সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১৪

0
146

#সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ১৪

.

বিদ্যা নিজেও জানেনা অভি ওর জন্য কি শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছে। এমন সময় নিখিল বিদ্যার শরীর থেকে কিছু ঝেরে ফেলে দেওয়ার নাম করে বিদ্যাকে স্পর্শ করলো। বিদ্যা সাথে সাথে নিখিলের হাতটা সরিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। দৃশ্যটা অভির চোখ এড়ালোনা।

অভি বিদ্যার কাছে এসেই কর্কশ ভাষায় বলল,” এসব কি হচ্ছে! আমি বলছি এসব কি হচ্ছে?”

বিদ্যার মাথা গরম হয়ে গেল অভির কথা শুনে। হেই, এখানে কি হচ্ছে তুমি দেখতে পাচ্ছোনা? তুমি কি শিশু যে, সব কিছু তোমাকে হাতে ধরে বুঝাইতে হবে! আর তুমি এখানে কেন? তোমাকে এখানে কে আসতে বলছে?

আমি কে! ওয়েট দেখাচ্ছি বলেই অভি সাধনা দেবীকে কল দিয়ে বসল। সাধনা দেবীও প্রায় সাথে সাথেই কল রিসিভ করে বলল,” অভি তুমি কোথায় বলতো? বিদ্যা এখনো বাসায় ফেরেনি। কলও রিসিভ করছেনা। এদিকে কাউকে বলতেও পারছিনা। শর্মিষ্ঠা জানলে কেলেঙ্কারি বাঁধিয়ে ছাড়বে।”

হুমহ্,,,, আর এদিকে আপনার মেয়েও কম কেলেঙ্কারি বাঁধিয়ে ছাড়েনি। মিসেস. শ্যামল, আমি আপনার মেয়ের সামনেই দাড়িয়ে আছি। বুঝতেই তো পারছেন রাত হয়ে গেছে। আমি এদিকে একটা কাজে এসে আপনার মেয়েকে দেখতে পেলাম। দিলকাল খারাপ, তাই তাকে আমি নিয়ে আসতে চাচ্ছি কিন্তু আপনার পাজি,বজ্জাত মেয়েতো আমার কথায় শুনতে চায়না। সে নাকি এত দুর থেকে একাই বাসায় যাবে। এখন আপনিই বলেন, তাকে কি আমি রেখে আসব!

-“আরে বাবা কি বল! আসার সময় আমার মেয়েটাকে নিয়ে আসো বাবা। বোঝই তো মেয়েটা একটু জেদি। তুমি ওকে ফোনটা দাও। আমি কথা বলছি।”

ওকে বলে অভি বিদ্যাকে ফোন দিয়ে বলল,” মায়ের ফোন।”

বিদ্যা ভ্রু কুচকে ফোনটা নিয়ে একটু দুরে সরে গিয়ে কথা বলতে লাগল। আর অভি এদিকে নিখিল সহ আরো ঐ তিন জন কলিগকে কথার প্যাঁচে ধরল। আপনাদের সমস্যা কি? আপনাদের সবার চরিত্র কি এমনই খারাপ?

নিখিল চটে গেল অভির কথায়। জোড় গলায় বলে উঠলো, এই ভাই, তুমি কে হ্যা! আর কিসের জন্য আমাদের চরিত্র নিয়ে পড়েছ?
এর মধ্য বিদ্যা কথা শেষ করে ওদের কাছে এসে বলল,” কি হয়েছে?”

-“বিদ্যা, এ কে বলতো? আমাদের থের্ড দিচ্ছে কেন? একদম চরিত্র অবদি ধুয়ে দিচ্ছে।”

বিদ্যা দাঁতে দাঁত চেপে অভির দিকে চেয়ে বলল,” অভি কি হচ্ছে এসব। তুমি যে একটা পাগল সেটা আমি আগে জানতাম না।”

-” চুপপপ! আমি পাগল? তোমার সাহস কি করে হয় এতগুলো মানুষের সামনে আমাকে পাগল বলা! পাগলের কি পাগলামি দেখাতে হবে?

-“অভি……..?”

বিদ্যার এমন চিৎকার শুনে অভি ঠাশশশ্ করে একটা চড় মারলো বিদ্যার গালে। আমি ভালোর ভাল আর খারাপের মহা খারাপ। তাই আমার ব্যবহার সম্পর্কে তোমার আগে অভিঙ্গা নিয়ে আমার সাথে লাগা উচিত ছিল। কিছু বলিনা বলে এই না যে, আমি তোমার সব অন্যায় মেনে নিব। তোমার সাহস কি করে হয় ওদের সাথে গায়ে গা মেলিয়ে কথা বলা! এই তোমার শিক্ষা? তাও মানতাম, পুরুষগুলো যদি ভালো হত। কারনে অকারনে তোমার গায়ে হাত দেওয়ার জন্য তারা ছুতো খোজে। এদের সাথে কেন এত ক্লোজ!

অভির এমন ব্যবহারে বিদ্যা প্রচন্ড অপমানিত হল সবার সামনে। প্রচন্ড রেগে ওখানে থেকে দ্রুত পায়ে চলে গেল বিদ্যা।

-” বিদ্যা, এই বিদ্যা কোথায় যাচ্ছ!”

অভির ধর্য্যর বাঁধ ভেঙ্গে গেল নিখিলের কথায়।
অভি নিখিলের কলার চেঁপে ধরে বলল,” বউ আছে, তারপরও অন্য মেয়ের প্রতি এমন কুরুচিপূর্ন দৃষ্টি দিস! এমন কান্ড যদি কোন দিনও আমার চোখে আর একবার পড়ে তাহলে ওখানেই মাটিতে গেড়ে দিব। ২য় বার আর চান্স পাবিনা ক্ষমা চাওয়ার জন্য। কথাটা স্মরনে রাখবি।”

নিখিল ওর কলার থেকে অভির হাত সরানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা করল কিন্তু সফল হতে পারেনা। শেষে ঐ ৩ জন এসে অভিকে সরানোর ট্রাই করে তাও অভিকে সরাতে পারেনা। কোন উপায় না পেয়ে দিপ্তী দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে বিদ্যার হাত ধরে বলল,” বিদ্যা ওনাকে সরা। তানাহলে উনি নিখিলদা কে আজ মেরেই ফেলবে।”

বিদ্যা চমকে উঠে পিছন ফিরে দেখে, অভি এমন করে নিখিল আর ঐ তিনজনকে ধরেছে যে এখুনি ওদের মেরে ফেলবে। বিদ্যা এক মুহুত্বও দেরি না করে দৌড়ে অভির কাছে গিয়ে ওদেরকে ছাড়ানোর ট্রাই করে কিন্তু ও ব্যার্থ হল। শেষে বিদ্যা চিৎকার করে বলল,” অভি স্যরি, আমি কোনদিনও এমন কাজ করবোনা।”

বিদ্যার কথা শুনে অভি ওদের ছেড়ে দিল। বিদ্যা আর লজ্জায় ওখানে থাকতে পারলোনা। দ্রুত পায়ে হাটতে লাগলো।

অভি ওর হাতের আঙ্গুল উচু করে বলল,” কখনো যেন এমন স্বভাব আর না দেখি। যদি ভুলেও এমন স্বভাব দেখি, তাহলে আর দেশের মাটিতে ফিরতে পারবিনা। পরদেশেই বেওয়ারিশ লাশ হয়ে জ্বলবি।”

মৌপ্রিয়া প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। ভয়ে ভয়েই বলে উঠলো, আপনি বিদ্যার কে হন?”

মৌপ্রিয়ার কথা শুনেই অভি মৌপ্রিয়ার দিকে তাকাতেই মৌপ্রিয়া দু’হাত পিছনে চলে গেল। অভি নিজেকে শান্ত করে বলল,” আমি ওর ভবিষ্যত।” এইটুকু বলেই ওদের রেখে অভি দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল বিদ্যার দিকে।

মনে হয় নিখিলের উপর দিয়ে আজ মৃত্যু ঝড় বয়ে গেল। নিখিল কিছু না বলে খানিকটা লজ্জা নিয়েই গাড়ীতে উঠলো। সাথে মৌপ্রিয়া আর দিপ্তীও উঠলো। আর বাঁকিরাও গাড়ী নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লো।

♥♥

বিদ্যা অনেক দুরে হেটে এসেছে। এত উচু হিল পড়ে হাটা অসম্ভব। পায়ে মনে হয় ফোসকাই পড়ে গেছে। বিদ্যা দাড়িয়ে পড়ল রাস্তায়। এমন সময় একটা টাক্সি আসতেই বিদ্যা হাত তুলে ইশারা করল থামার জন্য।
টাক্সিও বিদ্যার পাশে এসে দাড়ালো।

-“দাদা যাবেন বলে লোকেশান বলল বিদ্যা।”

-” যাব কিন্তু ভাড়াটা বেশি দিতে হবে। রাজি থাকলে চলেন।”

ব্যাথায় পা দুটি টনটন করছে । তাই ভাড়া নিয়ে কোন আপোস করলোনা বিদ্যা। ওকে দাদা, যা চাইবেন তাই দিব বলে কেবল ও টাক্সিতে উঠতে যাবে এমন সময় কে যেন বিদ্যাকে টান দিয়ে রাস্তায় টেনে আনল।

বিদ্যা চেয়ে দেখলো অভি ওকে টান দিয়েছে। বিদ্যা কিছু বলতেই অভি টাক্সি ডাইভারকে বলল,’ ও যাবেনা। আপনি চলে যান।”

-” দাদা থামেন, আমি যাব। অভি ছাড়ো আমায়।”

অভি কোন কথা না বলে বিদ্যার হাত শক্ত করে ধরে থাকে। এদিকে বিদ্যা ছটপট করছে হাত ছাড়ানোর জন্য। অভি ভালো হচ্ছেনা কিন্তু ছাড়ো আমায়, ছাড়ো বলছি!

-” সেটা দেখা যাবে। তোকে আজ আর ছাড়ছিনা।”

-“ভাই মেয়েটাকে ছাড়েন। ওমন করছেন কেন!”

টাক্সি ডাইভারের কথায় অভি রেগে গিয়ে বলল,” বউ রাগ করেছে তাই তাকে মানাচ্ছি। ফের যদি ২য় বার বিরক্ত করতে দেখি তাহলে আপনি নিজেতো নিরুদ্দেশ হবেনই সাথে এই টাক্সিটাও হারাবেন। তাই কোন কথা না বলে চুপচাপ যেই দিক দিয়ে এসেছেন সেই দিকে চলে যান।”

অভির কথা শুনে টাক্সি ডাইভার কোন কথা না বলে ভয়ে গাড়িটা এক টান দিয়েই সেখান থেকে পগাঢ় পার হল।

বিদ্যা অভির দিকে কঠোর দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। মনে হয় ওর চোখের দৃষ্টি দিয়েই অভিকে ভষ্ম করে ফেলবে। বিদ্যা চিৎকার দিয়ে বলল,” আমার পিছে কেন লেগেছ? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি! কেন আমাকে বার বার আঘাত করছো?”

আঘাত তো এখনো শুরুই করিনি তার আগেই এত অভিযোগ! কেন ঐ ছেলেদের সাথে ক্লোজ হতে গেলি! কার হুকুমে ওদের সাথে মিশতে গিয়েছিস? আমি কি তোকে হুকুম দিয়েছি?

একদম অপুদার মত কথাবার্তা। ওহ্ গড আমি পাগল হয়ে যাব। এ আমার অতীত খুব ভালো করেই জানে। নিশ্চয় বড় কোন প্লান করে এসেছে যাতে আমি ওর পাতা ফাঁদে পা দেই। না না কখনো না। আমি এখনো এত দুর্বল হইনি যে ওর পাতা ফাঁদে পা দিব। বিদ্যা মাথা ঠান্ডা করে বলল,” দেখ, আমার অতীত নিয়ে টানাটানি করবে না। আমাকে কঠিন হতে বাধ্য করোনা।”

-” আমি বলছি, তুই কার হুকুম নিয়ে ওদের সাথে মিশতে গিয়েছিস! তোর মনে কি একটুও ভয় নেই আমার জন্য! তুই জানিসনা আমি কি করতে পারি?”

ওহ্ নো এসব কি হচ্ছে। অভি কেন অপুদার মত আচরন করছে। ছোটবেলায় একবার অপুদাকে না বলে বাহিরে গিয়ে একদল ছেলের সাথে প্রচুর মারামারি করেছিলাম। সবাই মিলে দাদাকে নালিশ করেছিল। সেদিন রাগে আমি রুমের অনেক জিনিস ভেঙ্গেছিলাম। যার কারনে দাদা রেগে গিয়ে চিৎকার করে আমাকে এভাবেই এই কথাগুলোই বলেছিল। তারপর আমি তর্ক করাতে দাদা নিজেকে চেক দিতে না পেরে সেদিন আমাকে অনেকগুলো ঠাস ঠাস করে চড় মেরেছিল। আজ অভিও সেই একই ভাষা প্রয়োগ করছে। অহ্ গড আমি আর নিতে পারছিনা এসব। কে ও!

বিদ্যার কোন রেসপন্স না পেয়ে অভি আরো রেগে গেল। বিদ্যার দুটো বাহু শক্ত করে ধরে বিদ্যাকে ঝাঁকিয়ে বলল,” কেন গিয়েছিলি ওদের কাছে! তুইতো জানিস আমি তোর জন্য কতটা সময় ধরে অপেক্ষা করছি তবুও তুই এমন কাজ করিস কিভাবে? তোর কি বিবেক নেই! না তোর বিবেকটাই মরে গেছে।”

-“অভি মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ। আমাকে তুই লাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করার তুমি কে?”

-” ফক্ ইউ রাসকেল..! তোকে তুই করে বলবোনা তে কি ফুল দিয়ে পূজা করবো? তুই পূজা পাওয়ার মত কোন কাজ করে এসেছিস? বিয়াদপ মেয়ে কোথাকার! আমি তোর গায়ে হাত দিলে তোর সতিত্ব চলে যায় আর বাসে এবং এখানে তোকে যে পুরুষগুলো স্পর্শ করলো তার বেলায় তোর সতিত্ব, তোর সম্মান নষ্ট হয়নি? না তোর সতিত্বও শেষ করেছিস?”

-” অভি! কথা সংযত করো। আমার সতিত্বর সার্টিফিকেট তোমাকে দেখানোর প্রয়োজন নেই। আর ওরা আমাকে ছুয়েছে, বেশ করেছে। আরো ছুবে এবং তোমার চোখের সামনে ছুবে। দেখি তুমি কি করতে পারো।”

বিদ্যার কথা শেষ না হতেই অভি এসে বিদ্যার গলা শক্ত করে চেঁপে ধরলো। কি বললি! আর একবার বল, তোর জ্বীভ টেনে আমি ছিড়বো। বেশি বেড়ে গেছিস তাই না? প্রয়োজনে তোকে শেষ করে তোর স্মৃতি নিয়ে সারাজিবন কাটাবো কিন্তু এই বেহাপানা আমি অভি কখনো সইবো না। বুঝেছিস…? আমার মনে কষ্ট দিয়ে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরবি আর আমি সেটা বসে বসে দেখবো? কখনো না।

অভি আমার লাগছে, আমায় ছাড়ো বলতেই অভি বিদ্যার গলা ছেড়ে দেয়। বিদ্যা কাঁশি দিতে দিতে বলল, “সেটা আমিও দেখবো, কি করতে পারো তুমি আমার সাথে। আমি আর হাটতে পারবোনা। পায়ে ব্যাথা করছে। জলদি কোন টাক্সি আনো।”

-“হুমহ্,,,,,,,, তুই কি ভেবেছিস তোর শাস্তি শেষ! আজ যা করেছিস মন তো চায় তোকে এখুনি মাটিতে পুতে ফেলি। কেবল তো শাস্তি শুরু। বাসায় তো যাব আমরা কিন্তু কোন টাক্সিতে না পায়ে হেঁটে যাব। চল হাট…..

-” কিহ্ আমি হেটে যাব! তাও এই অবস্থায়। কক্ষনও না,
আমি পারবোনা।”

-” পারবিনা মানে! তুই পারবিনা তোর বাপ পারবে। বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০.৩০ পর্যন্ত আমাকে দাড় করে রাখার এটাই শাস্তি। অভি কোন কিছু এমনি এমনি নেয়না। সাথে দ্বিগুনও দেয়।”

-” খবরদার বাপ তুলে কথা বলবানা। আমি পারবোনা মানে পারবোনা।”

অভি পিছন ফিরে বিদ্যার দিকে এমন করে চাইলো যেটা দেখে বিদ্যা সুড় সুড় করে হাটতে লাগলো। আজ যেন বিদ্যা অভির কাছে নিতান্তই তুচ্ছ একটা শিকার।
এই রাতের বেলায় বিদ্যা অভির সাথে আর তর্কে জরালোনা। মনে মনে রাগ পুষে রাখলো। এই রাগ অভির উপর যে কি প্রভাব পড়বে সেটা শুধু ঈশ্বরই ভালো জানে।

অভি আগে আগে চলছে আর বিদ্যা পিছনে। অভি ব্যাপারটা খুব ইনজয় করছে। মুচকি হেসে আরো দ্রুত পা চালালো।

বিদ্যা লক্ষ্য করলো অভি বেশ দ্রুতই চলতে শুরু করেছে। অনেক দুরে গেছে। এই রাস্তাটা বিদ্যা চিনতে পারছেনা। একদম নির্জন রাস্তা। এমন রাস্তা বিদ্যা কখনো দেখেনি। রোডলাইট জ্বলছে তবুও খুব থমথমে একটা রাস্তা। রাস্তার দু’ধারে মাঝাড়ি ধরনের আম গাছ। গাছের চাপাচাপি দাড়িয়ে থাকা দেখে মনে হচ্ছে রাস্তার দু’পাশে আমাজান বন। বিদ্যা সামনের দিকে চয়ে দেখে অভি নেই। অভিকে দেখতে না পেয়ে বিদ্যা প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল। অভি,,,, অভি বলে ডেকে উঠলো বিদ্যা কিন্তু অভির কোন সাড়া পেলনা।

বিদ্যা অনুভব করলো পিছনে কেউ আসছে। চট করে পিছন দিকে চেয়ে দেখলো কেউ নেই। শরীর দিয়ে যেন হিম বাতাস বয়ে গেল। অভি……..! কোথায় তুমি বলেই জোড়ে একটা চিৎকার দিল বিদ্যা। কিন্তু অভিকে আর খুঁজে পায়না বিদ্যা।

অভি রাস্তায় হাটছিল। ও ভেবেছে বিদ্যা হয়ত ওর পিছু পিছু আসছে। কিন্তু বিদ্যাতো চুপ করে থাকার মত মেয়ে নয়। অভি চট করেই পিছন ফিরে দেখলো, বিদ্যা নেই। অজানা ভয় এসে চেঁপে ধরল অভিকে। বিদ্যা বলেই অভি পিছন দিকে দৌড় দিল। অনেক খুঁজল কিন্তু বিদ্যাকে পেলোনা। মনে হচ্ছে কোন এক অদৃশ্য শক্তি অভিকে মায়ার ভিতর আবদ্ধ করে বিদ্যার কাছ থেকে আলাদা করে দিয়েছে।
আমি এত বড় ভূল করলাম কিভাবে বলেই অভি রাস্তায় জোড়ে একটা লাথি বসিয়ে দিল। এখন আমি ওকে কিভাবে খুঁজবো। কেন পাগলামি করতে গিয়েছিলাম। অ……ভি ফোকাস কর অভি ফোকাস কর। তোর আশে পাশেই বিদ্যা আছে কিন্তু কোন শক্তি প্রয়োগের ফলে তুই বিদ্যাকে দেখতে পারছিসনা। একটু মাথা ঠান্ডা করে ভাব।

এদিকে বিদ্যা জুতা জোড়া পা থেকে খুলে হাতে নিয়ে পিছনে আর না তাকিয়ে অন্য হাতে শাড়ী উচু করে ধরেই সামনের দিকে প্রান পনে দৌড়াতে লাগল। বিদ্যা ওর শ্বাস ফেলার শব্দ অবদি শুনতে পাচ্ছে কিন্তু সেই নিঃশ্বাসের সাথে আরও একটা অদ্ভুদ শব্দ এসে যোগ হল। গড়গড় শব্দ এসে বিদ্যার ব্রেনে আঘাত করছে। এতে বিদ্যার কান বেয়ে রক্তের ফোয়ারা ছুটতে লাগল। বিদ্যা ওখানেই দাড়িয়ে পড়ে পিছন দিকে তাকাতেই, ওর নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে গেল। তিনটা মানুষ, যাদের শুধু দু’টি চোখ রয়েছে। নাক, মুখ কিছু নেই। চোখ দু’টিও পৃৎ বর্নের। না আছে চোখের ভ্রু না আছে চোখের পাতা। মানুষ গুলো পা দিয়ে হাটছেনা। বুকের উপর ভর করে দ্রুত গতিতে বিদ্যার দিকে এগিয়ে আসছে। এই দৃশ্য দেখে বিদ্যা অভি বলে এত জোড়ে চিৎকার দিল যে, সেই চিৎকারে সামনে থাকা মানুষরুপী প্রানী গুলো থেমে গেল। বিদ্যা এবার গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড় লাগালো। প্রানীগুলোও একে অপরের দিকে চেয়ে আবার ছুটল বিদ্যার পিছু পিছু।

বিদ্যার চিৎকারময় কন্ঠ অভির কান অবদি এসে পৌছালো। অভি ওখানেই থেমে গেল। অভি চট করে পিচ ঢালা রাস্তার উপরই আসন পেতে বসলো। অভি চোখ বন্ধ করে হাত দু’টি প্রসারিত করল এবং মন্ত্র পড়া শুরু করলো। অভি হাত দিয়ে সামনের দিকে শূন্যর উপর আঘাত করতেই অদৃশ্য দেয়ালগুলো ভেঙ্গে যেতে লাগল। যত দেয়াল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ততই বিদ্যার গলার আওয়াজ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল অভি। এভাবে এক এক করে মোট ১৪ টা অদৃশ্য দেয়াল নষ্ট হয়ে যেতেই অভি চোখ খুলল। অভি দেখল একটা মানবি প্রানপনে তার দিকেই ছুটে আসছে। এ যে অভির বিদ্যা। অভি সাথে সাথে বসা থেকে উঠে দাড়ালো।

বিদ্যাও অভিকে দেখে যেন প্রান ফিরে পেল। বিদ্যা এক দৌড়ে অভির কাছে এসে দাড়ালো। অভি আমায় ছেড়ে তুমি কোথায় গিয়েছিলে! আমি প্রচন্ড ভয় পেয়েছি অভি। ওরা আমাকে ছাড়বেনা বলেই ছোট বাচ্চাদের মত কাঁদতে লাগলো বিদ্যা। বিদ্যার শ্বাস ধ্বনি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে অভি।

আমি আছিতো বিদ্যা। আমি থাকতে তোমার ভয় কিসের বলে অভি সামনের দিকে চেয়ে দেখে আটটা কুকুর খুড়াতে খুড়াতে এসে অভির কাছ থেকে কয়েক হাত দুরে দাড়িয়ে পড়েছে। অভি রাগী লুক নিয়ে ওদের দিকে তাকাতেই অভির দু,চোখ ধপ করে জ্বলে উঠলো। কুকুরগুলো ভয় পেয়ে ছিচড়ে ছিচড়ে গাছের উপর উঠে গেল। কিন্তু গাছের আড়াল থেকে শত শত ঘোমটা দেওয়া মহিলা বের হয়ে ওদের অবস্থান নিল।

[] চলবে………[]

বিদ্রঃ শুধুমাত্র আমার কলিজার টুকরো পাঠকদের জন্য ইনশাল্লাহ্ আগামীকাল থেকে রেগুলার গল্প আসছে।

সরাসরি ওয়েবসাইট এ পড়ুন: https://nafisarkolom.com/2020/10/sidur-suddhi-14/

………………………………..
লেখিকা, নাফিসা মুনতাহা পরী
———————————
© কপিরাইট: উক্ত কন্টেন্টটি লেখিকার সম্পদ। লেখিকার নাম এবং পেজ এর ঠিকানা না দিয়ে কপি করে নিজের নামে চালিয়ে অন্য কোথাও পোষ্ট করা আইনত দন্ডনীয়।
———————————-
আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট: https://www.facebook.com/nafisa.muntah

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here