#মেঘবতীকন্যা পর্ব ৫

2
373

#মেঘবতীকন্যা পর্ব ৫
# সুমাইয়া আক্তার মিম

~~ঘুমের মাঝে বুকের উপর খুব ভারি কিছু মনে হতে খুব অস্বস্তি বোধ অনুভব করলো রূপ।জিনিসটা এতো পরিমাণ ভারি যে তাঁর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে আর বেশিক্ষণ এমন থাকলে শ্বাস না নিতে পেরে মারা যাবে। চোখ বন্ধ করে হাত দিয়ে বারবার সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। এমন শক্ত ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে একটু নড়াচড়া পর্যন্ত করতে পারছে না। কোনোমতে পিটপিট করে চোখ খুলে সামনের দিকে তাকিয়ে একশো চল্লিশ ভল্টের জাটকা খেলো।।‌কয়েকবার শুকনো ঢোক গিললো, দুয়েক বার চোখ বন্ধ করে খোলে দিলে এক চিৎকার।। ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলো।বারিশ বিরক্ত হয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,,

–হোয়াট দ্যা!!!!

রূপসা এখনো বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে বারিশের দিকে। ভয়ে রিতিমত ঘাম ছুটে গেছে তাঁর।বারিশ তাঁর উপর উবুত হয়ে গলায় মুখ গুজে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছিল।বারিশকে এতো কাছ থেকে দেখে ভয়ে রিতিমত হাঁপানি শুরু হয়ে গিয়েছে রূপসার। মৃগি রোগীর মতো ছটফট করতে লাগলো।তা দেখে বারিশ বাঁকা হেসে রূপসাকে আরেকটু জড়িয়ে আরো গভীরে ভবে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল এতে করে জেনো রূপসার ছটফটানি দিগুন বেড়ে গেলো।।বারিশ রূপসার দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে আলতো ভাবে গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো এতে জেনো ছটফটানি বন্ধ হয়ে চোখ দুটো মিনিটের মধ্যে রসগোল্লার আকার ধারণ করেছে।বারিশ বাঁকা হেসে বলতে লাগলো,,,

–এইভাবে তাকিও না মেরি জান হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে তো।। পুনরায় গালে চুমু খেয়ে।।
লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।রূপসা ভীতু চোখে তাকিয়ে শুকনো গলায় ঢোক গিলে ফুস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে কিছু বলতে নিলে বারিশ ঠোঁটে আঙুল দিয়ে স্লাইট করতে করতে বললো,,,

—হুঁশ মেরি জান। আজকে আমি বলবো আর তুমি শুনবে। (নেশা ভরা কন্ঠে)।বারিশের কথা শুনে শীতল হাওয়া বয়ে গেল রূপের সারা শরীর জুড়ে। বারবার মৃদু মৃদু কেঁপে উঠছে সে।বারিশের এমন আচারণে বেশ ভরকে গেছে সে। অবশ্যই এটা তাঁর কাছে নতুন নয়।বারিশ যে তাঁর প্রতি যথেষ্ট নির্লজ্জ সেটা বেশ ভালো করে জানে রূপসা।।এতো সামনে থেকে বারিশকে দেখে অদ্ভুত সব অনুভূতি কাজ করছে রূপের মনে। কিন্তু এতো সবের মাঝে মনে মনে একটি কথাই কড়া নাড়ছে তাঁর মনে তাহলে,,,মাসাআল্লাহ মি.এরোগেন্ট ম্যান তো ছবি থেকে বাস্তবে হাজার হাজার গুণ সুন্দর।একদম ব্রিটিশদের মতো দেখতে।কি সুন্দর ঘোলাটে চোখ।হায় আরো একবার ক্রাশ,,,,,,।বারিশের কথায় রূপের ধ্যান ভাঙ্গল ।।বারিশকে নিজের ঠোট স্লাইট করতে দেখে মিনিটে চোখ মুখ কুঁচকে এলো তাঁর। অনুভূতি গুলো জেনো হাতুড়ি পিটিয়ে বের হয়ে আসছে।।‌

—খুব বেশি অপেক্ষা করিয়োছো মেরিজান তাঁর জন্য তো তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।আই নো আমি কেমন শাস্তি দিতে পারি কিংবা আমার প্রতি তোমার বেশ ভালোই ধারনা আছে তাই তো মেরি জান।। বাঁকা হেসে।
বারিশের কথা শুনে ছোট বেলায় ঠুসঠুস কামড় দেওয়ার কথা মনে পড়ে যায় রূপসার।বারিশের রাগ, তাঁর প্রতি আসক্তি বেশ ভালো করে জানে রূপ। এখন যে তাকে এসব প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হবে বেশ ভালো করে বুঝতে পারছে সে।তাই কোনো কিছু না ভেবেই বেকলের মতো ফটাফট মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো। তাঁর অবস্থা দেখে বারিশ শয়তানি হাসি দিয়ে গালে আলতো কামড় দিয়ে বললো,,

–গুড মেরিজান ।।

বারিশের এমন আচরণে রিতিমত হাঁপিয়ে গেছে রূপ। সারাজীবন এসব সহ্য করতে হবে ভেবে বুক ফেটে কান্না আসছে। ইচ্ছে করছে দৌড়ে পালিয়ে যেতে।এই জন্য তো এতো ভয় পাচ্ছিল সে। দীর্ঘ দিনের সব ভয়গুলো এখন তাকে চিরে চিরে নিঃস্ব করবে ভাবতেই ঠোঁট গুলো অটোমেটিক উল্টে গেল।তা দেখে বারিশ বাঁকা হেসে কাঁধ বাঁকা করে বললো,,,

–পালানোর ধান্দা একদম করবে না আর আমার রুলসের বাহিরে যাবে না তাহলে তোমার সাথে যা হবে তা তোমার ধারনার বাহিরে নয়।ঠিক আছে ।
পুনরায় গাল ফুলিয়ে মাথা নিচু করে মাথা দুলালো ।

–কাবার্ডে তোমার ড্রেস আছে দশ মিনিটের মাঝে ফ্রেশ হয়ে তোমাকে আমার সামনে চাই।রূপসার কপালে চুমু খেয়ে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার।রূপসা কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে দৌড় দিতে নিবে তাঁর আগেই বারিশ রূপের হাত শক্ত করে ধরে টান মেরে কোমর জড়িয়ে ধরে। এতে করে রূপসার চোখ গুলো আকারে দিগুন হয়ে গিয়েছে।বারিশ কোমর শক্ত করে পেঁচিয়ে সামনে ঝুঁকে আসা চুল গুলো পেছনে গুজে ধীরে গলায় বলতে লাগলো,

—একদম পালাই পালাই করবে না মেরিজান তাহলে কিন্তু ডাবল পানিশমেন্ট হবে।।
বারিশের মুখে পানিশমেন্ট এর কথা শুনে রূপসার মুখটা ছোট হয়ে গেল। মনে মনে ভাবতে লাগলো,
এই সুন্দর মানুষ গুলো এতো বদরাগী কেনো জানি হয় আল্লাহ জানেন। সবসময় নাকের ডগায় রাগ নিয়ে ঘুরে। পানিশমেন্ট মানে কী তা সে ভালোভাবেই জানে।আস্ত রাক্ষস একটা। সুন্দর সত্যি বলতেই খুব ভয়ংকর হয়।কোল বালিশ একটা।।‌

—আজকে রাতের ফ্লাইটে আমরা আমেরিকা ব্যাক করছি তুমি এখন থেকে সারাজীবনের জন্য আমার কাছে বন্দি হয়ে গিয়েছে মেরিজান । তুমি শুধু আমারি।কানের কাছে ফিসফিস করে বললো।।
বারিশের কথা শুনে শুকনো ঢোক গিললো তা দেখে বারিশ বাঁকা হেসে,,

–ঠিক আছে মেরি জান।
রূপসা গাল ফুলিয়ে মাথা নাড়ালো।

–কথা বলছো না কেনো। শক্ত গলায়।

রূপ ভিতু গলায় বললো,,
–জ্বী ঠিক আছে।আমি ফ্রেস হবো।
রূপের মুখের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি হেসে কপালে চুমু খেয়ে বললো,,
–গো।।

রূপসা আর কোনো দিকে না তাকিয়ে কাবার্ড থেকে কাপড় নিয়ে এক ছুটে ফ্রেশ হতে চলে গেল।। সেদিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে উবুত হয়ে সুয়ে পরলো। আনমনে বিরবির করে বলতে লাগলো,,

–ভালোবাসি জান পাখি। খুব বেশি ভালোবাসি আমার পিচ্চি দুষ্টু পরিজানকে।আয়েসে চোখ দুটো বুঁজে নিলো। গতকাল খুব ভালো ঘুম হয়েছে তার। দীর্ঘ দিন পর তাঁর জান পাখিকে পেয়ে তাঁর বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে সে।চোখ বুজে আবারো বিরবির করে বলতে লাগলো,,,তুমি শুধু আমার। আমার মেঘবতী।।।।।

~~ফ্রেশ হতে এসে মুখটা অটোমেটিক হা হয়ে গিয়েছে রূপের।এতো বড় আর সুন্দর ওয়াশরুম সে অনায়েসেই থেকে ফেলতে পারবে এখানে। আজকে আর বের হবে না ।আর ওই কোল বালিশের সামনেও পরবে না। মনে মনে কথা গুলো ভেবে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করতে লাগলো। এতোক্ষণে প্রান ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। এতোক্ষণ মনে হচ্ছিল প্রান টা দেহ থেকে লাফিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।আর কিছু সেকন্ড থাকলে নির্ঘাত আবার সেন্সল্যাস হয়ে পড়তো।কী করে আবার যাবে ঔ এরোগন্টের ম্যানের সামনে? ভাবতেই নার্ভাস হয়ে পরছে।বারিশের সামনে থাকলে অন্তরকম অনুভূতি, লজ্জা,ভয় সব একসাথে আঁকড়ে ধরে তাকে।। মনে মনে বলতে লাগলো,,,

–এই এরোগেন্ট ম্যান তো আগে থেকে অনেক গুন নির্লজ্জ হয়ে ফিরে এসেছে। অবশ্যই বিলেতি সাদা কোল বালিশ কিনা।না এখন আবার বাহিরে গেলে ঠিক চেপে ধরবে যা নির্লজ্জ। কিন্তু না গেলে ঠিক দরজা ভেঙে ভিতরে চলে এসবে। উফ্ফ।নিজে নিজে বিরবির করতে করতে তারাতাড়ি ফ্রেশ হতে লাগল।টাইমের হেরফের একদমই পছন্দ নয় বারিশের।দেখা যাবে প্রথম দিনই পানিশমেন্ট দেওয়া শুরু হয়ে যাবে।। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম। কোনোরকমে ফ্রেশ হয়ে একটা গ্ৰাউন পরে বের হতেই ঝড়ের গতিতে কেউ তাকে জাপটে ধরে দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে নিল। বিষয়টি এতো দ্রুত হয়েছে যে রূপসা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ভয়ে কাঁপতে লাগলো।। চোখ খোলে বারিশকে সামনে দেখতে পেয়ে ভয়ের মাত্রা দ্বিগুণ বেড়ে গেল।বারিশ স্থীর ভাবে তাকিয়ে আছে রূপসার দিকে। তাঁর চোখে নিজের জন্য নেশা দেখতে পাচ্ছে রূপ তাই এইবার ভয়ের সাথে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গিয়েছে।বারিশ আলতো হাতে রূপের ভেজা চুল গুলো কানের পেছনে গুজে দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তাঁর মেরি জানের দিকে। একদম স্নিগ্ধ ভোরের শিশিরের মতো লাগছে। সম্পূর্ণ মুখে এক অন্য রকম নেশা।।বারিশ রূপের গলায় মুখ গুজতে চোখ বুজে কেঁপে উঠলো সে।ক্ষানিক বাঁধে অনেক কষ্টে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,,

–কী,,কী করছেন?ছা,,,ছারুন।রূপসার অবস্থা নাজেহাল হয়ে গিয়েছে।

–হুশ মেরি জান।রোমেন্স টাইমে একদম বিরক্ত করবে না তাহলে পানিশমেন্ট পেতে হবে।এইভাবেও গতকাল আমাদের বাসরের বারোটা বাজিয়েছো তাঁর জন্য তোমাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।বলে পুনরায় নিজের কাজে মগ্ন হয়ে পরলো।।বাসরের কথা মাথায় আসতে ছোট খাটো ঢোক গিললো রূপ।। মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল এতো টেনশনে যে কালকে ওদের বাসর ছিল আর সে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। এখন শাস্তির কথা শুনে মুখটা একদম শুকিয়ে গিয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ পর বারিশ শব্দ করে গলায় চুমু খেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।রূপসার হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে ব্রেড সাইটের ছোট টেবিল থেকে বেশ অনেক গুলো পেপার এগিয়ে দিলো রূপের হাতে।হাত দিয়ে চুল কানের পেছনে গুছিয়ে দিয়ে বলতে লাগলো,,,

—আমি ফ্রেস হয়ে আসার আগে সম্পূর্ণ রুলস গুলো পড়া শেষ করবে এবং সব মাথায় ঢুকিয়ে নিবে।যাতে ভুল না হয়।রুলসের হেরফের আমি একদম সহ্য করবো না। এখন থেকে সব রুলস অনুযায়ী তোমাকে চলতে হবে। আমার বানানো তোমার জন্য স্পেশাল রুলস।ঠিক আছে মেরি জান। বাঁকা হেসে।।
রূপ বারিশের দিকে তাকিয়ে বড় বড় চোখ করে হাতের কাগজ গুলো দেখে নিলো।রূপকে এমন করে তাকাতে দেখে বারিশের বাঁকা হাসিটা আরো চওড়া হয়ে গেলো।ভ্রু নাচিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করল ঠিক আছে কিনা।।
রূপসা ফটাফট মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।বারিশ গালে চুমু খেয়ে বললো,,

–শাস্তির কথা জেনো মাথায় থাকে।ফ্রেশ হয়ে তারপর তোমার শাস্তি। বাঁকা হেসে চোখ টিপে ফ্রেশ হতে চলে যায়। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।বারিশ যেতে
রূপসা চট করে বিছানায় বসে পড়লো।হাতের দিকে তাকিয়ে মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো।উল্টে পাল্টে সব রুলস গুলো দেখে নিলো।এতো গুলো রুলস। এখানে সব রূপসাকে মানতে হবে।সে কি করবে,কি খাবে থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ লাইফ সার্কেল লেখা।সব বারিশের নিয়মে তাকে চলতে হবে।এর বাহিরে এক পা কিছু করা মানে বিপদ।বারিশ নিজেও নিজের রুলসের বাহিরে কিছু করে না এবং কাউকে করতে দেয় না।আর এটা তো রূপ যাকে এক চুলও ছাড় দিবে না।রূপসা বেশ বুঝতে পারছে এই নিয়মগুলো বারিশ দীর্ঘ কাল আগে থেকেই তাঁর জন্য যতন করে বানিয়ে রেখেছে।।পাতা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে সব রুলস পড়তে লাগলো। এখন তো বলে গেলো ফ্রেশ হয়ে ফিরে এসে গতকালের বাসরের বারোটা বাজানোর শাস্তিও দিবে।উফ্ফ্ টেনশনে মাথা ফেটে যাচ্ছে রূপের।। ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কান্না করতে আর বলতে,,,
‘ছেড়ে দেয় মা, কেঁদে বাঁচি’!!!!

#চলবে,,,,,❣️

[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মিম✵]

(এটা সম্পূর্ণ নতুন গল্প।দয়া করে কেউ আগের গল্পের সাথে মিলাবেন না। কিছু পর্বের পর ক্লিয়ার হবে। ততোদিন ধৈর্য্য ধরে পাশে থাকার অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ)

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here