মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩৯

0
264

#মেঘবতী_কন্যা পর্ব ৩৯
#সুমাইয়া আক্তার মিম

_
ঘুটঘুটে অন্ধকার।চারিদিকে ভ্যাপসা গন্ধ।গা গুলিয়ে আসছে গন্ধে।হাত পা বাঁধা অবস্থায় একটি পুরাতন রুমের কাঠের চেয়ারে বসে আছে রূপ।বসে আছে বললে ভুল হবে চোখ মুখ,হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। বিশাল বড় রুমটি একদম শুন্য।শুধুমাত্র একটি কাঠের চেয়ার ব্যতিত অন্য কিছু নেই।রূপ ছটফট করছে ছোটার জন্য কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হতে অক্ষম।চোখ থেকে টুপটাপ করে বৃষ্টির ফোঁটার মতো নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে।হাত পা ছোড়াছুড়ি করার ফলে শক্ত দড়ির আঁচ লেগে টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে।প্রচন্ড জ্বালা করছে সাথে বড্ড পানি তৃষ্ণায় গলাটা কাটকাট হয়ে আছে।অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে রূপ।ভয়ে,চারিদিকের ভ্যাপসা গন্ধে মাথাটা ভনভন করছে। কোথায় আছে একদম ঠাওর করতে পারছে না।তখন ভার্সিটিতে যাওয়ার পথে কোথা থেকে দুটি গাড়ি এসে তাঁর গাড়িটাকে আটকে দিলো।গাড়ি থেকে কয়েকজন মুখোশধারী লোক নেমে এসে ড্রাইভার সহ দুজন গার্ডকে মারতে শুরু করলো।রূপ ভয় পেলো।উত্তেজিত হয়ে বের হতে নিবে এমন সময় কেউ মুখে রুমাল চেপে ধরলো আর সে জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়লো।জ্ঞান ফিরার পর নিজেকে পেলো হাত-পা,মুখ, চোখ বাঁধা অবস্থায়।অস্থির লাগছে সবকিছু। টেনশনে মাথা ফেটে যাচ্ছে রূপের।মুখ বাধা থাকার কারনে আওয়াজ বের করতে পারছে না শুধু উম্উম্ করছে।এখন একটু পানির ভীষণ প্রয়োজন নাহলে সে মারাই যাবে মনে হচ্ছে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।হঠাৎ মরমর আওয়াজ হতে বুঝতে পারলো কেউ এসেছে। ভয়ে রূপ জড়সড় হয়ে বসে। কিছু সময়ের মাঝে তাঁর নিকট কেউ এগিয়ে আসার আবাস বুঝতে পেরে রূপ জিম ধরে রইল। মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করছে। তাঁর সাথে কী হচ্ছে?কী হতে চলছে? ভাবতেই ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলো। হঠাৎ কোনো উচ্চ স্বরে পুরুষালি কন্ঠের চিৎকার শুনতে রূপ কেঁপে উঠে।ছায়ান সিত্তিস! উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলছে,

‘এই তোদের এতো বড় সাহস।আমার বেবিডলকে এইভাবে বেঁধে রেখেছিস।আজ তোদের সবকটার জান নিবো আমি।জাস্ট ওয়েট।’

ঢোক গিললো রূপ।ভ্রু জোড়া বারবার একসাথে হয়ে কুঁচকে আসছে।ছায়ান অস্থির হয়ে রূপের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পায়ের বাঁধন খুলে দিলো। ঘৃণায় গা রি’রি করে উঠলো। রাগ ক্ষোভ গিলে নিলো। এখন রাগলে চলবে না।যা করতে হবে প্ল্যান অনুযায়ী বুদ্ধি খাটিয়ে করতে হবে।রাগ মানুষকে বেসামাল করে দেয়।এক এক করে হাত পা চোখ মুখ সবকিছুর বাঁধন খুলে দিলো খুব সাবধানতার সাথে।দীর্ঘ সময়ের পর চোখ মুখ খোলা পেতে রূপ জোরে নিঃশ্বাস টেনে ছাড়লো। উফ্ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো সে। এতোক্ষণ দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।ছায়ান উত্তেজিত কন্ঠে বলল,

‘আর ইউ ওকে বেবিডল!’

গালে হাত দিতে নিলে রূপ ভয়ে চেয়ারের সাথে মিশে যায়।হাত উঁচু করে মুখ লুকিয়ে নিলো।ভয়ে রিতিমত কাঁপছে। কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে চুলগুলো অগোছালো হয়ে আছে।ছায়ান হেসে হাত সরিয়ে বলল,

‘কুল,কুল বেবিডল।এতো ভয় পাচ্ছো কেনো?আমি তোমাকে টার্চ করবো না।সো রিলেক্স।’

রূপ জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে।ছায়ান হাঁটুর উপর হাত রেখে সেখানে গাল ঠেকিয়ে রূপকে উপর থেকে নিচ অব্দি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো।ছায়ানের দৃষ্টি দেখে গা পিত্তি জ্বলে উঠলো।রূপ কটমট দৃষ্টিতে ছায়ানের দিকে তাকাতে ছায়ান বিকট শব্দে হেসে বলল,

‘উফ্ এমন আগুন সুন্দরী এমন খাতারনাক দৃষ্টিতে তাকালে আরো বেশি হট লাগে।মন চায় সারক্ষণ শুধু ছুঁয়ে দেই।’

রূপ দাঁত কিরমির করে বললো,

‘আগুনে হাত দিলে হাত ঝলসে একদম কয়লা কয়লা হয়ে যাবে আপনার ঐ কুৎসিত হাতটা জানেন তো!’

ছায়ান পুনরায় শব্দ করে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে হেলে পড়ছে।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে বললো,

‘উফ্ তেজ আছে বলতে হয়।বারিশ খানের ওয়াইফ বলে কথা।তেজ থাকবে না সেটা কী সম্ভব! সমস্যা নেই এখন থেকে সব তেজ আমি কমিয়ে দিবো।আফটার অল বারিশ খানের থেকে তুমি এখন আমার কাছে ট্রান্সফার হচ্ছো বলে কথা।’

কুৎসিত হেসে।রূপ তাচ্ছিল্য হেসে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

‘তো আপনার এই দিনের বেলা চাঁদ দেখার অভ্যাস কী ছোট বেলা থেকে নাকি আজকাল দ্যা বারিশ খানের থেকে অদুম কেলানি খাওয়ার ফলস্বরূপ ভুলভাল মাথায় ঠাওর হচ্ছে।’

রূপের কথা শুনে ছায়ান রেগে গেলো।ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো।মাথায় পাগলামো চওড়া হবে হবে ভাব।রূপের সামনে এসে আঙ্গুল উঁচিয়ে হিসহিসিয়ে বললো,

‘বেশি পটরপটর করবে না বেবিডল। তাহলে তোমার কী অবস্থা হবে তা কল্পনা করতে পারছো না? এমন অবস্থা করবো তখন তোমার সো কল্ড হাসবেন্ডও তোমাকে চিনতে পারবে না।যেমনটা তুমি চিনতে পারোনি তোমার আদরের স্মাইলিকে…।’

বিদঘুটে হেসে।রূপ ঘনঘন নিশ্বাস নিতে লাগলো। রাগে হাতের মুঠো শক্ত করে নিলো।ছায়ানের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে জেনো ভস্ম করে দিবে। ছায়ান বাঁকা হেসে বলল,

‘ওহো বেবিডল এতো রাগ!খুব রাগ হচ্ছে?প্রিয় কেট্ এর জন্য কষ্ট হচ্ছে।কী করবো বলো? সব তোমার সো কল্ড হাসবেন্ডের জন্য হলো।সে যদি আমার পথের কাঁটা না হতো এমন কিছুই হতো। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।এখন তুমি স্ব-ইচ্ছায় আমার হয়ে যাও না হলে আঙ্গুল বাঁকা করা আমার খুব পুরাতন অভ্যাস।ঠিক তাই হবে।’

রূপ ছায়ানের কথার প্রেক্ষিতে দায়সারা ভাব করে হেঁসে কৌতুক করে বললো,

‘বাঁকা মানুষের কাজ তাঁর মতোই কুৎসিত আর বাঁকা হেলে-হেলে পরা টাইপের হবে তাই নয়কি মি ছায়ানন….সিত্তিস।’

রূপ ইচ্ছে করে রাগিয়ে দিচ্ছে ছায়ানকে।কারন ছায়ান সিত্তিস এর মতো অস্বাভাবিক অসুস্থ ব্যাক্তিকে মানসিক ভাবে আঘাত করে কন্ট্রোলে আনতে হয়।যখন মাত্রারিক্ত রাগে ক্ষোভে সে কন্ট্রোল হারাবে তখন তাকে আয়াত্তে আনা সহজ হয়ে উঠবে।সে বেসামাল হয়ে পরবে।এতে করে ছায়ান দ্বারা রূপের ক্ষতি কিংবা মৃত্যুর আশঙ্কা পর্যন্ত রয়েছে।রূপের ভয় হচ্ছে তবুও সে ধমবে না।বারিশ আসার আগ পর্যন্ত তাকে কথার জালে ফাঁসাতে যে হবে।রূপ বাঁকা হেসে নিজের গলার প্যান্ডেলের উপর হাত বুলিয়ে দিলো।ছায়ান রেগে রূপের গাল চেপে ধরে।ব্যথায় কুঁকিয়ে উঠলো রূপ।চোখ দুটো আপনাআপনি বুজে আসলো।ছায়ান রেগে হিসহিসিয়ে বললো,

‘এতো সাহস!আমাকে কথা শুনানো হচ্ছে।সুন্দরীদের এতো তেজ ভালো নয়। কিসের এতো অহংকার?বারিশ খান তোমাকে আমার থেকে কখনো বাঁচিয়ে নিতে পারবে না বেবিডল।আজ থেকে তুমি আমার কাছে বন্দি। কিছুক্ষণ বাদে এই দেশ আর বারিশ খান থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবো।তখন বারিশ কেনো বারিশের পরদাদা পর্যন্ত তোমাকে খুঁজে পাবে না।আর না আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে।’

কথাগুলো বলে ঝাড়া মেরে ছেড়ে দিলো।রাগে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে ছায়ান।রূপ গালে হাত বুলিয়ে চোখ কুঁচকে নিলো পরক্ষনে ছায়ানের কথায় সে খুব মজা পেলো। বছরের সেরা বিনোদন।বারিশ খান থেকে তাঁর আত্মা কে নাকি এই দুই দিনের পাগল আলাদা করবে।এখান থেকে বের হতে পারবে না সেখানে দেশ ছাড়ার কথা বলছে।রূপ হেঁসে উঠলো। অনেক দিন পর খুব হাসছে।আজ সাতদিন স্মাইলি মারা গিয়েছে সে এতো হাসেনি।আজ হাসলো। তাচ্ছিল্য হাঁসি।ছায়ান রেগে রূপের দিকে এগিয়ে আসতে রূপ হাঁসি থামিয়ে ব্যঙ্গ করে বলে উঠলো,

‘তো কীভাবে পালাবেন?মাটির নিচ দিয়ে নাকি পানির নিচ দিয়ে।না মানে মাটির উপর দিয়ে পালানো তো আপনার জন্য একদমই সম্ভব নয়।ট্রাস্ট মি।’

ছায়ান হুংকার দিয়ে বললো,

‘কী বলতে চাইছো?আমার সাথে মজা হচ্ছে!খুন করে ফেলবো।’

রূপ দাঁত কেলিয়ে আফসোসের স্বরে বললো,

‘মাটির উপর দিয়ে তো যেতে পারবেন না।না মানে এই দরজা পেরিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হবে কিনা সন্দেহ।’

ছায়ান রেগে দিশেহারা হয়ে উঠলো।তাকে নিয়ে মশকরা হচ্ছে। তাঁর সামনে তাঁর ধ্বংসের ভুনিয়াদা ছড়াচ্ছে।এতো সাহস!খুন করে ফেলবে।এই মেয়ের মুখ থেতলে দিবে।ছায়ান রাগে মাথায় হাত দিয়ে ভারি দিলো।রূপ ভয়ে কেঁপে উঠলো তবুও নুয়ে পড়লো না।ছায়ান রেগে রূপের চুলের মুঠি ধরে দাঁড় করিয়ে দিলো।ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো রূপ। চোখ থেকে এক ফোঁটা জল খসিয়ে পরলো। গালে খুব শক্ত করে চেপে ধরতে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসলো।এতো শক্ত করে চেপে ধরেছে।ছায়ান চুল টেনে হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো,

‘এতো সাহস আমার সাথে মশকরা হচ্ছে।একদম কেটে কুটিকুটি করে ফেলবো। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।কোথায় দাঁড়িয়ে আছো ভুলে গিয়েছো! আমার কাছে বন্দি তুমি,বন্দিনী।বেশি চাপড় চাপড় করলে ডানা কেটে দিবো। আমি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি। এমন ভাবধারা করছো নিজে থেকে হেঁটে এসেছো!এতো সাহস আসে কোথা থেকে? জানের মায়া নেই।’

রূপ ছায়ানের হাত ঝাড়া দিয়ে বাঁকা হেঁসে বলল,

‘ওহ রিয়েলি। আপনি আমাকে নিয়ে এসেছেন। উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো রূপ। পুনরায় বলে উঠলো,নাইস জোকস।আমি না চাইলে আমাকে এখানে আনা রাতের আকাশে সূর্য দেখার মতো মি.হোয়াট এ্যভার।ইভেন্ট বারিশ খান না চাইলে তাঁর এলাকা থেকে একটা সুতো এদিক সেদিক হতে পারে না সেখানে তাঁর বিবি!বড্ড বেশি বেমানান আইমিন রহস্যজনক মনে হচ্ছে না আপনার কাছে মি.হোয়াট এ্যভার।’

রূপের কথা শুনে ছায়ান রেগে রূপের কাছে এগিয়ে আসতে রূপ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে চেয়ারে আরাম করে বসে পরলো।এতে আরো তেতে উঠল ছায়ান।রূপ আরাম করে বসে গালে হাত দিয়ে ভাব নিয়ে বলে উঠলো,

‘রিলেক্স মি.সাইকো।এতো হাইপার হলে চলে।একটু ধৈর্য রাখুন আজকে আপনার হাইপার হওয়ার দিন।দেখা যাবে হাইপার হতে হতে প্রাণটাই গেলো। যাইহোক, এখন আসল কথায় আসা যাক।কী বলেছিলেন আপনি আমাকে এখানে ধরে বেঁধে নিয়ে এসেছেন?ওহোও…..স্যরি টু ছে।এটা আপনার ভুল ধারণা।সবটাই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে।বারিশ চেয়েছে বলে আমি এখন আপনার সামনে নাহলে আমার কাছে আসা আপনার আকাশে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো।যা যা হয়েছে যেমন গার্ডকে মারা এবং আমাকে এতো স্বল্প সিকিউরিটি দেওয়া সবই সাজানো গোছানো প্ল্যান।আপনাকে টুপ গিলানোর জন্য।এট লিস্ট আপনি নিজ থেকে ধরা দিয়েছেন।ইউ ব্যেড লাক। উফ্ কতো বড় মিশন একপ্রকার হাঁপিয়ে গিয়েছি।জানেন বারিশ তো নারাজ এমন প্ল্যানে কিন্তু কী করবে বিবির আবদার ফেলতে পারেনি।ওয়াদা বদ্ধ যে।’

শেষের কথা গুলো একটু রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো।ছায়ান তো পারছে না রূপকে গিলে খাবে। শুধু জুড়ে জুড়ে শ্বাস ফেলছে। রূপের বুঝতে অসুবিধা হয়নি এই পাগল কন্ট্রোল ছাড়িয়ে গিয়েছে।

রূপ আরেকটু উস্কিয়ে দিতে ইচ্ছে হলো তাই বললো,

‘এখন বারিশ আসবে আর আপনাকে মেরে মাটি চাপা দিয়ে আমাকে নিয়ে যাবে।একদম ফিল্মের মতো। উফ্ আর ধৈর্য্য ধরা সম্ভব হচ্ছে না!’

ন্যাকা সুরে। ছায়ান রেগে হিংস্র হায়েনার ন্যায় রূপের কাছে এসে চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরে তাঁর কাছে নিয়ে আসলো। ভয়ে চোখ চেপে বন্ধ করে নিলো রূপ। থরথর করে কাঁপতে লাগলো।ছায়ান মাত্রারিক্ত রেগে রূপের গলা চেপে ধরলো।দম বন্ধ হয়ে আসছে রূপের। চোখ বেয়ে জল খসিয়ে পরছে।ছায়ান রেগে পাগলের মতো দাঁত কিরমির করে হিসহিসিয়ে বললো,

‘তোমার সো কল্ড হাসবেন্ড আসবে না বেবিডল। তুমি নিজেও জানো না কতো বড় ভুল করে ফেলেছো তুমি। এতো প্ল্যান এতো কষ্ট সব বৃথা।কজ…আমার বুদ্ধির কাছে তোমার বুদ্ধি অতি তুচ্ছ।কী ভেবেছো দ্যা বারিশ খানের বউকে কম মেহনতে নিয়ে এসেছি? খুব মেহনত হয়েছে বেবিডল।এতো এতো পরিকল্পনা করে আনিয়েছি বারিশ খান চাইলেও তোমাকে খোঁজে পাবে না। এখন তোমার শাস্তি দেওয়ার সময়।পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য তম মৃত্যু হবে তোমার।এতোটা জঘন্য, এতোটা জঘন্য হবে।তোমার মৃত দেহ দেখলে তিলতিল করে শেষ হবে তোমার হাসবেন্ড।’

উচ্চ স্বরে হেসে।রূপ চোখ বন্ধ করে কোনোরকমে বললো,

‘এ..এটা আমার সাথে নয় আ..আপনার সাথে হতে চলছে মি.সাইকো। নিজের মৃত্যুরর উল্টো গুনতি শুরু করে দিন।’

ছায়ান রেগে রূপের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিতে ছিটকে পরলো রূপ।ঠোঁট ছিঁড়ে রক্ত বের হচ্ছে।ছায়ান পুনরায় সোজা করে দাঁড় করিয়ে আরো কয়েকটা থাপ্পর দিতে লাগলো।ব্যথায় কেঁদে দিলো রূপ। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম।জীবনে কখনো থাপ্পড় কী তা বোঝেনি।সকলের আদরের ছিলো তাই আদরে আদরে বড়।মা মারলেও কখনো গালে হাত দেননি।আর বারিশ তো… কখনো স্বপ্নেও গাঁয়ে হাত দেওয়ার কথা ভাবা যায় না।ছায়ান রূপের চুলের মুঠি ধরে নিজের কাছে নিয়ে এসে রি’রি করে পাগলের মত হেসে বলে উঠলো,

‘কেমন লাগছে বেবিডল!আজ তোমার সব তেজ বের করে দিবো। তোমার হাসবেন্ড তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।’

রূপ ব্যথাতুর নয়নে হাঁসি দিয়ে বললো,

‘আমার ব্যথা যতো বেশি হবে, আপনার তিলতিল করে মৃত্যুর যন্ত্রণা ততো বেশি কষ্টের হবে।মি.ছায়ান সিত্তিস।’

ছায়ান রেগে আবারো চড় বসিয়ে দিলো।এদিক সেদিক করে আঘাত করার মতো কিছু খুঁজতে লাগল। তখনি বাহিরে থেকে হট্টগোলের আওয়াজ আসতে লাগলো। বুঝতে অসুবিধা হয়নি বারিশ পৌঁছে গিয়েছে।তিব্র গুলির আওয়াজ আসছে।ছায়ান থমকে গেলো।অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।কীভাবে এখানে আসতে পারে বারিশ?এতো প্ল্যানের পরও সে শেষমেশ আটকা পড়েছে।ছায়ান কটমট দৃষ্টিতে রূপের দিকে তাকাতে রূপ ছায়ানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গলার প্যান্ডেল খুলে ফেলল।প্যান্ডেল হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়িয়ে চাপ দিতে সেখান থেকে বের হয়ে আসলো চিফ। মৃদু আলো জ্বলছে সেই আলোতে চিকচিক করছে সাথে রূপের ঠোঁটের হাসি। বুঝতে অসুবিধা হলো না এটা কী?এর মাধ্যমে রূপ কোথায় আছে খুব সহজে বুঝতে পেরেছে বারিশ।খুব চালাক ভেবেছে নিজেকে কিন্তু এই শহরে যে তাঁর থেকে বড় বুদ্ধিমান আছে ভুলে বসেছে।ছায়ান রেগে চুল মুঠো করে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করতে লাগলো।এখনি তাকে বারিশ মেরে দিবে।ছায়ান হিংস্র হায়েনার মতো রূপের দিকে এগিয়ে এসে চুলের মুঠি ধরে।ব্যথায় আহ্ করে উঠলো রূপ।ছায়ান রূপের মুঠি টানতে টানতে বাহিরে নিতে লাগলো আর রূপের উদ্দেশ্য করে বললো,

‘তুমি আমার বাঁচার মোহরা হবে বেবিডল।’

_

মাঠের মতো বিশাল বড় রুমের আয়তন। পরিত্যক্ত বাড়ির সবচেয়ে বড় রুম এটি অনেকটা ফুটবল খেলার মাঠের মতো।এক কোণায় ইট সিমেন্ট এর সমাহার। দেখে বুঝা যাচ্ছে এটা কোনো বাড়ি বা কোনো হলের কাজ করা হচ্ছিলো যা কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। লেখিকা সুমাইয়া আক্তার মীম। রূপের চুলের মুঠি ধরে ছায়ান দাঁড়িয়ে আছে।তাকে গোল করে ঘেরাও করে রেখেছে অনেক গুলো কালো পোশাক পরিহিত গার্ড।ছায়ান বড় বড় চোখ করে চারিদিকে তাকিয়ে ভিত হয়ে গেলো।তাঁর সব চেলারা মৃত কেউ আবার আধমরা হয়ে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে।সামনে চোখ যেতে বারিশকে দেখে ভয় পেলো ছায়ান।চেয়ারে সাহেবি ভাবে বসে এক হাঁটুতে ভর দিয়ে বাঁকা হয়ে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।সাদা শরীর লাল হয়ে আছে তাঁর থেকেও বেশি লাল মুখ।ডান হাত লম্বালম্বি ভাবে লাল হয়ে আছে।কোনো কিছুর আঘাত সয়েছে নিশ্চয়ই। হিংস্র বাঘের ন্যায় ঘাড় বাঁকিয়ে তাকিয়ে আছে রূপের চুলের মুঠিতে চেপে রাখা ছায়ানের হাতের দিকে।বারিশকে দেখে রূপের ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটে উঠলো।চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়তে বারিশ সোজা হয়ে দাঁড়ালো।

#চলবে,,,❣️
[লেখিকা~সুমাইয়া আক্তার মীম]
❌কার্টেসী ছাড়া গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌

গত পর্বে গল্পের শেষ পর্ব পোস্ট করা হবে। সকলের গঠন মূলক মন্তব্য আশা করছি।গল্পটা কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন।সাইলেন্ট পাঠকরা অবশ্যই শেষ মুহূর্তে নিজেদের মূল্যবান মন্তব্য রেখে যাবেন।ধন্যবাদ।

গ্ৰুপ লিংক 👇
https://www.facebook.com/groups/317078740134340/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here