্র বাধ্য ভালোমানুষ হয়ে সবটা মেনে চললো।একবার হাত ছোঁয়াতেই চট করে আবার সরিয়েও নিলো। বললো,
— কি ঠান্ডা পানি!
— জীবনে বৃষ্টিতে ভিজেননি কখনো?
— না।
— সিরিয়াসলি! আপনি কোনো গ্রহের এলিয়েন?
— আজব! প্রথমেই বলেছি বই আমার প্রেম বালিকা। দ্বিতীয় কিছুতে আমার আগ্রহ নেই।
— আমাতেও না।
কথার এ পর্যায়ে নেত্র মাথা চুলকে আনাড়ি হেসে বললো,
— জড় বস্তুর মধ্যে বই আমার প্রথম প্রেম। আর জীবজ বস্তুর মধ্যে তুমি আমার প্রথম প্রেম।
— আপনি জড়- জীব কিসব বলছেন নেত্র?
প্রত্যুত্তরে নেত্র শুধু হাসে।

চলবে……….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here