তোমার_প্রেমে_পড়েছি #পর্ব_১৩

0
214

#তোমার_প্রেমে_পড়েছি
#পর্ব_১৩
#Rimy_Islam

‘ কিছু মনে না করলে গ্লাসটা লাগিয়ে দাও প্লিজ!’ প্রিয়মের কথায় পাশ ফিরতে বাধ্য হলো নমনী। তাদের গাড়িটা ইতোমধ্যে রেলগেইট ছাড়িয়ে এসেছে। গাড়ির খোলা গ্লাসের ভেতর হুমড়ে পড়া অবাধ্য হাওয়ার দমকে নমনী কিছুটা স্বপ্নীল হয়ে উঠেছিল। পাশে থাকা প্রিয়মের উপস্থিতিকে সে কল্পনায় নেত্রকে ভাবতে শুরু করেছিলো। পাটুলের পর তাদের একত্রে দ্বিতীয় কোনো ট্যুর হয়নি। তাই মনের ভেতর অনাহূত অভিমান দিনে দিনে পাখা মেলেছে। নেত্র কি পারতো না একদিন নমনীকে সাথে নিয়ে বেরোতে? ভাবনার ছেদ টেনে নমনী বললো,
— স্যরি টু সে আমি গ্লাস লাগালে দম নিতে পারি না। কেমন হাঁসফাঁস ধরে যায়। আমি জানি এটা শুধুই আমার মনের রোগ, শরীরের না। তবুও প্লিজ কিছু মনে না করলে খোলা রাখি?
প্রিয়ম রাস্তার সামনে নজর রেখে বললো,
— ওকে। কিন্তু এমন মনে হবার কারণ কি?
— ওই যে বললাম, মনের রোগ। তাছাড়া গ্লাস বন্ধ থাকলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন চলাচল করবে কিভাবে?
— হা হা। You are very strange!
— যা বলেছ! খাঁটি ঘিয়ে ভেজা কথা একদম!
পেছন থেকে মুমু বলতেই নমনী ঘুরে তাকালো। এরপর বললো,
— তুই আমার বড় বোন না বলে বড় শত্রু কথাটা ভালো মানাতো। একটা বার অন্তত বোনের সাইড নিবি তো!
— বড় বোন হিসেবে তোর দোষ – গুণ ধরিয়ে দেয়া আমার কর্তব্য।

নিউমার্কেটের সামনে গাড়ি থামিয়ে ওরা ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুমু সবদিকে তাকিয়ে মন মতো না পেয়ে বললো,
— হচ্ছে না। চলনা ওমর প্লাজায় দেখি! এখানে কিছু পছন্দ হচ্ছে না।
নমনী ভিমড়ি খায়। ওমর প্লাজা রাজশাহীর বসুদ্ধরা সিটি বলা চলে। সর্বাধুনিক একমাত্র শপিং মল। সেখানে মালপত্রের সৌন্দর্য কম বাহ্যিক ডেকোরেশন নজরকাড়া। বলতে গেলে নিউ মার্কেটে যথেষ্ট উন্নতমানের জিনিস পাওয়া যায়।
নমনী চোখ টিপে বললো,
— আপু ধীরে বল। নিজের টাকায় জিনিস কিনছিস না। অন্যের টাকায় শুধুমাত্র চুজিং পার্টনার হয়ে এসেছিস। কাজেই মুখ বন্ধ রাখ। আর চোখ সামলে রাখ।
প্রিয়ম সামনে হাঁটতে হাঁটতে থেমে যায়। ওদের দিকে ঘুরে বলে,
— প্রথমে বাড়ির সব মেয়ে মানুষগুলোর জন্য জিনিস কেনা থেকে শুরু করি। কি বলো?
মুমু খুশিতে থৈথৈ করে বললো,
— অবশ্যই। কি নিবে?
— উমম… শাড়ি?
— ভালো হয়। কিন্তু আমি তো শাড়ি কম পরি। তবুও ভালোবেসে যা দিবে তাই হবে।
প্রিয়ম হেসে বললো,
— তোমাদের সাথে এনেছি এজন্যই তো। নিজেরা পছন্দ মতো নিয়ে বাকিদের জন্য কিনতে হেল্প করবে।

মুমু একটা কাতানের সালোয়ার-কামিজ কিনলো। নমনী বিয়ের পর শাড়ি ভিন্ন দ্বিতীয় কিছু পরে না। তাই ওকে শাড়ি কিনে দিতে চাইলেও মন মতো হচ্ছে না। নমনী যেটাই পছন্দ করে প্রিয়ম সেটাই ছুঁড়ে ফেলে রাখে। শেষে একটা বেগুনী রঙের সিল্কের শাড়ি ওর খুব মনে ধরে। প্রিয়ম নমনীর দিকে চেয়ে চোখে ভাঁজ এঁকে বললো,
— এটা কেমন?
নমনী আনগোছে চুল ঠিক করে নিয়ে বললো,
— ভালো।
— শুধু ভালো না খুব ভালো?
— আচ্ছা, খুব ভালো।
সেই শাড়িটাই সিলেক্ট করে নেয়। এরপর বাড়ির সকলের জন্য ঝটপট কিনে নিয়ে বাড়ির পথ ধরতে বাগড়া দেয় মুমু। মেয়েটা অতিশয় ঝামেলা! নমনীর বিরক্তিতে মুখে কুঞ্চিত রেখা পড়ে। সে বললো,
— কিরে, আবার কি?
— বলছি দুপুর তো হয়ে গেলো। চল একটা রেস্টুরেন্টে কিছু খেয়ে আসি।
— বাড়ি কখনো ফিরবো?
— ধূর, বাড়ি কি সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে যেতে হয়? এই তো মাত্র দশ মিনিটের পথ। নমনী না করিস না। It’s a humble request.

প্রিয়ম যেন এমনই এক ছুঁতোর অপেক্ষায় ছিলো। দ্রুত হ্যাঁ জানিয়ে দেয়। না করতে পারলো না নমনীও। রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাড়ি পৌঁছাতে ৩ টা বেজে যায়। জিনিস দেখে সকলের চোখ চকচক করে উঠে। নমনীও মানতে বাধ্য হয়, প্রিয়মের রুচিবোধ অনেক উন্নত। সকলের মাঝ থেকে এসে যখন নিজ ঘরটায় পা রাখলো, শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি জুড়ে ভর করলো। নেত্র বিছানায় শুয়ে ঘুমে রয়েছে। নমনীও কাপড় না ছেড়েই বিছানায় গুটি মেরে শুয়ে পড়লো। যখন ঘুম ছাড়ে তখন শেষ বিকেল কন্যা তার নিষ্প্রাণ অথচ পবিত্র আলো নিয়ে ধরনীর বুক থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নমনী চায়ের কাপ হাতে ছাদে এসে দাঁড়ায়। ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। টবের জানা- অনাজা বাহারের ফুলগুলো হালকা জোরে দুলে উঠছে। নমনী সেই দৃশ্য দেখছে আর একেকবার চায়ে চুমুক দিয়ে চলেছে। হঠাৎ এক অজানা বাতাস তাকে নাড়া নিতেই সটান দাঁড়িয়ে পড়লো সে। এ বাতাসে রয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির উপস্থিতির ঘ্রাণ। যা তাকে জানান দিচ্ছে, পেছনে কেউ একজন রয়েছে।

চলবে………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here