Love_heart_season_2💞💞,১৫,১৬

0
158

#Love_heart_season_2💞💞,১৫,১৬
লেখা- পূজা
পর্ব- ১৫
🍁
সবার তাকানো দেখে রাজ একটু ঘাবরে গেলো। মৃদু হেসে বললো,”একচুয়েলি,জন্মদিন মানেই তো আর একটা বছরে এগিয়ে যাওয়া। সেটা অন্ধকার দিয়ে কেনো শুরু হবে। আর এইদিনটা দিঘির জন্য খুশির আনন্দের। আলো তো আনন্দের সিম্বল অন্ধকার নয়। তাই ক্যান্ডেলগুলো জ্বলতে…”
দিঘিঃথ্যাংক ইউ ভাইয়া।
ক্যান্ডেল না নিভিয়েই কেক কাটলো দিঘি। সবাই উইস করছে বাট অনু আর তিথি একভাবে রাজের দিকেই তাকিয়ে আছে। দিঘি কেক কেটে প্রথমে অনুর মুখের সামনে ধরলো। অনু রাজের দিক থেকে চোখ সরিয়ে দিঘির দিকে তাকালো। অনুও একটু খাইয়ে দিলো দিঘিকে। অনু আর দ্বীপের পরেই রাজকে খাওয়ালো দিঘি। তারপর আস্তে আস্তে সবাইকে। সব শেষ করে দিঘিকে আলাদা নিয়ে রাজ দিঘির হাতে একটা বক্স দিয়ে বললো,”দিঘি এখন আমাকে যেথে হবে। আর এটা তোমার।”
দিঘিঃভাইয়া প্লিজ আর একটু থাকো না। তোমার সাথে থাকতে আমার খুব ভালো লাগছে।
রাজ দিঘির একটা গাল ধরে বললো,”আমারও তোমাকে ছেড়ে যেথে ইচ্ছে করছে না। বাট এখন আমাকে তো যেথেই হবে। তুমি তোমার ফ্যামিলিকে টাইম দাও। আমি আসছি। ফোন দেবো তো।”
দিঘি মন খারাপ করে বললো,”ওকে।”
রাজঃমন খারাপ করবে না একদম। আসি বাই।
রাজ জলদি এখান থেকে বেরিয়ে চলে গেলো। তিতির রাজকে খুজছে। অনেকক্ষণ খুজার পরও যখন পেলো না দিঘির কাছে এসে বললো,”দিঘি রাজ স্যার কোথায়?”
দিঘিঃকিছুক্ষণ আগেই তো চলে গেলো।
তিতিরঃচলে গেছেন?
দিঘিঃহুম।
তিতিরঃওহ! ওকে।
সবাই গিফট দিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছেন। হঠাৎ দিঘি মৃধার দিকে তাকিয়ে দেখে একভাবে কিছু একটার দিকে তাকিয়ে আছে মৃধা। মৃধার দৃষ্টি অনুসরণ করে দিঘি সেদিকে তাকালো। দেখলো কাব্য আর দিপ্র কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে। এবার দিঘির চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। মৃধার কাছে গিয়ে বললো,”মৃধা তুই কাব্যর দিকে তাকিয়ে আছিস?”
মৃধা ভ্রুকুচকে দিঘির দিকে তাকিয়ে বললো,”আমি উনার দিকে কোন দু:খে তাকিয়ে থাকবো। আমি তো দি…”
পুরো নাম না বলে চুপ হয়ে গেলো। দিঘি একটু ধাক্কা দিয়ে দুষ্টুহেসে বললো,”সামথিংক সামথিংক।”
মৃধাঃকি বলিস? তুই যা ভাবছিস সেরকম কিছু না।
দিঘিঃতাই? বলতো কি ভাবছি আমি?
মৃধা কিছু না বলে মাথা নিচু করে ফেললো।
দিঘিঃওলে ওলে! লজ্জাও পাচ্ছো।
মৃধাঃলজ্জা পাবো কেনো? ধুর!
মৃধা দিঘির কাছ থেকে চলে গেলো। দিঘি হেসে ফেললো। তারপর দিপ্রর কাছে গেলো। দিপ্রর কাধে হাত রেখে বললো,”এত হাসছিস কেনো? দাতঁ খুলে পরে যাবে তো।”
দিপ্রঃ😐পরবে না।
দিঘিঃতা কি নিয়ে হাসছিলি?
দিপ্রঃতোর ফিউচার বউমনির কথা ভেবে হাসছি।
দিঘি এবার দিপ্রর কাধ থেকে হাত সরিয়ে দিপ্রর একদম সামনে গিয়ে দারালো। কাব্য ছিলো দিপ্রর ঠিক সামনে। তাই দিঘি মধ্যেখানে ডুকায় কাব্যর পেটে দিঘির কনুই টাচ্ লাগলো।
দিঘি রাগি দৃষ্টিতে দিপ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,”তুই প্রেম করছিস?”
দিপ্রঃহ্যাঁ! কেনো?
দিঘি আঙ্গুল তুলে বললো,”তোর সাহস কি করে হলো প্রেম করার? হুহ! এখনি ব্রেকাপ কর।”
দিপ্র অবাক হয়ে বললো,”প্রেম করছি তো কি হয়েছে। এগুলো তো সবাই-ই করে।”
দিঘিঃসবাই করবে করুক। তুই কেনো করবি? একটা কথা ভালো করে মাথায় ডুকিয়ে নে তোর বউ আমি পছন্দ করবো। আর আমি যাকে বলবো তোর তাকেই বিয়ে করতে হবে। আমি কোনো না শুনবো না।
পেছন থেকে কাব্য বললো,”কেনো? ও প্রেম করলে তোমার প্রবলেম কি? আর তোমার পছন্দের কোনো মেয়েকেই বা কেনো ও বিয়ে করতে যাবে। ওর গার্লফ্রেন্ড আছে তো।”
দিঘি ধমক দিয়ে বললো,”আপনি চুপ থাকুন। ফ্রেন্ড প্রেম করছে। কোথায় আটকাবেন তা না আপনি ওকে সাপোর্ট করছেন। আর দারিয়ে দারিয়ে দাত কেলিয়ে হাসছেন? আপনি ১০০টা প্রেম করুন। নো প্রবলেম। বাট আমার ভাই প্রেম করবে না। এই আপনার জন্যই আমার ভাই এরকম বিগরে গেছে।”
কাব্যঃআরে তুমি আমাকে ব্লেইম করছো কেনো? আর আমার কোনো জিএফ নেই। ওকে?
দিপ্রঃবোন তুই এমন বিহেভ করছিস কেনো? কি হয়েছে? আর রুশাকে দেখলে তোর খুব পছন্দ হবে।
দিঘিঃরুশা না কলার খোসা যেই হোক। আমি কিছু শুনতে চাই না। তুই আজই ওর সাথে ব্রেকাপ করবি। আর যদি না করিস আর কখনো আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবি না।
দিঘি রেগে হনহন করে এখান থেকে চলে গেলো। দিপ্র আর কাব্য বোকার মতো দিঘির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো।
কাব্যঃএটা কি হলো?
দিপ্রঃআমার ক্রাশ আমার জান আমার বেবি ওর সাথে আমার ব্রেকাপ করতে হবে? নোওও!
কাব্যঃস্টপ দিপ্র। কিসের ব্রেকাপ? তোরা ভাই বোন দুটুই পাগল। কখন তোদের মাথায় কি চলে শুধু তোরাই জানিস।
দিপ্রঃএখন আমার মাথায় শুধু রুশা চলছে।😍কি হট ও। আই উয়ান্ট দিস গার্ল!
কাব্যঃতোকে আমি অনেক আগে থেকেই বলছি প্রপোজ কর। আই এম সিউর এক্সেপ্ট করবে। প্রপোজ না করেই আই উয়ান্ট দিস গার্ল করছিস কেনো?
দিপ্রঃআমার বোন তো প্রেম শুরু করার আগেই ব্রেকাপ করার কথা বলে চলে গেলো।
কাব্যঃএই স্টুপিড মেয়ে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল জানে? শুধু চিৎকার করতে পারে। আর কিছু ওই মেয়ের দ্বারা সম্ভব না।
দিপ্রঃএইভাবে বলছিস কেনো?
কাব্যঃতো কীভাবে বলবো? তোরা দুটুই জাস্ট অসহ্য!
কাব্যও রেগে চলে গেলো। দিপ্র কিছুই বুঝলো না। বোকার মতো তাকিয়ে থাকলো।
দিপ্রঃএই দুটুর কি হলো? টেম্পার হট কেনো?
একটু দুরে শুভ্র আর পরীকে আলাদা দারিয়ে থাকতে দেখলো দিপ্র। ভ্রুকুচকে ওদের দেখে,কাছে গেলো। তারপর সন্দেহের দৃষ্টিতে বললো,”এখানে কি চলছে?”
শুভ্রঃপ্রেম চলছে। তুই এখানে কেনো?
দিপ্রঃভাইয়া তুই প্রেম করছিস? আর আমি জানি না? প্রেমে পরে তুই পর হয়ে গেলি। বললিও না।
পরীঃএই কিসের প্রেম? আমি কোনো প্রেম-টেম করছি না। আমি গুড গার্ল এসব ফালতু কাছ করি না।
শুভ্রঃতুমি চাপ থাকো। এতক্ষণ চুপ ছিলে তো এখন কথা বলছো কেনো?
পরীঃআপনার সাথে একা কথা বলা রিস্কি। তাই চুপ ছিলাম। এখন তো একা না।
শুভ্র ভ্রকুচকে পরীর দিকে তাকালো।
পরীঃএকদম এভাবে তাকাবেন না।(মাথা নিচু করে)ভয় পাই তো।
দিপ্র হু হা করে হেসে দিলো।
শুভ্রঃতুই পাগলের মতো হাসছিস কেনো?
দিপ্রঃনাইস কাপল! ক্যারি অন।
দিপ্র চলে আসবে তখনি পরী বললো,”ভাইয়া আমিও আপনার সাথে যাবো।”
শুভ্রঃকেনো?
পরীঃকাজ আছে।
দিপ্র যাওয়ার আগেই পরী গটগট করে চলে গেলো।
শুভ্রঃতকে এখন এখানে কে আসতে বলেছে😡?
দিপ্রঃকেউ বলেনি। বড়ভাইয়ের প্রেমে ডিস্টার্বেন্স করা ছোট ভাইয়ের অন্যতম দায়িত্ব😁।
শুভ্র রেগে দিপ্রর দিকে তাকাতেই দিপ্র এখান থেকে কেটে পরলো।

ফোন কলের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায় দিঘির। বিছানায় উঠে বসে ফোন হাতে নিলো। স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে শাওনের নাম্বার। এটা দেখেই দিঘির মাথা গরম হয়ে গেলো। একটু শান্তিতে ঘুমাতেও দিবেনা এই গর্দবটা। কল রিসিভ করে রেগে কিছু বলতে যাবে তখনি ওপাশ দেকে শাওন বললো,”আজ পুরোদিন আমাকে দিবে বলেছিলে। সকাল ৯:৩০ বাজে এখনো আসছো না কেনো?”
দিঘিঃউয়াট? সাড়ে নয়টা বাজে?
শাওনঃইয়েস ম্যাম জলদি চলে আসুন। আম ওয়েটিং ফর ইউ।
দিঘি ফোন কেটে টাইম দেখলো। ৯:৩৫বাজে। আজ অনু ডাকেনি কেনো ভাবছে দিঘি। ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। অনু সোফায় বসে আছে। মনে হচ্ছে গভীর ভাবনায় আছে। দিঘি অনুর পাশে গিয়ে বসলো।
দিঘিঃমা!
অনু রেসপন্স না করায় দিঘি অনুর হাত ধরে আবার ডাক দিলো। অনুর এবার হুশ এলো।
অনুঃকি হয়েছে?
দিঘিঃকি ভাবছো?
অনুঃকিছু না। ব্রেকফাস্ট রেডি আছে খেয়ে নে।
দিঘি গিয়ে ব্রেকফাস্ট করে নিলো। তারপর রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলো। সাড়ে ১০টায় রেষ্টুরেন্টে পৌছালো দিঘি। এখানেই শাওন আসতে বলেছিলো। গিয়ে দেখে রেষ্টুরেন্ট পুরো খালি। মধ্যের একটা টেবিলে বসে আছে শাওন। দিঘি শাওনের সামনে গিয়ে বললো,”পুরো রেষ্টুরেন্ট খালি কেনো?”
শাওনঃআজ শুধু তোমার আর আমার দিন। সেখানে অন্য কেউ থাকবে কেনো?
দিঘি অবাক হয়ে শাওনের দিকে তাকালো। এত্তগুলো দিন ধরে ছেলেটাকে ইগনোর করছে ও তারপরো দিঘিকে এত কিভাবে ভালোবাসতে পারে। দিঘি হলে তো এতদিনে শাওন নামের ছেলে এই দুনিয়াতে আছে এটাই ভুলে যেতো। দিঘি কারো ইগনোরেন্স একদম সহ্য করতে পারেনা।
দিঘি শাওনের সামনের চেয়ারে বসলো।
শাওনঃদিঘি প্লিজ আজ আমার যা ইচ্ছে তা করতে দাও। কোনো কিছুতে না করো না। আর কখনো সুযোগ পাবো কিনা তা ও তো জানি না।
শাওনের কথা শুনে দিঘি মাথা নিচু করে ফেললো। শাওন ওয়েটার বলে ডাক দিয়েই অনেক রকমের খাবার সামনে চলে এলো।
শাওন মুচকি হেসে বললো,”সব নিজের হাতে বানিয়েছি। শুধু তোমার জন্য।”
দিঘি আরো অবাক হয়ে বললো,”কিইই?”
একটা কেকও আছে দিঘির নাম লেখা। আর সব খাবারের মধ্যেও’D’লেখা। খুব সুন্দর ডেকোরেশন।
দিঘিঃআমি তো বাসা থেকে ব্রেকফাস্ট করে এসেছি।
শাওনঃজাস্ট টেষ্ট করো প্লিজ। নাহলে আমার এত কষ্ট করে রান্না সব ব্যার্থ হয়ে যাবে।
দিঘি মুচকি হেসে সব একটু একটু টেষ্ট করলো।
দিঘিঃবাহ! তুমি তো খুব ভালো রান্না করতে পারো।
শাওনঃওরা দেখিয়ে দিয়েছে আমি রান্না করেছি।
রেষ্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আরো অনেক জায়গায় নিয়ে গেছে দিঘিকে। লালবাগ কেল্লা উদ্দান জাদুঘড়। এসব ঘুরতে ঘুরতেই বিকেল হয়ে যায়। আর সব জায়গায়ই স্পেশাল কিছু ছিলো। দেখেই বুঝা গেছে এটা অনেক আগে থেকে প্লেন করা। দিঘির শাওনের উপর সন্দেহ করলেও এসবে পাত্তা দিলো না। জাস্ট অবাকের উপর অবাক হয়েছে। কেউ ওকে এত ভালোবাসতে পারে ও ভাবেই নি। দিঘিও শাওনের উপর একটু উইক হয়ে পরে। প্রথমে শাওনের সাথে ঘুরতে ভালো না লাগলেও পরে আস্তে আস্তে খুব ভালো লাগতে শুরু করে। সব ঘুরা শেষে একটা পার্কে নিয়ে যায় দিঘিকে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এর মধ্যে অনু দিপ্র অনেকবার ফোন দিয়েছে। ওদের সাথে কথা বলতে পারেনি।
দিঘি পার্কে এসেই বললো,”শাওন মা দাদাভাই অনেকবার কল দিয়েছে। আমাকে এখন যেথে হবে। নাহলে ওরা খুব টেনশন করবে।”
শাওনঃআচ্ছা! আজকের পর তো আর কখনো সুযোগ পাবো না এটা বলার তাই শেষ বারের মতো বলছি। প্লিজ রাগ করো না। আই লাভ ইউ দিঘি আই লাভ ইউ সো মাচ।
দিঘি কিছু একটা বলতে চেয়েও বললো না। মুচকি হেসে শুধু বললো,”আই এম ইমপ্রেসড।”
দিঘির কথা শুনে শাওন অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালো।
দিঘিঃআজকের এক্সামের রেজাল্ট কাল দেবো। ঠিক এই জায়গায়। পজেটিভ না নেগেটিভ সেটা কাল জানবে। নাউ বাই।
দিঘি চলে যায়।
শাওনঃআমার প্লেন কখনো ফ্লপ হয়নি। আর হবেও না। আজকের পর আমার কথা ভাবতে তুমি বাধ্য দিঘিরানি। আই লাভ ইউ জান।
শাওন ওর বাইকে উঠে চলে যায়। পেছনে ফিরেও তাকায়নি। তাকালে হয়তো দেখতে পেতো কেউ রক্তবর্ণ চোখ নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে ছিলো।

বাসায় গিয়ে দেখলো অনু আর দিপ্র ড্রয়িংরুমে বসে আছে। দিঘি বুঝতে পারছে খুব টেনশনে আছে ওরা। ফোন রিসিভ না করে শুধু মেসেছ পাটিয়ে বলেছিলো ও একটু বিজি আছে বিকেলে বাসায় চলে আসবে। দিঘি যেথেই দিপ্র দারিয়ে বললো,”কোথায় ছিলি? ফোন রিসিভ করছিলি না কেনো?”
দিঘিঃএকটু বিজি ছিলাম। তোমরা এত টেনশন করছিলে কেনো?
অনুঃকেনো করছিলাম সেটা তো তুমি বুঝবে না। সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে ছিলে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছো। তুমি কোথায় কেউ জানে না। ইভেন মৃধাও না।
দিঘিঃমৃধাকে বলিনি তো। আচ্ছা আমি তো এসেগেছি। ভাইয়া তুই বস আমি ফ্রেশ হয়ে এক্ষণি আসছি।
দিঘি উপরে চলে যায়। ওদের মিথ্যে বলে খুব খারাপ লাগছে দিঘির। বাট সত্যিটা বললে অনু খুব রেগে যাবে তাই বলতে পারেনি। ফ্রেশ হয়ে এসে দিপ্রর সাথে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলো। রাতে দিপ্র বাসায় চলে যায়। আর দিঘি ঘুমিয়ে পরে।

চলবে…

#Love_heart_season_2💞💞
লেখা- পূজা
পর্ব- ১৬
🍁
শুভ্র হসপিটালে এসে পরীকে খুজছে। নিচে না পেয়ে উপরে উঠলো। সামনে তিতিরকে দেখলো এদিকেই আসছে। শুভ্র তিতিরের সামনে গিয়ে দারালো।
তিতিরঃভাইয়া আপনি? কোনো প্রবলেম?
শুভ্রঃনা। পরী কোথায়?
তিতিরঃ২০৪নং কেবিনে পেসেন্ট দেখছে।
শুভ্রঃওহ! ওকে।
শুভ্র চলে যাবে তিতির বললো,”পরীকে খুজছেন কেনো ভাইয়া?”
পরীঃএকটু দরকার ছিলো।
তিতিরঃআচ্ছা।
শুভ্র চলে যায় পরীকে খুজতে। তিতির যায় রাজ এসেছে কিনা দেখতে। কালও আসেনি। তাই তিতিরের একটু চিন্তা হচ্ছিলো।
শুভ্র ২০৪নং কেবিনে গিয়ে দেখে মহিলাটির(পেসেন্ট)সাথে গল্প জুরে দিয়েছে পরী। উনি বেডে হেলান দিয়ে পরীর সাথে কথা বলছেন।
শুভ্র দরজায় দারিয়ে বললো,”পরী?”
পরী দরজার দিকে তাকালো।
পরীঃআপনি?
শুভ্রঃতোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।
পরীঃআমি এখন বিজি। পরে কথা বলবো।
শুভ্র দাতে দাত চেপে বললো,”কত বিজি তা তো দেখতেই পারছি। চুপচাপ আমার সাথে চলো।”
পরীঃএখন তো আমি কিছুতেই যাবো না। আপনি কথায় কথায় এত রেগে যান কেনো?
শুভ্রঃআমি রাগি নি। চলো।
পরীঃবলছি না আমি বিজি আছি। আমি যেথে পারবো না।
শুভ্রঃআমি কাল চলে যাবো।
পরী অবাক হয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,”মানে।”
শুভ্রঃমানে আমি এই দেশ থেকে কাল চলে যাচ্ছি।
শুভ্রর কথা শুনে পরী বুকে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করলো। আর কিছু না হলে উঠে দারালো। শুভ্রও হাটতে শুরু করলো। শুভ্রর পিছু পিছু যাচ্ছে পরী। বাইরে একটা ফাকা জায়গায় এসে দারালো শুভ্র।
শুভ্র পরীর সামনে দারিয়ে বললো,”তোমাকে ছেড়ে যেথে একদম ইচ্ছে করছে না। বাট যেথেই হবে।”
পরীঃআর কবে আসবেন?
শুভ্রঃবেচে থাকলে খুব জলদি আসবো। নাহলে…
পরী ছলছল চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,”এভাবে বলছেন কেনো?”
শুভ্রঃআজ একটু আমাকে টাইম দেবে? আর কখনো তোমাকে কাছে পাবো কিনা জানি না।
পরীঃপ্লিজ এভাবে বলবেন না।
শুভ্রঃকেনো বলবো না? তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসো না। তাহলে এসব শুনলে তোমার খারাপ লাগছে কেনো?
শুভ্রর কথা শুনে পরী মাথা নিচু করে ফেললো। বললো,”আপনি এখানে কেনো এসেছিলেন সেটা কিন্তু এখনো আমাকে বলেননি।”
শুভ্রঃমিশন কমপ্লিট। আর জেনে কি করবে?
পরীঃপ্লিজ তবুও বলুন।
শুভ্র অন্যদিকে ঘুরে বললো,”ফাইনাল এক্সামের পর আমরা সবাই একদম ফ্রি ছিলাম। পড়া কমপ্লিট। এবার সবাই জবের জন্য এপ্লাই করবে। বা নিজেদের ফ্যামিলি বিজন্যাস সামলাবে। কাজে ডুকার আগে আমরা সব ফ্রেন্ডরা প্লেন করলাম দেশের কোথাও থেকে ঘুরে আসবো। সব ঠিক করে আমরা ৭জন একটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ১সপ্তাহের জন্য। প্রথম ৫দিন খুব ভালো কাটলো। তারপর আমরা প্লেন করলাম গভীর জঙ্গলে ক্যাম্প বানিয়ে একদিন থাকবো। জঙ্গলে রাত কাটার এক্সপেরিয়েন্সও অর্জন করবো। একটা জঙ্গলসাইড জায়গা খুজে চলে গেলাম সেখানে। বেশ ভেতরে ডুকে ক্যাম্প বানালাম। ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো। কাট দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিলাম ক্যাম্পের সামনে যেনো কোনো ক্রিয়েচার না আসতে পারে। তারপর আমরা গোল হয়ে বসলাম। আমাদের মধ্যে সান খুব ভালো গান গাইতে পারতো। গিটারও ছিলো সাথে। ও স্লো ভয়েজে গান ধরলো। আমি আর ঋষি রান্না করে নিলাম। রাত ১২টা পর্যন্ত আড্ডা দিলাম আমরা। ঘুমাতে যাবো তখনি গুলির আওয়াজে আমরা চমকে উঠলাম। আমরা কেউ বুঝতে পারছিলাম না গুলির আওয়াজ এখানে কোথা থেকে এলো। আমার মনে কৌতূহল জাগলো। এখানে কি হচ্ছে জানার। বাট বাকিরা ভয় পাচ্ছিলো। ওরা যাবে না আর আমাকেও যেথে দেবে না। আমি অনেক জোর করে ঋষিকে নিয়ে শব্দের উৎস খুজতে বেরিয়ে পরলাম। প্রায় ৪০মি হাটার পর কিছুটা দুর আলো দেখতে পেলাম। আমরা একটু সামনে গিয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকলাম। আর ওখানে কি হচ্ছে দেখার চেষ্টা করলাম। সেখানে কিছু ক্রিমিনাল ছিলো। আর দুজন লোককে বেধে রেখেছিলো খুন করবে বলে। একটা লোককে অনেক আগেই গুলি করে মেরে ফেলেছিলো। যার আওয়াজ আমরা পেয়েছিলাম। গভীর রাত আর জঙ্গল হওয়ায় এত দুর গুলির আওয়াজ পৌছে ছিলো। আমার মটিব ছিলো যেভাবেই হোক ওই লোকটাকে বাচানো। বাট ঋষি লোকগুলো হাতে গুলি দেখে ভয় পেয়ে যায়। ও আবার ক্যাম্পে ফিরে আসতে চায়। বাট আমি লোকটাকে না বাচিয়ে কিছুতেই যাবো না। ঋষিকে রেখেই সামনে এগিয়ে যাই। সেখানে বেশি লোক ছিলো না। ৫জন আর সাথে আরো ২জন একটা লাশ আর যাকে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারবে মোট সাত জন। বাট এই ৫জনকে আমার একার পক্ষে হেন্ডেল করা পসিবল ছিলো না। যে লোকটাকে বেধে রাখা হয়েছিলো তাকে দেখেই আমি চরম অবাক হই। সে ছিলেন ঋষির বাবা। তিনি ১জন ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসার। আমি জলদি সবাইকে মেসেজ পাটিয়ে সব বলি। ঋষি সব শুনে পাগলের মতো ছুটে আসে। ঋষি ওর বাবাকে খুব ভালোবাসে। আমরা ৭জন আর ওরা ৫জন ছিলো। আমরা সবাই মোটা বাশ আর পাথর হাতে নিয়ে একসাথে ওদের ৫জনের মাথায় আঘাত করে সেন্সলেস করে দেই। ঋষি ওর বাবার হাত পায়ের বাধন খুলে ওর বাবাকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। ঋষির বাবা অবাক হয়ে বলেছিলেন আমরা এখানে কেনো?তারপর আমরা বলি জঙ্গলে একদিন কাটাতে চেয়েছিলাম তাই এসেছি বাট উনাকে এখানে কেনো আনা হয়েছে।তারপর উনি যা বলেন তা শুনে আমরা সবাই স্তম্ভিত হয়ে যাই।
পরীঃকি বলেছিলেন উনি?
শুভ্রঃওরা নারী পাচার ড্রাগ সাপ্লাই বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে মা বাবাকে ব্লেকমেইল করা খুন করা সব ধরনের কালো কাজের সাথে ইনভলভ ছিলো।আর ওরা ছিলো এসবের ডন ডেবিলের লোক। উনি ডেবিলকে ধরার জন্য ইনভেস্টিগেশন করছিলেন। উনাকে আটকাতে উনার মেয়ে তুলতুলকে ধরে নিয়ে যায়।আর উনাকে ব্লেকমেইল করে মেয়েকে বাচাতে হলে উনাকে ওদের কাছে যেথে হবে।উনার সাথের অফিসার উনাকে একা কিছুতেই ছাড়বে না তাই ওরা দুজন জঙ্গলে আসে। আর ডেবিলের লোক দুজনকেই আটকে রাখে। বাট তুলতুলকে সেখানে পায় না ওরা।খুব ভালোবাসতো আমাকে তুলতুল। ওর কিডন্যাপ এর কথা শুনে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। ঋষি পুরো ভেঙে পরেছিলো ওর বোন নিখোজ আর ও কিনা আনন্দ করছে। সেখানে ডেবিলের বা হাত মুন্না ছিলো।ওকে ধরে পুলিশ কাস্টারিতে রাখে।আর মুন্নার কাছে যত ইনফরমেশন ছিলো তা কালেক্ট করি। সেখানে মুন্নার যত লোক ছিলো সবাইকে খুব স্মার্টলি ধরা হয়।মুন্নার কাছেই জানতে পারি ডেবিলের ডান হাত টনি বাংলাদেশে লুকিয়ে আছে।ওকে ধরতেই আমি এখানে এসেছি। আংকেল এত রিস্কি কাজ আমাকে করতে দিতে চান নি। আমিই জোর করে এটা হাতে নেই তুলতুলের জন্য।এখানে আসার আগে আংকেল আমাকে ২মাস ট্রেইনড করেন। টনিকে তো পেয়ে গেছি এবার আমাকে ডেবিলের কাছে যেথে হবে। খবর পেয়েছি ডেবিল সিংগাপুরের কোনো এক জায়গায় লুকিয়ে আছে। আমাকে কাল সেখানেই যেথে হবে। আর আমার বাকি ফ্রেন্ডরা সিংগাপুরের এয়ারপোর্টে আমার জন্য ওয়েট করবে। এত রিস্কি কাজ তো আমার একার পক্ষে করা পসিবল না।
কথা শেষ করে শুভ্র পেছন ঘুরে তাকিয়ে দেখে পরী কাদছে। শুভ্র পরীর কাছে গিয়ে ওর গাল ধরে বললো,”কাদছো কেনো?”
পরীঃআপনি কোথাও যাবেন না। ওরা যদি আপনার কিছু করে ফেলে।
শুভ্রঃকিছু করবে না। আর আমাকে যেথেই হবে। তুলতুল কোথায় আমাকে জানতেই হবে।
পরী শুভ্রর হাত সরিয়ে শুভ্রকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। শুভ্র মৃদু হেসে নিজেও পরীকে জরিয়ে ধরে।
শুভ্রঃকান্না বন্ধ করো। আমি ঠিক আবার তোমার কাছে ফিরে আসবো। ডেবিলকে আমি ধরতে না পারলে ডেবিল আমার ফুল ফ্যামিলিকে মেরে ফেলবে। আমাদের বাসায় আংকেল গার্ড রেখেছেন যেনো আমার বাবা মায়ের কেউ ক্ষতি করতে না পারে। তারা লুকিয়ে আমার ফ্যামিলিকে সেইফ করছে। আর এখানে আমি বাংলাদেশ পুলিশের হেল্প নিচ্ছি। ডেবিল খুব ডেঞ্জারেস। বেশিদিন ওকে আটকিয়ে রাখা সম্ভব না। সব জায়গায় ডেবিলের লোক ছড়িয়ে আছে।
পরীঃযদি ও আপনার কিছু করে ফেলে তাহলে আমার কি হবে? আমি কিছুতেই আপনাকে হারাতে পারবো না।
শুভ্রর মুখে বিশ্ব জয় করা হাসি। এটাই তো শুনতে চেয়েছিলো শুভ্র। এবার ওর কিছু হলেও আপসোস নেই। কিন্তু ওর এই পরীকে ছেড়ে চলে যেথেও যে ইচ্ছে করছে না।
শুভ্রঃএকবার সেই ৩ম্যাজিক্যাল ওয়ার্ড বলবে?
পরী মাথা তুলে শুভ্রর দিকে তাকালো। তারপর চোখে চোখ রেখে বললো,”আই লাভ ইউ শুভ্র। আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাবেন না।”
শুভ্র শক্ত করে পরীকে জরিয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেললো।

তিতির রাজের কেবিনে ডুকে দেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে কপালে হাত দিয়ে বসে আছে রাজ।
তিতিরঃস্যার!
রাজ কপাল থেকে হাত সরিয়ে তিতিরের দিকে তাকালো। চোখ অনেক লাল হয়ে আছে।
রাজঃকিছু বলবেন?
তিতিরঃআর ইউ ওকে?
রাজঃহুম।
তিতিরঃআপনাকে অসুস্থ দেখাচ্ছে।
রাজঃকিছু হয়নি। হালকা জ্বর এসেছিলো।
তিতিরঃকি?
তিতির জলদি রাজের কাছে যায়। রাজের কপালে হাত দিয়ে দেখে।
তিতিরঃএটাকে হালকা বলছেন? ১০২°তো হবেই। মেডিসিন খেয়েছেন?
রাজঃএমনি সেরে যাবে।
তিতিরঃডক্টর হয়েও আপনি এত ইরেসপন্সিবল কেনো?
তিতির জলদি মেডিসিন এনে রাজের হাতে দেয়।
তিতিরঃজলদি খেয়ে নিন।
রাজ খেয়ে নিলো।
তিতিরঃবাসায় গিয়ে রেষ্ট নিন। আজ এখানে আসতে কে বলেছিলো আপনাকে।
রাজঃনা এলে আপনার এই মিষ্টি কেয়ারটা তো পেতাম না।
তিতির অবাক হয়ে রাজের দিকে তাকালো। তারপর জলদি রাজের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো। আর রাজ ড.দুর্যয়কে ফোন দিলো।

দিঘি মৃধাকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছে। যেথে যেথে কালকের সব মৃধাকে বললো দিঘি। মৃধা তো রেগে বম। এত কিছু হয়ে গেলো আর মৃধা কিছুই জানে না। দিঘির পরের কথা শুনে অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালো।
মৃধাঃতুই ভেবে বলছিস তো?
দিঘিঃধুর! এটাতে এতো ভাবার কি আছে।
মৃধাঃতুই কবে সিরিয়াস হবি বলতো? নিজের যা ইচ্ছে করবে তাই করবি। অন্যের কথার কোনো দামই তোর কাছে নেই।
দিঘিঃআমি নিজের লাইফ নিজের মতো ইনজয় করতে চাই। অন্যের কথা কেনো শুনতে যাবো?
মৃধাঃহুম! শুনতে যাবি কেনো? কেউ ভালো এডভাইস দিলে সেটা শুনতে হয়।
দিঘিঃআমার কাছেও সেটা ভালো লাগতে হবে।
মৃধা আর কিছু বললো না। মৃধার কথা শুনবে না সেটা বুঝতে পারছে। কথা বলতে বলতেই পার্কের কাছে চলে আসে। রিক্সা থেকে নেমে ভেতরে ডুকে। আগে থেকেই দারিয়ে ছিলো শাওন। বিকেল ৩টেয় এখানে আসতে বলেছিলো দিঘি। দিঘিকে দেখে শাওন হাসিমুখে দিঘির দিকে এগিয়ে যায়।
মৃধা ফিসফিস করে দিঘিকে বললো,”একে দেখলে আমার শয়তানের নানার কথা মনে পরে যায়।”
দিঘি কিছু বললো না। শাওন দিঘির সামনে এসে বললো,”এত লেইট করলে কেনো? কখন থেকে ওয়েট করছি।”
দিঘিঃআমার যখন ইচ্ছে হবে তখনি আসবো। কাউকে এক্সপ্লেনেশন দেওয়াটা আমি পছন্দ করিনা।
শাওনঃওকে ওকে! তোমার জন্য ৩৫মি কে ৩৫ঘন্টাও ওয়েট করতে পারবো।
মৃধাঃরিয়েলি! তাহলে ওয়েট করে দেখান তো। এখানেই থাকুন। আমরা পরশু আবার আসবো আপনার সাথে দেখা করতে।
মৃধার কথা শুনে শাওন ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে গেলো। ও তো আর সিরিয়াসলি বলেনি।
দিঘিঃআচ্ছা এগুলো বাদ দাও যার জন্য এসেছিলাম।
শাওনঃহুম বলো। তোমার আন্স শুনার এক্সাইটমেন্টে কাল রাতে ঘুম-ই হয়নি।
দিঘি মুচকি হেসে কিছু বলতে যাবে। তখনি একটা মেয়ে এসে ওদের সামনে দারালো। মেয়েটির চেহারায় স্পষ্ট রাগ। দিঘি ভ্রুকুচকে মেয়েটির দিকে তাকালো।
শাওনঃতুমিইই?
দিঘিঃতুমি ওকে চেনো?
শাওনঃনা মানে…চিনি না তো। কে আপনি? আমাদের সামনে এসে এভাবে দারালেন কেনো?
মেয়েটি কিছু না বলে রাগিভাবেই শাওনের দিকেই তাকিয়ে আছে।
দিঘিঃও হ্যালো! এভাবে স্টেচুর মতো দারিয়ে আছেন কেনো?
এবার মেয়েটি দিঘির দিকে তাকিয়ে বললো,”হি ইজ মাই এক্স বয়ফ্রেন্ড। ৯দিন আগে ব্রেকাপ হয়েছে আমাদের।”
দিঘি আর মৃধা চোখ বড় বড় করে মেয়েটির দিকে তাকালো।
শাওনঃসব মিথ্যে! এই একদম মিথ্যে কথা বলবে না। তোমার সাথে আমার আরো ৭মাস আগেই ব্রেকাপ হয়ে গেছে।
“হুম! হয়েছিলো। ৯দিন আগে আমার সাথে কি করেছিলে ভুলে গেছো?”
শাওনঃআর একটাও কথা বলবে না তুমি। দিঘি ট্রাস্ট মি ওর সাথে আমার রিলেশন ছিলো বাট কখনো ওকে ভালোবাসিনি। ও আমাকে প্রপোজ করেছিলো। আর আমি এক্সেপ্ট করে ফেলি। বাট তোমাকে দেখার পর প্রথম মনে হয়েছে আমি তোমাকে ভালোবাসি।তাই আস্তে আস্তে ওর থেকে দুরে সরে আসি আমি। আর এখন আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি।
“মিথ্যে কথা একদম বলবে না। প্রপোজ তুমি করেছিলে আমাকে। প্রথমে রাজি হইনি আমি। আমার পেছনে পাগলের মতো ঘুরেছো। আমি ভেবেছিলাম সত্যিই তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই রাজি হয়ে যাই। বাট পরে জানতে পারি তুমি তো একটা প্লেবয়।”
দিঘির দিকে তাকিয়ে,”তোমাকে পেয়ে আমার সাথে ব্রেকাপ করে ফেলে। এর আগে আরো কিছু রিলেশন করেছিলো। আর ওদের সাথে রুমডেটও করেছে। এই ছেলের নজর শুধু মেয়েদের শরিরের দিকে।”
শাওন রেগে তাকালো মেয়েটির দিকে। চিৎকার করে বললো,”একদম মিথ্যে কথা বলবি না। দিঘি তুমি একদম ওর কথা বিশ্বাস করবে না।”
শাওন দিঘির হাত ধরতে যাবে দিঘি হাত সরিয়ে টাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।
দিঘিঃতোর বিষয়ে আমার ধারনা একদম ঠিক ছিলো। কালকের পর ভেবেছিলাম তোকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিৎ। হয়ত তুই সত্যিই আমাকে ভালোবাসিস। আজ আমি তোকে আমার বেষ্টফ্রেন্ড বানাতে চেয়েছিলাম। আমার কাছে লাভার থেকেও বেষ্টফ্রেন্ড অনেক বেশি দামি। আমার বেষ্টফ্রেন্ড শুধু ৩জন সেখানে তোকে যোগ করতে চেয়েছিলাম। বাট তুই তো আমার বেষ্টফ্রেন্ড কি ফ্রেন্ড হওয়ারই যোগ্য নস।(মেয়েটির দিকে তাকিয়ে)থ্যাংকস টু ইউ। তোমার জন্য ও জানে বেচে গেলো। যেহেতু আমার সাথে খারাপ কিছু করার চান্স পাসনি তাই বেচে গেলি। আমার সাথে কিছু করার চেষ্টাও করলে তোর কি অবস্থা হতো আমি জানি না। তুই এখনো আমাকে চিনিসনি। আমি কতটা ডেঞ্জারেস তোর কোনো আইডিয়া নেই। আমার সাথে গেইম খেলতে চেয়েছিলি? আর কখনো আমার সামনে এলে একদম মেরে ফেলবো।
শাওনঃদিঘি!
দিঘি আরেকটা চর মারলো। আর চোখ রাঙ্গিয়ে বললো,”একদম আমার নাম মুখেও আনবি না। আর এই যে সিস্টার নিজেকে একটু কন্ট্রোলে রাখুন। প্রেম করুন ভালো। বাট লিমিট ক্রস করবে না। আর তুই(শাওনকে)আমার বয়ফ্রেন্ড হওয়ার শক মিটেছে? না আরো কিছু থাপ্পড় দেবো।”
শাওন শুধু রাগে ফুসছে। পাবলিক প্লেসে অপমান করলো দিঘি। চারিদিকে মানুষ তাকিয়ে আছে। আর দিঘির রাগ দেখে মৃধারই ভয় করছে। রাগ উঠলে তো দিঘির চারিদিকের কোনো খেয়ালই থাকে না। মৃধা দিঘির হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। দিঘি মৃধার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। মৃধা শক্ত করে ধরে রাখে। আর একটা রিক্সা ডেকে জোর করে রিক্সায় তুলে দেয়।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here