#না_চাহিলে_যারে_পাওয়া_যায় পর্ব ১৬

0
87

#না_চাহিলে_যারে_পাওয়া_যায় পর্ব ১৬
#ফারহানা ইয়াসমিন

দু’দিন পর হাসপাতাল থেকে ছুটি হলো রুহির। পুরোপুরি সুস্থ না তবে বাসায় থাকতে পারবে পর্যাপ্ত রেস্ট করার শর্তে। সেলাই শুকাতে সময় লাগবে সে পর্যন্ত সাবধানে থাকতে হবে। আসলে হাসপাতালে থাকতে ভালো লাগছিলো না রুহির। রাযীন নিজের কাজ ফেলে ওর কাছে বসে থাকছে এটা দেখে ওর কেমন যেন অসস্তি লাগছিলো৷ রাযীনের ব্যবহারে ব্যপক পরিবর্তন দেখে অবাক কম হয়নি রুহি। প্রয়োজনে যতবার ডেকেছে রাযীন একডাকে সারা দিয়েছে। রা্যীনের কাঁধে ভর দিয়েই বাথরুম সেরেছে, খাবার খেয়েছে। এই লোক এতটা ধৈর্য্যশীল সেটা আগে ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি। এখন সচক্ষে দেখে বেশ অবাকই লাগছে। এতোদিন মনে হতো এই লোক ঝগড়া ছাড়া আর কিছু জানে না। এখন মনেহচ্ছে যতটা দেখায় ততটাও খারাপ না লোকটা।
“নামো।”
রুহি চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো শশুর বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড়ানো। ওর আসার খবর পেয়েই হয়তো রোজী আর মর্জিনা এসে দাঁড়িয়ে আছে।মর্জিনা গাড়ি থেকে ব্যাগগুলো নামিয়ে নিলো। রাযীন এগিয়ে এসে রুহিকে ধরলো। রোজীও এগিয়ে এলো-
“এসো বউমা। কেমন একটা ধকল গেলো তোমার বলো দেখি? ভুল বুঝতে পারেন এই ভয়ে তোমার বাবাকে কিন্তু জানাইনি বউমা। কি লজ্জার ব্যাপার হলো বলো দেখি?”
“লজ্জার কি আছে মা? এটাতো দূর্ঘটনা।”
“তা হোক। তোমার বাবা ভাবতে পারেন তার মেয়েটিকে আমরা দেখে রাখতে পারছি না। তুমি একটু কষ্ট করে তোমার শশুর এর সাথে দেখা করবে কি? ভীষণ পাগলামো করছেন তোমায় না দেখতে পেয়ে।”
“হ্যা মা, বাবার সাথে দেখা করবো এতে কষ্টের কি আছে? আমার পায়ে তো আর কিছু হয়নি, পা তো ঠিকই আছে।”
“তবুও মাথার আঘাত তো বেশ ভালোই ছিলো।”
রোজী কথা বলতে বলতে এগিয়ে গেলো। রুহি আশেপাশে ঘাড় ফিরিয়ে কাউকে খুঁজলো যেন-
“কি দেখছো এমন করে? তুমি কি কাউকে খুঁজছো?”
“আজ ছোটমাদের কাউকে দেখছি না যে?”
“নিয়াজের বাড়ি ফিরে আসা উপলক্ষে সবাই মিলে নানা বাড়ি গেছে ওরা। যেতে চাইছিলো না অবশ্য। আমিই বললাম সবার সাথে দেখা করে আসার জন্য।”
“ওহহহ।”
রুহি আশাহত হয়ে উত্তর দিলো। বুকের ভেতরটা অস্থিরতায় লাফাচ্ছে, মনের মধ্যে জমে থাকা কৌতূহল শান্ত হয়ে তিস্টাতে দিচ্ছে না। নিয়াজই কি শুভ কিনা এই প্রশ্নের উত্তর জানাটা ভীষণ জরুরি ওর জন্য। কিন্তু রাযীনকে এতো প্রশ্ন করে ওর মনে সন্দেহ জাগতে পারে। শিওর না হয়ে আগেভাগে রাযীনকে কিছু বুঝতে দিতে নারাজ রুহি। চিন্তায় চিন্তায় মাথাটা ছিড়ে পড়ার যোগার। নিজেকে অনেক কষ্টে শান্ত রাখছে সে। কিভাবে সেটা নিজেও জানে না। মনের চঞ্চলতা নিয়ে শশুরের সাথে দেখা করে দ্রুত নিজের রুমে ফিরলো। এতটুকুতেই কেমন যেন ভীষণ ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। রুহি বিছানায় শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পর চোখ মেলতেই দেখলো রাযীন বাথরুমে গেলো নিজেকে ফ্রেশ করতে। রুহি কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করলো। মনে করার চেষ্টা করছে শুভ কখনো এমন কিছু কি করেছে যাতে বোঝা যায় সে এ বাড়ির সন্তান? যতদূর মনে পড়ে শুভ সবসময় খুব সাধারণ ভালো চলাফেরা করেছে। নিজে টিউশন করেই নিজের খরচ জোগাড় করেছে। পড়ালেখায় বরাবরই শুভ ভালো বলে পাশ করে বেরুনোর সাথে সাথে ব্যাংকে চাকরি হয়ে গেলো। তার কিছুদিন পরে রুহির চাকরি হলো। শুভ আগে হোস্টেলে থাকলেও চাকরি পাওয়ার পর একটা দুরুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিলো ওর আরেক কলিগের সাথে শেয়ারে। নাহ, সন্দেহজনক কিছু মনে পড়লোনা। শুভ নিজেকে এতিম দাবী করেছিলো তাহলে এই বাড়িতে এলো কি করে? নাকি অন্য কাউকে শুভ বলে ভুল করেছে? সারাক্ষণ মাথায় শুভর ভাবনা থাকে এইজন্যই হয়তো শুভকে দেখেছে। রুহি মাথা নেড়ে শুভর ভাবনা দূর করতে চাইলো।

“এতো কি ভাবছো বলো তো? দু’দিন ধরে দেখছি যতক্ষণ সজাগ থাকো গভীর ভাবে কিছু ভেবে চলেছো। এনিথিং সিরিয়াস? চাইলে আমার সাথে শেয়ার করতে পারো। চাকরিতে কোন ঝামেলা হচ্ছে কি?”
রুহি চমকে চোখ মেলে দেখলো রা্যীন দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। স্নান সেরে বাইরে যাওয়ার পোশাক পরে নিয়েছে। ডিপ গ্রিন কালারের শার্ট আর অফ হোয়াইট গ্যাভার্ডিন প্যান্টে রাযীনকে খুব স্মার্ট দেখাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। গা থেকে ভুরভুর করে পারফিউমের সুবাস বেরুচ্ছে। চুলগুলো ভেজা ভেজা একদম স্নিগ্ধ অনুভূতি হলো রাযীনকে দেখে। রুহি তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। রাযীন চোখ নাচাতেই রুহি ভ্রু কুঁচকে উঠে বসলো-
“কোথাও বেরুচ্ছেন?”
“হ্যা, অফিসে যাচ্ছি। দু’দিন যাইনি আজ যেতে হবে। আমার একটা প্রজেক্টে ঝামেলা হয়েছে তাছাড়া আজ অফিসে ছোটআব্বু আর ভাইয়া কেউই নেই। তুমি দুপুরে খেয়ে মেডিসিন নিয়ে নিয় কেমন? একা থাকতে সমস্যা হলে মর্জিনাকে ডেকে নিয়।”
“আচ্ছা। একটা কথা জানার ছিলো আমার। এখন প্রশ্ন করবো না পরে?”
“কি জানতে চাও?”
“নিয়াজ কে?
রাযীন আয়নার দাঁড়িয়ে চুলগুলোতে আবার ব্রাশ চালায়। রুহির প্রশ্ন শুনে ওর হাত থেমে যায়, ঘুরে দাঁড়িয়ে রুহির দিকে তাকালো গুরুগম্ভীর ভাবে-
“গতদিনও জানতে চেয়েছিলে। কি ব্যাপার বলোতো? তুমি কি আগে দেখেছো ওকে? তোমার চেনা?”
“চেনা কিনা কিভাবে বলবো? দেখিনি তাকে, সেদিন সকালে সবাই দেখলাম তার জন্য ব্যস্ত হয়ে রয়েছে। সেই কিউরিওসিটি থেকে জানতে চাইছি।”
রাযীন হাসলো-
“তাই বলো। আসলে নিয়াজও আমার মতো পলাতক ছিলো কিনা সেই জন্যই ওকে নিয়ে এতো ব্যস্ততা।”
“মানে?”
“মানে ও সবসময় একটু ঘরকুনো ছিলো, নিজের মতো থাকতো। ইন্টার পাশ করার পরে একদিন ঘর ছেড়ে কোথায় যে গেলো আর বাড়ি ফিরলো না। অনেক খোঁজ করেও ওর হদিস পাওয়া যায়নি। ওই যে বলে না, যে নিজ থেকে হারিয়ে যেতে চায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না ওইরকম ব্যাপার আর কি। সেই ছেলে এবার আচমকা এসে হাজির। এখন বুঝতে পারছো তো কেন ওকে নিয়ে ব্যস্ততা?”
“আপনারা সব ভাই কি তবে তার ছিড়া? ঘর পালানো রোগের রোগী?”
রুহির মুখ থমথমে। ওর কথা শুনে রাযীন হো হো করে হাসলেও রুহির মুখেচোখে হাসির লেশমাত্র নেই। সে মুখচোখ শক্ত করে বসে আছে।
“তা বেশ বলেছো। বলে গরীবের ঘোড়া রোগ আর বড়লোকের খোঁড়া। আচ্ছা আমি আসি, ফিরতে রাত হবে আমার।”
“আমাকে বলছেন কেন? আপনার স্প্যনীশ গার্লফ্রেন্ডকে বলুন।”
রাযীন মনভোলানো হাসি দিলো-
“রাগছো কেন? ওর সাথে তো পথে যেতে যেতে কথা হবেই।”
রাযীন চোখ টিপে বেড়িয়ে গেলো। রুহি রাগে ফুঁসতে লাগলো, মাথা থেকে যেন ধোঁয়া বেরুচ্ছে। নিয়াজই তবে শুভ? কিভাবে পুরোপুরি শিওর হবে চোখে না দেখে? বেশি টেনশনে রুহির মাথা ব্যাথায় টনটন করছে। না পারতে আবার বিছানায় গড়িয়ে পড়লো রুহি। অনিচ্ছায় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো।

কতোক্ষণ ঘুমিয়েছে জানে না, হঠাৎ কানের কাছে ফিসফিস শুনে রুহির ঘুম ভাঙলো। কেউ একজন কোমল গলায় ওর নাম ধরে ডাকছে, কপালে আলতো হাতে নরম স্পর্শ দিচ্ছে। রুহি তাকাতেই মুখটা ওর উপর ঝুঁকে গেলো। আবছা আলোয় স্পষ্ট বোঝা না গেলেও পুরুষ আয়বর বুঝতে অসুবিধা হলোনা। হঠাৎ ভয়,পেয়ে চিৎকার করবে এমন সময় শোনা গেলো-
“রুহ, আমি শুভ। এখন কেমন লাগছে তোর? খুব বেশি ব্যাথা পেয়েছিস, তাই না?”
“শুভ! সত্যিই তুই শুভ! তুইই কি নিয়াজ?”

চলবে—
©Farhana_Yesmin

(গল্প লেখা আছে কিন্তু দিতে ইচ্ছা করে না। না লাইক, না কমেন্ট না স্ট্যাটাসে রিয়্যাকশন। গ্রুপে সারা নাই, পেজে সারা নাই। একবছর পরে একটা বই আনলাম তাতেও সারা নাই। বইটই এ নতুন বই দিলাম সেটাতেও খুব কম রেসপন্স। আমারই ব্যাড লাক আমি পাঠক ধরে রাখতে পারছি না। সবাই ভালো থাকবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here