মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩৩

0
90

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩৩
#সুমাইয়া আক্তার মিম

_

‘তুমি আমাকে প্রশ্ন করছো,রোহান!’

বারিশের অদ্ভুত হেসে কথাটা শুনে রোহান ভয়ে ভীত হয়ে মাথা নিচু করে নিলো। মিনমিন করে বলে উঠলো,

‘স্যরি স্যার।’

হাসলো বারিশ। রোহান তো ভয়ে রিতিমত হাঁসফাঁস করছে।বারিশ পুনরায় হেসে বললো,

‘আরে তুমি ভয় কেনো পাচ্ছো, রোহান!কাম।আজ তোমার মনের সকল জটিল সরল করে দিচ্ছি।’

রোহান কাচুমাচু করে কিছুটা সামনে এগিয়ে আসতে বারিশ ইশারায় তাঁর সামনের চেয়ারে বসতে বললো। রোহান কিছুটা হাঁসফাঁস করে বসে পরলো।বারিশ পুনরায় মৃদু হেসে বলল,

‘আজ থেকে দীর্ঘ সময় তুমি আমার সাথে, রোহান।আজ আমার মন খুব ভালো তাই তোমার মনের সকল খচখচ দূর করে দিবো।’

বারিশ রহস্যময় হাসি দিয়ে দোলনা দুলিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে হেলান দিয়ে বলতে লাগলো,

‘জানোতো রোহান এই আগ্ৰহ,মন খচখচ বড্ড খারাপ একটা অসুখ। মানুষকে রিতিমত অসুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয় কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা।যেমনটা তোমার সাথে হয়েছে।’

কিছুটা হেসে নিজের কাঁটা হাতের দিকে দৃষ্টি স্থির রাখলো। গতকালের ক্ষত যত্নের অভাবে তাজা হয়ে আছে। তৃপ্তির হাসি হেসে পুনরায় বলতে লাগলো,

‘ভালোবাসা খুব অদ্ভুত সুন্দর জিনিস, রোহান।প্রত্যেকের জীবনেই এই অদ্ভুত সুন্দর জিনিস হানা দেয়। ভালোবাসা একটা বিষাক্ত সুখের নাম। হয়তো ভাবছো বিষাক্ত আবার সুখ হয়! আমি বলবো, হুম। পৃথিবীতে কোনো অদ্ভুত হলে সেটা হচ্ছে ভালোবাসা।যা বিষাক্ত সুখ নামে আখ্যায়িত। ভালোবাসা মৃত্যু, ভালোবাসা নতুন সূচনা। ভালোবাসা এক পলাশ বৃষ্টি আবার ভালোবাসাই মরুভূমির বুকে সেই ভয়ংকর ঝড়। ভালোবাসা তোমাকে হাসাতে পারে, বাঁচতে শিখায় সেই ভালোবাসা আবার কাঁদায়, মৃত্যু দন্ড দেয়। তাহলে,ভালোবাসাতো বিষাক্ত সুখ হলো। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।আমার অবুঝ মন সেই ছোটবেলা থেকে ভালোবাসতে শিখেছে।যার নাম ভালোবাসা দিতে একটু সময় নিয়েছে। একবার ছোটবেলায় যখন রূপজান পাশের বাড়ির শুভ্র নামের ছেলেটির সাথে প্রথম খেললো সেদিন প্রথম হিংসে অনুভব হয়েছে মন।যার দারুন পাশের পুকুরে ঢিল মেরে ফেলে দেই রূপজানকে। টানা বিশ মিনিট নাকানিচুবানি খেতে দেখে প্রথমে প্রশান্তি মিললেও পরবর্তীতে যখন রূপজানের কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারি ছুটে গিয়ে তাকে বাঁচিয়ে পুকুর থেকে টেনে তুলি।টানা তিন দিন জ্বরে ভোগেছে রূপজান সাথে আমি ভোগেছি অসহ্য যন্ত্রণায়।সেটা ছিল প্রথম ভালোবাসা।’

হাসলো বারিশ। জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে হেলেদুলে বসলো। রোহান হা করে মনোযোগ সহকারে স্যারের কথা শুনছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে,ক্লাসে খুব ইমপ্যটেন্ট পড়া বুঝানো হচ্ছে আর সে গুড স্টুডেন্ট, মনযোগ সহকারে পড়া আদায় করে নিচ্ছে।বারিশ নিজের মোবাইল বের করে রূপের একটি ছবিতে তাকিয়ে মুচকি হেসে পুনরায় বলে উঠলো,

‘ছোটবেলা থেকে রূপজানের সব ইচ্ছা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়েছি আমি। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি একের পর এক।জীবন গড়া, রূপজানকে খুব শীঘ্রই নিজের করার জন্য সেকি একের পর এক নিজের সাথে যুদ্ধ! সহজ ছিলো না কোনো কিছু কিন্তু কঠিন জিনিসটাই যে আমার বেশ পছন্দ!তাই সবকিছু ধীরে ধীরে নিজের আয়ত্তে করে নিয়েছি। কোনো ক্রুটি জেনো রূপজান থেকে আলাদা না করে সেই দিকটা আয়ত্তে আনিয়েছি। রূপজানকে পাওয়ার জন্য তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় সচেতন থেকে নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করে এসেছি।শশুর বাবা যখন রূপকে পেতে হলে নিজের কাছে নিয়ে আসতে হলে তাঁর কথা অনুযায়ী নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। রূপের প্রাপ্ত বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর থেকে দূরে থাকতে হবে বলেছিল বিনা যোগাযোগে তখন পৃথিবীতে সবকিছু তছনছ করে ফেলতে ইচ্ছে হয়েছিল তবুও মেনে নেই নিঃসংকোচে। কারণটা শুধু রূপজান ছিলো বলে। দিনের পর দিন তৈরি করি নিজেকে আর রাত হলে রূপজানের থেকে দূরত্ব ছিন্নভিন্ন করে দেয় আমায়।রাগ হলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে শিখেছি রূপজানের জন্য। সকলের সকল অভিযোগ সকল কথা মেনে নিয়েছি। দূরে থেকেও রূপজানের অস্তিত্বের সাথে মিশে গিয়েছি তার ছায়া হয়ে সবসময় পাশে থেকেছি। নিজের বালিকা বধুকে সব সময় নিজের নজরে নজরে রেখেছি।
রূপজানের পছন্দের মতো নিজেকে গড়েছি। কারণ আমার কাছে পৃথিবী মূল্য রাখে না শুধু যা মূল্য রাখে তাহলো শুধুমাত্র আমার রূপজান।’

বারিশের কথা মুগ্ধ হয়ে শুনছে রোহান। কতোটা গুছিয়ে ভালোবাসলে এমন সুন্দর করে বলা যায়। সত্যি ভালোবাসা অদ্ভুত আর বিষাক্ত সুখ হয়।যার প্রাপ্তি হাজার কষ্টের মাঝে সুখ।লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মিম।বারিশ পুনরায় বলে উঠলো,

‘রুপজান সবসময় ফিল্মি পছন্দ করত। অদৃশ্য শক্তি অদ্ভুত জিনিস তার ছিল খুব পছন্দের।মুভি যদি রিয়েল লাইফ হতো!সবসময় এটা মাথায় ঘুরপাক খেতো তাঁর।তাই তাঁর প্রতিটা মুহূর্ত স্বপ্নের মতো ঠিক যেমন চেয়েছে তেমন করার চেষ্টা সবসময় চলে এসেছে।তার প্রতিটি ডাইরির মাঝে শুধু একটি নামি বিচরণ করত…… সুপার হিরো।প্রত্যেক মেয়ের মতো হাসবেন্ড হিসাবে সে সুপার হিরোদের মতো আশা করতো।যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে সবাই এক নামে চিনবে।এক হাতে কুড়াবে অজস্র সম্মান, ভালোবাসা। সকলের আইডল।অন্যায়ের জম।দ্যা সুপার হিরো।ইন দ্যা ইন্ড আই সাকসেস এন্ড ক্রিয়েট মাই সেল্ফ।সবার মুখে মুখে নিজের জন্য সম্মান থেকে শুরু করে সব কিছু অর্জন করেছি।হয়ে উঠেছি রূপজানের সুপার হিরো।’

হেসে থেমে গেলো বারিশ।রোহানের মুখেও হাঁসি ফুটলো।সত্যি ,দ্যা বারিশ খান ইজ গ্ৰেড। বর্তমান আর ভবিষ্যতে আলোড়ন করেছে সে। সকলের কাছে প্রিয় বারিশ খান। একজন নামকরা সুনাম অর্জনকারী ব্যবসায়িক হওয়ার পাশাপাশি সে একজন সুপার হিরো। সকলের আইডল।অন্যায়ের প্রতিবাদকারী। অসময়ের সহায়তাকারী।সকলে মুখে মুখে তাঁর সুনাম।বেশ অনেক ভালোবাসা জুগিয়ে নিয়েছে সে। আজকে কালকে সময় লাগেনি, সেই বহুদিন ধরে এই সম্মান তিল তিল করে গড়ে তোলেছেন। আজকাল এমন অন্যকে নিয়ে ভাবা কিংবা লড়াই করার মানুষ কী পাওয়া যায়! আজকাল সন্ত্রাস,অন্যায়, খুনখারাবি,অসৎ কাজে দুনিয়া ধ্বংস করে দিচ্ছে।এক প্রকার অসহ্য করে তুলছে সবকিছু।বারিশের মতো যদি সবাই এমন করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো পৃথিবীতে এক ভাগ অসৎ লোক পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠতো।বারিশের কথা ধ্যান ভাঙ্গল রোহানের।বারিশ চোখ মুখ ভয়ংকর করে বলে উঠলো,

‘রূপজানের কাছে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ তাইতো ছায়ান সিত্তিস এখনো জীবিত নাহলে এতোক্ষণে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে হতো। আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ,কখনো এই হাত কোনো অন্যয় কাজ করবে না।এই হাত শুধু বারিশের রূপজানকে ভালোবাসবে।এই হাত কখনো নিকৃষ্ট জীব মেরে ময়লা দুগ্ধ করবে না।এই পর্যন্ত যতো অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়েছে কখনো এই হাত কোনো নিকৃষ্ট জীবের রক্তের দাগ লাগেনি। আমি তোমাকে বলেছিলাম রোহান,ছায়ান সিত্তিস এর কুকর্মের দুটো অপশ হতে পারে এক তো তোমার জানাই দ্বিতীয়টা হচ্ছে আমার রূপজান নিজে।আর ঔ কুকুর ছানা দ্বিতীয় রাস্তা বেছে নিয়েছে,আমার কলিজায় কুদৃষ্টি দিয়ে।আমার জানকে আমার থেকে দূরে নেওয়ার ভাবনার মতো নিগ্রো দুঃসাহস করে। আমার রূপজানকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকানোর শাস্তি স্বয়ং মৃত্যু।আর তা দ্যা বারিশ খান নিজ হাতে দিবে। অনেক অতৃপ্ত আত্মা তৃপ্তি মিলবে ছায়ান সিত্তিস এর মৃত্যুর প্রতিদানে।দীর্ঘ দিনের কুকর্মের পাত্র পরিপূর্ণ হয়েছে , সকলের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুব শীঘ্রই ছায়ান সিত্তিস পৃথিবীর বুক থেকে চিরবিদায় নিবে।যারা ছায়ান সিত্তিস এর মৃত্যু কামনা করেছে তাদের সেদিন উল্লাস দিন হবে। সকলের সামনে ছায়ান সিত্তিস মৃত্যু বরণ করবে তখন সকলের খুশি জাস্ট দেখার মতো হবে কী বলো রোহান?

বারিশের বাঁকা হাসির সাথে এমন কথা শুনে রোহান মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো। তাঁর মতামত বারিশের মনের মতো। রোহান কিছু একটা ভেবে মিনমিন করে বলতে গিয়েও থেমে যায়।বারিশ বুঝলো। হেসে বলতে লাগলো,

‘তোমার দেড় ইঞ্চি মাথা এখনো স্বল্প বুদ্ধি।কী ভাবছো?এই তো যেখানে দ্যা বারিশ খান তাঁর জানের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ…কী করে নিজ হাতে একজন মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল কে মারবে?যে সারাজীবন অন্যায়ের শাস্তি দিতে আদেশ করেছে সে কী করে পৃথিবীর বুক থেকে এমন নর্দমার কীট নাশক করবে? তাইতো!’

রোহান মাথা চুলকিয়ে হ্যা জানালো।বারিশ সেদিকে তাকিয়ে ভ্রু স্পর্শ করে বাঁকা হেসে বলে উঠলো,

‘বারিশ খানের কাছে এটাও খুব স্বল্প সহজ বিষয়। জানো তো আজকাল রিনির সাথে বেশ খুশি মনে নিজের মনোভাব প্রকাশ করছে রূপজান। সকলের সুপার হিরো একান্ত তাঁর সেটা ভেবে চোখ মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে প্রতিনিয়ত।রূপজানের খুব সফ্ট দিল।অন্যের খুশিতে খুব সহজে খুশি হতে জানে। আবার অন্যের কষ্টে কষ্ট পেতে এবং সেই কষ্টের অভিশাপ হিসাবে অগ্নিমূর্তি ধারণ করতে জানে।যেখানে সকলে ছায়ান সিত্তিস এর মৃত্যু চাইবে সেখানে রূপজান নিজ থেকে সেই আবদার করবে, তাঁর সুপার হিরো দ্যা বারিশ খানের কাছে। তখন তুমিই বলো,কী করে একমাত্র বিবির কথার অমত করি?সেই সাধ্যি কী বারিশ খানের আছে!’

শেষের কথাগুলোও রহস্যময় হাসি হেসে বললো। রোহান হা করে তাঁর স্যারের কথা শুনছে।কী বুদ্ধি?এতো বুদ্ধির এক ভাগ তাঁর মাঝে থাকলে তাকে কিছুই ভাবতে হতো না।স্যারে বুদ্ধির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সে।গর্বে বুক চওড়া হলো।টুং করে মেসেজ টুন বাজতে বারিশ মোবাইলের দিকে তাকালো।স্কিনে ভেসে উঠলো রূপের হাস্যজ্জল মুখ,পাশে লিখা রূপজান।বারিশ মুচকি হেসে মেসেজ উপেন করতে হাসিটা আরো চওড়া হয়ে উঠলো,

‘এই যে মি.জলদি বাড়ি আসুন।আমি অপেক্ষা করছি আপনার।’

রূপের মেসেজের দিকে চোখ বুলিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।বারিশকে দাঁড়াতে দেখে রোহান দাঁড়িয়ে পরলো।বারিশ গটগট পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে পেছন পেছন রোহান।বারিশ সামনের দিকে তাকিয়ে রোহানের উদ্দেশ্য বলে উঠলো,

‘আজকে তোমার ভালো ঘুম হবে রোহান। এতো গুলো জটিলতা থেকে যে উন্মুক্ত হলে। আগামী দুই দিন অফ ডে,তোমারো ছুটি।তোমার ভালো কাজের বকসিস হিসাবে চেক পৌঁছে যাবে বাড়িতে। আনন্দ করবে পরিবার নিয়ে।’

রোহান খুশিতে দাঁত বের করে হেসে মৃদু স্বরে বলে উঠলো,জ্বী স্যার।
গাড়ির কাছে আসতে গাড়ির ডোর খোলে দিতে বারিশ উঠে বসে। রোহান সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে বসে পড়ে হাতের ডকুমেন্ট গুলো নিয়ে।

#চলবে,,,❣️
[লেখিকা-সুমাইয়া আক্তার মীম]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌

সকলে দুই লাইন গঠন মূলক মন্তব্য করুন🌸।

গ্রুপ লিংক 👇
https://www.facebook.com/groups/317078740134340/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here