Love_heart💞💞,১৫,১৬

0
153

#Love_heart💞💞,১৫,১৬
লেখা- পূজা
পর্ব- ১৫
🍁
প্রহর চটপট করছে ঘুমাতে পারছে না। আজকের দিনে ওর কত প্লেন ছিলো। কিছুই করা হলো না। আর এত রাতে দিয়ার সাথে দেখা করাও সম্ভব না। প্রহরের ফোনে অনেক মেসেজ আসছে ভ্যালেন্টাইন্স ডের উইস জানিয়ে কিন্তু যার মেসেজ এর জন্য উয়েট করছে তার মেসেজই আসছে না। এদিকে দিয়া নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।
পরেরদিন চিল্লাচিল্লির শব্দে প্রহরের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ওর রুম থেকে বেরিয়ে উপর থেকেই নিচে তাকিয়ে দেখে ওর ভার্সিটির কিছু টিচার এসেছেন। সব মেয়ে। আর কারোরই বিয়ে হয়নি।
প্রহর কিছুক্ষণ অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে নিজের রুমে গেলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে নিলো।
দিয়া খুব সুন্দর করে সেজে প্রহরের বাসায় এসেছে। আর ভেতরে ডুকে দিয়াও অবাক। আজ এই বাসায় কোনো অনুষ্টান আছে কিনা সেটা মনে করার চেষ্টা করছে। কিন্তু অনেক ভাবার পরো মনে করতে পারলো না। দিয়া ভেতরে যেথেই টিচার দিয়ার কাছে এসে বললেন,”আরে দিয়া তুমি এখানে?”
দিয়াঃম্যাম আমি এখানে প্রেমার সাথে দেখা করতে এসেছি। আপনারা এখানে?
টিচারসঃআজ তো ভার্সিটি অফ। তাই প্রহরস্যারের সাথে দেখা করতে এলাম। ভ্যালেন্টাইন্স ডে আজ ভুলে গেলো।
দিয়াঃওহ।
দিয়া বিরবির করে বললো,”আমি তো এটার জন্যই এখানে এসেছি।”
প্রহর উপর থেকে নামতে নামতে বললো,”ম্যাম আপনারা এখানে হঠাৎ? বললেন না তো ফোন করে আসবেন।”
ইরাঃআরে প্রহর তোমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য আমি এসেছি ফোন না দিয়ে।
জুইঃ(একটা ফুলের তুরা এগিয়ে দিয়ে)এটা আপনার জন্য।
প্রহরঃও থ্যাংকস। আপনারা এখানে বসুন। দিয়া!
দিয়া এতক্ষণ ছোট ছোট চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে ছিলো। প্রহরের ডাকে প্রহরের দিকে তাকালো।
প্রহরঃপ্রেমা বা মাকে গিয়ে বলোতো আমার ভার্সিটির কিছু টিচার এসেছেন। উনাদের জন্য খাবারের এরেইন্জমেন্ট করতে।
দিয়া চুপচাপ কিচেনে চলে গেলো। প্রহরের মা রান্না করছেন।
দিয়াঃআন্টি!
প্রহরের মাঃদিয়া তুই। এত সকাল!
দিয়াঃকেনো আসতে পারি না।
প্রহরের মাঃতা কখন বললাম। এটা তো তরই বাসা।
দিয়াঃআন্টি তোমার ছেলে এত্তগুলো মেয়ের সাথে ড্রয়িংরুমে বসে আছে। আর আমাকে বলেছে তোমাকে বলতে ওদের জন্য খাবার নিয়ে যেথে।
প্রহরের মাঃএজন্যই এত হৈচৈ। কারা এসেছে।
দিয়াঃভার্সিটির ম্যামরা।
প্রহরের মাঃওহ আচ্ছা।
দিয়াঃউনাকে ম্যামরা গোলাপ ফুল দিয়েছে আজ।
প্রহরের মাঃওহ।
দিয়াঃওহ? আন্টিইই!
প্রহরের মাঃকি?
দিয়াঃআজ ভ্যালেন্টাইন ডে।
প্রহরের মাঃএজন্য ওরা এসেছে এবার বুঝেছি।
দিয়াঃআজ উনাকে ওরা কেনো ফুল দেবে। আজ তো আমি উনাকে ফুল দেবো।
প্রহরের মাঃতাহলে দে। তকে কেউ মানা করছে নাকি।
দিয়া রাগে গজগজ করতে করতে কিচেন থেকে বেরিয়ে গেলো। দিয়া কি বুঝাতে চাইছিলো আর উনি কি বুঝেছেন।
দিয়া ড্রয়িংরুমে এসে দেখে প্রহরের এক সাইডে জুই অন্য সাইডে ইরা বসে আছে। আর অন্য জায়গায় জুলি। এই ৩ম্যামই এসেছেন দেখা করতে। আর প্রহরও ওদের সাথে হেসে কথা বলছে। দিয়া দাতে দাত চেপে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে। প্রেমা উপর থেকে এসে দেখে দিয়া একসাইডে দারিয়ে একভাবে প্রহরের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রেমা দিয়াকে কিছু না বলে প্রহরের দিকে গেলো।
ইরাঃহাই প্রেমা।
প্রেমাঃহ্যালো ম্যাম। কেমন আছেন?
ইরাঃভালো। তুমি?
প্রেমাঃভালো। ভাইয়া?
প্রহরঃকি?
প্রেমাঃএদিকে একটু আয় তো।
প্রহর ইরা আর জুইয়ের দিকে একবার তাকিয়ে মুচকি হেসে প্রেমার কাছে চলে গেলো। আড়চোখে একবার দিয়াকেও দেখে নিলো।
প্রহরঃকি?
প্রেমাঃএটা কি হচ্ছে। ম্যামরা এখানে কেনো?
প্রহরঃআমি কি জানি। আমাকে বলে আসে নি তো।
প্রেমাঃদিয়া কিন্তু খুব রেগে যাচ্ছে।
প্রহরঃসেটা তো দেখতেই পাচ্ছি।
প্রেমাঃতুই এদের এত ক্লোজ হচ্ছিস কেনো?
প্রহরঃআমি কোথায় হলাম। ওরা এসে আমার পাশে বসেছে তো আমি কি করবো।
প্রেমাঃতুই ম্যামদের বাসা থেকে জলদি বিদেয় কর। দিয়ার এটা একদম ভালো লাগছে না।
প্রহরঃনা থাক। আর একটু জ্বলুক।
প্রেমাঃতরা যে কখন কি করিস। তরাই জানিস।
প্রেমা দিয়ার কাছে গেলো। দিয়া এখনো ইরা জুই আর জুলির দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে ওদের খুন করতে পারলে শান্তি পেতো।
প্রেমাঃদিয়া আমার সাথে উপরে চল।
দিয়াঃনা।
প্রেমাঃনা মানে। তুই এখানে দারিয়ে কি করবি?
দিয়াঃদেখবো।
প্রেমাঃতর দেখতে হবে না। চল।
দিয়াঃনা তুই যা।
কিচেন থেকে প্রেমার মা প্রেমাকে ডেকে পাটালেন। প্রেমা কিচেনে গেলো। আর ওদের জন্য নাস্তা নিয়ে আসলো। আরো কিছুক্ষণ গল্প করে ওরা উঠে দারালো। আর প্রহরকে হাগ করে এখান থেকে চলে গেলো। প্রহর মুচকি হেসে উপরে উঠতে যাবে তখনি দিয়ার কথা শুনে দারিয়ে গেলো।
দিয়াঃআমাকে আর ভালো লাগে না। তাইনা স্যার। আমার থেকে ম্যামরা অনেক সুন্দর?
প্রহর অবাক হয়ে দিয়ার দিকে তাকালো। দিয়াকে দেখতে অনেক শান্ত লাগছে।
দিয়াঃআজ এত সেজেছি কেনো জানেন? শুধু মাত্র আপনার জন্য। কপালে টিপ চোখে কাজল ঠোটে লিপষ্টিক। আর আপনিই তাকালেন না একবার।
দিয়া আর কিছু বললো না এখান থেকে চলে যাবে প্রহর জলদি এসে পেছন থেকে দিয়ার হাত ধরলো।
প্রহরঃজেলাস?
দিয়াঃনা। হাত ছারুন।
প্রহরঃদিয়া আর কত উয়েট করাবে।
দিয়াঃআজ বলতেই এসেছিলাম। বাট আর বলবো না। আমি ডিসিশন চেন্জ করে ফেলেছি।
প্রহরঃজানো যেদিন তোমাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম সেদিনই ডিসিশন নিয়ে নিয়েছিলাম তোমাকেই আমার বউ বানাবো। সেদিন তোমার বয়স কত ছিলো জানো? অনলি ওয়ান মান্থ। আর আমার বয়স 5 ইয়ারস। এত কিছু বুঝতাম না বাট তখনই সবার সামনে এটা না বুঝে বলে ফেলেছিলাম। আস্তে আস্তে আমরা বড় হতে থাকি। সেই না বুঝা কথাগুলো বুঝতে শিখি। ইমোশন রিয়েলিটিতে পরিণত হয়। এত জলদি তোমাকে আমি ভুলে যাবো। ভাবলে কি করে। এটা ২দিনের ভালোবাসা না দিয়া। ২যুগ!
দিয়ার মনে একটা শীতল বাতাস বয়ে গেলো। এতো ভালো মনে হয়না দিয়ার আগে কখনো লেগেছে। দিয়ার মুখে হাসি বাট এটা প্রহর দেখতে পারছে না। দিয়া ঘুরে প্রহরের দিকে তাকালো তারপর প্রহরের হাত নিজের হাত থেকে চুটিয়ে নিলো। প্রহর কিছু বলছে না। শান্ত দৃষ্টিতে দিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
দিয়াঃআসি বাই।

তিথি আর অনু রেডি হয়ে জাস্ট নিচে এসেছে তখনি সবাই সামনে রুপকে দেখে চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। এখন রুপকে কেউই আশা করেনি। তিথি মনে হয় বড়োসরো একটা কারেন্ট এর শক খেলো। সত্যি না স্বপ্ন সেটা বুঝতে পারছে না।
রুপঃহ্যালো গাইজ।
অনু মুচকি হেসে রুপের পাশে এসে বললো,”হাই। ঠিকভাবে আসতে পেরেছো তো।”
রুপ অনুর দিকে একবার তাকালো তারপর তিথির দিকে। তিথি এখনো হা হয়ে তাকিয়ে আছে। রুপ তিথির পাশে এসে বললো,”এত কল দিলাম ধরছিলে না কেনো? রিভেন্জ?”
অনুঃরং। তিথির ফোন আমার কাছে।
তিথি কাপাকাপা গলায় বললো,”তুমি এখানে কি করে?”
রুপঃসেটা তোমার বোনকেই জিজ্ঞেস করো। বাট অনু রিজন আরেকটাও আছে।
অনুঃকি?
রুপঃএকটা প্রজেক্ট হাতে পেয়েছিলাম কাল। আমার বাংলাদেশে আসতেই হতো। বাট সেটা আগামিকাল। তোমার জন্য আজ আসতেই বাধ্য হলাম। এগুলো কি ছিলো?
অনুঃতোমাকে আমি আগেও বলেছিলাম তিথিকে ইগনোর করবে না। তুমি সেটাই করছিলে। তাই বাধ্য হয়ে…..
রুপঃউয়াট? তার মানে….
অনুঃযা ভাবছো সেটাই।
রুপ রেগে গেলো। অনুর একটা মিথ্যের জন্য ওর পুরো একটা দিন নষ্ট হলো।
তিথির মা বাবা রুপকে দেখে উনারাও অবাক হলেন।
তিথির মাঃরূপক তুমি এখানে?
রুপঃএকচুয়েলি আন্টি একটা প্রজেক্ট হাতে পেয়েছি তাই এখানে চলে এলাম। এটা কমপ্লিট করতে না পারলে অনেক টাকা লস হবে।
অনু এতক্ষণ খুশি হলেও এই কথা শুনে আবার রাগ উঠে গেলো। এটা তিথির সামনে না বললে কি হতো। তিথি একটু খুশি হতো। অনু তিথির দিকে তাকিয়ে দেখে রুপের আসাতে তিথি জাস্ট অবাক হয়েছে বাট ওর মুখ দেখে মনে হচ্ছে না খুশি হয়েছে।
রুপঃআংকেল আমাদের বাসায়ই তো যাচ্ছেন। চলুন।
তিথির বাবাঃচলো।
তিথির আর অনুর বাবা মা এক গাড়িতে আর অন্য গাড়িতে তিথি অনু অয়ন আদি আর রুপ। রুপের মুখ দেখে মনে হচ্ছে খুব রেগে আছে চুপচাপ সামনে তাকিয়ে ড্রাইভ করছে। তিথির অনেক জানতে ইচ্ছে করতেছে অনু কি এমন করলো যার জন্য একদিন আগে রুপ বাংলাদেশ চলে এলো। বাট রুপের রাগি ফেইস দেখে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস তিথির হচ্ছে না।
তিথি রুপের দাদির সাথে দেখা করলো। রুপ ও এসেছে দেখে রুপের বাবা দাদি খুব খুশি হলেন। আর রুপের মা তো আরো বেশি খুশি হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর আবিরের কল আসে তিথির ফোনে।
তিথিঃহ্যালো।
আবিরঃকোথায় তুমি?
তিথিঃরুপের দাদির সাথে দেখা করতে এসেছি।
আবিরঃআসবে না।
তিথিঃআবির রুপ ও এসেছে আজ।
আবিরঃকিইই?
তিথিঃহুম। ও কি একটা প্রজেক্ট পেয়েছে তার জন্য বাংলাদেশে এসেছে।
আবিরঃও! তাহলে তো তুমি আজ রুপের সাথেই বেরবে। ওকে ইনজয় দিস ডে।
তিথিঃতোমার কি মনে হয় রুপ আমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবে? আমি ফ্রি হয়ে তোমাকে ফোন দিচ্ছি। আমাকে পিক করে নিও।
আবিরঃসত্যি আসবে?
তিথিঃহুম। বাট লেইট হবে।
আবিরঃইভেনিং হলেও প্রবলেম নেই।

শুভ প্রহরের কাছ থেকে পার্মিশন নিয়ে প্রেমাকে নিয়ে বেরিয়েছে ঘুরতে। শুভ কোন দিক দিয়ে যাচ্ছে নিজেও জানে না। শুধু জানে শহর থেকে অনেকটা দুরে চলে এসেছে।
প্রেমাঃতুমি ঠিক কোথায় যাবে বলোতো।
শুভঃজানি না। আমি মনোমুগ্ধকর একটা জায়গা খুজছি।
প্রেমাঃঢাকা থেকে অনেকটা দুর চলে এসেছি। পরে ফিরতে পারবো না। শুভ প্লিজ গাড়ি ঘুরাও।
শুভঃতুমি আমাকে বিশ্বাস করো না?
প্রেমাঃসেটা কখন বললাম। তোমাকে আমি নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি।
শুভঃসো ডোন্ট সাউট। জাস্ট সি।
শুভ একটা গ্রামে এনে গাড়ি থামালো। প্রেমা গাড়ি থেকে নেমে অবাক হয়ে চারপাশ দেখছে। রুপকথার রাজ্যের মতো মনে হচ্ছে। এত সুন্দর গ্রাম।
গ্রামের রাস্তা গাছপালা ঘড়বাড়ি পুকুর সবমিলিকে জাস্ট অসাধারন। কোনো আবর্জনা নেই। খুব ক্লিন গ্রামটা।
প্রেমাঃশুভ এটা স্বপ্ন না সত্যি। এত সুন্দর গ্রামও আছে?
শুভঃহুম। আমি এই জায়গাটাই খুজছিলাম। এখানে আমার এক কাজিনের ফ্রেন্ডের বাসা। আমি আমার কাজিনের ফোনে এই জায়গাটার পিকচার দেখেছিলাম তখনি ডিসাইট করি এখানে একদিন তোমাকে নিয়ে আসবো। তাই আজ এলাম। এই দিনটাকে স্পেশাল করতে।
প্রেমাঃরিয়েলি শুভ রুপকথার রাজ্য মনে হচ্ছে।
শুভ গিয়ে নিজের হাতের মুটে প্রেমার হাত রাখলো।
শুভঃচলো।
ওরা চারপাশ অনেকক্ষণ ঘুরলো। সরতে ক্ষেত বিভিন্ন সবজি ফল ফুলের বাগান চারদিকে। হাটতে হাটতে একটা নদীর সামনে এসে দারালো ওরা। নদীর কিনারে পাশাপাশি বসলো। তখন প্রায় বিকেল ৪টা। নদীর পাশ দিয়ে গ্রামের কিছু লোক যাচ্ছিলো। প্রেমা আর শুভকে এত ক্লোজ বসতে দেখে ওদের মনে সন্দেহ জাগলো। ওরা গ্রামের আরো কিছু লোকজন নিয়ে ওদের কাছে গেলো।

একটা বড় দোতালা বাড়ির সামনে দারিয়ে আছে শুভ আর প্রেমা চারপাশে গ্রামের লোকজন। ওই বাড়ির মালিক আর উনার স্ত্রী চেয়ারে বসে আছেন দুজন বেশ বয়স্ক।
শুভ কিছুই বুঝতে পারছে না ওদের এভাবে এখানে ধরে আনলো কেনো? কি করেছে ওরা। প্রেমা শুভর হাত শক্ত করে ধরে আছে আর মনে হচ্ছে কাপছে। খুব ভয় করছে প্রেমার। লোকগুলো ওদের সাথে কি করতে চাইছে বুঝতে পারতেছে না ওরা।
শুভ ফিসফিসিয়ে বললো,”প্রেমা ভয় পেও না। আমি আছি তো।”
প্রেমাঃওরা আমাদের এভাবে আটকে রেখেছে কেনো শুভ। আমি বাসায় যাবো। সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
শুভঃউয়েট। আমি কথা বলছি ওদের সাথে।
শুভ ওই বাড়ির মালিকের সামনে গিয়ে বললো,”দাদু আপনারা আমাদের এভাবে আটকে রেখেছেন কেনো?”
উনি শান্ত গলায়ই বললেন,”জানো না কেনো আটকে রেখেছে ওরা?”
শুভঃনা।
দাদুঃতুমি জানো এই গ্রামের কিছু নিয়ম আছে?
শুভঃকিসের নিয়ম?
দাদুঃএখানে বাইরের মানুষের আসা নিষিদ্ধ। তারউপর তোমরা প্রপ্তবয়স্ক ২জন ছেলে মেয়ে একসাথে এখানে প্রবেশ করেছো।
শুভঃমানে?
ওই লোকগুলোর মধ্যে একজন বললো,”তোমরা কি ভেবেছো আমরা গ্রামে থাকি বলে শহরে কি হয় তার কিছুই জানি না। তোমরা এই গ্রামকে আজ অপবিত্র করতে এসেছো তা আমরা সবাই জানি।”
শুভঃউয়াটট! কিসের অপবিত্র।
দাদুঃওরা ভাবছে তোমরা এখানে বাজে কাজ করতে এসেছো। এর আগেও দুবার এই দিনে এরকম ঘটনা ঘটেছে এই গ্রামে। সকাল হলেই শুধু মেয়েটাকে পাওয়া গেছে ছেলে রাতেই পালিয়েছে।
শুভ পেছন ঘুরে একবার প্রেমাকে দেখলো প্রেমা ভয়ে কাপতাছে। শুভর অনেক খারাপ লাগছে ওর জন্যই ওদের আজ এমন সিচুয়েশনে পরতে হচ্ছে।
শুভঃআপনারা ঠিক কি করতে চাইছেন? আমাদের আটকে রেখেছেন কেনো? আমরা তো কিছু করিনি।
শুভর কথা কানে না তুলেই লোকগুলো বললো,”তোমাদের এই গ্রামকে আর অপবিত্র করতে দেবো না আমরা। তোমাদের এই খারাপ কাজ করতে আমাদের গ্রামে আসার অপরাধে এইখানেই আটকে রাখবো।”
প্রেমা এমনিতেই কাদছিলো ওদের কথা শুনে ওর কান্না আরো বেড়ে গেলো। শুভ জলদি প্রেমার কাছে গেলো।
শুভঃপ্রেমা প্লিজ স্টপ ক্রায়িং। আমি আছি না। সব ঠিক করে দেবো।
প্রেমা কাদতে কাদতেই বললো,”শুভ আমি বাড়ি যাবো। ভাইয়া মা বাবার সাথে কথা বলবো। প্লিজ আমায় বাড়ি নিয়ে চলো।আমার ভয় করছে।”
শুভঃযাবো। প্লিজ তুমি কান্না বন্ধ করো। আমি সব ঠিক করে দেবো। জাস্ট একটু সময় দাও আমাকে।
শুভ আবার ওই দাদুর কাছে গিয়ে বললো,”দাদু আপনারা যা ভাবছেন তা সম্পূর্ন ভুল। আমরা কোনো খারাপ ইনটেনশনে এই গ্রামে আসি নি। এই গ্রামটা এত সুন্দর তাই জাস্ট দেখতে এসেছি। প্লিজ আমাদের এখন যেথে দিন। আমরা এক্ষনি চলে যাবো।”
ওই লোকগুলো চিৎকার করে বললো,”বাবামশাই একদম এই ছোকরার কথা শুনবেন না। এত সহজে তাদের এই গ্রাম থেকে যেথে দেবো না।”
শুভও একটু জোরে বললো,”আরে আপনারা পাগল নাকি? দেখুন রাত হয়ে যাচ্ছে আমাদের যেথে দিন। আমাদের টাইমলি ঢাকা পৌছতে হবে।”
ওরা সবাই একসাথে বললো,”তোমার ভুলভাল কথায় আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাবো না। যেথে দেবো না তোমাদের।”
শুভঃদাদু প্লিজ আমার কথাটা একটু বুঝার চেষ্টা করুন। সবার থেকে আপনাকে ইন্টালিজেন্ট মনে হচ্ছে। এই স্টুপিড লোকেরা আমার কথা বুঝতেছে না আপনি প্লিজ আমাদের যাওয়ার ব্যবস্থা…..
শুভর কথা শেষ হওয়ার আগে লোকেরা যা বললো তা শুনে প্রেমা সেন্সলেস হয়ে মাটিতে পরে যায় আর শুভ প্রেমার কাছে যাবে না কি করবে ও বুঝতেই পারে না। অসহায় ভাবে দাদুর দিকে তাকিয়ে থাকে।

চলবে……
#Love_heart💞💞
লেখা- পূজা
পর্ব- ১৬
🍁
তিথি বাসা থেকে বেরবে তখনি পেছন থেকে রুপের কথা শুনে দারিয়ে যায়।
রুপঃএই ইভেনিং এ কোথায় যাচ্ছো?
তিথিঃতোমাকে কেনো বলতে যাবো?
রুপঃকেনো বলবে মানে? তুমি কোথায় যাচ্ছো তা জানার রাইট আমার আছে।
তিথিঃউহু। ভুলে যেও না জাস্ট বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ে হয়ে যায় নি। আর না ইনগেইজমেন্ট হয়েছে। তাই আমার বিষয়ে কিছু বলার রাইটস এখনো তুমি পাও নি।
রুপঃতিথি!
তিথিঃজলদি বলো শুনছি।
রুপ রেগে বললো,”তুমি আমার মুখের উপর কথা বলছো? এর আগে তো কখনো বলো নি। হঠাৎ কি হলো? তার মানে কি অনু যা বলেছে তাই ঠিক।”
তিথিঃআগে কখনো কথা বলিনি বলে যে আর কখনো বলবো না সেটা তুমি কী করে ভাবলে। জানো তো রুপ অবহেলা পেতে পেতে জাস্ট টায়ার্ড আমি। তোমার কাছ থেকে আমি আর কিছুই এক্সপেক্ট করি না। আর হ্যাঁ অনুর উপর আমার সম্পূর্ন বিশ্বাস আছে। অনু কি বলেছে জানি না তবে যাই বলবে ঠিকই বলবে সেটা জানি।
রুপঃউয়াট! ইউ….তার মানে তুমি আমায় ধোকা দিচ্ছো।
তিথিঃধোকা মানে?
রুপ কিছু বলবে তার আগেই তিথির ফোন বেজে উঠে। তিথি স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে আবির।
তিথিঃতোমার সাথে আমি ফিরে এসে কথা বলছি। এখন আমায় যেথে হবে।
রুপের আর কোনো কথা না শুনে তিথি বেরিয়ে যায়। বাইরে আবির গাড়ি নিয়ে উয়েট করছে। পিছন থেকে অনু তিথির কথা শুনে অবাক। হঠাৎ তিথির কি হলো যে রুপের সাথে এভাবে কথা বলছে।
রুপ পেছনে ঘুরে অনুকে দেখে আরো রেগে গেলো। রেগে বললো,”ইউ নোউ অনু আমি কখনো হারি নি। আর ফিউচারেও কখনো হারবো না।”
অনুঃকি বলতে চাইছো?
রুপঃগেট রেডি। ইনগেইজমেন্ট এখানেই হবে আর খুব তারাতারি।
রুপের কথা শুনে অনু অনেক খুশি হলো। যাই হোক ওর একটা মিথ্যে কথায় তিথির লাইফ সেট হচ্ছে এটাই অনেক। এই নিউজটা শুনলে তিথিও নিশ্চই খুশি হবে এটা ভেবেই মনে মনে আরো বেশি খুশি হচ্ছে অনু।
তিথি গাড়িতে উঠতেই আবির বললো,”কিছু হয়েছে?”
তিথিঃনা।
আবিরঃএটা রুপের বাসা?
তিথিঃহুম।
আবিরঃএভাবে যে ওদের বাসা থেকে চলে আসছো। পরে কেউ যদি কিছু বলে।
তিথিঃবলবে না। আমি মা মামনিকে বলে এসেছি একটা ফ্রেন্ডের সাথে মিট করতে যাচ্ছি। ইটস আর্জেন্ট।
আবির গাড়ি নিয়ে একটা নদীর পাশে গেলো। ওখানে গিয়েই কালো কাপড় দিয়ে তিথির চোখ বেধে দিলো।
তিথিঃআরে কি করছো?
আবিরঃজাস্ট 5মি.কাপড় সরাবে না। আর আমার হাত ধরো।
আবির গাড়ি থেকে নেমে তিথিকেও হাত ধরে গাড়ি থেকে নামালো। আর আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
কিছুদুর যাওয়ার পরেই আবির তিথির হাত ছেড়ে দিয়ে কোথায় যেনো চলে গেলো। তিথি চারদিক হাতিয়ে ও আবিরকে খুজে পেলো না।
তিথিঃআবির! আবির কোথায় তুমি?
অনেক ডাকার পরো যখন আবিরকে পেলো না তিথি চোখ থেকে কাপড় খুলে পেললো। আর সামনে তাকাতেই চারদিক থেকে আবিরের কথা ভেসে আসলো।
আবিরঃহ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে।
নদীর উপর খুব সুন্দর করে ডেকোরেশন করা আর একটা টেবিলের উপর অনেক গিফটস এর বক্স। আর চারদিকে সাউন্ড বক্স। সেখান থেকেই আবিরের কন্ঠ ভেসে আসছে। তিথি অবাক হয়ে সামনে তাকিয়ে আছে। এত সুন্দর সারপ্রাইজ আগে কখনো কেউ দেয় নি তিথিকে। বক্স থেকেই ভেসে আসছে”সামনে যাও তিথি।”
তিথিঃতুমি কোথায় আবির?
আবিরঃসামনে যাও। পেয়ে যাবে আমাকে।
আবিরের কথাতেই সামনে এগিয়ে যায় তিথি। টেবিলের কাছে যেথেই উপর থেকে নানা রঙ্গের বেলুন তিথির উপর পরতে থাকে আর ফ্লোর ভরে যায়। চারদিকে ফানুস উরতে থাকে। আর নদীর মাঝখানে একটা লেখা ভেসে উঠে হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে।
তিথি এত সারপ্রাইজ পেয়ে জাস্ট স্পিসলেস হয়ে গেছে। হঠাৎ ওর কানের কাছে আবির ফিসফিসিয়ে বলে,”হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে। কেমন লাগলো?”
তিথি মুচকি হেসে বললো,”আমার লাইফের ফাস্ট এন্ড বেষ্ট সারপ্রাইজ এটা। আই এম সো হ্যাপি।”

প্রেমা চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে একটা বিছানার উপর শুয়ে আছে। আর ওর পাশে সেই দাদুর স্ত্রী। প্রেমা চারপাশে একবার তাকিয়ে শুভকে খুজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও শুভ নেই।
এবার চিৎকার করে বললো,”শুভ কোথায় দিদা? প্লিজ আপনারা কেউ শুভর কিছু করবেন না। ওকে মারবেন না। শুভর কোনো দোষ নেই। প্লিজ ওকে ছেড়ে দিন। যা করার আমার সাথে করুন। প্লিজ আমাকে শুভর কাছে যেথে দিন।”
দিদাঃআরে মেয়ে শান্ত হও। ছেলেটাকে কেউ মারে নি। মারবো শুনেই তো তুমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলে।
প্রেমাঃসত্যি শুভর কিছু হয় নি।
দিদাঃনা।
প্রেমাঃশুভ কোথায়?
দিদাঃবাইরে আছে।
প্রেমাঃপ্লিজ আমাকে শুভর কাছে নিয়ে চলুন।
দিদা প্রেমাকে নিয়ে বাইরে গেলো। শুভকে গ্রামের লোকজন ঘিরে রেখেছে। বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। এখনো সবাই বলছে,”বাবামশাই এই ছোকরাকে জেন্ত পুরিয়ে মারুন। তাহলে আর কারো সাহস হবে না আমাদের এত সুন্দর গ্রামকে অপবিত্র করার।”
প্রেমা এবার চিৎকার করে বললো,”শুভর গায়ে কেউ হাত দিলে তার হাত কেটে ফেলবো আমি। শুভকে মারার আগে আমাকে মারতে হবে আপনাদের।”
শুভ অবাক হয়ে প্রেমার দিকে তাকালো। যে মেয়ে কারো মুখের উপর কখনো কোনো কথা বলে নি সে আজ শুভর জন্য এত মানুষের সামনে চিৎকার করে কথা বলছে। এত বিপদের মধ্যেও শুভর মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
ওই লোকগুলো কিছু বলার আগে দাদু বললো,”তোমরা আমাকে সম্মান করো তো?”
সবাই একসাথে বললো,”এটা কি বলেন বাবামশাই আমরা আপনাকে মাথার উপরে রাখি। আপনি প্রশ্ন করছেন সম্মান করি কিনা? কখনো কি আপনার মুখের উপর আমরা কোনো কথা বলেছি?”
দাদুঃতাহলে আজও আমি যা বলছি তাই শুনো।
“বলুন।”
দাদুঃছেলে মেয়েদের ছেড়ে দাও। ওদের দেখেই মনে হচ্ছে ওরা খুব পবিত্র। কোনো খারাপ কাজ ওরা করতে পারে না।
“এটা কি বলছেন বাবামশাই। ওদের এভাবে ছেড়ে দিলে সবার সাহস বেড়ে যাবে। যখন তখন এই গ্রামে এসে নোংরামি করবে।”
দাদুঃআমি ছেলেটাকে মারার পক্ষে নেই।
“তাহলে অন্য কোনো রাস্তা বের করুন। যাতে আর কখনো কোনো ছেলে মেয়ে এই গ্রামে আসার সাহস না পায়।”
দাদুঃতোমরা বলো কি করতে চাও। এটা ছাড়া।
“এদের এখানে এখনি বিয়ে দিয়ে দেওয়া হোক। তাহলে আমাদের আর কোনো সমস্যা হবে না।”
ওদের কথা শুনে প্রেমার আবার মাথা ঘুরাতে শুরু করলো। ওর মা বাবা ভাই ছাড়া কীভাবে ও বিয়ে করবে।
শুভঃএগুলো আপনারা কি বলছেন? আমি প্রেমাকে বিয়ে করতে চাই বাট আমাদের ফ্যামিলির প্রেসেন্স এ। উনাদের এবসেন্সে কিভাবে আমরা বিয়ে করবো।
“সেটা আমরা জানি না। বিয়ে না করে এই গ্রাম থেকে বেরতে পারবে না।”
দিদা প্রেমার পাশে এসে বললেন,”ছেলেটার জান বাচাতে হলে তোমাদের এই বিয়ে করতেই হবে। তোমার কাছে এখন দুটু রাস্তা আছে। হয় বিয়ে করা নাহয় ছেলেটার মরে যাওয়া দেখা।”
প্রেমা”না”বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো। আর দৌড়িয়ে শুভর পাশে গিয়ে বললো,”প্লিজ শুভকে কেউ মারবেন না। আমরা এই বিয়ে করবো। আপনারা যা বলবেন তাই করবো। তবুও শুভকে মারবেন না।”
দিদা দাদুর পাশে এসে বললেন,”দেখেছো দুজন দুজনকে কত ভালোবাসে। মেয়েটা অজ্ঞান হওয়ার পর ছেলেটা তো প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলো। আর এখন মেয়েটা ছেলেটাকে বাচাতে সব কিছু করতে রাজি হয়ে গেলো। এইভাবেই যেনো সারাটা জীবন ওরা একে অপরকে ভালোবাসতে পারে।”
দাদুঃঠিকই বলেছো গিন্নি। ওদের দেখে এখন আমার খুব মায়া হচ্ছে। আবার আমার গ্রামের মানুষের জন্যও ভাবতে হচ্ছে। এর আগে ওরা দুবার এসব কারনে মার খেয়েছে। ওই মেয়েগুলোর পরিবার না জেনে পুলিশ নিয়ে এসে ওদের মেরে গেছে। তাই ওরা খুব ভয়ে আছে।
দিদাঃওরা ওদের জায়গায় ঠিকই আছে। তুমি বরং বিয়েটা দিয়ে দাও। তাহলে গ্রামের মানুষরাও শান্ত হবে আর ছেলেটাও বেচে যাবে।
দাদুঃঠিক বলেছো।

প্রহর ১ঘন্টা ধরে দিয়ার বাসার সামনে দারিয়ে আছে। দিয়ার আসার কোনো নামই নেই। দিয়াই প্রহরকে ফোন দিয়ে এখানে আনিয়েছে। আর বলেছে ওকে পিক করে নিতে। আরো বলেছে আজ দিয়াকে বড়ো কোনো সারপ্রাইজ দিতে হবে। প্রহর ভেবে পাচ্ছে না নিজে বলে অন্যের কাছ থেকে এভাবে কেউ সারপ্রাইজ নেয়? আর এমন মানুষও এ পৃথীবিতে আছে সেটা দিয়াকে না দেখলে প্রহর জানতেও পারতো না। ৩০মি এর ভেতর যতটুকু পেরেছে সারপ্রাইজ প্লেনিং করেছে। এখন ১ঘন্টা ধরে প্রহরকে বাইরে দার করিয়ে রাখছে। প্রহর দ্বীপকেও ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো দিয়া এতক্ষণ কি করছে। বাট দ্বীপ হেসে বলেছে ও কিছু জানে না। দিয়ার রুমের দরজা বন্ধ।
আরো ৩০মি অপেক্ষা করিয়ে শেষে মহারানির দেখা পেয়েছে প্রহর। অন্ধকারের মধ্যে হেটে আসছে। দিয়া প্রহরকে মেসেজ দিয়ে বললো”জলদি গাড়ির লাইট অফ করুন। নয়ত আমি বাসায় বেক করবো।”দিয়ার মেসেজ দেখে প্রহর সাথে সাথে গাড়ির লাইট অফ করে ফেললো। দিয়া চুপচাপ গাড়িতে এসে বসলো।
দিয়াঃচলুন।
প্রহরঃএবার লাইট অন করি।
দিয়াঃনো। জলদি গাড়ি স্টার্ট করুন।
প্রহর গাড়ি স্টার্ট দিলো। একটা রেষ্টুরেন্টে এসে গাড়ি থামালো।
দিয়াঃআপনি ভেতরে যান। আমি আসছি।
প্রহরঃকেনো? আমার সাথেই চলো।
দিয়াঃআপনি ভেতরে গিয়ে দেখুন কিছু বাকি আছে কিনা। সারপ্রাইজ বলে কথা। আমি আসছি আপনার পিছু পিছু।
প্রহরঃকি শুরু করেছো তুমি? কখন থেকে এসব কি বলছো?
দিয়া অবাক হয়ে বললো,”কি বলেছি?”
প্রহরঃনিজে বলে কেউ কারো কাছ থেকে সারপ্রাইজ চায়? তুমিই হয়ত ফাস্ট।
দিয়াঃকি করবো বলুন? আপনি তো নিজ থেকে সারপ্রাইজ দিবেন না। তাই আমাকেই চাইতে হচ্ছে। আর আজ আপনি আমাকে সুন্দরভাবে প্রপোজও করবেন। ওকে? আমি রিজেক্ট করে দিলে আমাকে জোর করে এক্সেপ্ট করাবেন। বুঝেছেন?
প্রহর আর কিছু না বলে ভেতরে ডুকে গেলো এই মেয়ের মাথায় কিছু প্রবলেম আছে সেটা প্রহর খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। আগের মতো আর প্রহরকে ভয়ও পায় না। যা ইচ্ছা তাই বলে ফেলে। ভেতরে ডুকে মেইন সুইচ অফ করে দিলো প্রহর।
দিয়া গুটিগুটি পায়ে ভেতরে ডুকলো। আজকের জন্য পুরো রেষ্টুরেন্টটা বুক করে নিয়েছে প্রহর। দিয়া ভেতরে ডুকতেই উপর থেকে অনেকগুলো ফুল দিয়ার মাথার উপর এসে পরে। আর হঠাৎ লাইটস অন হয়ে যায়। দিয়া সামনে তাকিয়ে দেখে প্রহর ফুল হাতে নিয়ে দারিয়ে আছে। প্রহরের হাটু গেড়ে বসার কথা ছিলো বাট দিয়াকে শাড়ি পরা দেখে প্রহরের মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। হা হয়ে তাকিয়ে আছে দিয়ার দিকে।
দিয়াঃস্যার প্রপোজ করুন। আই এম রেডি।
প্রহরের কানে কোনো কথাই যাচ্ছে না। দিয়া বিরক্ত হয়ে প্রহরের আরেকটু সামনে এসে দারালো। আর প্রহরের হাতে জোরে ১টা চিমটি দিলো। প্রহর”আহ”করে উঠলো।
দিয়াঃএভাবে তাকিয়ে না থেকে প্রপোজ করুন।
প্রহর কীভাবে প্রপোজ করবে বুঝতে পারতেছে না। এভাবে কেউ প্রপোজ করে? নিজ থেকে করলেও ঠিক আছে। কিন্তু অন্যের কথায়….আর এদিকে দিয়াকে এতই কিউট লাগছে শাড়ি পড়ায় প্রহর চোখ ফেরাতে পারছে না। তবুও চোখ বন্ধ করে হাটু গেড়ে বসে পরলো দিয়ার সামনে।
তারপর শর্টকরে বললো,”আই লাভ ইউ দিয়া। উইল ইউ ম্যারি মি।”
প্রহর দিয়ার কোনো রেসপন্স না পেয়ে চোখ খুলে তাকালো। দিয়ার মুখ দেখে মনে হচ্ছে দিয়া একদমই খুশি হয়নি।
প্রহরঃকি হয়েছে?
দিয়াঃএটা প্রপোজ?
প্রহর মাথা চুলকিয়ে বললো,”এসব বিষয়ে আমার কোনো এক্সপেরিয়েন্স নেই। সরি! প্লিজ আমাকে আর প্রপোজ করার কথা বলো না। অন্য যা বলবে তাই করবো।”
দিয়াঃবাসর রাতেও মনে হচ্ছে বলবেন, দিয়া এটা আমার দারা হবে না। প্লিজ তুমি অন্য কিছু করতে বলো।
প্রহর দাতে দাত চেপে দিয়ার দিকে তাকালো। এই মেয়েটার সাহস দেখছি দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। দিয়া প্রহরের দিকে তাকিয়ে বুঝলো প্রহর রেগে যাচ্ছে। তাই দিয়া একটু হাসার চেষ্টা করে ফুলগুলো নিয়ে বললো,”ওকে ওকে,আমার এতেই হবে। আর লাগবে না।”
প্রহরঃগুড। মাই আন্সার।
দিয়াঃআই লাভ ইউ টু।
প্রহর মুচকি হেসে দিয়ার হাত ধরে টেনে কাছে নিয়ে এসে বললো,”ইউ নোউ দিয়া! ইউ লুকিং সোওও বিউটিফুল। এখনি বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে।”
দিয়াঃআমি জানি।
প্রহরঃরিয়েলি! আর কি কি জানো বলো?
দিয়াঃবিয়ে তো আমাকে শোপিস এর মতো সাজানোর জন্য করবেন না। তাইনা? আর দেখতে ইচ্ছে করলেও বিয়ে করার প্রয়োজন পরে না। বিয়ে না করে ও দেখা যায়। এখন একটা মেয়ে হয়ে বিয়ের পর কি কি করবেন সেটা ভেঙ্গে কীভাবে বলবো। বলুন? আমি তো আর আপনার মতো লুচু না।
এটা বলে প্রহরের দিকে তাকিয়ে দেখে প্রহরের মুখ রেগে লাল হয়ে আছে। দিয়া আবার হাসার চেষ্টা করে বললো,”সরি সরি। জাস্ট মজা করছিলাম। সত্যি! আমি তো জানি আপনি কত্ত ভালো। তাই তো আমিও আপনাকে এত্তও ভালোবাসি।”
দিয়ার কথা শেষ হতেই প্রহরের ফোন বেজে উঠে। প্রহর দিয়াকে ছেড়ে দিয়ে ফোন রিসিভ করে। প্রহরের মা ফোন দিছেন।
প্রহরঃহ্যা মা বলো।
প্রহরের মাঃপ্রহর প্রেমা এখনো বাসায় ফেরেনি। ও কোথায় আছে জানিস?
প্রহরঃজানি কোথায় আছে। চিন্তা করো না। চলে আসবে।
প্রহরের মাঃঅনেক রাত হয়ে যাচ্ছে। তুই প্রেমাকে নিয়ে জলদি বাসায় আয়।
প্রহর ওর মায়ের কল কেটে শুভর ফোনে কল দেওয়া শুরু করে। শুভ কোথায় এখন জানার জন্য। শুভ কল রিসিভ করছে না। প্রেমার ফোনে ও কল দিলো প্রহর। প্রেমা ও কল রিসিভ করছে না। এবার প্রহরের টেনশন হচ্ছে। ২জন একসাথে কল রিসিভ করছে না কেনো?
দিয়াঃকি হয়েছে?
প্রহরঃশুভ প্রেমাকে নিয়ে দুপুরে বেরিয়েছিলো। এখন রাত ১০টা। এখনো বাসায় ফেরেনি। মা টেনশন করছে। আর ফোন ও ধরতেছে না।
দিয়াঃকোথায় গেলো ওরা।
প্রহরঃডোন্ট নোউ।

শুভ আর প্রেমা ওই দাদুর বাসায়ই একটা রুমে বিছানায় বসে আছে। কিছুক্ষণ আগেই ওদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেমা অনবরত কেদেই চলেছে। শুভ কি করবে বুঝতেছে না। শুধুমাত্র ওর জন্য আজ ওরা এত বাজে সিচুয়েশনে পরেছে।
শুভ প্রেমাকে বুকের সাথে জরিয়ে বললো,”প্লিজ প্রেমা কান্না বন্ধ করো। এত কষ্ট পেলে বিয়েতে বাজি হয়েছিলে কেনো? আমাদের অমতে তো ওরা বিয়ে দিতে পারতো না। শুধু তোমার কথাতেই আমি রাজি হয়েছি।”
প্রেমাঃতোমার কিছু হলে আমি বাচতাম না শুভ। বিয়ে না করলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলতো। আর বিয়ে তো আজ না হয় কাল করতামই। বিয়ের জন্য আমি কাদছি না।
শুভঃতাহলে কাদছো কেনো?
প্রেমাঃমা বাবার কথা চিন্তা করে কাদছি। আজ তো ওরা আমাদের এখানে আটকে দিলো অনেক রাত হয়েছে বলে। মা বাবা ভাইয়া আমার জন্য খুব চিন্তা করছে। আজ বাড়ি ফিরতে পারবো না। কি বলবো কাল গিয়ে ওদের?
শুভঃযা বলার আমি বলবো। সব দোষ আমার। এই অন্যায়ের জন্য উনাদের পায়ে ধরেও মাপ চাইবো। তুমি এখন চুপচাপ ঘুমিয়ে পরো। এত কাদলে মাথা ব্যাথা করবে।
শুভ অনেক বুঝিয়ে প্রেমাকে ঘুম পারিয়ে দিলো। এদিকে শুভর চোখে একফুটাও ঘুম নেই।

তিথি বাসায় ফিরতেই ড্রয়িংরুমে দেখে অনু দারিয়ে আছে।
তিথিঃঅনু তুই?
অনুঃএতক্ষণ কোথায় কার সাথে ছিলি?
তিথিঃআবিরের সাথে ছিলাম।
অনুঃকিইই?
তিথিঃরুমে চল।
অনু রুমে গিয়ে বললো,”তিথি তুই আবিরের সাথে একটু বেশিই টাইম স্পেন্ড করছিস বলে মনে হচ্ছে।”
তিথিঃহুম। জানিস আমার যখনই মন খারাপ হয় আবিরের সাথে ১মি থাকলেও মন তখনি ভালো হয়ে যায়। ও এতদিনের সব কষ্ট এক মুহূর্তেই মুছে দিয়েছে। ওর সাথে টাইম স্পেন্ড করতে ভালোও লাগে।
অনুঃরূপক ইনগেইজমেন্ট এর ডেইট ফিক্সড করে ফেলেছে।
তিথিঃকিইইই?
অনুঃহুম।
তিথিঃতুই রুপকে কি বলেছিলি যার জন্য ও এখানে চলে এসেছে।
অনুঃআমি তর আর আবিরের কিছু সেলফি রুপককে পাটিয়ে বলেছিলাম আবির তকে ভালোবাসে। আর ও তর অনেক কেয়ারও করে। রুপক যেভাবে তকে দিনের পর দিন ইগনোর করছে তর ওকে ছেড়ে আবিরের কাছে চলে যেথে বেশি টাইম লাগবে না। আর তর আর আবিরের কিছু চ্যাট কাটাকুটি করে রুপককে দেখিয়েছি। আর ও এগুলো বিশ্বাস করে এখানে চলে আসে। ও ভেবেছে তুই সত্যিই আবিরকে ভালোবেসে ফেলবি।
তিথি অবাক হয়ে অনুর দিকে তাকিয়ে আছে। অনু তিথি যাওয়ার পর রুপ যা যা বলেছে সব বললো।
তিথিঃও জেতার জন্য ইনগেইজমেন্ট করতে চাইছে। গুড। আমার লাইফটাকে রুপ খেলার ময়দান বানিয়ে ফেলছে। একবারো সত্যি মিথ্যে জানার চেষ্টা করলো না।
এটা বলে তিথি ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে ডুকে যায়। অনু একটা দীর্ঘশ্বাস পেলে আদির পাশে গিয়ে শুয়ে পরে।

চলবে…….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here