#হৃদমাঝারে পর্ব-১৬

0
88

#হৃদমাঝারে পর্ব-১৬
#দেবারতি_ধাড়া

-এই না না, কমপ্লিট কী করে হবে? সবাই মিলে তো একটাও ছবি তোলা হলো না!
-হ্যাঁ আমি তুলে দিচ্ছি সবার ছবি, এবার তোমরা সবাই ওদের পাশে গিয়ে এক এক করে দাঁড়াও।

একে একে সবার সাথে এবং আলাদাভাবে কিছু ছবি তুলে দিলো জিয়া। শুধু জিয়ার সাথেই ওদের একটাও ছবি তোলা হয়নি এখনও। তাই দেখে রিমলি বললো,

-এই জিয়া দি? তোমার তো একটাও ছবি উঠলো না! যাও এবার তুমি গিয়ে ওদের পাশে দাঁড়াও, আমি ক্লিক করে দিচ্ছি!
-থাক না! আমি নাহয় পরে সেলফি তুলে নেবো সবার সাথে!
-না না, তা বললে কী করে হয়? সবাই ছবি তুললো আর তুমি তুলবে না? যাও বলছি, ওখানে গিয়ে দাঁড়াও!

রিমলির কথায় জিয়া গিয়ে শিয়ার পাশে দাঁড়ালো ছবি তোলার জন্য। কিন্তু রিমলি ক্যামেরার লেন্সে একবার চোখ রেখে বললো,

-ফ্রেমটা ঠিক আসছে না গো জিয়া দি! তুমি বরং আরুশি দি-র পাশে না দাঁড়িয়ে আমার দাদার পাশে এসে দাঁড়াও। তবেই ফ্রেমটা ঠিক ঠাক লাগবে মনে হয়!

রিমলির কথা শুনে একবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখে জিয়া বললো,

-থাক না! আমি এখানেই ঠিক আছি। তুমি এভাবেই ক্লিক করো রিমলি!
-এই বোন? কেন রে? তুই শুনলি না, রিমলি তো বললো তুই এখানে দাঁড়ালে ফ্রেমটা ঠিক আসছে না। যা না, ওদিকটায় গিয়ে দাঁড়া!

শিয়ার জোরাজুরিতে জিয়া গিয়ে আয়ানের আর একপাশে এসে দাঁড়ালো। তারপর শিয়া তাকালো ক্যামেরার দিকে।

-ও আরুশি দি? তুমি একটু হাসো না? ছবিটা ভালো লাগছে না তো! এই দাদা তুই নিচের দিকে কী দেখছিস হ্যাঁ? এইদিকে তাকা বলছি.. আর জিয়া দি তুমিও একটু স্মাইল করো প্লিজ…

রিমলির কথা শুনে শিয়া ক্যামেরার দিকে হাসি মুখে তাকালো। আয়ান করুণ দৃষ্টিতে ক্যামেরার দিকে তাকালো। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ও কোনোভাবেই একটুও হাসতে পারলো না। জিয়া কোনোরকমে মুখে হাসি টেনে রাখলো। তারপর খিচখিচ করে ওদের তিন জনের বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলো রিমলি।

আংটি বদল আর ছবি তোলার পর্ব শেষ হতে সন্ধ্যায় কফি, বিভিন্ন রকম স্ন্যাক্স, কোল্ড ড্রিংকস এসব খাওয়ার পালা চলছিলো। জিয়ার কেন জানে না, আর একটুও থাকতে ইচ্ছে করছে না এখানে। তাই ও মনে করলো এখন এখান থেকে বেরিয়ে কোনো একটা বন্ধুর বাড়িতে চলে যাবে। সেরকম হলে ও বাইরে কোথাও গিয়ে একটু নিজের মতো করে সময় কাটাবে। সবাই এখন যে যার নিজের মতো খাওয়া-দাওয়া করতে ব্যস্ত। ডিনারেরও এখন অনেক দেরী। তাই জিয়া মনে মনে ভাবলো, সবাই রাতে ডিনার করে বাড়ি চলে যাওয়ার পরে অনেকটা রাত করে ও বাড়ি ফিরবে। তাহলে তো আর ওর এইরকম দম বন্ধ আর অস্বস্তিকর লাগবে না। বিশেষ করে আয়ানের সামনেই যেতে পারছে না ও। আয়ানকে দেখলেই ওর ওই করুণ মুখটা দেখে জিয়ারও খুব কষ্ট হচ্ছে। জিয়া সুযোগ বুঝে সবার চোখ এড়িয়ে ওখান থেকে বেরিয়ে বাগান পেরিয়ে বেরিয়ে বাইরে চলে যেতে যাচ্ছিলো। ঠিক তখনই ও নিজের হাতে খুব জোরে একটা হ্যাঁচকা টান অনুভব করলো। বাগানে নানারকম রংবেরঙের আলো লাগানো হলেও চারিদিক একদম আলো ঝলমল করছে ঠিকই, কিন্তু সব কিছু একদম পরিষ্কারভাবে দেখাও যাচ্ছে না। ছোটো ছোটো টুনি আলোয় বেশ একটা সুন্দর আলোআধারি মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বাগানটায়। হাতে হ্যাঁচকা টান অনুভব করলেও সেই টানটা যে কে দিলো, সেটা বুঝতে না পেরে জোরে চেঁচিয়ে উঠতে গেলো জিয়া। ঠিক তখনই ওই মানুষটা জিয়ার মুখটা হাত দিয়ে চেপে রেখে কোমরটা ধরে টেনে একটা আম গাছের পিছনে নিয়ে গেলো ওকে। জিয়া চেঁচানোর চেষ্টা করলেও পারলো না আয়ানের পুরুষালী শক্ত হাতের চাপে। ওর মুখ থেকে গোঙানির শব্দ বেরোচ্ছিলো শুধু। আম গাছের পিছনে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় আলোটা চোখে একটু সয়ে যেতে জিয়া দেখলো ওটা আর কেউ না, আয়ান। আয়ানকে দেখে হাত দিয়ে জোর করে আয়ানের হাতটা নিজের মুখ থেকে সরিয়ে জিয়া বললো,

-প্রফেসর তুমি!! তুমি আমাকে এভাবে এখানে নিয়ে এলে কেন?! পাগল হয়ে গেছো নাকি তুমি? কারোর চোখে পড়ে গেলে কী হবে?! ছাড়ো বলছি আমাকে!

আয়ান তখনও জিয়ার কোমরটা ওভাবেই ধরে রেখেছে। জিয়া ওর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ছটফট করতে শুরু করেছে।জিয়া কথাটা বলার পর আয়ান আরও শক্ত করে চেপে ধরলো জিয়াকে। তারপর ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,

-কোথায় পালাচ্ছিলে তুমি?! আমার থেকে দূরে সরে যেতে চাইছিলে? কেন জিয়া? তোমার জেলাস হচ্ছো তাই না? নিজের চোখে দেখতে পারছো না তো, যে তোমার চোখের সামনেই একটু একটু করে আমি অন্য কারোর হয়ে যাচ্ছি! কষ্ট হচ্ছে তো খুব?
-কীসব বলছো তুমি? আমার কেন কষ্ট হতে যাবে? আমার তো বরং খুব আনন্দ হচ্ছে। আজ আমার দিদিয়ার জীবনে এতো ভালো একটা দিন..
-তুমি মিথ্যে বলছো জিয়া! তোমার চোখ কিন্তু অন্য কথা বলছে। আমি তখন ছবি তোলার সময় তোমার চোখে জল দেখেছি জিয়া! সবার চোখের আড়াল করতে পারলেও তুমি আমার চোখের আড়াল করতে পারোনি আর পারবেও না!
-না প্রফেসর! তুমি ভুল দেখেছো। আর তাছাড়া আমি শুধু শুধু কাঁদতে যাবো কেন? ছাড়ো বলছি আমাকে! কেউ দেখে ফেললে..
-ফেলুক দেখে! আমি তো চাই সবাই সবকিছু জেনে যাক। জানাজানি হয়ে যাক আমাদের সম্পর্কটার কথা!
-আমাদের সম্পর্ক মানে? এই প্রফেসর! তুমি আমাকে ভালোবাসলেও আমি কিন্তু তোমাকে ভালোবাসি না! তাই আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। হ্যাঁ, কিছু দিন পর তোমার সাথে আমার দিদিয়ার বিয়ে হলে তখন আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরী হবে ঠিকই, তবে সেটা শালি আর জামাইবাবুর সম্পর্ক।
-না জিয়া! আমাদের মধ্যে এখনও একটা সম্পর্ক আছে। আর সেটা কী সম্পর্ক তুমি জানতে চাও?
-না প্রফেসর! আমি কিচ্ছু জানতে চাই না! প্লিজ ছেড়ে দাও আমাকে.. প্লিজ! আমার দিদিয়া এইসব জানতে পারলে খুব কষ্ট পাবে গো। আমি চাই না আমার দিদিয়া ওর জীবনে আর কোনো কষ্ট পাক। মা-বাবার ওপর মিথ্যে অভিমান করে এমনিতেই অনেক কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা!
-আর জানতে না পারলে তো তোমার দিদিয়াকে ঠকানো হবে জিয়া! আমাদের সম্পর্কটা তুমি এভাবে ভেঙে যেতে দিও না..
-আমি আমার দিদিয়াকে ঠকাচ্ছি না। আর যদি ঠকানো হয়ও, সেটা তো আমি আমার দিদিয়ার ভালোর জন্যই করছি। তোমাকে কিন্তু আমার দিদিয়াকে সুখে রাখতেই হবে প্রফেসর! আর আমি তো বললামই আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই..
-তুমি আমার দিকে তাকিয়ে আমার চোখে চোখ রেখে বলোতো জিয়া, যে তুমি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো না? এখনও সময় আছে জিয়া। একমাত্র তুমিই পারবে তিন তিনটে জীবন নষ্ট হওয়ার থেকে বাঁচাতে। সবাইকে সবটা বলে দাও না জিয়া? প্লিজ…

এতোক্ষণ জিয়া এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো কেউ আসছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু আয়ান চোখে চোখ রেখে কথাটা বলার জন্য ও আয়ানের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বললো,

-আমি তোমাকে ভালোবাসি না প্রফেসর! হয়েছে? এবার বিশ্বাস হয়েছে তো তোমার? এবার প্লিজ মুক্তি দাও আমাকে.. ছাড়ো বলছি আমাকে!!

জিয়া দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে উঠলো একটু। জিয়া ওভাবে রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে ওঠার সাথে সাথেই জিয়ার কোমরটা শক্ত করে ধরে নিজের দিকে আরেকটু টেনে নিয়ে এসে ওকে আম গাছের মধ্যে ঠেসে দিয়ে আয়ান ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো জিয়ার নরম ঠোঁটের মধ্যে। প্রথমে একটু ছটফট করলেও, আয়ানের ঠোঁটের স্পর্শে এক্কেবারে চুপ করে গেলো জিয়া। চোখ বুজে একদম নিশ্চুপ হয়ে অনুভব করতে লাগলো প্রথম কোনো পুরুষের ঠোঁটের স্পর্শ। এতোদিন জিয়া প্রচুর ছেলের সাথে ঘুরেছে, রেস্টুরেন্টে খেতে গেছে, ফ্লার্টও করেছে। কিন্তু কখনও কোনো ছেলে জিয়ার শরীর স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ কাউকে সেই সুযোগ দেয়নি জিয়া। এমনকি কোনো ছেলে ওর হাত পর্যন্ত ধরেনি। আজ আয়ান এভাবে জড়িয়ে ধরায় আর ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেওয়ায়, জিয়ার শরীরটা যেন ধীরে ধীরে অবশ হতে শুরু করেছে। ও আর একটুও নড়তে পারলো না আর ওখান থেকে।ওর পা গুলো যেন ওখানেই আটকে গেছে।

এদিকে রিমলি অনেক্ষণ ধরে আয়ানকে দেখতে না পেয়ে ওকে খোঁজার জন্য বাগানের দিকে আসছিলো। বাগানের এদিক ওদিক ঘুরে দেখার পর হঠাৎই ওর চোখ পড়ে গেলো বাগানের এক কোণের ওই বড়ো আম গাছটার দিকে। একটু এগিয়ে গিয়ে রিমলি দেখলো আয়ান পিছন ফিরে ওই আম গাছটায় কাউকে একটা ঠেসে দিয়ে তার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে রেখেছে। আয়ানকে ওভাবে দেখেই হেসে ফেললো রিমলি। ও ভাবলো ভিতরে সবার সামনে শিয়াকে আলাদা করে পাচ্ছিলো না বলে, বাগানে এসে একে অপরের সাথে একটু ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ও মনে মনে বললো, “ওহ এই ব্যাপার! তাই ভাবি আমার দাদাটা হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেলো? ওখানে সবাই আছে বলে, এখানে এসে সবার অলক্ষ্যে হবু বৌয়ের সাথে রোমান্স করা হচ্ছে? দাঁড়া তোর দেখাচ্ছি মজা! তাড়াতাড়ি তোদের রোমান্স সেড়ে ভিতরে আয়, তারপর সবার সামনে কেমন করে তোদের লেকপুল করতে হয় সেটা দেখাচ্ছি আমি! সবার সামনে তো এতো লজ্জার ভান করছিস, যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে পারিস না! আর আরুশি দি, তুমিও তো দেখছি কম রোমান্টিক নও! দাদাকে আলাদা করে এখানে নিয়ে এসে এইসব হচ্ছে হ্যাঁ?” বলেই হাসতে হাসতে ওদের দিকে তাকাতে তাকাতেই বাড়ির ভিতরে ঢুকতে যাচ্ছিলো রিমলি। ঠিক তখনই শিয়ার সাথে ওর খুব জোরে একটা ধাক্কা লেগে গেলো। ওভাবে হঠাৎ করে ধাক্কা লেগে যাওয়ায় রিমলি চোখ বুজে “আঃ” বলে চেঁচিয়ে উঠলো। চোখ খুলে তাকাতেই রিমলি দেখলো ওর চোখের সামনেই শিয়া দাঁড়িয়ে রয়েছে। শিয়াকে বাড়ির ভিতর থেকে বেরোতে দেখেই চমকে উঠলো রিমলি। কারণ ও ভেবেছিলো আম গাছের নিচে আয়ানের সাথে ওটা শিয়া-ই ছিলো। ওকে এরকম চমকে উঠতে দেখে শিয়া বললো,

-একী রিমলি, তুমি বাইরে কোথায় গিয়েছিলে? আর ওই দিকেই বা কী দেখছিলে তুমি? লাগেনি তো তোমার?

শিয়ার কোনো কথাই কানে ঢুকলো না রিমলির। ওর মাথাটা ঘুরতে শুরু করেছে এটা ভেবে যে শিয়া যদি এখন বাড়ির ভিতর থেকে বেরোয়, তাহলে যার সাথে আয়ানকে ওভাবে ঘনিষ্ঠাবস্থায় দেখলো, সেই মেয়েটি কে! রিমলি মাথায় হাত দিয়ে প্রায় বসেই পড়তে যাচ্ছিলো ওখানে। শিয়া কোনোরকমে ধরে ওকে বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে সামনের বসার জায়গাটায় বসালো। তারপর ভিতর থেকে একটা জলের বোতল নিয়ে এসে রিমলির চোখে মুখে ছিটিয়ে দিয়ে বললো,

-রিমলি? কী হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ লাগছে নাকি? বলো আমাকে?
-আমার কিচ্ছু হয়নি আরুশি দি! তুমি একদম ব্যস্ত হয়ো না..
-না না তাই বললে হয় নাকি? তুমি এখানেই একটু বসো, আমি সবাইকে ডেকে নিয়ে আসছি।
-না আরুশি দি, আমি তো বললাম কাউকে ডাকতে হবে না! আমি একদম ঠিক আছি.. আসলে হঠাৎ করে আমার মাথাটা একটু ঘুরে গিয়েছিলো জাস্ট। ও নিয়ে তুমি চিন্তা কোরো না। আমার মাঝে মাঝেই এরকম হয় কোনোভাবে প্রেসার ফল্ট করে গেলে! তুমি যাও, ওদিকে সবার কাছে যাও.. আজ তো সবাই তোমাকেই খুঁজবে। তুমি যাও আরুশি দি!
-কিন্তু..
-আর কোনো কিন্তু নয়, আমি একদম ফিট আছি! এইতো দেখো আমি উঠে দাঁড়িয়েও পড়তে পারছি। কিচ্ছু হয়নি গো আমার।
-আচ্ছা তাহলে তুমি এখানে বসেই একটু রেস্ট করো। নাকি ভিতরে গিয়ে একটু শোবে?
-না না শোয়ার দরকার নেই। আমি এখানেই ঠিক আছি! তুমি যাও..

আয়ানের ঠোঁটের বন্ধন থেকে মুক্ত হতেই ওকে জোর করে ঠেলে সরিয়ে দিলো ওর কাছ থেকে। তখন আয়ান বললো,

-আজ যেটা আমাদের মধ্যে ঘটলো, তাতে তোমার একটুও ফিল হয়নি যে তুমিও আমাকে ভালোবাসো? এই আমাকে ছুঁয়ে তুমি বলোতো যে, তুমি আমাকে সত্যিই একটুও ভালোবাসো না?

আয়ান জিয়ার দিকে একটু এগিয়ে এসে ওর হাতটা ধরে কথাটা বললো। কিন্তু জিয়া জোর করে আয়ানের হাতটা ধরে সরিয়ে দিয়েই দৌড়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলো। জিয়াকে ওভাবে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে দেখে রিমলি বুঝতে পারলো, তখন বাগানে আম গাছের তলায় আয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যে মেয়েটি ছিলো, সে আর কেউ নয়, আরুশি দি-র বোন জিয়া। জিয়াকে ওভাবে দৌড়ে বাড়িতে ঢুকতে দেখে শিয়া থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে ওকে জিজ্ঞেস করলো,

-কীরে জিয়া? তুই কোথায় গিয়েছিলি বাইরে? আর এভাবে দৌড়ে ছুটেই বা বাড়ির ভিতরে ঢুকলি কেন তুই? কী হয়েছে?

কিন্তু শিয়ার এইসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তো অনেক দূরের কথা, আর এক মুহূর্তও ওখানে দাঁড়ালো না জিয়া। কারণ শিয়ার চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো ক্ষমতা ও এই কিছুক্ষণ আগেই হারিয়েছে। শিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আর কোনো মিথ্যে বলার মতোও মুখ নেই জিয়ার। জিয়াকে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ভিতরে চলে যেতে দেখে খুব অবাক হয়ে গেলো শিয়া। ও মনে মনে এটাই ভাবলো যে, বাইরে কী এমন হলো, যার জন্য জিয়া এরকম দৌড়ে ঘরে চলে গেলো। বা ও কোনো প্রশ্নের উত্তরই বা দিলো না কেন, এটাও খুব ভাবালো শিয়াকে। ওখানেই সোফায় বসে থাকা রিমলির বুঝতে আর একটুও বাকি নেই যে আসলে আয়ানের মনে কে আছে। রিমলির তখনই মনে পড়ে গেলো কিছুক্ষণ আগেই এই বাড়ির সব আত্মীয়স্বজনদের সাথে কথা বলতে গিয়ে কথায় কথায় ও জানতে পেরেছে যে, আয়ানের মতো জিয়াও শিলিগুড়িতেই থাকে। আর এই কারণেই শিয়ার ছবিটা দেখে আয়ান এই বিয়েতে মত দিয়েছিলো। কারণ জিয়া আর শিয়া, ওদের দুজনকে হুবহু একইরকমের দেখতে। আর এখন আয়ান কেনই বা এই বিয়েতে রাজী হচ্ছিলো না, বা এই বিয়েতে ওর সেভাবে কোনো আনন্দ নেই সেটা রিমলি ভালোই বুঝতে পারলো। তাই দুয়ে দুয়ে চার করতে আর একটুও সময় লাগলো না রিমলির। ওর কাছে এখন প্রায় সবটাই একদম পরিষ্কার জলের মতো হয়ে গেছে। শুধুমাত্র জিয়া বা আয়ান কারো একটা মুখ থেকে এই কথাটা শুনে শিওর হয়ে গেলেই হলো। জিয়া ওভাবে দৌড়ে ঘরে চলে যাওয়ার পর যে ওর পিছন পিছন বাগান থেকে আয়ানও এসে বাড়ির ভিতরে ঢুকবে সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারলো রিমলি। রিমলি মনে মনে ঠিক করলো, আয়ান আর জিয়ার সাথে কথা বলে যে করেই হোক ওকে এই বিয়েটা বন্ধ করাতে হবে। তা নাহলে তিন তিনটে জীবন সারাজীবনের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু শিয়ার সাথে এখনই এসব নিয়ে কথা বলাটা একদম উচিৎ হবে না। কারণ এটা জানতে পারলে হয়তো শিয়া মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়বে। তাই শিয়া যাতে এখনই এসব কিছু বুঝতে না পারে, সেজন্য শিয়াকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রিমলি বললো,

-চলো আরুশি দি? আমরা একটু ওইদিকটায় যাই! তুমি পকোরা খেয়েছো? চলো না? আমার খুব পকোরা খেতে ইচ্ছে করছে!

কথাটা বলেই রিমলি শিয়াকে জোর করে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো পকোরা স্টলের কাছে। প্লেটে করে পকোরা নিয়ে দুজন মিলে খেলেও শিয়ার দৃষ্টি এড়িয়ে আড়চোখে বাইরের দরজার দিকেই তাকিয়ে ছিলো রিমলি। ওর ভাবনাটাই ঠিক সত্যি হলো, আয়ানও হন্তদন্ত হয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো। কিন্তু বাড়ির ভিতরে ঢুকে জিয়াকে খোঁজার চেষ্টা বৃথা হয়ে যাওয়ায় আয়ান ওখানেই একটা চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লো।

জিয়া ঘরে গিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে ওর সাথে ঘটা কিছুক্ষণ আগের কথা গুলো ভাবতে শুরু করলো। আজ সন্ধ্যার কথা গুলো মনে পড়তেই জিয়া মাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরে সবকিছু ভোলার চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছুতেই ও সবকিছু ভুলতে পারছে না। যতোই আয়ানের কথা ভোলার চেষ্টা করছে, ততোই যেন আয়ান চারিদিক থেকে ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে শুরু করেছে। আজ সন্ধ্যার ঘটনাটার পর জিয়া উপলব্ধি করতে শুরু করলো যে, ও নিজেও আয়ানকে ভালোবেসে ফেলেছে। আয়ানের সাথে ও সত্যিই ভীষণভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ওর পক্ষেও আর আয়ানকে ভুলে যাওয়াটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই জিয়া মনে মনে ঠিক করলো, ও এখনই শিয়াকে সবটা বলে দেবে। তাতে যা হওয়ার হবে। আয়ান আর জিয়া একে অপরকে ভালোবাসে শুনেও যদি শিয়া এই বিয়েটা করতে রাজী হয়, তবেই এই বিয়েটা হবে। আর নয়তো নয়। এসব ভেবেই জিয়া উঠে বসে ওর চোখের জলটা মুছে নিলো। তারপর বিছানা থেকে নেমে ঘরের দরজাটা খুলতে গেলো ও। দরজা খুলেই দেখলো শিয়া দাঁড়িয়ে আছে। শিয়াকে দেখেই জিয়া বললো,

-দিদিয়া? আমি তোর কাছেই যাচ্ছিলাম। আসলে..
-আমার কাছে যাচ্ছিলি? কিন্তু কেন? আমিও তো তোর কাছেই আসছিলাম রে জিয়া। তোর সাথে আমার অনেক কিছু শেয়ার করার আছে বোন..
-আমারও দিদিয়া, আমারও তোর সাথে অনেক কথা শেয়ার করার আছে রে..

শিয়া জিয়াকে হাত ধরে টেনে ঘরের ভিতরে নিয়ে এসে ওর হাতটা জিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

-আচ্ছা সে তোর সব কথা আমি পরে শুনবো। আগে তুই এদিকে এসে দেখতো, এই আংটিটা কী সুন্দর দেখতে তাইনা? তোর হবু জামাইবাবুর দেওয়া এই আংটিটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে জানিস দিয়া! আর এই বালা গুলো দেখ! বালা গুলো কত্ত পুরোনো, তবুও ডিজাইনটা কী সুন্দর, তাই না বল? জানিস জিয়া, আমি এতোদিন ভেবেছিলাম আমার জীবনে কেউ আসবে না। আমি কাউকে ভালোও বাসতে পারবো না। কিন্তু হঠাৎ করে যে আমার জীবনেও এরকম কেউ আসবে আমি ভাবতে পারিনি রে। আজকের এই দিনটা আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। আজ জানি না কেন, আমার ভীষণ আনন্দ হচ্ছে রে। আমার খুব খুব ভালো লাগছে আজ!

শিয়ার কথা গুলো শুনে জিয়া ওকে জড়িয়ে ধরে ওর বুকে মাথা গুঁজে দিলো। ও জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করলো। জিয়াকে এভাবে কাঁদতে দেখে শিয়া, জিয়ার মাথায় আর পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,

-কী হয়েছে বোন? তুই এভাবে কাঁদিস কেন সোনা? তখন ওভাবে দৌড়ে বাইরে থেকে চলে এলি। আবার এখন এভাবে কাঁদছিস! কোথায় গিয়েছিলি তখন? বল আমায়.. আমি তো তোর দিদিয়া হই জিয়া… আর তুই একটু আগে আমাকে কী যেন বলবি বলছিলি? কী বলবি, বল আমায়?

জিয়ার কান্নার বেগ যেন আরও বেড়ে গেলো শিয়ার কথা গুলো শুনে। শিয়ার বুকে মুখ গুঁজে রেখেই জিয়া বললো,

-দিদিয়া?
-হ্যাঁ জিয়া, বল না?
-কিছু না দিদিয়া! কিচ্ছু বলার নেই রে আমার!
-কেন? এই মাত্রই তো বললি আমার কাছেই যাচ্ছিলি কী সব শেয়ার করার জন্য.. তাহলে এখন কিছু বলার নেই বলছিস যে?
-তোর বিয়ে হয়ে গেলে তুই আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবি, তাইনা? বিয়ের পরে ভুলে যাবি না তো রে আমাকে? বলনা দিদিয়া?
-ওহ্! এই ব্যাপার! এর জন্যই তুই এতো কষ্ট পাচ্ছিস? নারে জিয়া.. আমি কী করে তোকে ভুলে যাবো বলতো? তুই তো আমার সোনা বোন.. তোকে কী করে ভুলে যাবো বল? আরে বাবা, তাছাড়া আমি তো শিলিগুড়িতেই তো থাকবো বিয়ের পর। আর তুইও তো তোর কাজের জন্য ওখানেই থাকিস। আর তুই কী করে ভাবলি যে, আমি আর তুই এক শহরে থাকা সত্ত্বেও আমি তোকে অন্য কোনো রেন্ট নিয়ে থাকতে দেবো? আমি তো ভেবেই রেখেছি, ওখানে যাওয়ার পর তোর জামাইবাবুকে আমি বলবো আমাদের কাছেই তোর থাকার ব্যবস্থা করতে। আমরা তো ওখানে শুধু দুজনই থাকবো। সেখানে তোর থাকতে কোনো অসুবিধা হবে না বোন..

জিয়া শিয়াকে ছাড়তেই চাইলো না। শিয়া যতো আয়ানকে নিয়ে ওর অনাগত সংসারের কথা বলে চলেছে, জিয়ার ততোই কষ্টে বুক টা ফেটে চলেছে। একটু আগে যে কথা গুলো শিয়াকে বলবে বলে ভেবেছিলো, সেগুলো আর ওকে বলতে পারলো না জিয়া। কারণ শিয়া নিজের বিয়েটা নিয়ে এতোটাই স্বপ্ন দেখে ফেলেছে, এই সবকিছুতে এতোটাই জড়িয়ে পড়েছে, তারপর যদি জিয়া ওর আর আয়ানের সম্পর্কটার কথা বলে, তাহলে হয়তো শিয়া কষ্ট পেয়ে মরেই যাবে। জিয়া নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিলো। ও নিজের মনকে এটা বুঝিয়েই শান্ত করলো, যে ওর দিদিয়ার ভালো থাকার জন্য এই সত্যিটা সারাজীবন ও নিজের মনের মধ্যেই লুকিয়ে রাখবে। যেভাবেই হোক শিয়াকে খুশি রাখতেই হবে ওকে। তাই বলতে গিয়েও ওর মনের কথা গুলো আর বললো না জিয়া।

রাতে বাড়ি ফেরার পর ফ্রেস হয়ে বাসন্তীদেবী নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়লেও রিমলির চোখে ঘুম এলো না। ও উঠে আয়ানের ঘরের দিকে এলো। আর আয়ান তো এখন বেশিরভাগ দিনই রাতে না ঘুমিয়ে জেগে থাকে। তাই ঘরের ছোটো আলোটা জ্বেলে আয়ান বালিশে হেলান দিয়ে চোখের ওপর একটা হাত রেখে চুপ করে শুয়ে আছে। আর ওর ঘরের দরজাটা শুধু হালকাভাবে ভেজানো আছে। রিমলি আয়ানের ঘরের দরজাটা খুলে ভিতরে এসে বড়ো আলোটা জ্বালিয়ে দিতেই আয়ান ওকে দেখে বললো,

-কীরে রিমলি? এতো রাতে তুই আমার ঘরে? ঘুমাসনি এখনও?
-কী করে ঘুমাবো দাদা? তুই এতো বড়ো একটা অন্যায় করেও তোর ঘুম আসতে পারে, কিন্তু আমার তোর এই অন্যায়ের কথাটা জানার পরে আর কিছুতেই ঘুম আসবে না!
-মানে? কী বলতে চাইছিস তুই? আমি তো তোর কোনো কথাই বুঝতে পারছি না। কী অন্যায় করেছি আমি?
-ওহ! তুই নিজেই জানিস না যে, তুই কী অন্যায় করেছিস?!

বলেই একটু ব্যাঙ্গাত্মক সূচকভাবে হেসে ফেললো রিমলি। ওকে এভাবে হাসতে দেখে আয়ান বললো,

-রিমলি! এতো রাতে আর এভাবে হেঁয়ালি করিস না! যা বলার আছে তাড়াতাড়ি বল। নাহলে নিজের ঘরে যা। আমার এখন তোর সাথে কথা বলতে ভালো লাগছে না! প্লিজ…
-হ্যাঁ সেই তো! তোর এখন কী করে আমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগবে বল? তুই তো এখন তোর করা ওই সন্ধ্যার ঘটনাটা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছিস, তাই না?!

রিমলির মুখে সন্ধ্যার ঘটনার কথা শুনে চমকে উঠলো আয়ান। ও বললো,

-মানে? কোন ঘটনার কথা বলছিস তুই?
-তুই আরুশি দি-কে ঠকাচ্ছিস কেন দাদা? ওর কী দোষ ছিলো? ওর তো কোনো দোষ নেই! তুই আরুশি দি-কে এভাবে ঠকাতে পারিস না!
-তার মানে তখন বাগানে..
-হ্যাঁ দাদা! আমি তখন তোদের দেখেছি.. তুই এটা কী করে পারলি দাদা? আমার দাদা হয়ে তুই এটা কী করে পারলি রে? আমি তো তোকে নিয়ে সবার কাছে কতো গর্ব করতাম। সবার কাছে বলে বেড়াতাম আমার দাদার মতো দাদা আর কারোর হয় না। আর সেই তুই কিনা আমার এই বিশ্বাসটা এভাবে ভেঙে দিলি?

রিমলি কথা গুলো বলতে বলতেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো। ওর দাদা যে এভাবে কাউকে ঠকাতে পারে সেটা ওর স্বপ্নেরও অতীত। নিজের দাদাকে নিয়ে অনেক গর্ব ছিলো ওর। তাই সন্ধ্যার ওই ঘটনাটার কথা ভাবলেই নিজের দাদার প্রতি রাগ আর ঘেন্না দুটোই একসাথে হচ্ছে রিমলির। তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে রাগে, কষ্টে কেঁদেই ফেললো ও। ওকে এভাবে কাঁদতে দেখে আয়ান বললো,

-তুই সত্যিটা জানিস না বোন। তুই যদি সবটা শুনিস, তাহলে তুইও বুঝতে পারবি আমার দিকটা। বিশ্বাস কর বোন, এখানে আমার কোনো দোষ ছিলো না রে..
-থাক দাদা। আমি আর কোনো কথাই শুনতে চাই না তোর থেকে! ইস! আমার তো ভাবলেই ঘেন্না হচ্ছে। এই তোকে নিয়ে আমি গর্ব করতাম, ছি! দোষ তো আরুশি দি-রও নেই। তাহলে ও কেন এতো বড়ো অন্ধকারে থাকবে? আমি নিজে আরুশিদি-কে সবটা জানাবো! আমি কিছুতেই আরুশি-দিকে এতোটা অসম্মানিত হতে দিতে পারবো না!
-না রিমলি। তুই কাউকে কিচ্ছু জানাবি না। আমার কথাটা একটু বোঝার চেষ্টা কর তুই… আমি শিয়াকে কোনোভাবেই অসম্মানিত করতে চাইনি। আর কখনও কোনো অসম্মানিত করবোও না।
-একটা মেয়ের কাছে এর চেয়ে বড়ো অসম্মান আর কী হয় দাদা? ছি! আমি এক্ষুণি মাকে গিয়ে সবটা বলে দেবো!
-না রিমলি প্লিজ তুই আমার এই কথাটা রাখ… প্লিজ বোন আমার… মাকে কিছু বলিস না!
-তুই আমাকে একটা কথা বলতো? তুই যদি জিয়া দি-কেই ভালোবাসিস, তাহলে আরুশি-দিকে কেন বিয়ে করতে চলেছিস? কেন মায়ের মুখের ওপর বলে দিতে পারলি না তুই, যে এই বিয়েটা তুই করতে পারবি না?! বল কেন বললি না? মা তো তোকে সেই সুযোগটা দিয়েছিলো.. এই বিয়েটা তুই ভেঙে দে দাদা! এক্ষুণি আর এই মুহূর্তে!
-না!
-না মানে? তুই এই বিয়েটা ভাঙবি না? তুই নিজের ভালোবাসাকেও বলি দান করে দিবি?
-নারে বোন, এই বিয়েটা আমি ভাঙতে পারবো না। আমি তো এই বিয়েটা ভেঙে দিতেই চেয়েছিলাম। কিন্তু এই বিয়েটা ভেঙে দিলে যে..
-তাহলে আমাকেও আর বোন বলে ডাকবি না একদম! আজ থেকে আমি আর তোর বোন নই.. তোর সাথে আমার সব সম্পর্ক এখানেই শেষ! তুই যা পারিস তাই কর। আমি আর কিচ্ছু বলবো না তোকে। তোর জীবন, তাই ডিসিশনটাও তো তোরই! আমি গেলাম। বাই!
-বোন দাঁড়া.. আমার কথাটা শুনে যা.. রিমলি….

রিমলি আয়ানের কোনো কথা না শুনেই ঘর থেকে বেরিয়ে দরজাটা দরাম করে বন্ধ করে দিলো। আয়ান দেওয়ালের মধ্যে সজোরে একটা ঘুষি মেরে ওখানেই মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো বেশ কিছুক্ষণ। ও বিড়বিড় করে উঠলো, “তুইও আমায় ভুল বুঝলি বোন? আমি কী করবো বলতো? আমার মুখ, হাত-পা যে জিয়া অনেক আগেই বেঁধে দিয়েছে! আমি যে আর পারছি না! সবার ভুল বোঝার হাত থেকে আমাকে একমাত্র তুমিই বাঁচাতে পারবে জিয়া… তোমাকে যে আমার খুব দরকার এই মুহূর্তে!” তখনই আয়ান নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে জিয়ার নাম্বারটা ডায়াল করতে শুরু করলো।

ক্রমশ…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here