অনুভবে আজো তুমি🍁🍁 পর্ব-১২

0
462

#অনুভবে_আজো_তুমি🍁🍁
পর্ব-১২
ফাবিহা নওশীন

“মেহের লুক এট মি।”
মেহের তখনো মাথা নিচু করেই আছে।
ফায়াজ আবারো শান্ত গলায় বললো,
–মেহের মাথা তুলে আমার দিকে তাকাও।
মেহের মাথা তুলে ফায়াজের দিকে তাকালো।মেহেরের চোখের কোনো পানি জমেছে।যেকোন সময় পড়ে যাবে।

ফায়াজ মেহেরের দিকে টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলল,
–চোখের কোনের পানি মুছো।একদম কান্নার চেষ্টা করবে না।আমি এখন তোমার কান্নাকাটি দেখার মুডে নেই।

মেহের টিস্যু নিয়ে চোখের কোনের পানি মুছে নিলো।
–তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছো কেন?
–আপনি সবসময় আমাকে ধমকান কেনো?
ফায়াজ মৃদু হেসে বললো,
–কারণ তুমি আমার ভালো কথার চেয়ে ধমকানো বেশি পছন্দ করো।তাই তো না ধমকানো পর্যন্ত তুমি কথা শুনোনা।
–তুমি আমাকে এভয়েড কেন করছো?
–কই?আপনি আমাকে ডেকেছিলেন?হয়তো আমি খেয়াল করিনি।বিশ্বাস করুন আমি ইছে করে কিছু বলিনি।

–আমি তোমাকে ডাকিনি।তুমি অন্যভাবে আমাকে এভয়েড করেছ।
যাইহোক আমাকে দেখো?

মেহের ফায়াজের এমন কথার আগামাথা খুজে পেলোনা।ওকে দেখবে মানে কি?
মেহের অবাক হয়ে ফায়াজের দিকে তাকালো তারপর জিজ্ঞেস করলো,
–মানে?
ফায়াজ বাকা হেসে বললো,
–আমাকে দেখতে বললাম।তুমিই তো বলো কত মেয়ে আমার জন্য পাগল।এখন তুমি বলো আমি কি দেখতে খারাপ?
মেহের মাথা নাড়িয়ে না বললো।
–তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?
মেহের মাথা নাড়িয়ে না বললো।
–যদি থাকে তবে আজকেই ব্রেকাপ করে ফেলো নয়তো বেচারা খুব শীঘ্রই আমার হাতে অকালে প্রাণ হারাবে।
মেহের ফায়াজের দিকে চেয়ে বললো,
–আমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই আর কোনোদিন ছিলোও না।
–গুড।ছেলেদের থেকে দূরে থাকবে।কাউকে তোমার পাশে ঘেষতে দেবেনা।তাহলে খারাপ হয়ে যাবে।আমি এটা মেনে নিবোনা।

মেহের হা করে ফায়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। ফায়াজ ওকে এসব কেন বলছে বুঝতে পারছেনা।ফায়াজ মেহেরের অবস্থা বুঝতে পেরে বললো,

–তুমি নিশ্চয়ই ভাবছো আমি এসব কেন বলছি?কজ আই এম ইন লাভ উইথ ইউ।সো আজ থেকে আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড।আমি ছাড়া তোমার আশেপাশে কেউ ঘেষবেনা।

ফায়াজের কথা শুনে মেহেরের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।মেহেরের হৃদপিণ্ড দ্রুত গতিতে লাগাচ্ছে।মেহের উঠে যাবে এমন সময় ফায়াজ ওর হাত খপ করে ধরে টেবিলে চেপে ধরলো।মেহেরের পুরো শরীর কেপে উঠলো।ফায়াজ ওর ঝাকুনি অনুভব করতে পারলো।
তারপর চোখমুখ শক্ত করে বললো,
–আমার কথা এখনো শেষ হয়নি।আর আমি তোমাকে যেতেও বলিনি।
আমার কথাগুলো যদি তোমার কাছে মজা মনে হয়ে থাকে তবে বলবো।তুমি ভুল।আমি মোটেও মজা করছিনা।মজা করার লোক আমি নই।আমি সিরিয়াসলি তোমাকে ভালোবাসি আর বিয়ে করতে চাই।যদি এখন বলো এখনি বিয়ে করবো।নো প্রব্লেম।এর আগে আমার কোনো এফ্যায়ার ছিলো না খোজ নিয়ে দেখতে পারো।আমার শুধুমাত্র তোমাকে চাই।আই জাস্ট নিড ইউ।
আগামীকাল কাল পর্যন্ত তোমাকে সময় দেওয়া হলো তারপর তুমিও আমাকে আই লাভ ইউ বলবে।যদি বলো তো ভালো না বললেও সমস্যা নেই।ইউ ক্যান গো নাও।
ফায়াজ কথাগুলো বলেই উঠে চলে গেলো।

মেহের তখনো ফায়াজের যাওয়ার দিকে হা করে আছে।যেন তব্দা খেয়ে গেছে ফায়াজের কথা শুনে।
৫মিনিট পর দৌড়ে ক্লাসরুমের দিকে যাচ্ছে তখনই দেখলো সামিরা আর অন্য বন্ধুরা উৎকন্ঠা নিয়ে দাড়িয়ে আছে।মেহেরকে দেখে কিছুদিন নিশ্চিন্ত হলো।তারপর মেহেরের দিকে এগিয়ে এলো।সামিরা কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই সামিরাকে টেনে মেয়েদের কমন রুমে নিয়ে গেলো।তারপর সামিরাকে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে লাগলো।সামিরা ওকে এভাবে কাদতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো।
ওকে চেয়ারে বসিয়ে শান্ত করে জিজ্ঞেস করলো,
কি হয়েছে?
মেহের কোনো উত্তর ই দিচ্ছেনা।

সামিরা কিছুটা ইতস্তত করে বললো,
–ফায়াজ ভাইয়া কিছু বলেছে?মানে বাজে কিছু বলেছে? না তোর সাথে খারাপ আচরণ করেছে?কিন্তু এসব তো করার কথা নয়।আজ পর্যন্ত ওনি কোনো মেয়েকে খারাপ চোখে দেখেনি।

মেহের কান্না থামিয়ে বললো,
–ওনি আমাকে প্রপোজ করেছে।

সামিরার চোখ কপালে উঠে গেলো।
–কি প্রপোজ!!আমাকে খোলে বল সব।
মেহের সামিরাকে A-Zসব কিছু বললো।
ওর কথা শুনে সামিরার মুখে হাসি ফুটে উঠলো খুশিতে ওর চোখমুখ চকচক করছে।
–মেহের,,তুই কত লাকি দেখেছিস?ফায়াজ ভাই তোকে প্রপোজ করেছে।লাভ প্রপোজাল নয় বিয়ের কথাও বলেছে।তার মানে ওনি সিরিয়াস টাইম পাসের ধান্দা নয়। তুই কাল ই ওনাকে হ্যা বলে দিবি।উফফ আমার তো ভাবতেই ভালো লাগছে ফায়াজ ভাই জিজু হবে আমার।

মেহের সামিরার মাথায় গাট্টা মেরে বললো,
–আমি মরছি আমার জ্বালায় আর তুই নাচছিস?আমি ওনাকে হ্যা বলবো না।কারণ ওনাকে আমার অপছন্দ।আর তাছাড়া এসব প্রেম ট্রেম আমি করবোনা।বাবা জানতে পারলে খুন করে ফেলবে।এখন বল আমি কি কিরে এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবো?

সামিরা হাই তুলতে তুলতে বললো,
–আই ডোন্ট নো।এর কোনো সমাধান নেই।
মেহের আবারো কাদতে লাগলো।সামিরা মেহেরের গাল টেনে বললো,
–ভ্যা ভ্যা করিস কেন সব সময়?তোর পছন্দ না বলে দিবি ঝামেলা শেষ।

সামিরা মনে মনে বলছে,
–তোকে জাস্ট শান্ত করার জন্য এসব বলেছি।কিন্তু আমি জানি ফায়াজ এতো সহজে তোর পিছু ছাড়ছেনা।কিন্তু এর কোনো সমাধান ও আমার কাছে নেই।শান্তনা দেওয়া ছাড়া আর কি করতে পারি।জানিনা কাল কি হবে,,

মেহেরের চোখে ঘুম নেই।বারবার ফায়াজের কথা গুলো মনে পড়ছে।আগামীকাল ফায়াজকে কি বলবে,,কিভাবে বলবে এসব ভাবতেই গলা শুখিয়ে কাঠ হয়ে আসছে।বারবার এপাশ ওপাশ করছে।ঘুম আসছেনা তাই উঠে মিহুর রুমে গেলো।গিয়ে দেখে মিহু ল্যাপটপে চ্যাটিং করছে।মেহেরকে দেখে বললো,
–আপু ঘুমাওনি?
–তুই ও তো ঘুমাসনি?আব্বু যদি দেখে রাত জেগে এসব করছিস তবে কি হবে জানিস?
–কি আর হবে,,কিছুক্ষণ ধমকাবে তারপর ল্যাপটপ নিয়ে চলে যাবে।
–এতকিছু জেনেও,,
–আচ্ছা যাও রাখলাম এখন বল তোমাকে এমন ফ্যাকাসে লাগছে কেন?
–এমনি।আমি তোর সাথে ঘুমাবো।
দুবোন গল্প করতে করতে ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো

মেহের বেলা পর্যন্ত শুয়ে আছে।উঠার নাম নেই তাই ওর আম্মু ওকে ডাকতে এসেছে।
–মেহের,,কিরে ভার্সিটি যাবিনা?
মেহের ঘুমঘুম চোখে বললো,
–আম্মু পেটে ব্যাথা করছে।আজকে যেতে পারবোনা।
পেটে ব্যাথা শুনে মেহেরের মা অস্থির হয়ে গেলো।
–ভার্সিটতে উল্টো পাল্টা কিছু খেয়েছিস তাই না?
–না আম্মু।এমনিতেই পেট ব্যথা করছে।শুয়ে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে।
–আচ্ছা,আজ যেতে হবেনা।শুয়ে থাক।
মেহের আজ ভার্সিটি যাবেনা।ফায়াজের সামনাসামনি হওয়ার সাহস নেই।সামিরাকে মেসেজ করে জানিয়ে দিলো।

অপরদিকে ফায়াজ তার প্রেয়সীর সাথে দেখা করার জন্য নিজেকে তৈরি করছে।সারারাত ঘুম হয়নি।এখন আর রাতে ঘুম হয়না ঠিক মতো।সারারাত শুধু কখন সকাল হবে সেই প্রহর গুনে গুনে রাত্রি শেষ করে।
ফায়াজ বডি স্পে দিতে দিতে ভাবছে,
— আমি জানি এতো সহজে তুমি আমার কাছে ধরা দিবেনা।ভালোবাসিও বলবেনা।আর আমিও ঠিক তাই চাই।এত সহজেই যদি সব পেয়ে যাই তবে খেলা জমেনা।তবে ধরা তোমাকে দিতেই হবে।সেটা আজ হোক আর কাল হোক।তুমি আমাকে একদিন ভালোবাসি বলবেই এটা আমার ভালোবাসার বিশ্বাস।

ফায়াজ ভার্সিটির জন্য বেরিয়ে গেলো।কিন্তু মেহেরের দেখা নেই।মেহেরকে খুজতে মেহেরের ক্লাসে চলে গেলো।সামিরাকে দেখলো অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলছে কিন্তু মেহেরকে কোথাও দেখতে পায়নি।তাই সামিরার দিকে এগিয়ে গেলো।
–সামিরা বাইরে এসো।
সামিরা বুঝতে পারলো কি জন্য ফায়াজ ওকে ডাকছে।

সামিরা ফায়াজের সামনে গিয়ে বললো,
–জ্বী ভাইয়া বলুন।
–মেহের কই?
–আজকে আসেনি।
–কেন?
–ও আমাকে মেসেজ করেছিলো ও নাকি একটু অসুস্থ তাই আসতে পারবেনা।
ফায়াজ মৃদু হেসে বললো,
–ওকে বলো এসব বাহানা করে যেন আর ক্লাস মিস না করে।আর আমাকে এভয়েড করার ধান্দা বন্ধ করতে বলো।কারণ এসব করে কোনো লাভ নেই।আমি ওকে ছাড়ছিনা।
–জ্বি।
ফায়াজ চলে গেলো।সামিরা হাফ ছেড়ে বাচলো।আর মনে মনে বলছে, এসব কিছুই মেহেরকে বলা যাবেনা তাহলে মেয়েটা ভয় পেয়ে পড়াশোনা সব ছেড়ে দিবে।

ফায়াজ হাটছে আর বাকা করে হাসি দিচ্ছে।
–সুইটহার্ট কাজটা তুমি একদম ঠিক করোনি।কি দেখতে চাও আমি তোমাকে না দেখে কতটা অস্থির হই,কতটা ছটফট করি?আমাকে এভাবে ছটফট করিয়ে তুমি মজা পাচ্ছো?আজকের দিনটা তোমার তুমি যা খুশি করো তবে আগামীকাল আমার।

চলবে,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here