#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ২৯

0
100

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ২৯
#সুমাইয়া আক্তার মিম

_
রাত পেরিয়ে নতুন ভোর।সূর্য উঠেছে, ডিমের কুসুমের মতো দেখতে তাকে।চারিদিকে প্রকৃতি নতুন দিনের সূচনায় ব্যস্ত।পাখি কিচিরমিচির করছে, তাঁর শব্দে প্রকৃতি কে আরো মনোরম করে তুলেছে। গতরাতের একাধারে মুষলধারে বৃষ্টি আর ঝড়ের ইতি টেনে প্রভাত হতে চকচকে সতেজ সুর্য উঠে ধরনীর বুকে। গতরাতের সেই গা ঝমঝম পরিবেশ, গম্ভীর আকাশ এখন নেই। নতুন দিনের সাথে আকাশ জেনো খুশিতে চকচক করছে, তাইতো তাঁর বুকে এবং মনে কোথাও আঁধার নেই। শীতের সকাল।গতরাতের বৃষ্টির ফলে বাতাসের সাথে ভেসে আসছে শুদ্ধ মিষ্টি গন্ধ।চারিপাশের গাছপালা থেকে শুরু করে সবকিছু দেখতে খুব সুন্দর আর সতেজ লাগছে। প্রতিটি জিনিসের উপর শিশির বিন্দুর ন্যায় পানি জমেছে।বাগানের রঙিন পাতা যুক্ত গাছ গুলো দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।ফল গুলোতেও বিন্দু বিন্দু পানি,যা মালি খুব সযত্নে শুকনো কাপড় দ্বারা শুকিয়ে রাখছে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।বাগানের এক পাশে ছোট সবজি বাগানে ছোট ছোট লাল টমেটো চাষ করা হয়েছে।বিন্দু পানিতে কী অসাধারণ না লাগছে!দুজন মালি দিয়ে সেখান থেকে বেশ কয়েকটি টমেটো পাড়িয়ে ঝুড়ি ভর্তি করে নিলো বারিশ। একজন রাঁধুনিকে বলে টাটকা টমেটোর সস তৈরি করে নিতে বললো সে। রূপের জ্বর কেটে গিয়েছে সেই রাতে কিন্তু খাবারের প্রতি বড্ড উদাসীন হয়ে পড়েছে এই কদিন মেয়েটা।জ্বরের সময় মুখে কেমন সবকিছু বিষাদ লাগে। এই সময় টক খেতে ভালো লাগে তাঁর আর টমটোর সস। টমেটোর সস রূপের ভীষণ প্রিয়।বারো মাস তাঁর খাবার টেবিলে টমেটোর সস চাই আর সেটা যদি হয় শুদ্ধ ঘরের তৈরি তাহলে তো কথাই নেই। তাইতো সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট করার জন্য মালিকে দিয়ে টমেটো নিয়ে আসতে বলে বারিশ।

খাবার টেবিলে চুপচাপ বসে আছে রূপ। ঘুম থেকে উঠে আবদার করে বসেছে,আমি বেশ সুস্থ আছি মি.খান সাথে মনটা ভীষণ ভালো।তাই চাইচ্ছি ভার্সিটি থেকে ট্যুরে নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমিও যাবো।বারিশ প্রতি উত্তরে পরিষ্কার ভাবে না বলে দিলো।রিনি যাবে সে গেলে কী সমস্যা?এই নিয়ে এলাহী কান্ড বাঁধিয়ে বসেছে রূপ।বারিশ প্রচন্ড ক্ষিপ্ত। রূপের কিছুতে যাওয়া চলবে না।সে চাইলে নিজের সাথে করে রূপকে নিয়ে যেতে পারে কিন্তু সে যাবে না।রূপ খুব বিরক্ত করছিলো ঘুম থেকে উঠেই যখন শুনতে পেলো রিনি যাচ্ছে। বারিশের মুল উদ্দেশ্য বুঝতে সময় লাগলো না। মূলত রিনি যাচ্ছে বলে রূপের মন আসফাস করছে যাওয়ার জন্য।তাই বারিশ রিনির যাওয়া বন্ধ করে দিলো, কোনো প্রতিউত্তর করেনি রিনি। শুধু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো বারিশ নামক রাগী, ভীষণ রাগী তাঁর ভাইয়ার দিকে।বারিশ জানিয়ে দিয়েছে কয়েকদিন বাদে ফ্যামেলি ট্যুরে যাবে তাই এখন কোথাও যাওয়া চলবে না।রূপ আর লাফালাফি করলো না।সে জানে বারিশ কোনো কারণ ছাড়া নিষেধ করবে না।আর ভার্সিটি থেকে গেলে সেতো বারিশ আর একশো গার্ড নিয়ে যেতেই হবে তাই শুধু শুধু বিষয়টি গুলালো না রূপ।

বারিশ রূপকে খাইয়ে দিতে লাগলো আর রূপও ভালো মেয়েদের মতো চুপচাপ সব খেয়ে নিচ্ছে।আজ দীর্ঘ দুই দিন পর সে খেতে পারছে তাই একপ্রকার গপাগপ খেয়ে যাচ্ছে।টেবিল ভর্তি পছন্দ। পছন্দের খাবার থেকে দূরে থাকা কারোর পক্ষে সম্ভব নয় ঠিক রূপেরও না।বারিশ হাসলো। মৃদু হেসে রূপের চুল ঠিক করে খাইয়ে দিতে লাগলো বিনা বাক্যে। দুজনের খাবার শেষ হতে বাগানে চলে গেলো।আজ আবার বন্দুক চালানো, ধনুক চালানো শিখতে হবে তাকে।আজ বিকেলের দিকে মিসেস মিথিলা খান আর নিলয় খান বন্ধুর বাড়িতে যাবেন,রাতের ডিনার শেষে বাড়িতে ফিরবেন।ট্যুরে যেতে না পেরে রিনির মন ভীষণ খারাপ। বোনের মন ভালো করার জন্য শপিং করে আসতে বললো কার্ড দিয়ে বারিশ।শপিং রিনির পছন্দ তাই ভাইয়ের প্রচুর টাকা ভর্তি কার্ডটি নিয়ে শপিং মলের উদ্দেশ্য পা বাড়ালো।আজ খুব শপিং করবে সে।এতো শপিং করতে কী করে ভালোবাসে এই মেয়ে, রূপ বুঝতে পারে না? শপিং করতে করতে রুমটাকে রিতিমত শপিং মল করে তুলেছে রিনি।

.
ঘড়িতে ১১:০০ বাজতে চললো।আকাশে আজ সূর্যি মাপা খুব ক্ষেপে আছেন।রোদের তেজ আজ ভীষণ। শীতের রোদ, বরাবরই তিব্র।বাগান সাইটের ছোট খাটো পুল রয়েছে সেখানে হেলিয়ে দেওয়া কাঠের তৈরি ভীষণ বড় বড় কয়েকটি চেয়ার সাথে রয়েছে বড় বড় ছাতা।অনেকটা সমুদ্র সৈকতের মতো।সেখানের একটি ছাতা বিহীন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে রূপ, গায়ে মাখছে চকচকে রোদ। শীতের রোদ সবসময়ের মতো আরামদায়ক।দুই দিন পর জ্বর নেমেছে তাই আজ শরীরটা অনেকটা সতেজ লাগছে সাথে এমন রোদ মাখাতে ভীষণ ফুরফুরে লাগছে শরীরটা।বারিশ তাঁর থেকে বেশ কিছুটা দূরে গম্ভীর মুখে গার্ডদের সাথে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।হালকা আকাশি রঙের গলা অবধি বন্ধ ফিনফিনে পাতলা গেঞ্জির সাথে কালো রঙের টাওজার পরিহিত অতি সুন্দর পুরুষটিকে কোনো রূপকথার রাজকুমারের থেকে কম লাগছে না রূপের কাছে। গালে হাত দিয়ে বারিশকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে রূপ।গার্ডদের যখন আঙ্গুল উঁচিয়ে কিছু বলে তখন সিংহের ন্যায় চোখ মুখ বাঁকিয়ে হিসহিসিয়ে বলে যা রূপের কাছে দারুন লাগে।এই অতিরিক্ত মাত্রায় সুন্দর পুরুষটি একান্তই তাঁর ভাবতেই বুকে হাত দিয়ে চওড়া হেঁসে পুনরায় আগের ভঙ্গিতে মাথা এলিয়ে দিলো। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।এতো এতো সুখের মাঝে একটি জিনিস সে প্রায় ভুলে বসেছিলো আর তা হলো তাঁর নিজস্ব পরিবার পরিজন যাদের সে বাংলাদেশে ফেলে সুদূরে পাড়ি জমিয়েছে দীর্ঘ দিন আগে। গতকাল বাড়ির সকলের সাথে কথা হয়েছে এরপর থেকে বাংলাদেশ থেকে ঘুরে আসতে এবংকি নিজ পরিবারের কাছে যেতে বড্ড মন আনচান করছে ।বারিশ আদুরে ভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে আশ্বাস দিয়ে নরম গলায় বলেছে, সামনের মাসে বাংলাদেশে একটি কাজ আছে তখন তাকে নিয়ে যাবে এবং দীর্ঘদিন সেখানে থেকে আসবে। খুব খুশি হলো রূপ। খুশিতে আটখানা হয়ে বারিশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পা উঁচু করে বারিশের বা গালে চুমু খেয়ে বলেছিলো , আপনি খুব ভালো মি.এরোগেন্ট ম্যান।যখন রূপের বিষয়টি বোধগম্য হলো তখন লজ্জায় জীভ কেটে মাথা নুইয়ে লজ্জাবতী গাছের ন্যায় নেতিয়ে পরলো।চমকালো বারিশ।বেশ কিছু সময় ‘থ’মেরে গিয়েছিল সে।যখন হুঁশ ফিরলো তখন রূপের দিকে চমৎকার হেসে কপালে চুমু খেয়ে বুকের সাথে চেপে ধরলো। আর লজ্জা দিলো না তাঁর পিচ্চি হরিনীকে। বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বেশ কয়েকটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিলো কপালে। তখনের কথা মনে পড়তে পুনরায় ব্লাসিং হতে শুরু করলো রূপ। ইশ্ কী লজ্জাজনক বিষয় ছিলো।

‘একা একা কী ভেবে হাসা হচ্ছে রূপজান?’

বারিশের কন্ঠ শুনে সোজা হয়ে বসে সামনে তাকাতে দেখতে পেলো বারিশ এক ভ্রু উঁচিয়ে আছে।রূপ ভ্রু কুঁচকে বললো,

‘একদম ভ্রু উঁচিয়ে কিংবা এমন লুকে আমার দিকে তাকাবেন না।’

বারিশ পুনরায় ঠোঁট বাঁকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,

‘কেনো পিচ্চি?’

‘আপনাকে এমন করলে ভীষণ কিউট লাগে। খুব আদুরে লাগে। কেমন আদর আদর পায়। ইচ্ছে করে টরাস টরাস চুমু খাই।’

রূপের ঠোঁট উল্টিয়ে এমন কথায় চমকালো বারিশ।গলা শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গিয়েছে।খকখক করে কেশে উঠলো। সামনের ছোট মিনি টেবিলের উপর থেকে পানি ভর্তি বোতল উঠিয়ে ঢকঢক করে সম্পূর্ণ পানি শেষ করে দিলো। তবুও পিপাসা মিটেনি।ইশারায় আরো পানি নিয়ে আসতে বললো গার্ডকে। এতো পিপাসা লাগার কারণ কী?আবার এক বোতল পানি সম্পূর্ণ শেষ করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।কী ভয়ংকর কথা।একটুর জন্য দম আটকে আসছিলো বারিশের। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।রূপের মুখে এই দুই শব্দ ভয়ংকর লাগছিলো তাঁর কাছে। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে বারবার।সবসময় তাকে লাগাম ছাড়া কথা মানায় কিন্তু রূপ! বিষয়টি বেশ ভয়ংকর।আড়ালে হাসলো রূপ।বেশ জব্দ করেছে এই এরোগেন্ট ম্যানকে।বারিশ কিছু একটা করে বসবে। কন্ট্রোল হারাচ্ছে নিজের উপর তাই পুনরায় আগের ভঙ্গিতে শান্ত গলায় বললো,

‘চলো ধনুক শিখবে আজকে প্রথমে। কোনো অজুহাত চলবে না।’

রূপের আজ ভালো লাগছে না তাই উশখুশ করে বললো,

‘আজ নয় অন্যদিন।’

শুনলো না বারিশ।হাত টেনে শিখার প্লেসে নিয়ে আসলো।বিশাল বড় জায়গা জুড়ে,যেখানে বারিশ এসব জিনিস চর্চা করে। সামনে ধনুক হাতে গার্ড দাঁড়িয়ে আছে।বারিশ এগিয়ে আসলে তাঁর হাতে ধনুক দিয়ে মাথা নিচু করে কিছু দূরে গিয়ে অবস্থান করলো।বারিশ রূপকে নিজের কাছে আনিয়ে পজিশন নিতে লাগলো।রূপ পুনরায় বলে উঠলো,

‘আমার আজ ভালো লাগছে না এসব শিখতে।প্লীজ অন্য দিন শিখি।’

বারিশ রূপের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,

‘না আজকে শিখতে হবে।আর এগুলো খুব কঠিন বিষয় নয় রূপজান। তুমি সবকিছু এতো কঠিন ভাবে কেনো ভাবো?’

রূপ মৃদু হেসে বারিশের দিকে তাকিয়ে কাঁধ বাঁকিয়ে বাচ্চাদের মতো কিউট ফেইস বানিয়ে বললো,

‘এসব বন্দুক চালানো, ধনুক শিখা আমার খুব ভালো লাগে কিন্তু এটা এখন শিখা এতোটা জরুরি কী! আমি তো বেশ আগের থেকে এখন ভালো পাড়ি।’

বারিশ পিছন থেকে রূপকে জড়িয়ে ধরলো,রূপের হাতের উপর হাত রেখে সামনে বুডের দিকে তাকালো। রূপকেও ইশারায় সামনে তাকাতে বললে রূপ সেদিকে তাকালো।বেশ অনেক সময় ধনুক টেনে হঠাৎ ছেড়ে দিতে সর্ব গতিতে বুডের লাল বৃত্তের মাঝে তীর গিয়ে আটকালো।তেমনটা হওয়ায় বেশ খুশি রূপ।সে মোটামুটি তীর ধনুক আর বন্দুক চালানো আয়ত্ত করে নিয়েছে।বারিশ পেছন থেকে রূপের কানে ফিসফিস করে বললো,

‘হুম খুব জরুরী। কোনো জিনিসে কাবু আনতে হলে এর উপর নিজের লক্ষ্য স্থির করতে হয়। বলতে পারো, নিজের মনের ছোট ছোট ভয় গুলোর সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি।’

হাসলো রূপ। পুনরায় আগের ভঙ্গিতে বারিশের হাতের সাথে তাল মিলিয়ে ধনুক টেনে তীর ছুঁড়ে মারলো এবারো ঠিক জায়গায় নিশানা আটকালো।রূপ চমৎকার হেসে বললো,

‘উহু। আমার চারিপাশে আপনি নামক শক্তি চব্বিশ ঘন্টা আপনিময় করে তোলেছে।তাই কোনো কিছুতেই এখন আমার ভয় কাজ করে না।আই এ্যম ইউর স্ট্রং হার্ট।’

শেষের কথাটা খুব ভাব নিয়ে বললো রূপ।বারিশ মাথা দুলিয়ে নিঃশব্দে হাসলো।বারিশ রূপের হাতে ধনুক দিয়ে ইশারায় তাকে তীর ছুঁড়তে বললো। মৃদু হেসে রূপ নিজে থেকে তীর ছুঁড়ে মারে।এইবার সে বিজয়ী।খুশিতে এক লাফে বারিশকে জড়িয়ে ধরে,বারিশও নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিলো তাঁর প্রেয়সীকে। কপালে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বললো,

‘আই নো মেরি জান। আমি সবসময় তোমার নিঃশ্বাসের সাথে মিশে আছি। কখনো এক মুহুর্তের জন্য ছাড়ছি না তোমাকে।না তোমাকে ছাড়তে দিবো। মনে রাখবে যখন তোমার চোখের আড়াল হবো সেটা শুধুমাত্র ধোঁয়াশা আর দৃষ্টিকোণের আড়ালে।আমি থাকবো, সবসময় থাকবো তোমার চারিপাশে তোমার নিঃশ্বাসে, তোমার অস্তিত্ব জুড়ে। আমি এক মিনিটের জন্যও তোমাকে একা ছাড়ছি না। চোখের আড়াল হলেও তোমার কল্পনায় আমি বিরাজ করি,তোমার সম্পূর্ণ মস্তিস্ক জুড়ে আমি রয়েছি।যখন মনে হবে আমি চোখের আড়াল রয়েছি সেটা শুধুমাত্র লোকদেখানো, আমি থাকবো তোমার চারিপাশে রহস্যের বেড়াজালের কাঁচের আবরনে ঢাকা।’

বারিশের কথাগুলো মুগ্ধ হয়ে শুনছে রূপ।বারিশ একটু একটু করে তাঁর সম্পূর্ণ জুরে নিজের দখলে নিয়ে ফেলেছে।এখন এই কথাগুলো জেনো তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, যেকেনো পরিস্থিতি তাকে ভয় পেতে হবে না।বারিশ চোখের আড়াল থাকলেও এই কথাগুলো রূপকে সবসময় শক্তি জুগিয়ে দিবে ভয় পাওয়া থেকে বিরত রাখবে। কারণ সত্যি তো বারিশ দৃষ্টিকোণ থেকে দূরে হলেও থাকবে তাঁর চারিপাশে তাঁর সবটুকুতে জুড়ে।এক মিনিটের জন্য একা ছাড়বে না কারণ বারিশ যে তাঁর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি যে দিয়েছে সে।

_

পরেরদিন।আজকে রূপকে ভার্সিটিতে যেতে হবে এটাই নির্দেশনা বারিশের। আজকে নাকি ক্লাসে ক্লাস টেস্ট রয়েছে এবং সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে এটাই বাধ্যতামূলক।রূপ কিছুতে যাবে না ভার্সিটিতে তার একদম আগ্রহ নেই। কেমন অদ্ভুত ফিল হচ্ছে, কিছু একটা ঘটতে চলেছে এটা মনে জেঁকে বসেছে। শুনলো না বারিশ।আজ সকাল থেকে বারিশের হাবভাব ভালো ঠেকছে না রূপের কাছে। কেমন জানি অতি শান্ত আর গম্ভীর হয়ে আছে।সব ঠিকঠাক করলেও কেমন জানি অদ্ভুত দেখতে লাগছে তাকে। রূপ ভয় পাচ্ছে বুঝতে পেরে রূপকে আশ্বাস দিয়ে বললো, প্রফেসারের রুমে সে পরিক্ষা দিবে সেই ব্যবস্থা করেছে।রূপ এইবার শান্ত হলো এবং পরিপ্রেক্ষিতে বারিশ জেনো যতোটা সময় রূপ ভার্সিটিতে থাকবে তাঁর পাশে জেনো থাকে।মানলো বারিশ। গতকাল পিকনিক আজতো ভার্সিটি বন্ধ থাকার কথা তাহলে!কথাটি মনে আসলেও করলো না চুপচাপ বারিশের বুকে মাথা রেখে গাড়িতে চড়ে ভার্সিটিতে চলে আসলো।

ভার্সির সামনে গাড়ি থামাতে বারিশ রূপের দিকে বেশ কিছুক্ষণ নিরবে তাকিয়ে রইল। শক্ত বন্ধনিতে আটকে রাখলো তাঁর রূপজানকে। জেনো ছেড়ে দিলে হাড়িয়ে যাবে।রূপ মৃদু হাসলো কিন্তু পরিপ্রেক্ষিতে বারিশ হাসলো না শুধু আগের ন্যায় তাকিয়ে রইলো। তাঁর চোখ দুটো লাল টুকটুকে হয়ে আছে চিকচিক করছে পানি। কেমন অগোছালো লাগছে বারিশকে।বারিশ কী অসুস্থ?রূপ অস্থির হয়ে বারিশের কপাল ছুঁয়ে দিলো নিজের তুলতুলে নরম হাত দিয়ে।অধির কন্ঠে বলে উঠলো,

‘আপনার কী অসুস্থ ফিল হচ্ছে?এমন দেখাচ্ছে কেনো?’

মিছে হাসলো বারিশ। রূপের হাতের তালুতে চুমু খেয়ে শক্ত করে হাত চেপে ধরলো।আশ্বাস দিয়ে বলল সে ঠিক আছে।রূপ আর প্রশ্ন করলো না।বারিশ সবসময় তাকে নিয়ে চিন্তিত থাকে। নিজের দিকে বড্ড উদাসীন এই ছেলে তাইতো রূপ বারিশের হাল্কা কিছু হলে মরিয়া হয়ে উঠে।বারিশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। হাসলো রূপ।বারিশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,

‘আমি ফার্স্ট ফার্স্ট পরিক্ষা দিয়ে চলে আসবো মি.খান। আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আপনি কিন্তু যাবেন না আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো।’

বারিশ রূপের সারা মুখে চুমু খেয়ে বললো,

‘আমি সবসময় তোমার পাশে আছি মেরি জান। একদম ভয় পাবে না।যখন ভয় লাগবে তখন এতোটুকু মনে রাখবে আমি আছি তোমার চারিপাশে শুধু দৃষ্টিকোণ থেকে আড়ালে।’

মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো রূপ। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম। কপালে শেষ চুম্বন করে ছেড়ে দিলো বারিশ।রূপ বের হবে এমন সময় বারিশকে কিছু উপলব্ধি করতে না দিয়ে চট করে গালে টসটস দুটো চুমু খেয়ে দৌড় দিলো। মৃদু হাসে বারিশ। কিছুক্ষণ পর,মূহুর্তে চোখ মুখের ভাব মিলিয়ে যায়। চোখ দুটো পুনরায় লাল হয়ে এসেছে চিকচিক করছে পানি। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রূপের যাওয়ার দিকে। মুখে চিন্তা,ভয়, কষ্ট,রাগ কী আছে বুঝা মুশকিল কিন্তু কিছু একটা হয়েছে বুঝতে অসুবিধা হয়নি রূপের। সিঁড়ির কাছে গিয়েও পুনরায় পেছনে তাকিয়ে বারিশকে দেখলো। গাড়িতে বসে তাকে দেখছে।ইশারায় বারিশকে তাকে নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করলো বিনিময়ে বারিশ তাঁর দিকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে মারলো। ঠোঁটের কোণে চওড়া হাসি ফুটে উঠলো রূপের।আজ অন্যদিনের তুলনায় গার্ডগুলো তাঁর থেকে বেশ দূরত্ব রেখেছে।অন্যদিন হলে তো একদম ক্লাসের বাহিরে দরজায় উপস্থিত থাকে।অবশ্য রূপ এতো বেশি ভার্সিটিতে আসেনি কিন্তু যখন আসতো ঠিক এমন কিছুই হতো।আজ জেনো সব দরজা জানালা খোলা রেখে শত্রু আসার অপেক্ষায় আছে।রূপ মাথা খাটালো না। চারিপাশে খুব কম সংখ্যক স্টুডেন্ট ব্যাপার কী?আজ সব অদ্ভুত ঠেকছে কেন রূপের মাথায়।

অন্যদিকে বারিশ ঘাড় বাঁকিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করছে।হাতের উপর মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে। রোহান এগিয়ে আসতে শুধু একটি বাক্য উচ্চারণ করেন,

‘রূপজানের জেনো কিছু না হয় রোহান তাহলে সবকিছু ছারখার করে ধ্বংস স্তুপে পরিনত করবো।সবাই এলার্ট থাকবে সঠিক সময়ের।’

কথাগুলো বলে একবার বাহিরে তাকিয়ে গাড়ি নিয়ে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে যায় বারিশ।

#চলবে,,,,❣️
[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মিম✵]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা নিষেধ ❌

গ্ৰুপ লিংক 👇
https://www.facebook.com/groups/317078740134340/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here