অনুভবে আজো তুমি🍁🍁 পর্ব-২৯

0
221

#অনুভবে_আজো_তুমি🍁🍁
পর্ব-২৯
ফাবিহা নওশীন

ফায়াজ দু’হাতে চোখ ডলছে তারপর আবার চোখ খুলছে।আর ভাবছে,
আমি কি নেশার ঘোরে উল্টা পাল্টা দেখছি।মদও তো এখনো খাইনি।বাইরে থেকে যাও খেয়ে এসেছিলাম ফাইজা সে নেশাও কাটিয়ে দিয়েছে।ফায়াজ মেহেরের দিকে এগুচ্ছে।মেহের লাল শাড়ি,লাল চুরি,হালকা অর্নামেন্ট,হালকা মেকাপ করেছে।এই হালকা সাজেই ওকে অপ্সরী লাগছে।ফায়াজ কাপা কাপা হাতে মেহেরের গাল আলতো করে ছুয়ে দিলো।মেহের ফায়াজের ছুয়ায় চোখ বন্ধ করে নিলো।
ফায়াজ মেহেরকে ছুয়ে বুঝতে পারলো মেহের স্বশরীরেই ওর সামনে উপস্থিত।

–মেহের তুমি সত্যিই এখানে আছো?নাকি আমার কল্পনা?
মেহের মৃদু হেসে বললো,
–কেন আজকাল কি আমাকে খুব বেশিই কল্পনা করো?
ফায়াজ মেহেরের কথা শুনে শিওর হলো ও ঠিক দেখছে।
–তুমি??
–তুমি বলেছিলে না তোমাকে যেন শাস্তি দেই,শাস্তি দিতে এসেছি।

ফায়াজ মৃদুস্বরে বললো,
–কি শাস্তি দিবে?যে শাস্তি দিবে আমি মাথা পেতে নিবো।তবে শাস্তি আমার চাই।
দেও শাস্তি।

ফায়াজের দিকে এগুতে এগুতে বলে,
–হুম,দিবোই তো।
মেহের কাপা কাপা হাত ফায়াজের বুকে রাখলো,তারপর বললো,
–তোমার শাস্তি সারাজীবন আমার সাথে থাকতে হবে।আমাকে অবিশ্বাস করা যাবেনা।আমার সব কথা শুনতে হবে।আর আমাকে অনেক অনেক বেশী ভালোবাসতে হবে।বাসবে তো?

ফায়াজের চোখের কোনে পানি জমেছে।আংগুল দিয়ে চোখের কোনার পানি মুছে মেহেরকে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিলো।
–মঞ্জুর।সব মঞ্জুর।আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসবো।নিজের চেয়ে বেশি বাসবো।কখনো কষ্ট দিবোনা।দেখো অভিযোগ করার কোনো সুযোগ ই পাবেনা।তোমাকে আমার রানী করে রাখবো।আমাকে কখনো ছেড়ে যেওনা।
মেহেরও ফায়াজকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
–যাবোনা।
–আই লাভ ইউ সুইটহার্ট।
–আই লাভ ইউ টু।
একে অপরকে জড়িয়ে আছে।এ এক অন্যরকম অনুভূতি।কতক্ষণ একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে তার সময়ের হিসাব নেই।না কেউ রাখতে চাইছে।

কিছুক্ষণ পর,
–ফায়াজ,,
–হুম।
–তোমাকে ডাকছে।
ফায়াজ মেহেরকে ছেড়ে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো তারপর বললো,
–কে ডাকছে?
মেহের দুষ্ট হাসি দিয়ে মদের দিকে ইশারা করলো।ফায়াজ বোকা বনে গেলো।তারপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,
–আর খাবোনা।আর প্রয়োজন নেই।
মেহের চোখ ছোট ছোট করে বললো,
–কেন প্রয়োজন নেই?তোমার না নেশা না করলে ঘুম আসেনা?
ফায়াজ এক টানে মেহেরকে ঘুরিয়ে উন্মুক্ত পেটে হাত রাখে।কাধে থেকে চুল সরিয়ে থুতনি রেখে বললো,
–আমি এখন থেকে আমার প্রেয়সীর নেশায় আসক্ত হবো।সেই আসক্তি নিয়ে নিশ্চিন্তে প্রেয়সীকে বুকে নিয়ে ঘুমাবো।
ফায়াজ মেহেরের কাধে নাক ডুবিয়ে দিলো।মেহের ফায়াজের ভালোবাসার স্পর্শে চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো।কোলে করে গোলাপের পাপড়ির বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিলো।মেহেরের কপালে,চোখে,গালে,নাকে,কানের লতিতে ভালোবাসার পরশ একে দিলো।দুজনে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে গেলো ভালোবাসার গভীর সমুদ্রে।
.
.
.
.
.
.
.

🌸🌸

মাঝরাতে ফায়াজ হাতরে কিছু একটা খুজছে কিন্তু পাচ্ছেনা।না পাওয়াতে কপালে বিরক্তির ছাপ দেখা দিলো।হটাৎ করেই বিরক্তি ভয়ে পরিনত হলো।ফায়াজ লাফ দিয়ে উঠে বসে পড়লো।বেডসাইড লাইট অন করে বিছানা ফাকা পেলো।মেহের নেই।রুমের চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো।কেউ নেই।দৌড়ে ওয়াশরুমে গেলো।সেখানেও ফাকা।
মেহের কই।আমার সাথেই তো ছিলো।না ছিলোনা?এটা কি করে সম্ভব আমরা এক সাথে ছিলাম।কত সুন্দর মুহুর্ত কাটালাম।এগুলো নিতান্তই স্বপ্ন কিংবা কল্পনা হতে পারেনা।ফায়াজ বিছানায় মেহেরের শাড়ি পরে থাকতে দেখলো।কল্পনা নয়,সত্যি।তুমি ছিলে।হটাৎ ফায়াজের বারান্দার কথা মনে পড়লো।
ফায়াজ এক দৌড়ে বারান্দার দরজার সামনে গেলো।মেহের ফায়াজের শার্ট জড়িয়ে অন্ধকারে দাড়িয়ে আছে।মেহেরকে দেখে যেন ওর প্রান ফিরে এলো।কি ভয়টাই না পেয়েছিলো জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে অস্তিরতা দূর করার চেষ্টা করছে।তারপর পা টিপে টিপে মেহেরের কাছে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।আচমকা জড়িয়ে ধরায় মেহের ভয় পেয়ে চিতকার করতে যাবে তখনই ফায়াজ বললো,
–হিসসস,,আমি।ভয় পাচ্ছো কেন?
–আপনি ঘুমান নি?
–যেখানে তুমি নেই সেখানে আমি কি করে ঘুমাই।তুমি এত রাতে না ঘুমিয়ে এখানে কি করো?
মেহের ফায়াজের বুকে নিজের ভর ছেড়ে দিয়ে বললো,
–আমি আজ ঘুমাবো না।অনুভূতিগুলো নিয়ে জেগে থাকতে চাই।যদি এ মুহুর্তগুলো হারিয়ে যায়।আমি হারাতে দিতে চাইনা।
ফায়াজ দোলনায় বসে মেহেরকে কোলে বসিয়ে দিলো তারপর বললো,
–হারাবে না,কোনোদিন হারাবে না।এ অনুভূতি আর এ ভালোবাসা সারাজীবন বেচে থাকবে।
বাই দ্যা ওয়ে আমার শার্টে তোমাকে খুব হট লাগছে।
মেহের ফায়াজের কথায় লজ্জা পেয়ে ওর বুকে মুখ লুকালো।ফায়াজ মেহেরের মাথায় চুমু খেয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।কিছুক্ষণ পর মেহেরের ঘন নিশ্বাস অনুভব করতে পারলো।বুঝতে পারছে ঘুমিয়ে পড়েছে।ফায়াজ মেহেরকে কোলে নিয়ে ঘরে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো।তারপর ওকে বুকে নিয়ে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি দিলো।

🌺🌺

মেহের সকালে ঘুম থেকে উঠে শাওয়ার নিয়ে নীল রঙের শাড়ি পরেছে।ফায়াজ তখনও বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।ফায়াজের কাছে গিয়ে ওর কানে মুখ নিয়ে আস্তে করে বললো,
–ফায়াজ উঠো।৯টা বাজে।সবাই নিচে নাস্তার টেবিলে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
ফায়াজ মেহেরকে একটানে নিজের কাছে নিয়ে আমার ঘুমিয়ে পরলো।
–ফায়াজ ছাড়ো আমি তোমাকে উঠতে বলছি আর তুমি আমাকে ঘুম পাড়াচ্ছো?
–জাস্ট ১০মিনিট এভাবে ঘুমাতে দেও।প্লিজ।
মেহের আর কিছু বললো না।ফায়াজের বুকে মাথা রেখে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে খেয়াল নেই।হটাৎ ঘুম ভেঙে ঘড়ির দিকে চেয়ে ওর চোখ কপালে উঠে গেলো।লাফ দিয়ে হুড়মুড় করে উঠে গেলো।ফায়াজের ও ঘুম ভেঙে গেলো এমন নড়াচড়ায়।
ফায়াজ চোখ ডলতে ডলতে বলে,
–কি হলো?এভাবে লাফাচ্ছো কেন?বললাম না ১০মিনিট।
–১০মিনিট?তোমার ১০মিনিটের চক্করে ১০টা বেজে গেছে।উফফ,আমিও না কিভাবে যে ঘুমিয়ে পড়লাম।তাড়াতাড়ি উঠো।ফ্রেশ হও।
মেহের হনহন করে বেরিয়ে গেলো।

নিচে গিয়ে দেখলো ফাইজা নাস্তার টেবিলে বসে বসে নাস্তা করছে আর ফোন টিপছে।মেহের জিজ্ঞেস করলো,
–মম,পাপা নাস্তা করেছে?
মেহেরের কথায় ফোন থেকে বেরিয়ে বাকা হেসে বললো,
–তোমাদের জন্য অপেক্ষা করলে সকালের নাশতা করতে করতে লাঞ্চ টাইম হয়ে যাবে।
তারপর উঠে মেহেরকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিলো।তারপর ওর চারপাশে ঘুরে ঘুরে দেখছে।ফাইজার এমন কান্ডে মেহের ভ্যাগাচেকা খেয়ে গেলো।ফাইজা মেহেরের কাছে এসে বললো,
–ইউ আর সো হট।তুমি কি দেখতে মাইরি।উফফফ,,,
মেহের চোখ বড়বড় করে চাইলো,তারপর বললো,
–এসব কি বলছো?মাথা ঠিক আছে?
ফাইজা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে হাসি থামার নাম ই নেই।
অনেক কষ্ট করে হাসি থামিয়ে বললো,
–ভাবি,,তুমি এত্ত লাজুক।তোমার চেহেরাটা দেখার মতো ছিলো।একটা মেয়ের কথায় এমন লজ্জা পাও ভাইয়ার সামনে তাহলে কি করো?আমি তো ভাবতেই পারছিনা।
উফফ।।
ফাইজা দুষ্ট হাসি দিয়ে মেহেরের কানে কানে বললো,
তারপর বলো রাত কেমন কাটলো তোমাদের?
মেহের ফাইজার কান টেনে বললো,
–ফাজিল মেয়ে,,ভাবি হই তোমার।
ফাইজা আবারও খিলখিল করে হাসছে।

মেহের কফি নিয়ে রুমে গিয়ে দেখে ফায়াজ শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে।গুনগুন করে গান গাইছে।খালি গায়ে তোয়ালে পড়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে।শরীর দিয়ে টিপটিপ করে পানি পড়ছে।মেহেরের লজ্জা লাগছে।মেহের চোখ নামিয়ে বললো,
–আপনার কফি।
ফায়াজ মেহেরের কাছে থেকে কফি নিয়ে মেহেরকে নিজের কোলে বসিয়ে বললো,
–লজ্জা পাচ্ছো কেন?সারারাত তো এই বুকেই মাথা রেখে ঘুমিয়েছো।
আর লজ্জা পেতে হবেনা লজ্জাবতী ললনা।নেও কফি খাও।
মেহের ভ্রু কুচকে বললো,
–তুমি কি এখনো আমাকে বিশ্বাস করো না?
ফায়াজ মুচকি হেসে মেহেরের নাকে চুমু খেয়ে বললো,
— বোকা মেয়ে,তোমার কি মনে হয় আমি তোমাকে কফি কেন খাওয়াতাম?তোমাকে অবিশ্বাস করে?
আমি তো তোমার চুমুকে দিনটা শুরু করতে চাইতাম।আমার সব কিছুতে তোমার প্রথম অধিকার সেটা কফি হোক আর যাই হোক।
ফায়াজের কথা শুনে মেহেরের চোখে পানি চলে এলো।
সেটা দেখে ফায়াজ বললো,
–উহু, বলেছিনা আমাদের এই জীবনে দুঃখ,কান্নার কোনো স্থান নেই।একদম কাদবেনা।
মেহের ফায়াজের হাত থেকে কফি নিয়ে চুমুক দিলো।

ফায়াজ মেহের একসাথে বসে নাস্তা করছে।ফাইজা দৌড়ে এসে বললো,
–ভাইয়া,বকশিস দে।
ফায়াজ মাথা না তুলেই বললো,
–কিসের বকশিস?
ফাইজা চেয়ার টেনে বললো,
–কিসের মানে?
এই যে ভাবিকে কালকে কে নিয়ে এলো?আমি এনেছি।তারপর পুরো ঘর সাজিয়েছি,ভাবিকে সাজিয়েছি।তোর জন্য বসে ছিলাম লেবু পানি নিয়ে।তারপর জোর করে তোকে লেবু পানি খাইয়েছি।এসব করার বকশিস দে।
ফায়াজ মুখ তুলে বললো,
–যা তোকে ভালো দেখে একটা ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবোনে।
ফাইজা মুখ ফুলিয়ে বললো,
–ভাইয়া!!ভালো হবেনা কিন্তু আমার বকশিস চাই চাই।টাকা দে।
–যা ভাগ,,
–বউকে পেয়ে বোনকে ভুলে গেছিস এটা ঠিক না।ভাবি কিছু বলো।
–ফাইজা তোমার ভাই ভালো অফার করেছে।বিয়ে করে নেও।তারপর তোমার বাসরঘর সাজিয়ে শোধ করে দিবো।কিছুক্ষণ আগে কি বলেছিলে,,আমিও তারপর তাই বলবো।
বলেই মেহের দুষ্ট হাসি দিলো।
–তোমরা দুইজনই মীরজাফর।
ফায়াজ বললো,
–কাদিস না।বল কত চাস?
ফাইজা খুশিতে গদগদ হয়ে বললো,
–বেশি না দশ লাখ।
ফায়াজের কাশি উঠে গেলো।
–দশ লাখ??এটা কি বকশিস?
ফাইজা আর মেহের হাসছে।

দূর থেকে ফায়াজের মম,পাপা ওদের খুনসুটি দেখছে আর চোখের পানি মুছছে।
ফায়াজের মম,
–অবশেষে আমার পরিবারে খুশি ফিরে এসেছে।
ফায়াজের পাপা,
–আমাদের ছেলেটার জীবনে খুশি ফিরে এসেছে।কতদিন পর ওকে এভাবে দেখছি।
ফাইজার পরীক্ষা শেষ হলেই আমরা বাড়িতে ফিরে আসবো।সবাই এক সাথে থাকবো।
–আমার তো যেতেই ইচ্ছে করছেনা।ফাইজার জন্য যেতে হবে।

ফাইজা,মেহের আর ফায়াজ একসাথে গল্প করছিলো তখনি মিহু আর আহিল এসে উপস্থিত।মেহের মিহুকে দেখে খুশি মনে বসতে দিলো।ওদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলো।কিন্তু মিহুকে আপসেট লাগছে।
ফায়াজ জিজ্ঞেস করলো,
–আহিল মিহুর কি হয়েছে?
মিহু এবার ফায়াজের দিকে চেয়ে বললো,
–ভাইয়া,আমি সরি বলতে এসেছি।হসপিটালে আর বাসায় আমি আপনার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি।আসলে আপিকে আমি খুব ভালোবাসি।আপির ওই অবস্থা আমি সহ্য করতে পারিনি।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।

–মিহু কি বলছো এসব?তুমি তোমার জায়গায় একদম ঠিক ছিলে।তোমার জায়গায় যেকোনো বোন থাকলেই এটা করতো।আমার বোনকে দেখো ও তোমার জায়গায় থাকলে আমার মাথা ফাটিয়ে দিতো।কিরে ফাইজু দিতি না?

–অবশ্যই,মাথা ফাটিয়ে হসপিটালের বেডে শুইয়ে দিয়ে আসতাম।তুই আমার বকশিস দেস নাই।তোরে তো এমনিতেই ফাটাইতে মন চাচ্ছে।
ওর কথা শুনে সবাই হেসে দিলো।
মিহু বললো,
–তার মানে আপনি আমার উপর একদম রেগে নেই তো?
ফায়াজ কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
–উমম,তমি আর আহিল যদি আজকে আমাদের সাথে লাঞ্চ করে যাও তবে মাফ।
মিহু আহিলের দিকে চেয়ে বললো, ওকে।
মেহের ওদের সাথে ফাইজাকে পরিচয় করিয়ে দিলো।

–আপি আমি তোকে না জানিয়ে একটা কাজ করেছি।কাজটা করা জরুরি ছিলো।
–কি?
–আব্বুকে আমি সব বলেছি।
আব্বু আজীবন সবকিছুর জন্য সবাইকে দোষারোপ করেছে।এই তিন,সারে তিন বছরে যা যা ঘটেছে সবকিছুর জন্য কে দায়ী, আব্বু দায়ী।তুই,ভাইয়া কেউ দায়ী নস,না তোদের কোনো ভুল ছিলো।যা ভুল ছিলো আব্বুর ছিলো।
আব্বুর ভুলের জন্য এসব হয়েছে।নয়তো তোর আর ভাইয়ার ছয়মাসের না সারে তিন বছরের সংসার হতো।তুই আরো আগেই সুখী হতি।বাবারা সবসময় যে সিদ্ধান্ত নেয় সেটা যে সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত হয়না সেটা বুঝা উচিত।তাই আমি আব্বুকে সব বলেছি।

–তারপর?

–তারপর আর কি?উনি শুনে বেশ অবাক আর আপসেট।আমি তারপর চলে এসেছি।হয়তো আজকাল তোর বাসায় আসবে।

তারপর ওরা সবাই মিলে একসাথে অনেক মজা করছে।লাঞ্চ করেছে।

চলবে,,,

(গতকালের সবার কমেন্ট পরে আমি শিহরিত।আজকের পর্ব কেমন লাগলো জানাবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here