অনুভবে আজো তুমি🍁🍁 পর্ব-৩০

0
215

#অনুভবে_আজো_তুমি🍁🍁
পর্ব-৩০
ফাবিহা নওশীন

মেহেরের আব্বু-আম্মু এসেছে।মেহের আগেই জানতো তারা আসবেন।মিহুকে বিদায় দেওয়ার পর পরই তারা এসেছেন।
মেহেরের বাবা মেহেরের রুমে মেহের আর ফায়াজের সামনে বসে আছেন।
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে মুখ খোলেন।মেহের হাত ধরে বলে,
–মা আমায় ক্ষমা কর।আমার ভুলের জন্য তোর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো।আমার জন্য তিনটা বছর তুই সুখ থেকে দূরে ছিলি।সব কিছু আমার জন্য হয়েছে।সেদিন যদি আমি তোর সাথে অমন না করতাম,,তাহলে হয়তো তোকে এতটা কষ্ট পেতে হতো না।আমি বুঝিনি,,আমি ভাবতাম তোদের সব কিছুর ডিসিশন নেওয়া একমাত্র আমার অধিকার।কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।নিজেকে আমি ক্ষমা করতে পারছিনা।তুই আমাকে ক্ষমা কর।

–আব্বু।ওসব বাদ দেও।যা হওয়ার হয়েছে।এখন আমি ভালো আছি।সুখে আছি।এ বাড়ির সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে।তুমি শুধু দোয়া করো।

–অবশ্যই দোয়া করি।তুই মিহুর বিয়ে দিয়ে একদম ঠিক করেছিস।আমি মিহুকে মেনে নিলেও ওর বিয়েটা মেনে নিতে পারিনি।কিন্তু আজ বলছি আমি মন থেকে ওদের মেনে নিয়েছি।আমি তোর সব সিদ্ধান্তকে আজ থেকে রেস্পেক্ট করবো।
আর ফায়াজ তুমি আমাকে ক্ষমা করো।আমি তোমার সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা করে মেহেরকে না জানিয়ে ওর বিয়ে দিয়ে দেই।তুমি যদি সেদিন বিয়ের প্রস্তাব না দিতে জানিনা আজ কি হতো।তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।তুমি সত্যিই মেহেরকে অনেক ভালোবাসো,নয়তো সব জেনে ওকে বিয়ে করতে না।তুমি সোনার টুকরো ছেলে আমি তোমাকে চিনতে পারিনি।আমাকে ক্ষমা করো।

–কি বলছেন এসব?যা হয়েছে ভুলে যান আর আমাদের জন্য দোয়া করুন।আমরা যেন আজীবন একসাথে সুখে জীবন কাটাতে পারি।

–অবশ্যই দোয়া করি।অনেক সুখি হও।আমার মেয়েটার খেয়াল রেখো।ও বড্ড অভিমানী।মুখে কখনো কিছু বলেনা।

–আমি ওকে অনেক ভালো রাখবো।কোনো দিন অভিযোগ করতে দেবোনা।

মেহের অনেক বলেছে থেকে কিন্তু অনেক বলা সত্ত্বেও তারা রাজি হয়নি।অন্য দিন আসবে বলে চলে গেলো।

রাতের বেলায় মেহের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবছে হটাৎ করেই জীবনটা কিভাবে বদলে গেলো।
ফায়াজ পা টিপে টিপে এসে ওর কানের সামনে ভাও দিল।মেহের ওমা,,করে চিতকার করে উঠলো।ফায়াজ হেসে কুটিকুটি।মেহের তা দেখে চোখ পাকিয়ে বললো,
–আপনি সব সময় আমাকে ভয় দেখান কেন?
–তুমি এত ভয় পাও কেন ভিতূর ডিম।
মেহের ঠোঁট বাকালো।
–তা ঠোঁট বাকানি,,এখানে একা একা কি করছো?
–ছাদ আর খোলা বারান্দা আমার অনেক পছন্দ।এখানে আমার ভাবনাগুলো জড়ো হয়।
–তা আমাকে রেখে কি ভাবছো?
–ভাবছি হটাৎ করেই আমার জীবনটা কি করে বদলে গেলো।সমস্ত সুখেরা এক সাথে ধরা দিয়েছে।আব্বু তার ভুল বুঝতে পেরেছে।মিহু ভালো আছে।এ বাড়ির সবাই আমাকে কত ভালোবাসে।মম তো আমাকে চোখে হারায়।পাপা গম্ভীর মানুষ হলেও ওনি যে আমাকে খুব ভালোবাসে সেটা আমি বুঝি।আর ফাইজার কথা কি বলবো,,,এত্ত ভালো মেয়েটা।সব সময় ভাবি ভাবি করে।

–আর আমি?আমি কেউ না?
মেহের মুচকি হেসে বললো,
–তুমি আমার কি সেটা কি তুমি জানোনা?
–জানি তবুও বলো।
মেহের ফায়াজের দু’হাতে গলা জড়িয়ে বললো,
–তুমি আমার সব।আমার জীবন।আমার পুরো দুনিয়া।আমার হৃদ স্পন্দন।আমার ভালোবাসা।
মাঝে মাঝে তো ভয় জীবন যদি আবার কোনো ভয়ংকর খেলা খেলে??আমাদের আলাদা করে,,
–হিসসসস,,।কিচ্ছু হবেনা।
ফায়াজ মেহেরের ঠোঁটের উপর আংগুল রেখে বললো।
আংগুল সরিয়ে মেহেরের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।

🍀🍀

কয়েকদিন পরের কথা,,,
সকাল থেকেই মেহেরের মন খারাপ।শ্বশুর শাশুড়ী, ননদ আবার আগামীকাল লন্ডন ফিরে যাচ্ছে।আবারো একা হয়ে যাবে।এই আলিশান বাড়িতে একা থাকতে হবে।
মেহেরের মন খারাপ দেখে মম বললো,
–তুমি আর ফায়াজও চলো আমাদের সাথে।আমরা যতদিন থাকি ফাইজার পরীক্ষা পর্যন্ত তোমরাও থেকো।

–সেটা সম্ভব হলে তো ভালোই হতো।এই ভূতের বাড়িতে একা থাকতে হতো না।এক মাস পর আমার টেস্ট পরীক্ষা।তারপর ফাইনাল পরিক্ষা।এমিনিতেই গ্যাপ পরেছে।আবার এই বছরও ঠিকঠাক পড়াশোনা হয়নি।

–সেটাও কথা।কি করবে একটু ম্যানেজ করে নেও।ফাইজার পরীক্ষা শেষ হলেই আমরা ব্যাক করবো।ডোন্ট বি স্যাড।

ফাইজা মেহের ওইদিন সারাদিন ঘুরাঘুরি,শপিং নিয়ে বিজি ছিলো।তারপরের দিন সবাই চলে গেলো।মেহের ভার্সিটি গিয়ে পরীক্ষার সব ফরমালিটি কমপ্লিট করে এসেছে।এখন তার একটাই কাজ বইয়ে মুখ গুজে থাকা।ফায়াজ অফিসে যাওয়ার পর পুরো বাড়িতে একটা চক্কর দেয় তারপর বেকার।ফায়াজের জন্য সকালে কফি বানানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই তার।
পড়া,পড়া আর পড়া।ফায়াজ বাসায় এসেই বলবে মেহের পড়তে বসো।

ফায়াজের অফিসে অনেক কাজ ছিলো।ফিরতে ফিরতে ৮টা বেজে গেছে।ঘরে ঢুকেই দেখে মেহের বিছানার উপর হাতপা মেলে বইখাতার উপর মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
ফাকিবাজ মেয়ে পড়া,বাদ দিয়ে ঘুম।ফায়াজ আস্তে আস্তে ওর পায়ের কাছে গিয়ে পায়ের তালুতে টাই দিয়ে সুরসুরি দিচ্ছে।মেহের কিছুটা নড়েচড়ে উঠে।তারপর আবার চুপ হয়ে যায়।ফায়াজ আবারো সুরসুরি দিচ্ছে,,মেহের এবার চোখ খোলে বুঝার চেষ্টা করে পায়ে কি হয়েছে।তারপর পা সরিয়ে নেয়।তারপর আবার সুরসুরি।এবার আর না পেরে উঠে বসে।তারপর ঘরের চারদিকে চোখ বুলায় কেউ নেই,দরজাও বন্ধ তবে পায়ে সুরসুরি কে দেয়।মেহের চিন্তায় পরে গেছে তার চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে।বারান্দার দরজা খোলা।ওখান দিয়ে কিছু আসেনি তো।মেহের পা টিপে টিপে বেড থেকে নামতেই ফায়াজের শরীরে পা লাগে।আচমকা কারো শরীরে পা লাগায় মেহের চিতকার করে উঠে।ফায়াজ মুখ চেপে ধরে।মেহের ফায়াজের হাত সরিয়ে ফায়াজকে ইচ্ছেমতো মারতে থাকে।

–খবিশ,এভাবে ভয় দেখানোর মানে নি?
–ফাকিবাজ মেয়ে,,পড়া বাদ দিয়ে নাক ডেকে ঘুমানোর মানে কি?
রাতভর কি করো?সন্ধ্যা বেলায় ঘুমাও কেন?
–রাতভর তোমার বকবকানি শুনতে শুনতে রাত পার হয়ে যায়।মেহের এই হয়েছে,ওই হয়েছে,হেন,তেন তোমার এসব শুনতে শুনতে শেষ আমি।এত প্যাচাল কে পারে?
–হয়েছে হয়েছে,এখন পড়তে বসো।
মেহের হাই তুলতে তুলতে বললো,
–একটু ঘুমিয়ে নেই।অনেক ঘুম পাচ্ছে।
বলেই বিছানায় উঠে গেলো।
–ভুলেও ঘুমাবানা,,তাহলে কোলে করে বাথ টাবে নিয়ে রেখে আসবো।
মেহের ভ্রু কুচকে বললো,
–তুমি আমাকে এত হিংসা করো কেন?একটু ঘুমাই প্লিজ।
–যা বলেছি তাই,,,
দুরর,,,মেহের বাধ্য হয়েই বই খোলে বসলো।
কিছুক্ষণ পর,,
মেহেরের আর ভালো লাগছে না।নিজেকে বিদ্যাসাগর মনে হচ্ছে।আড়চোখে ফায়াজের দিকে চেয়ে দেখে সে ল্যাপটপে ঢুকে গেছে।ফেসবুকিং করছে।মেহেরের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।বিরক্ত লাগছে।মেহের নিচে গিয়ে দুই গ্লাস জুস নিয়ে এলো।এক গ্লাস ফায়াজের সামনে রেখে আরেক গ্লাস নিজের জন্য।এক চুমুক দিতেই দেখে ফায়াজ গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে।মেহের চোখ কান খাড়া করে রইলো।ফায়াজ এক চুমুক খেতেই চিতকার করে উঠলো,,,
–আহহহ,ঝাল,,,আহহ,,।
–হাহা,,খাও,,ঝাল।বেশ হয়েছে।
–তুমি,, তোমাকে তো আমি,,ওহহ,,মুখ জ্বলে যাচ্ছে।
মেহের ফায়াজকে ধরতে যাবে মেহের দৌড়।ফায়াজ মেহেরের পিছনে দৌড়াচ্ছে।মেহের পুরো ঘর দৌড়াচ্ছে।একবার বেডের উপর উঠছে,নামছে।আর বাচ্চাদের মতো খিলখিল করে হাসছে।
–তোমাকে ধরতে পারলে তোমার খবর আছে।
মেহেরকে অবশেষে ফায়াজ ধরে ফেললো।
মেহেরকে ধরে দুহাত পিছনে নিয়ে চেপে ধরলো।
–আমাকে ঝাল খাওয়ানো হচ্ছে,দাড়াও তোমাকেও ঝালের টেস্ট দিচ্ছি।
ফায়াজ মেহেরের মাথা শক্ত করে ধরে নিজের ঠোঁটে মেহেরের ঠোঁট চেপে ধরলো।
–উম,,উম,,
মেহের ছুটার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা।ফায়াজ গভীর ভাবে কিস করছে।
মেহেরকে ছাড়তেই হাপাতে হাপাতে নিজের জন্য রাখা জুসের গ্লাসের দিকে হাত বাড়ালো তার আগেই ফায়াজ গ্লাস তুলে এক নিশ্বাসে ঢকঢক করে সবটা শেষ করে দিলো।
মেহের কাদো কাদো হয়ে বললো,
–ফালতু লোক।তোমাকে এক বস্তা মরিচ খাওয়ানো উচিত।
ফায়াজ পতিউত্তরে মুচকি হেসে ল্যাপটপে মন বসালো।

🌼🌼

এভাবেই হাজারো খুনসুটি,ভালোবাসায় ৬মাস কেটে গেলো।
ফায়াজের অফিসে ফায়াজের নামে একটা পেপার এসেছে।পেপারটা পেয়ে ফায়াজ এতটাই খুশি যে সব কাজ ফেলে ফায়াজ বাসায় চলে এসেছে।
ঘরে এসে মেহেরকে পায়নি।ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে।বুঝতে পারলো মেহের শাওয়ার নিচ্ছে।ফায়াজ নিজের অফিসের পোশাক চেঞ্জ করে বিছানায় হাতপা ছড়িয়ে শুইয়ে গুনগুন গান গাইছে আর বা পা নড়াচ্ছে।
মেহের চুল মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ফায়াজকে এই দুপুর বেলায় দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে।
–তুমি!!
ফায়াজ উঠে বসে।ওর চেহারায় খুশির ঝলক স্পষ্ট।মৃদুস্বরে হেসে বলে,
হ্যা,মেরি জান।
–তুমি এই দুপুর বেলা অফিস থেকে,, সব ঠিক আছে?তোমাকে এত খুশি খুশি লাগছে কেন?
–আমি খুশি তাই!!
মেহের এগিয়ে এসে ফায়াজের পাশে বসে বললো,
–কিন্তু কেন?এত খুশি হওয়ার মতো কি হয়েছে?
ফায়াজ মাথা নাড়িয়ে বেখায়ালি ভাবে বললো,
–আমার জীবনে কেউ আসতে চলেছে,যাকে আমি খুব ভালোবাসি,,হয়তো তোমার চেয়ে বেশি।ঠিক বলতে পারছিনা।
ফায়াজের কথা শুনে মেহেরের বুকে ছ্যাত করে উঠলো,,
–মানে??
ফায়াজ উত্তর দিচ্ছেনা।ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আবারো গুনগুন করছে।
মেহের এবার ফুপিয়ে কেঁদে দিলো।কেদে ভাসিয়ে ফেলছে।
ফায়াজ টিস্যু বক্স এনে একটা করে টিস্যু মেহেরের সামনে ধরছে।মেহের একবার চোখ, মুছছে একবার নাক মুছছে।ফায়াজ গালে হাত দিয়ে দেখছে।
মেহের এবার নাক মুছে ফায়াজের দিকে ছুড়ে মারলো।
ফায়াজ নড়েচড়ে বললো,
–ওয়াক,,ছি,,এসব কি?
মেহের রাগী লুক নিয়ে বলল,
–আমি কাদছি।তোমার বউ কাদছে আর তুমি কিছু করছোনা?
–কই কিছু করছিনা?তুমি কাদছো আর টিস্যু এগিয়ে দিচ্ছি পানি মুছতে।এটা কি কাজ নয়?
মেহের আরো বেশি রেগে গেলো।
–ফায়াজ!!
–তুমি এত হিংসুক কেন?
–হুম আমি হিংসুক।কে আসছে চলেছে সেটা বলো?
ফায়াজ ভ্রু কুচকে বললো,
–তুমিই প্রথম মা যে কিনা নিজের অনাগত সন্তানকে হিংসা করছে।
মেহের ফায়াজের কথা বুঝতে না পেরে চেহারায় বিশাল বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন করে চেয়ে রইলো।
ফায়াজ মেহেরের চাহনি বুঝতে পেরে বললো,
–ওয়েট বলছি।
মেহেরকে বিছানায় শুইয়ে মাথার নিচে দুটো কুশন দিয়ে মাথা উঁচু করে দিলো।মেহের অবাক হয়ে ফায়াজের কাহিনি দেখছে।মেহেরের কপালে চুমু খেয়ে ছলছল চোখে চেয়ে রইলো।পানিতে চোখ চকচক করছে।তবে সে পানি খুশির সেটা মেহের বুঝতে পারছে।
–প্রেগন্যান্সির রিপোর্ট পজিটিভ।তুমি প্রেগন্যান্ট।আমাদের ভালোবাসার সংসারে ভালোবাসা বাড়াতে নতুন অতিথি আসছে।
মেহের খুশিতে কেদে দিলো।ফায়াজকে জড়িয়ে ধরে কাদছে।
–এত দিনে আমার স্বপ্ন পূরন হলো।আমি মা হবো।
ফায়াজ মাথা তুলে মেহেরের চোখের পানি মুছে দিলো।
–আমার বাবুর মাম্মা যেন আর না কাদে।কিছুক্ষণ আগেই বেশি করে কাদিয়ে নিয়েছি যাতে আর না কাদে।আমাদের বেবি কষ্ট পাবে।
মেহের কান্না থামিয়ে হাসছে।সুখের হাসি।স্বপ্ন পূরনের হাসি।
ফায়াজ মেহেরের পেটের জামা সরিয়ে দিয়ে চুমু খাচ্ছে।আর আদর করছে যেন বাবু ভূমিষ্ট হয়ে পেটের উপর বসে আছে।
মেহেরের প্রচুর সুরসুরি লাগছে।তাই আর না পেরে বললো,
–উমম,,আমার সুরসুরি লাগছে।
–তোমাকে সুরসুরি পেতে কে বলেছে?আমি তো বাবুকে আদর করছি।
–আমার পেট আর আমাকেই কথা শুনাচ্ছো?
–উহহ।।আমি তো ভুলেই গেছি তুমি তো হিংসুটে মাদার।দাড়াও তোমাকেও আদর করে দিচ্ছি।
ফায়াজ পেট ছেড়ে মেহেরের ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুইয়ে দিলো।গলার ওড়না সরিয়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।

ফায়াজ ভিডিও কলে ওর মম,পাপা আর বোনকে এক জায়গায় জড়ো করেছে।গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানাবে কিন্তু সমস্যা মেহেরকে ডেকে ডেকে গলা শুখিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মেহের আসছেনা।মেহের লজ্জা পাচ্ছে।ফায়াজ উঠে গিয়ে মেহেরেকে টেনে নিয়ে এলো।তারপর পাশেই বসিয়ে দিলো।
–মম যা বলছিলাম।তোমাদের জন্য গুড নিউজ আছে।আমি পাপা হচ্ছি।তুমি গ্রেন্ড মম হতে যাচ্ছো।আর পাপা তুমি গ্রেন্ড পাপা।
ফাইজা শুনেই চিতকার করে কান ফাটিয়ে দিচ্ছে আর লাফাতে শুরু করেছে।
ফায়াজের মম,পাপা এতটাই খুশি যে পারলে ল্যাপটপের স্কিন দিয়ে এসে পড়ে।
সবাই নানার কথা বলছে আর মেহের লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।
সবাইকে এতটা খুশি দেখে নিজের খুশিটা আরো বেরে গিয়েছে।
ফাইজা বললো,
–ভাবি আমার পরীক্ষা চলছে নয়তো এখনি চলে আসতাম।পরীক্ষার পর একবারে চলে আসছি।দেন বেবি আর তোমার সব দায়িত্ব আমার।বেবির ফুপ্পির।হিহি।

চলবে,,,

(আগামী পর্বে সমাপ্তি পর্ব দেওয়া হবে।এতদিন ভালোবেসে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।❤❤)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here