সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ৪

0
144

#সিঁদুরশুদ্ধি #নাফিসামুনতাহাপরী #পর্বঃ৪

.

সিমল গাছটা বিদ্যাকে ধাওয়া করে। সিমল গাছ ওর শিকড় দিয়ে বিদ্যার শরীরে আঘাত করল। কিন্তু সেটা বিদ্যার শরীর ভেদ করে চলে গেল। যতবার বিদ্যাকে শিকড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরার চেষ্টা করে ততই বারই গাছটি ব্যার্থ হয়।

বিদ্যা প্রচন্ড মজা পায় গাছটিকে হয়রানি করতে। বিদ্যা এক দৌড়ে ডিমগুলোর কাছে গেল। একটা একটা করে ডিম তুলে ওর জামার কোছায় নিল। পাঁচটা ডিম নিয়ে সিমল গাছকে ভেদ করে বাহিরে চলে আসল।

এবার বিদ্যা ওর মুখ খুলল, হাজার বছর যেমন তুই ঘুমিয়ে ছিলি ঠিক তেমন ভাবে আর কিছুক্ষন পর তুই আবার ঘুমিয়ে পড়বি। যখন বামন গোত্রের জ্বীনগুলো এই বামনকে খুঁজতে আসবে তখন তোর শরীরে এই বামনকে দেখে তারা ভাবতে বাধ্য হবে, তুই তাকে হত্যা করেছিস। আমি এক ঢিলে হাজার পাখি মারতে ভালোবাসি। একটাই সুযোগ, একটাই অস্ত্র আর শিকার,,, হাজার জন বলেই একহাতে শূন্যতে ইশারা করতেই সমস্ত সাদা পেন্সিল গুলো এসে সিমল গাছে বেঁধে গেল। সিমল গাছ যন্ত্রনায় গগন বিদারী একটা চিৎকার করে স্থির হয়ে গেল।

এতবছর তুই বন্দী ছিলি। ঈশ্বরের কৃপায় মুক্তি পেলি কিন্তু তোর হিংস্রতা ভুললি না। তাই তুই আবার সেই জায়গায় শাস্তি স্বরুপ ফিরে গেলি। যে যেমন কর্ম করিবে সে তেমন ফল ভোগ করবে। কথাগুলো বলে বিদ্যা ওর অপুর কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।

বিদ্যা চলে যেতেই আধাভাঙ্গা ডিমটি এসে শূন্যতে ভাঁসতে লাগলো। তারপর হঠাৎ ভয়ানক শব্দে ফেটে যায়। সেখান থেকে উজ্জ্বল রশ্মি উদয় হল। তারপর দু’ভাগ হয়ে একভাগ সাপের সাথে মিশে গেল আর অন্য ভাগ নারী অবয়কের সাথে মিলিত হল। সাথে সাথে সাপ ও নারী অবয়ক অদৃশ্য হয়ে গেল।

অপু গভীর ঘুমে মগ্ন। একটা গঙ্গানী শব্দ পেয়ে অপুর ঘুম ভেঙ্গে গেল। আপু চোখ মেলে এদিক ওদিক চাইলো কিন্তু কাউকে দেখতে পেলনা। বিছানায় বিদ্যাও নেই। বিদ্যা,,, বিদ্যা বলে কয়েকবার ডাক দিল কিন্তু বিদ্যার কোন রেসপন্স নেই।

অপু বিছানা ছেড়ে উঠে রুমে লাইট জ্বালালো। জানালা দিয়ে জল এসে রুম ভিজে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে দিয়ে পাশ ফিরতেই দেখে ভিজা গায়ে বিদ্যা দাড়িয়ে আছে। অপু ভালো করে ওকে দেখল। ঠান্ডায় বিদ্যা চুপসে গেছে।

”’বিদ্যা, তোর কোছায় ওগুলো কি! এত রাতে কই গিয়েছিলি?”

বিদ্যা অপুর দিকে চেয়েই আছে। কি বলবে ভাবতে পারছেনা। ছোট মাথায় আর কত বুদ্ধি থাকবে?
”’দাদা, তোমার লাইটটা ভেঙ্গে গেছে।”’

“‘কোথায় গিয়েছিলি! আর কিভাবে ওটা ভাঙ্গল?”‘

বিদ্যার নিজেরও মনে নেই সে কোথায় গিয়েছিল বা ওর গা ভিজা কেন? ওর শুধু মনে আছে ও জানালার কাছে দাড়িয়ে ছিল।

অপু এসে ওর জামার কোছা চেক করে দেখল কিছুই নেই। কিছু নেই যখন তাহলে এমন করে জামা ধরে আছিস কেন?

“‘দাদা, আমার গায়ে এত জল কেন?”‘

অপু নিজেও বুঝতে পারছেনা, মাঝে মাঝে বিদ্যা কেন এমন আচরন করছে। অপু বিদ্যার সব কাপড় বদলে দিয়ে বলল,” কাল আমি বাহিরে যাব, তুই এই রুম থেকে বের হবিনা। ”

” আমাকেও নিয়ে যাওনা দাদা! আমার এখানে একা ভালো লাগেনা।”

” আমি যাব আর আসবো। বেশি দেরি করবোনা তো?”

বিদ্যা আর কোন কথা না বলে অপুকে জড়িয়ে ধরে চুপ করে রইল। ইদানিং অপুর গায়ের গন্ধ বিদ্যার খুব ভালো লাগে।

অপু বিদ্যাকে আর কোন কিছু জিঙ্গাসা করেনি। কারন অপু বুঝতে পেরেছে কিছুতো একটা ঘটছে ওর অজান্তেই।
অপুর আর ঘুম ধরলোনা। বিদ্যা ঘুমাতেই অপু বিছানা থেকে উঠে টেবিলে বসে ডায়রী লিখতে শুরু করলো। অপু প্রতিদিন ডায়রী লিখে। ওর সুখ-দুঃখ সব কিছু লেখা থাকে ডায়রীর প্রতিটা পাতায় পাতায়।

পরদিন সকালে অপু ওর মেজো জেঠুকে নিয়ে শহরের ভিতরে চলে গেল। বিদ্যার ঘুম ভেঙ্গে দেখে অপু নেই। দাদা, দাদা বলে কয়েকবার ডাকলো কিন্তু অপুর সাড়া পেলনা। পুরো রুম অন্ধকার। বিদ্যা বিছানা ছেড়ে উঠতেই দেখে ওর বিছানায় পাঁচটা সাদা ধবধবে ডিম। সেই ডিমের উপর সোনালি নকশা করা। অন্ধকার রুমে সেগুলো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে।

বিদ্যা খানিকটা ভয় পেয়ে গেল। এবার ডিমগুলো পুরো খাটে ছুটাছুটি করতে লাগল। বিদ্যা খুব মজা পেল। খুঁশিতে সব ডিম ধরতে গেল কিন্তু একটা ডিমও ধরতে পারলোনা। অবশেষে বিদ্যা ক্লান্ত হয়ে বিছানার এক কোনায় মন ভার করে বসে রইল।

ডিমগুলো ছোটাছুটি বন্ধ করে সবাই শূন্যতে ভাসতে লাগল। তারপর এক এক করে সবাই বিদ্যার কাছে হাজির হল।

এবার বিদ্যা একটা ডিম খপ করে ধরে ফেলতেই বাঁকি চারটা ডিম এসে বিদ্যার গালে ওদের শরীর ঘঁষতে লাগল। বিদ্যা যেন এক মূহুত্ত্বেই খেলার সাথী পেল। এমন সময় কাজের মেয়ে বিউলি দরজা খুলে বৌদি বলে ডেকে উঠলো।

বিদ্যা চমকে উঠে পিছন দিকে ফিরে বিউলির দিকে চাইলো। তারপর ডিমগুলোর দিকে চাইতেই দেখল সেগুলো নেই। কোথায় গেল বলতেই বিউলি বলল,” কি খুঁজছো বৌদি?”

” ও বিউলি দিদি! তুমি আমাকে বৌদি বল কেন! আমি তো বিদ্যা।”

” সম্পর্কে তুমি আমার বৌদিই হও। অপু দাদার সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে না? তাই তুমি আমার বৌদি। অনেক কথা হয়েছে, এবার চল খাবার খাবে।”

” আমি আর ওগুলো খাবার খাইতে পারবোনা। তোমাদের বাসায় মাছ, মাংস কিছুই রান্না হয়না। আমি মাংস খাবো।”

বিউলি চট করে বিদ্যার মুখ চিপে ধরে বলল,” বৌদি যা বলেছ বলছ, আর ঐ কথা মুখেও তোল না। বড়মা যদি কথা শুনে তাহলে কেলেঙ্কারি বেঁধে যাবে। এই বাড়িতে আমিষ মুখে তোলাও পাপ।”

বিউলির কথা শুনে বিদ্যা কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। সুড় সুড় করে বিউলির পিছন পিছন খাবার ঘরে চলে গেল।
খাবার ঘরে এসে দেখে সবাই তাদের খাবার শেষ করে উঠে গেছে। বিদ্যা মুখ ভার করে বসে আছে। বিউলি খাবার বেড়ে দিয়ে বলল,” আমি খাবার খেয়ে দেয় বৌদি?”

“আমি খাবোনা দিদি, দাদা এলে খাবো।”

“দাদাবাবু তো সেই সন্ধ্যায় আসবে। এখন খেয়ে নাও”

এমন সময় অনুরাধা কই থেকে জানি একবাটি মুরগির মাংস এনে বিদ্যার সামনে দিয়ে বলল,” তুই নাকি মাংস পছন্দ করিস, তাই লুকিয়ে তোর জন্য এটা আনিয়েছি।”

বিদ্যা অনুরাধার মিষ্টি কথায় ভুলবার পাত্রী নয়। সেদিন ও বিদ্যাকে খুব মেরেছিল। তাই বিউলির শাড়ীর আঁচল চিপে ধরল।

বিউলি নিজেও ভয় পেয়ে গেল। দিদিমণি আপনি কি বলছেন? বড় মা যদি জানতে পারে তাহলে বৌদিকে আস্ত রাখবেনা।

কেউ জানবেনা, বিদ্যা খেয়ে নে বলে অনুরাধা রুম থেকে বের হয়ে গেল। কিন্তু বিদ্যা ভুলেও ঐ বাটি ছুলনা।

অনুরাধা এসে অপুর মাকে বলল,” বড় জেঠি দেখে আসলাম বিদ্যা মুরগির মাংস খাচ্ছে।”

কিহ্ আমার বাড়িতে আমিষ তুলেছে? ওর সাহস হল কোথা থেকে আমার বাড়িতে আমিষ খাওয়া? অঞ্জনা গলা ফেটে চিৎকার দিতে দিতে রান্না ঘরে এসে দেখল, বিদ্যার সামনে মুরগির মাংস। অঞ্জনা নাকে কাপড় দিয়ে রক্ষ কণ্ঠে বলল,” ও আমিষ কই থেকে পাইলো রে বিউলি?”

বিউলি কেবল অনুরাধার নাম নিবে এমন সময় মালতী এসে দাড়াতেই বিউলি চুপ হয়ে গেল।

বিদ্যা ভয়ে বিউলিকে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু অঞ্জনা দেবীর দয়া হলনা বিদ্যার উপর। বিদ্যার প্রতি জমিয়ে থাকা এতদিনের রাগ ঝাড়ার সুযোগও পেয়ে গেল। এর মধ্য অপু বাসায় নেই। সব দিক থেকেই আজ সুযোগ রয়েছে। বিদ্যার হাত ধরে বাহিরে এনে ইচ্ছা মত বিদ্যাকে শাসালো। মরার যম বাড়ি থেকে চলেও যায়না। মরেওনা রাস্তাও ছাড়েনা। কবে যে সামনের আমবশ্যা আসবে তারপর এর থেকে রেহাই পাবো।

বিদ্যা অপুর মায়ের হাতে কামড় বসিয়ে দিল।অঞ্জনা আউমাউ করে চিল্লে উঠেই বিদ্যার হাত ছেড়ে দিল। এই সুযোগে বিদ্যা এক দৌড়ে উপরে যেতেই অনুরাধা ওকে ধরে ফেলল।
ঐ তোর সাহস কি করে হয়, বড় জেঠির হাতে কামড় দেওয়া?

মালতী বেত নিয়ে এসে বিদ্যার পিঠ বরাবর একটা জোড়ে বাড়ি মারল। অসভ্য, বিয়াদপ মেয়ে। দিদিকে কামড় দেওয়া! তোর দাঁত আজকে ভেঙ্গেই ফেলবো।

বিদ্যা কাটা মুরগির মত ছটপটাতে লাগল। অনুরাধা ঐ অবস্থায় বিদ্যার একহাত ধরে আছে। মালতি এসে এবার আর একটা চড়ও বসিয়ে দিল বিদ্যার গালে।

বিউলি সহ আরো দুটা কাজের মেয়ে এসে অনুরাধার কাছ থেকে বিদ্যাকে জোড় করে ছেড়ে নিয়ে বলল,” আপনারা কি শুরু করেছেন? শুধু আপনাদের ছেলের জন্য ওতটুকু মেয়ে পরদেশে এসে রয়েছে আর আপনারা মিলে তাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছেন? ধর্মে সইবেনা।”

বিদ্যা ছাড়া পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। বিছানায় বসে ফিকরে ফিকরে কাঁদতে লাগলো। অপু দাদা কই তুমি? আমি এখানে আর থাকবোনা। সবাই শুধু আমায় মারে।

এমন সময় বিদ্যার ফ্রগ ধরে কেউ যেন টানছে। বিদ্যা হচকিয়ে উঠল। কান্না বন্ধ করে দিয়ে দরজা খুলে বের হয়ে যাবে এমন সময় রুমের এক অন্ধকার জায়গায় দেখল, সেই পাঁচটা ডিম শূন্যতে গোল হয়ে ঘুরছে।

বিদ্যা দরজা না খুলে সেই অন্ধকারের দিকে এগিয়ে গেল। বিদ্যা ওদের কাছে যেতেই ডিমগুলো স্থির হয়ে গেল। বিদ্যা একটা ডিমে হাত দিতেই ও ঙ্গান হারিয়ে ফেলে। বিদ্যার শরীর তখন মাটিয়ে না পড়ে গিয়ে ওদের মতই শূন্যতে ভাঁসতে লাগলো। সাথে সাথে শট শট করে বিশাল বিশাল জানালাগুলো এক এক করে বন্ধ হতে লাগলো।

জানালা বন্ধ হওয়ার শব্দ নিচে অবদি গেল। কি হল! অঞ্জনা দেবী দৌড়ে অপুর রুমে আসতেই শব্দ যেন বাড়তেই লাগলো। বিদ্যা, বিদ্যা বলে দরজা ধাক্কাতে লাগলো। কিন্তু বিদ্যার কোন রেসপন্স পেলোনা। অঞ্জনা ভয় পেয়ে গেল। একে একে বাসার সবাই চলে এল। রুমের ভিতর যেন শব্দ বেড়েই চলল। বাসায় কোন পুরুষ মানুষ নেই। সবাই বাহিরে গেছে। সবাই মিলে দরজা ধাক্কাতে লাগল কিন্তু বিদ্যার দরজা খোলার নাম নেই। আর জমিদার আমলের দরজা। সেটা ভাঙ্গা সম্ভবও নয়।

এদিকে চারটা উজ্জ্বল ডিম গিয়ে খাটের চারদিকে অবস্থান নিতেই খাট শূণ্যতে ভাসতে ভাসতে বিদ্যার কাছে আসতেই বিদ্যা ঙ্গান হারানো অবস্থায় সেখানে অবস্থান নেয়। বিদ্যা সহ খাটটি এক কোনার দিকে গিয়ে স্থির হয়ে রইল ভাঁসা অবস্থায়। মনে হচ্ছে বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে।

পুরো রুম অন্ধকার। দুটা উজ্জ্বল ডিম বিদ্যার কাছে রইল বাঁকি তিনটা বিদ্যাকে আগলে দাড়ালো।

এমন সময় রুমে শা শা শব্দে প্রবেশ করলো সেই মহিলা, যার পুরো শরীর রক্তের মত লাল টুকটুকে আর চোখ, নাক, মুখ কালো কিশকিশে। সে এসেই চিৎকার করে বলল,” ওটা আমার জিনিস, একটা নিদিষ্ট সময়ে ওর প্রান আমি হরন করবো। তাই আমার পথে যারা বাঁধা দিবে তাদেরই আজ ভক্ষন করবো।

শক্তি থাকলে তুই বিদ্যা মা কে ছুয়ে দেখা বলেই ওর সামনে একটা উজ্জ্বল ডিম এসে দাড়ালো।

দুইদিন ওর কাছে থাকতেই ও তোদের মা হয়ে গেল? আমার পথ থেকে সরে যা। তানাহলে তোদের পৃথিবীতে আসার কোন পথই খোলা রাখবোনা। সারা জিবন ঐ ডিম হয়েই থাকবি।

এবার বাঁকি চারটা ডিম এসে যোগদান করলো। সবাই একসাথে চিৎকার দিয়ে বলল,” হে নারীরুপী শয়তান, তোর যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে সেই ক্ষমতা দেখা। আমরাও আমাদের ক্ষমতা আজ তোকে দেখাবো। আমাদের মাকে শুধু ছুয়ে দেখা।”

নারীরুপী শয়তান মহিলা আর থাকার সুযোগ পেলনা। কারন তার আগেই ঐ পাঁচজন তাদের কারিশমা দেখাতে শুরু করে দিয়েছে। রুমের ভিতর প্রকান্ড অগ্নিকুন্ড জ্বলে উঠল। হয় এখান থেকে চলে যা, না হয় নিজের প্রান বির্সজন দে বলতেই ঐ শয়তান মহিলা চলে গেল।

বিদ্যা সহ খাট নিচে নেমে আগের অবস্থানে ফিরে গেল। পাঁচটা ডিম বিদ্যাকে পাহাড়া দিতে লাগল।

পুরো দিন বিদ্যা রুম থেকে আর বের হয়নি। বাসার সবাই ভয়ে ভয়ে আছে। অপু আসলে তাকে কি জবাব দিবে?

সন্ধ্যার পর যখন অপু সহ বাসার সব পুরুষ আসলো তখন অঞ্জনা রঘুনাথ কে ডেকে সব কিছু খুলে বলল। অপু ততক্ষনে ওর রুমের কাছে দাড়িয়ে দেখল ওর রুমের দরজা বন্ধ।

রুমের দরজা বন্ধ কেন থাকবে? রুমের ভিতর কে আছে। বিদ্যা তো কখনো এমন কাজ করবেনা। অপু ওখান থেকেই ওর মাকে ডাক দিল।

অঞ্জনার আর সাহস হলনা অপুর সামনে দাড়াতে। তাই স্বামীকেই অপুর কাছে পাঠিয়ে দিল।

রঘুনাথ বাবু এসে অপুকে বলল,” অপু মাথা গরম করিসনা বাবা, বিদ্যা নাকি সেই সকাল থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আর খোলেনি। তুই একটু ডেকে দেখতো! খোলে কি না?”

বাবার কথাটা অপুর আর হজম হলনা। নিশ্চয় কেউ বিদ্যাকে কিছু বলেছে , না হলে বিদ্যা এমন কাজ কখনো করবেনা। মাকে এক্ষুনি ডাকো, বিদ্যার সাথে কে কি করেছে বলে অপু পাগলের মত বিদ্যাকে ডাকতে লাগল।
বিদ্যা দরজা খোল। আমি তোর অপু দাদা দরজা খোল বিদ্যা।

কিন্তু নাহ্ বিদ্যা দরজা খোলেনা।

বাবা আজ যদি বিদ্যার কিছু হয় তাহলে সব কিছু ধংস করে ফেলব। আমি যেদিন ওকে বাসায় রেখে যাবো সেদিনই ওর সাথে কিছু না কিছু কান্ড ঘটিয়েই ছাড়ে? সবাই পাইছেটা কি? ও তো নিজ ইচ্ছায় এখানে আসেনি তাহলে কেন সব কিছু ওকেই সহ্য করতে হবে!

দেখ যা হবার তা হয়ে গেছে। এনিয়ে আর কথা বাড়াস না। দেখ ও দরজা খোলে কিনা? না হলে মানুষ ডেকে দরজা ভাঙ্গতে হবে।

অপুর সামনে আর কেউ ভয়ে আসলো না। অপু প্রানপনে দরজা ধাক্কিয়েই চলছে। বিদ্যা, বিদ্যা দরজা খোল। তোর জন্য কত কি নিয়ে আসছি, দেখবিনা তুই? দরজা খোল………

যখন কোন কিছুতেই কিছু হলোনা তখন অপু বিউলিকে জোড়ে জোড়ে ডাকল। বিউলি ভয়ে ভয়ে কাছে আসতেই অপু বলল ,” এখুনি গিয়ে কুড়ালটা আন। দরজা ভাঙ্গতে হবে।”

বিদ্যা গভীর ঘুমে মগ্ন। সব উজ্জ্বল ডিম গুলো বিদ্যার বালিশের নিচে গিয়ে অবস্থান নিল আর সাথে সাথে সব জানালা খুলে গেল। বিদ্যারও ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাহিরে অপুর গলা শুনে বিদ্যা বিছানা ছেড়েই দৌড়ে দরজার কাছে যেতেই দরজা আপনা-আপনি খুলে গেল।

বিদ্যাকে দেখে অপুর প্রান যেন ফিরে পেল। বিদ্যাকে জড়িয়ে ধরেই অপু বলল,” এতক্ষন লাগে দরজা খুলতে? কি করছিলি রুমের ভিতর?”

দাদা আগের তোমার মা, জেঠি আর অনু দিদির বিচার করবে। আজ ওরা আবার আমায় মেরেছে বলেই কাঁদতে লাগল বিদ্যা

দেখছিস, কতবড় মিথ্যা কথা বলে অতটুকু মেয়ে! ঐ কখন তোর গায়ে হাত তুলেছি আমরা হ্যা! জোড় গলায় বলে উঠলো মালতী। আমার কথা বিশ্বাস না হলে সবাইকে জিঙ্গাসা করে দেখ অপু!

কাকী, বিদ্যা মিথ্যা কথা বলে না। তাই আমাকে কিচ্ছা কাহিনী শুনাতে এসোনা। এমন যদি তোমরা ওর সাথে ব্যবহার করো তাহলে আমি ওকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাব বলে বিদ্যাকে নিয়ে রুমে ঢুকলো অপু।

অপু রুমে এসে সব জানালা বন্ধ করে দিয়ে বলল,” কে কে তোকে মেরেছে রে?”

আমি তোমার মায়ের হাতে কামড় দিয়েছি বলে সব কিছু খুলে বলল বিদ্যা। আমি এখানে আর থাকবোনা দাদা। সবাই শুধু শুধু আমাকে মারে বলেই ফিকরে কেঁদে উঠলো বিদ্যা।

আমি তো তোকে ভালোবাসি। সেদিন মা নিতে এল, তাহলে কেন গেলিনা? চলে গেলেই তো আর এত মার খাইতে হতোনা।

বিদ্যা কোন কথার জবাব না দিয়ে কেঁদেই চলছে।

অপু ওকে কোলে নিয়ে বাহিরে গেল। তারপর নিজ হাতে খাবার খাইয়ে দিয়ে কারো সাথে কথা না বলে আবার রুমে চলে আসলো। খাটে বসিয়ে দিয়ে অনেক গুলো জিনিস বের করে অপু ওকে দেখালো।

বিদ্যা সব কিছু ছুড়ে ফেলে অপুকে জড়িয়ে ধরে বলল,” আমি বাড়ি যাবো দাদা।”

অপু বিদ্যাকে বুকে নিয়ে চুপ করে রইলো। কি পরীক্ষায় ফেলল ঈশ্বর তাকে। কোন দিকে যাবে সে!

গভীর রাত অপু বিদ্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। বিদ্যার বালিশ থেকে তিনটা উজ্জ্বল ডিম বের হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

অঞ্জনা দেবীর নাম ধরে কেউ ডাকছে। অঞ্জনা চোখ খুলেই দেখে ও রান্না ঘরে সুয়ে আছে। একটা মোমবাতির আলো টিম টিম করে জ্বলছে। পাশে অনুরাধা আর ওর মা মালতীও সুয়ে আছে। অঞ্জনা তাদের ডেকে বলল,” কিরে আমরা এখানে কেন?”

ওরা দুজনেও অবাক হয়ে গেল। তারা তিনজনে এখানে কেন? নিজেদের রুমে তো সুয়েছিল তাহলে এখানে কেন?

এই কথাগুলো ভাবতে দেরী কিন্তু ওদের পিঠে বেতের বাড়ি পড়তে আর দেরি হলোনা। তিনজনেই চিৎকার দিয়ে উঠলো। সামনে তিনটা লাঠি শূন্যতে ভাঁসছে। বিদ্যার শরীরে যেমন করে আঘাত পড়েছে তার শতগুন আঘাত ঐ তিনজনের শরীরে এক সাথে পড়তে লাগলো………

[] চলবে…..[]

বিদ্রঃ দুঃখিত আজ পোষ্ট দিতে একটু দেরী হয়ে গেল। আশা করি সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

………………………………..
লেখিকা,
নাফিসা মুনতাহা পরী
———————————
© কপিরাইট: উক্ত কন্টেন্টটি লেখিকার সম্পদ। লেখিকার নাম এবং পেজ এর ঠিকানা না দিয়ে কপি করে নিজের নামে চালিয়ে অন্য কোথাও পোষ্ট করা আইনত দন্ডনীয়।
———————————-

পার্রসোনাল ফেইসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/nafisa.muntaha.73
ওয়েবসাইট: https://nafisarkolom.blogspot.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here