#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩০

0
85

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩০
#সুমাইয়া আক্তার মিম

_
পরিত্যক্ত হলরুম। চারিদিকে ভার্সিটির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুব সুন্দর মতে সারি অনুযায়ী সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত, এখানে ভার্সিটির প্রোগ্রামে ব্যবহারিত জিনিস দিয়ে ভরপুর। সুবিশাল রুম। রুমের শেষ প্রান্তের দেওয়ালের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে আছে রূপ। ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। চোখ মুখে আতংকের ছাপ। কপাল বেয়ে ঘাম গলা অবধি ঠেকছে। অঝোরে ঘামছে সে,যার ফলে গাঁয়ের হলদে রঙের উরনাটা ফর্সা গলায় চিপকে মিশে আছে। মুখ চেপে থরথর করে কাঁপছে, মাঝে মাঝে বড় বড় চোখ দুটো থেকে দুয়েক ফোটা নোনা জল থেকে থেকে পরছে। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর জম,স্বয়ং ছায়ান সিত্তিস। নিজের ভয়ংকর মৃত্যুকে এতো কাছ থেকে দেখে নিজের অবশ শরীর বারবার নেতিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে চাইছে। কিন্তু এমনটা করা নিষেধ। কেউ বলেছে, পরিস্থিতি যেমন হোক লড়াই করা বিহীন হেরে যাওয়া মোটেও ঠিক না। দূর্বলতা আর অসহায়ত্বের পরিচয় দেয়।এই দুটোর মাঝে না রূপ দুর্বল না অসহায়। সেতো তাঁর মি.খানের স্ট্রং হার্ট।সে কী করে দুর্বল হতে পারে?দ্যা বারিশ খানের বউ আর যাই হোক দুর্বল অসহায় এই দুটি শব্দ বড্ড বেমানান। কিন্তু বারিশ কোথায়! আসছে না কেনো?আর যাইহোক এই সাইকোর সামনে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না রূপ। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।বারবার সেদিন কার লোকটাকে পিচ পিচ করার কথা মাথায় আসছে। ভয়ে আরো গুটিয়ে যায় রূপ।আর এই ছায়ান সিত্তিস কী খুব ভালো করে জানে রূপ!সে যে কতোটা জঘন্য আর কী কী করতে পারে অজানা নয় কিছু?বারিশ কিংবা কেউ বলেনি ছায়ানের কুকর্মের কথা।ঔ দিন বারিশ আসার পূর্বে সে যখন চোখ বুজে ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন রিনিকে মিসেস মিথিলার সাথে ছায়ানের কুকর্ম এবং সম্পূর্ণ বায়োডাটা বলতে শুনেছে রূপ। কেউ তাঁর সামনে এসব বলবে না কারণ এতে রূপ ভয় পেতে পারে।বারিশের কড়াকড়ি নিষেধ। কিন্তু রূপতো শুনে নিয়েছে যা শুনার। একজন মারাত্মক রেপিস্ট,মাতাল-‌জুয়ারি, মাত্রারিক্ত ড্রাগস এডিক্টটেট আরো ইত্যাদি খারাপ জিনিস দিয়ে মোড়ানো এই লোক।

‘কোথায় আপনি মি.খান?প্লীজ জলদি আসুন। আমার খুব ভয় করছে।’

মনে মনে বারবার বারিশকে আর আল্লাহ কে স্মরণ করছে রূপ। ভয়ে কলিজা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম।এতোটা ভয় সে কখনো পাইনি। তাঁর সামনে বেশ স্টাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছায়ান। তাঁর থেকে দুই থেকে এর কম দুরত্ব। কেমন বিশ্রী হাঁসি মুখে লেগে আছে!দৃষ্টি দেখলে গা গুলিয়ে আসছে রূপের।কী খারাপ আর জঘন্য লালসাময় দৃষ্টি?রূপের এই সাইকোর হাবভাব বুঝতে বিন্দুমাত্র কষ্ট হচ্ছে না। পরপুরুষ তাকে এমন খারাপ দৃষ্টিতে দেখছে ভাবতে,নিজের শরীরকে কেটে পিচ পিচ করে দিতে ইচ্ছে করছে।বারিশ ছাড়া কেউ তাঁর এতো কাছে আসা আর এমন কুৎসিত দৃষ্টিতে দেখা ভাবতেই, ঘৃণা হচ্ছে খুব। তাঁর জীবনে কখনো এমন অপ্রত্যাশিত কিছু হবে তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি রূপ। তখন নিজ ক্লাসরুমে প্রবেশ করার উদ্দেশ্যে সেকেন্ড ফ্লোরে পৌঁছে টার্ন নিচ্ছিলো তখন কেউ তাঁর মুখ চেপে এখানে নিয়ে আসে।মুখ চেপে ধরার ফলে চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারেনি রূপ না বিশাল দেহের দৈত্যেকে নিজের থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। শুধু ছটপট করেছে। রুমের ভিতরে এনে ছেড়ে দেয় ছায়ান রূপকে।ছায়ানকে দেখে তখন থেকে পাক্কা দশ মিনিট যাবত রূপ একই রকম মুখ চেপে কেঁদে যাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে হেলদুল নেই ছায়ানের।সে তো এখন রূপের রূপেতে মজেছে।কী কুৎসিত চিন্তাধারা?অন্যের বিয়ে করা বউকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।

হঠাৎ ছায়ান রূপের আরেকটু কাছে আসাতে রূপ ভয়ে মাথা হেলিয়ে দেয়ালের সাথে মিশে যায়। ঘৃণা হচ্ছে। খুব ঘৃণা হচ্ছে তাঁর। বারবার শরীর গুলিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছে।ছায়ান হেসে বললো,

‘উফ্ বেবিডল। তুমিতো ছবি থেকেও হাজার গুণ বেশি সুন্দর। হট।একদম রিয়েল ডল।’

হাত দিয়ে রূপকে স্পর্শ করতে আসলে রূপ হাত জাড়িয়ে সরে দাঁড়ায়।রাগে শরীর রিতিমত কাঁপছে তাঁর।ছায়ান হাত সরিয়ে মুচকি হেসে বললো,

‘ওকে ওকে রিলেক্স।এতো হাইপার হতে হবে না।লিসেন্ট, আমার তোমাকে খুব পছন্দ হয়েছে। কিছুক্ষণ থেমে হঠাৎ মুখ এগিয়ে ফিসফিস করে বললো, বলতে গেলে আই লাভ ইউ।সো আমার যা পছন্দ হয়ে যায় সেটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার নামের হয়ে যায়। যা আমার তা কেউ আমার থেকে কেড়ে নিতে পারেনা।আর না কেউ তাকে আমার হাত থেকে বাঁচতে পারে।আই নো,ইউ দ্যা বারিশ খান ওয়াইফ। আমার সম্পর্কে এ টু জেড তোমার ধারনা রয়েছে, নতুন করে কিছু বলতে হবে না।’

ছায়ানের কথা শুনে আরো জোরে কেঁদে ওঠে রূপ। এখন কী করে এই সাইকোর হাত থেকে সে পালাবে।আর বারিশ।বারিশ কোথায়? আসছে না কেনো এখনো।সেকি এই সাইকোকে তার কাছে আসতে দেখিনি! ভয়ে দিশাহারা লাগছে রূপের। ছুটে পালানোর শক্তি অবশিষ্ট নেই। বারবার নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ছায়ান কথার ছলে বারবার রূপের গায়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করছে কিন্তু রূপ এদিক সেদিক চেপে যাচ্ছে।ছায়ান পুনরায় বলে উঠলো,

‘জীবনে প্রথম কাউকে সারাজীবনের জন্য নিজের করার প্রয়াস করেছি তাই তুমি চাইলেও আমার থেকে পালাতে পারবে না বেবিডল। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি প্লীজ তুমি আমার হয়ে যাবে আমি তোমাকে নিয়ে বারিশ খানের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে চলে যাবো।আই প্রমিস।’

উত্তেজিত হয়ে রূপের গালে স্পর্শ করতে গেলে রূপ রেগে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য হাত উঁচু করতে ছায়ান খপ করে হাত চেপে ধরে ফেলে।রূপ হাত ছাড়াতে চাইছে কিন্তু ছায়ানের শক্তির সাথে তাঁর মেয়েলী শক্তি বড্ড তুচ্ছ। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গিয়েছে রূপের।রাগে দুঃখে অসহায় লাগছে খুব।ছায়ান রূপের হাত খুব শক্ত করে চেপে ধরে শয়তানী হাঁসি দিয়ে বলে উঠলো,

‘এই নরম তুলতুলে হাত শুধু আদর করার জন্য বেবিডল। কেনো নিজেকে কষ্ট দিচ্ছো।শুনে রাখো,ছায়ান সিত্তিস যা চায় তা আদায় করে নিতে জানে।আপসে না হলে ছিনিয়ে নিবো।আর যেটা আমার নয় সেটা কারোর নয়।’

রাগি গলায় হিসহিসিয়ে বললো।রূপ ভয়ে হাত-পা কাঁপছে। তবুও নিজেকে শান্ত করে বলে উঠলো,

‘আ.. আমাকে ছা… ছাড়ুন বলছি। নাহলে বারিশ এসে পরলে আপনাকে জ্যান্ত বালি চাপা দিয়ে দিবে।বারিশ বাহিরে আছে। আমার হাত স্পর্শ করার মাশুল খুব ভয়াবহ হতে চলেছে আপনার জন্য। ছাড়ুন বলছি বাজে লোক।’

রূপের কথা শুনে হোহা করে পাগলের মতো হেসে উঠলো ছায়ান। এমন হাসতে দেখে ভয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে রূপ।এই হাঁসি স্বাভাবিক নয় খুব ভয়ংকর দেখতে।
ছায়ান হাঁসি থামিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

‘তোমার সো কল্ড হাসবেন্ড আমার কিছু করতে পারবে না বেবিডল। আমি তাঁর সামনে থেকে তোমাকে নিয়ে উধাও হয়ে যাবো।এই ছায়ান সিত্তিস কী এখনো তুমি বুঝতে পারোনি।যেটা আমার নয় তাকে আমি পৃথিবী ছাড়া করি। তুমি সহজে আমার হয়ে যাবে নাহলে……. খুব জঘন্য কিছু হবে।’

বলে বাঁকা হেসে চোখ মারে।রূপ ঢোক গিলে। ভয়ে শরীর ঝংকার দিয়ে কেঁপে উঠছে।আজ তাঁর বাঁচার নিশ্চয়তা নেই। একদম ক্ষীণ। হঠাৎ বারিশে বলা কিছু কথা মনে পরে,

‘আমি সবসময় তোমার নিঃশ্বাসের সাথে মিশে আছি রূপজান। কখনো এক মুহুর্তের জন্য ছাড়ছি না।না তোমাকে ছাড়তে দিবো। মনে রাখবে যখন তোমার চোখের আড়াল হবো সেটা শুধুমাত্র ধোঁয়াশা আর দৃষ্টিকোণের আড়ালে।আমি থাকবো, সবসময় থাকবো তোমার চারিপাশে তোমার নিঃশ্বাসে, তোমার অস্তিত্ব জুড়ে। আমি এক মিনিটের জন্যও তোমাকে একা ছাড়ছি না। চোখের আড়াল হলেও তোমার কল্পনায় আমি বিরাজ করি,তোমার সম্পূর্ণ মস্তিস্ক জুড়ে আমি রয়েছি।যখন মনে হবে আমি চোখের আড়াল রয়েছি সেটা শুধুমাত্র লোকদেখানো, আমি থাকবো তোমার চারিপাশে রহস্যের বেড়াজালের কাঁচের আবরনে ঢাকা।’

কথাগুলো মনে পড়তে রূপের ঠোঁটে আলতো হাসি ফুটে উঠে। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে বারিশকে পেলো না কিন্তু মনে জোর পেলো।বারিশ আছে, এখানে আশেপাশে কোথাও আছে। সে অনুভব করতে পারছে।শুধু তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে দূরে। কাঁচের আবরনে ঢাকা। নিজেকে বারিশের বলা কথা দ্বারা শান্ত করছে রূপ।ছায়ান রূপের আরো কাছাকাছি এগিয়ে আসতে নিলে রূপ বুদ্ধি খাটিয়ে রূপের ধরে রাখা হাতে কামড় বসিয়ে দিলো। হাতে ব্যথা অনুভব হতে জাটকা মেরে রূপের হাত ছেড়ে নিজের হাত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছায়ান।ছায়ান যখন নিজ হাত নিয়ে ব্যস্ত সেই সুযোগে রূপ সেখান থেকে দৌড়ে পালায় কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে পুনরায় ছায়ান রূপের হাত শক্ত করে চেপে ধরে। আগের তুলনায় আরো শক্ত করে হিংস্র ভাবে চেপে ধরে রূপের হাত।ব্যথায় রূপ কুকিয়ে উঠে জোরে কান্না শুরু করে।ছায়ান খুব রেগে গিয়েছে খুব হিংস্র আর ভয়ানক লাগছে দেখতে।রূপ ভয়ে গুটিয়ে যায়। বারবার মাথায় খারাপ চিন্তা ধারা আঁকড়ে ধরছে তাকে।ছায়ান রেগে চিৎকার করে বলে উঠলো,

‘সুন্দর করে বলেছি কিন্তু শুনো নি। আমার যা চাই তা চাই। সহজে না পেলে কঠিন ভাবেই ভালো।’

কথাটা সম্পূর্ণ করে বাঁকা হেসে রূপের দিকে এগিয়ে আসতে নিলে রূপ কান্না ভেজা গলায় ভিতু স্বরে বললো,

‘প্লী…প্লীজজ এমন করবেন না। আমাকে ছেড়ে দিন দয়া করে।’

‘স্যরি বেবিডল।যার উপর আমার নজর পড়ে তাকে এতো সহজে ছাড়া আমার পক্ষে অসম্ভব।আর তুমিতো আমার ব্যক্তিগত হয়ে গিয়েছো তাই তোমাকে ছাড়া প্রশ্নেই আসে না।’

উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো।ছায়ানের হাসির ঝংকারে রূপে ভয় দিগুন বারিয়ে দিচ্ছে।

_
অন্যদিকে হলরুমের কাঠের দরজার পাশে বিশাল বড় কাঁচের জানালা। কাঁচের জানালার উপর কারোর শক্ত হাতের ছোঁয়া কাঁচকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবে এমন পরিকল্পনা।এক হাত জানালার উপর রেখে সেখানে মাথা ঠেকিয়ে ভেতরে দৃশ্য দেখছে আগুন্তক। তাঁর হিসহিস তপ্ত নিঃশ্বাস বিষাক্ত সাপের বিষ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো। আগুন লাল চোখ দুটো থেকে বা চোখ বেয়ে এক ফোঁটা জল খসিয়ে পড়লো।জল তো নয় কোনো আগুনের ফুলকি।চোখ দুটো ভয়ঙ্কর লাল। কাউকে শেষ করার তিব্র চেতনা সারা শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আগুন্তক ব্যক্তির দৃষ্টি ধরে রাখা রূপের হাতের দিকে।ঘাড় টাকে এদিক সেদিক ঘুরাতে মটমট করে শব্দ হতে লাগলো।হাত কামড়ে রক্ত পাত শুরু করে দিয়েছে।সে কী রাগ!সব জেনো ধ্বংস স্তুপে পরিনত হতে চললো বলে! পৃথিবীতে প্রলয় নামলো বলে!কী যে সাংঘাতিক পরিবেশ।যে কেউ এই আগুন্তক মানবকে দেখলে ভয়ে নির্ঘাত মৃত্যু বরণ করতেন।শত্রু দিশেহারা হয়ে পড়তেন বাঁচার আশায়। কিন্তু হায়,এই রাগ জেনো আজ শেষ হবার নয়।এই ধংসের খেলা রক্তপাত ছাড়া এবং কঠিন মৃত্যুর ছাড়া থামার নয়।

ছায়ান যখন রূপের গালে নিজের হাত ছুঁই ছুঁই তখনি আগুন্তক রেগে নিজের শক্ত হাত ধারা কাঁচের জানালা ভেঙ্গে তছনছ করে দিলেন।তিব্র আওয়াজে এদিক সেদিক প্রতিধ্বনি তুলছে।হাত থেকে রক্তপাত হচ্ছে।এক ফোঁটা দুই ফোঁটা থেকে হাজার ফোঁটায় পরিনত হয়েছে।রক্তে ভেসে যাচ্ছে সাদা টাইলস্ কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি নেই না আছে কোনো অনুভূতি। দৃষ্টি এখনো সামনে। রাগে থরথর করে কাঁপছে সে। চোখ মুখে ভয়ংকর অবস্থা।

হঠাৎ কাঁচ ভাঙ্গা শব্দে ঘাবড়ে যায় ছায়ান।রূপতো এখনো আগের ন্যায় কাঁপছে।ছায়ান রূপকে ছেড়ে দিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে জলদি নিজের জ্যাকেটির হুডিটা মাথায় দিয়ে সেখান থেকে পালানোর জন্য অগ্ৰসর হয়।সে তাঁর বিপদের পূর্বাভাস পেয়েছে, এখানে আর এক মিনিট নয়।ছায়ান যেতে নিয়েও থেমে রূপের দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় আঙ্গুল উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে বললো,

‘আমি তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবো খুব শীঘ্রই। মনে রাখবে,তুমি আমার নও তাহলে কারোর না। আমি না পেলে বারিশ খানও তোমাকে পাবে না। দুনিয়া ছাড়া হতে হবে তোমাকে বেবিডল। বিনিময়ে বারিশ খান আমার একচুল বাঁকা করতে পারবে না। খুব দূরে নিয়ে যাবো তোমাকে, বারিশ খানের ধরা ছোঁয়ায় বাহিরে।’

বলে হাসতে হাসতে হলরুমের পেছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় ছায়ান।ছায়ান চলে যেতে রূপ মুখ চেপে হুহু করে কেদে উঠল।ছায়ানের কথাগুলো তাকে বড্ড ভয় পাইয়ে দিয়েছে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম। রূপের কিছু হয়ে গেলে বারিশের কী হবে?সেতো রূপ বিহীন নিঃশ্বাস নিতে পারে না এক দন্ড।সেখানে সম্পূর্ণ রূপ ছাড়া বারিশের অস্তিত্ব মিলিয়ে যাবে।বারিশের কথা মনে পড়তে রূপ ছুটে রুম থেকে বের হয়ে আসে। খুব প্রয়োজন তাঁর বারিশকে।বারিশ বিহীন রূপ কিছু না। খুব ভালোবাসে তাঁর মি.খানকে।বারিশ কখনো তাকে হারাতে দিবে না,ঠিক হৃদয়ের খাঁচায় বন্দী করে রাখবে। সেখান থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।কেউ না।

রূপকে বের হতে দেখে আগুন্তক ব্যক্তি সেখান থেকে প্রস্থান করে।

#চলবে,,,❣️
[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মিম✵]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here