সিঁদুর শুদ্ধি #নাফিসা মুনতাহা পরী #পর্বঃ৩২ .

0
290

#সিঁদুর শুদ্ধি
#নাফিসা মুনতাহা পরী
#পর্বঃ৩২
.

সন্তানের বিপদে মা কি চুপ করে বসে থাকতে পারে! আগের বার আমি অক্ষম ছিলাম তাই কিছু করতে পারিনি। কিন্ত, এবার ওকে ছুয়ে দেখা।

সুধারাম উঠে দাড়াতে গিয়েও আবার মাটিতে পড়ে গেল। পাপন দৌড়ে গিয়ে সুধারামকে ধরতে যাবে এমন সময় সুধারাম জোড়ে একটা চিৎকার দিয়ে, ধমক দিল পাপনকে। আমাকে ভেবেছিস আমি একটা সামান্য স্ত্রী লোকের কাছে হেরে যাব! সড় এখান থেকে মুখ পোড়া!

পাপন ভয়ে ভয়ে সুধারামের কাছ থেকে সরে এল। পাপন সরতে না সরতেই দেবকী চড়াও হল সুধারামের উপর। সুধারামকে সুযোগ না দিয়ে চোখের পলকেই ওর কাছে গিয়ে হাজির হল দেবকী। তারপর চয়াল শক্ত করে বলল,

—” তোকে তো আমার কাছেই মাথা নত করতে হবে। তুই তোর নোংরা মন মানুষিকতা নিয়ে আমার ছেলের ক্ষতি করতে এসেছিস? তোকে কি আমি এমনি এমনি ছেড়ে দিব! ”

সুধারাম চট করে চোখ বন্ধ করে আবার দেবকীর দিকে চাইতেই ওর চোখ দিয়ে ধুয়া বের হতে লাগলো। সাথে সাথে নিজের নিরাপত্তার জন্য দেবকী দুরে সটকে গেল। তারপর দু’হাত প্রসারিত করে বলল,

—” এই তোরা কে কোথায় আছিস, ওকে জিন্দায় জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দে।”

দেবকীর আদেশ পেয়ে ওর পোষা প্রেত শক্তিগুলো সুধারামের উপর হামলে পড়লো। একজন এসে বলল,

—” ছেলেটার ব্যবস্থা কি করবো?”

আমার সন্তানকে যারা আঘাত করবে, তাদের আর বাঁচার অধিকার নেই। এই শয়তানটাও ওর সাথে বিভিন্ন খারাপ কাজে এতদিন ধরে অংশগ্রহণ করেছিল। বড় হলে সেও একই কাজ করবে। তাই আগাছা জন্মানোর আগেই সেটা স্বমূলে উপরে ফেলতে হয়। ওটাকেও আমার চোখের সামনে থেকে সরা।

দু’জনের শরীর দাউদাউ করে জ্বলছে। দেবকী অপুর কবরের পাশে বসে ঝুপঝুপ করে কাঁদতে লাগলো। বাবা আমার, তোমার জিবন এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য তোমায় আমি ত্যাগ করিনি তো! বিষ দিয়েই সে বিষক্ষয় করেছে। আমি আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম আমার জিবন অবস্থায় আবার তোমার পূর্নজন্ম হবে। দেবকী ফিরে যায় তার অতীত জিবনে।

দেবকী তখন মাধ্যমিক দিয়েছে। বাবা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুজছিল। পাত্র পেয়েও যায়। কিন্তু দেবকী ততোদিনে মন দিয়েছে অনুরাগকে। অনুরাগ গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করা ছেলে। বাসায় যখন বিয়ের তোড়জোড় চলছিল তখন তারা সবার অজান্তে এক মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে নেয়। তারপর পালিয়ে যায় দিল্লীতে। অনুরাগের পরিবার ছিল খানদানী পরিবার। তারা বিয়েটা কিছুতেই মেনে নেয়না বলেই ওরা বাধ্য হয়ে দিল্লীতে চলে যায়। তাদের ভালয় সংসার চলছিল। কিন্তু অঘটন ঘটে ৭ মাস পরে। দেবকী তখর প্রেগন্যান্ট ছিল। অনুরাগ বাড়ি ফেরার পথে কার এক্সিডেন্টে স্পটেই ডেড হয়ে যায়। দেবকী তখন দিশেহারা হয়ে পড়ে। শশুড় বা বাবার বাসা, কোথাও তার আশ্রয় হয়না। শেষে রঘুনাথ বাবুর সাথে যোগাযোগ হয় তার। তিনি দেবকীর দায়িত্ব নেন। বাসায় জানাজানি হলে খুব সমস্যা হবে তাই তিনি কাউকে জানাননি। এমনকি নিজের স্ত্রীকেও জানাননি। কারন তার স্ত্রী ছিল তখন সন্তান সম্ভবনা। তারপর দেবকী অপুকে জন্ম দেয়। কাঁচা হলুদ ও দুধে মিশ্রিত গায়ের রং ছিল অপুর। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে দেবকী যেন নিজের সমস্ত কষ্ট ভূলে গেল। এদিকে অঞ্জনা দেবী মৃত একটা কন্যা সন্তান প্রসব করেন। তার কারনে রঘুনাথ বাবু দেবকীকে দেখতে আসতে পারেননি। কিন্তু গোপনে কথাটি অঞ্জনার বড় দাদাকে জানিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন বড় দাদাতো বাবার মত হয়। তিনি হয়ত সবকিছু সমাধান করে নিবেন। কিন্তু তিনি দেবকীর কাছে এসে প্রচুর খারাপ ব্যবহার করেন। দেবকী রাগে অভিমানে একটা নার্সকে রঘুনাথের ঠিকানা দিয়ে অপুকে তার হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। তারপর সে অাত্ত্বহত্যার করার জন্য জলে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সেখানেও কপাল খারাপ। এক বৈরাগী তাকে উদ্ধার করে। তিনি দেবকীর মুখে সব শুনে তাকে উপদেশ দিলেন, বাঁকি জিবন যেন মানুষের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেন। তারপর থেকে বৈরাগী দেবকীকে নিজের কাছে রেখে সমস্ত দিক্ষা দেন। এভাবে আস্তে আস্তে সে তন্ত্র সাধনায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। কত রাত সে নির্ঘুমে কাটিয়েছে শুধু অপু অপু করে। মনে শুধু একটায় আশা ছিল, ছেলে তার কাছে থাকলে ভবিষ্যতে কি হত তা সে জানেনা। কিন্তু রঘুনাথ বাবুর কাছে থাকলে ছেলেটা অবশ্যই মানুষ হতে পারবে। বুকে পাথর চেপে দিনের পর দিন কাটতে লাগলো তার। আর এদিকে অপুর জায়গা হয় অঞ্জনা দেবীর কোলে। রঘুনাথ বাবু অপুকে নিয়ে এসে তার স্ত্রীর কোলে দেন। তিনি অপুর পরিচয় লুকাননি। অঞ্জনাকে সব কিছু খুলেই বলেন তিনি।

তারপর অপু মারা যাওয়ার ১০ বছর পর দেবকী নিজের বাবার ভিটায় আসে। ততোদিনে ওর বাবা আর দাদা মারা গিয়েছিল। তারপর গ্রাম থেকে কিছুটা দুরে কুঠির তুলে সেখানেই জিবন যাপন করছেন তিনি। অপুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার সন্যাসী জিবনে কতটা প্রভাব পড়েছিল সেটা শুধু সেই জানে। আজ ৫০ বছর পর সে তার মৃত ছেলের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছে।

আমার আর অনুরাগ চৌধুরীর একমাত্র সন্তান তুমি। কত রাত তোমাকে ছাড়া অসহায়ের মত কেঁদে কেঁদে কাটিয়েছি। তুমি যে এই পোড়া কপালে এসেছিলে। মায়ের কোল সন্তানের জন্য সব থেকে নিরাপদ জায়গা কিন্তু আমি তোমাকে নিরাপত্তা দিতে পারিনি বাবা। কিন্তু এবার তা হতে দিবোনা। তোমার গায়ে টোকা দেওয়ার আগে আমাকে, এই দেবকীকে পার করতে হবে। আমি একজন সাধক বাবা। আমার জন্য চোখের জল ফেলা নিষেধ। সব কিছুতো নিয়ন্ত্রন করেই ফেলেছিলাম, কিন্তু তোমার ব্যাপারে আজও আমার ভিতর মা নামক জায়গাতে রক্তক্ষরণ হয়। দেবকী চোখের জল মুছে সেখানে থেকে চলে গেল।

অঞ্জনা দেবী অপেক্ষায় ছিল দেবকীর জন্য। দেবকী কুঠিরে ফিরে এলে অঞ্জনা দেবী বিচলিত হয়ে জিঙ্গেস করলো, সব ঠিক আছে?

—“জ্বী দিদি, সব ঠিক আছে। আর কোন সমস্যা হবেনা।”

দেবী, চলনা আমরা অপুকে দেখে আসি? কতদিন ওকে দেখিনা বলে ফিকরে কাঁদতে লাগলো অঞ্জনা দেবী।

দিদির মুখে দেবী নামটা শুনে চোখ ছলছল করে উঠলো দেবকীর। কত দিন ধরে এই নামে কেউ ডাকেনা তাকে। দেবকী নিজেকে সংযত করে বলল,

—” দিদি, অপু এখন অন্য মায়ের সন্তান। তার জিবন আলাদা হয়ে গেছে। আমাদের উচিত হবেনা তার জিবনে আবার অবস্থান করা। ওকে ওর মত থাকতে দাও। কত ভাগ্যশালী তার স্ত্রী যে, এক জিবনেই দুই-দুইবার তার স্বামীকে ফিরে পেয়েছে। এখন আমরা যদি সব কিছু ফাঁস করে দেই তাহলে মেয়েটার জিবনে বিপদ নেমে আসবে। তাই আমাদের উচিত চুপ করে থাকা। রিতেশ আর রনককে নিয়েই বাঁকি জিবন কাটাও। অপুর কাছে আর যেওনা দিদি।”

অঞ্জনা দেবী কিছু না বলে শুধু মাথা নিচু করে রইলো।

অভির জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষন আগে। চোখ মেলে চুপ হয়ে সুয়ে আছে। বিদ্যা যে তার স্ত্রী ছিল সেটা অভি বুঝতে পেরেছে। অভির কাছে এখন সব কিছু সহজ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অভির আরো কিছু জানতে হবে। পাশেই টুইংকেল বসে আছে।

—” আন্টি, আমি UK তে ব্যাক করছি। আপনি এখানে থাকেন আমি না ফেরা পর্যন্ত ওর খেয়াল রাখবেন। কিছু সমস্যা হলে সাথে সাথে আমায় ডাকবেন।”

—” তোমার ওয়াইফ যে জেদী মেয়ে, সে কি তোমার এত দিন অনুপস্থিতি মেনে নিবে? আমার মনে হয়না সে কখনো মেনে নিবে। তাকে বলে যাও।”

অভি চুপ করে অনেককিছু ভাবলো। তারপর বলল,

—” না আন্টি, ও রাগ করলে পরে মানিয়ে নিতে পারবো কিন্তু কেউ যদি আমার অনুপস্থিতি টের পায় তাহলে ওর উপর হামলা হতে পারে। সবাই জানুক আমি ওর কাছেই আছি।”

—“ওকে বাবা, তোমার যা মনে হয় তাই করো। কবে যাবে তুমি!’

আজই যাব বলেই অভি উঠে পড়লো। অভি ফোনটা বের করে বিদ্যাকে ম্যাসেজ করেই চলে গেল।

৮ দিন পর,

এতদিন হয়ে গেল বিদ্যা অভির কোন খোঁজ পায়নি। বাসায় গিয়ে সবাইকে পেয়েছে শুধু অভিকে পায়নি। এই ক’দিনে কয়েক হাজার বার কল দিয়েছে বিদ্যা। প্রতিবারই ফোন সুইচ অফ এসেছে। বিদ্যা রাগে অভিমানে রুমের ভিতর দরজা বন্ধ করে কেঁদে কেঁদে চোখ লাল করে ফেলেছে। আজ ৯দিন হল বিদ্যা তার জবটা ছেড়ে দিয়েছে। অভি ওকে মাসেজ করেছিল যাতে জবটা ছেড়ে দেয়। ওর সব কথা মেনেছে। এমনকি বাসা থেকে এ কদিন বাহিরে পর্যন্ত যায়নি। ছাদেও যায়নি। তার সব কথা যদি আমি মানতে পারি সে কেন আমাকে এত কষ্ট দেয়?

দেখতে দেখতে রিয়ার বিয়ের দিনও চলে এল। পাটিপত্রের মাধ্যমে সূচনা হল বিয়ের আনুষ্ঠিকতা। এদিকে কাবির অভিকে ফোন দিয়ে দিয়ে হয়রান। বিদ্যাকে কল দিয়েছিল, সেও জানেনা অভি কোথায়! শেষে অভির বাসায় গিয়ে টুইংকেল আন্টিকে বলে এসেছে, অভি যদি না আসে তাহলে সেও বিয়ে করবেনা।

বাসা ভর্তি মেহমান। সবাই এসে শুধু বিদ্যাকে দেখতে চায়। কতদিন পর সে দেশে এসেছে। এর মধ্য সাধনা দেবী বিদ্যাকে সারপ্রাইজ দিয়েছে বিদ্যার ছোটবেলার কয়েকজন ফ্রেন্ডকে এনে। কতদিন পর তাদের সাথে দেখা হল। সবাই বিয়ে করেছে। কারো কারো ২/৩ করে বাচ্চাও হয়েছে। বিদ্যার কিছুই ভালো লাগছেনা এসব। কারন অভি নেই। ওকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা।বিদ্যা সব কিছু ফেলে আবার অভির বাসায় গেল। অভির বাসার গেটের সামনে কয়েকবার গাড়ী হর্ন বাজালো তবুও দাড়োয়ান দরজা খোলেনা। বিদ্যা বিরক্ত হয়ে গেল। গাড়ী থেকে নেমেই গেটে কয়েকটা থাবা দিল। দাড়োয়ান এবার পকেট দরজা খুলে মাথাটা বের করে বলল,

—” অভিদা তো বাসায় নেই!”

—“নেই মানে, ও গেছেটা কই! আমি ওকে পাগলের মত খুজছি আর আপনাদের কাছে সেটা অহেতুক কাজ বলে মনে হচ্ছে! দরজা খুলুন……!”

বিদ্যার ধমকে দাড়োয়ান দরজা খুলে সরে দাড়ালো। বিদ্যা হন হন করে ভিতরে ঢুকে প্রথমে টইংকেল কে কথার মাধ্যমে চেঁপে ধরলো। আন্টি আমি ভালো করে জানি, অভি যেখানেই গিয়ে থাকুকনা কেন! সেটা আপনি খুব ভালো করেই জানেন। আমার কষ্ট হচ্ছে আপনি সেটা বুঝতে পারছেননা? আপনি বলুন ও কোথায়?

বিদ্যার কথা শুনে টুইংকেল মহা বিপদে পড়ে গেল। অভি নিষেধ করেছে কাউকে কিছু বলতে। এখন সে, কি বলবে বিদ্যাকে! টুইংকেল চুপ করে আছে মাথা নিচু করে।

—“নাহ্ এরা কেউ কিছু বলবেনা আমাকে। ওকে, বলতে হবেনা। অভি আসলে ওকে বলে দিবেন, ও যেন বিদ্যা নামটার সাথেই শুধু সংসার করে। কারন আমিতো তার সাথে আর সংসারই করতে চাইনা।”

—“দেখো মা, এত বিচলিত হচ্ছো কেন? ও কোন এক জরুরি কাজে বাহিরে গেছে। কাজ শেষ হলেই তো ও ফিরে আসবে।”

আমাকে বলে গেছে সে! নাহ্,,, সে আমাকে কিছুই বলে যায়নি। বলবে কেন? আমি তার কে হই? আমাকে বলার কি প্রয়োজন! আমারতো তার উপর কোন অধিকারই নেই। পৃথিবীর সব মানুষের কথার দাম আছে তার কাছে কিন্তু আমার নেই।

বিদ্যার পাগলামি দেখে, টুইংকেল এসে বিদ্যার হাত ধরে বললো,

—” মা একটু বুঝার চেষ্টা করো!”

বিদ্যা এবার ফ্লোরে বসেই কাঁদতে লাগলো। আমি এক মানুষকে আর কতবার হারাবো! আমার আর তাকে হারানোর শক্তি নেই । আমি হারতে হারতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সে কি কিছুই বোঝেনা! না, তার কি বোঝার বয়সই হয়নি! ৯ টা দিন হয়ে গেল কোন খবর নেই। আর আপনি আমাকে বলছেন চুপ থাকতে! আমি চুপ থাকতে পারবোনা।

টুইংকেল আরো কিছু বলতে যাবে, এমন সময় বিদ্যা উঠেই বলল,

—-” তাকে বলবেন, তার কোন ক্ষমা নাই।”

কথাগুলো বলে বিদ্যা বের হয়ে চলে গেল। টুইংকেল মহা চিন্তায় পরে গেল। এতো দেখছি মহা বিপদ! এত জেদি মেয়ের সাথে অভি সংসার করবে কিভাবে! এতো কিছুই শুনতে চায়না? তার কথার ঝংকারেই সব কিছু তছনছ করে দিবে। অভি তু,,,মি শেষ, বলে হাঁসতে হাঁসতে টুইংকেল উপরে চলে গেল।

বিদ্যা গাড়ি নিয়ে বের হতেই দুর থেকে ঋষি তাকে দেখলো। বিদ্যা এখানে! নিশ্চয় কোন গড়বড় হয়েছে। ওদের যত ভুল, আমাদের ততই রাস্তা পরিষ্কার। বিদ্যা, তুমি আমাকে যতগুলো মানুষিক আঘাত করেছ, তার সমস্ত কিছু আমি পাই পাই হিসাব নিব। শুধু কয়েকদিনের অপেক্ষা মাত্র। কথাগুলো বলে ঋষি ওখান থেকে চলে গেল।

সেই রাতেই রিয়ার পানখিলি অনুষ্ঠান হল। [পানখিলের অর্থ পান পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে খিল দেওয়া বা খড়কে বাঁধানো। এই আচারটি প্রথমে বরের বাড়িতে এবং পরে কনের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। পানখিল আচারে বাড়ির মেয়েরা এবং প্রতিবেশিনীরা বিয়ের গান গেয়ে থাকে। এই গানের বিষয়বস্তু হল রাম ও সীতার বিবাহ।]

পরের দিন সূর্য উদয়ের আগে রিয়ার দধিমঙ্গল আচার পালন করা হলো। তারপর বেলা বাড়তেই কাবিরদের বাসা থেকে হলুদ এল। সবাই ব্যস্ত রিয়ার গায়ে হলুদে আর বিদ্যা রুমের ভিতর দরজা বন্ধ করে কেঁদেই চলেছে। অভির উপর বিশাল অভিমানের পাল্লা বেড়েই চলছে। কখনো ১মিনিট আবার কখনো ৫-১০ মিনিট পরপর অভিকে কল করেই চলছে বিদ্যা। কিন্তু নাম্বার বন্ধই দেখাচ্ছে। শেষে কাবিরকে আবার কল দিল বিদ্যা।
কিন্তু ফোন রিসিভ করলো কনক। বিদ্যা হ্যালো বলতেই কনক কঠিন স্বরে বলল,

—” আমার দাদা আর অভিদাকে বিরক্ত করা ছাড়া তুমি দেখছি কিছুই পারোনা। আমরা সবাই ব্যস্ত আর তুমি মস্কারা করার জন্য দাদাকে কল দিয়েছ?”

এমনিতে অভিকে পাওয়া যাচ্ছেনা তার উপর কনকের প্যাঁনপ্যানানি বিদ্যাকে অতিষ্ট করে তুলল। বিদ্যা রেগে গিয়ে চোখ-মুখ শক্ত করে বলল,

—” তোমার মত হাঁটুর বয়সি মেয়ের কাছ থেকে আমাকে শিখতে হবে, কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক? ছোট মানুষ ছোটদের মতই থাকো। বড়দের মাঝে একদম কথা চালাতে আসবেনা। কাবিরকে এখুনি ফোনটা দাও।”

বিদ্যার কথা শুনে কনক চুপচাপ গিয়ে কাবিরকে ফোনটা দিল। দাদা তোর কল এসেছে।

—” কে কল দিয়েছে?”

কনক আর কিছু না বলে চলে যায়। কাবির হ্যালো বলতেই বিদ্যা ভাঙ্গা গলায় বলল,

—” কাবির, অভির সাথে কি তোমার কথা হয়েছে? আমি ওকে ফোনে অনেকবার ট্রাই করেছি। কিন্তু ওকে পাওয়া যাচ্ছেনা কাবির।”

—” বিদ্যা, তুমি কাঁদছো? কেঁদে কেঁদে দেখছি কণ্ঠস্বরই নষ্ট করে ফেলেছ।”

কাবিরের কথা শুনে বিদ্যা ফোনটা নিচে নামিয়ে বাম হাতে মুখটা চিপে ধরে কাঁদতে লাগলো। ওদিকে কাবির বিদ্যাকে ডেকেই চলছে। বিদ্যা, কি হয়েছে! এমন করছো কেন? কথা বলো আমার সাথে?”

বিদ্যা অনেক কষ্টে নিজেকে থামিয়ে, বাম হাতে চোখ দু’টো মুছে কাপা কন্ঠে বলে উঠলো,

—” অভির সাথে তোমার কথা হয়েছে?”

বাহ্ এত ভালোবাসা তার জন্য! কাঁদছো কেন, আগে সেই কথা বলো আমায় ! কি হয়েছে তোমার বলে উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো কাবির।

————————?

বিদ্যার কোন রেসপন্স না পেয়ে কাবির আবার বলে উঠলো, এত টেনশন করছো কেন? ও চলে আসবে তো। ও তো একবারে হারিয়ে যায়নি বলতেই বিদ্যা কথা কেড়ে নিয়ে বলল,

—” তোমার সময় নষ্ট করার জন্য স্যরি। আমি রাখছি।”

কাবিরকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বিদ্যা কল কেটে দিল।
মুখের উপর এমন ঠাস্ করে কেউ কল কেটে দেয়! একে মেয়ে মানুষ বলা যায়! এতো দেখছি জেদের গোডাউন। অভি, একে সামলাস কিভাবে ভাই? আমি হলেতো এর হুকুমের গোলাম হয়ে যেতাম। কিন্তু তোকে দেখছি তুই দিব্যি ওকে কষ্ট দিয়েই চলছিস। দেখ, এমন মেয়ে সবাই চায়। তার প্রচুর রাগ থাকবে কিন্তু সে তোকে পাগলের মত চাইবে। কথাগুলো বলে কাবির অভির পিঠে একটা হালকা চাপড় বসাল।

অভি অন্য কিছু বিষয় নিয়ে ভাবছিল। কাবিরের কথায় অভির অন্যমনস্ক ভাঙ্গলো। অভি শুধু একটু মুচকি হাসি দিল। তারপর বলল,

—“সাত জন্মের সম্পর্ক ওর সাথে আমার। আমার জন্য ও পাগল হবেনা তো, অন্য কারো জন্য হবে?”

—“মাঝে মাঝে কি যে বলিসনা অভি! আমি তোর কথা কিছুই বুঝতে পারিনা। তবে আজ যদি তুই না আসতি, তাহলে বিয়েটাই আমি ক্যান্সেল করে দিতাম।”

হুম, চল রেডী হয়ে নে, বিয়ে বাড়ী যেতে হবে তো? বলে উঠে চলে গেল অভি।

বিদ্যা চুপটি মেরে বসে আছে। এমন সময় সাধনা দেবী বিদ্যার রুমে এসে বলল,

—” মা, এভাবে বসে আছিস কেন? চল দেখবি, রিয়াকে ‘গাত্রহরিদ্রার’ পর ‘শঙ্খ কঙ্কন’ পরানো হচ্ছে।”

সাধনা দেবী বিদ্যাকে একপ্রকার জোড় করেই নিয়ে গেল ওদের কাছে। বিদ্যা কেবল রিয়ার কাছে গিয়ে বসবে এমন সময় রিয়ার মাসী আর মামী বলল,

—-” এই মেয়ে খবরদার তুমি ওর পাশে বসবেনা। বিধবা মেয়ে মানুষ তুমি। এমন শুভময় দিনে তোমার মুখও ওর দেখা উচিত নয়। কি ঘটতে কি ঘটে! আর মাসিমা, আপনি কেমন মানুষ বলেন তো! মেয়ে বিধবা তবুও ওকে এখানে কেন এনেছেন? আপনি জানেননা, ওকে এখানে নিয়ে আসা উচিত নয়?”

কথাগুলো বিদ্যার বুক ভেদ করে বাহির হয়ে গেল। চেষ্টা করছে চোখের জল লুকানোর কিন্তু সেটা সম্ভব হলোনা। বুকের তীব্র বাথ্যার কষ্ট, স্পষ্ট চোখের জলে দেখা মিললো। বিদ্যা আর একমুহুত্ত্বও সেখানে দেরি করলোনা।

রিয়ার মা সাথে সাথে প্রতিবাদ করে বলল,

—” দিদি কি বলছো এসব! এসব কুসংস্কার কথা বলার কোন মানে হয়?”

ভরা লোকজনের মধ্যই রিয়ার নানু ধমক দিল তার মেয়েকে। ওরাতো ঠিকি বলেছে। মান বিচার করে চলতে হয় বুঝলি! মান বিচার করতে হয়।

সাধনা দেবী একমুহুত্ত্বও সেখানে দেরী না করে চলে গেল। বাসা ভর্তি মানুষ। কাউকে কিছু বলাও যায়না। শুধু চোখ,কান,মুখ বন্ধ করে থাকতে হল সাধনা দেবীকে। বিদ্যার রুমের কাছে এসে দেখলো, ও দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যা দরজা খোল মা।

মায়ের ডাকে বিদ্যা প্রায় সাথে সাথেই দরজা খুলে দিয়ে বলল,

—-” মা আমি সাওয়ার নিব। আর শোন, আমি কারো কথায় মন খারাপ করিনা। এসব আমার সয়ে গেছে।”

কথাগুলো বলে বিদ্যা দরজা বন্ধ করে দিল। মায়ের মন, তাই সাধনা দেবী সহজে বিদ্যার কথাগুলো মেনে নিলোনা। মেয়ে যে তার কষ্ট পেয়েছে সেটা তিনি ভালোই বুঝতে পেরেছেন।

রাত ৮টার পর বরযাত্রীরা এল। কন্যার মা তার জামাতাকে একটি থালায় প্রদীপ, ধান, দুর্ব্বা ও অন্যান্য কিছু বরণ সামগ্রী নিয়ে বরণ করার জন্য অপেক্ষায় আছে। কিন্তু সমস্যা হলো গেট ধরা নিয়ে। রিয়ার বান্ধবীরা সহ সব কাজিনগুলো মোটা অংকের টাকা চেয়ে বসলো। একটা টাকা কম পড়লেও তারা গেট ছাড়তে রাজি নয়।

কাবির কথা না বাড়িয়ে পাই পাই করে সমস্ত টাকা দিয়ে দিল। কারন অভি বলেছে, ওরা যা চাইবে তাই যেন দেওয়া হয়। হাজার হোক দু’জনের একটাই শশুড় বাড়ি। ওদের একটা হক আছেনা?

এরপর বরকে বরন করে বাড়ীর ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় ও দুধ এবং মিষ্টি খাওয়ানো হয় । এদিকে অভি এখনো আসেনি। আরও ঘন্টা খানেক পরে সে আসলো। প্রথমে শর্মিষ্ঠা অভিকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। ছেলেটা এত সুন্দর কেন! তার বয়স থাকলে যে কোনো মূল্যতে অভিকে সে নিজের করে নিত। কিন্তু এখন মেয়ের যুগ এসেছে তাই মেয়ে জামাই করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

বিয়ে বাড়ী জমিয়ে উঠেছে। বিয়ে বাড়ীতে এক সমস্যা হয়। সেটা হল, সব মেয়েরায় ভারী ভারী মেকাপ করে। তাই কে বউ আর কারা শালী সেটা বোঝা বেশ মুশকিল।
এমন সময় বিদ্যা সবার মাঝে এসে ওর মেঝ বৌদির পাশে দাড়ালো। বিদ্যার পুরোটাই সাজ হোয়াইট। সাদা লেহেঙ্গা, সাদা জল চুরির মাঝখানো চাঁদির মোটা মোটা কয়েকটা বালা, চাঁদির মোটা হার, সাথে সিতাহার। কানে বড় বড় ঝুমকো, হাতে হোয়াইট স্মাটফোন। পিছনে বড় খোঁপা বাধা। পুরো খোপা জুড়ে সাদা গোলাপের আধা ফোটা কলি। সাদা হিল, সাদা নুপুর। এ যেন সাদাময় জগৎ। দুর থেকে কাবির হাতের ইশারা করে বিদ্যাকে বলল,

—-” খুব সুন্দর লাগছে।”

বিদ্যা শুধু মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে ধন্যবাদ জানালো। দুরে আয়ান দাড়িয়ে ছিল। ও দৌড়ে এসে বলল,

—-” পিসি, তোমায় হেব্বি লাগছে।”

বিদ্যা আয়ানের দিকে চেয়ে বলল,

—” আয়ান আমার জন্য ড্রিংকের ব্যবস্থা করে দিবে?”

আয়ান ফিসফিসিয়ে বলল,

—” পিসি, অভিদা তোমায় ডাকছে।”

অভি, বলেই বিদ্যা উত্তেজিত হয়ে এদিক ওদিক চাইলো। তারপর না পেয়ে হতাশা চোখে আয়ানকে বলল,

—” কোথায় অভি? তাকেতো আমি দেখছিনা!”

আরে পিসি এদিক না ওদিকে বলেই আয়ান অভিকে দেখিয়ে দিল। অভিকে দেখে বিদ্যার চোখ স্থির হয়ে গেল। সাথে সাথে বিদ্যা অন্যদিকে চাইলো। বিদ্যার মেঝ বৌদি বিদ্যার আরো কাছে এসে বলল,

—” সাদা পোষাক কেন পড়েছ বিদ্যা! ওনাদের কথায় কষ্ট পেয়েছ খুব তাইনা?”

বিদ্যা নাক টেনে বলল,

—” আমার মন খারাপ এত সহজে হয়না। আর আমিতো সবার চোখে বিধবা। তাই সাদা পোষাকই আমার যোগ্য।”

বিদ্যাকে সাদা ড্রেসে দেখে সাধনা দেবীর একদম ভালো লাগলোনা। বিদ্যাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে বলল,

—-” এই পোষাক কেন পড়েছিস?”

বিদ্যা জবাব দেওয়ার আগেই এক জন এসে ওনাকে টেনে নিয়ে গেল। বিদ্যা ওর মায়ের চলে যাওয়ার পথে চেয়ে বলল,

—” আমারতো জিবনের কোন রং ই নেই মা! তাহলে তুমিই বলো, আমি কি দিয়ে নিজেকে সাজাবো?”

কথাগুলো বলেই বিদ্যা অভির দিকে চাইলো। অভিকে নিয়ে রিয়ার বান্ধবী সহ কনক, মিতু এবং ওদের বান্ধবীরাও মেতে উঠেছে। সেলিব্রেটি হয়ে গেছে সে বলেই একটা চিৎকার দিল বিদ্যা। মিউজিকের হাইবিটে শব্দটা কেউ শুনতে পেলোনা। বিদ্যা আয়ানকে কল দিয়ে হনহনিয়ে সেখান থেকে চলে গেল। তারপর আয়ানের কাছে গিয়ে বলল,

—” আয়ান ড্রিংক কোথায় সার্ভ করছে?”

—“পিসি সত্যিই তুমি ড্রিংক করবা?”

—” তো আমি এমনি এমনি বলছি তোকে?”

আয়ান বেশ ভয় পেল। তারপর বিদ্যাকে নিয়ে গেল সেখানে। অনেকে সেখানে আছে তাই আয়ানকে বলল,

—” যা, নিয়ে আয় ২ বোতল শাম্পিং ও ওয়াইন।”

—“আমাকে তো দিবেনা পিসি। তুমি গিয়ে নিয়ে এস।”

—“আমার মুখ খুলিয়ে নেসনা! তোর বাবাকে কি সবকথা বলে দিতে হবে!”

শুধু শুধু ভয় দেখাও কেন! আমি কি বলেছি দিবোনা! এখুনি আনছি বলেই ভো দৌড় দিল নিজের রুমের দিকে। তারপর ২টা বোতলই সপিং ব্যাগে নিয়ে বলল,

—” পিসি কিভাবে জানলো, এগুলো আমার রুমে আছে? দুর আগে নিজের প্রান বাঁচায়। ”

আয়ান ফিরে এসে বিদ্যার হাতে সপিং ব্যাগ দিয়ে বলল,

—” বাবাকে বলবেনা তো?”

আজকের মত মাফ করলাম। পরের বার দেখলে সোজা গুলি করে তোর বুক ঝাঝরা করে দিব বুঝেছিস? কথাগুলো বলে চোখ বড় বড় করে আয়ানের দিকে তাকালো বিদ্যা।

আয়ানও ভয়ে ঢোক গিলে বলল,

—“তুমি এগুলো দিয়ে কি করবে?”

আমার শ্রার্ধ্য করবো। বিদ্যা কিছু একটা ভেবে আবার বলল,

—-” ওদের দিয়ে আসবো। তুই যা।”

আয়ান ওখানে আর একমুহুত্ত্বও দেরি করলোনা। সেখান থেকে চলে যেতে পারলেই সে যেন বাঁচে। আয়ান চলে যেতেই বিদ্যা অভির দিকে চাইলো। তারপর ব্যাগটা নিয়ে সোজা ছাদে চলে গেল। ছাদের গেটটা বন্ধ করে দিয়ে রেলিং এর উপর গিয়ে বসল।

বিদ্যার এমন ব্যবহার অভির কাছে ভালো ঠেকলোনা। অভি যে ওখান থেকে বিদ্যার কাছে যাবে, সেটাও পারছেনা। এই মেয়ের দলগুলো ওকে ছাড়ছেইনা। তারপরও অভি সবাইকে ম্যানেজ করে ওখান থেকে বের হয়ে গেল।

এদিকে বিদ্যা বোতল খুলে জল আর আইস ছাড়াই গিলতে লাগলো ঢকঢক করে। মনে হচ্ছে গলার ভিরত আগুন ধরে গেল। তবুও অভির উপর রাগ করেই এক বোতল সাবাড় করলো। শরীরের ভার কন্ট্রোল করতে পারছেনা। শুধু ঢুলেই যাচ্ছে সে। এমন সময় অভি সিড়ি বেয়ে উপরে এসে দেখে দরজা ওপার থেকে বন্ধ করা। বিদ্যা বিদ্যা বলে কয়েকবার ডাক দিল। কিন্তু কারো রেসপন্স পেলোনা। অভি দরজা ভেদ করে ছাদে গিয়ে উপস্থিত হল।

অভিকে দেখে বিদ্যার রাগ চরমে উঠলো। ওয়াইনের বোতল খুলে ঢকঢক করে ওয়াইন গিলেই অভির দিকে বোতলটা ছুড়ে মারলো। অভিও সাথে সাথে সরে গেল। বোতলটি দেয়ালে লেগে ভেঙ্গে কাঁচের টুকরো গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো আর দেয়াল বয়ে ওয়াইন চুয়ে চুয়ে পড়তে লাগলো।

—-“বিদ্যা কি করছো এগুলো!”

কি করছি দেখছোনা তুমি! মদ গিলছি মদ!
তুমি সবার কথা রাখো, কিন্তু আমার কথার কোন দাম নেই তোমার কাছে। তুমি সবাইকে ভালোবাস কিন্তু আমাকে শুধুই দয়া করে মিছেমিছি অনূভুতি দেখাও। আমার কষ্ট হয়না? খুব কষ্ট হয় বলেই নিজে বুকে আঘাত করলো বিদ্যা।

অভি দৌড়ে ওর কাছে আসতেই বিদ্যা অন্য বোতল উচু করে ধরে অভির উদ্দেশ্য বলল,

—” এই, একদম আমার কাছে আসবেনা। যদি আসো, তাহলে কিন্তু আমি এখান থেকে এখুনি নিচে ঝাঁপ দিব।”
কথাগুলো বলেই বিদ্যা কাঁদতে লাগলো।

অভি বিদ্যার কথায় উচ্চস্বরে হেঁসে উঠে বলল, হুম, আমিতো তোমাকে ভালবাসিনা, তাই এখন তোমার কাছে যাব। তোমারতো দাম নেই, তাই এখন আমি তোমার পাশে গিয়ে দাড়াবো। তারপর কি হবে বলতো! তারপর, তারপর, তারপর! বলে অভি বিদ্যার দিকে পা বাড়াতে লাগলো।
হুমহ্ তারপর কি আর কবরা! ঝাপ দিয়ে মরে যাবা। আমার আর কি হবে? অভি ওর হাতের আঙ্গুল বের করে গুনতে লাগলো। ১,২,৩,………১০। তারপর আমিতো দশ-দশটা বিয়ে করতে পারবো। তুমিতো দেখছি আমার রাস্তায় ফাঁকা করে দিচ্ছো। আমার জন্য কনক, মিতু সহ অনেক অনেক আছে।

বিদ্যা অভির কথায় চুপ করে হিসাব কষতে লাগলো। তারপর ধপ করে রেলিং থেকে নামলো। আমি জানিতো তুমি আমাকে ভালবাসোনা। তুমি সব ভুলে গেছ অভি। আমাকে তুমি আর চাওনা। আমি ভুল ছিলাম বলে নিচে বসে পড়লো বিদ্যা।

বিদ্যা নিচে বসাতে অভি চোখ বন্ধ করে স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলল। তারপর বিদ্যার পাশে বসে বলল,

—” তুমি আমাকে ছেড়ে থাকতে পারবে বিদ্যা?”

বিদ্যা অভির ঘাড়ের উপর ঢলে পড়লো। তারপর বিড়বিড় করে মাতাল কন্ঠে বলে উঠলো,

—” অভি আমাকে ছেড়ে যেওনা। তোমাকে হারানোর শক্তি আমার আর নেই।”

[ চলবে……]

বিদ্রঃ পার্টটা বড় হওয়ার জন্য ফোন বার বার হ্যাং হয়ে যাচ্ছিল। এক লেখা বার বার উঠছিল। তাই হয়ত অনেক ভুল থাকতে পারে। ভুলক্রুটি মার্জনার সহিত দেখিবেন।

সরাসরি ওয়েবসাইট এ পড়ুন: https://nafisarkolom.com/2020/10/sidur-suddhi-20/

আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট: https://www.facebook.com/nafisa.muntaha

চাইলে আমার গ্রুপে জয়েন করতে পারেন: https://www.facebook.com/groups/nafisarkolom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here