অনুভবে আজো তুমি🍁🍁 পর্ব-৫+৬

0
473

#অনুভবে_আজো_তুমি🍁🍁
পর্ব-৫+৬
ফাবিহা নওশীন

মেহের দৌড়ে বারান্দায় যায়।ফায়াজ মুখে সিগারেট গুজে দাঁড়িয়ে আছে।মেহের ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো,,
–ডাকছিলেন কেন??
ফায়াজ মেহেরের দিকে তাকিয়ে বললো,,
–নিশ্চয়ই গল্প করার জন্য নয়।লাইটার নিয়ে এসো।সিগারেট খাবো।

মেহের লাইটার এনে হাতে দিয়ে ঘুরে চলে যাবে তখনই ফায়াজ ওর হাত চেপে ধরে।

–তোমাকে যেতে বলেছি?চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকো।
মেহের বুঝতেছে না এখানে তার কি কাজ।ও কি ওর সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাবে??কিছু করার নেই।তাই চুপচাপ দাড়িয়ে আছে।

ফায়াজ আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট ধরালো।আয়েশ করে সিগারেট টানছে।মেহেরের খুব অস্বস্তি হচ্ছে।শুধু অস্বস্তি ই না সিগারেটের গন্ধটা নাকে বিশ্রীভাবে আসছে।
মেহের ভাবছে ফায়াজ ভালো করেই জানে আমি সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে পারিনা।আর এটা জানার পর ওনি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন।তবে এখন এখানে কেন দাড় করিয়ে রেখেছে?আমাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দেওয়ার জন্য??

ফায়াজ মেহেরের দিকে ঘুরে বললো,
-ঠিক ধরেছো।তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।

মেহের চমকে ফায়াজের দিকে তাকালো।ফায়াজ কিভাবে শুনলো আমার কথা আমি তো মনে মনে বলছিলাম।
ফায়াজ মেহেরের কোমড় পেচিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।ফায়াজের আচমকা এহেন কাজে মেহের কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো।ফায়াজ এক হাতে মেহেরকে জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে সিগারেট হাতে নিয়ে মেহেরের মুখ বরাবর সব ধোঁয়া ছেড়ে দিলো।মেহেরের নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ঢুকে গেলো।মেহের দুহাতে নাক মুখ চেপে ধরে কাশতে শুরু করলো।ধোঁয়া গুলো নাক আর মুখের ভিতর দিয়ে মনে হচ্ছে পেটের ভিতরে প্রবেশ করেছে আর পেটের ভিতরে সব ধোঁয়া এক সাথে বিদ্রোহ করছে।
ফায়াজ মেহেরের দিকে তাকিয়ে বাকা হাসি দিচ্ছে।
মেহের নাক মুখ চাপা অবস্থায় নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।মেহের কিছুটা জোরে ধাক্কা দিতেই ফায়াজ একটু সরে গেলো। তারপর মেহের আবার কাশতে শুরু করলো।কাশতে কাশতে বললো,

–আমার সাথে কেন এমন করছেন??আপনি খুব ভালো করেই জানেন সিগারেটের ধোঁয়া আমার সহ্য হয়না।খুব কষ্ট হয়।তবুও কেন??আপনি তো আমাকে কথা দিয়েছিলেন আপনি আর সিগারেট খাবেন না?
কথাটি বলার পর ই মেহেরের হুশ হলো।ও ভয়ে ভয়ে ফায়াজের দিকে তাকিয়ে দেখে ফায়াজের চোখমুখ রক্তবর্ন ধারণ করেছে।বুঝতে পারছে ফায়াজ প্রচন্ড রেগে গেছে।
ফায়াজ মেহেরকে টেনে দুবাহু চেপে ধরে বললো,
–আমি কি কথা দিয়েছি সেটা মনে আছে কিন্তু তুই আমাকে কি কথা দিয়েছিলি সেটা ভুলে গেছিস?তুই কি কথা রেখেছিলি??

মেহের কিছু বলতে যাবে তখনই মেহেরের বমি চলে এলো।মেহের দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।তারপর বমি করে চোখ মুখে পানিভদিয়ে শুয়ে পরলো।শরীর অনেক দূর্বল লাগছে তাই আর ফায়াজের কথার জবাব দিতে পারলো না।

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলো মেহেরের।বেডের একপাশে চুপটি করে ঘুমিয়ে ছিলো।ফায়াজের দিকে ঘুরে দেখে ফাজায় বাচ্চাদের মতো করে হাতপা গুটিয়ে ঘুমাচ্ছে।চুলগুলো চোখের উপর পরে চোখগুলো ঢেকে রেখেছে।মেহেরের খুব ইচ্ছে হচ্ছে ফায়াজকে ছুয়ে দিতে।কিন্তু আবার ভয় ও করছে যদি ফায়াজ জেগে যায়।
তাহলে কি রিয়েক্ট করবে।আর মেহের অস্বস্তিতেও পড়ে যাবে।
পরক্ষণেই চট করে মাথায় বুদ্ধি এলো।
মেহের তুই ঘুমের ভান ধরে হাত রাখ।যেই ভাবা সেই কাজ।মেহের চোখ বন্ধ করে বিসমিল্লাহ বলে ফায়াজের উপর হাত রাখলো।প্রায় ৫মিনিট কেটে যাওয়ার পর ফায়াজের নড়াচড়া নে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস নিল মেহের।যাক ঘুমিয়েই আছে।কিন্তু আচমকা ফায়াজ মেহেরের হাতে চুমু দিয়ে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিয়ে ঘুমের মধ্যে বিরবির করে বলে,ভালোবাসি।
ফায়াজের এই ছোট্ট কথাটির মধ্যে মেহের এক রাশ অভিমান খুজে পেলো।তবুও মনের ভেতরে অন্য রকম ভালো লাগা খুজে পেলো।

–জানি ফায়াজ,আজো তুমি আমায় ভালোবাসো।আমার প্রতি তোমার মনে যে ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে তা তোমার হৃদয়ের সমস্ত জায়গায় এমন ভাবে বিচরণ করেছে যে ঘৃণার আবরণে ভালোবাসাটা ঢেকে গেছে।
আমি তোমাকে ঠকাতে চাইনি ফায়াজ বিশ্বাস করো।আমি খুব করে তোমার হতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাগ্যের চাওয়াটাই অন্য রকম ছিলো। তোমাকে এসব বলেও লাভ নেই।তুমি বিশ্বাস করবে না।

সকালে গরম কিছুর আদো আদো স্পর্শে মেহেরের ঘুম ভেঙে গেলো।গরম কিছু সারা মুখে পড়ছে যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।এ এক অন্যরকম অনুভূতি।মেহের এই আবেশ ছেড়ে চোখ মেলতেই চাইছেনা।চোখ মেলে চেয়ে যা দেখলো তাতে মেহেরের চোখ চড়কগাছ।ও ফায়াজের বুকে শুয়ে আছে।ফায়াজ দু’হাতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে।আর ওর নিশ্বাস মেহেরের মুখে পড়ছে।
মেহেরের এই আবেশে থাকার শখ পালিয়ে গেল যখন দেখলো সকাল হয়ে গেছে আর ফায়াজের জন্য নাস্তা রেডি করতে হবে ভেবে।মেহের খুব সাবধানে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।
ফায়াজের অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে কোনো রকমে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে গেলো। কিন্তু বাধলো এক বিপত্তি।মেহের চা- কফি আর স্যুপ,নুডুলস ছাড়া কিছুই বানাতে পারেনা।এর আগে কখনো রান্না করেনি।শখের বশে চা কফি বানিয়ে খেতো।
মেহের কিছু না ভেবে কফি আর নুডুলস বানিয়ে ফেললো।সাথে ফ্রুটস দিয়ে জুস বানিয়ে নিল।কফি নিয়ে রুমে যেতেই দেখে ফায়াজ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছে।ডেসিন টেবিলে দাঁড়িয়ে টাই লাগাচ্ছে।
মেহের কফি বেড সাইট টেবিলে রেখে চলে যাচ্ছিলো।ফায়াজ ওকে ডেকে বেডে গিয়ে বসে কফি হাতে নিলো।তারপর বললো,

–জানো তো সবাইকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু মেয়েদের নয়।
তারপর কফির দিকে চেয়ে বললো,
–বিষ টিস মিশাও নি তো?আমাকে মেরে ফেলার জন্য?
মেহের মোটেও ফায়াজের এমন কথা শুনার জন্য প্রস্তুত ছিলো না।কি বলবে খুজে পাচ্ছেনা।নিজেকে কি ডিফেন্স করবে না চুপ করে ওর কথা শুনা উচিত।
মেহেরের ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে বললো,
–তুমি এক চুমুক খাও।তাহলেই প্রমাণ হয়ে যাবে।
মেহের ফায়াজের কথা শুনে থ,,
ফায়াজ ধমক দিয়ে বললো,
–কানে কম শোন নাকি?তাড়াতাড়ি খাও।আমার অফিসে যেতে হবে।
মেহের তাড়াতাড়ি কফিটা নিয়ে এক চুমুক খেয়ে বললো,
–আপনার জন্য আরেক কাপ কফি নিয়ে আসবো?
–অন্য কাপে খাওয়ার ইচ্ছে থাকলে এইটা তোমাকে দিয়ে ট্রাই করালাম কেন??বোকা মেয়ে এতটুকুও কমন সেন্স নেই।আমি এটাই খাবো।
মেহের চোখ বড়বড় করে বললো,
–আপনি আমার খাওয়াটা খাবেন?
ফায়াজ ধমক দিয়ে বললো,
–তোমার কোনো সমস্যা??
–জ্বি না।
–তাহলে দাড়িয়ে আছ কেন?যাও নিজের কাজে যাও।
মেহের দৌড়ে চলে গেলো।নখ কামড়াতে কামড়াতে ভাবছে ফায়াজ ওর খাওয়া কফি খাচ্ছে।
অপরদিকে ফায়াজ তৃপ্তি নিয়ে কফিতে চুমুক দিচ্ছে আর বলছে,
–কত স্বপ্ন ছিলো প্রতিদিন তোমার হাতের কফি দিয়ে দিনটা শুরু করবো।আর কফিতে প্রথম চুমুক হবে তোমার।সেই স্বপ্নগুলো আমি পূরন করবো হোকনা সেটা ভালোবাসার বদলে ঘৃণার।

নাস্তার টেবিলে বসে ফায়াজ ব্রেকফাস্ট দেখছে।নুডুলস,ব্রেড বাটার,ফলের জুস আর কিছু কাটা ফ্রুটস।
–এত ব্রেকফাস্ট??এত ব্রেকফাস্ট তো আমি জীবনেও দেখিনি।
মেহের বুঝতে পারছে ফায়াজ ব্যগ্র করে কথাগুলো বলছে।
মনে মনে বলছে,
–সবাইকে বিদেয় করে আবার ভালো ভালো ব্রেকফাস্ট খোজা হচ্ছে?আমি কি কাজের মেয়ে না কুকার যে এই অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার নাস্তা সাজাবো??না আমি জাদুকর যে জাদু করে পুরো টেবিল নাস্তা দিয়ে ভরে ফেলবো।
ফায়াজের কথায় আবারো ঘোর ভাংলো।

–হয়েছে মনে মনে আরগালাগাল করতে হবে না।একে তো এই নাস্তা তার উপর গালাগাল দিচ্ছো?।এইগুলো সব অল্প অল্প করে খেয়ে দেও।

মেহের অগত্যা ফায়াজের সব খাবারে একটা করে বাইট করে দিলো।তারপর ফায়াজ সেগুলো নির্বিঘ্নে খাচ্ছে।মেহের বুঝে না যাকে এত ঘৃণা করে তার এটো খাবার কি করে খেতে পারে।
ফায়াজ অফিসে যাবে বললেও অফিসে গেলো না।মেহেরকে সকাল সকাল খাটানোর ধান্দা মাত্র।
সোফায় বসে পা মেলে টিভি দেখছে।

দুপুরে রান্না করতে গিয়ে বিপত্তিটা ঘটলো।কি রান্না করবে?কিভাবে করবে??সবজি কিভাবে কাটবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।একদম কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।মেহের রান্নাঘরে গালে হাত দিয়ে বসে আছে।ওর ইচ্ছে করছে ফায়াজকে ধরে এনে চুলার সামনে দাড় করিয়ে দিতে।
–উফফ,,কি জ্বালায় পড়লাম রে বাবা।এখন আমি কি করবো?বাইরে থেকে অর্ডার করে খাবার আনবো??মেহের পাগল হয়েছিস?বাইরে থেকে খাবার আনলে ফায়াজ তোকে আস্ত চিবিয়ে খাবে।কার সাহায্য নেবো??
ওহহো আমার কাছে তো ফোন আছে।ইউটিউব দেখে রান্না করবো।
মেহের ইউটিউবে দেখে সবজি কাটা শুরু করলো।ফায়াজ ভাবছে যাই একবার দেখে আসি।ফায়াজ পা টিপে টিপে কিচেনের দরজার সামনে গিয়ে উকি দিলো।উকি দিয়ে দেখে মেহের পেজাজ,টমেটো কাটছে।গলার ওড়না ডেক্সের উপর রেখেছে।ওর কপালে ও ঠোঁটের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।মুখ লাল হয়ে আছে।চোখ দিয়ে হালকা পানি পড়ছে।পুরো চেহারায় বিরক্তির ছাপ।
ফায়াজের কলিজায় খচ করে উঠলো।ও আর ওখানে দাড়াতে পারলো না।বাড়ির বাইরে পুল সাইটে গিয়ে দাড়িয়ে রইলো।জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে তারপর নিজেকে নিজেই বলছে,
–তুই কোনো ভুল করছিস না ফায়াজ।ও তোর সাথে কি করেছে ভুলে যাস না।ও তোর ভালোবাসা,বিশ্বাস,ইমোশন নিয়ে খেলেছে।
মেহের রান্না করছে।ফায়াজ ল্যাপটপে বসে অফিসের কাজ করছে।ওর বাবা লন্ডনের বিজনেস সামলায়।ফায়াজকে দেশের বিজনেসের দায়িত্ব দিয়েছে।
মেহের তরকারি দেখছে তখনই ফায়াজ গলা ফাটিয়ে মেহেরকে ডাকছে।
–মেহের,,মেহের,,।
মেহের কিছুটা বিরক্ত হলো।
ফায়াজের সামনে গিয়ে বললো,
–এমন ষাড়ের মতো চিল্লাচ্ছেন কেন?
ফায়াজ কটমট করে ওর দিকে তাকালো,,।
মেহের আমতা আমতা করে বলল,
–না মানে,,,বলছিলাম এত জোরে চিতকার করছিলেন কেন বলুন।
–রুমে গিয়ে কাবার্ডে খোলে কালো রঙের একটা ফাইল আছে নিয়ে এসো।
মেহেরের প্রচুর রাগ হচ্ছে।এমনিতেই পুরো বাড়ির কাজ মাথার উপর দিয়ে দেখেছে।
–এইটা তো আপনি ও আনতে পারেন।আমাকে না খাটালে আপনার ভালো লাগে না তাই না।যত্তসব।ইচ্ছে করছে রান্না ঘর থেকে লবণ এনে
গলার ভিতর লবণ ঢেলে দেই।
ফায়াজকে কিছু বলতে না দিয়ে হনহন করে চলে গেলো।
ফায়াজ ফ্যালফ্যাল করে মেহেরের যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো।
এই মেয়ে কি এসব আমাকে বলে গেলো।

ফায়াজ লাঞ্চ করতে বসেছে।মেহের চিন্তাগ্রস্ত চেহারা নিয়ে দাড়িয়ে আছে।ফায়াজ এক লুকমা ভাত মুখে দিতেই থুম মেরে যায়।মেহেরের আর বুঝতে বাকি থাকে না কি হতে যাচ্ছে?
ফায়াক ওয়াক করে মুখ থেকে ভাত প্লেটে ফেলে দেয়।মেহের মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে খিচ ধরে রয়েছে।
ফায়াজ খাবার প্লেট ছুড়ে ফেলে দেয়।কাচের প্লেট ভেঙে ভাত মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লো।মেহের কেপে উঠে।ফায়াজ চোখ মুখ শক্ত করে বললো,
–এইসব কি রান্না করেছো?এইগুলো মানুষের খাবার?রাস্তার কুকুর ও এগুলো খাবে না।এগুলো খাইয়ে আমাকে মারতে চাইছো?

মেহের মিনমিন করে বলে,
–আসলে এর আগে আমি কখনো রান্না করিনি।রান্না করা শিখিনি।
এবার ফায়াজ আরো রেগে গেলো।দাতে দাত চেপে বললো,তাহলে কি শিখেছ?কিভাবে ছেলেদের সাথে প্রতারণা করতে হয়?কিভাবে তাদের ঠকাতে হয়?কিভাবে তাদের জীবন নিয়ে খেলা যায়?এইগুলা শিখেছো?

মেহের মাথা নিচু করে আছে।ফায়াজের কথাগুলো ওর কলিজাটা ছিন্ন ভিন্ন করে দিচ্ছে।
ফায়াজ উঠে চলে গেলো।গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়ে গেলো।গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছে আর ভাবছে,
–হায় আল্লাহ আমি কাকে শাস্তি দিচ্ছি?নিজেকে না মেহেরকে?এই মেয়েকে শাস্তি দিতে গিয়ে এই ভর দুপুরে খাবারের জন্য বাইরে ছুটছি।উফফ।
ফায়াজ একটা রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছে।

অপরদিকে মেহের মেঝে থেকে ভাংগা কাচের টুকরো আর খাবার তুলে মেঝে পরিস্কার করছে।মেঝে পরিস্কার করে রান্না করা খারাবগুলো সব ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিলো।
ডাইনিং এ বসে অঝোর ধারায় কাদছে।আর বলছে,
–জীবনে প্রথম বার রান্না করলাম আর উনি,,।মানলাম ভালো হয়নি তাই বলে এভাবে কথা শুনাবে।সব সময় কথা শুনানোর ইস্যু খোজে।সারাদিন এত কষ্ট করলাম এই রান্নার জন্য।উনি তো দেখেছেন কত কষ্ট করেছি।
মেহের একা একা বলছে আর টিস্যু দিয়ে নাক মুছছে।
তারপর নিজের মনেই হেসে দিলো।
–কিরে মেহের তুই তো দেখছি সেই দিনের মতো টিস্যু দিয়ে চোখ মুছার আগে নাক মুছছিস?তাহলে কি,,
কলিং বেল বেজে উঠলো।মেহের চোখ মুছে দরজা খোলে একটা ছেলেকে দাড়িয়ে থাকতে দেখলো।
–মেডাম,এটা স্যার পাঠিয়েছে আপনার জন্য।
-ধন্যবাদ।

মেহের খোলে ভিতরে কাচ্চি বিরিয়ানি দেখতে পেলো।সাথে পিজ্জা।মেহের অভিমানী কন্ঠে বললো,
–খাবো না আমি।আজকে কেউ আমাকে খাওয়াতে পারবেনা।ওই গুন্ডা বরও না।রান্নার জন্য খোটা দিবে আবার খাবার পাঠানো হচ্ছে।

বিকেল বেলায় ভিডিও কলে মায়ের দেখানো মতো মেহের রান্না করেছে।মুরগির মাংস,রুই মাছ,ডাল,ভাজি,চিংড়ি মাছ রান্না করেছে।যদিও অনেক সময় লেগেছে।মেহের সবকিছু টেস্ট করে দেখেছে যদিও মায়ের হাতের রান্নার মতো সুস্বাদু হয়নি কিন্তু খারাপ হয়নি।
–উফফ মেহের,জিও।তোকে নিয়ে এই প্রথম আমার গর্ব হচ্ছে।কি রান্না করেছিস।তোর বর এবার আর ছুরে মারবে না চেপেপুটে খাবে।

কাজ শেষ করে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিলো।চারদিকে অন্ধকার নেমেছে।মেহের বুঝতে পারলো রাত হয়ে এসেছে।হটাৎ ই ওর ভয়ভয় লাগছে এত বড় ফাকা বাড়িতে একা।গেটের সামনে দুজন ওয়াচম্যান ছাড়া আর কেউ নেই।বাসার পর বিরাট বড় পুল,বাগান তারপর গেইট।
মেহেরকে এই সুনশান নীরবতা গ্রাস করে ফেলছে।নিজের পায়ের শব্দেও বার বার চমকে উঠছে।মনে হচ্ছে এই বুঝি কেউ এসে ওর গলা চেপে ধরবে।ফায়াজেরও কোনো খবর নেই।ফোন করার সাহসও পাচ্ছেনা।রুমের দরজা লক করে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিয়ে এই গরমেও কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরল।

কিছুক্ষণ পর মেহের খচখচ শব্দ পেলো। মেহেরের সারা ভয়ে শরীর কাপছে,,

চলবে,,

#অনুভবে_আজো_তুমি🍁🍁
পর্ব-৬
ফাবিহা নওশীন

ফায়াজ রুমে ঢুকে অবাক।এই গরমের মধ্যে মেহের কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।তারচেয়ে বেশি অবাক হলো রুমের এসি ফুল পাওয়ারে চলছে।
মেহের আস্তে আস্তে কম্বল সরিয়ে উকি দিলো।উকি দিয়ে ফায়াজকে দেখে এক টানে কম্বল ফেলে লাফিয়ে নেমে ফায়াজের কাছে এসে হাপাতে হাপাতে বললো,
–আপনি?আমি তো ভেবেছিলাম,,
ফায়াজ ভ্রু কুচকে বললো,
–কি?
–কোনো দৈত্য দানব।
–কিহ!!আমাকে দেখে তোমার দৈত্য দানব মনে হয়?
–নাহ,,আপনাকে দেখে
মেহের থেমে গেলো তারপর বললো,
–আপনি রাতে দেরি করে ফিরবেন না।আমার ভয় করে।
–আমাকে তোমার ভয় করে না?
–আপনি মানুষ। মানুষ আর ভূতপ্রেত,দৈত্য দানবের ভয় এক না।
যাইহোক আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন।আমি খাবার দিচ্ছি।
–খাবার?তোমার খাবার খেলে ডায়রিয়া বাধাতে চাইনা।
–আমি আবারো রান্না করেছি।ওতটা খারাপ হয়নি।খেয়ে দেখতে পারেন।
–আমি রিক্স নিতে রাজী নই তাই বাইরে থেকে ডিনার করে এসেছি।
মেহেরের মন খারাপ হয়ে গেলো।এত কষ্ট করে রান্না করলো আর ফায়াজ বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে।দুপুরে খায়নি আর রাতে একসাথে খাবে বলে বসে আছে।
মেহেরের ইচ্ছে হলো বেশ কিছু কথা শুনিয়ে দিতে কিন্তু কিছু আ বলে শুধু বললো,,
–ওওহ।
মেহের আবারো শুয়ে পরলো।রাতেও খাবেনা।

ফায়াজ ড্রিংক করবে।বোতল গ্লাস নিয়ে বসে পড়লো।তারপর মেহেরকে বললো,
–মেহের,নিচে থেকে বরফ নিয়ে এসো।
মেহেরের প্রচুর রাগ হলো।একদম তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
–পারবোনা।সারাদিন অনেক খাটিয়েছেন।অনেক কাজ করেছি।নিজেরটা নিজে নিয়ে খান।সারাদিন তো পায়ের উপর পা তুলে বসে ছিলেন,এবার একটু শরীর নাড়ান।
–মেহের আমি তোমার কাছে এতো এডভাইস চাইনি জাস্ট বরফ চেয়েছি।যাও নিয়ে এসো।
–আমি কেন আনবো?আমি কি ড্রিংক করবো?আপনি করবেন আপনি আনেন।
–এত কথা না বলে বরফ নিয়ে এসো নয়তো ভালো হবে না।
মেহের লাফিয়ে উঠে বিছানায় বসলো,
–কি করবেন?মারবেন?মারুন।যদি বলেন তো একটা লাঠি এনে দেই।আনবো?
ফায়াজ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।কিছু না বলে নিজেই নিচে চলে গেলো।ফ্রিজে ওর পাঠানো খাবার দেখে ফায়াজের মেজাম বিগড়ে গেল।
তারপর ওর রান্না করা খাবার চেক করে বুঝতে পারলো মেহের সারাদিন খায়নি।
–ওহহ,,আচ্ছা।এই জন্য মেডামের মাথা এতো গরম।পেটে কিছু না পরলে তো মেজাজ খারাপ থাকবেই।তা একটু টেস্ট করে দেখি মেডাম কি রান্না করেছেন।
ফায়াজ সব খাবার টেস্ট করে দেখলো।
–রান্না তো ভালোই করেছ।
ফায়াজ বরফ না দিয়ে উপরে চলে গেলো।

–মেহের উঠ, আমার ক্ষুধা লেগেছে।
–আমি ভালো করেই জানি আপনার ক্ষুদা লাগে নি।আমাকে উঠানোর জন্য বলছেন।আমি উঠবো না।
–মেহের,আমি সত্যিই খাবো।
–নিয়ে খান।সব কিছুই আছে ইচ্ছেমতো নিয়ে খান।
–তুমি উঠবে না?
–না।
ফায়াজ আর কিছুনা বলে মেহেরকে টেনে তুলে কোলে নিয়ে হাটা ধরলো।
–কি করছেন ছাড়ুন।আমি পরে যাবো।আমাকে নামান আমি যাবো।
–ভালোই ভালোই বলেছিলাম শুনো নি।
ফায়াজ একদম ডাইনিং এর পাশে গিয়ে মেহেরকে নামালো।তারপর পানি খেয়ে হাপাতে হাপাতে বললো,
–আটার বস্তা টেনে আমি শেষ।
মেহের ভ্রু কুচকে তাকালো।
–এভাবে পেচার মতো না করে খাবার দেও ক্ষুধা লেগেছে।
মেহের খাবার বেড়ে দিলো।
–তুমি দাড়িয়ে আছো কেন?এখন কি আমি তোমাকে খাবার বেড়ে দেবো?বসো,খেয়ে নেও।
মেহেরের খুব ক্ষুধা পেয়েছে তাই খাওয়া শুরু করলো।

মেহের শুয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর ফায়াজ রুমে এলো কারো সাথে ফোনে কথা বলছিলো।মেহের তখনও সজাগ।
ফায়াজ এসে শুয়ে পরলো।তারপর মেহেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে ফোনে কথা বলছে।
–নো ডার্লিং,আমি তোমাকে ভুলতে পারি।কখনও ই না।

–নো সুইটহার্ট, আমি সবাইকে ভুলতে পারি কিন্তু তোমাকে নয়।

মেহের ফায়াজের কথা শুনে চমকে গেলো।
ফায়াজ কোনো মেয়ের সাথে কথা বলছে এটা বুঝতে আর বাকি রইলো না।মেহের কান পেতে রেখেছে কনফার্ম হওয়ার জন্য।
ফায়াজ বলছে,
–ওকে কাল চলো মিট করি।আমাদের ৫ম ডেট।ওয়েট নিরা আমার একটা অফিস কল এসেছে।এখন রাখছি।উম্মাহ,,বেবি।

মেহেরের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।নিরা,,একটা মেয়ের সাথে।আর এইভাবে কথা বলছে।মেয়েটা কে?কি সম্পর্ক?
মেহের আর নিতে পারলো না।বুকের ভিতরের চাপা আর্তনাদ কান্না হয়ে জমে আছে।ওর চোখ বেয়ে পানি বেড়িয়ে এলো।
পরের ফোন রিসিভ করে বললো,
–হাই নিতু,জান কেমন আছো?

–সরি অফিস কল ছিলো তাই ব্যস্ত পেয়েছো ফোন।

–কাল সকালে মিট করি। সকাল ১০টায়।পরে লোকেশন জানাবো।
মেহের কানের উপর বালিশ চেপে ধরলো।ও আর শুনতে চাইছেনা ফায়াজের কথা।
ফায়াজ স্পষ্ট বুঝতে পারছে মেহের কাদছে।কিছুক্ষণ পর পর ওর শরীরের ঝাকিয়ে উঠছে।এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে মেহের কাদছে।
ফায়াজ আরো জোরে বললো,
–ওকে বেবি,গুড নাইট।আই লাভ ইউ।উম্মাহ।

ফায়াজ মেহেরের দিকে তাকিয়ে একটা পৈচাশিক হাসি দিলো।তারপর চোখ বন্ধ করে বললো,
–ভালোবাসো না তাই এতো কষ্ট হচ্ছে আর আমি ভালোবেসে কিভাবে সহ্য করেছি।তোমাকে কষ্ট পেতে দেখলে আমার প্রচুর আনন্দ হয়।তোমাকে এভাবেই কষ্ট দেবো।আমাকে তুমি অনেক কাদিয়েছো।তোমার জন্য কত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি।কিচ্ছু ভুলি নি আমি।চাইলেও ভুলতে পারবোনা।

সকালে এলার্মের শব্দে ঘুম ভাংলো।
মেহের সারারাত কেদেছে।মাথা ভারী হয়ে আছে।উঠতে ইচ্ছে করছে না তবুও উঠে গেলো।মুখ ভারী করেই নাস্তা বানালো।কফি নিয়ে রুমে এসে আরাফকে রুমে পেলো না কফিটা বেডসাইড টেবিলে রাখতেই ফায়াজের ফোন বেজে উঠলো।মেহের স্পষ্ট দেখছে নিতু নামটা।ওর গতকাল রাতের কথা মনে পড়ে গেলো।কেমন যেন থমকে গেলো।ওর খুব ইচ্ছে করছে ফোনটা রিসিভ করে শুনতে মেয়েটা কি বলে।ফায়াজকে কোথাও দেখা যাচ্ছেনা।মেহের ফোনটা হাতে নিতেই কোথায় থেকে এসে ছু মেরে ফোন কেরে নিলো ফায়াজ।তারপর মেহেরের দিকে অগ্নি দৃষ্টি ছুড়ে এক হাতে ওর দুহাত পিঠ বরাবর চেপে ধরে অন্য হাতে ফোন রিসিভ করলো।নিজের মুখটা মেহেরের কানের সামনে নিয়ে বললো,

–নিতু,সুইটহার্ট।আমি আসছি জাস্ট ১৫মিনিট।

–ওফফ লোকেশন জানাতে ভুলে গেছি।উমম,তুমি কি চাও?আমাদের ফার্স্ট ডেট কোথাও হওয়া উচিত?

–তুমি যা চাইবে।রেস্টুরেন্ট অর হোটেল।

–ওকে ডার্লিং আই এম কামিং।সি ইউ সুন।
ফায়াজ ফোন রেখে মেহেরের হাত ছেড়ে সামনের দিকে ঘুরালো।
তারপর মেহেরের গাল চেপে ধরে বললো,
–তোমার সাহস কি করে হলো আমার ফোন হাত লাগানোর?
–বারবার বাজছিলো,,
–বারবার বাজুক।বাজতে বাজতে ডেড হয়ে যাক।তাতে তোমার কি?এর পর যদি আর কোনোদিন তোমাকে আমার ফোনে হাত দিতে দেখি,,তোমার এই হাত আমি কেটে ফেলবো।

এখন যাও কাবার্ট থেকে আমার এস কালার কোর্ট নিয়ে এসো।আর হুয়াইট কালার টিশার্ট,সু নিয়ে এসো।
মেহের সব কিছু এনে দিলো।ফায়াজ সেগুলো পড়ে গায়ে পারফিউম লাগিয়ে,চুলে জেল দিয়ে,চোখে সানগ্লাস,হাতে ব্যান্ডের ওয়াচ পড়ে।
তারপর রেডি হয়ে বারবার ঘুরে ফিরে আয়নার দেখছে।মেহের সব কিছু আড়চোখে দেখছে।কষ্টে ওর বুক ফেটে যাচ্ছে।নিজের স্বামী অন্য কারো সাথে ডেটিংয়ে যাচ্ছে অথচ ওর কিছুই করার নেই।ফায়াজ আয়নার সামনে দাড়িয়ে মেহেরকে বলছে,
–দেখো তো কেমন লাগছে?নিতুর সাথে ফার্স্ট ডেট আজকে।ভালো না লাগলে এই মেয়ে পটবে না।ওর অনেক ডিমান্ড।
মেহের কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
ফায়াজ বাকা হেসে কারের চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
মেহের মেইন দোরে দাড়িয়ে ফায়াজের চলে যাওয়া দেখছে।তারপর গেইট বন্ধ করে ফ্লোরে বসে পড়লো।কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ থেকে চিতকার করে কাদতে লাগলো,,,

–ফায়াজ,তুমি আমার সাথে এটা করতে পারোনা?তোমার জীবনে অন্য কেউ আছে এটা আমি মানতে পারবোনা?তুমি কি করে এতটা বদলে গেলে?তুমি পরনারীতে আসক্ত এটা আমি কি করে মেনে নিবো?কোনো স্ত্রী ই এটা মেনে নিবেনা।তুমি আমাকে এত বড় শাস্তি দিতে পারোনা।

একদম রাতের বেলায় ফায়াজ বাসায় ফিরেছে।মেহের টিভি ছেড়ে অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে।মেহের মুখ ভারী করে রেখেছে যা ফায়াজের চোখ এড়ায়নি।ফায়াজ এসেছে কিন্তু তাতে মেহেরের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।ফায়াজ লিভিং রুমে আয়েশ করে বসে মেহেরকে ডাকে।
–মেহের,,এক কাপ কফি দেও।
মেহের কফি বানিয়ে ফায়াজের দিকে না তাকিয়ে টেবিলে রেখে চলে যাচ্ছিলো।ফায়াজ মেহেরকে এক টানে নিজের কোলের উপর বসিয়ে দিলো।
মেহের ছুটার জন্য ছটফট করছে।ওর অনেক অস্বস্তি হচ্ছে।শুধু অস্বস্তিই না কেমন ঘৃণা ও হচ্ছে।
ফায়াজ মুচকি হেসে বললো,
–আরে এমন ছুটাছুটি করছো কেন?শুনবে না আমার ডেট কেমন হলো?
মেহের এতক্ষণ ফায়াজের দিকে তাকায়নি।ফায়াজের কথা শুনে ওর দিকে অবাক হয়ে চেয়ে রইলো।
–আরে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?প্রেমে পড়ে যাবে।কিন্তু লাভ হবেনা কিছু।আমার সিট একদম খাকি নেই।
মেহের চোখ নামিয়ে নিলো।হটাৎ ফায়াজের টি শার্টের দিকে চোখ গেলো।সেখানে কফি কালার লিপস্টিক লেগে আছে।
মেহেরের চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে শুরু করলো,,,,,

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here