তোমাতেই পূর্ণ আমি #পর্ব -২৬

0
466

#তোমাতেই পূর্ণ আমি
#পর্ব -২৬
#লেখিকাঃআসরিফা সুলতানা জেবা

~উঠে পড়ো জান। আজ নতুন সাজে সাজতে হবে তোমায়।

কানের কাছে মুগ্ধতা মেশানো সুরেলা আওয়াজ ভেসে আসতেই পিট পিট করে পলক ঝাঁপটিয়ে চোখ মেলে তাকালাম আমি। নয়ন জোড়ায় ফুটে উঠল তূর্যর স্নিগ্ধ চেহারা। হাটু গেঁড়ে বসে আছেন তিনি আমার একদম কাছাকাছি। এক পাশ হয়ে তূর্যর দিকে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম।

–মিষ্টি হাসি হেসে আমার হৃদয়ে ক্ষত করার ধান্দা বাদ দাও শ্রেয়া। তোমাতে ঘায়েল হয়েছি আমি বহু আগেই। আর কতো ক্ষত করবে হৃদয়ে?

তূর্যর মুচকি হেসে বলা কথাটা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালাম আমি। অভিমানী কন্ঠে বলে উঠলাম,,,

–আমি আপনার হৃদয়ে ক্ষত করেছি?আপনি এমনটা বলতে পেরেছেন তূর্য?

–করেছ তো। বহু আগেই ক্ষত করেছ আমার হৃদপিণ্ডে। ক্ষত তো শুকায়নি বরং গভীর হচ্ছে ধীরে ধীরে।

কথাটা বলেই কপালে এক গভীর স্পর্শ দিলেন ওষ্ঠদ্বয়ের। মানুষ টার মুখটা দেখলে মনে হয়ে কোনো দিন কোনো কষ্টই ছিল না আমাদের অতীতে। শত কষ্টে পেয়েও কত মুগ্ধতা ভরপুর তার হাসিতে। আসলেই আপনি স্ট্রং তূর্য। খুব স্ট্রং। আমার ভাবনার মাঝেই আমাকে টেনে তুলল তূর্য। হতভম্ব হয়ে ওনার দিকে তাকাতেই ইশারা করলেন পিছন ঘুরে দাঁড়াতে। বিস্ময়কর দৃষ্টিতে সামনের দিকে ঘুরে দাড়িয়ে পড়লাম। পিছন থেকে চুল গুলো একটু উঁচু করে খোঁপা করে দিলেন তূর্য। ছলছল করে উঠল দু চোখ। ওনার ভালোবাসা কেয়ার গুলো হৃদয় নাড়িয়ে দেয়। মাথায় চুমু খেয়ে মিষ্টি স্বরে বললেন,,,

–চট করে ফ্রেশ হয়ে চট করে নিচে চলে এসো বউ।

“বউ” শব্দ টা শুনে ভেতর জুড়ে শুরু হল ভয়াবহ তোলপাড়। মনে হচ্ছে কোনো স্বপ্নের রাজ্যে বাস করছি। আজ সত্যিই আমি ওনার বউ। শত অপেক্ষা,কষ্টের প্রহর কাটিয়ে শত বাঁধা পেরিয়ে এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি দু জনে। মুচকি হেসে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালাম আমি। তূর্য নিচে চলে গেলেন।


ডাইনিং টেবিলে নাস্তা করতে ব্যস্ত সবাই। হঠাৎ নজরে পড়ল খুব সুন্দর একজন মহিলা কে। বাদামি রঙের তাঁতের শাড়িতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওনাকে। চেহারা ও ভীষণ সুন্দর। কিছুতেই আমার মস্তিষ্ক ধারণ করতে পারছে না ওনার পরিচয়। ডাইনিং টেবিলে বসে আমাদের সাথে নাস্তা করছে নিশ্চয়ই তূর্যদের কাছের কেউ হবে। তূর্যর দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেমন চোয়াল শক্ত করে আছে। ব্যাপার কি একটু আগেই তো হাসি খুশি ছিলেন! আধা ঘণ্টার মাঝে কি এমন হল যে এভাবে রুড হয়ে আছেন! আরিয়ানা আপু মহিলা টা কে বেশ বিনয়ের সাথে নাস্তা দিচ্ছেন। আড়চোখে মহিলাটার দিকে তাকালাম। আশ্চর্য ওনি তো আমার দিকেই চেয়ে আছেন। এতো নিরিবিলি কেন?তোহাশ ভাইয়া ও এক নাগাড়ে নিজের নাস্তা করে যাচ্ছেন। সবকিছু কেমন ভুতুড়ে ভুতুড়ে লাগছে। কে বলবে এটা বিয়ে বাড়ি!! আচমকা মহিলা টা আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,,,

–তুমি তূর্যর বউ? শাশুড়ী কে সালাম না করেই খেতে বসে পড়লে?

নিস্তব্ধ হয়ে পড়লাম আমি। উনি তূর্যর মা। আরিয়ানা আপু চোখের ইশারায় হ্যাঁ বুঝাল। দাড়িয়ে পড়লাম আমি। নরম স্বরে বলে উঠলাম,,,

–আসসালামু আলাইকুম মা। ক্ষমা করবেন। আসলে আমি আপনাকে,,,

রাগান্বিত চোখে আমার দিকে তাকালেন তূর্য। ওনার চাহনিতে কথাগুলো গলায় আটকে গেল। নাস্তার প্লেট টা ঠেলে দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন ওনি। চোয়াল শক্ত করে রাগী কন্ঠে বলে উঠলেন,,,

–আমার বউ হয়ে তুমি অন্য কারো কাছে মাথা কেন নত করছো শ্রেয়া?

–ওওওনি আপনার মা তূর্য।

ফুঁসে উঠল তূর্য। ওনার দিকে ঘৃণিত নজরে তাকিয়ে স্পষ্ট স্বরে বললেন,,,

–আমার মা নেই শ্রেয়া। আমার আর তোহাশ ভাইয়ার মা মরে গেছে। ফারদার ঐ মহিলা কে আমার মা বলে দাবি করবে না। নিজের শাশুড়ী ও ভাববে না। ওনি আমার বাবার সেকেন্ড ওয়াইফ ছিলেন।

তূর্যর কথায় বিস্ফোরিত নয়নে চেয়ে রইলাম। ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বললাম,,,

—- সম্পর্কে তততো মমমা হয় তূর্য।

এক প্রকার তাচ্ছিল্য করে হাসলেন ওনি। মুখ ফিরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,

–সম্পর্কে মা হলে ও ওনি কখনও মা হয়ে উঠতে পারেন নি শ্রেয়া। বাবা ওনাকে আমাদের জন্য বিয়ে করে আনলেও ওনি তো বাবার টাকার জন্য বউ হয়ে এসেছিলেন। আমাদের ছেলে হিসেবে কখনও মানতেই পারেন নি ওনি।

তূর্যর কথা শুনে চুপ হয়ে রইল সবাই। আরিয়ানা আপু একটু ইতস্তত করে বলল,,,

–থাক না তূর্য। আজ তোর বিয়ে এসব কথা বাদ দে।

হাসল তূর্য। কঠিন স্বরে বলল,,,

–বাদ দেওয়ার মতো কিছুই নেই ভাবী। ওনি কেন এসেছেন এখানে? ওনাকে তো বাবা সম্পত্তির ভাগ দিয়েছেন তাই না?তাহলে এখানে কি করছেন ওনি? ওনার কোনো অধিকার নেই এ বাড়িতে আসার।

–তোমার বিয়েতে কি আমি আসতে পারি না তূর্য?

রক্তিম বর্ণ ধারণ করল তূর্যর চোখ দুটো। তীব্র রাগ নিয়ে বলে উঠল,,,

–কেন আবারও আমাদের আলাদা করতে এসেছেন?

চমকে উঠল সবাই। কৌতূহলী দৃষ্টি তাক করল তূর্যর দিকে। মেহরিমা চৌধুরী ও উঠে পড়লেন চেয়ার থেকে।

—তোমাদের আলাদা করতে এসেছি মানে?

–আর কতো নাটক করবেন আপনি? ছোট থেকেই আপনার নাটক সহ্য করে আসছি। ভুলে যাবেন না ভাইয়া সব মুখ বুঝে সহ্য করলেও আমি ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। আপনারা সবাই তো জানেন না মাসখানেক আগে আমাকে আর শ্রেয়া কে আলাদা করার পিছনে ওনার হাত ছিল।

সবাই যেন শক খেল। তূর্যর কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না কেউ। তোহাশ ভাইয়া নরম কন্ঠে বলে উঠল,,

–বুঝিয়ে বল তূর্য।

— আমার যেদিন এক্সিডেন্ট হয় শ্রেয়া ঐদিন ফোন দিয়েছিল তাই না? দুর্ভাগ্যবশত মোবাইল টা আমি রুমেই ফেলে যায়।আমি কখনও নিজের ফোনে পাসওয়ার্ড ইউজ করি না এটা পরিবারের সবারই জানা। সেদিন চাচার মোবাইলে মেসেজ টা মেহরিমা চৌধুরী দিয়েছিলেন। প্রশ্ন হল আমি কিভাবে জানলাম! আমার রুমে যে গোপন ক্যামেরা আছে সেটা সবারই অজানা। সেদিন রাতে শ্রেয়া যখন বলল মেসেজে আমি বলেছি আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি ইচ্ছে করেছে নিজেকে শেষ করে দেয়। যাকে এতো ভালোবাসি তার মুখে এমন কথা শুনা টা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। অবশ্য এতে শ্রেয়ার কোনো দোষ ছিল না। আমাকে ও তাকে আলাদা করার জন্য তো অজানা এক শত্রু উঠে পড়ে লেগেছিল। রাতেই ভিডিও ফুটেজ চেক করতেই সত্য আমার সামনে প্রকাশিত হল। শুধু এতটুকু তেই ক্ষান্ত হন নি তিনি। তার আগে শ্রেয়ার সব ডিটেইলস বের করে আমার খালা মণি কে শ্রেয়া কে আভাসের বউ করার তাগিদ দেন। খালা মণি যাচাই বাছাই করে জানল শ্রেয়া খুব ভালো মেয়ে তাই দ্বিমত করেন নি। অন্যদিকে মেহরিমা চৌধুরী শ্রেয়ার সৎ মা কে মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন যেন বিয়েটা হয়। সবকিছু ঠিক আছে নাকি ভুল কিছু বলে ফেলেছি মেহরিমা চৌধুরী????

সবকিছু শুনে ধপ করে পাশের চেয়ারে বসে পড়লাম আমি। আমাদের প্ল্যান করে আলাদা করেছেন ওনি। সবকিছুর পেছনে ওনার হাত!!! আমার দিকে তাকিয়ে মা বলতে শুরু করলেন,,,

—ভুল কি করেছি তূর্য? আমার ভাইয়ের মেয়েকে রেখে একটা রাস্তার মেয়ে কে বিয়ে করতে যাচ্ছিলে তুমি। পাগল হয়ে যাচ্ছিলে ফালতু একটা মেয়ের জন্য। তোমর বাবা কে বুঝিয়ে ও লাভ হয় নি। ওনি তো তুমি বলতেই পাগল ছিল। অহমিকার নখের যোগ্য ও না এই মেয়ে। বেশ করেছি তোমাদের আলাদা করে।

— আরিয়ানা ভাবী ও অহমিকার মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। আসলে অহমিকা তো পুরো আপনার স্বভাবই পেয়েছে। যেমন ফুপু তেমন ভাতিজী। ভাগ্য ভালো তোহাশ ভাইয়ার কপালে আরিয়ানা ভাবী জুটেছে। এই কাজটা ভালো করেছেন। কিন্তু আমাকে ও শ্রেয়া কে আলাদা করে একদম ঠিক করেন নি। কি লাভ হল? ঘুরে ফিরে আমার শুভ্র পরী আজ আমার অর্ধাঙ্গিনী। (হেসে)

–একটা বিধবা মেয়ের জন্য আমার সাথে তর্ক করছো তুমি?

–মেয়েটা বিধবা না। শ্রেয়া আমার বউ। সম্পর্কে আপনি আমার বড় বলে এই তিক্ত কথাটা বলে ও এখনো দাড়িয়ে আছেন এখানে। নয়তো আজ আপনাকে আমার হাত থেকে কেউই বাঁচাতে পারত না। আর এক মিনিট ও যদি আপনি এখানে উপস্থিত থাকেন তবে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। বেরিয়ে যান আমাদের বাড়ি থেকে। আপনার মতো লোভী, সার্থবাদী মহিলার মুখ দেখতে চাই না। আজও আপনি প্রমাণ করে দিলেন পর পরই হয়। পর কখনো আপন হয় না।

তাচ্ছিল্য হেসে চলে গেলেন ওনি। তোহাশ ভাইয়া তূর্যর কাধে হাত রাখতেই হাত টা চেপে ধরল তূর্য। একটু হেসে বলল,,,

–দেখলে তো ভাইয়া কেমন খেল খেলল আমার জীবনটা নিয়ে!!! আর উনাকে মায়ের আসনে বসিয়েছিলাম আমরা।
উপরে গিয়ে রেডি হয়ে নাও শ্রেয়া।


একজন মা কিভাবে নিজের সার্থের জন্য সন্তানের খুশি কেঁড়ে নিতে পারে? আপন না হোক তবুও তো মা। আমি তূর্যর চোখে দেখেছি কতো টা কষ্ট পেয়েছেন তূর্য। ওনার জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তো এতক্ষণে তূর্যর রাগের শিকার হতো কিন্তু ওনাকে কথাগুলো বলতে গিয়েও তূর্যর ঠোঁট কাপছিল। আমি জানি আপনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন তূর্য। কেন এমন হয়? কেন আমরা যাদের আপন ভাবি তারা আমাদের দু চোখের বিষ মনে করেন? টাকা কি সবকিছু? ভালেবাসা,,মায়া-মমতা কি কিছুই না? ভাগ্য খারাপ ওনার। ওনি যদি বুঝতেন আপনার ও তোহাশ ভাইয়ার চোখে ওনার জন্য কতটা সম্মান কতটা ভালোবাসা তবে এতো সার্থপর হতে পারতেন না। বুক চিরে একটা উত্তপ্ত শ্বাস বেড়িয়ে এল।


শুভ্র লেহেঙ্গা পড়ে তৈরি হয়ে নিলাম আমি। প্রিয়ু,, আরিয়ানা আপুও রেডি। একটু পরেই নিচে নিয়ে যাবে আমাকে। লাল আরেকটা ওড়না এনে মাথায় দিয়ে দিল আরিয়ানা আপু। অবাক হয়ে ওনার দিকে তাকাতেই ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে বললেন,,,

–তূর্যর আদেশ।

সাদা ওড়না মাথায় দেওয়া আছে। তার উপর একদম মুখ ঢেকে আবার লাল ওড়না। অদ্ভুত তো!!! বিয়ে তো রাতেই হয়ে গেল তবুও কতো আয়োজন। আমাকে নিয়ে নিচে নেমে আসল প্রিয়ু ও আরিয়ানা আপু। এতো ভারী লেহেঙায় হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও কিছু করার নেই তূর্য চৌধুরীর ইচ্ছে বলে কথা। লাল ওড়নার উপর দিয়ে ঝাপ্সা ভাবে ভেসে এল তূর্যর হাসোজ্জল চেহারাটা । সাথে সাথেই কয়েকটা হার্ট বিট মিস হয়ে গেল। ওনার হাতটা ধরে এগিয়ে গেলাম স্টেজের দিকে। স্টেজে আমাকে বসিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,,,

–আমার বউ কে প্রথমে দেখার অধিকার আমার। তাই আমি প্রথমে দেখব।

ওনার বন্ধুরা সবাই হৈচৈ করে উঠল। ইশশ কি লজ্জাজনক ব্যাপার।এই লোক একদিন মাথা কাটিয়েই ছাড়বে। ধীরে ধীরে ইয়া বড় ঘোমটা টা তুললেন ওনি। এক নজরে তাকিয়ে থেকে অস্ফুটস্বরে বলে উঠলেন,,

–মাশাল্লাহ,,,,,, শুভ্রতায় ঘেরা মায়াবী কন্যা।

হেসে দিলাম আমি।আমার হাতটা আকড়ে ধরলেন খুব শক্ত করে। অপলকভাবে তাকিয়ে রইলেন। পাশ থেকে আয়ুশ ভাইয়া চিল্লিয়ে বললেন,,,

–আজ একটা প্রমিস চাই জেরি।

ভ্রু কুঁচকে তাকালাম আমি। হৃদপিণ্ড চরম লাফাচ্ছে।আয়ুশ ভাইয়া মুচকি হেসে বললেন,,,

–প্রমিস করো তুমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হারিয়ে যাবে না তূর্যর জীবন থেকে।

সাথে সাথেই তূর্যর হাতটা আঁকড়ে ধরে আওয়াজ করে বললাম,,,

— শত বাধা আসুক তবুও আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না তূর্য। আপনার বন্ধুমহলের সামনে প্রমিস করলাম শেষ নিঃশ্বাস অব্দি আমি আপনারই থাকব।

করতালির আওয়াজ এসে কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই লজ্জায় শিউরে উঠলাম আমি। তূর্য এখনও এক ধ্যানে তাকিয়ে।ইশশ কি মারাত্মক চাহনি!!!


ঘোমটা টেনে বসে আছি বিছানায়। রাত বারোটা বাজে। বাহিরের শোরগোল কানে এসে বাজছে। ফুহাদ ভাইয়া, প্রিয়ু,,মিথি আপু সবাই ঝেকে ধরেছে তূর্য কে বেশ ভালোই বুঝতে পারছি। হঠাৎ তূর্যর কন্ঠ শোনা গেল–আমার বউ,, আমার রুম অথচ তোদের টাকা দিতে হবে। নেভার। ফুহাদ মনে আছে একবার ক্লাবে একটা মেয়ে,,,তূর্য কথাটা শেষ করার আগেই ফুহাদ মিথি কে নিয়ে প্রগাঢ়পাড়। প্রিয়ু ও আরিয়ানা বেক্কল বনে গেল। কি হল! একে অপরের দিকে তাকাতেই তূর্য প্রগাঢ়পাড়।

হুড়মুড়িয়ে ওনাকে ঘরে ঢুকতে দেখে কিছুটা নড়েচড়ে বসলাম আমি। বাহির থেকে আরিয়ানা আপুর চিতকার শুনা যাচ্ছে,,

–ভালে হবে না বলে দিলাম তূর্য। আমাদের বোকা বানালি। এটার শোধ নিয়েই ছাড়ব।

কোনো কিছু না বলে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেলেন তূর্য। ওনি আমার সাথে কথা বললেন না কেন? চিন্তা নিয়ে বিছানা থেকে উঠতেই বেরিয়ে এলেন । দ্রুত গতিতে কাছে এসে দাঁড়ালেন। থরথর করে কাঁপতে লাগল সারা শরীর। মুচকি হাসল তূর্য। মধুর স্বরে প্রশ্ন করল,,,

–নার্ভাস?

–উঁহু! আপনি এসে আমার সাথে কথা বললেন না কেন? আপনি কি রেগে আছেন কোনো কারণে? আবার কানে ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখবেন না তো?–ভয়ার্ত কন্ঠে বললাম।

— রাখলে তো মন্দ হয় না! কাল অভিনয় করে বেঁচে গিয়েছ। আমার সাথে অভিনয়ের শাস্তি কি জানো তো?( রাগী কন্ঠে)

ঢোক গিললাম আমি।কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললাম,,,

–আআমমমি তো,,,

–আমি তো কি শুভ্রপরী? আবার অভিনয়!–ভ্রু উঁচু করে।

— না না আমি তো!

–আমি তোমার নানা?কালকে ভাই আর আজকে নানা?(রাগান্বিত স্বরে)

–কি বলছেন তূর্য? আপনি তো আমার স্বামী।

–যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।–মুচকি হেসে।

দ্রুত বেগে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজায় হেলান দিয়ে দাড়ালাম আমি। শ্বাস প্রশ্বাস আটকে আসছে। এভাবে কেউ ভয় দেখায়? ওনি ইচ্ছে করে এমন করলেন আমার সাথে!!!


ফ্রেশ হয়ে লাল একটা শাড়ি পড়ে বের হয়ে এলাম। আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল আঁচড়াতেই চোখে পড়ল চিরকুট,,,,

~❝ হৃদয়হরণী,,,আমার হৃদয়স্পর্শী শুনছো তুমি,,,
তোমাতেই পূর্ণ হয়েছি আজ আমি।
বৃষ্টিস্নাত সকালে নয়, রাতের আঁধারে নয়
সারা প্রহর তোমার ভালোবাসায় সিক্ত থাকতে চাই আমি।
আসক্তি হতে চাই তোমার যেন অবলীলায় বলতে পারো
তূর্য নামক আসক্তি গ্রাস করেছে আমায়।❞

ভীষণভাবে কেঁপে উঠল হৃদপিণ্ড। বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল বহুগুণ। অন্যরকম অনুভূতি ভিড় জমাচ্ছে মন জুড়ে। চিরকুট প্রেমে মত্ত হয়েছি বহু আগেই। আজ যেন নতুন করে মত্ত হচ্ছি চিরকুট লেখকের প্রেমে। সামান্য চিরকুট অথচ তার মধ্যে লিখাগুলোর গভীরতা ব্যাপক। এমন বাক্য যার মনে আওড়াবে সেই ব্যক্তি প্রেমে পড়তে বাধ্য হবে। চিরকুট লেখকের প্রেমে!!! শাড়িটা ঠিক করে পেছনে চোখ উল্টে তাকাতেই চোখে আটকালো তূর্যর মোহময় নয়ন। একটু ও সময় নিলাম না তূর্য কে ঝাপটে ধরতে। হৃদয় নাড়ানো আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কি উপায় আছে!!! কোমর আঁকড়ে ধরে মুখোমুখি করে নিলেন তূর্য। সাহস জুগিয়ে ওনার কপালে ঠোঁট ঠেকালাম এই প্রথম। প্রথমবার । হাতের বাঁধন ঢিলে করে দিলেন মুহুর্তেই । পড়তে নিলেই আবারও আঁকড়ে ধরলেন নিজের একদম কাছে। চোখ বন্ধ করে স্লো ভয়েসে এক নিঃশ্বাসে বলে উঠলাম,,

— আপনাতেই মগ্ন হতে চায় আপনার শুভ্রপরী প্রেমময় তূর্য চৌধুরী। ❤️

চলবে,,,,

(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আজ কোনোভাবেই গল্প লিখায় মন বসাতে পারছিলাম না। আপনারা অপেক্ষা করে থাকবেন তাই লিখলাম। পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন!! হ্যাপি রিডিং💜💜💜)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here