মেঘবতী_কন্যা পর্ব ১৬

0
94

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ১৬
#সুমাইয়া আক্তার মিম

রূপালি একটুকরো চাঁদটি জেনো আধ‌ঁ খাওয়া শুকনো রুটির মতো। কেমন চিকচিক করে জোৎস্না ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে! অদ্ভুত সুন্দর দেখতে লাগছে।মস্ত বড় আকাশে হাজারো টিমটিমে তারাদের মাঝে সে একলা ভাবে নিজের আলো দিয়ে সকলের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে ঠাই রয়েছে বেশ সুন্দর ভাবে।দীর্ঘ তিন টিপটিপ বৃষ্টির জন্য আকাশের তারা, চাঁদের দেখা মিলেনি। আজকে আকাশ একদম পরিষ্কার, চারিদিকে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে থেকে থেকে।এক টুকরো চাঁদের আলোতে চারিদিক একদম স্বচ্ছ কাঁচের মতো চিকচিক করছে। পরিষ্কার ভাবে সকল কিছু বেশ স্পষ্ট।এই জোৎস্না রাতের স্নিগ্ধ আলোতে জোৎস্না বিলাস করছে এক জোড়া কপত-কপতি। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় চারিদিকে রোমান্টিকতার আমেশ ফুটিয়ে তুলেছে সাথে সেই রোমান্টিকতার ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে দুজন অভুক্ত প্রেমিকদের মনে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।
রূপটফের মাঝারি সাইজের ডিভাইনের উপর বসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আকাশের দিকে মুখ করে জোৎস্না বিলাস করছে বারিশ-রূপ।রূপকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে নিজের বুকের সাথে বারিশ।রূপ মৃদু হেসে আকাশের ফকফকে চাঁদটির দিকে তাকিয়ে আছে, খুব ভালো লাগছে তাঁর এমন করে চন্দ্র বিলাস করতে।প্রিয় মানুষের সাথে এমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে চন্দ্র বিলাস করার মধ্যে দিয়ে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে তাঁর মনে। হুম বারিশ তাঁর প্রিয় মানুষ, অপ্রকাশিত প্রিয় মানুষ। কথাটি ভেবে আনমনে হাসলো সে বারিশের অগোচরে।বারিশ মুগ্ধতার জগতে বিচরণ করছে,চোখ বুজে রূপের ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে সময়টাকে গভীর ভাবে উপভোগ করছে।রূপ আড়চোখে বারিশকে দেখে নিলো যে আপাতত অন্য দুনিয়া অবস্থান করছে। সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে পুনরায় নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। খুব অল্প বয়সে তাদের বিয়েটা হয়ে গিয়েছিল যখন বিয়ে মানেটাই তাঁর অজানা ছিলো, সে তখনো ছোট বেলার মতো পুতুল বিয়ে দেওয়া খেলার জগৎ থেকে ঠিকঠাক বের হতে পারেনি।বাবা-মা, চাঁচা-চাচী,ভাইদের সকলের আদরে থাকা ভার্চুয়াল জগতটা খুব একটা পরিচিত হতে পারেনি যার কারণে আদরে আদরে বড় হওয়ার সাথে সাথে পিচ্চি মনোভাব ঠিক রয়ে গিয়েছিল তাঁর মাঝে। বিয়ে মানে সংসার মানে পুতুল বিয়ের মতোই মনে হতো। হঠাৎ একদিন এসে হুট করে বারিশের সাথে তাঁর বিয়ে বারিশের একরোখা মনোভাব সব জেনো হঠাৎ করে তাঁর জীবনটা পালটিয়ে দিলো। ধীরে ধীরে বারিশের পুতুল বউ পরিচয়ে বড় হয়েছে রূপ। সবসময় বারিশের গভীর নজরদারি জারি ছিলো তাঁর উপর।বাবা,চাচা, ভাইদের আদরের আল্লাদি হওয়া সঠিক সময় ঠিক ঠাক কিছুই নিজের হাতে করতে শিখেনি।কিন্তু মায়ের চব্বিশ ঘন্টা বকবকানি আর এতো এতো লেকচার বারিশ আর বিয়ে নিয়ে তখন থেকেই তাদের সম্পর্কটা নিয়ে সুপ্ত এক অনুভূতি সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল তাঁর ছোট মনে। তাঁর আম্মি সবসময় বলতো তাদের দাদিজান নাকি মাত্র এগারো বছরের কিশোরী হয়ে আবদ্ধ হয়ে ছিল বিয়ের বন্ধনে তাঁর দাদাজানের সাথে। হাতে ধরিয়ে ধরিয়ে সব শিখিয়েছিল তাকে। পরিশেষে খুব সুন্দর ভালোবাসার ঘর হয়েছিল তাদের।বয়সে দুজনের তফাত আকাশ ছোঁয়া,তবুও ভালোবাসার কোনো কমতি রাখেননি দুজনের মাঝে।বারিশ রূপের আরো আগে একে অন্যের কাছাকাছি থাকলে তাদের মাঝেও খুব শীঘ্রই একটি ভালো বন্ডিং তৈরি হয়ে যেতো, এতো জড়তাই থাকতো না হয়তো তাদের দুজনের মধ্যেকারে। কিন্তু তখন বিষয়টি আজকাল যুগের সাথে বড্ড বেমানান হয়ে যেতো। কথাগুলো ভেবেই বেকুব বনে গেলো রূপ,এই কেমন উদ্ভট কথা ভাবছে সে। কিন্তু যাইহোক এটা মানতে হচ্ছে তাকে, মেয়েদের বিয়ে হওয়ার সাথে সাথে বেশ কিছু দিক তাদের মাঝে প্রকাশ পায় তা হচ্ছে,বিয়ে হওয়ার সাথে সাথে জেলাসি সে ব্যতিত অন্য নারী স্বামির দিকে তাকালে লংকাকান্ড বেদে যাবে।দ্বিতীয়ত স্বামী শুধু তাকেই বেশি ভালোবাসতে হবে। স্বামীর ভাগ নিয়ে কোনো হেরফের নয় একদম ভাগ হবে না,সে শুধুই তাঁর।আর যেটা তাঁর সেটা তাঁর সেখানে কোরোর স্বল্প দৃষ্টি গ্ৰহনযোগ্য নয় একদম সব কিছু তছনছ করে দিবে।আর রূপ বারিশের মতোই একরোখা মনোভাবের যা তাঁর সে কখনো কাউকে দিবে না সেটা শুধু তাঁর আর কারোর নয়।কেউ নজর দিলে তাঁর বেহাল অবস্থা করে দিবে সে।বারিশও তাঁর নিজস্ব, শুধু তাঁর। কথাটা ভাবতেই মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো ।যতো যা বলে মুখে, ছোট্ট বেলা বিয়ের পর থেকে একটু একটু করে অনুভূতিদের সাজিয়েছে সে হয়তো কোনো নাম দিতে পারেনি এটা ঠিক। সময়ের সাথে অনুভূতি বুঝতে শিখেছে সে বুঝতে শিখেছে ভালোলাগা ভালোবাসার মধ্যেকার তফাত।রোজ রাতে স্কুল থেকে ফিরার পথে আনা বারিশের ম্যাগাজিনে থাকা বারিশের ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতো সে।কতোশত ম্যাগাজিন নিজের আলমারিতে জমিয়েছে তাঁর নিজেরও অজানা!তাই হয়তো লোক বলে বিয়ে হলে আপনাআপনি ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায় স্বামী স্ত্রীর মাঝে যাকে বলে পবিত্র ভালোবাসা। বারিশের অতিরিক্ত ভালোবাসা তাকে বারিশের প্রতি ভালোবাসতে বাধ্য করেছে।হঠাৎ ঘাড়ে বারিশের তীব্র স্পর্শ পেতে খানিকটা কেঁপে উঠলো রূপ। বারিশের ঘনঘন চুম্বনে নেতিয়ে পরছে সে।বারিশ গভীর এক চুম্বন করে ছেড়ে দিলো, কাঁধের চুলগুলো গুছিয়ে দিয়ে সেখানে নিজের চিবুক ছুঁইয়ে রূপের চাঁদের আলোতে ফুটে উঠা স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে সফ্ট ভয়েসে বললো,

‘কেমন লাগছে?ফিল হচ্ছে কিছু!’

বারিশের এমন কথা শুনে রূপ লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে। কিরূপ বেশরমের মতো কথা বলছে বারিশ।রূপ থেমে থেমে জবাব দিলো,

‘উহু সুরসুরি লাগছে!’

রূপের কথা শুনে বারিশ রূপকে এক জাটকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে কোমড় পেঁচিয়ে শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। বাঁকা হেসে বললো,

‘তাই সুরসুরি লাগছে।ওয়েট আরো লাগবে।’

বলে রূপকে সুরসুরি দিতে লাগলো সঙ্গে সঙ্গে রূপ খিলখিল করে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে মুখ লাল হয়ে গিয়েছে দেখে বারিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে পুনরায় জড়িয়ে ধরলো।রূপ এখনো খিলখিল করে হাসছে,বারিশ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাঁর দিকে। আলতো হাতে চুলসহ ঘাড় চেপে শান্ত গলায় বললো,

‘ব্যস্ পরিজান এইবার চুপ যাও। অনেক হয়েছে বেশি হাসলে তোমার পেট ব্যথা করবে।’

রূপ এখনো চোখ বুজে হেসে যাচ্ছে।বেশ কিছুক্ষণ পর সে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যায়।বারিশ মন্ত্রমুগ্ধের মতো এখনো একই ভঙ্গিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম। আলতো হাতে রূপকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো রূপও আবেশে চোখ বুজে নিলো, তাঁর শান্তির নীড়।বারিশ চোখ বুজে রূপের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। ধীরে কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ এইবার কিছু ফিল করছো!’

রূপ আগের ভঙ্গিতে মাথা রেখে আলতো করে মাথা দুলিয়ে বলল,

‘হুম।’

বারিশ মৃদু হেসে আরেকটু গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু খেয়ে বললো,

‘কী?’

রূপ মিহি কন্ঠে জবাব দিলো,

‘আপনার হার্ট বিট।’

আবারো হাসলো বারিশ। ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি এলিয়ে দুই হাতে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রূপকে। চুলের মাঝে মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,

‘খুব বড় হয়ে গিয়েছো পরীজান।খুব।আরো একটি অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।’

বারিশের কথাটার মানে বুঝলো না রূপ, আগের ন্যয় লেপ্টে আছে বারিশের বলিষ্ঠ বুকের মাঝে।বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রূপ বারিশের বুকে আঙ্গুল খুঁটিয়ে আবদার সুরে বললো,

‘একটা গান শুনাবেন মি.এরোগেন্ট ম্যান।’

রূপের এমন কথা শুনে বারিশ চট করে আঁখি জোড়া খোলে অবাক কন্ঠে বলল,

‘তুমি গান শুনতে চাইছো রূপজান!’

রূপ উৎফুল্ল হয়ে হাঁসি মুখে মাথা উপর নিচ ঝাকাতে লাগলো। সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বারিশ রূপের গালে হাত রেখে শান্ত গলায় বললো,

‘আমার জান কিছু চাওয়ার পূর্বে তাঁর দেওয়ানা হাজির করে ফেলবে।তোমার কাছে সামন্য চাওয়া আমার কাছে বিশাল পাওয়া।একটু অপেক্ষা করো। ‘

রূপের কপালে চুমু খেয়ে বারিশ রুমের ভিতরে চলে গেলো গিটার আনার জন্য‌ সেদিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো রূপ।বারিশের কেয়ার, ভালোবাসা,প্রতিটা কাজ তাঁর প্রতি খুব নিখুঁত আর আন্তরিক। ইচ্ছে করে সবসময় তাকিয়ে তাকে নিয়ে গবেষণা করতে। জানতে খুব ইচ্ছে করে একটা মানুষ এতোটা নিঃস্বার্থ ভালো কী করে ভাসতে পারে। মাঝে মাঝে বড্ড অবাক হয় বারিশের ছোট খাটো পাগলামি গুলো দেখলে, কতোটা পাগলামো করে তাঁর জন্য। তাঁর ছোট থেকে ছোট বিষয় গুলো কী নিখুঁত ভাবে যত্নসহাকারে করে। ছোট বেলা থেকে বারিশ অন্য দিকের মতো গানও খুব ভালো গাইতে পারে, তাঁর গানের গলা দারুন। সাথে চমৎকার গিটার বাজাতে পারে। সবসময় বারিশ যখন গিটার বাজাতো সে বারিশের পাশে বসতো আর বারিশ তাকে গিটার বাজাতে শিখাতো। গিটার বাজানোটা রূপের একটি শখ বলা যায়।

বারিশ রুম থেকে গিটার নিয়ে এসে আগের ন্যয় বসে রূপের সামনে গিটার রেখে পিছন থেকে রূপকে জড়িয়ে নিজের হাত ধারা রূপের আঙ্গুল দিয়ে গিটার বাজাতে লাগলো। রূপের কাঁধে থুতনি রেখে টুংটাং গিটারে শব্দ করে গান গাইতে শুরু করলো,

🎸🎸Hun tere bin namumkin
Karna guzara ho Gaya…
Allah di kasam Allah di kasam
Tu mainu enna pyara ho Gaya

Hun tere bin namumkin
Karna guzara ho Gaya…
Allah di kasam Allah di kasam
Tu mainu enna pyara ho Gaya

Tera ladna vi jannat ae
Teri tameez jannat ae
Ho jannat ae tera hasna
Teri har cheez jannat ae

Ho sarheya nahi,mareya nahi
Dupptta tera jinnu chhu gaya
Tu jhummeya si jo parinda kade o
Main sohneya ambar ho Gaya(2)

Teri jahanjhar vi jannat ae
Teri kameez jannat ae
Ho jannat teri hasna
Teri har cheez jannat ae

Ho teri pair vi jannat ae
Ho teri sheher vi jannat ae
Ho assi pee likko saah
Teri zehar vi jannat ae

Ho jannat ae teri galliyan
Teri dehleez jannat ae
Ho jannat ae tera hasna
Teri har cheez jannat ae🎸🎸

সম্পূর্ণ গানটি রূপের দিকে তাকিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে গাইছিলো বারিশ।রূপকে গভীর ভাবে ফিল করে গানটি গাওয়া শেষ করে সে। রূপের প্রতি বারিশের গভীর ভালোবাসা গানের মাঝে প্রকাশ পাচ্ছিল।যেই ভালোবাসায় ছিল পাগলামো ছিল মাদকতা।রূপ বারিশের গানের মাঝের প্রতিটি স্পর্শ কেঁপে উঠছিল বারবার।বারিশের মনো মুগ্ধকর গলায় রূপের জন্য গাওয়া গানটি এক অচেনা জগৎ নিয়ে গিয়েছিল তাকে।রূপ কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে,সে এখনো মোহে পড়ে আছে।বারিশের এমন নেশালো কন্ঠে হার্ট টাচিং গানটিতে চাইলেও কিছু বলতে পারছে না লজ্জায়।বারিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে মুচকি হেসে গিটার রেখে রূপকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,

‘ঘুমিয়ে পরো রূপজান অনেক রাত হয়ে গিয়েছে।সো ক্লোজ ইউর আইস।’

রূপ আর কথার পিঠে কিছু বললো না চোখ দুটো বন্ধ করে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলো।বেশ কিছু সময় পর রূপের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বারিশ তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলো রূপ ঘুমিয়ে গিয়েছে। রূপের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে মৃদু হেসে তাকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো।নিজেও পাশে শুয়ে রূপকে বুকে জড়িয়ে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলো।

#চলবে,,,❣️
[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মিম✵]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌
(খুব শীঘ্রই গল্পে ভিলেনের এন্ট্রি হচ্ছে।ভিলেন ছেলে হবে না মেয়া সেটা পাঠকরা কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। ধন্যবাদ সবাইকে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here