#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩৬

0
93

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩৬
#সুমাইয়া আক্তার মিম

_
সাদা মেঘের ভেলা।আকাশ জুড়ে তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো দেখতে তাঁদের।চকচকে সতেজ সোনালী রোদের সাথে শীতল হাওয়া। প্রকৃতির চমৎকার মিশ্রন।পরিষ্কার সতেজ আবহাওয়া। ঝিরিঝিরি বাতাসের সাথে উড়িয়ে দিচ্ছে সাদা রঙের ফিনফিনে পাতলা নেটগুলো।ধমকা হাওয়ায় সাথে কানে ভেসে আসে সমুদ্রের ছলাত ছলাত বিশাল ঢেউ।নরম বালুচরের মাঝে সমুদ্রের গা ঘেঁষে বসে আছে রূপ বারিশ।রূপকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এতো এতো আয়োজন। সমুদ্রের বিশাল একটি বিচের অনেকটুকু জায়গা জুড়ে দারুণ সুন্দর ভাবে ডেকরেশন করা হয়েছে। সমস্ত বিচ্ জুরে সাদা রঙের সাজে সজ্জিত হয়েছে। ফিনফিনে সাদা রঙের নেট আর অনেক অনেক ফুলের সমাহার দ্বারা চমৎকার ভাবে সবকিছু মুড়ানো হয়েছে।প্রতিটি ফুলের রঙ্গ সাদা।এক কথায় সাদা ফকফকে আকাশের সাথে স্বচ্ছ সাদা রং দ্বারা জমিনকে আবরনে ঢাকা হয়েছে। অসম্ভব সুন্দর বিচে এমন চমৎকার সাজ বড্ড রোমাঞ্চকর লাগছে। সমুদ্রের কলকলে পানির বিশাল ঢেউ শুকনো বালি চড়কে শীতল করে দিচ্ছে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।সুন্দর একটি ফুলের রাস্তা,যার পথ ধরে সমুদ্রের গা ঘেঁষা। একপাশে সাদা রঙের আবরনে মাঝে সুন্দর একটি টেবিল, যেখানে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।এই চমৎকার সারপ্রাইজ পেয়ে রূপ প্রায় দিশেহারা হয়ে উঠেছিলো।বারিশকে জড়িয়ে নিজের মনোভাব, ভালোলাগা প্রকাশ করেছে। বিনিময়ে বারিশ শুধু হাসে।রূপ এখান থেকে ওখানে ছুটে বেরাচ্ছে আর তাঁর পেছন পেছন বারিশ।এমন তাল বেসামাল হয়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে,তাই রূপকে প্রটেক্ট করার জন্য তাঁর পেছন পেছন ছুটে চলা!এটা ছুঁয়ে দিয়েছে,ওটা ছুঁয়ে দিয়েছে।ঘুরচ্ছে, হাসছে। এককথায় দিশেহারা হয়ে গিয়েছে মাত্রারিক্ত খুশিতে।বারিশ শুধু মুগ্ধ নয়নে তাঁর রূপজানকে দেখছে। মাঝে মাঝে রূপকে আটকিয়ে দিয়ে বলছে……ধিরে ধিরে রূপজান।সব তো তোমারি জন্য। বিনিময়ে হাসে রূপ। খুব সুন্দর, মিষ্টি আর প্রাণবন্ত হাঁসি।আজ এই সুন্দর পরিবেশ, তলতলে সাগর আর মেঘেদের ভেলা উড়ানো আকাশকে সামনে রেখে পুনরায় ভালোবাসা জাহির করলো বারিশ।খুব মুগ্ধকর গলায় তাঁর হৃদয় থেকে আসা প্রতিটি ভালোবাসার শব্দ চারিপাশকে আরো মুখরিত করলো। এমন অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্ত এমন প্রাণনাশ ভালোবাসার দিক থেকে কী কেউ মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে!উহুম, মোটেও না। তাহলে প্রকৃতি যে অভিশাপ দিবে।প্রেমিক যে অভিমান করে অভিযোগ জানাবে যা প্রেমিকার নিকট অভিশাপ স্বরুপ হবে।তাই দিশেহারা হয়ে এই অপূর্ব রূপকথার রাজকন্যা তাঁর স্বপ্নের রাজকুমার এর কাছে মাথা ঝুঁকিয়ে দিলো। নতজানু হয়ে স্বীকার করলো তাঁর দীর্ঘ দিনের মনের অনুভূতি, ভালোলাগা আর ভালোবাসা। পূর্ণ পেলো ভালোবাসার।হেরে গেলো লজ্জা,মন হাঁসফাঁস,অভিমান, ছোটখাটো দুরত্ব। যুবকের মুখ তখন খুশিতে চকচক। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখ তাঁর মনের খাঁচায় ধরা দিয়েছে। দিশেহারা হয়ে পরেছে খুশিতে। ‌ভালোবাসার স্পর্শ এঁকে দিয়েছে সম্পূর্ণ ললাট,অধর মুখ জুড়ে।সে কী অন্যরকম সুখ?অন্যরকম শিহরণ! ভালোবাসা গুলো বুঝি এমনই হয়!নিকটে পেলে তালগোল পাকিয়ে যায়। সবকিছু মুক্তোর ন্যায় লাগে। দিশেহারা লাগে। দীর্ঘ দিন পর নিজের সুপ্ত ভালোবাসার মুখ থেকে ভালোবাসার রোম্যান্টিক স্বীকারোক্তি শুনার পর এই তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের বুকে একপলাশ বৃষ্টির ন্যায় সতেজ হয়ে উঠলো।

বারিশের বুকের সাথে লেপ্টে আছে রূপ। আকাশের দিকে মুখ করে সৌন্দর্য উপভোগ করছে। মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে বারিশ। মুখে এক চিলতে হাসি।রূপ একবারে জন্যও বারিশের দিকে তাকালো না।বড্ড লজ্জা লজ্জা লাগছে।কী করে বেশরমের মতো বলে দিলো ভালোবাসি?এতোটা উন্মাদ হয়ে গিয়েছে..মুখে যা এসেছে ফরফর করে তাই বলে দিয়েছে।ছিহ, ভাবতে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে।এতো দিনের জমানো অনুভূতি এমন করে প্রকাশ করিয়ে নিলো বারিশ!বড্ড রাগ হচ্ছে।এতো অতিরিক্ত মাত্রা চালাক কেনো এই লোক?সবসময় পাঁচ ধাপ এগিয়ে।কতো আশা করেছে একটু ভিন্ন ভাবে ভালোবাসার প্রকাশ করবে। চমকে দিবে একদম।তা আর হলো কই! কিন্তু বারিশের মিহিয়ে যাওয়া কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ভালোবাসা পাওয়ার আকুতি রূপকে বারিশের ভালোবাসার সাড়া দিতে বাধ্য করেছে।এখন লজ্জায় লাল হয়ে বারিশের বুকে লেপ্টে আছে।বারিশের দুষ্টু হাসি বড্ড জ্বালাচ্ছে তাকে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।বারিশ রূপের থুতনিতে আলতো চেপে নিজের দিকে মুখ ঘুড়াতে রূপ পুনরায় লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো।বারিশ মৃদু হেসে রূপের কপালে চুম্বন দিয়ে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,

‘এতো লজ্জা পেতে হবে না রূপজান। এখন আপাতত অফ যাও। কিছু লজ্জা রাতের জন্য তোলা থাকুক কেমন?’

বারিশের ঠোঁট কাটা কথা শুনে সম্পূর্ণ শরীর শিরশির করে উঠলো রূপের।বারিশের বুকে চিমটি কেটে বললো,

‘নির্লজ্জ।’

শব্দ করে হেসে উঠলো বারিশ। রূপের কানের লতিতে হাল্কা ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বললো,

‘তোমার জন্য নির্লজ্জের সীমানা অতিক্রম করতে রাজি,রূপজান।’

লজ্জা পেলো রূপ।আজ লজ্জায় লজ্জায় নির্ঘাত ছোট প্রাণ পাখিটা উড়াল দিলো বলে। কিছুক্ষণ পর রূপ থেমে থেমে নতজানু হয়ে বললো,

‘বাড়ি কখন ফিরবো!’

বারিশ রূপের কথার প্রেক্ষিতে দায়সারা ভাবে বললো,

‘আজ বাড়ি ফিরছি না।এখানে আজ হোটেল রুম বুকিং করা হয়েছে। আগামীকাল সকালে ফিরছি।’

রূপ চমকে উঠলাম। থেমে থেমে বললো,

‘কেনো?’

বারিশ রূপের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে আরেকটু কাছ ঘেঁষে ফিসফিস করে বললো,

‘বিয়ের রাতে আমার বাসরের বারোটা বাজিয়েছো।তাই আজ সেই অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে হোটেল রুম বুকিং করা হয়েছে। বুঝতে পেরেছো রূপজান!’

রূপ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।বিষয়টি মাথায় সেট হতে লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে।বারিশ রূপের থুতনিতে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে উঁচু করে বাঁকা হেসে পুনরায় বললো,

‘তুমি তৈরিতো মাই লাভ….রাতের জন্য।’

রূপ এইবার বারিশের বুকে কিল ঘুষি মেরে মুখ গুজে নিলো। হাসলো বারিশ।আর লজ্জা দিলো না তাঁর রূপজানকে।রূপকে গভীর ভাবে জড়িয়ে সময়টাকে গভীর ভাবে উপভোগ করতে লাগলো।কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না এই সুখকর সময়।ভালো মুহূর্ত গুলো খুব তাড়াতাড়ি সমাপ্ত হয়ে যায়।ঠিক তেমনি হলো।ক্রিং ক্রিং মোবাইল বেজে উঠলো।বারিশ বিরক্তি হয়ে মোবাইল রিসিভ করতে অপর পাশ থেকে রোহানের মুখে কয়েকটা শব্দ শুনে মুহূর্তে বদলে যায় মুখের রং।ভর করে রাগ, হিংস্রতা।বারিশকে থম মেরে রাগে রিরি করতে দেখে চমকালো রূপ।কী হয়েছে বোঝার চেষ্টা করলো?হঠাৎ বারিশের হুংকার শুনে কেঁপে উঠলো রূপ।সম্ভবত ফোনের অপরপাশের রোহানো ভীষণ ভয়
পেলো।বারিশ দাঁতে দাঁত চেপে চিৎকার করে বলে উঠলো,

‘এতো সিকিউরিটির মাঝে ছায়ান সিত্তিস কী করে পালাতে সক্ষম হলো?আন্সার মি ড্যামেট।আমি বলেছিলাম জেনো ছায়ান সিত্তিস কোনো রকমে পালাতে না সক্ষম হয়। তাহলে এমন ভুল হওয়ার কারণ!’

রাগে বারিশের শরীর কাঁপছে। রূপের বুঝতে অসুবিধা হয়নি ঔ সাইকো পালিয়েছে বারিশের কড়া নজরদারি থেকে। এখন কী হবে?এই সাইকো খোলা আসমানে ঘুরে বেড়ানো মানে বিপদ সংকেত।ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো।বারিশের হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে শান্ত হতে ইশারা করলো।বারিশ চোখ বুজে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করার বৃথা চেষ্টা।বারিশ খুব ভালো করে বুঝতে পারছে,ছায়ান সিত্তিস পালানো মানে কিছু একটা ঝামেলা হবে।খুব শীঘ্রই তাকে ধরা প্রয়োজন… কোনো অঘটন ঘটানোর পূর্বে।ছায়ান সিত্তিস একজন পাগল। তাঁর জ্ঞান শক্তি লোপ পেলে যে কাউকে আঘাত করতে পারে। এইবার তাকে আটক করে দুনিয়া ছাড়া করবে বারিশ।আর কোনো রিক্স নেওয়া চলবে না। মনে মনে ফন্দি এঁটে নিলো।বারিশ পুনরায় দাঁত কিরমির করে হিসহিসিয়ে বললো,

‘প্রতিটা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ো।ডাবল সিকিউরিটি ব্যবস্থা করো।ছায়ান সিত্তিস জীবিত অবস্থায় আমার যেকোনো মূল্যে চাই।গট ইট!’

অপর পাশ থেকে কী বললো শুনলো না রূপ!বারিশ কল কেটে দিয়ে বড়বড় নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে লাগলো।রূপ চিন্তিত হয়ে বারিশের বুকে হাত বুলিয়ে আশ্বাস দিয়ে বললো,

‘আপনি একদম চিন্তা করবেন না। দেখুন,সব ঠিক হয়ে যাবে।প্লীজ একদম স্ট্রেচ নিবেন না।ঔ সাইকোটা একদম পালাতে সক্ষম হবে না ঠিক বন্দি হবে।’

বারিশ রূপকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়ে বললো,

‘বন্দি’তো হতে হবে রূপজান। এইবার বন্দি হলে তাকে আমার হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পরবে না।’

কিছু বললো না রূপ।বারিশের বুকে মাথা রেখে রয়েছে।বারিশ সকল গার্ডদের বলে সিকিউরিটি ডাবল করতে এবং সচেতন থাকতে বললো।যে কোণায় ছায়ান সিত্তিস লুকাবে না কেনো তাকে আটক হতেই হবে। হঠাৎ টুং করে মেসেজ আসার শব্দ হতে বারিশ মোবাইল উপেন করতে দেখতে পেলো আননোন নাম্বার। মেসেজ উপেন করতে বারিশের রাগ আরো বেড়ে যায়।একটি ভয়েস মেসেজ যা ছায়ান পাঠিয়েছে। কয়েকটি ছোট ছোট মেসেজ রয়েছে।শরীর রিতিমত উত্তাপ হয়ে উঠেছে রাগে। সময়ের ব্যবধানে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছে বারিশ।ভয় পেলো রূপ।বারিশের এই রাগ সব তছনছ করে দিতে সক্ষম। ভয়ে বারিশের হাত শক্ত করে চেপে ধরলো। এখনো একি রকম দাঁড়িয়ে আছে বারিশ।রূপ যখন বারিশের রাগ দমন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তখনি কানে ভেসে আসলো ছায়ানা সিত্তিস এর কুৎসিত হাঁসি…..!

#চলবে,,,❣️
[লেখিকা~সুমাইয়া আক্তার মীম]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌

ছোট একটি পোস্ট গল্প দিবো না বলাই এতো এতো মন্তব্য। সকলের গল্প চাই। গল্পের প্রতি অনেক ভালোবাসা।ছয় মিনিটে দশ কমেন্ট দুই ঘন্টায় ৪০+।আর গল্পের মাঝে কোনো মন্তব্য নেই। বিষয়টি আশাহত করেছে খুব।দুই লাইন গঠন মূলক মন্তব্য করুন। চুপিসারে গল্প পড়ে কোনো লাইক কমেন্ট ছাড়া চলে যাওয়া খুবই কষ্টদায়ক ব্যাপার। ধন্যবাদ🌸।

গ্ৰুপ লিংক 👇
https://www.facebook.com/groups/317078740134340/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here