#কি_করে_বলবো_তোমায় পর্ব-১

0
192

#কি_করে_বলবো_তোমায় পর্ব-১
#ঊর্মি_আক্তার_ঊষা

আব্বু-আম্মুর পর যাকে সব থেকে ভালোবেসেছি সেই আমাকে ঠকালো। খুব কান্না পাচ্ছে এই ভেবে যে যাকে আমি ভালোবাসি সে আমাকে কখনোই ভালোবাসেনি সবটাই তার অভিনয় ছিলো।

(আমি ঊর্মি, অনার্স ২য় বর্সের ছাত্রী, পরিবার বলতে আব্বু-আম্মু আর আমরা টুইনস ভাই বোন অবশ্য আমি বড় ভাই ছোট। আম্মু একজন বিজনেস ম্যান)

এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম সে আমার ভালোবাসার মানুষ আসিফ। কলেজর প্রথম দিন ওর সাথে আমার পরিচয় হয় কারণ কলেজের প্রিন্সিপাল ওর বড় চাচা সেই সুবাদে ও মাঝে মাঝে কলেজে আসতো। আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব তারপর ভালোবাসা। দুই বছরে প্রেম আমাদের। ওর বেপারে আমার পরিবারের সবাই জানতো কারণ আমি আব্বু-আম্মুর সাথে একদম ফ্রী তাদের সব কথা শেয়ার করি। উফ আর ভাবতে পারছি না….

আমি : কেনো এমন করলে আসাদ? কী ক্ষতি করেছিলাম তোমার? তোমাকে তো আমি মন থেকে ভালোবেসেছিলাম। (মনে মনে বলে কাঁদতে লাগলাম হঠাৎ আম্মু রুমে আসলো)

আম্মু : কি হয়েছে মামনি? কাঁদছো কেনো?

আমি : (আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম)

আম্মু : আরে বাবা কি হয়েছে আম্মুকে বলবে তো নাকি? আসিফ কিছু করেছে?

আমি : আম্মু আসিফ আমাকে ঠকিয়েছে। ওর আগে থেকেই বিয়ে ঠিক ছিলো ওর কাজিনের সাথে আর গত পরশুদিন বিয়েও করে ফেলেছে। আম্মু ও কী করে পারলো এমনটা করতে? (কান্না করতে করতে আম্মু সব বলছি)

আম্মু : শান্ত হও মা। হয়তো ও তোমার ভাগ্যে ছিলো না। একটা কথা কি জানো মানুষ যা হারায় তার থেকে দ্বিগুণ ফিরে পায়। আর কাউকে কষ্ট দিয়ে কেউ কখনো সুখী হতে পারে না।

আমি : ওকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকবো? (কান্না করতে করতে বললাম)

আম্মু : সব ঠিক হয়ে যাবে মা। এখন কান্না বন্ধ করো। (মেয়েকে জড়িয়ে ধরে) এবার চলো খেয়ে নিবে।

আমি : আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

খাবার টেবিলে……

আব্বু : শোনো মামনি আমি তোমার আম্মুর কাছ থেকে সব শুনেছি। দুঃখ পেও না মামনি সব ঠিক হয়ে যাবে। আর হ্যাঁ কাল বাসায় মেহমান আসবে। কাল তোমাকে ভার্সিটি যেতে হবে না।

মিহির : কারা আসবে আব্বু?

আব্বু : আমার বন্ধু + বিজনেস পার্টনার তার পরিবার নিয়ে আসবে।

আমি : কিন্তু আব্বু আমার তো কাল

আব্বু : কাল না গেলেও চলবে।

খাবার শেষ করে রুমে চলে আসলাম…..শুয়ে শুয়ে আসিফের সাথে কাটানো দিন গুলোর কথা ভাবছি আনমনেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে। ওর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসছি দেখি আম্মু রান্নাঘরে মেহমানদের জন্য রান্না করা শুরু করে দিয়েছে।

দুপুরে নিচে থেকে আব্বু আমাকে ডাকছে। নিচে যেতেই আব্বু আমাকে তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আমিও তাদের সালাম দিয়ে তাদের থেকে একটু দূরে দাড়ালাম। এতক্ষণে খেয়াল করলাম আংকেল আন্টির সাথে একটা ছেলেও এসেছে।

(দেখতে লম্বা, ফর্সা, চুল গুলো সিল্কি,চোখের মনি ব্রাউন কালারের, ঠোঁট গুলো লাল টকটকে)

আব্বু আমাকে ছেলের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিলো। সে হলো বাপির বন্ধু + বিজনেস পার্টনার এর একমাত্র ছেলে তানভীর আহমেদ।

তানভীর : হেলো! (বলেই ঊর্মিকে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করলো)

(ঊর্মি দেখতে উজ্জ্বল শ্যাম বর্নের, ঘণ পাপড়ির টানা চোখ। তানভীর ঊর্মির প্রেমে পড়ে গেছে😍)

আমি : আসসালামু আলাইকুম!

তানভীর : ওলাইকুম আসসালাম! কোন ক্লাসে পড়েন আপনি?

আমি : অনার্স ২য় বর্স। আপনি?

তানভীর : পড়ালেখা কমপ্লিট বাবার পাশে থেকে বিজনেস সামলাই।😍

আমি : ওহ ভালোই!

তানভীর : আমরা কি বন্ধু হতে পারি?😍

আমি : উমম (দেখে তো খারাপ মনে হচ্ছে না) আচ্ছা।

তানভীর : 😍😍

এমন সময় আব্বু ডাক দিলো….আমরা গিয়ে তাদের বসে পড়লাম।

আম্মু : সবাই আসো টেবিলে খাবার দিয়েছি।

খাবার টেবিলে…..আব্বু আর আংকেল পাশাপাশি বসেছেন, আম্মু আর আন্টি পাশাপাশি আর আমি অনন্ত আর তানভীর এর মাঝখানে….

তানভীর : মায়াবতী তোমার চোখ দুটো আমাকে ঘায়েল করেছে😍 (মনে মনে)

খাবার শেষে বেশি কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে আংকেল বললো আজ তাহলে উঠি….

আব্বু : সে কি এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবি? আরও কিছুক্ষণ থাক।

আংকেল : না আজ না অন্য একদিন আবার আসবো। ইনশা’আল্লাহ!

সবাইকে বিদায় জানিয়ে আব্বু-আম্মু অনন্ত আর আমি সোফায় বসে আছি। হঠাৎ আব্বু বললো তানভীর ছেলেটা কতো ভদ্র আমার তো বেশ ভালোই লেগেছে 🤗কি বলো ঊর্মি আম্মু?

আম্মু : আমারও ভালো লেগেছে।🤗

আমি : আম্মু আমি তোমাদের কথা কিছুই বুঝতে পারছি না কি বুঝতে চাইছো তোমরা?

বাপি : সময় হলে বুঝতে পারবে মামনি।

কিছু না বলেই রুমে চলে আসলাম। আব্বু -আম্মু কিছু একটা ভাবছে তা বেশ ভালোই বুঝতে পারছি। কিন্তু সেটা তো আমার পক্ষে সম্ভব না আমি তো আসিফ…..না আমি আসিফকে ঘৃণা করি প্রচন্ড ঘৃণা করি।

অন্যদিকে তানভীর এর বাবা-মা…..

বাবা : ঊর্মিকে আমার ভিষণ ভালো লেগেছে। আমাদের ছেলের সাথে বিয়ে দিলে কেমন হয়?

মা : আমারও বেশ ভালো লেগেছে। যেমন রুপ তেমনই শান্তশিষ্ট আর ভদ্র মেয়েটা।

বাবা : তা আর বলতে। তুমি কি বলো তানভীর?

তানভীর : আমি আর কি বলবো তোমরা যা ভালো মনে করো। আমি তো সবসময় তোমাদের কথা মতোই চলি আর আমি জানি তোমরা আমার জন্য খারাপ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। (মায়াবতীর সাথে আমার বিয়ে হবে উফ ভাবতেই পারছি না মনে মনে)

বাবা : তাহলে আমি কালই এই ব্যাপারে ওসমানের সাথে কথা বলবো।

পরের দিন সকালে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি এমন সময় ফোনে কল আসছে। ফোন স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি আমার বেস্টফ্রেন্ড রিয়া কল দিয়েছে।

আমি : হ্যাঁ বল।

রিয়া : ঊর্মি কই তুই আজ কি আসবি না ভার্সিটি?

আমি : হ্যাঁ আসছি ৫ মিনিট বলেই রেখে দিলাম।

অন্যদিকে তানভীর অফিসে বসে আছে এমন সময় তার মেনেজার + বেস্টফ্রেন্ড রায়হান আসে।

রায়হান : কিরে এতো মনোযোগ দিয়ে কার কথা ভাবছিস?

তানভীর : আমাদের বিজনেস পার্টনার ওসমান আংকেল এর বাসায় গিয়েছিলাম আমি আর বাবা-মা। তো উনার মেয়েকে বাবা-মায়ের বেশ পছন্দ হয়েছে। আমারও ভালো লেগেছে।🙈

রায়হান : ওহ তো এই ব্যাপার। থাক আর লজ্জা পেতে হবে না।

ভার্সিটিতে……ঊর্মি আর রিয়া একটা গাছের নিচে বসে কথা বলছে…..

রিয়া : থাক মন খারাপ করিস না। কার মনে কি আছে তা আগে থেকে বলা যায় না।

আমি : আমি তো আসিফকে মন থেকে ভালোবেসেছিলাম। (রিয়াকে জড়িয়ে ধরে)

রিয়া : ও কাজটা ঠিক করেনি। সত্যিটা তোকে আগে থেকেই জানানো উচিত ছিলো।

অন্যদিকে…..

তাওহীদ : হেলো ওসমান!

ওসমান : হ্যাঁ বল।

তাওহীদ : ……..

ওসমান : সে তো খুব ভালো খবর। আচ্ছা তোরা তাহলে আয় বাসায় সব কথা হয়ে যাবে।

তাওহীদ : হ্যাঁ আসবো। এখন তাহলে রাখি।

ওসমান : আচ্ছা।

২ দিন পর তানভীর এর বাবা ঊর্মিদের বাসায় আসছে কথা বলতে।

তাওহীদ : তোর মেয়েকে আমাদের বেশ পছন্দ হয়েছে। তোরা যদি রাজি থাকিস তাহলে তোর মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই এক সপ্তাহের মধ্যে। (ঊর্মির আব্বুকে কে বললো)

ওসমান : আমাদেরও তোর ছেলেকে ভিষণ পছন্দ হয়েছে কিন্তু সময়টা (কিছুক্ষণ ভেবে রাজি হয়ে গেলো) আচ্ছা আমরা রাজি আছি।

বিয়ে ঠিক করে তানভীর এর বাবা খুশি মনে বাড়ি ফিরে গেলেন। ঊর্মি নিজের রুমে ছিলো এমন সময় ওর আব্বু আসলো…..

আব্বু : কি করছো মামনি?

আমি : কিছু না আব্বু। এসো ভিতরে এসো।

আব্বু : মামনি তুমি এ বিয়েতে খুশি তো? আমরা তোমার উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবো না। তোমার খুশিতেই আমরা খুশি। তুমি যদি না চাও তাহলে কালই আমি তানভীর এর বাবাকে বারণ করে দিবো।

আমি : আব্বু আমি জানি তোমরা কখনো আমার খারাপ চাইবে না। তোমরা যা বলে আমিও তাই করবো। আর হ্যাঁ তোমাদের খুশিতেও আমি খুশি। (আব্বুকে জড়িয়ে ধরে)

রাতে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ভাবছি….যে আমাকে ভালোবাসেনি আমি তার জন্য কেনো কষ্ট পাবো সে যেহেতু সুখে আছে আমিও বাবা মায়ের ইচ্ছেতে বিয়ে করে সুখী হবো।

অন্যদিকে তানভীর ঊর্মির কথা ভাবছে…..আর মাত্র কয়েকটা দিন তারপর তুমি শুধু আমার মায়াবতী। যে ছেলে কিনা কোনো মেয়ের দিকে তাকাতো না সে ছেলে প্রথম দেখায় তোমার প্রেমে পরে গেছে। #কি_করে_বলবো_তোমায়❤️ এ কদিনে তোমাকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছি।

চলবে?……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here