সিঁদুর শুদ্ধি #নাফিসা মুনতাহা পরী #পর্বঃ৩৯

0
126

#সিঁদুর শুদ্ধি
#নাফিসা মুনতাহা পরী
#পর্বঃ৩৯
.

আজ তুই আর আমার বাঁধন থেকে কোন ভাবেই নিজেকে মুক্তি করতে পারবিনা। বউ তোর কিন্তু বাসর আমার। কথাগুলো বলেই ঋষি বিদ্যাকে ডাকলো,

—” হেই মাই সুইট হার্ট, কাম ব্যাক।”

বিদ্যার কাছ থেকে অভি ছিটকে পড়াতে বিদ্যা দু’হাতে থাইয়ে কাঁচে জোড়ে জোড়ে ধাক্কা দিতে লাগলো। অভি, অভি তোমার কি হল? তুমি ওমন করছো কেন?

অভির সামনে একটা কাচের কারুকার্যময় বোতল দৃশ্যমান হলো। সেই কাঁচের বোতল থেকে আলোর রশ্মি যেন ঠিকরে পড়ছে। সেই আলোর রশ্মির প্রভাবে অভির সমস্ত কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পেয়ে চলছে। অভি আর নাড়াচাড়া করতে পারলোনা।

এমন সময় ঋষি আবার জোড়ে ডেকে উঠলো,

—” বিদ্যা, আমি এখানে। আসো এদিকে!”

বিদ্যা পিছন ফিরে দেখে অভি দাড়িয়ে আছে। অভি, বলেই আবার ব্যালকোনির দিকে চেয়ে দেখলো অভি নেই। বিদ্যা ওর হাতের আঙ্গুল উচু করে ঝিমুতে ঝিমুতে বলল,

—” আবার দু’টো অভি! তাহলে আমার অভি কোনটা।”

ঋষি বিদ্যার কাছে এসে ওর হাত ধরে বলল,

—” তুমি দু’টো অভি কোথায় দেখতে পেলে! আমি তো এখানে?”

বিদ্যার শরীর আস্তে আস্তে খারাপ হতে লাগলো। সমস্ত বুদ্ধি যেন ভোতা হতে লাগলো। তবুও মনের উপর জোড় খাটিয়ে বলল,

—” তুমি, তুমি অভি হতে পারোনা। অভিতো কাঁচের ওপার ছিলো। তু…তু..মি কে?”

যেমন হাবি চালাক তেমন তার ওয়াইফও চালাক। শরীরের ভিতর কামুকতা উপচে পড়ছে তবুও আসল অভিকে খোঁজার জন্য সে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মনে মনে কথাগুলো বলে ঋষি আবার মুখে হাঁসি ফুটিয়ে বলল,

—” জান কি পাগলামি শুরু করেছ! আমিই তো অভি।”

ঋষি বিদ্যার গায়ে হাত দিতেই বিদ্যা ঋষির হাত ঝিটকানি দিয়ে বলল,

—” তুমি কি সত্যিই অভি?”

হুম বলে ঋষি বাজে ভাবে বিদ্যার কোমড়ে হাত ছুয়াতেই বিদ্যা ঠাশ্ করে ঋষির গালে থাপ্পড় মেরে বলল,

—” তখন একটা কিসি চাইছি কিন্তু আমায় দাওনি। এখন এসে আদর দেখাতে এসেছ? সরে যাও এখান থেকে।”

বিদ্যার চড় খেয়ে ঋষি অত্যান্ত রেগে গিয়ে বিদ্যাকে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় মেরে বলল,

—” তোকে অনেক সহ্য করেছি। আর না, আজ তোকে শেষ করেই ছাড়বো। তুই ঋষি সান্যালের গায়ে হাত দিস? আমার গায়ে হাত তুলে কত বড় অপরাধ করেছিস তা আমি হারে হারে আজ তোকে বোঝাব। আমার গায়ে হাত তোলা?”

বিদ্যার গালে চড় পড়তেই বিদ্যা ফ্লোরে পড়ে গেল। বিদ্যা সাথে সাথে রেগে উঠে বলল,

—” তুমি আমার গায়ে হাত তুললে! তুমি কিন্তু বড্ড বাড়াবাড়ি করছো অভি।”

ঋষি বিদ্যাকে ফ্লোর থেকে টেনে তুলে বলল,

—” বাড়াবাড়ির দেখেছিস কি! আমার কথা না শুনলে তোর হাল এতটাই খারপ করবো যে, তুই নিজে নিজেকে দেখে ভয় পেয়ে যাবি।”

ঋষি বিদ্যার চুল ধরে বেডের কাছে নিয়ে গিয়েই বিদ্যাকে বেডে ফেলে দিয়ে ওর শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলল,

—” আজ তোর করুন আর্তচিৎকার আর আমার শরীরের উল্লাস। তোকে আমি মারতে চাইনি। কিন্তু তুই না মরলে কোনদিনও তুই আমার বসে আসবিনা। তাই তোকে আমি এভাবেই যন্ত্রনা দিয়ে মারবো।”

বিদ্যা বিছানা থেকে আর উঠতে পারলোনা। আবেশে শরীর ভেঙ্গে পড়েছে। শুধু মুখ দিয়ে একটা কথায় বলল,

—” অভি, তুমি বড্ড নোংরা।”

কথাগুলে বলেই বিদ্যা সেন্স হারিয়ে ফেলে। ঋষিও সাথে সাথে বিদ্যার শরীর ঝাকিয়ে বলল,

—” এই তোর কি হল! তুই জেগে না থাকলে কি মজা আসবে! ওঠ…..!”

অভি ব্যালকুনিতে থেকে সব কিছু নিজের চোখে দেখছে অসহায় ভাবে। অভি অনেক কষ্টে শুধু একবার বিদ্যা বলে ডাক দিল।

অভির মুখ থেকে বিদ্যার না উচ্চারিত হতেই বোতলের ভিতর থেকে অবয়বটি নড়ে উঠলো। অবয়বটি ছটপট করতে করতে কাচের সাথে লেপ্টে গিয়ে অভিকে দেখতে লাগলো। হালকা সোনালী চুল, নীল চোখদুটির দিকে খুব ভালো করে তাকালো। অবয়বটি এবার থেমে গেল। ফিসফিস গলায় একবার শুধু উচ্চারন করলো, অপু……!
তারপর বোতল থেকে আলোকরশ্মি বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। সাথে সাথে অভি মুক্ত হয়ে গেল। কিন্তু বোতলের গায়ে আগুন ধরে গেল। হয়ত বিপরীত ক্রিয়ার ফলে অবয়বের শরীরে আগুন ধরে গেছে। অভি দ্রুত বোতলের আগুন নিভানোর চেষ্টা করে কিন্তু আগুন নিভাতে পারেনা। অভি বোতলটি হাতে নিয়েই কাঁচ ভেদ করে রুমে প্রবেশ করলো। তারপর ঋষির ঘাড় ধরে ওকে ছুড়ে ফেলে বিদ্যার হাত ধরতেই, বিদ্যার শরীর দিয়ে এক ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করলো। যার প্রভাবে বোতলের আগুন ততক্ষনাৎ নিভে গেল। আর কাঁচের ভিতর অবয়বটি মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে রইলো।

অভি বিদ্যাকে টেনে তুলে জড়িয়ে ধরলো বুকের ভিতর। তারপর পাগলের মত কিস করতে করতে কলল,

—” স্যরি বিদ্যা, শুধু আমার ভুলের জন্য এতকিছু হয়ে গেল। আমাকে ক্ষমা করে দাও।”

বিদ্যার জ্ঞান নেই। বিদ্যা বার বার নেতিয়ে পড়ছে অভির বুক থেকে। তবুও অভি ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। এদিকে ঋষি ফ্লোর থেকে উঠেই বলল,

—” তুই কিভাবে মুক্তি পেলি! তোর তো মুক্তি পাওয়ার কথা না?”

ঋষির কথায় অভি রাগে যেন ফেটে পড়লো। অন্যর সাহার্য্য নিয়ে আমার মোকাবিলা করতে আসিস! আজতো তুই শেষ। বিদ্যাকে বিছানায় রেখে অভি উঠতেই ঐ বোতলটা বিদ্যার উপর পড়ে গেল। সাথে সাথে বোতলের অবয়বটি লাফিয়ে উঠেই অদৃশ্য হয়ে যায়। আর অভি গিয়ে ঋষি গলা চেঁপে ধরে শূন্যতে তুলে বলল,

—” বাঘের গুহাতে এসে বাঘকেই শিকার করতে চাস। আমি বলিনি! তোর যোগ্যতা নেই আমার শরীর ছোয়া? তারপর কেন এলি আমাদের মাঝে? আজ যতগুলো আঘাত তুই বিদ্যাকে করেছিস, ততগুলো আমি তোর শরীর টুকরো টুকরো করে ফেলব।”

ঋষি অনেক শক্তি প্রয়োগ করে কিন্তু অভির সাথে পেরে ওঠেনা। ও বুঝে গেছে, এখানে এসে সে কতবড় ভুল করেছে। কিন্তু অনেক দেরি করে ফেলেছে সে। আজ সে নিজেই অভির শিকার হয়ে গেছে। অভিও আর সময় নষ্ট না করে ঋষিকে এক নিমিষেই চিরে দু অর্ধেক করে ফেলে। আমাদের মাঝে যখন এসেই গিয়েছিস তাহলে, তোর বাঁচার আর কোন অধিকার নেই। যতগুলো আঘাত বিদ্যাকে করেছে, ততগুলোই ওকে টুকরো করে ফেলল অভি। পুরো রুমে রক্তের ছিটাছিটি। অভির পুরো শরীর রক্তে লাল হয়ে গেছে। অভি সবকিছু সমাপ্ত করতেই ওর পুরো শরীরের আগুন জ্বলে উঠলো। তারপর ওর শরীর থেকে আগুনগুলো বের হয়ে ঘূর্নপাকের মত পুরো রুমে ছড়িয়ে পড়লো। সেই আগুনে ঋষির শরীর সহ সমস্ত রক্ত ভষ্ম হয়ে গেল। এখন সব কিছু আবার আগের মত হয়ে গেছে।

অভি দ্রুত বিদ্যার কাছে এসে বিদ্যাকে ঝাঁকিয়ে ডাকতে লাগলো। বিদ্যা একবার চোখ মেলালেও পরেরবার আর মেলাতে পারলোনা। সমস্ত শরীরের ভার অভির উপর ছেড়ে দিয়ে ঢলে পড়লো। বিদ্যার গালে ঋষির আঘাতের চিহ্ন এখনো রয়েছে। ঋষি বিদ্যাকে বান মেরেছে যাতে ও সহজেই বিদ্যার সংস্পর্শ লাভ করতে পারে।
অভি বিদ্যাকে দ্রুত ওয়াসরুমে নিয়ে গেল। তারপর সাওয়ার ছেড়ে দিল। এমনিতে শীতের মৌসুম আসছে তার ভিতর জমানো ঠান্ডা পানির স্পর্শে বিদ্যা বার বার কেঁপে উঠলো। অভি ঐ পানিতে হাত ছোয়াতেই বরফ গলা আরো ঠান্ডা পানি পড়তে লাগলো। বিদ্যা ধীরে ধীরে ফ্রীজে পরিনত হল। ওর পুরো শরীর বরফে আচ্ছাদিত হয়ে গেল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার ঘটলো এর মধ্য। বিদ্যার শরীর দিয়ে লাল সিঁদুর রঙ্গা পানি বের হতে লাগলো। বিদ্যার শরীর বান মুক্ত হতেই বরফ গুলো অদৃশ্য হয়ে গেল।

অভি বিদ্যাকে রুমে এনে ওর কাপড় চেঞ্জ করে বিছানায় সুয়ে দিয়ে কম্বোল চেঁপে দিল ওর শরীরে। বিদ্যাতো ঠকঠক করে কেঁপেই চলছে। ততক্ষনে বিদ্যার সেন্স ফিরে গেছে। অভি বিদ্যার গালে হাত ছোয়াতেই ব্যাথায় ওর গাল টনটন করে উঠলো। আহ্ বলেই ফুঁফিয়ে কাঁদতে লাগলো বিদ্যা। অভি বুঝতে পারলো ওর কষ্ট হচ্ছে তাই হাত নামিয়ে নিল। কিন্তু অভির স্পর্শ ছাড়া ওর শরীর কখনো ঠিক হবেনা। তাই অভি বিদ্যার কম্বলের মধ্য ঢুকে বিদ্যার শরীরে টার্চ করতে বিদ্যা ঘৃনায় অভির দিকে থেকে মুখ ঘুড়িয়ে নিয়ে আরো জোড়ে কাঁদতে লাগলো। কাঁদতে কাঁদতে বিদ্যা নাকের ডগা একদম ডালিমের মত লাল হয়ে গেছে। অভির মন চাচ্ছে এখুনি ডালিমটা খেয়ে ফেলতে। কিন্তু সেটা অন্তত আজ সম্ভব নয়।

অভি বিদ্যা কে নিজের বক্ষে আবদ্ধ করতেই বিদ্যা নড়ে-চড়ে উঠলো। তারপর কান্না কন্ঠে বলে উঠলো,

—” আমাকে এত মেরে আবার আদর করতে আসছো! তোমার আদর আমার প্রয়োজন নেই।”

বিদ্যা অভিকে ভিতর থেকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু অভি ওকে এতটা জোড়ে জড়িয়ে ধরে আছে যে, অভিকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। অভি বেচারাও বলতে পারছেনা, বিদ্যাকে সে আঘাত করেনি। যে করেছে সে অভি রুপী ঋষি ছিল। সেই কথা বলাও সম্ভব নয়। অনেক কষ্টে বিদ্যাকে ওর কাছে পেয়েছে। এখন এমন কোন কথা বলা যাবেনা যাতে বিদ্যা অভির কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে যায়।

অভি বিদ্যার কপালে একটা কিস করে আদুরে গলায় বলে উঠলো,

—” স্যরি বউ, আমার রাগ উঠে গিয়েছিল তাই নিজেকে কন্টোল করতে পারিনি। এমন কাজ আমি দ্বিতীয় বার আর করবোনা। স্যরি স্যরি স্যরি, আর এমন হবেনা। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি। প্লিজ আর কেঁদোনা।”

বিদ্যা আর কিছু না বলে অভির বুকে মুখ গুজে ফোপাতে লাগলো। অভিও আর কিছু বলতে পারলোনা। যা হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে হয়েছে। কিন্তু ঐ বোতলটি কোথায় গেল। ওখানে কি ছিল? আমাকে সে অপু বলে ডাকছিল মানে সে অপুকে চিনতো। এত শক্তি তার? যার শক্তির সামনে আমার শক্তি দাড়াতেই পারছিলোনা। এটা কি করে সম্ভব। অভি কথাগুলো চিন্তা চিন্তুা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো।

অনেক রাতে সাজিত বাসায় ফিরেছিল। তাই এত বেলা হলো তবুও ওর ঘুম ভাঙ্গলো না। এই প্রথম সে শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে একসাথে ঘুমায়নি।

মিতু ভয়ে ভয়ে ওর বাবার রুমের দরজা খুলে একটু উঁকি দিল। দেখলো, বাবা এখনো ঘুমাচ্ছে। মনে অনেক সাহস সঞ্চয় করে রুমের ভিতর ঢুকতেই সাজিত চোখ মেলে দেখলো, মিতু রুমে ঢুকেছে। তুমি কি কিছু বলবে আমায়!

বাবার কথা শুনে মিতু ভড়কে গেল। অনেকটা ভয় পেয়ে বলল,

—” বাবা, তুমি কখন ঘুম থেকে উঠেছ!”

সাজিত মিতুকে কাছে ডাকতেই মিতু ধীর পায়ে এসে বাবার পাশে বসল। সাজিত মিতুর গায়ে কোম্বল দিয়ে বলল,

—” কিছু বলতে চাও মা?”

মিতু ওর বাবার কথা শুনে ঢোক চিপে বলল,

—” বাবা, বিদ্যা দিদিকে পেয়েছ?”

সাজিত মিতুর দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে চেয়ে আছে। যা দেখে মিতুর খুব ভয় লাগছে।কারন গতকাল সে তার বাবাকে অন্য এক রুপে দেখেছে। তাই বাবার জন্য তার এখন বড্ড ভয় করে।
মিতুর কথায় সাজিত চোখ নামিয়ে মুখটা মলিন করে বলল,

—” না মা, তাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু পেলামনা। সে হয়ত আমাদের কাছ থেকে এবার সত্যিই হারিয়ে গেছে।”

বাবার কথার মাঝে মিতু ফোড়ন কেটে বলল,

—” বাবা, মাকে ক্ষমা করা যায়না? মাতো বলেছে, সে এমন কাজ কোনদিনও করবেনা। তাহলে তাকে ক্ষমা করছোনা কেন? আর তাছাড়া আমরা তোমাদের দু’জন কাউকে একসাথে পাবোনা ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।”

সাজিত তার মেয়ের হাতের উপর নিজের হাত রেখে বলল,

—” মা, মনে করো। তোমার বাবাকে তমালের বাবা হত্যা করার প্লান করেছে। বা ধর সে আমাকে মার্ডার করেছে, তাহলে তুমি তাকে কেমন চোখে দেখবে?”

মিতু ওর বাবার কথা শুনে হচকিয়ে ওঠে। না না এ কখনো হয়না। তমালের বাবা কেন তোমায় মারতে যাবে? এটা হয়না।

—” মনে করো, যদি তার দ্বারা এমন কাজ হয়ে যায় তাহলে তুমি তোমার জায়গা থেকে কি করতে?”

মিতু কোন দ্বিধা ছাড়াই বলে ফেলল,

—” তাহলে তাকে হত্যা করবো আমি।”

আমি যদি বলি! তোমার মা আমার তেমনই একটা প্রিয় মানুষকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এখন তোমার মায়ের সাথে আমার কি করা উচিত? আমার জায়গায় তুমি থাকলে কি করতা?

বাবার কথা শুনে মিতু মাথা নিচু করে বলল,

—” আলতা বা বিদ্যা দিদি আমাদের পরিবারের কেউ নয়। তারা যদি আমাদের পরিবারের কেউ না হয়ে থাকে তাহলে তারা তোমার প্রিয় জিনিস কিভাবে হয়?”

সাজিত মিতুর কথায় চুপ করে রইলো। কারন সে তার মেয়েকে কিভাবে বলবে, বিদ্যা এই বাসারই সন্তান। সেই আমাদের পর নয়। বরং সে তোমাদের বড় দিদি হয়। কিন্তু কথাগুলো সাজিত আর প্রকাশ না করে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে চুপ করে রইলো। সাজিতের চোখ দিয়ে টপ করে জল পড়ে জানান দিল সে এখন কাঁদছে। সাজিতের মন, দেহ অপরাধের অনলে জ্বলে পুরে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে। সে কাউকে তার কষ্টগুলো বুঝাতে পারছেনা। সে বৃন্দার সাথে অন্যায় করেছে কিন্তু তার শেষ স্মৃতি বিদ্যাকেও আগলে ধরে রাখতে পারেনি। একটা পিতার জন্য এটা কতটা ব্যার্থতা সেটা শুধু ঐ পিতাই জানে।

মিতু ওর বাবাকে ঝাকিয়ে বলল,

—” বাবা, প্লিজ আমাদের মাকে আমাদের কাছে থেকে কেড়ে নিওনা। আমরা মা ছাড়া অসহায়। তাকে আমাদের খুব প্রয়োজন। তাকে ছাড়া আমরা অচল।”

আজ সাজিত আরও একবার হেরে গেল তার মেয়ের কাছে। মেয়ের কথার আবদার রাখতে গিয়ে বলল,

—” আমি ভেবে দেখবো মা!”

মিতু তার বাবার কথা শুনে অনেক খুঁশি হল। খুশির ঠেলায় বাবার চোখে মুখে কয়েকটা চুমা খেয়ে বেড থেকে একলাফে নেমে চিৎকার দিয়ে বলল,

—” ইয়াহু, মা আমাদের কাছ থেকে কোথাও যাচ্ছেনা। সে আমাদের কাছেই থাকবে।”

মিতুর উল্লাসে সাজিত কিছুটা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ওর দিকে চেয়ে রইলো। হয়তোবা এই মেয়েগুলোর মুখের দিকে চেয়ে সে বিদ্যাকে ভুলতে বাধ্য হবে। এটাই নিয়ম। মা মারা যাওয়ার পর বাবা আর আপন থাকেনা। সেও পর হয়।

সন্ধ্যা ৫.১৫ মিনিট,

বিদ্যা শাড়ী পড়ার ট্রাই করছে কিন্তু মনের মত করে পড়তে পারছেনা। বিদ্যা শাড়ী পড়তে পারেনা এই নয়, বরং সে সুন্দর করেই শাড়ী পড়তে পারে। এদিকে মিসেস. পারুল এসে বার বার বিদ্যাকে বলছে, তাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদ্যা একবার শাড়ী পড়ছে আবার খুলে ফেলছে। শেষে বিদ্যার এহেন কান্ডে অভি বেশ বিরক্ত হল। এমনি পুরো দিন অভির সাথে একটা কথাও বলেনি বিদ্যা। তার মধ্য তাকে হ্যারেজ করার জন্য দেখছি বিদ্যা উঠে পড়ে লেগেছে। শেষে অভি বলল,

—” আন্টি, আপনারা চলে যান। আমি ওকে নিয়ে ঠিক সময়ে পৌছে যাব।”

মি. জাফর অভির দিকে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ চেয়ে বলল,

—” তাহলেতো বাবা আমাদের জন্য ভালো হয়। ওরা ওখান থেকে আমাদের তাড়া দিচ্ছি। তোমরা আস্তে-সুস্থে আসো। আমরা তাহলে যাই।”

ওকে আঙ্কেল যান বলে অভি আবার রুমে এসে দেখলো, বিদ্যা আবার শাড়ী খুলে নতুন করে পড়ছে। অভি কিছুটা রাগী স্বরে বলল,

—” এক শাড়ী কয়বার খুললা তুমি? আমার সাথে বাসর করবে! তারজন্য আমার সামনে বারবার শাড়ী খোলার ভান ধরছো?”

অভির কথা শুনে বিদ্যা এবার শাড়ী ফ্লোরে ছুড়ে মেরে বলল,

—” শাড়ী ঠিক মত পড়া না হলে আমি কি করবো? আর হ্যাঁ, তোমাকে বলেছিনা! তুমি আমার সাথে কথা বলবেনা! তাহলে, আবার কেন কথা বলছো?”

অভি ফ্লোর থেকে শাড়ী তুলে নিয়ে আলমারী থেকে অন্য একটা শাড়ী বের করে বিদ্যার হাতে দিয়ে বলল,

—” কাল রাতের ঘটনা কাল শেষ হয়েছে। আজ সেই বিষয়ে আর একটাও কথা শুনতে চাইনা। আর আমার কাছে যখন এসেছ তখন আমাকে মানিয়ে নিয়েই তোমাকে চলতে হবে।”

বিদ্যা আর কোন কথা না বলে শাড়ী পড়ে রেডী হতেই অভি ওর হাত ধরে টেনে বাহিরে নিয়ে গেল। তারপর সামনে চেয়ে যা দেখলো, তাতে বিদ্যার চোখ আকাশ ছুইলো। সামনে BMW X5 7. Black Sapphire Metallic color একটা গাড়ী। বিদ্যা সাথে সাথে অভির দিকে চেয়ে চোখ ঘুড়িয়ে বলল,

—” কি ব্যাপার, এই এত দামী গাড়ী তুমি কই পাইলা?”

অভি বিদ্যার দিকে মুখ তুলে সাথে সাথে বলল,

—” চুরি করেছি।”

কিহ্ তুমি চুরি করছো! বাহ্ বাহ্ বিদ্যা স্বামী একটা চোর! বিদ্যা এবার অভির হাত ঝিটকানি দিয়ে বাসার ভিতর ঢুকতে ঢুকতে বলল,

—” আন্টিকে বলে দাও আমি যাচ্ছিনা। আর যাই হোক চোরের সাথে আমি কোথাও যাচ্ছিনা।”

বিদ্যার কথা শুনে অভির ভিমড়ি খাওয়ার অবস্থা। অভি নিজেকে সামলিয়ে উচ্চ স্বরে বলল,

—” আমি চোর! তোমার কি মনে হয় আমি চোর?”

বিদ্যা দরজা খুলে থেমে গেল অভির কথায়। তারপর পিছন ফিরে ওর দিকে চেয়ে বলল,

—” হুম, তুমিতো চোরই। এই না বললে তুমি একটা চোর?”

বিদ্যা আর দেরী না করে রুমের ভিতর চলে গেল। অভি বিদ্যার চলে যাওয়া দেখে ঠাই হয়ে দাড়িয়ে থাকলো। অভি ভাল করেই জানে, আজ বিদ্যাকে আর অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আন্টিকে ফোন দিয়ে না করে মনে একরাশ রাগ নিয়ে বাসার ভিতর চলে গেল। কিন্তু অভি রুমে এসে মুগ্ধতায় ডুবে গেল। এক নিমিষেই সমস্ত রাগ শেষ হয়ে গেল।

বিদ্যা শাড়ী খুলে ব্লাউজ চেঞ্জ করছিলো। খোলা ফর্সা পিঠে ঘন কালো কোকড়ানো চুল যেন দোল খাচ্ছিল। অভি দরজা বন্ধ করে দিয়েই বিদ্যার দিকে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে রইলো। অভি বিদ্যার নেশায় মত্ত হয়ে গেছে। একপা-দুপা করে এগিয়ে গিয়ে বিদ্যার উন্মুক্ত পিঠে একটা কিস করতেই বিদ্যা চমকে উঠলো। বিদ্যা সাথে সাথে অভির দিকে ঘুরে ফিরতেই ওর হাত থেকে ড্রেস পড়ে গেল। দু’হাতে নিজেকে ঢাকতে ব্যার্থ হল বিদ্যা। কারন তার আগেই অভি বিদ্যার হাত শক্ত করে ধরে ফেলল যাতে বিদ্যা নিজেকে ঢাকতে না পারে। অভি বিদ্যার রুপের সুধা পান করছে এক দৃষ্টিতে চেয়ে।

—“অভি ছাড়ো, কি হচ্ছে এসব! তুমি নক করে কেন রুমে আসোনি! আর এখন এসে আমার সাথে এমন ব্যবহার করছো? ছেড়ে দাও আমায়।”

অভি বিদ্যাকে আয়নার কাছে টেনে নিয়ে গেল। তারপর বিদ্যাকে ঘুড়িয়ে বিদ্যার ঘাড়ে কয়েকটা কিস করে আয়নার দিকে চেয়ে বলল,

—” বউ আমার, ঘর আমার, সব কিছুই আমার। তাই তোমার উপর একমাত্র আমারই অধিকার রয়েছে।”

বিদ্যা আর কথা বলতে পারেনা। অভিকে মিছে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টে করে। কিন্তু অভি আজ কোন বাহানা শুনতে চায়না। বিদ্যা অভির উপযুক্ত হয়ে গেছে। তাই কোন সমস্যা আর হবেনা। অভি এই মুহুত্ত্বটা নষ্ট করতে চাইছেনা। অভি একটা সুখ কামড় বসিয়ে দেয় বিদ্যার শরীরে। এতদিনের না পাওয়া ক্ষোভ যেন আজই উসুল করতে চায় তার প্রিয়তমার কাছ থেকে। শরীরের প্রতিটা অংশে ঠোটের ছোয়ায় মেতে তোলে বিদ্যাকে। গতরাতে না পাওয়া সুখ আজ সে পেতে চায়।

অভির আদর গভীর থেকে গভীরতর হয়ে যায়। নিঃশ্বাসের গাঢ়তা বেড়েই চলে। অভি বিদ্যার কানে ফিসফিসিয়ে বলে, খুব ভালোবাসি তোমায়। তোমাকে ছাড়া আমি নামক অস্তিত্বটাই অচল।

অভির কথা বিদ্যার কানে যায়না। সে এখন ব্যস্ত অভির ভালোবাসা আদায় করতে। বিদ্যার চিৎকার দিতে মন চাচ্ছে। সবাইকে জানিয়ে দিতে চাচ্ছে, অপেক্ষার ফল বড়ই মিষ্ট হয়। এই ফলের মত সুস্বাধু ফল পৃথিবীতে আর একটিও নেই। দীর্ঘ ২৫টা বছরের অবসান ঘটিয়ে বিদ্যা অভির ভালোবাসার সাগরে পুরোপুরি ডুবে গেল। অভিও উজার করে দিল তার সমস্ত ভালোবাসা বিদ্যার কাছে। সুখের আবেশে বিদ্যার দু’চোখ দিয়ে কয়েকফোটা জল পরে গেল গাল বেয়ে। আজ বিদ্যার আর অভির ভালোবাসার পরিপূর্নতা পেল। তাদের মন এক হয়ে গেল। তাদের আজ অপেক্ষামান কষ্টের অবসান ঘটলো। অভি বিদ্যার মধ্য হারিয়ে গেল।

[ চলবে……]

বিদ্রঃ কিছু সমস্যার জন্য পরের পর্ব আগামী ২১ তারিখে দেওয়া হবে। এই ক’টা দিনের সময়টা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব কথা পাবলিক প্লেসে বলা যায়না। কিছু কিছু কথা অফ লাইনে থাকে। আমি বাধ্য হয়েই ডিসিশন নিয়েছি, এই সাতদিন আর গল্প দেওয়া হবেনা। কোন মানুষের জিবনই নির্ভেজাল নয়। প্রতিটা মানুষের সমস্যা রয়েছে। তাই মনে করেন আমারও তেমনই সমস্যা রয়েছে। আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন। এই কটাদিন নেট দুনিয়ার সাথে আপাতত সম্পর্ক বন্ধ রইলো।

আর একটা কথা, এই সাতদিনে আমার গ্রুপে যে যত পারবেন গল্প সম্পর্কে রিভিউ দিবেন। সেটা ভালো হোক কিংবা খারাপ। প্রতিটা গল্প বা প্রতিটা গল্পের পর্বেরও রিভিউ দিতে পারেন। কোন জিনিসটা আপনার কাছে ভালো লাগলো আর কোনটা খারাপ লাগলো সব কিছু লিখবেন।
আপনাদের মধ্য সর্বোচ্চ রিভিউ পোষ্ট দাতার নামে, আমার পরবর্তী গল্পের নায়িকার নাম নির্বাচন করা হবে। এবং গল্পটা তাকেই উৎসর্গ করা হবে।

নিচে গ্রুপের লিংক দেওয়া হলঃ
https://www.facebook.com/groups/nafisarkolom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here