সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১২

0
139

#সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১২

.
অভি এবার বিদ্যার হাত ওর বুকের উপর শক্ত করে চেঁপে ধরে বলল,
-” বিদ্যা, তুমি কি আমাকে পাগল করে দিতে এসেছ!”

বিদ্যার পুরো শরীর কাপুনি দিয়ে উঠলো। ধরা পড়ে গেছে সে। বিদ্যা কল্পনাও করেনি সে এমন পরিস্থিতে পড়বে। অভির ছোয়া পেয়ে বিদ্যার বুকটা মনে হয় জ্বলে পুরে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে। গলার চার আঙ্গুল নিচে একটা লাল টকটকে চক্রের সৃষ্টি হল যা বিদ্যার শরীরে দহন যন্ত্রনার পরিমানটা বেড়েই দিল।

বিদ্যা ওর বাম হাত বুকে চেঁপে ধরেই চিৎকার দিয়ে উঠলো। সাথে সাথে অভি বিদ্যার মুখ চিপে ধরল। অভি ঐ অবস্থায় বিছানা থেকে উঠেই বিদ্যাকে নিজের বুকের সাথে চেঁপে ধরলো। বিদ্যা দহন যন্ত্রনায় থরথর করে কাঁপছে। চোখে দিয়ে জল পড়ে অভির হাত ভিজে গেল। কেন অভি বিদ্যাকে এমন কষ্ট দিচ্ছে!

এমন সময় শর্মিষ্ঠা অভির দরজায় নক করলো। অভি, অভি! তুমি কি রুমে আছো?

অভির কোন রেসপন্স আসেনা। তাই শর্মিষ্ঠা আরো উত্তেজিত হয়ে অভির রুমে জোরে জোরে নক করতে লাগলো। আজ ঐ মেয়েকে বাসা থেকে বের করার ব্যবস্থা করেই ছাড়বো। নিলজ্জ- বেহায়া মেয়ে কোথাকার, পরপুরুষের রুমে ঢুকে বেহাপানা হচ্ছে! দিদি খুব বড় মুখ করে বলতোনা! তার মেয়ের মত নাকি এই জগতে কোন মেয়েই হয়না। আজ সবাইকে দেখিয়েই ছাড়বো তার মেয়ের চরিত্র। অভি, অ….ভি?

অভি বিদ্যাকে নিয়ে বিপাকে পড়ে গেল। বিদ্যা যন্ত্রনায় ছটপট করছে। অভি কিছু না ভেবেই বিদ্যার গলার নিচে ঠোট ডুবালো। অভি চোখ বন্ধ করে বিদ্যার সমস্ত যন্ত্রনা যেন শুষে নিল। বিদ্যার শরীরের সেই চক্রটা আস্তে আস্তে লাল ধুয়ায় পরিনিত হল আর অভি সেটা শুষে নিতেই বিদ্যা অভির শরীরে ঢলে পড়লো। বিদ্যার কোন সেন্স নেই।

অভি বিদ্যাকে খাটে সুয়ে দিল। তারপর কোম্বল দিয়ে ঢেকে দিয়ে নিজে দ্রুত কাপড় চেঞ্জ করে দরজা খুলে দিয়ে লম্বা একটা হাই তুলে বলল,” আন্টি আপনি? কিছু দরকার ছিল?”

সরতো বাবা বলেই শর্মিষ্ঠা রুমে ঢুকল। পুরো রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজল। ওয়াসরুম, ব্যালকুনি, আলমারি কিছুই বাদ দিলনা। কিন্তু কোথাও বিদ্যাকে খুঁজে পেল না। আমি নিজের চোখে দেখেছি ও রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে ও গেল কই? এই চোখ কখনো ভুল হতে পারেনা।

-” আন্টি, আপনি কি কিছু খুঁজছেন? আমাকে বলুন, আপনার কি দরকার?”

অভির কথা শুনে শর্মিষ্ঠার টনক নড়ল। এভাবে কারো রুম সার্চ করা যে কত বড় অসম্মানজনক কাজ সেটা শর্মিষ্ঠা বুঝতে পারলো। সাথে সাথে শর্মিষ্ঠা সংযত হয়ে গেল। শর্মিষ্ঠা গলা ঝাড়ি দিয়ে বলল,” আসলে কি হয়েছে বলতো! আমার বিড়ালটা তোমার রুমে এসেছে কিনা তাই খুঁজতে এসেছি। সকাল থেকে ওকে পাচ্ছিনা।”

-” অহ্ আচ্ছা। কিন্তু আন্টি, আমি তো দেখছি আপনার কালাচাঁন ঐ যে দরজায় দাড়িয়ে আছে। আমার মনে হয়, ও আপনাকে না পেয়ে খুঁজতে খুজতে এখানে চলে এসেছে।”

শর্মিষ্ঠা ধরা পড়ে গিয়ে আমতা আমতা করে বলল,” বাবা, আমার বিড়ালের নাম কালাচাঁন না। ওকে আমরা হানি বলে ডাকি।”

-” স্যরি আন্টি, আমিতো জানতামনা ওর নাম হানি। আসলে ও এত ব্লাক যে, ওকে কালাচাঁন নামটাই মানায়। বাদ দিননা, আর কিছু বলবেন?”

-” নাহ্, আমি তো আমার হানিকে পেয়েছি, আর কিছু দরকার নেই।”

শর্মিষ্ঠা চলে যাওয়ার আগে আবার ভালো করে একপলক রুমটা দেখে নিল। আর মনে মনে বলল,” আমার কি মতিভ্রম হয়েছে? হয়ত বিদ্যাকে নিয়ে বেশি ভাবা হয়েছে তাই চোখে সর্ষে ফুল দেখছি। আচ্ছা তখন তাহলে ওভাবে এত জোড়ে দরজা কে বন্ধ করে দিল? নাহ্ মনে হয় অভিই দিয়েছে। এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমার সম্পর্কে অভির খারাপ ধারনা জন্মাবে। তাই আপাতত এখানেই সব কিছু অফ করে দিলাম।”

♥♥

অভি দরজাটা বন্ধ করে বিছানার দিকে তাকালো। অভি একপা-দু’পা করে বিদ্যার দিকে আসতেই ওর শরীর থেকে সমস্ত পোষাক উধাও হয়ে ঠিক আগের অবস্থানে চলে আসল। তারপর অভি বিছানার কাছে এসে কম্বোলটা সরিয়ে ফেলতেই বিদ্যা দৃশ্যমান হল। এতক্ষন বিদ্যা অদৃশ্য হয়ে ছিল।

অভি আজ প্রচন্ড খুশি। কারন “ইনা” ওকে বলেছিল, আসল বিদ্যাকে চিনার উপায় হল, বিদ্যা যখন সজ্ঞানে অভিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে স্পর্শ করবে তখন বিদ্যা অভির শরীরের উত্তাপ সহ্য করতে না পেরে ওর গলার চার আঙ্গুল নিচে একটা চক্র তৈরি হবে। তাহলেই অভিকে বুঝতে হবে এটাই অভির আসল বিদ্যা। হ্যাঁ অভি আজ নিশ্চিত এই তার জিবনসঙ্গী। এতদিন সন্দেহের উপর সব কাজ করেছে। এখন জমবে খেলা। রেডী হও বিদ্যা, তোমার অভির পাগলামো যে তোমাকেই সহ্য করতে হবে।

অভি মুচকি একটা হাসি দিয়ে বিদ্যার পাশে সুয়ে পড়ল। তাইতো বলি, আমার কোন মেয়ের প্রতি এতদিনেও আগ্রহ কেন জন্মেনি। বিদ্যাকে ছাড়া যদি আমি অন্য মেয়ের দিকে এক নজরও তাকাই তাহলে সেই ভুলের কোন ক্ষমা নেই। অভি বিদ্যার হাত ওর বুকের উপর রেখে বিদ্যার কপালে হাত ছোয়াতেই বিদ্যা নড়ে উঠলো। বিদ্যা যখন চোখ খুলল তখন অভি চট করে চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান করে সুয়ে রইল।

অভিকে বিদ্যার পাশে সোয়া দেখে বিদ্যা লাফ দিয়ে সোয়া থেকে উঠেই বসে পড়ল। কি হয়েছিল আমার? আমি ওর সাথে কেন সুয়ে আছি! বিদ্যা মনে করার চেষ্টা করে কিন্তু কিছুই মনে পড়ছেনা। শুধু মনে আছে ও নিজে ফোন দিতে অভির রুমে এসেছিল। তারপর কি হয়েছিল। অভি এখনো জেগে ওঠেনি তাই এই সুযোগে বিদ্যা রুম থেকে বের হয়ে গেল।

বিদ্যা চলে যেতেই অভি চোখ খুলল। অভি বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেস হয়ে গায়ে একটা ট্রী শার্ট জড়িয়ে থ্রী কোয়াটার প্যান্ট পড়ে কাবিরের রুমে রওনা দিল। কাবির ততক্ষনে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে।

অভিকে দেখে কাবির হেসে বলল,” কিরে, কেমন ঘুম হল!”

আর ঘুম! রিতুর মা আমার ঘুম ভেঙ্গে দিয়েছে বলে সব খুলে বলল অভি।

বিয়ের আগে শশুর বাড়ী এসে জামাই আদর খেতে চাইলে এমনিই হয়। আজ বাসায় যাব। সব কিছু প্যাক করে নে।

-“আজই যাবি?”

কাবির শার্টের হাত ফোল্ড করতে করতে বলল,” হুম স্যার, আজই যাব।”

-” আজ না গেলে হয়না কাবির?”

-” অহ্ মাই গড! আমি কার কাছে কি শুনছি? তুই আরো এই বাসায় থাকতে চাস? আমি ভূল শুনেছি তাই না অভি!”

-” কথাটা সঠিক শুনেছিস। আমরা আজ যাচ্ছিনা।”

-” মান-সম্মানের তো কিছুটা পরোয়া কর! এভাবে থাকতে নেই অভি। তুই হয়ত আমাদের কালচার সম্পর্কে জানিসনা, তাই এমন কথা বলছিস।”

-” আমি কিছু শুনতে চাইনা। রিয়াকে বল আজ আমরা এখানে থাকছি।”

-” এ হয়না অভি। আমার বিয়ের পর এখানে এসে থাকিস। যতদিন মন চায় থাকিস।”

অভি কোন কথা না বলে রিয়াকে কল দিল। রিয়া ফোন রিসিভ করে বলল,” অভিদা, আপনি কল দিয়েছেন?”

-” কিছু কথা বলার জন্য কল দিয়েছিলাম। আচ্ছা, আমরা তোমাদের বাসায় আর একটা দিন থাকলে কি তোমাদের খুব অসুবিধা হয়ে যাবে?”

-” কি বলছেন! অসুবিধা হবে কেন! মা শুনলে বরং খুব খুশি হবে।”

-” তোমার গর্দভ বরটাকে বোঝাও। আমি থাকতে চাই কিন্তু সে থাকবেনা।”

-” ওনাকে বলেন দরজা খোলায় আছে। ওনি যেতে পারেন কিন্তু আপনাকে আজ থাকতেই হবে।”

অভি ফোনটা একটু আড়াল করে ফিসফিসিয়ে বলল,” এই কাবির, তোর বউ কি বলল, তুই শুনলি! এর পরও যদি আজ আর একবার যাওয়ার কথা মুখেও তুলেছিস তাহলে রিয়াকে দিয়ে তোকে গনধোলাই করিয়ে ছাড়ব। শেষে এমন বেইজ্জতি করে ছাড়বো আর লজ্জায় শশুড় বাসায় আসতে পারবিনা।”

-” আর বেইজ্জতি! আমার সম্মান এমনি মাটি করে দিয়েছিস ভাই। আর কি করবি বল?”

অভি ওর চোখটা ১৮০ আঙ্গেলে ঘুড়িয়ে বুকে বাম হাত দিয়ে ঘষতে লাগল। তারপর কাবির আর রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,” তোমাদের একটা সিক্রেট কথা বলি!”

-” অভিদা ওয়েট।”

রিয়া এক দৌড়ে ওর রুম থেকে কাবিরের রুমে এসে অভির সামনে বসে কল কেটে দিয়ে বলল,” এবার বলেন, আপনার সিক্রেট কথা।”

আহ্ কাবির, এই না হল তোর বউ! একদম মনের মত জিবন সঙ্গী পেয়েছিস। শোন রিয়া, কথাটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ন। মনে করো, ডোনাল ট্রাম্পের জরুরি মিটিং থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

-” ওকে দাদা, আপনি এখন বলেন। আমি তো কাউকে বলবোনা।”

-” আমার কিন্তু তোমার হেল্প দরকার রিয়া!”

এই অভি তুই এসব কি বলছিস! তোর মতলব কি বলতো? আমি এই কোন অভিকে দেখছি। অভি মস্কারাও করতে শিখেছে! তোকে এই অবস্থায় দেখলে জুলি আন্টি নির্ঘাত হার্ড এ্যার্টাক করবে। তোর কি হয়েছে ভাই, আমাকে খুলে বলতো?

-“উফ্ কাবির, আমাকে বলতে দে! তারপর তোর এই ভাষন গুলো শুরু করিস।”

-” ওকে ভাই, তুই তোর সিক্রেট কথায় আগে বল।”

এবার লাইনে এসেছিস। তা রিয়া আমি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম?

রিয়া উৎসাহিত হয়ে বলল,” সিক্রেট কথা।”

-” অহ্ মনে পড়েছে। আসলে আমার না তোমাদের বাসার একটা জিনিস খুব পছন্দ হয়েছে। সেটাকে আমি আমার সঙ্গে নিতে চাই।”

কাবির ওর চোখ দু’টো কয়েল পাখির আন্ডার মত করে বলল,” রিয়া, ওর কথা শুনে এবার আমার মস্তিষ্কের ব্রেক ফেল করবে। এই বাসার জিনিস নাকি ওর পছন্দ হয়েছে। যার বাসায় এত এত এত দামি জিনিস এবং সেগুলো বিখ্যাত সব ব্রান্ডের। সেই ছেলের নাকি জিনিস পছন্দ হয়েছে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি রিয়া।

এই রিয়া ওর মুখ চেঁপে ধরো তো! আমাকে তো কোন কথায় বলতে দিচ্ছেনা। আমি না বলা অবদি ওর মুখ ছাড়বেনা। কথার মাঝে ওর ফোঁড়ন কাটার অভ্যাস গেল না।

অভির কথা শুনে রিয়া খপ করে কাবিরের মুখ চেপে ধরে বলল,” অভিদা, মনে করেন কাবির নামে এখানে কেউ নেই? এখন আপনার কথা বলেন তো?”

-“হুম,,,তাহলে শোন, আমার বিদ্যাকে খুব পছন্দ হয়েছে। আমার জিবনে ওকে লাইফ পার্টনার হিসেবে চাই। এখন তোমাদের উপর সম্পূর্ণ দায়িত্ব, তাকে কিভাবে আমার কাছে আনবে। যা হয় হবে। তোমাদের মুখে যেন না কথাটা না শুনি। যতদিননা আমার কোন ব্যবস্থা না করছো ততদিন অবদি তোমার বিয়েও হতে দিচ্ছিনা। এটা এই অভির ওয়াদা।

অভির কথা শুনে রিয়া ওর মনের জগতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। অভিদা কি বলছে? ও মাগো আমি পারবোনা। বিদ্যা আন্টি যা ডেন্জারাস্, ওনাকে দেখলে আমি দশ হাত দুরে দুরে থাকি। দু’দিন আগেও ওনার ধমক খেয়ে আমি আধা মরা হয়ে গিয়েছিলাম। আ…মি পারবোনা। আপনি সব ঠিক করেন, বাঁকিটা আমি সামলিয়ে নিব। তাছাড়া পিসি আপনার ৬ বছরের বড়। ক্যামনে কি সম্ভব?

-” ধ্যুর, রাখতো তোমার বয়স! আমি ছোট মেয়েদের বিয়ে করতে চাইনা। ওদের সামলাইতে সারা জিবন যাবে। বড় মেয়ে বিয়ে করবো, যাতে সে আমাকে সামলায়। ওটা তুমি বুঝবানা। জিবনে যদি সুখ চাও তাহলে নিজের থেকে সিনিয়রদের বিয়ে করো তাহলে সুখ এমনি এসে তোমার হাতে ধরা দিবে। বুঝেছ আমার কথা! আমি কিছু শুনে চাইনা। আমার শুধু বিদ্যাকে চাই।

কাবির রিয়ার হাত কিছুটা জোড় করেই মুখ থেকে সরিয়ে বলল,” বয়স কোন ফ্যাক্ট না। এমন সিনিয়র-জুনিয়র জুটি পৃথিবীতে হাজারো আছে। আমার সমস্যা সেখানে নেই কিন্তু আমার সমস্যা হল, বিদ্যা আর ওর পরিবারকে নিয়ে। পাঁচটা বোনের একটাই বোন। কম আদরের নয়। তাছাড়া তার অতীত জিবন বলেও কিছু আছে। তার মতামতও আমাদের জানা দরকার। পঞ্চ ভাইয়ের একখানা বোন, সে যে কত জেদি সেটা আমি এই দু’দিনে বেশ বুঝেছি। অভি তোর অন্য মেয়েকে পছন্দ হলে আমায় বলিস। আমি জিবন দিব ভাই কিন্তু বিদ্যা! নো নো এটা অসম্ভব। কেনো জেনেশুনে আগুনে পা দিচ্ছিস ভাই? বিদ্যা বাদে যা বলবি তাই করবো। তোর লাইন ঠিক করতে আমার লাইনটাও কেটে যাবে।

-“ফ্যাক্….. ড্যামেট। আমার বিদ্যাকে চাই।”

অভির মুখে ফ্যাক্ শব্দটা শুনে রিয়া লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। রিয়ার এই অবস্থা দেখে কাবির অভির মুখ চেঁপে ধরে বলল,” ভাই, এই শব্দটা আর যাই হোক এদেশে ব্যবহার করিস না। এটা আমেরিকা নয় যে সবাই ঐ শব্দটাকে জাষ্ট গালি হিসেবে ব্যবহার করে। এটা বাংলাদেশ, তাই এটার মিনিং খারাপ হিসেবে ধরা হয়। এই ল্যাঙ্গুয়েজ আর ব্যবহার করিসনা।”

-” ওকে স্যরি, আর বলবোনা। রিয়া স্যরি, আমি জানতামনা এটার মিনিং এখানে এভাবে নেয়। সব বাদ, এখন তুমি বল, আমার জন্য তুমি কি করছো?”

রিয়া দাঁত কেলিয়ে বলল,” আমার অভিদা আমার কাছে জিবনে এই প্রথম কিছু চেয়েছে আর আমি সেখানে না করি কিভাবে? আপনি চিন্তা করেননা। এই রিয়া সব সেটিং করে দিবে।”

ওহ্ মাই ফ্রেন্ড কা কিউটি ওয়াইফ, থ্যাংকস ফর ইউ। কাবিরের পিঠে একটা চাপড় মেরে অভি বলল,” হারামজাদা সর আমার চোখের সামনে থেকে, তোর বদলে যদি রিয়া আমার বান্ধবী হইতো তাহলে আমি বেশি খুঁশি হইতাম।”

ওহ্ আমি এখন পর হয়ে গেলাম! ওকে ব্যাপার না। আমার বউকে যদি তোর এতই ভালো লাগে তাহলে তুইও শুনে রাখ, আজ থেকে আমিও বিদ্যার পিছে লাগছি। তোর থেকে আমার চান্স একটু বেশি। দেখ ওকে কিভাবে আমার ফেন্ড্র নামক ফাঁদে আটকায়।

অভি কাবিরের কথা শুনে প্রচন্ড রেগে গেল। বালিশটা ছুড়ে মেরে কাবিরের গলা চেঁপে ধরে চোখ গরম করে বলল,” বিদ্যার আশে পাশে যদি কেউ ঘুরঘুর করে তাহলে তার রক্ত পান করবো বুঝেছিস? ২য় বার যেন এমন কথা না শুনি। বিদ্যা শুধুই অভির। ওর জিবনে যদি ভুলেও কেউ আসার ট্রাই করে তাহলে অভির আগুনে সে জ্বলে ভষ্ম হয়ে যাবে।”

অভি কাবিরকে ছেড়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। অভির এমন ব্যবহারে ভয়ে রিয়ার গলা শুকিয়ে গেছে। এটা রিয়া কি দেখল!
এদিকে কাবির অভির চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে আছে। অভির এমন ব্যবহার কাবির কোনদিনও দেখে নাই। কাবিরের অভি সম্পর্কে সমস্ত হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেল। এটা কোন অভি ছিল।

রিয়া ভয়ে ভয়ে বলে উঠলো, অভিদার স্বভাব কি এইরকমই!

-” নাহ্, একদম এরকম নয়। ওর মত ছেলেই হয়না। আজ এমন পরিবর্তনে আমি নিজেই অবাক।”

-” বিদ্যা আন্টিকে তার এত পছন্দ?”

-” ওর জন্য আমাদের এই কাজটা করতেই হবে। তুমি অভির সাথে কথা বল। বিদ্যাকে ও কিভাবে চায়।”

ওকে বলে রিয়া চলে গেল। কিন্তু কাবির ঠান্ডা মাথায় ভাবতে লাগল অভিকে নিয়ে। হঠাৎ অভি এমন পাগলামি করতে শুরু করলো কেন?

♥♥

সকাল ১১টা,
অভি বেডে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল। এমন সময় কাজের মেয়ে “শান্তি” এল রুম গোছাতে। অভিকে দেখে হাত দিয়ে চোখ ঢেকেই ছোটখাটো একটা চিক্কুর দিল। অভিও খানিকটা চমকে উঠে বলল,” শান্তি, হোয়াট হ্যাপেন?”

-“অভিদাদা আপনি আগে আপনার ইজ্জত ঢাকেন। এমন করে সগ্গলরে সামনে নিজের ইজ্জত বিলান না। আই তো শরম পাইছি।”

অভি প্রচন্ড বিরক্ত হল শান্তির কথায়। মুখে গম্ভীর একটা ভাব এনে বলল,
-” কাজ করতে এসেছ, না আমার ইজ্জত দেখতে এসেছ?”

-” আই তো কাম করনের লাইগা আইছি। আপনিতো এমন বেহুদার মত বইসা আছেন।”

-” কি বল! হাটুর উপর পোষাক পড়লেই ইজ্জত দেখানো হয়! তুমি কোন দেশের মানুষ বলতো! আমার তো মনে হয় তুমি একজন এলিয়েন। এত কথা না বলে কাজ করো।”

অভি আর কোন কথা না বলে ল্যাপটপে মনযোগ দিল কিন্তু শান্তি ওভাবেই দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।

কিরে শান্তি দরজার সামনে দাড়িয়ে আছিস কেন বলে রুমে ঢুকলো রিয়া।

-” দেহেন না দিদি, অভিদাদা কেমন হইয়া আছে। শরম লাগে তো!”

অভি ল্যাপটপের সাটার নামিয়ে দিয়ে শান্তির দিকে চাইলো। তারপর কঠিন গলায় বলল,” রিয়া, ওকে আমার চোখের সামনে থেকে সরাও তো!”

আরে বাদ দিনতো ওর কথা। আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। আসেন……

-” এখানেই বল। এখন মোড নেই কোন কথা শোনার।”

-” সিক্রেট… ”

অভি অনিচ্ছা সত্তেও বেড থেকে উঠে রিয়ার কাছে গেল। তারপর বিরক্ত সহকারে বলল,” কি বলবা বল?”

রিয়া ফিসফিসিয়ে বলল,” বিদ্যা পিসি কিচেনে একা রান্না করছে। আধাঘন্টার জন্য কিচেনে কেউ যাচ্ছেনা। আপনি চাইলে সেখানে এন্ট্রি করতে পারেন।”

অভি কোন কথা না বলে চুপচাপ কিচেনে চলে গেল। অভি চলে যেতেই রিয়া বলল, ” এই অভিদার আবার কি হল! ওনার এভাবে বদলে যাওয়ার কারন কি? মনে হচ্ছে ওনার আকাশে গভীর কালো মেঘ জমেছে।”
রিয়াও অভির পিছে পিছে গেল।

♥♥

বিদ্যা কেবল সমস্ত কাজ গুছিয়ে চুলায় প্যান বসিয়ে তেল গরম করতে দিয়েছে এমন সময় অভি কিচেনে চলে এল। মুখটা ভার করেই বলল,” হেই মিস, কি করছো?”

বিদ্যা পিছন ফিরে অভিকে দেখলো শুধু, কিন্তু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করলোনা। আবার কাজে মন বসালো। বাবা তাল বড়া খেতে চেয়েছে তাই বিদ্যা অতি যত্নে আদর আর ভালোবাসা মিসিয়ে সেটা তৈরি করছে।

-” কেউ কিছু প্রশ্ন করলে জবাব দিতে হয়। এটাকি কারো জানা নেই নাকি! না সে অশিক্ষিত।”

-” কেউ জানা সত্তেও কাউকে ইচ্ছাকৃত ভাবে অত্যাচার করলে এর থেকে ভালো কিছু আশা না করাটাই বেটার।”

ওকে নো প্রবলেম। অভি একটু উচু গলায় বলল,” আমাকে কি কেউ একটু পুডিং বানিয়ে খাওয়াবে? খুব খেতে ইচ্ছা করছে।”

-” কারো কিছু খেতে ইচ্ছা হলে সে যেন নিজেই তৈরি করে খায়।”

বিদ্যার এমন কথায় অভি এক নিমিষেই বিদ্যার পিছনে এসে ওর হাত দু’টি ধরে টান দিয়ে নিজের বুকের ভিতর আনলো। তারপর একপ্রকার জোড় করেই বিদ্যার ঘাড়ে গভীর একটা কিস করলো।

উমহ্, অভি ছাড়ো বলতেই বিদ্যা দেখল, অভি ওর কাছেই নেই। অভি দুরে দাড়িয়ে গ্লাসে জল ভরছে। এটা কি হল! আমি স্পষ্ট অনুভব করেছি অভি আমাকে কিস করেছে। তাহলে এটা কি ছিল?

অভি দুর থেকে দাড়িয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,” হেই মিস, কে আপনাকে জড়িয়ে ধরেছে! তার জন্য বলছেন, অভি ছাড়ো আমায়? আমি তো এখানে!”

বিদ্যা মুখে কিছু বললোনা কিন্তু মনে মনে অভির উপর একরাশ বিরক্তি ও রাগ নিয়ে কাজে মনযোগ দিল।

এদিকে অভির মন উশখুশ করছে বিদ্যাকে জ্বালানোর জন্য। তাই ইচ্ছা করেই গ্লাসটা ফেলে দিল।

নিচে গ্লাস পড়ার শব্দে বিদ্যা চমকে উঠে অভির দিকে চাইল। অভিও সাথে সাথে বিদ্যার দিকে চেয়ে মুখে মিষ্টি একটা হাসি এনে বলল,” স্যরি, ক্যান ইউ হেল্প মি!”

বিদ্যা চুলা বন্ধ করে দিয়ে গরম ছান্তাটা হাতে নিয়েই অভির কাছে এসে চুপ করে বসে ভাঙ্গা কাচের টুকরোগুলো তুলতে লাগলো। অভিও বসে পড়ল বিদ্যাকে হেল্প করতে।

বিদ্যার চুলগুলো বার বার মুখের সামনে আসছিল তাই অভি কেবল বিদ্যার মুখের উপর থেকে চুলগুলো সরানোর জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এমন সময় বিদ্যা গরম ছান্তাটা অভির অন্য হাতে চেপে ধরলো আর গ্লাসের ভাঙ্গা একটুকরো কাঁচ অভির পায়ে গেঁথে দিল। তারপর বলল,” আমার শরীরে কেউ টার্চ করুক সেটা আমি পছন্দ করিনা। আর কেউ যদি আমার সম্মানে আঘাত করে তাহলে তাকে আস্তোও ছাড়িনা। আশা করি কথা বুঝতে পারবেন।”

অসহ্য যন্ত্রনায় অভি কেঁপে উঠলো। ওর দু’চোখ দিয়ে শিশিরের মত বিন্দু বিন্দু জল ঝড়ে পড়ল। অভি শুধু একটাই কথা বলল,” You are my everything.”

[] চলবে…….[]

ওয়েবসাইট এ পড়ুন:
https://nafisarkolom.com/2020/09/sidur-suddhi-12/

………………………………..
লেখিকা,
নাফিসা মুনতাহা পরী
———————————
© কপিরাইট: উক্ত কন্টেন্টটি লেখিকার সম্পদ। লেখিকার নাম এবং পেজ এর ঠিকানা না দিয়ে কপি করে নিজের নামে চালিয়ে অন্য কোথাও পোষ্ট করা আইনত দন্ডনীয়।
———————————-
আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট: https://www.facebook.com/nafisa.muntaha

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here